📄 তারাই আপনার জান্নাতের উপায় হবে...
জাবের বিন আব্দুল্লাহ রা. বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
“যে ব্যক্তির তিনের অধিক কন্যা সন্তান হবে আর সে ব্যক্তি সেগুলোকে লালন-পালন করে ও যথেষ্ট ব্যবস্থা করে এবং তাদের উপর দয়া করে তাহলে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবেই। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠলো, ইয়া রাসুলুল্লাহ! দু'জনের যে ব্যক্তি লালন-পালন করবে, নবিজি তখন বললেন, হ্যাঁ, সে ব্যক্তিও জান্নাতে যাবে।”
ইবনু বায রহ. বলেন, উপরোক্ত হাদিসের মাধ্যমে বুঝা যায় যে, এটার মাধ্যমে নারিদের উপর ইহসান করা হয়েছে। আর নারিদের সাথে ভালো আচরণ করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। আর সেজন্য আল্লাহর কাছে অনেক প্রতিদান পাবে, কারণ এটা জান্নাতে যাওয়ার মাধ্যম। জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ। আর যে ব্যক্তির বোন, ফুফু, খালা ও অভাবী অন্যান্য আত্মীয় স্বজনকে লালন-পালন করবে, তাদের সাথে উত্তম আচরণ করবে ও খাদ্য পোশাক-আশাক ইত্যাদি প্রদান করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকেও মহা সওয়াব দান করে জান্নাত দান করবেন। উপরোক্ত হাদিসে তিন জনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নয়, বরং যে ব্যক্তি একজন, দুইজন, ও একাধিক কন্যা সন্তানের লালন-পালন করবে ও তাতে ধৈর্যধারণ করে ও তাদের সাথে উত্তম আচরণ করে, হতে পারে আল্লাহ তায়ালা সবাইকে এই মহা সওয়াব দান করবে। যেমনটাই বুঝা যায় অভাবী ও দুঃখীদের পাশে দাড়ানোর বিভিন্ন আয়াত ও হাদিস থেকে। আর এ সওয়াব মিলবে ও জান্নাতে যাওয়ার উপায় হবে দাদা-দাদি, নানা-নানি, পিতা-মাতা সহ সবার ক্ষেত্রেই। কারণ পিতা-মাতার সম্মান ও শ্রদ্ধা করা সন্তানের উপর ওয়াজিব। আল্লাহ তায়ালা সর্বাধিক তাওফিক দানকারী।
ইবনু আসিমিন রহ. বলেন, উপরোক্ত হাদিসে কন্যা সন্তানকে লালন-পালনের ব্যপারে অনেক ফযিলত এসেছে। কারণ নারিজাতি একটু দুর্বল। আর সাধারণত পরিবারবর্গ তাদেরকে কোনো যত্ন নেয় না এবং দামও দেয় না। কারণ তারা আয়-রোজগার করতে পারে না। তাই প্রিয়তম রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি দুইজন কন্যাকে লালন-পালন করবে, কিয়ামত দিবসে সে ব্যক্তি আর আমি দুই আঙ্গুলের ফাকা সম পরিমান থাকবো। তখন তিনি তার হাতের মধ্যমা কনিষ্ঠা আঙ্গুলকে একসাথে করলেন। অর্থ্যাৎ সে ব্যক্তি আখেরাতে জান্নাতে নবিজির সাথে থাকবে।
লালন-পালনের পরিমাণ: লালন-পালনের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, সাধারণত শরীরের কাপড়-চোপড়, খাবার-দাবার ও বসবাসের জন্য উপযোগী স্থান। এমনিভাবে তার হৃদয়ের খাদ্য তথা দ্বীনি ইলম, অন্তর পরিশুদ্ধতা, সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকার ব্যবস্থা করা।
টিকাঃ
[৪৮] মুসনাদু আহমাদ: ৮৪২৫; হাদিসটি হাসান।
[৪৯] ফাতাওয়ায়ে ইবনু বায: ২৫/৩৬৫।
[৫০] শরহে রিয়াজুস সালেহিন: ৩/১০৫-১০৬।
জাবের বিন আব্দুল্লাহ রা. বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
