📄 প্রাককথন
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি এক ও অদ্বিতীয়। যিনি এ জগত সংসারের একচ্ছত্র অধিপতি। সৃষ্টির ক্ষুদ্র হতে বৃহৎ সবকিছুতেই বেষ্টন করে আছে প্রিয়তম প্রভুর সীমাহীন ভালোবাসা, দয়া ও রহমত।
অগণিত দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর। যার নবুওয়াতি আলোকধারায় এ পৃথিবি থেকে দূরিভূত হয়েছে পাপ ও অন্ধকার। যার পরশে মানব খুঁজে পেয়েছে সফলতার সঠিক পথ।
শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর পূত-পবিত্র পরিবারবর্গের প্রতি, তাঁর অনুসারীদের প্রতি এবং সৌভাগ্যশালী উম্মতের প্রতি। যারা সীমাহীন যুলুম-অত্যাচারের শিকার হয়েও বেছে নিয়েছেন প্রিয় নবিজির পথ-পন্থা, আঁকড়ে ধরে আছেন তাঁর অনুপম আদর্শ।
প্রিয় পাঠক! 'হে যুবক! জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায়' বইটির মেইন গেইটে দাঁড়িয়ে আছেন আপনি। ভেতরে প্রবেশের আগে জরুরি কিছু বিষয় আপনার সাথে আলাপন করে নেই। আসলে সালাফদের লেখাগুলোতে কেমন যেন একটা রুহানিয়াত খুঁজে পাই। সালাফদের বই-পুস্তকের ধরণগুলো খুবই ভালো লাগে আমার। শুরুতে কুরআনুল কারিমের আয়াত, তারপরে হাদিসে রাসূল, আছারে সাহাবা, তাবিয়িদের বক্তব্য ও অনেক বুযুর্গদের উক্তির সমাহার ঘটিয়ে থাকেন তাঁদের বই-পুস্তকে।
এই বইটিও সে ধারার ব্যতিক্রম নয়। বক্ষমান গ্রন্থটি ড. শাইখ আহমাদ মুস্তফা মুতাওয়াল্লীর হৃদয়কাড়ানো চমৎকার মূল্যবান একটি সংকলন। “মান ওয়াজাবাত লাহুমুল জান্নাত” নামে বিশ্বের বিভিন্ন গ্রন্থাগারে প্রকাশিত হয়েছে এবং বিপুলভাবে সমাদৃত হয়েছে। তারই বাংলা অনুবাদ-‘হে যুবক! জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায়'। অনূদিত গ্রন্থে যেসব নীতিমালা আমি অবলম্বন করেছি-
১. মূল কিতাবে লেখক তাঁর প্রতিটি বর্ণনার শুরুতে শিরোনাম ব্যবহার করেননি। কিন্তু আমি পাঠকের উপকারের প্রতি লক্ষ্য করে, উপযোগী শিরোনাম উল্লেখ করে দিয়েছি। যাতে কোন বর্ণনাতে কী বিষয় আলোচনা করা হয়েছে; তা সহজে পাঠকের বোধগম্য হয়ে যায়। আবার কখনো-কখনো ভাষান্তরিত করার সময় পাঠকের উপকারের আবেদনের ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে দু'চার শব্দ সংযোজনও করে দিয়েছি। ফলে কোথাও মূল ইবারতের সাথে মিল না খেলে দায় আমার। মূল লেখকের নয়।
২. টিকাতে প্রত্যেকটি আয়াতের সুরার নাম ও আয়াত নং এবং হাদিসের উৎস বলে দিয়েছি। আয়াত ও হাদিসের ক্ষেত্রে মূল আরবিপাঠ উল্লেখ করে দিয়েছি, তবে সহজার্থে কিছু কিছু হাদিসের আরবিপাঠ উল্লেখ করা হয়নি। আবার কোথাও মূল লেখক হাদিসের আরবি পাঠের শাব্দিক আলোচনা করেছেন, পাঠকের সহজের জন্য দু'এক জায়গায় সেসব শাব্দিক আলোচনা থেকে আমি বিরত থেকেছি।
৩. বইটি অনুবাদ করার ক্ষেত্রে যত নুসখা রয়েছে, সবগুলোকেই আমি সামনে রেখেছি। যাতে লেখকের হীরাতুল্য কোন বক্তব্যই হারিয়ে না যায়।
৪. বইটি অনুবাদ করার ক্ষেত্রে সাবলীল রাখতে আমি অনেক চেষ্টা করেছি। তারপরও যদি কোথাও কোন ভুল বা অসঙ্গতি পাঠকের দৃষ্টিগোচর হয়, তাহলে অবশ্যই বন্ধুত্বের ডাকে সাড়া দিয়ে জানানোর অনুরোধ রইলো। ইন শা আল্লাহ, তা সাদরে গ্রহণ করে নিবো। দিল থেকে 'জাযাকাল্লাহ খায়রান' বলবো।
বইটি প্রকাশের দায়িত্ব নিয়েছেন ইসলামি জগতের স্বনামধন্য প্রকাশনা 'আর রিহাব পাবলিকেশন্স'। আল্লাহ তায়ালা প্রকাশককে এবং এই বইটির পিছনে যারা দিন-রাত মেহনত করেছেন, তাঁদের সবাইকে এর উসিলা করে পরপারে নাজাত দিন এবং জান্নাতের সুখময় উদ্যানে জায়গা করে দিন। আমিন।
প্রিয় পাঠক! জান্নাতে কে যেতে না চায়? প্রতিটি মুমিনের হৃদয়ে গেঁথে রেখেছেন জান্নাতে যাওয়ার আশা। সুখী, দুঃখী, গরিব-ধনী প্রতিটি মানুষই কামনা করে পরপারের সুখ। হ্যাঁ, পরপারের সেসব সুখের জন্য আমরা কী করবো? কী করলে জান্নাতের সেই সুখ পাওয়া যাবে, তারই বিভিন্ন দিক নির্দেশনা রয়েছে বইটিতে। অনেক কথা হয়ে গেলো। আর নয়; চলুন, এবার আমরা মেইন গেইট পেরিয়ে প্রবেশ করি—'হে যুবক! জান্নাতের তোমার প্রতিক্ষায়'-এর পুস্পকাননে।
সাইফুল্লাহ আল মাহমুদ
মীরহাজীরবাগ, যাত্রাবাড়ি, ঢাকা।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি এক ও অদ্বিতীয়। যিনি এ জগত সংসারের একচ্ছত্র অধিপতি। সৃষ্টির ক্ষুদ্র হতে বৃহৎ সবকিছুতেই বেষ্টন করে আছে প্রিয়তম প্রভুর সীমাহীন ভালোবাসা, দয়া ও রহমত।
অগণিত দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর। যার নবুওয়াতি আলোকধারায় এ পৃথিবি থেকে দূরিভূত হয়েছে পাপ ও অন্ধকার। যার পরশে মানব খুঁজে পেয়েছে সফলতার সঠিক পথ।
শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর পূত-পবিত্র পরিবারবর্গের প্রতি, তাঁর অনুসারীদের প্রতি এবং সৌভাগ্যশালী উম্মতের প্রতি। যারা সীমাহীন যুলুম-অত্যাচারের শিকার হয়েও বেছে নিয়েছেন প্রিয় নবিজির পথ-পন্থা, আঁকড়ে ধরে আছেন তাঁর অনুপম আদর্শ।
প্রিয় পাঠক! 'হে যুবক! জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায়' বইটির মেইন গেইটে দাঁড়িয়ে আছেন আপনি। ভেতরে প্রবেশের আগে জরুরি কিছু বিষয় আপনার সাথে আলাপন করে নেই। আসলে সালাফদের লেখাগুলোতে কেমন যেন একটা রুহানিয়াত খুঁজে পাই। সালাফদের বই-পুস্তকের ধরণগুলো খুবই ভালো লাগে আমার। শুরুতে কুরআনুল কারিমের আয়াত, তারপরে হাদিসে রাসূল, আছারে সাহাবা, তাবিয়িদের বক্তব্য ও অনেক বুযুর্গদের উক্তির সমাহার ঘটিয়ে থাকেন তাঁদের বই-পুস্তকে।
এই বইটিও সে ধারার ব্যতিক্রম নয়। বক্ষমান গ্রন্থটি ড. শাইখ আহমাদ মুস্তফা মুতাওয়াল্লীর হৃদয়কাড়ানো চমৎকার মূল্যবান একটি সংকলন। “মান ওয়াজাবাত লাহুমুল জান্নাত” নামে বিশ্বের বিভিন্ন গ্রন্থাগারে প্রকাশিত হয়েছে এবং বিপুলভাবে সমাদৃত হয়েছে। তারই বাংলা অনুবাদ-‘হে যুবক! জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায়'। অনূদিত গ্রন্থে যেসব নীতিমালা আমি অবলম্বন করেছি-
১. মূল কিতাবে লেখক তাঁর প্রতিটি বর্ণনার শুরুতে শিরোনাম ব্যবহার করেননি। কিন্তু আমি পাঠকের উপকারের প্রতি লক্ষ্য করে, উপযোগী শিরোনাম উল্লেখ করে দিয়েছি। যাতে কোন বর্ণনাতে কী বিষয় আলোচনা করা হয়েছে; তা সহজে পাঠকের বোধগম্য হয়ে যায়। আবার কখনো-কখনো ভাষান্তরিত করার সময় পাঠকের উপকারের আবেদনের ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে দু'চার শব্দ সংযোজনও করে দিয়েছি। ফলে কোথাও মূল ইবারতের সাথে মিল না খেলে দায় আমার। মূল লেখকের নয়।
