📘 হে যুবক! ফিরে এসো রবের দিকে > 📄 ফের নতুন যুদ্ধের ডাক

📄 ফের নতুন যুদ্ধের ডাক


খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. তখন দারুণ বিচক্ষণতার সাথে পরিচালনা করছেন খেলাফতের মসনদ। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও ইসলামকে বিজয় করার লক্ষ্যে খলিফাতুল মুসলিমিন নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করতে লাগলেন। তৎকালীন পৃথিবীর দুই পরাশক্তি হলো পারস্য ও রোম। যারা দুনিয়াকে শাসন করছিল প্রবল প্রতাপে। খলিফা চিন্তা করলেন, পারস্য ও রোম সাম্রাজ্য অন্তর্গত বিভিন্ন শহরে সাহাবায়ে কেরামকে প্রেরণ করবেন। তারা প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেবেন, যদি তারা ইসলামের দাওয়াত কবুল না করে তাহলে ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করতে বলবেন। যদি তাও না করে তাহলে তাদের সাথে مسلمانوں کا ফায়সালা হবে তরবারির। এটিই ইসলামের নীতি। ইসলাম প্রথমেই কাউকে আঘাত করে না। প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হবে। বলা হবে ইসলাম গ্রহণ করতে। যদি তারা ইসলাম গ্রহণ না করে তাহলে বলা হবে مسلمانوں کا বশ্যতা স্বীকার করতে। ইসলামী সাম্রাজ্যে কর ও জিযিয়া প্রদান করতে। যদি কোনোটিই না মেনে নেয় তাহলে তখন তাদের সাথে লড়াই হবে।
খলিফা হযরত আবু বকর রা. ইসলামের ইতিহাসের অকুতভয় সেনানায়ক সাহাবি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে পারস্য অভিমুখে প্রেরণ করেন। সাহাবায়ে কেরাম ও مسلمانوں کا একটি বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ রওনা হলেন পারস্য অভিমুখে। খলিফাতুল মুসলিমিন এখানে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্বাচন করেছেন। কারণ তার সাহসিকতা ও বীরত্ব ছিল প্রশংসনীয়। রণাঙ্গনে শত্রুপক্ষকে তিনি নাস্তানাবুদ করেন। ক্ষতবিক্ষত করেন। শত্রুপক্ষের ব্যুহ ভেদ করে তিনি পৌঁছে যান অভীষ্ট লক্ষ্যে। যুদ্ধের ময়দানে তিনি হন বিজয়ী। তার যুদ্ধ কৌশল প্রখর। ইয়ামামার প্রান্তরে তার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী শত্রুপক্ষকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেছে। হযরত আবু বকর রা. তাই শক্তিশালী পারসিকদের বিরুদ্ধে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কেই নির্বাচিত করেছেন সেনাপতি হিসেবে।
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ তার বাহিনী নিয়ে ইরাকে পৌঁছেন। সেখানে গিয়ে তিনি শাসকদের নিকট ইসলামের দাওয়াতসম্বলিত পত্র প্রেরণ করেন। তাতে লেখা ছিল,
مـن صـلـى صـلاتـنـا، واسـتـقـبـل قـبـلـتـنـا، وأكـل ذبـيـحـتـنـا فـلـه مـا لـنـا، وعـلـيـه مـا عـلـيـنـا، وإلا فـإنـي أتـيـتـكـم بـقـوم يـحـبـون الـمـوت كـمـا تـحـبـون أنـتـم الـحـيـاة، ويـرغـبـون فـي الآخـرة كـمـا تـرغـبـون أنـتـم فـي الـدنـيـا
'যারা নামাজ আদায় করে, আমাদের কেবলাকে কেবলা বলে স্বীকার করে এবং আমাদের জবাইকৃত পশু খায় তারা আমাদের জিম্মায়। তাদের কোনো ক্ষতি করা হবে না। এছাড়া আর যারা রয়েছে তারা শোনে রাখো! আমরা আসছি তোমাদের নিকট। তোমাদের নিকট জীবন যেমন প্রিয় আমাদের নিকট মৃত্যু তেমনই প্রিয়। তোমাদের নিকট দুনিয়া যেমন প্রিয় আমাদের নিকট আখেরাত তেমনই প্রিয়।'
মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর চিঠির সারমর্ম হলো, যারা মুসলমান এবং ইসলাম গ্রহণ করেছে। যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করে নেবে তাদের জীবন ও মাল আমাদের নিকট নিরাপদ। তাদের আমরা কিছুই করব না। আর যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করবে না তাদের সাথে আমাদের সমাধান হবে তরবারির মাধ্যমে। এ চিঠির মাধ্যমে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. পারসিকদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন। এবং দাওয়াত গ্রহণ না করলে তাদের পরিণতি কী হবে সেদিকেও তিনি স্পষ্ট ভাষায় ইঙ্গিত করেছেন।
ইরাকের বেশ কয়েকটি অঞ্চল হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. তার নিপুণ সাহসিকতা ও অসাধারণ বীরত্বে জয় করেন। বিজিত সেসব অঞ্চলের মানুষজন ইসলাম গ্রহণ করে। মুসলমানগণ তখন যেদিকেই গিয়েছেন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের বিজয় দান করেছেন। কেননা, مسلمانوں کا তিনি বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আজ পৃথিবীর দিকে দিকে মুসলমান লাঞ্ছিত ও অপদস্থ। দেশে দেশে তারা মার খাচ্ছে কাফের মুশরিকদের হাতে। নারী ও শিশুদের আর্তনাদে আজ মুসলিম দেশের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। চতুর্দিকেই আজ मुसलमानों کا অধঃপতন। যে আল্লাহ مسلمانوں کا অতীতে বিজয় দান করেছেন তিনি আজও আছেন। আজও রয়েছে তার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু মুসলমানরা নেই সেই পূর্বের মুসলমান। তাদের ঈমানের শক্তি নিস্তেজ হয়ে গেছে। তাদের অন্তরের আলো নিভে গেছে। তাদের সততা ও চরিত্র হারিয়ে গেছে। হ্যাঁ, আজও বিজয় আসবে مسلمانوں کا। যদি তারা পূর্বের সে ঈমান লাভ করতে পারে। যদি তারা সাহাবায়ে কেরামের মতো উত্তম চরিত্র ধারণ করতে পারে। যদি তাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বিদ্যমান থাকে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَعْدَ اللَّهِ لا يُخْلِفُ اللَّهُ وَعْدَهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ
'আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর আল্লাহ তার প্রতিশ্রুতির বিপরীত করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।'⁹⁷
অতঃপর খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্দেশ দিলেন শাম অভিমুখে অভিযান পরিচালনা করার জন্য। শাম তখন অত্যন্ত শক্তিশালী শহর। দুর্ভেদ্য তাদের দূর্গ। শাম বিজয় করা তাই খুব সহজ কথা নয়। খলিফা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে শামে অভিযানের জন্য উপযুক্ত মনে করলেন। কারণ, মুসলিম বাহিনীর অপরাজেয় সেনাপতি তিনি। সেনাপতি হিসেবে তার দক্ষতা সকলের চেয়ে অগ্রগণ্য। যুদ্ধের ময়দানে তার দারুণ বিচক্ষণতা مسلمانوں کا বিজয়কে ত্বরান্বিত করে। সুতরাং অভেদ্য নগরী শাম বিজয় করার জন্য খালিদই অধিকতর উপযুক্ত।
খলিফার নির্দেশে তিনি হযরত মুসান্না রা.-কে ইরাকের বিজিত অঞ্চলসমূহের গভর্নর নিযুক্ত করে শামের দিকে রওনা হলেন। অল্প সময়ে তিনি পৌঁছে যান শামে। শামে পৌঁছে তিনি মুসলিম বাহিনীর উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন। তাদের তিনি শাহাদতের ওপর উদ্বুদ্ধ করেন। জিহাদের ফজিলত বর্ণনা করে তিনি মুসলিম বাহিনীর মনোবল দ্বিগুণ করার চেষ্টা করেন। তাদের অধিকতর আত্মনিবেদিতরূপে প্রস্তুত করেন। তার জাগরণী ভাষণে মুসলিম বাহিনী নতুন প্রেরণায় জেগে ওঠে। তাদের হৃদয় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের ধমনীতে বয়ে যায় শাহাদতের রক্ত। আল্লাহর রাহে জীবন উৎসর্গের জন্য তারা সর্বাঙ্গীন প্রস্তুতি গ্রহণ করে। مسلمانوں کا সৈন্যসংখ্যা তেমন অধিক ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী মুসলিম বাহিনী যুদ্ধের আগের রাতে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন। দীর্ঘ সময় তারা নামাজ আদায় করেন। কুরআন তিলাওয়াত করেন। কাকুতি-মিনতি করে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। কেননা, مسلمانوں کا সাহায্য তো একমাত্র তার পক্ষ থেকেই আসে। মুসলমান কখনো নিজেদের সৈন্য ও অস্ত্রবলের ওপর ভরসা করে না। তাদের সাহায্য আসে আসমান থেকে। मुसलमानों का বিজয় লেখা হয় আরশে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ
'যখন তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছিলে এবং তোমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি তোমাদের এক হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে সাহায্য করব যারা একজনের পেছনে আরেকজন ক্রমান্বয়ে আসতে থাকবে।'⁹⁸
আজকের শত্রুদের নিকট রয়েছে বড় বড় কামান এবং শক্তিশালী বহু অস্ত্র। তাদের নিকট রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। مسلمانوں کا নিকট এসবের কিছু নেই। কিন্তু مسلمانوں کا রয়েছে আল্লাহর সাহায্য। রয়েছে প্রভুর নিযুক্ত অসংখ্য ফেরেশতা। তারা আল্লাহর নির্দেশে আসমান থেকে জমিনে নেমে আসবে মুমিনদের সাহায্য করতে। শুধু প্রয়োজন مسلمانوں کا ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি করা। আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্য করা। আল্লাহকে ভয় করা। তাহলে কে আছে मुसलमानों کا পরাজিত করার। কে আছে مسلمانوں কা যুদ্ধক্ষেত্রে পরাস্ত করবে? আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা সর্বক্ষেত্রে مسلمانوں কা সান্ত্বনার বাণী শুনিয়েছেন। मुसलमानों کا মানসিক অবস্থাকে সুদৃঢ় রাখার জন্য আল্লাহ তাদের দিয়েছেন অফুরন্ত সুসংবাদ। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتْخِذَ مِنكُمْ شُهَدَاءَ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ وَلِيُمَحِّصَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَافِرِينَ
'তোমরা শত্রুর সামনে দুর্বল কিংবা বিষণ্ণ হয়ো না। প্রকৃত ঈমানদার হলে তোমরাই বিজয় হবে। যদি তোমাদের কোনো আঘাত আসে তাহলে মনে করো অনুরূপ আঘাত তো অন্যদেরও লেগেছে। আর এই দিনগুলো আমি মানুষের মধ্যে অদলবদল করি; যাতে আল্লাহ মুমিনদের যাচাই করতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহিদদের গ্রহণ করতে পারেন। আর আল্লাহ জালেমদের ভালবাসেন না। আর এ কারণে আল্লাহ ঈমানদারদেরকে পাক-সাফ করতে চান এবং কাফেরদেরকে ধবংস করে দিতে চান।' ⁹⁹
আন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرُ اللَّهِ قَرِيبٌ
'তোমরা কি মনে করো যে, জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ তোমাদের পূর্বে যারা চলে গেছে তাদের মতো অবস্থা তোমাদের এখনো আসেনি। তারা অভাব-অনটন ও দুঃখ- কষ্টের কবলে পড়েছিল এবং ভয়ে এমনভাবে কম্পিত হয়েছিল যে, রাসুল ও তার সঙ্গী ঈমানদারগণ বলেছিল,
কখন আল্লাহর সাহায্য আসবে? জেনে রেখো! আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী। '¹⁰⁰
অতঃপর সকাল হলো। রাতভর ইবাদত ও আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে মুসলিম বাহিনী সাহায্য প্রার্থনা করেন। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মুসলিম বাহিনীর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। সকালে উভয় বাহিনী মুখোমুখি হলো। আল্লাহু আকবার! সময় বেশি দূর গড়ায়নি। বিজয় मुसलमानों کا চুম্বন করেছে। কে ভেবেছিল এমন একটি ছোট্ট দল শাম বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে পেরে ওঠবে? কেউ ভাবেনি। শত্রুপক্ষ কল্পনাও করতে পারেনি মদিনার মুসলিম বাহিনী তাদের পরাজিত করবে। কিন্তু আল্লাহ مسلمانوں کا বিজয় দান করলেন। আর প্রকৃতার্থে তিনি তো مسلمانوں کا বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেনই। যুদ্ধ সমাপ্ত হলো। বিজয়ী বেশে মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. শত্রুপক্ষের সেনাপতির তাবুতে নামাজ আদায় করলেন। ইসলামের আরো একটি বিজয় অর্জিত হলো হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এর নেতৃত্ব ও অপরিসীম বীরত্বে। ইরশাদ হয়েছে,
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنصُورُونَ وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ
'আমার প্রেরিত বান্দাদের জন্য আমার কথা আগেই ঠিক হয়ে গেছে। তারা অবশ্যই সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। এবং আমার সৈনিকেরাই বিজয়ী হবে।' ¹⁰¹
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَتَبَ اللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ
আল্লাহ লিখে দিয়েছেন, আমি ও আমার রাসুলগণ অবশ্যই বিজয়ী হবো। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিধর ও পরাক্রমশালী। '¹⁰²

টিকাঃ
৯৭ সুরা রুম: ৬
৯৮ সুরা আনফাল: ৯
৯৯ সুরা আলে ইমরান: ১৩৯-১৪১
১০০ সুরা বাকারা: ২১৪
১০১ সুরা সাফফাত: ১৭১-১৭৩
১০২ সুরা মুজাদালা: ২১

খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. তখন দারুণ বিচক্ষণতার সাথে পরিচালনা করছেন খেলাফতের মসনদ। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও ইসলামকে বিজয় করার লক্ষ্যে খলিফাতুল মুসলিমিন নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করতে লাগলেন। তৎকালীন পৃথিবীর দুই পরাশক্তি হলো পারস্য ও রোম। যারা দুনিয়াকে শাসন করছিল প্রবল প্রতাপে। খলিফা চিন্তা করলেন, পারস্য ও রোম সাম্রাজ্য অন্তর্গত বিভিন্ন শহরে সাহাবায়ে কেরামকে প্রেরণ করবেন। তারা প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেবেন, যদি তারা ইসলামের দাওয়াত কবুল না করে তাহলে ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করতে বলবেন। যদি তাও না করে তাহলে তাদের সাথে مسلمانوں کا ফায়সালা হবে তরবারির। এটিই ইসলামের নীতি। ইসলাম প্রথমেই কাউকে আঘাত করে না। প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হবে। বলা হবে ইসলাম গ্রহণ করতে। যদি তারা ইসলাম গ্রহণ না করে তাহলে বলা হবে مسلمانوں کا বশ্যতা স্বীকার করতে। ইসলামী সাম্রাজ্যে কর ও জিযিয়া প্রদান করতে। যদি কোনোটিই না মেনে নেয় তাহলে তখন তাদের সাথে লড়াই হবে।
খলিফা হযরত আবু বকর রা. ইসলামের ইতিহাসের অকুতভয় সেনানায়ক সাহাবি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে পারস্য অভিমুখে প্রেরণ করেন। সাহাবায়ে কেরাম ও مسلمانوں کا একটি বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ রওনা হলেন পারস্য অভিমুখে। খলিফাতুল মুসলিমিন এখানে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্বাচন করেছেন। কারণ তার সাহসিকতা ও বীরত্ব ছিল প্রশংসনীয়। রণাঙ্গনে শত্রুপক্ষকে তিনি নাস্তানাবুদ করেন। ক্ষতবিক্ষত করেন। শত্রুপক্ষের ব্যুহ ভেদ করে তিনি পৌঁছে যান অভীষ্ট লক্ষ্যে। যুদ্ধের ময়দানে তিনি হন বিজয়ী। তার যুদ্ধ কৌশল প্রখর। ইয়ামামার প্রান্তরে তার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী শত্রুপক্ষকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেছে। হযরত আবু বকর রা. তাই শক্তিশালী পারসিকদের বিরুদ্ধে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কেই নির্বাচিত করেছেন সেনাপতি হিসেবে।
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ তার বাহিনী নিয়ে ইরাকে পৌঁছেন। সেখানে গিয়ে তিনি শাসকদের নিকট ইসলামের দাওয়াতসম্বলিত পত্র প্রেরণ করেন। তাতে লেখা ছিল,
مـن صـلـى صـلاتـنـا، واسـتـقـبـل قـبـلـتـنـا، وأكـل ذبـيـحـتـنـا فـلـه مـا لـنـا، وعـلـيـه مـا عـلـيـنـا، وإلا فـإنـي أتـيـتـكـم بـقـوم يـحـبـون الـمـوت كـمـا تـحـبـون أنـتـم الـحـيـاة، ويـرغـبـون فـي الآخـرة كـمـا تـرغـبـون أنـتـم فـي الـدنـيـا
'যারা নামাজ আদায় করে, আমাদের কেবলাকে কেবলা বলে স্বীকার করে এবং আমাদের জবাইকৃত পশু খায় তারা আমাদের জিম্মায়। তাদের কোনো ক্ষতি করা হবে না। এছাড়া আর যারা রয়েছে তারা শোনে রাখো! আমরা আসছি তোমাদের নিকট। তোমাদের নিকট জীবন যেমন প্রিয় আমাদের নিকট মৃত্যু তেমনই প্রিয়। তোমাদের নিকট দুনিয়া যেমন প্রিয় আমাদের নিকট আখেরাত তেমনই প্রিয়।'
মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর চিঠির সারমর্ম হলো, যারা মুসলমান এবং ইসলাম গ্রহণ করেছে। যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করে নেবে তাদের জীবন ও মাল আমাদের নিকট নিরাপদ। তাদের আমরা কিছুই করব না। আর যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করবে না তাদের সাথে আমাদের সমাধান হবে তরবারির মাধ্যমে। এ চিঠির মাধ্যমে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. পারসিকদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন। এবং দাওয়াত গ্রহণ না করলে তাদের পরিণতি কী হবে সেদিকেও তিনি স্পষ্ট ভাষায় ইঙ্গিত করেছেন।
ইরাকের বেশ কয়েকটি অঞ্চল হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. তার নিপুণ সাহসিকতা ও অসাধারণ বীরত্বে জয় করেন। বিজিত সেসব অঞ্চলের মানুষজন ইসলাম গ্রহণ করে। মুসলমানগণ তখন যেদিকেই গিয়েছেন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের বিজয় দান করেছেন। কেননা, مسلمانوں کا তিনি বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আজ পৃথিবীর দিকে দিকে মুসলমান লাঞ্ছিত ও অপদস্থ। দেশে দেশে তারা মার খাচ্ছে কাফের মুশরিকদের হাতে। নারী ও শিশুদের আর্তনাদে আজ মুসলিম দেশের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। চতুর্দিকেই আজ मुसलमानों کا অধঃপতন। যে আল্লাহ مسلمانوں کا অতীতে বিজয় দান করেছেন তিনি আজও আছেন। আজও রয়েছে তার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু মুসলমানরা নেই সেই পূর্বের মুসলমান। তাদের ঈমানের শক্তি নিস্তেজ হয়ে গেছে। তাদের অন্তরের আলো নিভে গেছে। তাদের সততা ও চরিত্র হারিয়ে গেছে। হ্যাঁ, আজও বিজয় আসবে مسلمانوں کا। যদি তারা পূর্বের সে ঈমান লাভ করতে পারে। যদি তারা সাহাবায়ে কেরামের মতো উত্তম চরিত্র ধারণ করতে পারে। যদি তাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বিদ্যমান থাকে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَعْدَ اللَّهِ لا يُخْلِفُ اللَّهُ وَعْدَهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ
'আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর আল্লাহ তার প্রতিশ্রুতির বিপরীত করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।'⁹⁷
অতঃপর খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্দেশ দিলেন শাম অভিমুখে অভিযান পরিচালনা করার জন্য। শাম তখন অত্যন্ত শক্তিশালী শহর। দুর্ভেদ্য তাদের দূর্গ। শাম বিজয় করা তাই খুব সহজ কথা নয়। খলিফা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে শামে অভিযানের জন্য উপযুক্ত মনে করলেন। কারণ, মুসলিম বাহিনীর অপরাজেয় সেনাপতি তিনি। সেনাপতি হিসেবে তার দক্ষতা সকলের চেয়ে অগ্রগণ্য। যুদ্ধের ময়দানে তার দারুণ বিচক্ষণতা مسلمانوں کا বিজয়কে ত্বরান্বিত করে। সুতরাং অভেদ্য নগরী শাম বিজয় করার জন্য খালিদই অধিকতর উপযুক্ত।
খলিফার নির্দেশে তিনি হযরত মুসান্না রা.-কে ইরাকের বিজিত অঞ্চলসমূহের গভর্নর নিযুক্ত করে শামের দিকে রওনা হলেন। অল্প সময়ে তিনি পৌঁছে যান শামে। শামে পৌঁছে তিনি মুসলিম বাহিনীর উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন। তাদের তিনি শাহাদতের ওপর উদ্বুদ্ধ করেন। জিহাদের ফজিলত বর্ণনা করে তিনি মুসলিম বাহিনীর মনোবল দ্বিগুণ করার চেষ্টা করেন। তাদের অধিকতর আত্মনিবেদিতরূপে প্রস্তুত করেন। তার জাগরণী ভাষণে মুসলিম বাহিনী নতুন প্রেরণায় জেগে ওঠে। তাদের হৃদয় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের ধমনীতে বয়ে যায় শাহাদতের রক্ত। আল্লাহর রাহে জীবন উৎসর্গের জন্য তারা সর্বাঙ্গীন প্রস্তুতি গ্রহণ করে। مسلمانوں کا সৈন্যসংখ্যা তেমন অধিক ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী মুসলিম বাহিনী যুদ্ধের আগের রাতে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন। দীর্ঘ সময় তারা নামাজ আদায় করেন। কুরআন তিলাওয়াত করেন। কাকুতি-মিনতি করে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। কেননা, مسلمانوں کا সাহায্য তো একমাত্র তার পক্ষ থেকেই আসে। মুসলমান কখনো নিজেদের সৈন্য ও অস্ত্রবলের ওপর ভরসা করে না। তাদের সাহায্য আসে আসমান থেকে। मुसलमानों का বিজয় লেখা হয় আরশে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ
'যখন তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছিলে এবং তোমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি তোমাদের এক হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে সাহায্য করব যারা একজনের পেছনে আরেকজন ক্রমান্বয়ে আসতে থাকবে।'⁹⁸
আজকের শত্রুদের নিকট রয়েছে বড় বড় কামান এবং শক্তিশালী বহু অস্ত্র। তাদের নিকট রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। مسلمانوں کا নিকট এসবের কিছু নেই। কিন্তু مسلمانوں کا রয়েছে আল্লাহর সাহায্য। রয়েছে প্রভুর নিযুক্ত অসংখ্য ফেরেশতা। তারা আল্লাহর নির্দেশে আসমান থেকে জমিনে নেমে আসবে মুমিনদের সাহায্য করতে। শুধু প্রয়োজন مسلمانوں کا ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি করা। আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্য করা। আল্লাহকে ভয় করা। তাহলে কে আছে मुसलमानों کا পরাজিত করার। কে আছে مسلمانوں কা যুদ্ধক্ষেত্রে পরাস্ত করবে? আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা সর্বক্ষেত্রে مسلمانوں কা সান্ত্বনার বাণী শুনিয়েছেন। मुसलमानों کا মানসিক অবস্থাকে সুদৃঢ় রাখার জন্য আল্লাহ তাদের দিয়েছেন অফুরন্ত সুসংবাদ। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتْخِذَ مِنكُمْ شُهَدَاءَ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ وَلِيُمَحِّصَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَافِرِينَ
'তোমরা শত্রুর সামনে দুর্বল কিংবা বিষণ্ণ হয়ো না। প্রকৃত ঈমানদার হলে তোমরাই বিজয় হবে। যদি তোমাদের কোনো আঘাত আসে তাহলে মনে করো অনুরূপ আঘাত তো অন্যদেরও লেগেছে। আর এই দিনগুলো আমি মানুষের মধ্যে অদলবদল করি; যাতে আল্লাহ মুমিনদের যাচাই করতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহিদদের গ্রহণ করতে পারেন। আর আল্লাহ জালেমদের ভালবাসেন না। আর এ কারণে আল্লাহ ঈমানদারদেরকে পাক-সাফ করতে চান এবং কাফেরদেরকে ধবংস করে দিতে চান।' ⁹⁹
আন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرُ اللَّهِ قَرِيبٌ
'তোমরা কি মনে করো যে, জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ তোমাদের পূর্বে যারা চলে গেছে তাদের মতো অবস্থা তোমাদের এখনো আসেনি। তারা অভাব-অনটন ও দুঃখ- কষ্টের কবলে পড়েছিল এবং ভয়ে এমনভাবে কম্পিত হয়েছিল যে, রাসুল ও তার সঙ্গী ঈমানদারগণ বলেছিল,
কখন আল্লাহর সাহায্য আসবে? জেনে রেখো! আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী। '¹⁰⁰
অতঃপর সকাল হলো। রাতভর ইবাদত ও আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে মুসলিম বাহিনী সাহায্য প্রার্থনা করেন। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মুসলিম বাহিনীর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। সকালে উভয় বাহিনী মুখোমুখি হলো। আল্লাহু আকবার! সময় বেশি দূর গড়ায়নি। বিজয় मुसलमानों کا চুম্বন করেছে। কে ভেবেছিল এমন একটি ছোট্ট দল শাম বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে পেরে ওঠবে? কেউ ভাবেনি। শত্রুপক্ষ কল্পনাও করতে পারেনি মদিনার মুসলিম বাহিনী তাদের পরাজিত করবে। কিন্তু আল্লাহ مسلمانوں کا বিজয় দান করলেন। আর প্রকৃতার্থে তিনি তো مسلمانوں کا বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেনই। যুদ্ধ সমাপ্ত হলো। বিজয়ী বেশে মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. শত্রুপক্ষের সেনাপতির তাবুতে নামাজ আদায় করলেন। ইসলামের আরো একটি বিজয় অর্জিত হলো হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এর নেতৃত্ব ও অপরিসীম বীরত্বে। ইরশাদ হয়েছে,
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنصُورُونَ وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ
'আমার প্রেরিত বান্দাদের জন্য আমার কথা আগেই ঠিক হয়ে গেছে। তারা অবশ্যই সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। এবং আমার সৈনিকেরাই বিজয়ী হবে।' ¹⁰¹
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَتَبَ اللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ
আল্লাহ লিখে দিয়েছেন, আমি ও আমার রাসুলগণ অবশ্যই বিজয়ী হবো। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিধর ও পরাক্রমশালী। '¹⁰²

টিকাঃ
৯৭ সুরা রুম: ৬
৯৮ সুরা আনফাল: ৯
৯৯ সুরা আলে ইমরান: ১৩৯-১৪১
১০০ সুরা বাকারা: ২১৪
১০১ সুরা সাফফাত: ১৭১-১৭৩
১০২ সুরা মুজাদালা: ২১

খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. তখন দারুণ বিচক্ষণতার সাথে পরিচালনা করছেন খেলাফতের মসনদ। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও ইসলামকে বিজয় করার লক্ষ্যে খলিফাতুল মুসলিমিন নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করতে লাগলেন। তৎকালীন পৃথিবীর দুই পরাশক্তি হলো পারস্য ও রোম। যারা দুনিয়াকে শাসন করছিল প্রবল প্রতাপে। খলিফা চিন্তা করলেন, পারস্য ও রোম সাম্রাজ্য অন্তর্গত বিভিন্ন শহরে সাহাবায়ে কেরামকে প্রেরণ করবেন। তারা প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেবেন, যদি তারা ইসলামের দাওয়াত কবুল না করে তাহলে ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করতে বলবেন। যদি তাও না করে তাহলে তাদের সাথে مسلمانوں کا ফায়সালা হবে তরবারির। এটিই ইসলামের নীতি। ইসলাম প্রথমেই কাউকে আঘাত করে না। প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হবে। বলা হবে ইসলাম গ্রহণ করতে। যদি তারা ইসলাম গ্রহণ না করে তাহলে বলা হবে مسلمانوں کا বশ্যতা স্বীকার করতে। ইসলামী সাম্রাজ্যে কর ও জিযিয়া প্রদান করতে। যদি কোনোটিই না মেনে নেয় তাহলে তখন তাদের সাথে লড়াই হবে।
খলিফা হযরত আবু বকর রা. ইসলামের ইতিহাসের অকুতভয় সেনানায়ক সাহাবি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে পারস্য অভিমুখে প্রেরণ করেন। সাহাবায়ে কেরাম ও مسلمانوں کا একটি বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ রওনা হলেন পারস্য অভিমুখে। খলিফাতুল মুসলিমিন এখানে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্বাচন করেছেন। কারণ তার সাহসিকতা ও বীরত্ব ছিল প্রশংসনীয়। রণাঙ্গনে শত্রুপক্ষকে তিনি নাস্তানাবুদ করেন। ক্ষতবিক্ষত করেন। শত্রুপক্ষের ব্যুহ ভেদ করে তিনি পৌঁছে যান অভীষ্ট লক্ষ্যে। যুদ্ধের ময়দানে তিনি হন বিজয়ী। তার যুদ্ধ কৌশল প্রখর। ইয়ামামার প্রান্তরে তার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী শত্রুপক্ষকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেছে। হযরত আবু বকর রা. তাই শক্তিশালী পারসিকদের বিরুদ্ধে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কেই নির্বাচিত করেছেন সেনাপতি হিসেবে।
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ তার বাহিনী নিয়ে ইরাকে পৌঁছেন। সেখানে গিয়ে তিনি শাসকদের নিকট ইসলামের দাওয়াতসম্বলিত পত্র প্রেরণ করেন। তাতে লেখা ছিল,
مـن صـلـى صـلاتـنـا، واسـتـقـبـل قـبـلـتـنـا، وأكـل ذبـيـحـتـنـا فـلـه مـا لـنـا، وعـلـيـه مـا عـلـيـنـا، وإلا فـإنـي أتـيـتـكـم بـقـوم يـحـبـون الـمـوت كـمـا تـحـبـون أنـتـم الـحـيـاة، ويـرغـبـون فـي الآخـرة كـمـا تـرغـبـون أنـتـم فـي الـدنـيـا
'যারা নামাজ আদায় করে, আমাদের কেবলাকে কেবলা বলে স্বীকার করে এবং আমাদের জবাইকৃত পশু খায় তারা আমাদের জিম্মায়। তাদের কোনো ক্ষতি করা হবে না। এছাড়া আর যারা রয়েছে তারা শোনে রাখো! আমরা আসছি তোমাদের নিকট। তোমাদের নিকট জীবন যেমন প্রিয় আমাদের নিকট মৃত্যু তেমনই প্রিয়। তোমাদের নিকট দুনিয়া যেমন প্রিয় আমাদের নিকট আখেরাত তেমনই প্রিয়।'
মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর চিঠির সারমর্ম হলো, যারা মুসলমান এবং ইসলাম গ্রহণ করেছে। যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করে নেবে তাদের জীবন ও মাল আমাদের নিকট নিরাপদ। তাদের আমরা কিছুই করব না। আর যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করবে না তাদের সাথে আমাদের সমাধান হবে তরবারির মাধ্যমে। এ চিঠির মাধ্যমে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. পারসিকদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন। এবং দাওয়াত গ্রহণ না করলে তাদের পরিণতি কী হবে সেদিকেও তিনি স্পষ্ট ভাষায় ইঙ্গিত করেছেন।
ইরাকের বেশ কয়েকটি অঞ্চল হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. তার নিপুণ সাহসিকতা ও অসাধারণ বীরত্বে জয় করেন। বিজিত সেসব অঞ্চলের মানুষজন ইসলাম গ্রহণ করে। মুসলমানগণ তখন যেদিকেই গিয়েছেন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের বিজয় দান করেছেন। কেননা, مسلمانوں کا তিনি বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আজ পৃথিবীর দিকে দিকে মুসলমান লাঞ্ছিত ও অপদস্থ। দেশে দেশে তারা মার খাচ্ছে কাফের মুশরিকদের হাতে। নারী ও শিশুদের আর্তনাদে আজ মুসলিম দেশের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। চতুর্দিকেই আজ मुसलमानों کا অধঃপতন। যে আল্লাহ مسلمانوں کا অতীতে বিজয় দান করেছেন তিনি আজও আছেন। আজও রয়েছে তার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু মুসলমানরা নেই সেই পূর্বের মুসলমান। তাদের ঈমানের শক্তি নিস্তেজ হয়ে গেছে। তাদের অন্তরের আলো নিভে গেছে। তাদের সততা ও চরিত্র হারিয়ে গেছে। হ্যাঁ, আজও বিজয় আসবে مسلمانوں کا। যদি তারা পূর্বের সে ঈমান লাভ করতে পারে। যদি তারা সাহাবায়ে কেরামের মতো উত্তম চরিত্র ধারণ করতে পারে। যদি তাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বিদ্যমান থাকে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَعْدَ اللَّهِ لا يُخْلِفُ اللَّهُ وَعْدَهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ
'আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর আল্লাহ তার প্রতিশ্রুতির বিপরীত করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।'⁹⁷
অতঃপর খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্দেশ দিলেন শাম অভিমুখে অভিযান পরিচালনা করার জন্য। শাম তখন অত্যন্ত শক্তিশালী শহর। দুর্ভেদ্য তাদের দূর্গ। শাম বিজয় করা তাই খুব সহজ কথা নয়। খলিফা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে শামে অভিযানের জন্য উপযুক্ত মনে করলেন। কারণ, মুসলিম বাহিনীর অপরাজেয় সেনাপতি তিনি। সেনাপতি হিসেবে তার দক্ষতা সকলের চেয়ে অগ্রগণ্য। যুদ্ধের ময়দানে তার দারুণ বিচক্ষণতা مسلمانوں کا বিজয়কে ত্বরান্বিত করে। সুতরাং অভেদ্য নগরী শাম বিজয় করার জন্য খালিদই অধিকতর উপযুক্ত।
খলিফার নির্দেশে তিনি হযরত মুসান্না রা.-কে ইরাকের বিজিত অঞ্চলসমূহের গভর্নর নিযুক্ত করে শামের দিকে রওনা হলেন। অল্প সময়ে তিনি পৌঁছে যান শামে। শামে পৌঁছে তিনি মুসলিম বাহিনীর উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন। তাদের তিনি শাহাদতের ওপর উদ্বুদ্ধ করেন। জিহাদের ফজিলত বর্ণনা করে তিনি মুসলিম বাহিনীর মনোবল দ্বিগুণ করার চেষ্টা করেন। তাদের অধিকতর আত্মনিবেদিতরূপে প্রস্তুত করেন। তার জাগরণী ভাষণে মুসলিম বাহিনী নতুন প্রেরণায় জেগে ওঠে। তাদের হৃদয় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের ধমনীতে বয়ে যায় শাহাদতের রক্ত। আল্লাহর রাহে জীবন উৎসর্গের জন্য তারা সর্বাঙ্গীন প্রস্তুতি গ্রহণ করে। مسلمانوں کا সৈন্যসংখ্যা তেমন অধিক ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী মুসলিম বাহিনী যুদ্ধের আগের রাতে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন। দীর্ঘ সময় তারা নামাজ আদায় করেন। কুরআন তিলাওয়াত করেন। কাকুতি-মিনতি করে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। কেননা, مسلمانوں کا সাহায্য তো একমাত্র তার পক্ষ থেকেই আসে। মুসলমান কখনো নিজেদের সৈন্য ও অস্ত্রবলের ওপর ভরসা করে না। তাদের সাহায্য আসে আসমান থেকে। मुसलमानों का বিজয় লেখা হয় আরশে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ
'যখন তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছিলে এবং তোমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি তোমাদের এক হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে সাহায্য করব যারা একজনের পেছনে আরেকজন ক্রমান্বয়ে আসতে থাকবে।'⁹⁸
আজকের শত্রুদের নিকট রয়েছে বড় বড় কামান এবং শক্তিশালী বহু অস্ত্র। তাদের নিকট রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। مسلمانوں کا নিকট এসবের কিছু নেই। কিন্তু مسلمانوں کا রয়েছে আল্লাহর সাহায্য। রয়েছে প্রভুর নিযুক্ত অসংখ্য ফেরেশতা। তারা আল্লাহর নির্দেশে আসমান থেকে জমিনে নেমে আসবে মুমিনদের সাহায্য করতে। শুধু প্রয়োজন مسلمانوں کا ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি করা। আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্য করা। আল্লাহকে ভয় করা। তাহলে কে আছে मुसलमानों کا পরাজিত করার। কে আছে مسلمانوں কা যুদ্ধক্ষেত্রে পরাস্ত করবে? আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা সর্বক্ষেত্রে مسلمانوں কা সান্ত্বনার বাণী শুনিয়েছেন। मुसलमानों کا মানসিক অবস্থাকে সুদৃঢ় রাখার জন্য আল্লাহ তাদের দিয়েছেন অফুরন্ত সুসংবাদ। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتْخِذَ مِنكُمْ شُهَدَاءَ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ وَلِيُمَحِّصَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَافِرِينَ
'তোমরা শত্রুর সামনে দুর্বল কিংবা বিষণ্ণ হয়ো না। প্রকৃত ঈমানদার হলে তোমরাই বিজয় হবে। যদি তোমাদের কোনো আঘাত আসে তাহলে মনে করো অনুরূপ আঘাত তো অন্যদেরও লেগেছে। আর এই দিনগুলো আমি মানুষের মধ্যে অদলবদল করি; যাতে আল্লাহ মুমিনদের যাচাই করতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহিদদের গ্রহণ করতে পারেন। আর আল্লাহ জালেমদের ভালবাসেন না। আর এ কারণে আল্লাহ ঈমানদারদেরকে পাক-সাফ করতে চান এবং কাফেরদেরকে ধবংস করে দিতে চান।' ⁹⁹
আন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرُ اللَّهِ قَرِيبٌ
'তোমরা কি মনে করো যে, জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ তোমাদের পূর্বে যারা চলে গেছে তাদের মতো অবস্থা তোমাদের এখনো আসেনি। তারা অভাব-অনটন ও দুঃখ- কষ্টের কবলে পড়েছিল এবং ভয়ে এমনভাবে কম্পিত হয়েছিল যে, রাসুল ও তার সঙ্গী ঈমানদারগণ বলেছিল,
কখন আল্লাহর সাহায্য আসবে? জেনে রেখো! আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী। '¹⁰⁰
অতঃপর সকাল হলো। রাতভর ইবাদত ও আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে মুসলিম বাহিনী সাহায্য প্রার্থনা করেন। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মুসলিম বাহিনীর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। সকালে উভয় বাহিনী মুখোমুখি হলো। আল্লাহু আকবার! সময় বেশি দূর গড়ায়নি। বিজয় मुसलमानों کا চুম্বন করেছে। কে ভেবেছিল এমন একটি ছোট্ট দল শাম বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে পেরে ওঠবে? কেউ ভাবেনি। শত্রুপক্ষ কল্পনাও করতে পারেনি মদিনার মুসলিম বাহিনী তাদের পরাজিত করবে। কিন্তু আল্লাহ مسلمانوں کا বিজয় দান করলেন। আর প্রকৃতার্থে তিনি তো مسلمانوں کا বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেনই। যুদ্ধ সমাপ্ত হলো। বিজয়ী বেশে মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. শত্রুপক্ষের সেনাপতির তাবুতে নামাজ আদায় করলেন। ইসলামের আরো একটি বিজয় অর্জিত হলো হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এর নেতৃত্ব ও অপরিসীম বীরত্বে। ইরশাদ হয়েছে,
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنصُورُونَ وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ
'আমার প্রেরিত বান্দাদের জন্য আমার কথা আগেই ঠিক হয়ে গেছে। তারা অবশ্যই সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। এবং আমার সৈনিকেরাই বিজয়ী হবে।' ¹⁰¹
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَتَبَ اللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ
আল্লাহ লিখে দিয়েছেন, আমি ও আমার রাসুলগণ অবশ্যই বিজয়ী হবো। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিধর ও পরাক্রমশালী। '¹⁰²

