📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 হাদিসের একটি গল্প শোনো...

📄 হাদিসের একটি গল্প শোনো...


আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদের স্ত্রী যয়নব রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
“হে নারি জাতিরা! তোমরা প্রভুর রাহে সদকা করো যদিও তোমার পরিধেয় স্বর্ণ থেকে হয়।”
যয়নাব বলেন, অতঃপর আমি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদের নিকট গেলাম, তাকে বললাম, আপনিতো গরিব লোক; হাতে অত টাকা পয়সা নেই, অথচ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদকা করার জন্য আদেশ করেছেন। (হে স্বামি!) রাসুলের দরবারে যান, আমি যদি আপনাকে সদকা করি, তাহলে আমার সদকা আদায় হবে। যদি নাই আদায় হয়, তাহলে আমি অন্য কোথাও সদকা করবো। তখন ইবনু মাসউদ বললো, তুমিই যাও।

যয়নব রা. বলেন, আমি রাসুলের দরবারে গেলাম, দেখলাম রাসুলের দরজার কাছে আনসারি এক মহিলা উপস্থিত রয়েছে। আমার আর সে মহিলার প্রয়োজন একই। যয়নব রা. বলেন, আমার উপর প্রিয়নবির কেমন যেন একটা ভীতি কাজ করতেছিলো। অতঃপর বেলাল রা. বাহিরে এলেন, আমরা তাকে বললাম, তুমি রাসুলে আরাবিকে সংবাদ দিয়ে বলবে যে, দু'জন ব্যক্তি আপনার দরজা মুবারকে উপস্থিত হয়েছে একটা প্রশ্ন করতে। প্রশ্নটা হলো, তারা জানতে চাচ্ছে—তারা যদি তাদের স্বামি বা তাদের কোলে যেসব সন্তানাদি রয়েছে তাদেরকে সদকা করে, তাহলে তাদের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে? (সদকার সওয়াব পাবে?) আর আমাদের কথা কিন্তু বলবে না। বেলাল ধীরে-ধীরে প্রিয়নবির কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলে, নবিজি জিজ্ঞাসা করলো ঐ মহিলারা কারা? বেলাল রা. বললেন, আনসারি এক মহিলা ও যয়নব। আবার নবিজি জিজ্ঞাসা করলেন, আগত মহিলা কোন যয়নব? উত্তরে বিলাল রা. বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদের স্ত্রী যয়নব। তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাদের দুটি সওয়াব হবে—একটি নিকটাত্মীয় হওয়ায়, অন্য সওয়াব হবে সদকার সওয়াব।

উমারাতা বিন ওমায়ের রা. বলেন, “আমি আয়েশা রা.-কে জিজ্ঞাসা করেছি, আমার দায়িত্বে ইয়াতিম রয়েছে, আমি কি তার সম্পদ থেকে আহার করবো? উত্তরে তিনি বলেন, আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, নিশ্চয় কতইনা উত্তম সে ব্যক্তি, যে তার রোজগার থেকে আহার করে এবং তার সন্তান আহার করে।"

এমনিভাবে দায়িত্ব নেয়া ব্যতিতও ইয়াতিমদের উপর ব্যয় করা যায়। যেমন অনেক বুযুর্গরা করেছেন, তারা সম্পদের অনেকাংশ ইয়াতিমের কাছে পাঠিয়ে দিতেন, যে ইয়াতিমগুলো তাদের মায়ের সাথে থাকতো। আর যে ব্যক্তি দায়িত্ব নেওয়া ব্যতিত ইয়াতিমদের খাবার-দাবারসহ অন্যান্য কিছুর ব্যবস্থা করবে সেও প্রিয়তম রাসুলের সেই ঝংকৃত কথামালার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবেন যেখানে তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি ইয়াতিমের দায়িত্ব গ্রহণ করবে আমি এবং সে জান্নাতে এভাবে (দুই আঙুল দেখিয়ে বলল, এক আঙুল থেকে অন্য আঙুলের দুরত্ব পরিমাণ কাছে) থাকব।