২. টিকাতে প্রত্যেকটি আয়াতের সুরার নাম ও আয়াত নং এবং হাদিসের উৎস বলে দিয়েছি। আয়াত ও হাদিসের ক্ষেত্রে মূল আরবিপাঠ উল্লেখ করে দিয়েছি, তবে সহজার্থে কিছু কিছু হাদিসের আরবিপাঠ উল্লেখ করা হয়নি। আবার কোথাও মূল লেখক হাদিসের আরবি পাঠের শাব্দিক আলোচনা করেছেন, পাঠকের সহজের জন্য দু'এক জায়গায় সেসব শাব্দিক আলোচনা থেকে আমি বিরত থেকেছি।
৩. বইটি অনুবাদ করার ক্ষেত্রে যত নুসখা রয়েছে, সবগুলোকেই আমি সামনে রেখেছি। যাতে লেখকের হীরাতুল্য কোন বক্তব্যই হারিয়ে না যায়।
৪. বইটি অনুবাদ করার ক্ষেত্রে সাবলীল রাখতে আমি অনেক চেষ্টা করেছি। তারপরও যদি কোথাও কোন ভুল বা অসঙ্গতি পাঠকের দৃষ্টিগোচর হয়, তাহলে অবশ্যই বন্ধুত্বের ডাকে সাড়া দিয়ে জানানোর অনুরোধ রইলো। ইন শা আল্লাহ, তা সাদরে গ্রহণ করে নিবো। দিল থেকে 'জাযাকাল্লাহ খায়রান' বলবো।
বইটি প্রকাশের দায়িত্ব নিয়েছেন ইসলামি জগতের স্বনামধন্য প্রকাশনা 'আর রিহাব পাবলিকেশন্স'। আল্লাহ তায়ালা প্রকাশককে এবং এই বইটির পিছনে যারা দিন-রাত মেহনত করেছেন, তাঁদের সবাইকে এর উসিলা করে পরপারে নাজাত দিন এবং জান্নাতের সুখময় উদ্যানে জায়গা করে দিন। আমিন।
প্রিয় পাঠক! জান্নাতে কে যেতে না চায়? প্রতিটি মুমিনের হৃদয়ে গেঁথে রেখেছেন জান্নাতে যাওয়ার আশা। সুখী, দুঃখী, গরিব-ধনী প্রতিটি মানুষই কামনা করে পরপারের সুখ। হ্যাঁ, পরপারের সেসব সুখের জন্য আমরা কী করবো? কী করলে জান্নাতের সেই সুখ পাওয়া যাবে, তারই বিভিন্ন দিক নির্দেশনা রয়েছে বইটিতে। অনেক কথা হয়ে গেলো। আর নয়; চলুন, এবার আমরা মেইন গেইট পেরিয়ে প্রবেশ করি—'হে যুবক! জান্নাতের তোমার প্রতিক্ষায়'-এর পুস্পকাননে।
সাইফুল্লাহ আল মাহমুদ
মীরহাজীরবাগ, যাত্রাবাড়ি, ঢাকা।
📄 জান্নাত যাদের প্রতিক্ষায়
সুলাইম বিন আমের রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- “আমি আবু বকর রা. থেকে শুনেছি, তিনি বলেন, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তুমি বের হও এবং মানুষেদের থেকে যারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'র সাক্ষ্য প্রদান করে তাদের জান্নাতের সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে। অতঃপর আমি বের হলাম, পথে ওমর ইবনুল খাত্তাবের সাথে সাক্ষাত হলো। ওমর বললো, হে আবু বকর! আপনার উদ্দেশ্য কি? আমি বললাম, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, তুমি বের হয়ে মানুষের মাঝে ডেকে-ডেকে সংবাদ প্রদান কর-যে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'র সাক্ষ্য দিবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে। ওমর বলল—আপনি রাসুলের কাছে ফেরত চলে যান, কেননা আমার ভয় হচ্ছে যে মানুষ এ কথার উপর নির্ভর করে বসে পড়বে। আবু বকর বলেন, এরপর আমি নবির কাছে ফিরে আসলাম। আখেরি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, হে আবু বকর! কেন ফিরে এসেছো? আমি সংবাদ দিলাম ওমর এরকম বলেছেন। তখন নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-সে ঠিক বলেছে।”
সাহল বিন হুনাইফ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “তুমি মানুষকে সুসংবাদ দাও- যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাহ' বলে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে।”
শায়েখ হাফেজ হাকমি রহিমাহুল্লাহ দরদমাখা কণ্ঠে বলেছেন- আল্লাহর প্রতি স্বাক্ষ্য প্রদানের শব্দ উচ্চারণ, সেটাই হবে সফলতা ও জান্নাতের সুখের কারণ। যে দিয়েছে শাহাদাতের সাক্ষ্য বিশ্বাস করে দিলে, আমল করেছে সে সবকিছুর উপর তিলে-তিলে। মুখে কাজে সাক্ষ্য দিয়ে পরপারে দিয়েছে পাড়ি, কিয়ামতে নিরাপদে উঠবে সে জান্নাত হবে বাড়ি।
মহাগ্রন্থ আল কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- “আর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে; সেই সফলকাম হবে।”
এটাই সুপথ আর এ সুপথে অগ্রগণ্যতার জন্য কেবল শাহাদাতই আবশ্যক। এ শাহাদাত যে পড়েছে সে সফলকাম হয়েছে। পেয়েছে মুক্তির ঠিকানা। কাঙ্ক্ষিত সুপথ। কালিমা তাইয়্যিবার দাবিতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং সমস্ত নবি-রাসুল এ জগতে সংসারে আগমন করেছেন কেবল আল্লাহর ঐ চিরন্তণ বাণী কালিমায়ে তাইয়্যিবার জন্যই। এ কারণেই দুনিয়া ও পরকাল সৃষ্টি হয়েছে। মানবের সফলতা ও ব্যর্থতা নিহিত রয়েছে এই ছোট্ট কালিমাতেই। বিচারের দিন মানবের ডান-বাম হাতে তার আমল দেওয়া হবে এর কারণেই। শাহাদাতের বড়ত্বের কারণে কারো পাল্লা ভারি হবে, আবার যার শাহাদাত ছিলো কিন্তু আমল ছিলো না, তার নিক্তি হবে একবারে হালকা। আল্লাহর এ ছোট্ট বাণীর কারণেই মানুষকে জাহান্নামে কিছু দিন শাস্তির পরে জান্নাতের সুখময় উদ্যানে নেওয়া হবে। আগুনে সর্বদা রাখার হুকুম দেওয়া হবে না। শাহাদাতের কারনেই আল্লাহর দেওয়া প্রতিশ্রুতি সম্পকে তাকে পাকড়াও করবেন। হিসাব-নিকাশ নিবেন। আবার আল্লাহ দুনিয়ার জীবন সর্ম্পকে প্রশ্নও করবেন। মোট কথা হচ্ছে-মানুষের সফলতা ও জান্নাতে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হলো 'কালিমায়ে শাহাদাত'। মানবের সফলতার দিশারি পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
“অবশ্যই আমি তাদের সকলকে তাদের আমল সম্পর্কে প্রশ্ন করব।”
আল্লাহ তায়ালা যেসব নবিদের দুনিয়ার জমিনে কালিমা তাইয়্যিবার দাবি নিয়ে প্রেরণ করেছিলেন তাদেরকে তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন। নবিগণ কি আল্লাহর সেই চিরন্তণ বাণী পরিপূর্ণ উম্মাহ্র কাছে পৌঁছে দিয়েছেন? মহাগ্রন্থ আল কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
“অবশ্যই আমি তাদের কাছে জিজ্ঞেস করব যাদের কাছে রাসুল প্রেরিত হয়েছিলো, আর রাসুলগণকেও অবশ্যই তাদের রিসালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব।”
পূর্বের ও পরের আয়াত দ্বারা এমনটাই বুঝা যায়। নবিগণের প্রশ্ন করার আরো বিপুল আয়াত রয়েছে। মহাগ্রন্থ পবিত্র কুরআনুল কারিমে আরো ইরশাদ হয়েছে-
“যেদিন আল্লাহ সব পয়গম্বরদের একত্রিত করবেন সেদিন জিজ্ঞেস করবেন, তোমরা (জাতির কাছ থেকে) কি উত্তর পেয়েছিলে? তখন তারা বলবেন— আমরা অবগত নই। আপনিইতো অদৃশ্যের বিষয়ে মহাজ্ঞানী।”
এটাতো বড় ও মহা নেয়ামত। আল্লাহ মানবের উপর রহমত করে দান করেছেন। রাসুল ও নবিগণের উপর ও আল্লাহ তায়ালা দান করেছেন। তাইতো সুরা নাহলের শুরুর দিক দিয়ে আল্লাহ তায়ালা তার অনেক নেয়ামতকে বর্ণনা করেছেন। পবিত্র কুরআনুল কারিমে সেই মহান সত্তা ইরশাদ করেন-