“যে ব্যক্তির তিনের অধিক কন্যা সন্তান হবে আর সে ব্যক্তি সেগুলোকে লালন-পালন করে ও যথেষ্ট ব্যবস্থা করে এবং তাদের উপর দয়া করে তাহলে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবেই। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠলো, ইয়া রাসুলুল্লাহ! দু'জনের যে ব্যক্তি লালন-পালন করবে, নবিজি তখন বললেন, হ্যাঁ, সে ব্যক্তিও জান্নাতে যাবে।”
ইবনু বায রহ. বলেন, উপরোক্ত হাদিসের মাধ্যমে বুঝা যায় যে, এটার মাধ্যমে নারিদের উপর ইহসান করা হয়েছে। আর নারিদের সাথে ভালো আচরণ করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। আর সেজন্য আল্লাহর কাছে অনেক প্রতিদান পাবে, কারণ এটা জান্নাতে যাওয়ার মাধ্যম। জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ। আর যে ব্যক্তির বোন, ফুফু, খালা ও অভাবী অন্যান্য আত্মীয় স্বজনকে লালন-পালন করবে, তাদের সাথে উত্তম আচরণ করবে ও খাদ্য পোশাক-আশাক ইত্যাদি প্রদান করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকেও মহা সওয়াব দান করে জান্নাত দান করবেন। উপরোক্ত হাদিসে তিন জনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নয়, বরং যে ব্যক্তি একজন, দুইজন, ও একাধিক কন্যা সন্তানের লালন-পালন করবে ও তাতে ধৈর্যধারণ করে ও তাদের সাথে উত্তম আচরণ করে, হতে পারে আল্লাহ তায়ালা সবাইকে এই মহা সওয়াব দান করবে। যেমনটাই বুঝা যায় অভাবী ও দুঃখীদের পাশে দাড়ানোর বিভিন্ন আয়াত ও হাদিস থেকে। আর এ সওয়াব মিলবে ও জান্নাতে যাওয়ার উপায় হবে দাদা-দাদি, নানা-নানি, পিতা-মাতা সহ সবার ক্ষেত্রেই। কারণ পিতা-মাতার সম্মান ও শ্রদ্ধা করা সন্তানের উপর ওয়াজিব। আল্লাহ তায়ালা সর্বাধিক তাওফিক দানকারী।
ইবনু আসিমিন রহ. বলেন, উপরোক্ত হাদিসে কন্যা সন্তানকে লালন-পালনের ব্যপারে অনেক ফযিলত এসেছে। কারণ নারিজাতি একটু দুর্বল। আর সাধারণত পরিবারবর্গ তাদেরকে কোনো যত্ন নেয় না এবং দামও দেয় না। কারণ তারা আয়-রোজগার করতে পারে না। তাই প্রিয়তম রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি দুইজন কন্যাকে লালন-পালন করবে, কিয়ামত দিবসে সে ব্যক্তি আর আমি দুই আঙ্গুলের ফাকা সম পরিমান থাকবো। তখন তিনি তার হাতের মধ্যমা কনিষ্ঠা আঙ্গুলকে একসাথে করলেন। অর্থ্যাৎ সে ব্যক্তি আখেরাতে জান্নাতে নবিজির সাথে থাকবে।
লালন-পালনের পরিমাণ: লালন-পালনের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, সাধারণত শরীরের কাপড়-চোপড়, খাবার-দাবার ও বসবাসের জন্য উপযোগী স্থান। এমনিভাবে তার হৃদয়ের খাদ্য তথা দ্বীনি ইলম, অন্তর পরিশুদ্ধতা, সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকার ব্যবস্থা করা।
টিকাঃ
[৪৮] মুসনাদু আহমাদ: ৮৪২৫; হাদিসটি হাসান।
[৪৯] ফাতাওয়ায়ে ইবনু বায: ২৫/৩৬৫।
[৫০] শরহে রিয়াজুস সালেহিন: ৩/১০৫-১০৬।
📄 জান্নাতে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন
জান্নাতে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন।
প্রিয় বন্ধু, জান্নাতে যাওয়ার পূর্বেই জান্নাতের বাড়ি নির্মাণ করার ব্যবস্থা করুন। তাহলে তুমি সেই পরকালে সুখে থাকতে পারবে। অন্যথায় নিঃস্ব হয়ে পড়ে থাকবে পরকালে।