টিকাঃ
৯৭ সুরা রুম: ৬
৯৮ সুরা আনফাল: ৯
৯৯ সুরা আলে ইমরান: ১৩৯-১৪১
১০০ সুরা বাকারা: ২১৪
১০১ সুরা সাফফাত: ১৭১-১৭৩
১০২ সুরা মুজাদালা: ২১

খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. তখন দারুণ বিচক্ষণতার সাথে পরিচালনা করছেন খেলাফতের মসনদ। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও ইসলামকে বিজয় করার লক্ষ্যে খলিফাতুল মুসলিমিন নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করতে লাগলেন। তৎকালীন পৃথিবীর দুই পরাশক্তি হলো পারস্য ও রোম। যারা দুনিয়াকে শাসন করছিল প্রবল প্রতাপে। খলিফা চিন্তা করলেন, পারস্য ও রোম সাম্রাজ্য অন্তর্গত বিভিন্ন শহরে সাহাবায়ে কেরামকে প্রেরণ করবেন। তারা প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেবেন, যদি তারা ইসলামের দাওয়াত কবুল না করে তাহলে ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করতে বলবেন। যদি তাও না করে তাহলে তাদের সাথে مسلمانوں کا ফায়সালা হবে তরবারির। এটিই ইসলামের নীতি। ইসলাম প্রথমেই কাউকে আঘাত করে না। প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হবে। বলা হবে ইসলাম গ্রহণ করতে। যদি তারা ইসলাম গ্রহণ না করে তাহলে বলা হবে مسلمانوں کا বশ্যতা স্বীকার করতে। ইসলামী সাম্রাজ্যে কর ও জিযিয়া প্রদান করতে। যদি কোনোটিই না মেনে নেয় তাহলে তখন তাদের সাথে লড়াই হবে।
খলিফা হযরত আবু বকর রা. ইসলামের ইতিহাসের অকুতভয় সেনানায়ক সাহাবি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে পারস্য অভিমুখে প্রেরণ করেন। সাহাবায়ে কেরাম ও مسلمانوں کا একটি বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ রওনা হলেন পারস্য অভিমুখে। খলিফাতুল মুসলিমিন এখানে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্বাচন করেছেন। কারণ তার সাহসিকতা ও বীরত্ব ছিল প্রশংসনীয়। রণাঙ্গনে শত্রুপক্ষকে তিনি নাস্তানাবুদ করেন। ক্ষতবিক্ষত করেন। শত্রুপক্ষের ব্যুহ ভেদ করে তিনি পৌঁছে যান অভীষ্ট লক্ষ্যে। যুদ্ধের ময়দানে তিনি হন বিজয়ী। তার যুদ্ধ কৌশল প্রখর। ইয়ামামার প্রান্তরে তার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী শত্রুপক্ষকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেছে। হযরত আবু বকর রা. তাই শক্তিশালী পারসিকদের বিরুদ্ধে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কেই নির্বাচিত করেছেন সেনাপতি হিসেবে।
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ তার বাহিনী নিয়ে ইরাকে পৌঁছেন। সেখানে গিয়ে তিনি শাসকদের নিকট ইসলামের দাওয়াতসম্বলিত পত্র প্রেরণ করেন। তাতে লেখা ছিল,
مـن صـلـى صـلاتـنـا، واسـتـقـبـل قـبـلـتـنـا، وأكـل ذبـيـحـتـنـا فـلـه مـا لـنـا، وعـلـيـه مـا عـلـيـنـا، وإلا فـإنـي أتـيـتـكـم بـقـوم يـحـبـون الـمـوت كـمـا تـحـبـون أنـتـم الـحـيـاة، ويـرغـبـون فـي الآخـرة كـمـا تـرغـبـون أنـتـم فـي الـدنـيـا
'যারা নামাজ আদায় করে, আমাদের কেবলাকে কেবলা বলে স্বীকার করে এবং আমাদের জবাইকৃত পশু খায় তারা আমাদের জিম্মায়। তাদের কোনো ক্ষতি করা হবে না। এছাড়া আর যারা রয়েছে তারা শোনে রাখো! আমরা আসছি তোমাদের নিকট। তোমাদের নিকট জীবন যেমন প্রিয় আমাদের নিকট মৃত্যু তেমনই প্রিয়। তোমাদের নিকট দুনিয়া যেমন প্রিয় আমাদের নিকট আখেরাত তেমনই প্রিয়।'
মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর চিঠির সারমর্ম হলো, যারা মুসলমান এবং ইসলাম গ্রহণ করেছে। যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করে নেবে তাদের জীবন ও মাল আমাদের নিকট নিরাপদ। তাদের আমরা কিছুই করব না। আর যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করবে না তাদের সাথে আমাদের সমাধান হবে তরবারির মাধ্যমে। এ চিঠির মাধ্যমে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. পারসিকদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন। এবং দাওয়াত গ্রহণ না করলে তাদের পরিণতি কী হবে সেদিকেও তিনি স্পষ্ট ভাষায় ইঙ্গিত করেছেন।
ইরাকের বেশ কয়েকটি অঞ্চল হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. তার নিপুণ সাহসিকতা ও অসাধারণ বীরত্বে জয় করেন। বিজিত সেসব অঞ্চলের মানুষজন ইসলাম গ্রহণ করে। মুসলমানগণ তখন যেদিকেই গিয়েছেন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের বিজয় দান করেছেন। কেননা, مسلمانوں کا তিনি বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আজ পৃথিবীর দিকে দিকে মুসলমান লাঞ্ছিত ও অপদস্থ। দেশে দেশে তারা মার খাচ্ছে কাফের মুশরিকদের হাতে। নারী ও শিশুদের আর্তনাদে আজ মুসলিম দেশের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। চতুর্দিকেই আজ मुसलमानों کا অধঃপতন। যে আল্লাহ مسلمانوں کا অতীতে বিজয় দান করেছেন তিনি আজও আছেন। আজও রয়েছে তার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু মুসলমানরা নেই সেই পূর্বের মুসলমান। তাদের ঈমানের শক্তি নিস্তেজ হয়ে গেছে। তাদের অন্তরের আলো নিভে গেছে। তাদের সততা ও চরিত্র হারিয়ে গেছে। হ্যাঁ, আজও বিজয় আসবে مسلمانوں کا। যদি তারা পূর্বের সে ঈমান লাভ করতে পারে। যদি তারা সাহাবায়ে কেরামের মতো উত্তম চরিত্র ধারণ করতে পারে। যদি তাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বিদ্যমান থাকে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَعْدَ اللَّهِ لا يُخْلِفُ اللَّهُ وَعْدَهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ
'আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর আল্লাহ তার প্রতিশ্রুতির বিপরীত করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।'⁹⁷
অতঃপর খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্দেশ দিলেন শাম অভিমুখে অভিযান পরিচালনা করার জন্য। শাম তখন অত্যন্ত শক্তিশালী শহর। দুর্ভেদ্য তাদের দূর্গ। শাম বিজয় করা তাই খুব সহজ কথা নয়। খলিফা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে শামে অভিযানের জন্য উপযুক্ত মনে করলেন। কারণ, মুসলিম বাহিনীর অপরাজেয় সেনাপতি তিনি। সেনাপতি হিসেবে তার দক্ষতা সকলের চেয়ে অগ্রগণ্য। যুদ্ধের ময়দানে তার দারুণ বিচক্ষণতা مسلمانوں کا বিজয়কে ত্বরান্বিত করে। সুতরাং অভেদ্য নগরী শাম বিজয় করার জন্য খালিদই অধিকতর উপযুক্ত।
খলিফার নির্দেশে তিনি হযরত মুসান্না রা.-কে ইরাকের বিজিত অঞ্চলসমূহের গভর্নর নিযুক্ত করে শামের দিকে রওনা হলেন। অল্প সময়ে তিনি পৌঁছে যান শামে। শামে পৌঁছে তিনি মুসলিম বাহিনীর উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন। তাদের তিনি শাহাদতের ওপর উদ্বুদ্ধ করেন। জিহাদের ফজিলত বর্ণনা করে তিনি মুসলিম বাহিনীর মনোবল দ্বিগুণ করার চেষ্টা করেন। তাদের অধিকতর আত্মনিবেদিতরূপে প্রস্তুত করেন। তার জাগরণী ভাষণে মুসলিম বাহিনী নতুন প্রেরণায় জেগে ওঠে। তাদের হৃদয় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের ধমনীতে বয়ে যায় শাহাদতের রক্ত। আল্লাহর রাহে জীবন উৎসর্গের জন্য তারা সর্বাঙ্গীন প্রস্তুতি গ্রহণ করে। مسلمانوں کا সৈন্যসংখ্যা তেমন অধিক ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী মুসলিম বাহিনী যুদ্ধের আগের রাতে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন। দীর্ঘ সময় তারা নামাজ আদায় করেন। কুরআন তিলাওয়াত করেন। কাকুতি-মিনতি করে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। কেননা, مسلمانوں کا সাহায্য তো একমাত্র তার পক্ষ থেকেই আসে। মুসলমান কখনো নিজেদের সৈন্য ও অস্ত্রবলের ওপর ভরসা করে না। তাদের সাহায্য আসে আসমান থেকে। मुसलमानों का বিজয় লেখা হয় আরশে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ
'যখন তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছিলে এবং তোমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি তোমাদের এক হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে সাহায্য করব যারা একজনের পেছনে আরেকজন ক্রমান্বয়ে আসতে থাকবে।'⁹⁸
আজকের শত্রুদের নিকট রয়েছে বড় বড় কামান এবং শক্তিশালী বহু অস্ত্র। তাদের নিকট রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। مسلمانوں کا নিকট এসবের কিছু নেই। কিন্তু مسلمانوں کا রয়েছে আল্লাহর সাহায্য। রয়েছে প্রভুর নিযুক্ত অসংখ্য ফেরেশতা। তারা আল্লাহর নির্দেশে আসমান থেকে জমিনে নেমে আসবে মুমিনদের সাহায্য করতে। শুধু প্রয়োজন مسلمانوں کا ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি করা। আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্য করা। আল্লাহকে ভয় করা। তাহলে কে আছে मुसलमानों کا পরাজিত করার। কে আছে مسلمانوں কা যুদ্ধক্ষেত্রে পরাস্ত করবে? আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা সর্বক্ষেত্রে مسلمانوں কা সান্ত্বনার বাণী শুনিয়েছেন। मुसलमानों کا মানসিক অবস্থাকে সুদৃঢ় রাখার জন্য আল্লাহ তাদের দিয়েছেন অফুরন্ত সুসংবাদ। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتْخِذَ مِنكُمْ شُهَدَاءَ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ وَلِيُمَحِّصَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَافِرِينَ
'তোমরা শত্রুর সামনে দুর্বল কিংবা বিষণ্ণ হয়ো না। প্রকৃত ঈমানদার হলে তোমরাই বিজয় হবে। যদি তোমাদের কোনো আঘাত আসে তাহলে মনে করো অনুরূপ আঘাত তো অন্যদেরও লেগেছে। আর এই দিনগুলো আমি মানুষের মধ্যে অদলবদল করি; যাতে আল্লাহ মুমিনদের যাচাই করতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহিদদের গ্রহণ করতে পারেন। আর আল্লাহ জালেমদের ভালবাসেন না। আর এ কারণে আল্লাহ ঈমানদারদেরকে পাক-সাফ করতে চান এবং কাফেরদেরকে ধবংস করে দিতে চান।' ⁹⁹
আন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرُ اللَّهِ قَرِيبٌ
'তোমরা কি মনে করো যে, জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ তোমাদের পূর্বে যারা চলে গেছে তাদের মতো অবস্থা তোমাদের এখনো আসেনি। তারা অভাব-অনটন ও দুঃখ- কষ্টের কবলে পড়েছিল এবং ভয়ে এমনভাবে কম্পিত হয়েছিল যে, রাসুল ও তার সঙ্গী ঈমানদারগণ বলেছিল,
কখন আল্লাহর সাহায্য আসবে? জেনে রেখো! আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী। '¹⁰⁰
অতঃপর সকাল হলো। রাতভর ইবাদত ও আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে মুসলিম বাহিনী সাহায্য প্রার্থনা করেন। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মুসলিম বাহিনীর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। সকালে উভয় বাহিনী মুখোমুখি হলো। আল্লাহু আকবার! সময় বেশি দূর গড়ায়নি। বিজয় मुसलमानों کا চুম্বন করেছে। কে ভেবেছিল এমন একটি ছোট্ট দল শাম বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে পেরে ওঠবে? কেউ ভাবেনি। শত্রুপক্ষ কল্পনাও করতে পারেনি মদিনার মুসলিম বাহিনী তাদের পরাজিত করবে। কিন্তু আল্লাহ مسلمانوں کا বিজয় দান করলেন। আর প্রকৃতার্থে তিনি তো مسلمانوں کا বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেনই। যুদ্ধ সমাপ্ত হলো। বিজয়ী বেশে মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. শত্রুপক্ষের সেনাপতির তাবুতে নামাজ আদায় করলেন। ইসলামের আরো একটি বিজয় অর্জিত হলো হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এর নেতৃত্ব ও অপরিসীম বীরত্বে। ইরশাদ হয়েছে,
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنصُورُونَ وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ
'আমার প্রেরিত বান্দাদের জন্য আমার কথা আগেই ঠিক হয়ে গেছে। তারা অবশ্যই সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। এবং আমার সৈনিকেরাই বিজয়ী হবে।' ¹⁰¹
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَتَبَ اللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ
আল্লাহ লিখে দিয়েছেন, আমি ও আমার রাসুলগণ অবশ্যই বিজয়ী হবো। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিধর ও পরাক্রমশালী। '¹⁰²