“তিনি স্বীয় নির্দেশে বান্দাদের মধ্যে যার কাছে ইচ্ছে নির্দেশসহ ফেরেশতাদের এই মর্মে প্রেরণ করেন যে, হুশিয়ার করে দাও। আমি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। অতএব তোমরা আমাকে ভয় করো।”
এটাই সাক্ষ্য প্রদানের শব্দ। সফলতার চাবি। দ্বীনের ভিত্তি ও মূল মগজ। গাছের শিকড়ের ন্যায়, ঘরের খুটি বা স্তম্ভের মতো, যা কোনো কালে বৈশাখি ঝড় তুফানেও নাড়াতে পারে না। একেবারে শক্ত ও ইস্পাত লোহার মতো দৃঢ় ও মজবুত। কালিমা তাইয়্যিবা ছাড়া দ্বীনের অন্য ফরজ বিধানাবলী গাছের ডালপালার ন্যায়, যে ডালপালাগুলো শাহাদাত নামক গাছ থেকে দিগন্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছে। শরিয়তের সব বিধানই কালিমাই তাইয়্যিবাকে পরিপূর্ণতা দান করার জন্য। কালিমায়ে তাইয়্যিবার সাথেই সব আমল ও বিধানাবলী সম্পৃক্ত। তাইয়্যিবাই আসল ও মূল ভিত্তি। পবিত্র কুরআনুল কারিমে পরাক্রমশালী সেই মহান সত্তা ইরশাদ করেন, যিনি এই দুনিয়ার একচ্ছত্র অধিপতি।
“আর যারা গোমরাহি তাগুতদের মানবে না এবং আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করবে। সে ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাত যা ভাঙবার নয়। আর আল্লাহ সবই জানেন ও শুনেন।"
উপরোক্ত আয়াতের ক্ষেত্রে সাঈদ বিন জুবাইর ও জাহহাক রহ. বলেন, এখানে আল্লাহর অঙ্গিকার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো-আল্লাহর প্রতি সাক্ষ্য দান করা। তথা তিনি এক ও অদ্বিতীয়। এ আকাশ, বাতাস, চন্দ্র, সুর্য, গ্রহ, তারকা, নিহারিকা, খাল-বিল, নদি-নালা, ঝিলসহ সবই তার নেয়ামত। তিনি এগুলোর একচ্ছত্র মালিক।
অব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রা. বলেন, আল্লাহর জন্য সাক্ষ্য প্রদান করা ও “লা-হাওলার” মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া, আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারো আশা না করা হলো প্রকৃত মুমিনের গুণ। কতইনা সুন্দর করে আল্লাহ তায়ালা মানবতার মুক্তির মহাগ্রন্থে ইরশাদ করেন-
“অতএব যে দান করে ও খোদাভীরু হয়, এবং উত্তম বিষয়কে সত্য মনে করে; আমি তাকে সুখের বিষয়ের জন্য সহজ পথ করে দিবো।"
আবু আব্দুর রহমান সুলামি জাহহাক ও আতিয়্যা রহ. উপরোক্ত আয়াতের প্রেক্ষিতে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর সেই কথা সত্য ও বাস্তব।
“তিনি ব্যতিত তারা যাদের পূজা করে, তারা সুপারিশের অধিকারী হবে না, তবে যারা সত্য স্বীকার করতো ও বিশ্বাস করতো।”
বাগভী রহ. বলেন, এসব সত্যকে মেনে নেওয়াই তাকওয়া। তাকওয়ার ডাক দিয়ে আহবানকারী সেই দয়াময় প্রভু ইরশাদ করেন-
“(আর আল্লাহ তায়ালা) তাদের জন্য তাকওয়াকে অপরিহার্য করে দিলেন, বস্তুত: তারাই ছিলো এর অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত।”
কালিমায়ে তাইয়্যিবাই হলো 'দৃঢ় কথা' সুতরাং কালিমায়ে তাইয়্যিবাকে হৃদয়ের প্রতিটি দরজা-জানালাগুলোতে ঠাঁই দিতে। তাহলেই জান্নাত পাওয়া যাবে। পাওয়া যাবে সুখময় উদ্যানের হাজারো সুখ। শান্তিতে থাকা যাবে নিরবদী, যে সুখ কেবল ক্ষণিকের জন্য নয়। যে সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
“আল্লাহ তায়ালা মুমিনদেরকে মজবুত বাক্য দ্বারা মজবুত করেন, পার্থিব জীবনে ও পরকালে। "
বারা বিন আযেব রা. থেকে বর্ণিত, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, শাহাদাতই হলো মুল বা শিকড়। কালিমায়ে তাইয়্যিবা বা পবিত্র বৃক্ষের মতো, যেটা আয়াতে উদাহরণ হিসেবে পেশ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
“আল্লাহ তায়ালার পবিত্র বাক্য হলো পবিত্র বৃক্ষের মতো। যার শিকড় মজবুত ও দৃঢ়। আর শাখা-প্রশাখা আকাশে উত্থিত।”
আলি বিন তালহা ইবনু আব্বাস বর্ণনা করেন-“শাহাদাতের গোড়া মুমিনের হৃদয়ে বদ্ধমূল রয়েছে। আর এই শাহাদাতের প্রশাখা হচ্ছে নেক-আমল। যেটা আকাশচুম্বী এবং প্রিয়তম আল্লাহর দিকে উর্ধ্বগামী।”
জাহহাক, সাঈদ বিন জুবাইর, ইকরিমা, মুজাহিদ রহ. প্রমুখ বলেন, কালিমায়ে তাইয়্যিবাই হাসানাহ বা ভালো কাজ। সুতরাং যে এ ভালো কাজ বেশি বেশি করতে পারবে, আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন। যেটা আল্লাহ তায়ালাই ইরশাদ করেছেন-
“যে নেক কাজ করবে আল্লাহ তায়ালা আরো দশগুণ বৃদ্ধি করে দিবেন।”
“আর যে সৎকর্ম নিয়ে আসবে, সে উৎকৃষ্ট প্রতিদান পাবে এবং সেদিন তারা গুরুতর অস্থিরতা থেকে নিরাপদ থাকবে। "
জয়নুল আবেদিন, ইবরাহিম নাখঈ ও আবু জর প্রমুখ বলেন, শাহাদাত হলো নেক আমলের সর্বোত্তম আমল। এর দ্বারাই মানুষের গুনাহ ও পাপকে মোচন করা হয়।”
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-
"আকাশ ও পৃথিবিতে সর্বোচ্চ মর্যাদা তাঁরই।”
কাতাদা মাহাম্মাদ বিন জাবির মালেক, তিনি মাহাম্মাদ বিন মুনকাদির থেকে বর্ণনা করেন, “কালিমায়ে তাইয়্যিবা বা শাহাদাত হলো মুক্তির কারণ। যেমন 'সহিহ মুসলিম শরিফে' উল্লেখ রয়েছে-
নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন মুয়াজ্জিনকে 'আশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলতে শুনলেন, তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি জাহান্নাম থেকে বের হয়ে গেছো।”
উবাদা বিন সামেত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- “আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া আর কোন প্রতিপালক নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসুল-এ কথা বলবে তার উপর জাহান্নামের আগুন হারাম।”
শাফায়াত সম্পর্কিত হাদিসে আছে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- “তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে এসো। যদিও তার হৃদয়ে সামান্য পরিমাণ ইমান থাকে তবুও, কারণ ইমান হলো জান্নাতে প্রবেশের একমাত্র মাধ্যম।”
যেমনটা উবাদা বিন সামেত রা. থেকে বর্ণিত, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- “যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই, তার সাথে আর কারো শরিক নেই ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। এবং ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর বান্দা এবং সে কোনো নারির সন্তান (আল্লাহর বাণী--তিনি মারইয়ামের কাছে প্রেরণ করেছেন। তিনি ছিলেন রুহ।) জান্নাত সত্য-জাহান্নাম সত্য। আল্লাহ তায়ালা এমন ব্যক্তিকে জান্নাতের আটটির যে কোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ করাবেন (সুবহানাল্লাহ)। অন্য বর্ণনায় এসেছে-তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, তার আমল অনুযায়ী জান্নাতে দিবেন।”