আদিঈ বিন হাতেম রা. বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো ইয়াতিম বা অনাথকে আশ্রয় দিবে, যতক্ষণ আল্লাহ তায়ালা তাকে তার থেকে অমুখাপেক্ষী রাখে, (সে বালেগ হওয়া পূর্ব পর্যন্ত) তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে।
ইবনু আসিমিন রহ. বলেন, উপরোক্ত হাদিসটি ইয়াতিমের সব বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ইয়াতিমের দায়িত্ব গ্রহণের ব্যপারে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। কোনো ইয়াতিমকে এই দুনিয়াতে তার খাবার-দাবার, বাসস্থান ও তালিম-তরবিয়াত ও দ্বীনি সব বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য করা উদ্দেশ্য। আর যখন সে প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে যাবে তখন এই ইয়াতিম থেকে "ইয়াতিমের" গুণটা বাতিল হয়ে যাবে। ইয়াতিম হলো—যার পিতা এ দুনিয়া ছেড়ে পরপাড়ে পাড়ি জমিয়েছে, মমতাময়ী মা মৃত্যুবরণ করলে তাকে ইয়াতিম বলা হবে না।
ইয়াতিমের দায়িত্ব গ্রহণ করার অর্থ হলো, তাকে নিজের পরিবারের মতো মনে করে তার উপর ব্যয় করা, বিভিন্ন আদব-কায়দা শিক্ষা দেওয়া। এটাই হলো ইয়াতিমের দায়িত্ব গ্রহণের সর্বোচ্চ প্রকার। এ ধরনের দায়িত্ব সাহাবায়ে কেরাম নিতেন। এমন অনেক বিপুল হাদিস রয়েছে।
টিকাঃ
[৫১] আস সাহিহা: ২৮৮৬।
[৫২] শরহে রিয়াজুস সালেহিন: ৩/৯৭।
জান্নাতে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন।
প্রিয় বন্ধু, জান্নাতে যাওয়ার পূর্বেই জান্নাতের বাড়ি নির্মাণ করার ব্যবস্থা করুন। তাহলে তুমি সেই পরকালে সুখে থাকতে পারবে। অন্যথায় নিঃস্ব হয়ে পড়ে থাকবে পরকালে।
আদিঈ বিন হাতেম রা. বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো ইয়াতিম বা অনাথকে আশ্রয় দিবে, যতক্ষণ আল্লাহ তায়ালা তাকে তার থেকে অমুখাপেক্ষী রাখে, (সে বালেগ হওয়া পূর্ব পর্যন্ত) তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে।
ইবনু আসিমিন রহ. বলেন, উপরোক্ত হাদিসটি ইয়াতিমের সব বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ইয়াতিমের দায়িত্ব গ্রহণের ব্যপারে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। কোনো ইয়াতিমকে এই দুনিয়াতে তার খাবার-দাবার, বাসস্থান ও তালিম-তরবিয়াত ও দ্বীনি সব বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য করা উদ্দেশ্য। আর যখন সে প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে যাবে তখন এই ইয়াতিম থেকে "ইয়াতিমের" গুণটা বাতিল হয়ে যাবে। ইয়াতিম হলো—যার পিতা এ দুনিয়া ছেড়ে পরপাড়ে পাড়ি জমিয়েছে, মমতাময়ী মা মৃত্যুবরণ করলে তাকে ইয়াতিম বলা হবে না।
ইয়াতিমের দায়িত্ব গ্রহণ করার অর্থ হলো, তাকে নিজের পরিবারের মতো মনে করে তার উপর ব্যয় করা, বিভিন্ন আদব-কায়দা শিক্ষা দেওয়া। এটাই হলো ইয়াতিমের দায়িত্ব গ্রহণের সর্বোচ্চ প্রকার। এ ধরনের দায়িত্ব সাহাবায়ে কেরাম নিতেন। এমন অনেক বিপুল হাদিস রয়েছে।
টিকাঃ
[৫১] আস সাহিহা: ২৮৮৬।
[৫২] শরহে রিয়াজুস সালেহিন: ৩/৯৭।
📄 হাদিসের একটি গল্প শোনো...