টিকাঃ
৯৭ সুরা রুম: ৬
৯৮ সুরা আনফাল: ৯
৯৯ সুরা আলে ইমরান: ১৩৯-১৪১
১০০ সুরা বাকারা: ২১৪
১০১ সুরা সাফফাত: ১৭১-১৭৩
১০২ সুরা মুজাদালা: ২১

খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. তখন দারুণ বিচক্ষণতার সাথে পরিচালনা করছেন খেলাফতের মসনদ। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও ইসলামকে বিজয় করার লক্ষ্যে খলিফাতুল মুসলিমিন নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করতে লাগলেন। তৎকালীন পৃথিবীর দুই পরাশক্তি হলো পারস্য ও রোম। যারা দুনিয়াকে শাসন করছিল প্রবল প্রতাপে। খলিফা চিন্তা করলেন, পারস্য ও রোম সাম্রাজ্য অন্তর্গত বিভিন্ন শহরে সাহাবায়ে কেরামকে প্রেরণ করবেন। তারা প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেবেন, যদি তারা ইসলামের দাওয়াত কবুল না করে তাহলে ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করতে বলবেন। যদি তাও না করে তাহলে তাদের সাথে مسلمانوں کا ফায়সালা হবে তরবারির। এটিই ইসলামের নীতি। ইসলাম প্রথমেই কাউকে আঘাত করে না। প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হবে। বলা হবে ইসলাম গ্রহণ করতে। যদি তারা ইসলাম গ্রহণ না করে তাহলে বলা হবে مسلمانوں کا বশ্যতা স্বীকার করতে। ইসলামী সাম্রাজ্যে কর ও জিযিয়া প্রদান করতে। যদি কোনোটিই না মেনে নেয় তাহলে তখন তাদের সাথে লড়াই হবে।
খলিফা হযরত আবু বকর রা. ইসলামের ইতিহাসের অকুতভয় সেনানায়ক সাহাবি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে পারস্য অভিমুখে প্রেরণ করেন। সাহাবায়ে কেরাম ও مسلمانوں کا একটি বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ রওনা হলেন পারস্য অভিমুখে। খলিফাতুল মুসলিমিন এখানে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্বাচন করেছেন। কারণ তার সাহসিকতা ও বীরত্ব ছিল প্রশংসনীয়। রণাঙ্গনে শত্রুপক্ষকে তিনি নাস্তানাবুদ করেন। ক্ষতবিক্ষত করেন। শত্রুপক্ষের ব্যুহ ভেদ করে তিনি পৌঁছে যান অভীষ্ট লক্ষ্যে। যুদ্ধের ময়দানে তিনি হন বিজয়ী। তার যুদ্ধ কৌশল প্রখর। ইয়ামামার প্রান্তরে তার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী শত্রুপক্ষকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেছে। হযরত আবু বকর রা. তাই শক্তিশালী পারসিকদের বিরুদ্ধে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কেই নির্বাচিত করেছেন সেনাপতি হিসেবে।
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ তার বাহিনী নিয়ে ইরাকে পৌঁছেন। সেখানে গিয়ে তিনি শাসকদের নিকট ইসলামের দাওয়াতসম্বলিত পত্র প্রেরণ করেন। তাতে লেখা ছিল,
مـن صـلـى صـلاتـنـا، واسـتـقـبـل قـبـلـتـنـا، وأكـل ذبـيـحـتـنـا فـلـه مـا لـنـا، وعـلـيـه مـا عـلـيـنـا، وإلا فـإنـي أتـيـتـكـم بـقـوم يـحـبـون الـمـوت كـمـا تـحـبـون أنـتـم الـحـيـاة، ويـرغـبـون فـي الآخـرة كـمـا تـرغـبـون أنـتـم فـي الـدنـيـا
'যারা নামাজ আদায় করে, আমাদের কেবলাকে কেবলা বলে স্বীকার করে এবং আমাদের জবাইকৃত পশু খায় তারা আমাদের জিম্মায়। তাদের কোনো ক্ষতি করা হবে না। এছাড়া আর যারা রয়েছে তারা শোনে রাখো! আমরা আসছি তোমাদের নিকট। তোমাদের নিকট জীবন যেমন প্রিয় আমাদের নিকট মৃত্যু তেমনই প্রিয়। তোমাদের নিকট দুনিয়া যেমন প্রিয় আমাদের নিকট আখেরাত তেমনই প্রিয়।'
মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর চিঠির সারমর্ম হলো, যারা মুসলমান এবং ইসলাম গ্রহণ করেছে। যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করে নেবে তাদের জীবন ও মাল আমাদের নিকট নিরাপদ। তাদের আমরা কিছুই করব না। আর যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করবে না তাদের সাথে আমাদের সমাধান হবে তরবারির মাধ্যমে। এ চিঠির মাধ্যমে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. পারসিকদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন। এবং দাওয়াত গ্রহণ না করলে তাদের পরিণতি কী হবে সেদিকেও তিনি স্পষ্ট ভাষায় ইঙ্গিত করেছেন।
ইরাকের বেশ কয়েকটি অঞ্চল হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. তার নিপুণ সাহসিকতা ও অসাধারণ বীরত্বে জয় করেন। বিজিত সেসব অঞ্চলের মানুষজন ইসলাম গ্রহণ করে। মুসলমানগণ তখন যেদিকেই গিয়েছেন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের বিজয় দান করেছেন। কেননা, مسلمانوں کا তিনি বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আজ পৃথিবীর দিকে দিকে মুসলমান লাঞ্ছিত ও অপদস্থ। দেশে দেশে তারা মার খাচ্ছে কাফের মুশরিকদের হাতে। নারী ও শিশুদের আর্তনাদে আজ মুসলিম দেশের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। চতুর্দিকেই আজ मुसलमानों کا অধঃপতন। যে আল্লাহ مسلمانوں کا অতীতে বিজয় দান করেছেন তিনি আজও আছেন। আজও রয়েছে তার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু মুসলমানরা নেই সেই পূর্বের মুসলমান। তাদের ঈমানের শক্তি নিস্তেজ হয়ে গেছে। তাদের অন্তরের আলো নিভে গেছে। তাদের সততা ও চরিত্র হারিয়ে গেছে। হ্যাঁ, আজও বিজয় আসবে مسلمانوں کا। যদি তারা পূর্বের সে ঈমান লাভ করতে পারে। যদি তারা সাহাবায়ে কেরামের মতো উত্তম চরিত্র ধারণ করতে পারে। যদি তাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বিদ্যমান থাকে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَعْدَ اللَّهِ لا يُخْلِفُ اللَّهُ وَعْدَهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ
'আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর আল্লাহ তার প্রতিশ্রুতির বিপরীত করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।'⁹⁷
অতঃপর খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্দেশ দিলেন শাম অভিমুখে অভিযান পরিচালনা করার জন্য। শাম তখন অত্যন্ত শক্তিশালী শহর। দুর্ভেদ্য তাদের দূর্গ। শাম বিজয় করা তাই খুব সহজ কথা নয়। খলিফা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে শামে অভিযানের জন্য উপযুক্ত মনে করলেন। কারণ, মুসলিম বাহিনীর অপরাজেয় সেনাপতি তিনি। সেনাপতি হিসেবে তার দক্ষতা সকলের চেয়ে অগ্রগণ্য। যুদ্ধের ময়দানে তার দারুণ বিচক্ষণতা مسلمانوں کا বিজয়কে ত্বরান্বিত করে। সুতরাং অভেদ্য নগরী শাম বিজয় করার জন্য খালিদই অধিকতর উপযুক্ত।
খলিফার নির্দেশে তিনি হযরত মুসান্না রা.-কে ইরাকের বিজিত অঞ্চলসমূহের গভর্নর নিযুক্ত করে শামের দিকে রওনা হলেন। অল্প সময়ে তিনি পৌঁছে যান শামে। শামে পৌঁছে তিনি মুসলিম বাহিনীর উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন। তাদের তিনি শাহাদতের ওপর উদ্বুদ্ধ করেন। জিহাদের ফজিলত বর্ণনা করে তিনি মুসলিম বাহিনীর মনোবল দ্বিগুণ করার চেষ্টা করেন। তাদের অধিকতর আত্মনিবেদিতরূপে প্রস্তুত করেন। তার জাগরণী ভাষণে মুসলিম বাহিনী নতুন প্রেরণায় জেগে ওঠে। তাদের হৃদয় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের ধমনীতে বয়ে যায় শাহাদতের রক্ত। আল্লাহর রাহে জীবন উৎসর্গের জন্য তারা সর্বাঙ্গীন প্রস্তুতি গ্রহণ করে। مسلمانوں کا সৈন্যসংখ্যা তেমন অধিক ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী মুসলিম বাহিনী যুদ্ধের আগের রাতে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন। দীর্ঘ সময় তারা নামাজ আদায় করেন। কুরআন তিলাওয়াত করেন। কাকুতি-মিনতি করে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। কেননা, مسلمانوں کا সাহায্য তো একমাত্র তার পক্ষ থেকেই আসে। মুসলমান কখনো নিজেদের সৈন্য ও অস্ত্রবলের ওপর ভরসা করে না। তাদের সাহায্য আসে আসমান থেকে। मुसलमानों का বিজয় লেখা হয় আরশে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ
'যখন তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছিলে এবং তোমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি তোমাদের এক হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে সাহায্য করব যারা একজনের পেছনে আরেকজন ক্রমান্বয়ে আসতে থাকবে।'⁹⁸
আজকের শত্রুদের নিকট রয়েছে বড় বড় কামান এবং শক্তিশালী বহু অস্ত্র। তাদের নিকট রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। مسلمانوں کا নিকট এসবের কিছু নেই। কিন্তু مسلمانوں کا রয়েছে আল্লাহর সাহায্য। রয়েছে প্রভুর নিযুক্ত অসংখ্য ফেরেশতা। তারা আল্লাহর নির্দেশে আসমান থেকে জমিনে নেমে আসবে মুমিনদের সাহায্য করতে। শুধু প্রয়োজন مسلمانوں کا ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি করা। আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্য করা। আল্লাহকে ভয় করা। তাহলে কে আছে मुसलमानों کا পরাজিত করার। কে আছে مسلمانوں কা যুদ্ধক্ষেত্রে পরাস্ত করবে? আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা সর্বক্ষেত্রে مسلمانوں কা সান্ত্বনার বাণী শুনিয়েছেন। मुसलमानों کا মানসিক অবস্থাকে সুদৃঢ় রাখার জন্য আল্লাহ তাদের দিয়েছেন অফুরন্ত সুসংবাদ। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتْخِذَ مِنكُمْ شُهَدَاءَ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ وَلِيُمَحِّصَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَافِرِينَ
'তোমরা শত্রুর সামনে দুর্বল কিংবা বিষণ্ণ হয়ো না। প্রকৃত ঈমানদার হলে তোমরাই বিজয় হবে। যদি তোমাদের কোনো আঘাত আসে তাহলে মনে করো অনুরূপ আঘাত তো অন্যদেরও লেগেছে। আর এই দিনগুলো আমি মানুষের মধ্যে অদলবদল করি; যাতে আল্লাহ মুমিনদের যাচাই করতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহিদদের গ্রহণ করতে পারেন। আর আল্লাহ জালেমদের ভালবাসেন না। আর এ কারণে আল্লাহ ঈমানদারদেরকে পাক-সাফ করতে চান এবং কাফেরদেরকে ধবংস করে দিতে চান।' ⁹⁹
আন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرُ اللَّهِ قَرِيبٌ
'তোমরা কি মনে করো যে, জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ তোমাদের পূর্বে যারা চলে গেছে তাদের মতো অবস্থা তোমাদের এখনো আসেনি। তারা অভাব-অনটন ও দুঃখ- কষ্টের কবলে পড়েছিল এবং ভয়ে এমনভাবে কম্পিত হয়েছিল যে, রাসুল ও তার সঙ্গী ঈমানদারগণ বলেছিল,
কখন আল্লাহর সাহায্য আসবে? জেনে রেখো! আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী। '¹⁰⁰
অতঃপর সকাল হলো। রাতভর ইবাদত ও আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে মুসলিম বাহিনী সাহায্য প্রার্থনা করেন। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মুসলিম বাহিনীর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। সকালে উভয় বাহিনী মুখোমুখি হলো। আল্লাহু আকবার! সময় বেশি দূর গড়ায়নি। বিজয় मुसलमानों کا চুম্বন করেছে। কে ভেবেছিল এমন একটি ছোট্ট দল শাম বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে পেরে ওঠবে? কেউ ভাবেনি। শত্রুপক্ষ কল্পনাও করতে পারেনি মদিনার মুসলিম বাহিনী তাদের পরাজিত করবে। কিন্তু আল্লাহ مسلمانوں کا বিজয় দান করলেন। আর প্রকৃতার্থে তিনি তো مسلمانوں کا বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেনই। যুদ্ধ সমাপ্ত হলো। বিজয়ী বেশে মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. শত্রুপক্ষের সেনাপতির তাবুতে নামাজ আদায় করলেন। ইসলামের আরো একটি বিজয় অর্জিত হলো হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এর নেতৃত্ব ও অপরিসীম বীরত্বে। ইরশাদ হয়েছে,
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنصُورُونَ وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ
'আমার প্রেরিত বান্দাদের জন্য আমার কথা আগেই ঠিক হয়ে গেছে। তারা অবশ্যই সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। এবং আমার সৈনিকেরাই বিজয়ী হবে।' ¹⁰¹
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَتَبَ اللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ
আল্লাহ লিখে দিয়েছেন, আমি ও আমার রাসুলগণ অবশ্যই বিজয়ী হবো। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিধর ও পরাক্রমশালী। '¹⁰²

টিকাঃ
৯৭ সুরা রুম: ৬
৯৮ সুরা আনফাল: ৯
৯৯ সুরা আলে ইমরান: ১৩৯-১৪১
১০০ সুরা বাকারা: ২১৪
১০১ সুরা সাফফাত: ১৭১-১৭৩
১০২ সুরা মুজাদালা: ২১

খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. তখন দারুণ বিচক্ষণতার সাথে পরিচালনা করছেন খেলাফতের মসনদ। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও ইসলামকে বিজয় করার লক্ষ্যে খলিফাতুল মুসলিমিন নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করতে লাগলেন। তৎকালীন পৃথিবীর দুই পরাশক্তি হলো পারস্য ও রোম। যারা দুনিয়াকে শাসন করছিল প্রবল প্রতাপে। খলিফা চিন্তা করলেন, পারস্য ও রোম সাম্রাজ্য অন্তর্গত বিভিন্ন শহরে সাহাবায়ে কেরামকে প্রেরণ করবেন। তারা প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেবেন, যদি তারা ইসলামের দাওয়াত কবুল না করে তাহলে ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করতে বলবেন। যদি তাও না করে তাহলে তাদের সাথে مسلمانوں کا ফায়সালা হবে তরবারির। এটিই ইসলামের নীতি। ইসলাম প্রথমেই কাউকে আঘাত করে না। প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হবে। বলা হবে ইসলাম গ্রহণ করতে। যদি তারা ইসলাম গ্রহণ না করে তাহলে বলা হবে مسلمانوں کا বশ্যতা স্বীকার করতে। ইসলামী সাম্রাজ্যে কর ও জিযিয়া প্রদান করতে। যদি কোনোটিই না মেনে নেয় তাহলে তখন তাদের সাথে লড়াই হবে।
খলিফা হযরত আবু বকর রা. ইসলামের ইতিহাসের অকুতভয় সেনানায়ক সাহাবি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে পারস্য অভিমুখে প্রেরণ করেন। সাহাবায়ে কেরাম ও مسلمانوں کا একটি বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ রওনা হলেন পারস্য অভিমুখে। খলিফাতুল মুসলিমিন এখানে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্বাচন করেছেন। কারণ তার সাহসিকতা ও বীরত্ব ছিল প্রশংসনীয়। রণাঙ্গনে শত্রুপক্ষকে তিনি নাস্তানাবুদ করেন। ক্ষতবিক্ষত করেন। শত্রুপক্ষের ব্যুহ ভেদ করে তিনি পৌঁছে যান অভীষ্ট লক্ষ্যে। যুদ্ধের ময়দানে তিনি হন বিজয়ী। তার যুদ্ধ কৌশল প্রখর। ইয়ামামার প্রান্তরে তার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী শত্রুপক্ষকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেছে। হযরত আবু বকর রা. তাই শক্তিশালী পারসিকদের বিরুদ্ধে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কেই নির্বাচিত করেছেন সেনাপতি হিসেবে।
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ তার বাহিনী নিয়ে ইরাকে পৌঁছেন। সেখানে গিয়ে তিনি শাসকদের নিকট ইসলামের দাওয়াতসম্বলিত পত্র প্রেরণ করেন। তাতে লেখা ছিল,
مـن صـلـى صـلاتـنـا، واسـتـقـبـل قـبـلـتـنـا، وأكـل ذبـيـحـتـنـا فـلـه مـا لـنـا، وعـلـيـه مـا عـلـيـنـا، وإلا فـإنـي أتـيـتـكـم بـقـوم يـحـبـون الـمـوت كـمـا تـحـبـون أنـتـم الـحـيـاة، ويـرغـبـون فـي الآخـرة كـمـا تـرغـبـون أنـتـم فـي الـدنـيـا
'যারা নামাজ আদায় করে, আমাদের কেবলাকে কেবলা বলে স্বীকার করে এবং আমাদের জবাইকৃত পশু খায় তারা আমাদের জিম্মায়। তাদের কোনো ক্ষতি করা হবে না। এছাড়া আর যারা রয়েছে তারা শোনে রাখো! আমরা আসছি তোমাদের নিকট। তোমাদের নিকট জীবন যেমন প্রিয় আমাদের নিকট মৃত্যু তেমনই প্রিয়। তোমাদের নিকট দুনিয়া যেমন প্রিয় আমাদের নিকট আখেরাত তেমনই প্রিয়।'
মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর চিঠির সারমর্ম হলো, যারা মুসলমান এবং ইসলাম গ্রহণ করেছে। যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করে নেবে তাদের জীবন ও মাল আমাদের নিকট নিরাপদ। তাদের আমরা কিছুই করব না। আর যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করবে না তাদের সাথে আমাদের সমাধান হবে তরবারির মাধ্যমে। এ চিঠির মাধ্যমে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. পারসিকদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন। এবং দাওয়াত গ্রহণ না করলে তাদের পরিণতি কী হবে সেদিকেও তিনি স্পষ্ট ভাষায় ইঙ্গিত করেছেন।
ইরাকের বেশ কয়েকটি অঞ্চল হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. তার নিপুণ সাহসিকতা ও অসাধারণ বীরত্বে জয় করেন। বিজিত সেসব অঞ্চলের মানুষজন ইসলাম গ্রহণ করে। মুসলমানগণ তখন যেদিকেই গিয়েছেন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের বিজয় দান করেছেন। কেননা, مسلمانوں کا তিনি বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আজ পৃথিবীর দিকে দিকে মুসলমান লাঞ্ছিত ও অপদস্থ। দেশে দেশে তারা মার খাচ্ছে কাফের মুশরিকদের হাতে। নারী ও শিশুদের আর্তনাদে আজ মুসলিম দেশের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। চতুর্দিকেই আজ मुसलमानों کا অধঃপতন। যে আল্লাহ مسلمانوں کا অতীতে বিজয় দান করেছেন তিনি আজও আছেন। আজও রয়েছে তার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু মুসলমানরা নেই সেই পূর্বের মুসলমান। তাদের ঈমানের শক্তি নিস্তেজ হয়ে গেছে। তাদের অন্তরের আলো নিভে গেছে। তাদের সততা ও চরিত্র হারিয়ে গেছে। হ্যাঁ, আজও বিজয় আসবে مسلمانوں کا। যদি তারা পূর্বের সে ঈমান লাভ করতে পারে। যদি তারা সাহাবায়ে কেরামের মতো উত্তম চরিত্র ধারণ করতে পারে। যদি তাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বিদ্যমান থাকে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَعْدَ اللَّهِ لا يُخْلِفُ اللَّهُ وَعْدَهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ
'আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর আল্লাহ তার প্রতিশ্রুতির বিপরীত করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।'⁹⁷
অতঃপর খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্দেশ দিলেন শাম অভিমুখে অভিযান পরিচালনা করার জন্য। শাম তখন অত্যন্ত শক্তিশালী শহর। দুর্ভেদ্য তাদের দূর্গ। শাম বিজয় করা তাই খুব সহজ কথা নয়। খলিফা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে শামে অভিযানের জন্য উপযুক্ত মনে করলেন। কারণ, মুসলিম বাহিনীর অপরাজেয় সেনাপতি তিনি। সেনাপতি হিসেবে তার দক্ষতা সকলের চেয়ে অগ্রগণ্য। যুদ্ধের ময়দানে তার দারুণ বিচক্ষণতা مسلمانوں کا বিজয়কে ত্বরান্বিত করে। সুতরাং অভেদ্য নগরী শাম বিজয় করার জন্য খালিদই অধিকতর উপযুক্ত।
খলিফার নির্দেশে তিনি হযরত মুসান্না রা.-কে ইরাকের বিজিত অঞ্চলসমূহের গভর্নর নিযুক্ত করে শামের দিকে রওনা হলেন। অল্প সময়ে তিনি পৌঁছে যান শামে। শামে পৌঁছে তিনি মুসলিম বাহিনীর উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন। তাদের তিনি শাহাদতের ওপর উদ্বুদ্ধ করেন। জিহাদের ফজিলত বর্ণনা করে তিনি মুসলিম বাহিনীর মনোবল দ্বিগুণ করার চেষ্টা করেন। তাদের অধিকতর আত্মনিবেদিতরূপে প্রস্তুত করেন। তার জাগরণী ভাষণে মুসলিম বাহিনী নতুন প্রেরণায় জেগে ওঠে। তাদের হৃদয় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের ধমনীতে বয়ে যায় শাহাদতের রক্ত। আল্লাহর রাহে জীবন উৎসর্গের জন্য তারা সর্বাঙ্গীন প্রস্তুতি গ্রহণ করে। مسلمانوں کا সৈন্যসংখ্যা তেমন অধিক ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী মুসলিম বাহিনী যুদ্ধের আগের রাতে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন। দীর্ঘ সময় তারা নামাজ আদায় করেন। কুরআন তিলাওয়াত করেন। কাকুতি-মিনতি করে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। কেননা, مسلمانوں کا সাহায্য তো একমাত্র তার পক্ষ থেকেই আসে। মুসলমান কখনো নিজেদের সৈন্য ও অস্ত্রবলের ওপর ভরসা করে না। তাদের সাহায্য আসে আসমান থেকে। मुसलमानों का বিজয় লেখা হয় আরশে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ
'যখন তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছিলে এবং তোমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি তোমাদের এক হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে সাহায্য করব যারা একজনের পেছনে আরেকজন ক্রমান্বয়ে আসতে থাকবে।'⁹⁸
আজকের শত্রুদের নিকট রয়েছে বড় বড় কামান এবং শক্তিশালী বহু অস্ত্র। তাদের নিকট রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। مسلمانوں کا নিকট এসবের কিছু নেই। কিন্তু مسلمانوں کا রয়েছে আল্লাহর সাহায্য। রয়েছে প্রভুর নিযুক্ত অসংখ্য ফেরেশতা। তারা আল্লাহর নির্দেশে আসমান থেকে জমিনে নেমে আসবে মুমিনদের সাহায্য করতে। শুধু প্রয়োজন مسلمانوں کا ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি করা। আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্য করা। আল্লাহকে ভয় করা। তাহলে কে আছে मुसलमानों کا পরাজিত করার। কে আছে مسلمانوں কা যুদ্ধক্ষেত্রে পরাস্ত করবে? আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা সর্বক্ষেত্রে مسلمانوں কা সান্ত্বনার বাণী শুনিয়েছেন। मुसलमानों کا মানসিক অবস্থাকে সুদৃঢ় রাখার জন্য আল্লাহ তাদের দিয়েছেন অফুরন্ত সুসংবাদ। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتْخِذَ مِنكُمْ شُهَدَاءَ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ وَلِيُمَحِّصَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَافِرِينَ
'তোমরা শত্রুর সামনে দুর্বল কিংবা বিষণ্ণ হয়ো না। প্রকৃত ঈমানদার হলে তোমরাই বিজয় হবে। যদি তোমাদের কোনো আঘাত আসে তাহলে মনে করো অনুরূপ আঘাত তো অন্যদেরও লেগেছে। আর এই দিনগুলো আমি মানুষের মধ্যে অদলবদল করি; যাতে আল্লাহ মুমিনদের যাচাই করতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহিদদের গ্রহণ করতে পারেন। আর আল্লাহ জালেমদের ভালবাসেন না। আর এ কারণে আল্লাহ ঈমানদারদেরকে পাক-সাফ করতে চান এবং কাফেরদেরকে ধবংস করে দিতে চান।' ⁹⁹
আন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرُ اللَّهِ قَرِيبٌ
'তোমরা কি মনে করো যে, জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ তোমাদের পূর্বে যারা চলে গেছে তাদের মতো অবস্থা তোমাদের এখনো আসেনি। তারা অভাব-অনটন ও দুঃখ- কষ্টের কবলে পড়েছিল এবং ভয়ে এমনভাবে কম্পিত হয়েছিল যে, রাসুল ও তার সঙ্গী ঈমানদারগণ বলেছিল,
কখন আল্লাহর সাহায্য আসবে? জেনে রেখো! আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী। '¹⁰⁰
অতঃপর সকাল হলো। রাতভর ইবাদত ও আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে মুসলিম বাহিনী সাহায্য প্রার্থনা করেন। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মুসলিম বাহিনীর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। সকালে উভয় বাহিনী মুখোমুখি হলো। আল্লাহু আকবার! সময় বেশি দূর গড়ায়নি। বিজয় मुसलमानों کا চুম্বন করেছে। কে ভেবেছিল এমন একটি ছোট্ট দল শাম বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে পেরে ওঠবে? কেউ ভাবেনি। শত্রুপক্ষ কল্পনাও করতে পারেনি মদিনার মুসলিম বাহিনী তাদের পরাজিত করবে। কিন্তু আল্লাহ مسلمانوں کا বিজয় দান করলেন। আর প্রকৃতার্থে তিনি তো مسلمانوں کا বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেনই। যুদ্ধ সমাপ্ত হলো। বিজয়ী বেশে মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. শত্রুপক্ষের সেনাপতির তাবুতে নামাজ আদায় করলেন। ইসলামের আরো একটি বিজয় অর্জিত হলো হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এর নেতৃত্ব ও অপরিসীম বীরত্বে। ইরশাদ হয়েছে,
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنصُورُونَ وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ
'আমার প্রেরিত বান্দাদের জন্য আমার কথা আগেই ঠিক হয়ে গেছে। তারা অবশ্যই সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। এবং আমার সৈনিকেরাই বিজয়ী হবে।' ¹⁰¹
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَتَبَ اللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ
আল্লাহ লিখে দিয়েছেন, আমি ও আমার রাসুলগণ অবশ্যই বিজয়ী হবো। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিধর ও পরাক্রমশালী। '¹⁰²

টিকাঃ
৯৭ সুরা রুম: ৬
৯৮ সুরা আনফাল: ৯
৯৯ সুরা আলে ইমরান: ১৩৯-১৪১
১০০ সুরা বাকারা: ২১৪
১০১ সুরা সাফফাত: ১৭১-১৭৩
১০২ সুরা মুজাদালা: ২১

খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. তখন দারুণ বিচক্ষণতার সাথে পরিচালনা করছেন খেলাফতের মসনদ। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও ইসলামকে বিজয় করার লক্ষ্যে খলিফাতুল মুসলিমিন নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করতে লাগলেন। তৎকালীন পৃথিবীর দুই পরাশক্তি হলো পারস্য ও রোম। যারা দুনিয়াকে শাসন করছিল প্রবল প্রতাপে। খলিফা চিন্তা করলেন, পারস্য ও রোম সাম্রাজ্য অন্তর্গত বিভিন্ন শহরে সাহাবায়ে কেরামকে প্রেরণ করবেন। তারা প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেবেন, যদি তারা ইসলামের দাওয়াত কবুল না করে তাহলে ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করতে বলবেন। যদি তাও না করে তাহলে তাদের সাথে مسلمانوں کا ফায়সালা হবে তরবারির। এটিই ইসলামের নীতি। ইসলাম প্রথমেই কাউকে আঘাত করে না। প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হবে। বলা হবে ইসলাম গ্রহণ করতে। যদি তারা ইসলাম গ্রহণ না করে তাহলে বলা হবে مسلمانوں کا বশ্যতা স্বীকার করতে। ইসলামী সাম্রাজ্যে কর ও জিযিয়া প্রদান করতে। যদি কোনোটিই না মেনে নেয় তাহলে তখন তাদের সাথে লড়াই হবে।
খলিফা হযরত আবু বকর রা. ইসলামের ইতিহাসের অকুতভয় সেনানায়ক সাহাবি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে পারস্য অভিমুখে প্রেরণ করেন। সাহাবায়ে কেরাম ও مسلمانوں کا একটি বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ রওনা হলেন পারস্য অভিমুখে। খলিফাতুল মুসলিমিন এখানে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্বাচন করেছেন। কারণ তার সাহসিকতা ও বীরত্ব ছিল প্রশংসনীয়। রণাঙ্গনে শত্রুপক্ষকে তিনি নাস্তানাবুদ করেন। ক্ষতবিক্ষত করেন। শত্রুপক্ষের ব্যুহ ভেদ করে তিনি পৌঁছে যান অভীষ্ট লক্ষ্যে। যুদ্ধের ময়দানে তিনি হন বিজয়ী। তার যুদ্ধ কৌশল প্রখর। ইয়ামামার প্রান্তরে তার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী শত্রুপক্ষকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেছে। হযরত আবু বকর রা. তাই শক্তিশালী পারসিকদের বিরুদ্ধে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কেই নির্বাচিত করেছেন সেনাপতি হিসেবে।
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ তার বাহিনী নিয়ে ইরাকে পৌঁছেন। সেখানে গিয়ে তিনি শাসকদের নিকট ইসলামের দাওয়াতসম্বলিত পত্র প্রেরণ করেন। তাতে লেখা ছিল,
مـن صـلـى صـلاتـنـا، واسـتـقـبـل قـبـلـتـنـا، وأكـل ذبـيـحـتـنـا فـلـه مـا لـنـا، وعـلـيـه مـا عـلـيـنـا، وإلا فـإنـي أتـيـتـكـم بـقـوم يـحـبـون الـمـوت كـمـا تـحـبـون أنـتـم الـحـيـاة، ويـرغـبـون فـي الآخـرة كـمـا تـرغـبـون أنـتـم فـي الـدنـيـا
'যারা নামাজ আদায় করে, আমাদের কেবলাকে কেবলা বলে স্বীকার করে এবং আমাদের জবাইকৃত পশু খায় তারা আমাদের জিম্মায়। তাদের কোনো ক্ষতি করা হবে না। এছাড়া আর যারা রয়েছে তারা শোনে রাখো! আমরা আসছি তোমাদের নিকট। তোমাদের নিকট জীবন যেমন প্রিয় আমাদের নিকট মৃত্যু তেমনই প্রিয়। তোমাদের নিকট দুনিয়া যেমন প্রিয় আমাদের নিকট আখেরাত তেমনই প্রিয়।'
মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর চিঠির সারমর্ম হলো, যারা মুসলমান এবং ইসলাম গ্রহণ করেছে। যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করে নেবে তাদের জীবন ও মাল আমাদের নিকট নিরাপদ। তাদের আমরা কিছুই করব না। আর যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করবে না তাদের সাথে আমাদের সমাধান হবে তরবারির মাধ্যমে। এ চিঠির মাধ্যমে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. পারসিকদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন। এবং দাওয়াত গ্রহণ না করলে তাদের পরিণতি কী হবে সেদিকেও তিনি স্পষ্ট ভাষায় ইঙ্গিত করেছেন।
ইরাকের বেশ কয়েকটি অঞ্চল হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. তার নিপুণ সাহসিকতা ও অসাধারণ বীরত্বে জয় করেন। বিজিত সেসব অঞ্চলের মানুষজন ইসলাম গ্রহণ করে। মুসলমানগণ তখন যেদিকেই গিয়েছেন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের বিজয় দান করেছেন। কেননা, مسلمانوں کا তিনি বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আজ পৃথিবীর দিকে দিকে মুসলমান লাঞ্ছিত ও অপদস্থ। দেশে দেশে তারা মার খাচ্ছে কাফের মুশরিকদের হাতে। নারী ও শিশুদের আর্তনাদে আজ মুসলিম দেশের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। চতুর্দিকেই আজ मुसलमानों کا অধঃপতন। যে আল্লাহ مسلمانوں کا অতীতে বিজয় দান করেছেন তিনি আজও আছেন। আজও রয়েছে তার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু মুসলমানরা নেই সেই পূর্বের মুসলমান। তাদের ঈমানের শক্তি নিস্তেজ হয়ে গেছে। তাদের অন্তরের আলো নিভে গেছে। তাদের সততা ও চরিত্র হারিয়ে গেছে। হ্যাঁ, আজও বিজয় আসবে مسلمانوں کا। যদি তারা পূর্বের সে ঈমান লাভ করতে পারে। যদি তারা সাহাবায়ে কেরামের মতো উত্তম চরিত্র ধারণ করতে পারে। যদি তাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বিদ্যমান থাকে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَعْدَ اللَّهِ لا يُخْلِفُ اللَّهُ وَعْدَهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ
'আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর আল্লাহ তার প্রতিশ্রুতির বিপরীত করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।'⁹⁷
অতঃপর খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্দেশ দিলেন শাম অভিমুখে অভিযান পরিচালনা করার জন্য। শাম তখন অত্যন্ত শক্তিশালী শহর। দুর্ভেদ্য তাদের দূর্গ। শাম বিজয় করা তাই খুব সহজ কথা নয়। খলিফা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে শামে অভিযানের জন্য উপযুক্ত মনে করলেন। কারণ, মুসলিম বাহিনীর অপরাজেয় সেনাপতি তিনি। সেনাপতি হিসেবে তার দক্ষতা সকলের চেয়ে অগ্রগণ্য। যুদ্ধের ময়দানে তার দারুণ বিচক্ষণতা مسلمانوں کا বিজয়কে ত্বরান্বিত করে। সুতরাং অভেদ্য নগরী শাম বিজয় করার জন্য খালিদই অধিকতর উপযুক্ত।
খলিফার নির্দেশে তিনি হযরত মুসান্না রা.-কে ইরাকের বিজিত অঞ্চলসমূহের গভর্নর নিযুক্ত করে শামের দিকে রওনা হলেন। অল্প সময়ে তিনি পৌঁছে যান শামে। শামে পৌঁছে তিনি মুসলিম বাহিনীর উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন। তাদের তিনি শাহাদতের ওপর উদ্বুদ্ধ করেন। জিহাদের ফজিলত বর্ণনা করে তিনি মুসলিম বাহিনীর মনোবল দ্বিগুণ করার চেষ্টা করেন। তাদের অধিকতর আত্মনিবেদিতরূপে প্রস্তুত করেন। তার জাগরণী ভাষণে মুসলিম বাহিনী নতুন প্রেরণায় জেগে ওঠে। তাদের হৃদয় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের ধমনীতে বয়ে যায় শাহাদতের রক্ত। আল্লাহর রাহে জীবন উৎসর্গের জন্য তারা সর্বাঙ্গীন প্রস্তুতি গ্রহণ করে। مسلمانوں کا সৈন্যসংখ্যা তেমন অধিক ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী মুসলিম বাহিনী যুদ্ধের আগের রাতে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন। দীর্ঘ সময় তারা নামাজ আদায় করেন। কুরআন তিলাওয়াত করেন। কাকুতি-মিনতি করে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। কেননা, مسلمانوں کا সাহায্য তো একমাত্র তার পক্ষ থেকেই আসে। মুসলমান কখনো নিজেদের সৈন্য ও অস্ত্রবলের ওপর ভরসা করে না। তাদের সাহায্য আসে আসমান থেকে। मुसलमानों का বিজয় লেখা হয় আরশে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ
'যখন তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছিলে এবং তোমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি তোমাদের এক হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে সাহায্য করব যারা একজনের পেছনে আরেকজন ক্রমান্বয়ে আসতে থাকবে।'⁹⁸
আজকের শত্রুদের নিকট রয়েছে বড় বড় কামান এবং শক্তিশালী বহু অস্ত্র। তাদের নিকট রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। مسلمانوں کا নিকট এসবের কিছু নেই। কিন্তু مسلمانوں کا রয়েছে আল্লাহর সাহায্য। রয়েছে প্রভুর নিযুক্ত অসংখ্য ফেরেশতা। তারা আল্লাহর নির্দেশে আসমান থেকে জমিনে নেমে আসবে মুমিনদের সাহায্য করতে। শুধু প্রয়োজন مسلمانوں کا ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি করা। আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্য করা। আল্লাহকে ভয় করা। তাহলে কে আছে मुसलमानों کا পরাজিত করার। কে আছে مسلمانوں কা যুদ্ধক্ষেত্রে পরাস্ত করবে? আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা সর্বক্ষেত্রে مسلمانوں কা সান্ত্বনার বাণী শুনিয়েছেন। मुसलमानों کا মানসিক অবস্থাকে সুদৃঢ় রাখার জন্য আল্লাহ তাদের দিয়েছেন অফুরন্ত সুসংবাদ। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتْخِذَ مِنكُمْ شُهَدَاءَ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ وَلِيُمَحِّصَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَافِرِينَ
'তোমরা শত্রুর সামনে দুর্বল কিংবা বিষণ্ণ হয়ো না। প্রকৃত ঈমানদার হলে তোমরাই বিজয় হবে। যদি তোমাদের কোনো আঘাত আসে তাহলে মনে করো অনুরূপ আঘাত তো অন্যদেরও লেগেছে। আর এই দিনগুলো আমি মানুষের মধ্যে অদলবদল করি; যাতে আল্লাহ মুমিনদের যাচাই করতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহিদদের গ্রহণ করতে পারেন। আর আল্লাহ জালেমদের ভালবাসেন না। আর এ কারণে আল্লাহ ঈমানদারদেরকে পাক-সাফ করতে চান এবং কাফেরদেরকে ধবংস করে দিতে চান।' ⁹⁹
আন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرُ اللَّهِ قَرِيبٌ
'তোমরা কি মনে করো যে, জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ তোমাদের পূর্বে যারা চলে গেছে তাদের মতো অবস্থা তোমাদের এখনো আসেনি। তারা অভাব-অনটন ও দুঃখ- কষ্টের কবলে পড়েছিল এবং ভয়ে এমনভাবে কম্পিত হয়েছিল যে, রাসুল ও তার সঙ্গী ঈমানদারগণ বলেছিল,
কখন আল্লাহর সাহায্য আসবে? জেনে রেখো! আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী। '¹⁰⁰
অতঃপর সকাল হলো। রাতভর ইবাদত ও আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে মুসলিম বাহিনী সাহায্য প্রার্থনা করেন। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মুসলিম বাহিনীর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। সকালে উভয় বাহিনী মুখোমুখি হলো। আল্লাহু আকবার! সময় বেশি দূর গড়ায়নি। বিজয় मुसलमानों کا চুম্বন করেছে। কে ভেবেছিল এমন একটি ছোট্ট দল শাম বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে পেরে ওঠবে? কেউ ভাবেনি। শত্রুপক্ষ কল্পনাও করতে পারেনি মদিনার মুসলিম বাহিনী তাদের পরাজিত করবে। কিন্তু আল্লাহ مسلمانوں کا বিজয় দান করলেন। আর প্রকৃতার্থে তিনি তো مسلمانوں کا বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেনই। যুদ্ধ সমাপ্ত হলো। বিজয়ী বেশে মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. শত্রুপক্ষের সেনাপতির তাবুতে নামাজ আদায় করলেন। ইসলামের আরো একটি বিজয় অর্জিত হলো হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এর নেতৃত্ব ও অপরিসীম বীরত্বে। ইরশাদ হয়েছে,
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنصُورُونَ وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ
'আমার প্রেরিত বান্দাদের জন্য আমার কথা আগেই ঠিক হয়ে গেছে। তারা অবশ্যই সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। এবং আমার সৈনিকেরাই বিজয়ী হবে।' ¹⁰¹
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَتَبَ اللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ
আল্লাহ লিখে দিয়েছেন, আমি ও আমার রাসুলগণ অবশ্যই বিজয়ী হবো। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিধর ও পরাক্রমশালী। '¹⁰²

টিকাঃ
৯৭ সুরা রুম: ৬
৯৮ সুরা আনফাল: ৯
৯৯ সুরা আলে ইমরান: ১৩৯-১৪১
১০০ সুরা বাকারা: ২১৪
১০১ সুরা সাফফাত: ১৭১-১৭৩
১০২ সুরা মুজাদালা: ২১

খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. তখন দারুণ বিচক্ষণতার সাথে পরিচালনা করছেন খেলাফতের মসনদ। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও ইসলামকে বিজয় করার লক্ষ্যে খলিফাতুল মুসলিমিন নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করতে লাগলেন। তৎকালীন পৃথিবীর দুই পরাশক্তি হলো পারস্য ও রোম। যারা দুনিয়াকে শাসন করছিল প্রবল প্রতাপে। খলিফা চিন্তা করলেন, পারস্য ও রোম সাম্রাজ্য অন্তর্গত বিভিন্ন শহরে সাহাবায়ে কেরামকে প্রেরণ করবেন। তারা প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেবেন, যদি তারা ইসলামের দাওয়াত কবুল না করে তাহলে ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করতে বলবেন। যদি তাও না করে তাহলে তাদের সাথে مسلمانوں کا ফায়সালা হবে তরবারির। এটিই ইসলামের নীতি। ইসলাম প্রথমেই কাউকে আঘাত করে না। প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হবে। বলা হবে ইসলাম গ্রহণ করতে। যদি তারা ইসলাম গ্রহণ না করে তাহলে বলা হবে مسلمانوں کا বশ্যতা স্বীকার করতে। ইসলামী সাম্রাজ্যে কর ও জিযিয়া প্রদান করতে। যদি কোনোটিই না মেনে নেয় তাহলে তখন তাদের সাথে লড়াই হবে।
খলিফা হযরত আবু বকর রা. ইসলামের ইতিহাসের অকুতভয় সেনানায়ক সাহাবি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে পারস্য অভিমুখে প্রেরণ করেন। সাহাবায়ে কেরাম ও مسلمانوں کا একটি বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ রওনা হলেন পারস্য অভিমুখে। খলিফাতুল মুসলিমিন এখানে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্বাচন করেছেন। কারণ তার সাহসিকতা ও বীরত্ব ছিল প্রশংসনীয়। রণাঙ্গনে শত্রুপক্ষকে তিনি নাস্তানাবুদ করেন। ক্ষতবিক্ষত করেন। শত্রুপক্ষের ব্যুহ ভেদ করে তিনি পৌঁছে যান অভীষ্ট লক্ষ্যে। যুদ্ধের ময়দানে তিনি হন বিজয়ী। তার যুদ্ধ কৌশল প্রখর। ইয়ামামার প্রান্তরে তার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী শত্রুপক্ষকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেছে। হযরত আবু বকর রা. তাই শক্তিশালী পারসিকদের বিরুদ্ধে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কেই নির্বাচিত করেছেন সেনাপতি হিসেবে।
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ তার বাহিনী নিয়ে ইরাকে পৌঁছেন। সেখানে গিয়ে তিনি শাসকদের নিকট ইসলামের দাওয়াতসম্বলিত পত্র প্রেরণ করেন। তাতে লেখা ছিল,
مـن صـلـى صـلاتـنـا، واسـتـقـبـل قـبـلـتـنـا، وأكـل ذبـيـحـتـنـا فـلـه مـا لـنـا، وعـلـيـه مـا عـلـيـنـا، وإلا فـإنـي أتـيـتـكـم بـقـوم يـحـبـون الـمـوت كـمـا تـحـبـون أنـتـم الـحـيـاة، ويـرغـبـون فـي الآخـرة كـمـا تـرغـبـون أنـتـم فـي الـدنـيـا
'যারা নামাজ আদায় করে, আমাদের কেবলাকে কেবলা বলে স্বীকার করে এবং আমাদের জবাইকৃত পশু খায় তারা আমাদের জিম্মায়। তাদের কোনো ক্ষতি করা হবে না। এছাড়া আর যারা রয়েছে তারা শোনে রাখো! আমরা আসছি তোমাদের নিকট। তোমাদের নিকট জীবন যেমন প্রিয় আমাদের নিকট মৃত্যু তেমনই প্রিয়। তোমাদের নিকট দুনিয়া যেমন প্রিয় আমাদের নিকট আখেরাত তেমনই প্রিয়।'
মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর চিঠির সারমর্ম হলো, যারা মুসলমান এবং ইসলাম গ্রহণ করেছে। যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করে নেবে তাদের জীবন ও মাল আমাদের নিকট নিরাপদ। তাদের আমরা কিছুই করব না। আর যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করবে না তাদের সাথে আমাদের সমাধান হবে তরবারির মাধ্যমে। এ চিঠির মাধ্যমে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. পারসিকদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন। এবং দাওয়াত গ্রহণ না করলে তাদের পরিণতি কী হবে সেদিকেও তিনি স্পষ্ট ভাষায় ইঙ্গিত করেছেন।
ইরাকের বেশ কয়েকটি অঞ্চল হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. তার নিপুণ সাহসিকতা ও অসাধারণ বীরত্বে জয় করেন। বিজিত সেসব অঞ্চলের মানুষজন ইসলাম গ্রহণ করে। মুসলমানগণ তখন যেদিকেই গিয়েছেন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের বিজয় দান করেছেন। কেননা, مسلمانوں کا তিনি বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আজ পৃথিবীর দিকে দিকে মুসলমান লাঞ্ছিত ও অপদস্থ। দেশে দেশে তারা মার খাচ্ছে কাফের মুশরিকদের হাতে। নারী ও শিশুদের আর্তনাদে আজ মুসলিম দেশের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। চতুর্দিকেই আজ मुसलमानों کا অধঃপতন। যে আল্লাহ مسلمانوں کا অতীতে বিজয় দান করেছেন তিনি আজও আছেন। আজও রয়েছে তার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু মুসলমানরা নেই সেই পূর্বের মুসলমান। তাদের ঈমানের শক্তি নিস্তেজ হয়ে গেছে। তাদের অন্তরের আলো নিভে গেছে। তাদের সততা ও চরিত্র হারিয়ে গেছে। হ্যাঁ, আজও বিজয় আসবে مسلمانوں کا। যদি তারা পূর্বের সে ঈমান লাভ করতে পারে। যদি তারা সাহাবায়ে কেরামের মতো উত্তম চরিত্র ধারণ করতে পারে। যদি তাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বিদ্যমান থাকে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَعْدَ اللَّهِ لا يُخْلِفُ اللَّهُ وَعْدَهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ
'আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর আল্লাহ তার প্রতিশ্রুতির বিপরীত করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।'⁹⁷
অতঃপর খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্দেশ দিলেন শাম অভিমুখে অভিযান পরিচালনা করার জন্য। শাম তখন অত্যন্ত শক্তিশালী শহর। দুর্ভেদ্য তাদের দূর্গ। শাম বিজয় করা তাই খুব সহজ কথা নয়। খলিফা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে শামে অভিযানের জন্য উপযুক্ত মনে করলেন। কারণ, মুসলিম বাহিনীর অপরাজেয় সেনাপতি তিনি। সেনাপতি হিসেবে তার দক্ষতা সকলের চেয়ে অগ্রগণ্য। যুদ্ধের ময়দানে তার দারুণ বিচক্ষণতা مسلمانوں کا বিজয়কে ত্বরান্বিত করে। সুতরাং অভেদ্য নগরী শাম বিজয় করার জন্য খালিদই অধিকতর উপযুক্ত।
খলিফার নির্দেশে তিনি হযরত মুসান্না রা.-কে ইরাকের বিজিত অঞ্চলসমূহের গভর্নর নিযুক্ত করে শামের দিকে রওনা হলেন। অল্প সময়ে তিনি পৌঁছে যান শামে। শামে পৌঁছে তিনি মুসলিম বাহিনীর উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন। তাদের তিনি শাহাদতের ওপর উদ্বুদ্ধ করেন। জিহাদের ফজিলত বর্ণনা করে তিনি মুসলিম বাহিনীর মনোবল দ্বিগুণ করার চেষ্টা করেন। তাদের অধিকতর আত্মনিবেদিতরূপে প্রস্তুত করেন। তার জাগরণী ভাষণে মুসলিম বাহিনী নতুন প্রেরণায় জেগে ওঠে। তাদের হৃদয় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের ধমনীতে বয়ে যায় শাহাদতের রক্ত। আল্লাহর রাহে জীবন উৎসর্গের জন্য তারা সর্বাঙ্গীন প্রস্তুতি গ্রহণ করে। مسلمانوں کا সৈন্যসংখ্যা তেমন অধিক ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী মুসলিম বাহিনী যুদ্ধের আগের রাতে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন। দীর্ঘ সময় তারা নামাজ আদায় করেন। কুরআন তিলাওয়াত করেন। কাকুতি-মিনতি করে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। কেননা, مسلمانوں کا সাহায্য তো একমাত্র তার পক্ষ থেকেই আসে। মুসলমান কখনো নিজেদের সৈন্য ও অস্ত্রবলের ওপর ভরসা করে না। তাদের সাহায্য আসে আসমান থেকে। मुसलमानों का বিজয় লেখা হয় আরশে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ
'যখন তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছিলে এবং তোমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি তোমাদের এক হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে সাহায্য করব যারা একজনের পেছনে আরেকজন ক্রমান্বয়ে আসতে থাকবে।'⁹⁸
আজকের শত্রুদের নিকট রয়েছে বড় বড় কামান এবং শক্তিশালী বহু অস্ত্র। তাদের নিকট রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। مسلمانوں کا নিকট এসবের কিছু নেই। কিন্তু مسلمانوں کا রয়েছে আল্লাহর সাহায্য। রয়েছে প্রভুর নিযুক্ত অসংখ্য ফেরেশতা। তারা আল্লাহর নির্দেশে আসমান থেকে জমিনে নেমে আসবে মুমিনদের সাহায্য করতে। শুধু প্রয়োজন مسلمانوں کا ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি করা। আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্য করা। আল্লাহকে ভয় করা। তাহলে কে আছে मुसलमानों کا পরাজিত করার। কে আছে مسلمانوں কা যুদ্ধক্ষেত্রে পরাস্ত করবে? আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা সর্বক্ষেত্রে مسلمانوں কা সান্ত্বনার বাণী শুনিয়েছেন। मुसलमानों کا মানসিক অবস্থাকে সুদৃঢ় রাখার জন্য আল্লাহ তাদের দিয়েছেন অফুরন্ত সুসংবাদ। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتْخِذَ مِنكُمْ شُهَدَاءَ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ وَلِيُمَحِّصَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَافِرِينَ
'তোমরা শত্রুর সামনে দুর্বল কিংবা বিষণ্ণ হয়ো না। প্রকৃত ঈমানদার হলে তোমরাই বিজয় হবে। যদি তোমাদের কোনো আঘাত আসে তাহলে মনে করো অনুরূপ আঘাত তো অন্যদেরও লেগেছে। আর এই দিনগুলো আমি মানুষের মধ্যে অদলবদল করি; যাতে আল্লাহ মুমিনদের যাচাই করতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহিদদের গ্রহণ করতে পারেন। আর আল্লাহ জালেমদের ভালবাসেন না। আর এ কারণে আল্লাহ ঈমানদারদেরকে পাক-সাফ করতে চান এবং কাফেরদেরকে ধবংস করে দিতে চান।' ⁹⁹
আন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرُ اللَّهِ قَرِيبٌ
'তোমরা কি মনে করো যে, জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ তোমাদের পূর্বে যারা চলে গেছে তাদের মতো অবস্থা তোমাদের এখনো আসেনি। তারা অভাব-অনটন ও দুঃখ- কষ্টের কবলে পড়েছিল এবং ভয়ে এমনভাবে কম্পিত হয়েছিল যে, রাসুল ও তার সঙ্গী ঈমানদারগণ বলেছিল,
কখন আল্লাহর সাহায্য আসবে? জেনে রেখো! আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী। '¹⁰⁰
অতঃপর সকাল হলো। রাতভর ইবাদত ও আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে মুসলিম বাহিনী সাহায্য প্রার্থনা করেন। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মুসলিম বাহিনীর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। সকালে উভয় বাহিনী মুখোমুখি হলো। আল্লাহু আকবার! সময় বেশি দূর গড়ায়নি। বিজয় मुसलमानों کا চুম্বন করেছে। কে ভেবেছিল এমন একটি ছোট্ট দল শাম বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে পেরে ওঠবে? কেউ ভাবেনি। শত্রুপক্ষ কল্পনাও করতে পারেনি মদিনার মুসলিম বাহিনী তাদের পরাজিত করবে। কিন্তু আল্লাহ مسلمانوں کا বিজয় দান করলেন। আর প্রকৃতার্থে তিনি তো مسلمانوں کا বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেনই। যুদ্ধ সমাপ্ত হলো। বিজয়ী বেশে মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. শত্রুপক্ষের সেনাপতির তাবুতে নামাজ আদায় করলেন। ইসলামের আরো একটি বিজয় অর্জিত হলো হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এর নেতৃত্ব ও অপরিসীম বীরত্বে। ইরশাদ হয়েছে,
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنصُورُونَ وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ
'আমার প্রেরিত বান্দাদের জন্য আমার কথা আগেই ঠিক হয়ে গেছে। তারা অবশ্যই সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। এবং আমার সৈনিকেরাই বিজয়ী হবে।' ¹⁰¹
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَتَبَ اللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ
আল্লাহ লিখে দিয়েছেন, আমি ও আমার রাসুলগণ অবশ্যই বিজয়ী হবো। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিধর ও পরাক্রমশালী। '¹⁰²