টিকাঃ
[১] সহিহুস সহিহা: ১১৩৫।
[২] সহিহুল জা'মে: ৫১৩৫।
[৩] সুরা আলে ইমরান: ১৮৫।
[৪] সুরা আল হিজর : ৯২।
[৫] সুরা আল আ'রাফ: ৬।
[৬] সুরা মায়িদাহ: ১০৯।
[৭] সুরা নাহল: ২।
[৮] সুরা বাকারা: ২৫৬।
[৯] সুরা লাইল: ৫-৭।
[১০] সুরা যুখরুফ: ৮৬।
[১১] সুরা আল ফাতাহ ২৬।
[১২] সুরা ইবরাহিম: ২৭।
[১৩] সুরা ইবরাহিম: ২৪।
[১৪] তাফসিরে ইবনু কাসির: ২/৫৪৯।
[১৫] সুরা আল আনআম: ১৬০।
[১৬] সুরা নামল: ৮৯।
[১৭] তাফসির ইবনু জারির: ৮/১১০।
[১৮] সুরা রুম: ২৭।
[১৯] মুসলিম শরিফ: ৩৮২।
[২০] মুসলিম শরিফ: ২৯।
[২১] সহিহ বুখারি: ২২।
[২২] সহিহ মুসলিম: ২৮।
সুলাইম বিন আমের রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- “আমি আবু বকর রা. থেকে শুনেছি, তিনি বলেন, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তুমি বের হও এবং মানুষেদের থেকে যারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'র সাক্ষ্য প্রদান করে তাদের জান্নাতের সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে। অতঃপর আমি বের হলাম, পথে ওমর ইবনুল খাত্তাবের সাথে সাক্ষাত হলো। ওমর বললো, হে আবু বকর! আপনার উদ্দেশ্য কি? আমি বললাম, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, তুমি বের হয়ে মানুষের মাঝে ডেকে-ডেকে সংবাদ প্রদান কর-যে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'র সাক্ষ্য দিবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে। ওমর বলল—আপনি রাসুলের কাছে ফেরত চলে যান, কেননা আমার ভয় হচ্ছে যে মানুষ এ কথার উপর নির্ভর করে বসে পড়বে। আবু বকর বলেন, এরপর আমি নবির কাছে ফিরে আসলাম। আখেরি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, হে আবু বকর! কেন ফিরে এসেছো? আমি সংবাদ দিলাম ওমর এরকম বলেছেন। তখন নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-সে ঠিক বলেছে।”
সাহল বিন হুনাইফ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “তুমি মানুষকে সুসংবাদ দাও- যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাহ' বলে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে।”
শায়েখ হাফেজ হাকমি রহিমাহুল্লাহ দরদমাখা কণ্ঠে বলেছেন- আল্লাহর প্রতি স্বাক্ষ্য প্রদানের শব্দ উচ্চারণ, সেটাই হবে সফলতা ও জান্নাতের সুখের কারণ। যে দিয়েছে শাহাদাতের সাক্ষ্য বিশ্বাস করে দিলে, আমল করেছে সে সবকিছুর উপর তিলে-তিলে। মুখে কাজে সাক্ষ্য দিয়ে পরপারে দিয়েছে পাড়ি, কিয়ামতে নিরাপদে উঠবে সে জান্নাত হবে বাড়ি।
মহাগ্রন্থ আল কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- “আর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে; সেই সফলকাম হবে।”
এটাই সুপথ আর এ সুপথে অগ্রগণ্যতার জন্য কেবল শাহাদাতই আবশ্যক। এ শাহাদাত যে পড়েছে সে সফলকাম হয়েছে। পেয়েছে মুক্তির ঠিকানা। কাঙ্ক্ষিত সুপথ। কালিমা তাইয়্যিবার দাবিতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং সমস্ত নবি-রাসুল এ জগতে সংসারে আগমন করেছেন কেবল আল্লাহর ঐ চিরন্তণ বাণী কালিমায়ে তাইয়্যিবার জন্যই। এ কারণেই দুনিয়া ও পরকাল সৃষ্টি হয়েছে। মানবের সফলতা ও ব্যর্থতা নিহিত রয়েছে এই ছোট্ট কালিমাতেই। বিচারের দিন মানবের ডান-বাম হাতে তার আমল দেওয়া হবে এর কারণেই। শাহাদাতের বড়ত্বের কারণে কারো পাল্লা ভারি হবে, আবার যার শাহাদাত ছিলো কিন্তু আমল ছিলো না, তার নিক্তি হবে একবারে হালকা। আল্লাহর এ ছোট্ট বাণীর কারণেই মানুষকে জাহান্নামে কিছু দিন শাস্তির পরে জান্নাতের সুখময় উদ্যানে নেওয়া হবে। আগুনে সর্বদা রাখার হুকুম দেওয়া হবে না। শাহাদাতের কারনেই আল্লাহর দেওয়া প্রতিশ্রুতি সম্পকে তাকে পাকড়াও করবেন। হিসাব-নিকাশ নিবেন। আবার আল্লাহ দুনিয়ার জীবন সর্ম্পকে প্রশ্নও করবেন। মোট কথা হচ্ছে-মানুষের সফলতা ও জান্নাতে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হলো 'কালিমায়ে শাহাদাত'। মানবের সফলতার দিশারি পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
“অবশ্যই আমি তাদের সকলকে তাদের আমল সম্পর্কে প্রশ্ন করব।”
আল্লাহ তায়ালা যেসব নবিদের দুনিয়ার জমিনে কালিমা তাইয়্যিবার দাবি নিয়ে প্রেরণ করেছিলেন তাদেরকে তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন। নবিগণ কি আল্লাহর সেই চিরন্তণ বাণী পরিপূর্ণ উম্মাহ্র কাছে পৌঁছে দিয়েছেন? মহাগ্রন্থ আল কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
“অবশ্যই আমি তাদের কাছে জিজ্ঞেস করব যাদের কাছে রাসুল প্রেরিত হয়েছিলো, আর রাসুলগণকেও অবশ্যই তাদের রিসালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব।”
পূর্বের ও পরের আয়াত দ্বারা এমনটাই বুঝা যায়। নবিগণের প্রশ্ন করার আরো বিপুল আয়াত রয়েছে। মহাগ্রন্থ পবিত্র কুরআনুল কারিমে আরো ইরশাদ হয়েছে-
“যেদিন আল্লাহ সব পয়গম্বরদের একত্রিত করবেন সেদিন জিজ্ঞেস করবেন, তোমরা (জাতির কাছ থেকে) কি উত্তর পেয়েছিলে? তখন তারা বলবেন— আমরা অবগত নই। আপনিইতো অদৃশ্যের বিষয়ে মহাজ্ঞানী।”
এটাতো বড় ও মহা নেয়ামত। আল্লাহ মানবের উপর রহমত করে দান করেছেন। রাসুল ও নবিগণের উপর ও আল্লাহ তায়ালা দান করেছেন। তাইতো সুরা নাহলের শুরুর দিক দিয়ে আল্লাহ তায়ালা তার অনেক নেয়ামতকে বর্ণনা করেছেন। পবিত্র কুরআনুল কারিমে সেই মহান সত্তা ইরশাদ করেন-
“তিনি স্বীয় নির্দেশে বান্দাদের মধ্যে যার কাছে ইচ্ছে নির্দেশসহ ফেরেশতাদের এই মর্মে প্রেরণ করেন যে, হুশিয়ার করে দাও। আমি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। অতএব তোমরা আমাকে ভয় করো।”
এটাই সাক্ষ্য প্রদানের শব্দ। সফলতার চাবি। দ্বীনের ভিত্তি ও মূল মগজ। গাছের শিকড়ের ন্যায়, ঘরের খুটি বা স্তম্ভের মতো, যা কোনো কালে বৈশাখি ঝড় তুফানেও নাড়াতে পারে না। একেবারে শক্ত ও ইস্পাত লোহার মতো দৃঢ় ও মজবুত। কালিমা তাইয়্যিবা ছাড়া দ্বীনের অন্য ফরজ বিধানাবলী গাছের ডালপালার ন্যায়, যে ডালপালাগুলো শাহাদাত নামক গাছ থেকে দিগন্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছে। শরিয়তের সব বিধানই কালিমাই তাইয়্যিবাকে পরিপূর্ণতা দান করার জন্য। কালিমায়ে তাইয়্যিবার সাথেই সব আমল ও বিধানাবলী সম্পৃক্ত। তাইয়্যিবাই আসল ও মূল ভিত্তি। পবিত্র কুরআনুল কারিমে পরাক্রমশালী সেই মহান সত্তা ইরশাদ করেন, যিনি এই দুনিয়ার একচ্ছত্র অধিপতি।
