📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 কোনো মুমিন শিরকবিহীন মৃত্যুবরণ করলো তিনিও জান্নাতি

📄 কোনো মুমিন শিরকবিহীন মৃত্যুবরণ করলো তিনিও জান্নাতি


খুরাইম রা. বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
“মানুষ চার শ্রেণীর। আমল ছয় শ্রেণীর। (মানুষের প্রকার হলো) ১. ঐ ব্যক্তি যাকে দুনিয়া ও আখেরাতের উভয় জগতে প্রশস্ততা দেওয়া হয়েছে। ২. ঐ ব্যক্তি যাকে দুনিয়াতে প্রশস্ততা দেওয়া হয়েছে কিন্তু আখেরাতে সংকীর্ণ করে দেওয়া হয়েছে। ৩. ঐ ব্যক্তি যাকে দুনিয়াতে সংকীর্ণতা দান করা হয়েছে কিন্তু আখেরাতে প্রশস্ততা দেওয়া হয়েছে। ৪. ঐ ব্যক্তি যাকে দুনিয়া ও আখেরাতে সবখানে সংকীর্ণতা দেওয়া হয়েছে। আর আমলের প্রকার হলো-আবশ্যকীয় আমল দুইটি; এক. যে আমল করবে তাকে সওয়াব আমলের সমান-সমান দেওয়া হবে। দুই. আমলের বিনিময় দশ নেকি থেকে সত্তর নেকি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হবে। আবশ্যকীয় দুটি হলো-
এক. ঐ ব্যক্তি যে আল্লাহর সাথে শিরক ব্যতিত মৃত্যুবরণ করেছে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব। দুই. ঐ ব্যক্তি যে কাফির হয়ে শিরক করে মৃত্যুবরণ করেছে তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব। আর যে ব্যক্তি কোনো নেক আমল করার ইচ্ছা করলো, কিন্তু সে নেক কাজটি করতে সক্ষম হয়নি। তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাকে নেকি দান করবেন। কারণ অন্তরযামী প্রভু তার অন্তরের খবর জানে। আর যে ব্যক্তি কোনো বদআমল করতে ইচ্ছে করে তাহলে তা করার পূর্ব পর্যন্ত তার আমলনামায় কোনো বদআমল লেখা হয় না। যদি করে তাহলে সমান-সমান গুনাহ লেখা হয়; বেশি না। আর যে ব্যক্তি কোনো নেক আমল করে তাহলে তার জন্য দশগুণ সমপরিমাণ সওয়াব বা নেকি লেখা হয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোনো কিছু ব্যয় করে তাহলে তার আমলনামায় সত্তরগুণ সমপরিমাণ লেখা হয়."

ইবনু বায রহ. বলেন, “যে ব্যক্তি তাওহিদের উপর অটল থাকে এবং মালিকের সাথে কাউকে শরিক না করে আর এমতাবস্তায় তার মৃত্যুর টিকিট এসে যায় তাহলে সে জান্নাতি হবে। তবে যদি সে যিনা, চুরি, অন্যায়সহ হরেক রকমের গুনাহও করে, তবুও হতে পারে আল্লাহ তায়ালা তাকে তাঁর অনুগ্রহে ক্ষমা করে দিবেন। কিংবা সে কিছুকাল জাহান্নামের আগুনে প্রজ্জলিত হবে তারপর পূত-পবিত্র করে জান্নাতুর উপযোগী করে তাকে জান্নাত দান করবেন। সে কাফেরের মতো চিরস্থায়ী জাহান্নামি হবে না।”

টিকাঃ
[৬০] মুসনাদু আহমাদ: ১৯০৩৫।
[৬১] ফাতাওয়ায়ে ইবনু বায: ৬/৫১।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 ভালো গুনাগুণ যার জান্নাত হবে তাঁর

📄 ভালো গুনাগুণ যার জান্নাত হবে তাঁর


প্রিয় যুবক ভাই! তোমার ভালো গুণ তোমাকে জান্নাতের ঐ সুমহান আলীশানে পৌঁছে দিবে। যদি আমরা এ দুনিয়ায় মানবের সাথে ভালো আচরণ ও ভালো গুণের কাজ করে যেতে পারি, তাহলে আমাদের এ ভালো কাজের দরুণ আল্লাহ তায়ালা জান্নাত উপহার দিবেন। কতইনা উত্তম প্রিয়তম প্রভুর সে দামি উপহারটি। তাই মানুষের মুখে তোমার ভালো গুণ শুনতে হলে ও জান্নাত পেতে হলে তোমাকে দ্বীনের সঠিক পথে চলতে হবে।