টিকাঃ
৯৭ সুরা রুম: ৬
৯৮ সুরা আনফাল: ৯
৯৯ সুরা আলে ইমরান: ১৩৯-১৪১
১০০ সুরা বাকারা: ২১৪
১০১ সুরা সাফফাত: ১৭১-১৭৩
১০২ সুরা মুজাদালা: ২১

খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. তখন দারুণ বিচক্ষণতার সাথে পরিচালনা করছেন খেলাফতের মসনদ। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও ইসলামকে বিজয় করার লক্ষ্যে খলিফাতুল মুসলিমিন নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করতে লাগলেন। তৎকালীন পৃথিবীর দুই পরাশক্তি হলো পারস্য ও রোম। যারা দুনিয়াকে শাসন করছিল প্রবল প্রতাপে। খলিফা চিন্তা করলেন, পারস্য ও রোম সাম্রাজ্য অন্তর্গত বিভিন্ন শহরে সাহাবায়ে কেরামকে প্রেরণ করবেন। তারা প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেবেন, যদি তারা ইসলামের দাওয়াত কবুল না করে তাহলে ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করতে বলবেন। যদি তাও না করে তাহলে তাদের সাথে مسلمانوں کا ফায়সালা হবে তরবারির। এটিই ইসলামের নীতি। ইসলাম প্রথমেই কাউকে আঘাত করে না। প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হবে। বলা হবে ইসলাম গ্রহণ করতে। যদি তারা ইসলাম গ্রহণ না করে তাহলে বলা হবে مسلمانوں کا বশ্যতা স্বীকার করতে। ইসলামী সাম্রাজ্যে কর ও জিযিয়া প্রদান করতে। যদি কোনোটিই না মেনে নেয় তাহলে তখন তাদের সাথে লড়াই হবে।
খলিফা হযরত আবু বকর রা. ইসলামের ইতিহাসের অকুতভয় সেনানায়ক সাহাবি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে পারস্য অভিমুখে প্রেরণ করেন। সাহাবায়ে কেরাম ও مسلمانوں کا একটি বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ রওনা হলেন পারস্য অভিমুখে। খলিফাতুল মুসলিমিন এখানে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্বাচন করেছেন। কারণ তার সাহসিকতা ও বীরত্ব ছিল প্রশংসনীয়। রণাঙ্গনে শত্রুপক্ষকে তিনি নাস্তানাবুদ করেন। ক্ষতবিক্ষত করেন। শত্রুপক্ষের ব্যুহ ভেদ করে তিনি পৌঁছে যান অভীষ্ট লক্ষ্যে। যুদ্ধের ময়দানে তিনি হন বিজয়ী। তার যুদ্ধ কৌশল প্রখর। ইয়ামামার প্রান্তরে তার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী শত্রুপক্ষকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেছে। হযরত আবু বকর রা. তাই শক্তিশালী পারসিকদের বিরুদ্ধে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কেই নির্বাচিত করেছেন সেনাপতি হিসেবে।
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ তার বাহিনী নিয়ে ইরাকে পৌঁছেন। সেখানে গিয়ে তিনি শাসকদের নিকট ইসলামের দাওয়াতসম্বলিত পত্র প্রেরণ করেন। তাতে লেখা ছিল,
مـن صـلـى صـلاتـنـا، واسـتـقـبـل قـبـلـتـنـا، وأكـل ذبـيـحـتـنـا فـلـه مـا لـنـا، وعـلـيـه مـا عـلـيـنـا، وإلا فـإنـي أتـيـتـكـم بـقـوم يـحـبـون الـمـوت كـمـا تـحـبـون أنـتـم الـحـيـاة، ويـرغـبـون فـي الآخـرة كـمـا تـرغـبـون أنـتـم فـي الـدنـيـا
'যারা নামাজ আদায় করে, আমাদের কেবলাকে কেবলা বলে স্বীকার করে এবং আমাদের জবাইকৃত পশু খায় তারা আমাদের জিম্মায়। তাদের কোনো ক্ষতি করা হবে না। এছাড়া আর যারা রয়েছে তারা শোনে রাখো! আমরা আসছি তোমাদের নিকট। তোমাদের নিকট জীবন যেমন প্রিয় আমাদের নিকট মৃত্যু তেমনই প্রিয়। তোমাদের নিকট দুনিয়া যেমন প্রিয় আমাদের নিকট আখেরাত তেমনই প্রিয়।'
মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর চিঠির সারমর্ম হলো, যারা মুসলমান এবং ইসলাম গ্রহণ করেছে। যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করে নেবে তাদের জীবন ও মাল আমাদের নিকট নিরাপদ। তাদের আমরা কিছুই করব না। আর যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করবে না তাদের সাথে আমাদের সমাধান হবে তরবারির মাধ্যমে। এ চিঠির মাধ্যমে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. পারসিকদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন। এবং দাওয়াত গ্রহণ না করলে তাদের পরিণতি কী হবে সেদিকেও তিনি স্পষ্ট ভাষায় ইঙ্গিত করেছেন।
ইরাকের বেশ কয়েকটি অঞ্চল হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. তার নিপুণ সাহসিকতা ও অসাধারণ বীরত্বে জয় করেন। বিজিত সেসব অঞ্চলের মানুষজন ইসলাম গ্রহণ করে। মুসলমানগণ তখন যেদিকেই গিয়েছেন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের বিজয় দান করেছেন। কেননা, مسلمانوں کا তিনি বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আজ পৃথিবীর দিকে দিকে মুসলমান লাঞ্ছিত ও অপদস্থ। দেশে দেশে তারা মার খাচ্ছে কাফের মুশরিকদের হাতে। নারী ও শিশুদের আর্তনাদে আজ মুসলিম দেশের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। চতুর্দিকেই আজ मुसलमानों کا অধঃপতন। যে আল্লাহ مسلمانوں کا অতীতে বিজয় দান করেছেন তিনি আজও আছেন। আজও রয়েছে তার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু মুসলমানরা নেই সেই পূর্বের মুসলমান। তাদের ঈমানের শক্তি নিস্তেজ হয়ে গেছে। তাদের অন্তরের আলো নিভে গেছে। তাদের সততা ও চরিত্র হারিয়ে গেছে। হ্যাঁ, আজও বিজয় আসবে مسلمانوں کا। যদি তারা পূর্বের সে ঈমান লাভ করতে পারে। যদি তারা সাহাবায়ে কেরামের মতো উত্তম চরিত্র ধারণ করতে পারে। যদি তাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বিদ্যমান থাকে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَعْدَ اللَّهِ لا يُخْلِفُ اللَّهُ وَعْدَهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ
'আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর আল্লাহ তার প্রতিশ্রুতির বিপরীত করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।'⁹⁷
অতঃপর খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্দেশ দিলেন শাম অভিমুখে অভিযান পরিচালনা করার জন্য। শাম তখন অত্যন্ত শক্তিশালী শহর। দুর্ভেদ্য তাদের দূর্গ। শাম বিজয় করা তাই খুব সহজ কথা নয়। খলিফা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে শামে অভিযানের জন্য উপযুক্ত মনে করলেন। কারণ, মুসলিম বাহিনীর অপরাজেয় সেনাপতি তিনি। সেনাপতি হিসেবে তার দক্ষতা সকলের চেয়ে অগ্রগণ্য। যুদ্ধের ময়দানে তার দারুণ বিচক্ষণতা مسلمانوں کا বিজয়কে ত্বরান্বিত করে। সুতরাং অভেদ্য নগরী শাম বিজয় করার জন্য খালিদই অধিকতর উপযুক্ত।
খলিফার নির্দেশে তিনি হযরত মুসান্না রা.-কে ইরাকের বিজিত অঞ্চলসমূহের গভর্নর নিযুক্ত করে শামের দিকে রওনা হলেন। অল্প সময়ে তিনি পৌঁছে যান শামে। শামে পৌঁছে তিনি মুসলিম বাহিনীর উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন। তাদের তিনি শাহাদতের ওপর উদ্বুদ্ধ করেন। জিহাদের ফজিলত বর্ণনা করে তিনি মুসলিম বাহিনীর মনোবল দ্বিগুণ করার চেষ্টা করেন। তাদের অধিকতর আত্মনিবেদিতরূপে প্রস্তুত করেন। তার জাগরণী ভাষণে মুসলিম বাহিনী নতুন প্রেরণায় জেগে ওঠে। তাদের হৃদয় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের ধমনীতে বয়ে যায় শাহাদতের রক্ত। আল্লাহর রাহে জীবন উৎসর্গের জন্য তারা সর্বাঙ্গীন প্রস্তুতি গ্রহণ করে। مسلمانوں کا সৈন্যসংখ্যা তেমন অধিক ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী মুসলিম বাহিনী যুদ্ধের আগের রাতে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন। দীর্ঘ সময় তারা নামাজ আদায় করেন। কুরআন তিলাওয়াত করেন। কাকুতি-মিনতি করে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। কেননা, مسلمانوں کا সাহায্য তো একমাত্র তার পক্ষ থেকেই আসে। মুসলমান কখনো নিজেদের সৈন্য ও অস্ত্রবলের ওপর ভরসা করে না। তাদের সাহায্য আসে আসমান থেকে। मुसलमानों का বিজয় লেখা হয় আরশে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ
'যখন তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছিলে এবং তোমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি তোমাদের এক হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে সাহায্য করব যারা একজনের পেছনে আরেকজন ক্রমান্বয়ে আসতে থাকবে।'⁹⁸
আজকের শত্রুদের নিকট রয়েছে বড় বড় কামান এবং শক্তিশালী বহু অস্ত্র। তাদের নিকট রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। مسلمانوں کا নিকট এসবের কিছু নেই। কিন্তু مسلمانوں کا রয়েছে আল্লাহর সাহায্য। রয়েছে প্রভুর নিযুক্ত অসংখ্য ফেরেশতা। তারা আল্লাহর নির্দেশে আসমান থেকে জমিনে নেমে আসবে মুমিনদের সাহায্য করতে। শুধু প্রয়োজন مسلمانوں کا ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি করা। আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্য করা। আল্লাহকে ভয় করা। তাহলে কে আছে मुसलमानों کا পরাজিত করার। কে আছে مسلمانوں কা যুদ্ধক্ষেত্রে পরাস্ত করবে? আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা সর্বক্ষেত্রে مسلمانوں কা সান্ত্বনার বাণী শুনিয়েছেন। मुसलमानों کا মানসিক অবস্থাকে সুদৃঢ় রাখার জন্য আল্লাহ তাদের দিয়েছেন অফুরন্ত সুসংবাদ। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتْخِذَ مِنكُمْ شُهَدَاءَ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ وَلِيُمَحِّصَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَافِرِينَ
'তোমরা শত্রুর সামনে দুর্বল কিংবা বিষণ্ণ হয়ো না। প্রকৃত ঈমানদার হলে তোমরাই বিজয় হবে। যদি তোমাদের কোনো আঘাত আসে তাহলে মনে করো অনুরূপ আঘাত তো অন্যদেরও লেগেছে। আর এই দিনগুলো আমি মানুষের মধ্যে অদলবদল করি; যাতে আল্লাহ মুমিনদের যাচাই করতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহিদদের গ্রহণ করতে পারেন। আর আল্লাহ জালেমদের ভালবাসেন না। আর এ কারণে আল্লাহ ঈমানদারদেরকে পাক-সাফ করতে চান এবং কাফেরদেরকে ধবংস করে দিতে চান।' ⁹⁹
আন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرُ اللَّهِ قَرِيبٌ
'তোমরা কি মনে করো যে, জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ তোমাদের পূর্বে যারা চলে গেছে তাদের মতো অবস্থা তোমাদের এখনো আসেনি। তারা অভাব-অনটন ও দুঃখ- কষ্টের কবলে পড়েছিল এবং ভয়ে এমনভাবে কম্পিত হয়েছিল যে, রাসুল ও তার সঙ্গী ঈমানদারগণ বলেছিল,
কখন আল্লাহর সাহায্য আসবে? জেনে রেখো! আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী। '¹⁰⁰
অতঃপর সকাল হলো। রাতভর ইবাদত ও আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে মুসলিম বাহিনী সাহায্য প্রার্থনা করেন। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মুসলিম বাহিনীর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। সকালে উভয় বাহিনী মুখোমুখি হলো। আল্লাহু আকবার! সময় বেশি দূর গড়ায়নি। বিজয় मुसलमानों کا চুম্বন করেছে। কে ভেবেছিল এমন একটি ছোট্ট দল শাম বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে পেরে ওঠবে? কেউ ভাবেনি। শত্রুপক্ষ কল্পনাও করতে পারেনি মদিনার মুসলিম বাহিনী তাদের পরাজিত করবে। কিন্তু আল্লাহ مسلمانوں کا বিজয় দান করলেন। আর প্রকৃতার্থে তিনি তো مسلمانوں کا বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেনই। যুদ্ধ সমাপ্ত হলো। বিজয়ী বেশে মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. শত্রুপক্ষের সেনাপতির তাবুতে নামাজ আদায় করলেন। ইসলামের আরো একটি বিজয় অর্জিত হলো হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এর নেতৃত্ব ও অপরিসীম বীরত্বে। ইরশাদ হয়েছে,
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنصُورُونَ وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ
'আমার প্রেরিত বান্দাদের জন্য আমার কথা আগেই ঠিক হয়ে গেছে। তারা অবশ্যই সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। এবং আমার সৈনিকেরাই বিজয়ী হবে।' ¹⁰¹
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَتَبَ اللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ
আল্লাহ লিখে দিয়েছেন, আমি ও আমার রাসুলগণ অবশ্যই বিজয়ী হবো। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিধর ও পরাক্রমশালী। '¹⁰²