“আর যারা গোমরাহি তাগুতদের মানবে না এবং আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করবে। সে ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাত যা ভাঙবার নয়। আর আল্লাহ সবই জানেন ও শুনেন।"
উপরোক্ত আয়াতের ক্ষেত্রে সাঈদ বিন জুবাইর ও জাহহাক রহ. বলেন, এখানে আল্লাহর অঙ্গিকার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো-আল্লাহর প্রতি সাক্ষ্য দান করা। তথা তিনি এক ও অদ্বিতীয়। এ আকাশ, বাতাস, চন্দ্র, সুর্য, গ্রহ, তারকা, নিহারিকা, খাল-বিল, নদি-নালা, ঝিলসহ সবই তার নেয়ামত। তিনি এগুলোর একচ্ছত্র মালিক।
অব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রা. বলেন, আল্লাহর জন্য সাক্ষ্য প্রদান করা ও “লা-হাওলার” মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া, আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারো আশা না করা হলো প্রকৃত মুমিনের গুণ। কতইনা সুন্দর করে আল্লাহ তায়ালা মানবতার মুক্তির মহাগ্রন্থে ইরশাদ করেন-
“অতএব যে দান করে ও খোদাভীরু হয়, এবং উত্তম বিষয়কে সত্য মনে করে; আমি তাকে সুখের বিষয়ের জন্য সহজ পথ করে দিবো।"
আবু আব্দুর রহমান সুলামি জাহহাক ও আতিয়্যা রহ. উপরোক্ত আয়াতের প্রেক্ষিতে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর সেই কথা সত্য ও বাস্তব।
“তিনি ব্যতিত তারা যাদের পূজা করে, তারা সুপারিশের অধিকারী হবে না, তবে যারা সত্য স্বীকার করতো ও বিশ্বাস করতো।”
বাগভী রহ. বলেন, এসব সত্যকে মেনে নেওয়াই তাকওয়া। তাকওয়ার ডাক দিয়ে আহবানকারী সেই দয়াময় প্রভু ইরশাদ করেন-
“(আর আল্লাহ তায়ালা) তাদের জন্য তাকওয়াকে অপরিহার্য করে দিলেন, বস্তুত: তারাই ছিলো এর অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত।”
কালিমায়ে তাইয়্যিবাই হলো 'দৃঢ় কথা' সুতরাং কালিমায়ে তাইয়্যিবাকে হৃদয়ের প্রতিটি দরজা-জানালাগুলোতে ঠাঁই দিতে। তাহলেই জান্নাত পাওয়া যাবে। পাওয়া যাবে সুখময় উদ্যানের হাজারো সুখ। শান্তিতে থাকা যাবে নিরবদী, যে সুখ কেবল ক্ষণিকের জন্য নয়। যে সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
“আল্লাহ তায়ালা মুমিনদেরকে মজবুত বাক্য দ্বারা মজবুত করেন, পার্থিব জীবনে ও পরকালে। "
বারা বিন আযেব রা. থেকে বর্ণিত, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, শাহাদাতই হলো মুল বা শিকড়। কালিমায়ে তাইয়্যিবা বা পবিত্র বৃক্ষের মতো, যেটা আয়াতে উদাহরণ হিসেবে পেশ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
“আল্লাহ তায়ালার পবিত্র বাক্য হলো পবিত্র বৃক্ষের মতো। যার শিকড় মজবুত ও দৃঢ়। আর শাখা-প্রশাখা আকাশে উত্থিত।”
আলি বিন তালহা ইবনু আব্বাস বর্ণনা করেন-“শাহাদাতের গোড়া মুমিনের হৃদয়ে বদ্ধমূল রয়েছে। আর এই শাহাদাতের প্রশাখা হচ্ছে নেক-আমল। যেটা আকাশচুম্বী এবং প্রিয়তম আল্লাহর দিকে উর্ধ্বগামী।”
জাহহাক, সাঈদ বিন জুবাইর, ইকরিমা, মুজাহিদ রহ. প্রমুখ বলেন, কালিমায়ে তাইয়্যিবাই হাসানাহ বা ভালো কাজ। সুতরাং যে এ ভালো কাজ বেশি বেশি করতে পারবে, আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন। যেটা আল্লাহ তায়ালাই ইরশাদ করেছেন-
“যে নেক কাজ করবে আল্লাহ তায়ালা আরো দশগুণ বৃদ্ধি করে দিবেন।”
“আর যে সৎকর্ম নিয়ে আসবে, সে উৎকৃষ্ট প্রতিদান পাবে এবং সেদিন তারা গুরুতর অস্থিরতা থেকে নিরাপদ থাকবে। "
জয়নুল আবেদিন, ইবরাহিম নাখঈ ও আবু জর প্রমুখ বলেন, শাহাদাত হলো নেক আমলের সর্বোত্তম আমল। এর দ্বারাই মানুষের গুনাহ ও পাপকে মোচন করা হয়।”
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-
"আকাশ ও পৃথিবিতে সর্বোচ্চ মর্যাদা তাঁরই।”
কাতাদা মাহাম্মাদ বিন জাবির মালেক, তিনি মাহাম্মাদ বিন মুনকাদির থেকে বর্ণনা করেন, “কালিমায়ে তাইয়্যিবা বা শাহাদাত হলো মুক্তির কারণ। যেমন 'সহিহ মুসলিম শরিফে' উল্লেখ রয়েছে-
নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন মুয়াজ্জিনকে 'আশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলতে শুনলেন, তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি জাহান্নাম থেকে বের হয়ে গেছো।”
উবাদা বিন সামেত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- “আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া আর কোন প্রতিপালক নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসুল-এ কথা বলবে তার উপর জাহান্নামের আগুন হারাম।”
শাফায়াত সম্পর্কিত হাদিসে আছে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- “তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে এসো। যদিও তার হৃদয়ে সামান্য পরিমাণ ইমান থাকে তবুও, কারণ ইমান হলো জান্নাতে প্রবেশের একমাত্র মাধ্যম।”
যেমনটা উবাদা বিন সামেত রা. থেকে বর্ণিত, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- “যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই, তার সাথে আর কারো শরিক নেই ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। এবং ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর বান্দা এবং সে কোনো নারির সন্তান (আল্লাহর বাণী--তিনি মারইয়ামের কাছে প্রেরণ করেছেন। তিনি ছিলেন রুহ।) জান্নাত সত্য-জাহান্নাম সত্য। আল্লাহ তায়ালা এমন ব্যক্তিকে জান্নাতের আটটির যে কোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ করাবেন (সুবহানাল্লাহ)। অন্য বর্ণনায় এসেছে-তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, তার আমল অনুযায়ী জান্নাতে দিবেন।”
টিকাঃ
[১] সহিহুস সহিহা: ১১৩৫।
[২] সহিহুল জা'মে: ৫১৩৫।
[৩] সুরা আলে ইমরান: ১৮৫।
[৪] সুরা আল হিজর : ৯২।
[৫] সুরা আল আ'রাফ: ৬।
[৬] সুরা মায়িদাহ: ১০৯।
[৭] সুরা নাহল: ২।
[৮] সুরা বাকারা: ২৫৬।
[৯] সুরা লাইল: ৫-৭।
[১০] সুরা যুখরুফ: ৮৬।
[১১] সুরা আল ফাতাহ ২৬।
[১২] সুরা ইবরাহিম: ২৭।
[১৩] সুরা ইবরাহিম: ২৪।
[১৪] তাফসিরে ইবনু কাসির: ২/৫৪৯।
[১৫] সুরা আল আনআম: ১৬০।
[১৬] সুরা নামল: ৮৯।
[১৭] তাফসির ইবনু জারির: ৮/১১০।
[১৮] সুরা রুম: ২৭।
[১৯] মুসলিম শরিফ: ৩৮২।
[২০] মুসলিম শরিফ: ২৯।
[২১] সহিহ বুখারি: ২২।
[২২] সহিহ মুসলিম: ২৮।
📄 প্রিয় যুবক! তোমাকেই বলছি...