আবিল আসওয়াদ বলেন, "আমি মদিনায় গিয়ে ওমর ইবনু খাত্তাবের সাথে সাক্ষাত করলাম, পথিমধ্যে একটি জানাযা যাচ্ছিলো; তখন সাহাবায়ে কেরাম সে জানাযার প্রশংসা করলেন, তখন ওমর ইবন খাত্তাব রা. বলেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। আমি তখন তাকে বললাম, কি ওয়াজিব হয়ে গেছে? ওমর রা. তখন বললেন, আমি সেরকমই বললাম যেমন আমার প্রিয়তম নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, যদি কোনো মুসলমানের উপর কোনো তিনজন ব্যক্তি ভালো বলে প্রশংসা করে, তাহলে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। ওমর বলেন, আমরা বললাম—হে প্রিয়তম রাসুল! যদি দুজনে ভালো বলে তাহলে..? তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, হ্যাঁ, দুজনে সাক্ষি দিলেও হবে (জান্নাত পাবে)। ওমর রা. বলেন, আমরা প্রিয়তম নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে একজনের ব্যাপারে কিছুই জিজ্ঞেস করিনি।”

ইবনু আসিমিন রহ. বলেন, আসলে কোনো ব্যক্তির জান্নাতি হওয়ার ব্যাপারে নবির উপর ওহি নাযিল হয়েছে, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন সাহাবিকে জান্নাতের সাক্ষ্য দিয়েছেন এই জন্য যে, তার কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে এই মর্মে ওহি এসেছিলো। বলা যায়, এটা প্রিয় নবির জন্য খাস বা বৈশিষ্ট্য।

তবে এক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা হলো, আমরা কারো ব্যাপারে জান্নাত বা জাহান্নামের গ্যারান্টি দিতে পারবো না। তবে যে ক্ষেত্রে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদেরকে জান্নাতি বা জাহান্নামি বলেছেন তাদেরকে আমরা জান্নাতি বা জাহান্নামি বলবো, আমরা কারো ব্যাপারে বানিয়ে কোনো কিছু বলবো না। যেমন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুলাফায়ে রাশেদিন বা চার খলিফার ব্যাপারে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন, এমনিভাবে আরো দশজন সাহাবাদের ব্যপারে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন এবং যাদের ব্যাপারে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সরাসরি জান্নাতি বলেছেন। আমরা তাদেরকেই কেবল জান্নাতের সবুজ পাখি বলবো। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আবু বকর জান্নাতি, ওমর জান্নাতি, ওসমান জান্নাতি, আলি জান্নাতি। সাদ বিন ওয়াক্কাস জান্নাতে যাবে, সাঈদ বিন যায়েদ, আব্দুর রহমান বিন আওফ, ওবায়দা বিন জাররাহ, যুবাইর বিন আওয়াম জান্নাতে যাবে। ওকাসা বিন মিহসানও জান্নাতে যাবে।

একদা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আমার এ উম্মতের সত্তর হাজার মানুষ বিনা হিসাবে ও আযাব বিহীন জান্নাতে যাবে, তখন ওকাসা বললেন, হে রাসুল! আপনি আমার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন, আল্লাহ যেন আমাকে সে দলের অন্তর্ভুক্ত করে দেন। তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যাও তুমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত। এরপরে অপর আরেক সাহাবা বলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমার জন্য ও দুয়া করুন যেন আমিও সে দলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাই। তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওকাসা তোমার আগে বলে ফেলেছে।”

টিকাঃ
[৬২] সহিহুল জামে: ১০৬৯৮।
[৬৩] সহিহ বুখারি; সহিহ মুসলিম; শরহে রিয়াজুস সালেহিন: ৪/৫৭২।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 ভালো সাক্ষ্য হবে যার জন্য জান্নাতে বাড়ি হবে তার জন্য

📄 ভালো সাক্ষ্য হবে যার জন্য জান্নাতে বাড়ি হবে তার জন্য


আনাস বিন মালেক রা. বলেন-
“একদা একটি জানাযা আমাদের পার্শ্ব দিয়ে অতিক্রম করছিলো, তখন সে জানাযার ব্যাপারে প্রশংসা করা হলো। এরপর আরেকটি জানাযা যাচ্ছিলো তখন প্রশংসা করা হলো না। তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে, ওয়াজিব হয়ে গেছে, ওয়াজিব হয়ে গেছে। তখন ওমর বললো, আপনার উপর আমার মমতাময়ী মা ও বাবা উৎসর্গ হোক, একটি জানাযা অতিক্রমের সময় ভালো প্রশংসা করা হলে আপনি বলেছেন-ওয়াজিব হয়ে গেছে, ওয়াজিব হয়ে গেছে, ওয়াজিব হয়ে গেছে। এরপর আরেকটি জানাযা যাচ্ছিলো তখন প্রশংসা করা হলো না; তখনও আপনি বলেছেন-ওয়াজিব হয়ে গেছে, ওয়াজিব হয়ে গেছে, ওয়াজিব হয়ে গেছে। এ কথাগুলো বলার রহস্য কি ইয়া রাসুলুল্লাহ? উত্তরে প্রিয়তম রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা যার উপর ভালো গুণাগুণের প্রশংসা করেছো, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে। আর যার ব্যাপারে তোমরা খারাপ মন্তব্য করেছো তার উপর জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেছে। শোনো, তোমরা এ দুনিয়াতে আল্লাহর সাক্ষি, তোমরা এ দুনিয়াতে আল্লাহর সাক্ষি। "