ইমাম নববি রহিমাহুল্লাহু বলেন, ইয়াতিমের দায়িত্ব নেয়া দ্বারা উদ্দেশ্য ইয়াতিমের সবকিছুর ব্যবস্থা করা। খাবার-দাবার, পোশাক-আশাক, তালিম-তরবিয়াতসহ সবকিছু। আর এ ফযিলত পাবে সে, যে তার সম্পদ থেকে ইয়াতিমের জন্য ব্যবস্থা করেছিলো। আর ইয়াতিম ছাড়া অন্যান্য কোনো স্বজন দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, তার আপনজন, যেমন-দাদা-দাদি, নানা-নানি, ভাই-বোন, ফুফু, খালাসহ অন্যান্য আত্মীয় স্বজনের ব্যবস্থা করলেও প্রিয়নবির সাথে জান্নাতে যেতে পারবে। আর এসবের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনাই ধর্তব্য। তাই দায়িত্বশীলদের জন্য উচিত তাকে খাবার-দাবার, পোশাক-পরিচ্ছেদ, বাসস্থান, তালিম-তরবিয়াতের ক্ষেত্রে তার সাধ্যানুযায়ী উত্তম ব্যবস্থা করা। তাহলেই প্রিয়তম প্রভু তোমার জন্য জান্নাতের সুখময় উদ্যানে প্রিয় স্থানের ব্যবস্থা করে দিবেন।

টিকাঃ
[৫৩] সহিহ মুসলিম: ১০০০।
[৫৪] সহিহুল জা'মে: ২২০৮।
[৫] শরহে নববি আলাল মুসলিম: ৫/৪০৮।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 জান্নাতের আলোতে আলোকিত হবেন যারা...

📄 জান্নাতের আলোতে আলোকিত হবেন যারা...


মুয়াজ বিন জাবাল রা. বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
“যে ব্যক্তি ক্ষুণরাঙ্গা পিচ্ছিল পথে যুদ্ধের ময়দানে ততক্ষণ জিহাদ করে যতক্ষণ কোনো উটের দুধ দোহন করতে সময় লাগে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় ক্ষত হবে অথবা কোনো মুজাহিদ যুদ্ধের ময়দানে দুর্ঘটনার শীকার হয় তাহলে সে আখেরাতের ময়দানে এমন অবস্থায় উত্থিত হবে যে-তার শরীরে মেশক আম্বরের মতো সুঘ্রাণ ছড়াতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় ময়দানে বের হবে, তাহলে সে নিজের উপর শাহাদাতের সীল মেরে নিলো।”

ইবনু আসিমিন রহ. বলেন, উপরোক্ত হাদিসে প্রিয়তম প্রভুর রাহে যুদ্ধ করার ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করবে এবং এ অবস্থায় যদি সে শহীদ বা কোনো ক্ষত হয়ে যায়, তাহলে আখেরাতের ময়দানে তার ঐ রক্ত সুঘ্রাণ হয়ে ছড়িয়ে পড়বে পুরো জান্নাতবাসীর উপর। যে সুঘ্রাণ উপলব্ধি করবে সর্বযুগের শ্রেষ্ঠ মানুষেরা। সেদিন ফেরেস্তাকুলও উপস্থিত থাকবেন। এটা শহীদের মহান মর্যাদা। ঐ ব্যক্তিরও যুদ্ধের মহান মর্যাদা অর্জিত হবে যে ব্যক্তি উটের দুধ দোহন সমপরিমান সময় আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে তাঁর মহা বাণীকে উচু করণার্থে। তাহলে সেও জান্নাতের আলোতে আলোকিত হবেন।”

টিকাঃ
[৫৬] সুনানু আবু দাউদ: ২৫৪১।
[৫৭] শরহু রিয়াজুস সালেহিন: ৫/৩২০।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 এই যে দেখো জান্নাতি মেহমান

📄 এই যে দেখো জান্নাতি মেহমান


উকবা বিন আমের জুহানি রা. বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
“যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় গিয়ে তার তিন সন্তানহারা হয়ে যায় এবং সে ধৈর্যধারণ করে আল্লাহর কাছে জান্নাত পাওয়ার আশা করে, তাহলে তার জন্য ওয়াজিব হবে।”

ইবনু আসিমিন রহ. বলেন, “যে ব্যক্তি মারা যায় এবং তার ছোট্ট কচি-কচি শিশু থাকে যারা এখনো প্রাপ্ত বয়স্ক হয়নি, তারা মৃত্যুবরণ করলে জান্নাতে যাবে এবং তাদের পিতা-মাতা জাহান্নাম থেকে মুক্তির পর্দা হিসেবে হবে। কিন্তু যদি সন্তান প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে যায়, তখন আর তারা রহমতের কারণ হয় না; যেমন ছোট্টরা হতো। তবে যে ব্যক্তি যুদ্ধের ময়দানে গিয়ে তার প্রাপ্ত সন্তানকে হারিয়ে তাতে ধৈর্যধারণ করে এবং আল্লাহর কাছে সওয়াবের কামনা করে তাহলে তারাও জান্নাতি মেহমান হবে।”