আব্দুল্লাহ বিন ওমর রা. থেকে বর্ণিত- “নবি নূহ আলাইহিস সালাম মৃত্যুর সময় তার সন্তানকে ডেকে বললেন, আমি তোমাকে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বা একত্ববাদের' আদেশ করে যাচ্ছি, কেননা সাত আসমান, সাত জমিন যদি এক পাল্লায় রাখা হয়। (আর লা ইলাহাকে অন্য পাল্লায় রাখা হয়) তাহলে লা ইলাহার পাল্লাটাই প্রাধান্য পাবে। এমনকি সাত আসমান এক পাল্লায় আর কালিমাকে এক পাল্লায় রাখা হয়, তাহলেও কালিমার পাল্লাটা ভারী হবে।”
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে—নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করলেন, হে প্রভু! আপনি আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন, যার মাধ্যমে আপনাকে আহবান ও স্মরণ করবো। আল্লাহ তায়ালা বললেন, তুমি বলো, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই। মুসা আলাইহিস সালাম তখন বললেন, হে আমার প্রতিপালক! এই কথা তো সব মানুষেরাই বলে থাকে। তখন আল্লাহ তায়ালা বললেন, হে মুসা! তুমি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলো, মুসা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বললেন। আরো বললেন, আমি চাচ্ছি এমন আমল-যে আমল আমার জন্যই বিশেষ থাকবে। তখন আল্লাহ তায়ালা বললেন, হে মুসা! আসমান-জমিন ও আমার অন্যান্য সৃষ্টকে যদি এক নিক্তিতে রাখা হয়, আর 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-কে আরেক নিক্তিতে রাখা হয়, তবে 'লা ইলাহার পাল্লাটা অন্যটির তুলনায় ভারী হবে।”
আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর রা. থেকে বর্ণিত রয়েছে, তিনি বলেন, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এটা ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা নেই। এমনকি এটা আল্লাহর দরবারে পৌঁছে যায়।”
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “মানব থেকে যে ব্যক্তি খুশি মনে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে তখন আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হবে যতক্ষণ পর্যন্ত তা আরশে আযিমে না পৌঁছে।”
প্রিয় যুবক! তোমাকেই বলছি... মন খুলে, প্রাণ খুলে আল্লাহর সেই মহা বাণীটি পড়ো, হৃদয়ের প্রতিটি পরতে-পরতে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর' ভালোবাসার বাতাস প্রবাহিত করো; তাহলে জান্নাত পাবে। বন্ধু-বান্ধববিহীন সেই কবরে এই কালিমাই তোমার পরম বন্ধু হবে। বন্ধুত্বের বাঁধনে কেবল তুমি তাকেই পাবে। আর সবকিছু তোমার পর ও অনেক দূরের হয়ে যাবে। হাশরের সেই কঠিন দিনে এই কালিমাই তোমার ভীতি ও শঙ্কার নিরাপদকারী হবে। এমনই তো সুসংবাদ দিয়েছে আমাদের পরম বন্ধু, দুজাহানের বাদশা, মুহাম্মাদে আরাবি, আহমাদে মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
ইমাম আহমাদ রহ. 'মুসনাদে আহমাদ বিন হাম্বল' কিতাবে হাদিস বর্ণনা করেন। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্র সাক্ষি দিবে কবরে সে একাকিত্ব থাকবে না, এমনিভাবে পুনরুত্থানের সময়েও একাকিত্ব থাকবে না। সেদিন তারা হবেন এমন যে— তাদের মাথা থেকে মাটি সরে যাবে, তখন তারা বলবে, আলহামদুলিল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা সেই সত্তার জন্য যিনি আমাদের থেকে চিন্তাকে সরিয়ে নিয়েছেন।
ইবনু বায রহ. বলেন, যারা শুধু ক্ষণস্থায়ী মুসাফিরখানায় ইমান এনেছে, কিন্তু কোনো পূণ্য কাজ করেনি; তাহলে আল্লাহ তায়ালা দয়ার চাদর বিছিয়ে (তাদেরকে) বান্দাকে ক্ষমাও করে দিতে পারেন। আবার এই দুনিয়ায় তার পাপের শাস্তি ভোগ করাবেন, যে পাপের জন্য বান্দা আল্লাহর কাছে তওবা বা অনুতপ্ত হননি। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা সেই গুনাহগার বান্দাকে শাস্তির মাধ্যমে পবিত্র করে জান্নাত দান করবেন।
তাই প্রতিটি নর-নারির আল্লাহর সুসংবাদ সম্পর্কীয় সুসংবাদ ও হাদিস ভালো করে বুঝা উচিত। আল্লাহর বিধান সম্পর্কে খেয়াল রাখা অবশ্যক। যেসব গুনাহ ও পাপাচার করতে আল্লাহ নিষেধ করেছেন, সেগুলো থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। আল্লাহর সেই নিষেধাজ্ঞা বিষয়ের আশে পাশে না যাওয়া। তাকে কঠিন ভয় পাওয়া। প্রভুকে দয়াময় মনে করে তার কাছে রহমত আশা কামনা করা। এটাও স্মরণ করা যে প্রভু তার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করবেন ইনশাআল্লাহ! আর আল্লাহ তার উপর রহম ও দয়ার দৃষ্টি দিবেন- যে নেক আমল করবে। এটাই জান্নাতি মানুষদের কাজ। আহলে ইমান যাদের—তাদেরও প্রভুর প্রতি এমনই ধারণা রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা মহাগ্রন্থ আল কুরআনুল কারিমে ইরশাদ করেছেন-
“তারা সৎকর্মে ঝাঁপিয়ে পড়তো, তারা আশা ও ভীতি সহকারে আমাকে ডাকতো এবং তারা ছিলো আমার কাছে বিনীত।”
আল্লাহ তায়ালা আরও ইরশাদ করেছেন-
“যাদেরকে তারা আহবান করে, তারা নিজেরাই তো তাদের পালনকর্তার নৈকট্য লাভের জন্য মধ্যস্থ তালাশ করে যে-তাদের মধ্যে কে নৈকট্যশীল। তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তার শাস্তিকে ভয় করে।”
এটাই ইমানের বৈশিষ্ট্য। যারা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ করে, তারা এভাবেই আল্লাহকে বিশ্বাস করে ও ভয় করে। আদায় করে প্রিয়তম প্রভুর ফরজ বিধানাবলী। তারা আল্লাহর নিষেধাজ্ঞার বিষয় থেকে অনেক দূরে থাকে। কখনো প্রভুর নির্দেশ অমান্য করে না। এরাই প্রকৃত মুমিন, এরাই জান্নাতি। জান্নাতের সুমহান মর্যাদায় তারাই উন্নীত থাকবে।
ইবনু আসিমিন রহ. বলেন, শাহাদাত বলতে বুঝায়-মুখে স্বীকার করে নেওয়া, হৃদয়ে বিশ্বাস করা, আমলে পরিণত করে যাওয়া। এটাই কালিমায়ে তাইয়্যিবার দাবি। প্রভুকে কেউ যদি সত্যিকার ভালোবাসে ও হৃদয়ে প্রভুর নাম গেঁথে দেওয়ার দাবি করে, তাহলে তাকে অবশ্যই আমল করতে হবে। কিন্তু মুনাফিকরা মুনাফিক হয়েছিলো কেবল মুখে স্বীকার করেছে, কিন্তু হৃদপিন্ডে ছিলো মিথ্যা ও প্রিয় নবির বিরোধিতা। তাই তো মুনাফিকদের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলত-