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদের স্ত্রী যয়নব রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
“হে নারি জাতিরা! তোমরা প্রভুর রাহে সদকা করো যদিও তোমার পরিধেয় স্বর্ণ থেকে হয়।”
যয়নাব বলেন, অতঃপর আমি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদের নিকট গেলাম, তাকে বললাম, আপনিতো গরিব লোক; হাতে অত টাকা পয়সা নেই, অথচ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদকা করার জন্য আদেশ করেছেন। (হে স্বামি!) রাসুলের দরবারে যান, আমি যদি আপনাকে সদকা করি, তাহলে আমার সদকা আদায় হবে। যদি নাই আদায় হয়, তাহলে আমি অন্য কোথাও সদকা করবো। তখন ইবনু মাসউদ বললো, তুমিই যাও।
যয়নব রা. বলেন, আমি রাসুলের দরবারে গেলাম, দেখলাম রাসুলের দরজার কাছে আনসারি এক মহিলা উপস্থিত রয়েছে। আমার আর সে মহিলার প্রয়োজন একই। যয়নব রা. বলেন, আমার উপর প্রিয়নবির কেমন যেন একটা ভীতি কাজ করতেছিলো। অতঃপর বেলাল রা. বাহিরে এলেন, আমরা তাকে বললাম, তুমি রাসুলে আরাবিকে সংবাদ দিয়ে বলবে যে, দু'জন ব্যক্তি আপনার দরজা মুবারকে উপস্থিত হয়েছে একটা প্রশ্ন করতে। প্রশ্নটা হলো, তারা জানতে চাচ্ছে—তারা যদি তাদের স্বামি বা তাদের কোলে যেসব সন্তানাদি রয়েছে তাদেরকে সদকা করে, তাহলে তাদের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে? (সদকার সওয়াব পাবে?) আর আমাদের কথা কিন্তু বলবে না। বেলাল ধীরে-ধীরে প্রিয়নবির কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলে, নবিজি জিজ্ঞাসা করলো ঐ মহিলারা কারা? বেলাল রা. বললেন, আনসারি এক মহিলা ও যয়নব। আবার নবিজি জিজ্ঞাসা করলেন, আগত মহিলা কোন যয়নব? উত্তরে বিলাল রা. বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদের স্ত্রী যয়নব। তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাদের দুটি সওয়াব হবে—একটি নিকটাত্মীয় হওয়ায়, অন্য সওয়াব হবে সদকার সওয়াব।
উমারাতা বিন ওমায়ের রা. বলেন, “আমি আয়েশা রা.-কে জিজ্ঞাসা করেছি, আমার দায়িত্বে ইয়াতিম রয়েছে, আমি কি তার সম্পদ থেকে আহার করবো? উত্তরে তিনি বলেন, আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, নিশ্চয় কতইনা উত্তম সে ব্যক্তি, যে তার রোজগার থেকে আহার করে এবং তার সন্তান আহার করে।"
এমনিভাবে দায়িত্ব নেয়া ব্যতিতও ইয়াতিমদের উপর ব্যয় করা যায়। যেমন অনেক বুযুর্গরা করেছেন, তারা সম্পদের অনেকাংশ ইয়াতিমের কাছে পাঠিয়ে দিতেন, যে ইয়াতিমগুলো তাদের মায়ের সাথে থাকতো। আর যে ব্যক্তি দায়িত্ব নেওয়া ব্যতিত ইয়াতিমদের খাবার-দাবারসহ অন্যান্য কিছুর ব্যবস্থা করবে সেও প্রিয়তম রাসুলের সেই ঝংকৃত কথামালার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবেন যেখানে তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি ইয়াতিমের দায়িত্ব গ্রহণ করবে আমি এবং সে জান্নাতে এভাবে (দুই আঙুল দেখিয়ে বলল, এক আঙুল থেকে অন্য আঙুলের দুরত্ব পরিমাণ কাছে) থাকব।