টিকাঃ
[৫৮] মুসনাদু আহমাদ: ১৭২৯৮।
[৫৯] শরহে রিয়াজুস সালেহিন: ৪/৫৭৫।

📘 হে যুবক জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় > 📄 কোনো মুমিন শিরকবিহীন মৃত্যুবরণ করলো তিনিও জান্নাতি

📄 কোনো মুমিন শিরকবিহীন মৃত্যুবরণ করলো তিনিও জান্নাতি


খুরাইম রা. বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
“মানুষ চার শ্রেণীর। আমল ছয় শ্রেণীর। (মানুষের প্রকার হলো) ১. ঐ ব্যক্তি যাকে দুনিয়া ও আখেরাতের উভয় জগতে প্রশস্ততা দেওয়া হয়েছে। ২. ঐ ব্যক্তি যাকে দুনিয়াতে প্রশস্ততা দেওয়া হয়েছে কিন্তু আখেরাতে সংকীর্ণ করে দেওয়া হয়েছে। ৩. ঐ ব্যক্তি যাকে দুনিয়াতে সংকীর্ণতা দান করা হয়েছে কিন্তু আখেরাতে প্রশস্ততা দেওয়া হয়েছে। ৪. ঐ ব্যক্তি যাকে দুনিয়া ও আখেরাতে সবখানে সংকীর্ণতা দেওয়া হয়েছে। আর আমলের প্রকার হলো-আবশ্যকীয় আমল দুইটি; এক. যে আমল করবে তাকে সওয়াব আমলের সমান-সমান দেওয়া হবে। দুই. আমলের বিনিময় দশ নেকি থেকে সত্তর নেকি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হবে। আবশ্যকীয় দুটি হলো-
এক. ঐ ব্যক্তি যে আল্লাহর সাথে শিরক ব্যতিত মৃত্যুবরণ করেছে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব। দুই. ঐ ব্যক্তি যে কাফির হয়ে শিরক করে মৃত্যুবরণ করেছে তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব। আর যে ব্যক্তি কোনো নেক আমল করার ইচ্ছা করলো, কিন্তু সে নেক কাজটি করতে সক্ষম হয়নি। তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাকে নেকি দান করবেন। কারণ অন্তরযামী প্রভু তার অন্তরের খবর জানে। আর যে ব্যক্তি কোনো বদআমল করতে ইচ্ছে করে তাহলে তা করার পূর্ব পর্যন্ত তার আমলনামায় কোনো বদআমল লেখা হয় না। যদি করে তাহলে সমান-সমান গুনাহ লেখা হয়; বেশি না। আর যে ব্যক্তি কোনো নেক আমল করে তাহলে তার জন্য দশগুণ সমপরিমাণ সওয়াব বা নেকি লেখা হয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোনো কিছু ব্যয় করে তাহলে তার আমলনামায় সত্তরগুণ সমপরিমাণ লেখা হয়."

ইবনু বায রহ. বলেন, “যে ব্যক্তি তাওহিদের উপর অটল থাকে এবং মালিকের সাথে কাউকে শরিক না করে আর এমতাবস্তায় তার মৃত্যুর টিকিট এসে যায় তাহলে সে জান্নাতি হবে। তবে যদি সে যিনা, চুরি, অন্যায়সহ হরেক রকমের গুনাহও করে, তবুও হতে পারে আল্লাহ তায়ালা তাকে তাঁর অনুগ্রহে ক্ষমা করে দিবেন। কিংবা সে কিছুকাল জাহান্নামের আগুনে প্রজ্জলিত হবে তারপর পূত-পবিত্র করে জান্নাতুর উপযোগী করে তাকে জান্নাত দান করবেন। সে কাফেরের মতো চিরস্থায়ী জাহান্নামি হবে না।”

টিকাঃ
[৬০] মুসনাদু আহমাদ: ১৯০৩৫।
[৬১] ফাতাওয়ায়ে ইবনু বায: ৬/৫১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00