“মুনাফিকরা আপনার কাছে এসে বলে- আমরাতো সাক্ষ্য দেই যে নিশ্চয় আপনি আল্লাহর প্রেরিত নবি।”
উপরোক্ত আয়াতে শাব্দিকভাবে অনেক দৃঢ়তার অর্থ প্রদান করে। তবুও আল্লাহ তায়ালা তাদের এই এ মিথ্যা দাবিকে সুস্পষ্ট করে ইরশাদ করেছেন। তাদের এ দাবি কেবলই মিথ্যা ও বানোয়াট। কেননা এসব মুনাফিকরা মুখে বললেও হৃদয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বিশ্বাস করে না। আর আমলতো করেই না। তারা কেবল ইমান ও শাহাদাতের কথা মিথ্যা ও বানিয়ে বানিয়ে বলছে।
'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এর অর্থ হলো আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ বা প্রভু নাই, যে প্রভু ইবাদত বা উপাসনার যোগ্য হবে। আর অবুঝ বান্দা-যারা না বুঝে যেসব মূর্তির ইবাদত করতেছে, এসব আদৌ উপাসনার উপযুক্ত না। কিন্তু এ মানবজাতি কেন বুঝেনা যে তাদের এ হাতের বানানো মূর্তির উপাসনা করে আবার নিজেরাই নিজেদের খোদাকে পানিতে চুবিয়ে নষ্ট করে ফেলে। আল্লাহ এসকল অবুঝ মানবকে হিদায়াত দান করুক। আমিন।
টিকাঃ
[২৩] মুসনাদু আহমাদ: ৬৫৮৩; আল মুজমা: ১০/৮৫; হাদিসটির সনদ দুর্বল।
[২৫] সুনানু তিরমিযি: ৩৫১৮; শাইখ আলবানি হাদিসটি দুর্বল বলেছেন।
[২৬] মিশকাত শরিফ: ২৩১৪; হাদিসটি হাসান।
[২৭] হাতেম ফিল কামেল: ৪/১৫৮২; শাইখ আলবানি হাদিসটি দুর্বল বলেছেন।
[২৮] সুরা আম্বিয়া: ৯০।
[২৯] সুরা বনি ইসরাঈল: ৫৭।
[৩০] মাজমাউ ফতোয়া ইবনু বায ২৬/৮০-৮১।
[৩১] সুরা মুনাফিকুন: ১।
আব্দুল্লাহ বিন ওমর রা. থেকে বর্ণিত- “নবি নূহ আলাইহিস সালাম মৃত্যুর সময় তার সন্তানকে ডেকে বললেন, আমি তোমাকে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বা একত্ববাদের' আদেশ করে যাচ্ছি, কেননা সাত আসমান, সাত জমিন যদি এক পাল্লায় রাখা হয়। (আর লা ইলাহাকে অন্য পাল্লায় রাখা হয়) তাহলে লা ইলাহার পাল্লাটাই প্রাধান্য পাবে। এমনকি সাত আসমান এক পাল্লায় আর কালিমাকে এক পাল্লায় রাখা হয়, তাহলেও কালিমার পাল্লাটা ভারী হবে।”
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে—নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করলেন, হে প্রভু! আপনি আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন, যার মাধ্যমে আপনাকে আহবান ও স্মরণ করবো। আল্লাহ তায়ালা বললেন, তুমি বলো, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই। মুসা আলাইহিস সালাম তখন বললেন, হে আমার প্রতিপালক! এই কথা তো সব মানুষেরাই বলে থাকে। তখন আল্লাহ তায়ালা বললেন, হে মুসা! তুমি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলো, মুসা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বললেন। আরো বললেন, আমি চাচ্ছি এমন আমল-যে আমল আমার জন্যই বিশেষ থাকবে। তখন আল্লাহ তায়ালা বললেন, হে মুসা! আসমান-জমিন ও আমার অন্যান্য সৃষ্টকে যদি এক নিক্তিতে রাখা হয়, আর 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-কে আরেক নিক্তিতে রাখা হয়, তবে 'লা ইলাহার পাল্লাটা অন্যটির তুলনায় ভারী হবে।”
আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর রা. থেকে বর্ণিত রয়েছে, তিনি বলেন, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এটা ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা নেই। এমনকি এটা আল্লাহর দরবারে পৌঁছে যায়।”
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “মানব থেকে যে ব্যক্তি খুশি মনে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে তখন আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হবে যতক্ষণ পর্যন্ত তা আরশে আযিমে না পৌঁছে।”
প্রিয় যুবক! তোমাকেই বলছি... মন খুলে, প্রাণ খুলে আল্লাহর সেই মহা বাণীটি পড়ো, হৃদয়ের প্রতিটি পরতে-পরতে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর' ভালোবাসার বাতাস প্রবাহিত করো; তাহলে জান্নাত পাবে। বন্ধু-বান্ধববিহীন সেই কবরে এই কালিমাই তোমার পরম বন্ধু হবে। বন্ধুত্বের বাঁধনে কেবল তুমি তাকেই পাবে। আর সবকিছু তোমার পর ও অনেক দূরের হয়ে যাবে। হাশরের সেই কঠিন দিনে এই কালিমাই তোমার ভীতি ও শঙ্কার নিরাপদকারী হবে। এমনই তো সুসংবাদ দিয়েছে আমাদের পরম বন্ধু, দুজাহানের বাদশা, মুহাম্মাদে আরাবি, আহমাদে মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
ইমাম আহমাদ রহ. 'মুসনাদে আহমাদ বিন হাম্বল' কিতাবে হাদিস বর্ণনা করেন। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্র সাক্ষি দিবে কবরে সে একাকিত্ব থাকবে না, এমনিভাবে পুনরুত্থানের সময়েও একাকিত্ব থাকবে না। সেদিন তারা হবেন এমন যে— তাদের মাথা থেকে মাটি সরে যাবে, তখন তারা বলবে, আলহামদুলিল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা সেই সত্তার জন্য যিনি আমাদের থেকে চিন্তাকে সরিয়ে নিয়েছেন।
ইবনু বায রহ. বলেন, যারা শুধু ক্ষণস্থায়ী মুসাফিরখানায় ইমান এনেছে, কিন্তু কোনো পূণ্য কাজ করেনি; তাহলে আল্লাহ তায়ালা দয়ার চাদর বিছিয়ে (তাদেরকে) বান্দাকে ক্ষমাও করে দিতে পারেন। আবার এই দুনিয়ায় তার পাপের শাস্তি ভোগ করাবেন, যে পাপের জন্য বান্দা আল্লাহর কাছে তওবা বা অনুতপ্ত হননি। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা সেই গুনাহগার বান্দাকে শাস্তির মাধ্যমে পবিত্র করে জান্নাত দান করবেন।
তাই প্রতিটি নর-নারির আল্লাহর সুসংবাদ সম্পর্কীয় সুসংবাদ ও হাদিস ভালো করে বুঝা উচিত। আল্লাহর বিধান সম্পর্কে খেয়াল রাখা অবশ্যক। যেসব গুনাহ ও পাপাচার করতে আল্লাহ নিষেধ করেছেন, সেগুলো থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। আল্লাহর সেই নিষেধাজ্ঞা বিষয়ের আশে পাশে না যাওয়া। তাকে কঠিন ভয় পাওয়া। প্রভুকে দয়াময় মনে করে তার কাছে রহমত আশা কামনা করা। এটাও স্মরণ করা যে প্রভু তার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করবেন ইনশাআল্লাহ! আর আল্লাহ তার উপর রহম ও দয়ার দৃষ্টি দিবেন- যে নেক আমল করবে। এটাই জান্নাতি মানুষদের কাজ। আহলে ইমান যাদের—তাদেরও প্রভুর প্রতি এমনই ধারণা রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা মহাগ্রন্থ আল কুরআনুল কারিমে ইরশাদ করেছেন-