ইমাম নববি রহিমাহুল্লাহু বলেন, ইয়াতিমের দায়িত্ব নেয়া দ্বারা উদ্দেশ্য ইয়াতিমের সবকিছুর ব্যবস্থা করা। খাবার-দাবার, পোশাক-আশাক, তালিম-তরবিয়াতসহ সবকিছু। আর এ ফযিলত পাবে সে, যে তার সম্পদ থেকে ইয়াতিমের জন্য ব্যবস্থা করেছিলো। আর ইয়াতিম ছাড়া অন্যান্য কোনো স্বজন দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, তার আপনজন, যেমন-দাদা-দাদি, নানা-নানি, ভাই-বোন, ফুফু, খালাসহ অন্যান্য আত্মীয় স্বজনের ব্যবস্থা করলেও প্রিয়নবির সাথে জান্নাতে যেতে পারবে। আর এসবের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনাই ধর্তব্য। তাই দায়িত্বশীলদের জন্য উচিত তাকে খাবার-দাবার, পোশাক-পরিচ্ছেদ, বাসস্থান, তালিম-তরবিয়াতের ক্ষেত্রে তার সাধ্যানুযায়ী উত্তম ব্যবস্থা করা। তাহলেই প্রিয়তম প্রভু তোমার জন্য জান্নাতের সুখময় উদ্যানে প্রিয় স্থানের ব্যবস্থা করে দিবেন।
টিকাঃ
[৫৩] সহিহ মুসলিম: ১০০০।
[৫৪] সহিহুল জা'মে: ২২০৮।
[৫] শরহে নববি আলাল মুসলিম: ৫/৪০৮।
📄 জান্নাতের আলোতে আলোকিত হবেন যারা...
মুয়াজ বিন জাবাল রা. বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
“যে ব্যক্তি ক্ষুণরাঙ্গা পিচ্ছিল পথে যুদ্ধের ময়দানে ততক্ষণ জিহাদ করে যতক্ষণ কোনো উটের দুধ দোহন করতে সময় লাগে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় ক্ষত হবে অথবা কোনো মুজাহিদ যুদ্ধের ময়দানে দুর্ঘটনার শীকার হয় তাহলে সে আখেরাতের ময়দানে এমন অবস্থায় উত্থিত হবে যে-তার শরীরে মেশক আম্বরের মতো সুঘ্রাণ ছড়াতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় ময়দানে বের হবে, তাহলে সে নিজের উপর শাহাদাতের সীল মেরে নিলো।”
ইবনু আসিমিন রহ. বলেন, উপরোক্ত হাদিসে প্রিয়তম প্রভুর রাহে যুদ্ধ করার ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করবে এবং এ অবস্থায় যদি সে শহীদ বা কোনো ক্ষত হয়ে যায়, তাহলে আখেরাতের ময়দানে তার ঐ রক্ত সুঘ্রাণ হয়ে ছড়িয়ে পড়বে পুরো জান্নাতবাসীর উপর। যে সুঘ্রাণ উপলব্ধি করবে সর্বযুগের শ্রেষ্ঠ মানুষেরা। সেদিন ফেরেস্তাকুলও উপস্থিত থাকবেন। এটা শহীদের মহান মর্যাদা। ঐ ব্যক্তিরও যুদ্ধের মহান মর্যাদা অর্জিত হবে যে ব্যক্তি উটের দুধ দোহন সমপরিমান সময় আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে তাঁর মহা বাণীকে উচু করণার্থে। তাহলে সেও জান্নাতের আলোতে আলোকিত হবেন।”
টিকাঃ
[৫৬] সুনানু আবু দাউদ: ২৫৪১।
[৫৭] শরহু রিয়াজুস সালেহিন: ৫/৩২০।