মুনাভী রহ. বলেন, “সাহাবায়ে কেরাম তাদের ব্যাপারেই ভালোর সাক্ষ্য দিয়েছেন, যারা বাস্তবই সৎ ও ভালো ব্যক্তি ছিলেন। এমনিতেই কোনো ফাসেকের উপর সাক্ষ্য প্রদান করেননি, বা শত্রুতার কারণে কাউকে ভালো হলেও খারাপ বলেছেন এমনটা নয়। কেউ কেউ বলেন, সাহাবায়ে কেরামতো তাদের ব্যাপারেই সাক্ষ্য দিয়েছেন যারা নিখুঁতভাবে জান্নাতের আমল করে যেত, বাস্তবিকপক্ষে আল্লাহ চাহে তো জান্নাত দিতেনই। এর উল্টোও নববি রহ. বলেছেন, উপরোক্ত হাদিস যেহেতু মুতলাক। তাই ভালো খারাপ সবই অন্তর্ভুক্ত হবে। যদি কোনো ব্যক্তি মানবজাতিকে কষ্ট দেয়, আর মৃত্যুর সময় তার প্রশংসা করা হয়, তাহলে তাকেও আল্লাহ তায়ালা জান্নাত দান করবেন."

প্রিয় যুবক বন্ধু! এই দুনিয়াতে তোমার ভালো গুণ অর্জন করতে হলে অবশ্যই তোমাকে জান্নাতি আমল করতে হবে। এখনই সময়! আজই আসো!! ভালো গুণ অর্জন করতে জান্নাতের আমল শুরু করে দিই।

টিকাঃ
[৬৪] সহিহ মুসলিম: ৯৪৯।
[৬৫] ফায়যুল কাদির: ৬/২৮।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 বদর যুদ্ধে যারা শরিক ছিলো তারা জান্নাতি...

📄 বদর যুদ্ধে যারা শরিক ছিলো তারা জান্নাতি...


আলি রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
“রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ও যুবাইর, মিকদাদকে এক স্থানে প্রেরণ করে বললেন, 'যাও, তোমরা রাওযা-খাক নামক স্থানে গিয়ে একজন নারিকে পাবে; তার সাথে একটি চিঠি আছে সেটি তোমরা নিয়ে আসো।' আলি রা. বলেন, 'আমরা খুব তাড়াতাড়ি করে ঘোড়া চালিয়ে আসলাম, তখন সেখানে একজন বাদিকে পেয়ে বললাম, চিঠি বের করে দাও।' তখন সে মহিলা বললো—'আমার কাছে কোনো চিঠি নেই।' তখন আমরা বললাম, 'চিঠি বের করো, নইলে আমরা কাপড় খুলে হলেও তালাশ করে দেখবো।' তারপর সেই মহিলা তার চুলের খোপা থেকে চিঠি বের করে দিলো। আমরা সেটা নিয়ে নবির দরবারে আসলাম। তখন দেখতে পেলাম সেটা সাহাবি হাতেব বিন আবি বালতায়ারের চিঠি, যেটা মক্কার কুরাইশদের প্রতি ছিলো এবং সেখানে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গোপনীয় বিষয়ের সংবাদ সংক্রান্ত ছিলো (যেটাকে তিনি মক্কার লোকদেরকে জানিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা করেছিলেন)।

তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'হে হাতেব! এটা কি?' তখন সে বললো, 'ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমাকে কুরাইশদের কোনো গুপ্তচর মনে করবেন না। আমি কুরাইশদের কেউ না। আপনাদের সাথে যে সব মুহাজির ভাই আছে, তাদের সকলেরই মক্কা নগরীতে কোন না কোন আত্মীয় আছে, তারা তার তাদের সম্পদ ও পরিবারকে কাফেরদের থেকে রক্ষা করে, তাই আমিও চাচ্ছিলাম এ কাজের মাধ্যমে একটা বন্ধন সৃষ্টি করতে; যাতে তাদের থেকে আমার পরিবারকে রক্ষা করার একটা শক্তি হয়ে যায়। আমি কুফুরিও করিনি, আমার ধর্ম থেকে আমি মুরতাদ হয়েও যাইনি। আর ইসলাম গ্রহণের পর আমি কুফুরিকে অপছন্দ করি।' তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-'সে সত্য বলেছে।'

তখন উমর রা. বললেন, 'ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দিব।' তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'সে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তুমিতো জানো না যে, যারা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে আল্লাহ তাদের দিকে উঁকি মেরে তাকান। তোমরা আমল করতে থাকো আল্লাহ তোমাদের জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দিয়েছেন।”

টিকাঃ
[৬৬] মুসনাদু আহমাদ: ৬০০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00