“তারা সৎকর্মে ঝাঁপিয়ে পড়তো, তারা আশা ও ভীতি সহকারে আমাকে ডাকতো এবং তারা ছিলো আমার কাছে বিনীত।”
আল্লাহ তায়ালা আরও ইরশাদ করেছেন-
“যাদেরকে তারা আহবান করে, তারা নিজেরাই তো তাদের পালনকর্তার নৈকট্য লাভের জন্য মধ্যস্থ তালাশ করে যে-তাদের মধ্যে কে নৈকট্যশীল। তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তার শাস্তিকে ভয় করে।”
এটাই ইমানের বৈশিষ্ট্য। যারা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ করে, তারা এভাবেই আল্লাহকে বিশ্বাস করে ও ভয় করে। আদায় করে প্রিয়তম প্রভুর ফরজ বিধানাবলী। তারা আল্লাহর নিষেধাজ্ঞার বিষয় থেকে অনেক দূরে থাকে। কখনো প্রভুর নির্দেশ অমান্য করে না। এরাই প্রকৃত মুমিন, এরাই জান্নাতি। জান্নাতের সুমহান মর্যাদায় তারাই উন্নীত থাকবে।
ইবনু আসিমিন রহ. বলেন, শাহাদাত বলতে বুঝায়-মুখে স্বীকার করে নেওয়া, হৃদয়ে বিশ্বাস করা, আমলে পরিণত করে যাওয়া। এটাই কালিমায়ে তাইয়্যিবার দাবি। প্রভুকে কেউ যদি সত্যিকার ভালোবাসে ও হৃদয়ে প্রভুর নাম গেঁথে দেওয়ার দাবি করে, তাহলে তাকে অবশ্যই আমল করতে হবে। কিন্তু মুনাফিকরা মুনাফিক হয়েছিলো কেবল মুখে স্বীকার করেছে, কিন্তু হৃদপিন্ডে ছিলো মিথ্যা ও প্রিয় নবির বিরোধিতা। তাই তো মুনাফিকদের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলত-
“মুনাফিকরা আপনার কাছে এসে বলে- আমরাতো সাক্ষ্য দেই যে নিশ্চয় আপনি আল্লাহর প্রেরিত নবি।”
উপরোক্ত আয়াতে শাব্দিকভাবে অনেক দৃঢ়তার অর্থ প্রদান করে। তবুও আল্লাহ তায়ালা তাদের এই এ মিথ্যা দাবিকে সুস্পষ্ট করে ইরশাদ করেছেন। তাদের এ দাবি কেবলই মিথ্যা ও বানোয়াট। কেননা এসব মুনাফিকরা মুখে বললেও হৃদয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বিশ্বাস করে না। আর আমলতো করেই না। তারা কেবল ইমান ও শাহাদাতের কথা মিথ্যা ও বানিয়ে বানিয়ে বলছে।
'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এর অর্থ হলো আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ বা প্রভু নাই, যে প্রভু ইবাদত বা উপাসনার যোগ্য হবে। আর অবুঝ বান্দা-যারা না বুঝে যেসব মূর্তির ইবাদত করতেছে, এসব আদৌ উপাসনার উপযুক্ত না। কিন্তু এ মানবজাতি কেন বুঝেনা যে তাদের এ হাতের বানানো মূর্তির উপাসনা করে আবার নিজেরাই নিজেদের খোদাকে পানিতে চুবিয়ে নষ্ট করে ফেলে। আল্লাহ এসকল অবুঝ মানবকে হিদায়াত দান করুক। আমিন।
টিকাঃ
[২৩] মুসনাদু আহমাদ: ৬৫৮৩; আল মুজমা: ১০/৮৫; হাদিসটির সনদ দুর্বল।
[২৫] সুনানু তিরমিযি: ৩৫১৮; শাইখ আলবানি হাদিসটি দুর্বল বলেছেন।
[২৬] মিশকাত শরিফ: ২৩১৪; হাদিসটি হাসান।
[২৭] হাতেম ফিল কামেল: ৪/১৫৮২; শাইখ আলবানি হাদিসটি দুর্বল বলেছেন।
[২৮] সুরা আম্বিয়া: ৯০।
[২৯] সুরা বনি ইসরাঈল: ৫৭।
[৩০] মাজমাউ ফতোয়া ইবনু বায ২৬/৮০-৮১।
[৩১] সুরা মুনাফিকুন: ১।
📄 জান্নাত পেতে যে সন্তুষ্ট...
আবু সাঈদ খুদরি রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- “যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালাকে রব, ইসলামকে তার দ্বীন ও প্রিয় নবিকে রাসুল হিসেবে মনোনিত করে সন্তুষ্ট থাকবে। তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। এতে আবু সাঈদ আশ্চর্য হয়ে গেলেন, তখন তিনি পুনরায় বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনি সে কথাটি আমাকে পুনরায় বলুন, তার বিনীত আবেদন শুনে নবিজি পুনরায় তাকে বললেন এবং সাথে একটি কথা বললেন, আরো একটি আমল আছে যার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে জান্নাতে একশত মর্যাদায় সমুন্নত করবেন, যে প্রত্যেকটি মর্যাদার মাঝে আকাশ ও জমিনসম দুরত্ব রয়েছে। এ কথা শুনে আবু সাঈদ পুনরায় জিজ্ঞাসা করলো, ইয়া রাসুলুল্লাহ! সেটা কি আমল? তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। উপরোক্ত হাদিসের শেষে রয়েছে-যে ব্যক্তি বলবে, আমি আল্লাহকে রব ও ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মাদকে আমার নবি হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট রয়েছি, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে।”
টিকাঃ
[৩২] সহিহ মুসলিম: ১৮৮৪।
আবু সাঈদ খুদরি রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- “যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালাকে রব, ইসলামকে তার দ্বীন ও প্রিয় নবিকে রাসুল হিসেবে মনোনিত করে সন্তুষ্ট থাকবে। তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। এতে আবু সাঈদ আশ্চর্য হয়ে গেলেন, তখন তিনি পুনরায় বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনি সে কথাটি আমাকে পুনরায় বলুন, তার বিনীত আবেদন শুনে নবিজি পুনরায় তাকে বললেন এবং সাথে একটি কথা বললেন, আরো একটি আমল আছে যার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে জান্নাতে একশত মর্যাদায় সমুন্নত করবেন, যে প্রত্যেকটি মর্যাদার মাঝে আকাশ ও জমিনসম দুরত্ব রয়েছে। এ কথা শুনে আবু সাঈদ পুনরায় জিজ্ঞাসা করলো, ইয়া রাসুলুল্লাহ! সেটা কি আমল? তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। উপরোক্ত হাদিসের শেষে রয়েছে-যে ব্যক্তি বলবে, আমি আল্লাহকে রব ও ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মাদকে আমার নবি হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট রয়েছি, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে।”
টিকাঃ
[৩২] সহিহ মুসলিম: ১৮৮৪।