টিকাঃ
৯৭ সুরা রুম: ৬
৯৮ সুরা আনফাল: ৯
৯৯ সুরা আলে ইমরান: ১৩৯-১৪১
১০০ সুরা বাকারা: ২১৪
১০১ সুরা সাফফাত: ১৭১-১৭৩
১০২ সুরা মুজাদালা: ২১

📘 হে যুবক! ফিরে এসো রবের দিকে > 📄 সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির কারণ

📄 সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির কারণ


হযরত আবু বকর রা.-এর ইন্তেকালের পর খলিফাতুল মুসলিমিন নির্বাচিত হলেন হযরত উমর রা.। খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। তার স্থলে সেনাপতি নিযুক্ত করেন হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.-কে। হযরত উমর রা. খেলাফতের মসনদে বসে কেন অপরাজেয় সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলেন? অথচ তিনি প্রতিটি যুদ্ধে অসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে मुसलमानों کا একের-পর-এক বিজয় উপহার দিয়েছেন। কে আছে এমন যে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর তরবারিকে ভেঙে দেবে? আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে সাইফুল্লাহ (আল্লাহর তরবারি) উপাধি দিয়েছেন।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ হযরত উমর রা. নিজেই বর্ণনা করেছেন। আল্লাহু আকবার! কী ছিল সে কথা, যা হযরত উমর রা. বলেছেন?
مَا عَزَلْتُ خَالِداً عَنْ سُخْطَةِ وَلَا عَنْ خِيَانَةٍ، وَلَكِنِّي رَأَيْتُ النَّاسَ قَدْ فُتِنُوا بِـ خَالِدٍ، فَأَرَدْتُ أَنْ يَعْلَمَ النَّاسُ أَنَّ النَّصْرَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الصَّانِعِ وَلَيْسَ مِنْ عِنْدِ خَالِدٍ
'আমি ক্রোধ কিংবা খেয়ানতের বশবর্তী হয়ে খালিদকে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিইনি। কিন্তু আমি দেখেছি, লোকেরা খালিদের ব্যাপারে ফিতনায় পতিত হচ্ছে। আমি চেয়েছি লোকদের এ কথা জানাতে যে, مسلمانوں کا বিজয় আসে একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, খালিদের পক্ষ থেকে নয়।'
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন এমন এক বীর যে, লোকেরা মনে করতে লাগল, যুদ্ধে مسلمانوں کا বিজয় অর্জিত হয় খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর শক্তি ও নিপুণ বুদ্ধিতে। লোকেদের মনে এ কথা বদ্ধমূল হয়ে গেল, হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদই مسلمانوں کا বিজয়ের কারণ। অথচ مسلمانوں کا বিজয় কোনো শক্তি আর সৈন্যবলে নয়, مسلمانوں کا বিজয় আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাদের এ ধারণার মূলোৎপাটন করার লক্ষ্যে হযরত উমর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
হে মুসলিম যুব ও তরুণ প্রজন্ম! হে ইসলামের প্রাণশক্তি তরুণ প্রজন্ম! তোমরা হবে খালিদের অনুসারী। হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. হবেন তোমাদের নেতা। তোমরা পদাঙ্ক অনুসরণ করবে তাদের যারা উম্মাহর বিজয়ের পথ রচনা করে গেছেন। তোমাদের আইকন হবে তারা যাঁদের রক্তে সিঞ্চিত হয়েছে ইসলাম নামক বৃক্ষ। মুসলিম যুবকদের আইকন কোনো ফাসেক ফাজের নায়ক ও প্লেয়াররা নয়, মুসলিম তরুণদের আইকন হবেন সাহাবায়ে কেরাম। মুসলিম তরুণ প্রজন্ম অনুসরণ করবে খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ও তার সঙ্গীদের। হে তরুণ! হে যুবক! তোমাদের হতে হবে উম্মাহর উমর, খালিদ, আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.দের মত। তোমাদের হতে হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। ইসলামের বিজয় পথ তৈরি করতে হবে তোমাদের। এ জাতির কান্ডারি তোমরাই। আল্লাহর জমিনের আল্লাহর কালিমা বুলন্দি করার জন্য তোমাদের এগিয়ে আসতে হবে সময়ের খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে।
আজ দিকে দিকে তাকিয়ে দেখো মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে। মুসলিম নারী-শিশুদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পৃথিবীর আকাশ। উত্তাল সমুদ্রের তরঙ্গে ভাসছে মুসলমানের লাশ। আজ জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে मुसलमानों کا। পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে मुसलमानों کا রক্তে ভেসে যাচ্ছে মানচিত্র। কুফরি শক্তির হাত থেকে তাদের রক্ষা করার ঈমানি দায়িত্বে তোমাকেই এগিয়ে আসতে হবে। আল্লাহর কসম! আজ মুসলমানরা তাকিয়ে আছে তোমাদের পানে। তোমাদের ডাকছে আহাজারি করে। তোমাদের এগিয়ে আসার জন্য তারা প্রার্থনা করছে আল্লাহর দরবারে। হে উম্মাহর তরুণ প্রজন্ম! হে উম্মাহর তরুণ শক্তি! হে উম্মাহর সৈনিক! তোমরা এগিয়ে আসো জমানার খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে। জুলুম ও নিপীড়ন থেকে তাদের মুক্ত করো। পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা করো আল্লাহর দ্বীন। যে দ্বীন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমানতস্বরূপ রেখে গেছেন তোমাদের নিকট।
প্রার্থনা করি, আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা যেন আমাদের হৃদয়কে জীবন্ত করে দেন। এবং আমাদের সৎপথে পরিচালিত করেন। ভ্রষ্টতা ও গোমরাহি থেকে হেফাজত করেন। মুসলিম উম্মাহর তরুণ প্রজন্মের হৃদয়কে জাগ্রত করেন। তাদের শক্তি, সাহসকে ইসলামের বিজয়ের জন্য কবুল করে নেন। আমিন।

হযরত আবু বকর রা.-এর ইন্তেকালের পর খলিফাতুল মুসলিমিন নির্বাচিত হলেন হযরত উমর রা.। খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। তার স্থলে সেনাপতি নিযুক্ত করেন হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.-কে। হযরত উমর রা. খেলাফতের মসনদে বসে কেন অপরাজেয় সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলেন? অথচ তিনি প্রতিটি যুদ্ধে অসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে मुसलमानों کا একের-পর-এক বিজয় উপহার দিয়েছেন। কে আছে এমন যে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর তরবারিকে ভেঙে দেবে? আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে সাইফুল্লাহ (আল্লাহর তরবারি) উপাধি দিয়েছেন।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ হযরত উমর রা. নিজেই বর্ণনা করেছেন। আল্লাহু আকবার! কী ছিল সে কথা, যা হযরত উমর রা. বলেছেন?
مَا عَزَلْتُ خَالِداً عَنْ سُخْطَةِ وَلَا عَنْ خِيَانَةٍ، وَلَكِنِّي رَأَيْتُ النَّاسَ قَدْ فُتِنُوا بِـ خَالِدٍ، فَأَرَدْتُ أَنْ يَعْلَمَ النَّاسُ أَنَّ النَّصْرَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الصَّانِعِ وَلَيْسَ مِنْ عِنْدِ خَالِدٍ
'আমি ক্রোধ কিংবা খেয়ানতের বশবর্তী হয়ে খালিদকে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিইনি। কিন্তু আমি দেখেছি, লোকেরা খালিদের ব্যাপারে ফিতনায় পতিত হচ্ছে। আমি চেয়েছি লোকদের এ কথা জানাতে যে, مسلمانوں کا বিজয় আসে একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, খালিদের পক্ষ থেকে নয়।'
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন এমন এক বীর যে, লোকেরা মনে করতে লাগল, যুদ্ধে مسلمانوں کا বিজয় অর্জিত হয় খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর শক্তি ও নিপুণ বুদ্ধিতে। লোকেদের মনে এ কথা বদ্ধমূল হয়ে গেল, হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদই مسلمانوں کا বিজয়ের কারণ। অথচ مسلمانوں کا বিজয় কোনো শক্তি আর সৈন্যবলে নয়, مسلمانوں کا বিজয় আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাদের এ ধারণার মূলোৎপাটন করার লক্ষ্যে হযরত উমর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
হে মুসলিম যুব ও তরুণ প্রজন্ম! হে ইসলামের প্রাণশক্তি তরুণ প্রজন্ম! তোমরা হবে খালিদের অনুসারী। হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. হবেন তোমাদের নেতা। তোমরা পদাঙ্ক অনুসরণ করবে তাদের যারা উম্মাহর বিজয়ের পথ রচনা করে গেছেন। তোমাদের আইকন হবে তারা যাঁদের রক্তে সিঞ্চিত হয়েছে ইসলাম নামক বৃক্ষ। মুসলিম যুবকদের আইকন কোনো ফাসেক ফাজের নায়ক ও প্লেয়াররা নয়, মুসলিম তরুণদের আইকন হবেন সাহাবায়ে কেরাম। মুসলিম তরুণ প্রজন্ম অনুসরণ করবে খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ও তার সঙ্গীদের। হে তরুণ! হে যুবক! তোমাদের হতে হবে উম্মাহর উমর, খালিদ, আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.দের মত। তোমাদের হতে হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। ইসলামের বিজয় পথ তৈরি করতে হবে তোমাদের। এ জাতির কান্ডারি তোমরাই। আল্লাহর জমিনের আল্লাহর কালিমা বুলন্দি করার জন্য তোমাদের এগিয়ে আসতে হবে সময়ের খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে।
আজ দিকে দিকে তাকিয়ে দেখো মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে। মুসলিম নারী-শিশুদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পৃথিবীর আকাশ। উত্তাল সমুদ্রের তরঙ্গে ভাসছে মুসলমানের লাশ। আজ জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে मुसलमानों کا। পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে मुसलमानों کا রক্তে ভেসে যাচ্ছে মানচিত্র। কুফরি শক্তির হাত থেকে তাদের রক্ষা করার ঈমানি দায়িত্বে তোমাকেই এগিয়ে আসতে হবে। আল্লাহর কসম! আজ মুসলমানরা তাকিয়ে আছে তোমাদের পানে। তোমাদের ডাকছে আহাজারি করে। তোমাদের এগিয়ে আসার জন্য তারা প্রার্থনা করছে আল্লাহর দরবারে। হে উম্মাহর তরুণ প্রজন্ম! হে উম্মাহর তরুণ শক্তি! হে উম্মাহর সৈনিক! তোমরা এগিয়ে আসো জমানার খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে। জুলুম ও নিপীড়ন থেকে তাদের মুক্ত করো। পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা করো আল্লাহর দ্বীন। যে দ্বীন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমানতস্বরূপ রেখে গেছেন তোমাদের নিকট।
প্রার্থনা করি, আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা যেন আমাদের হৃদয়কে জীবন্ত করে দেন। এবং আমাদের সৎপথে পরিচালিত করেন। ভ্রষ্টতা ও গোমরাহি থেকে হেফাজত করেন। মুসলিম উম্মাহর তরুণ প্রজন্মের হৃদয়কে জাগ্রত করেন। তাদের শক্তি, সাহসকে ইসলামের বিজয়ের জন্য কবুল করে নেন। আমিন।

হযরত আবু বকর রা.-এর ইন্তেকালের পর খলিফাতুল মুসলিমিন নির্বাচিত হলেন হযরত উমর রা.। খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। তার স্থলে সেনাপতি নিযুক্ত করেন হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.-কে। হযরত উমর রা. খেলাফতের মসনদে বসে কেন অপরাজেয় সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলেন? অথচ তিনি প্রতিটি যুদ্ধে অসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে मुसलमानों کا একের-পর-এক বিজয় উপহার দিয়েছেন। কে আছে এমন যে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর তরবারিকে ভেঙে দেবে? আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে সাইফুল্লাহ (আল্লাহর তরবারি) উপাধি দিয়েছেন।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ হযরত উমর রা. নিজেই বর্ণনা করেছেন। আল্লাহু আকবার! কী ছিল সে কথা, যা হযরত উমর রা. বলেছেন?
مَا عَزَلْتُ خَالِداً عَنْ سُخْطَةِ وَلَا عَنْ خِيَانَةٍ، وَلَكِنِّي رَأَيْتُ النَّاسَ قَدْ فُتِنُوا بِـ خَالِدٍ، فَأَرَدْتُ أَنْ يَعْلَمَ النَّاسُ أَنَّ النَّصْرَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الصَّانِعِ وَلَيْسَ مِنْ عِنْدِ خَالِدٍ
'আমি ক্রোধ কিংবা খেয়ানতের বশবর্তী হয়ে খালিদকে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিইনি। কিন্তু আমি দেখেছি, লোকেরা খালিদের ব্যাপারে ফিতনায় পতিত হচ্ছে। আমি চেয়েছি লোকদের এ কথা জানাতে যে, مسلمانوں کا বিজয় আসে একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, খালিদের পক্ষ থেকে নয়।'
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন এমন এক বীর যে, লোকেরা মনে করতে লাগল, যুদ্ধে مسلمانوں کا বিজয় অর্জিত হয় খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর শক্তি ও নিপুণ বুদ্ধিতে। লোকেদের মনে এ কথা বদ্ধমূল হয়ে গেল, হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদই مسلمانوں کا বিজয়ের কারণ। অথচ مسلمانوں کا বিজয় কোনো শক্তি আর সৈন্যবলে নয়, مسلمانوں کا বিজয় আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাদের এ ধারণার মূলোৎপাটন করার লক্ষ্যে হযরত উমর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
হে মুসলিম যুব ও তরুণ প্রজন্ম! হে ইসলামের প্রাণশক্তি তরুণ প্রজন্ম! তোমরা হবে খালিদের অনুসারী। হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. হবেন তোমাদের নেতা। তোমরা পদাঙ্ক অনুসরণ করবে তাদের যারা উম্মাহর বিজয়ের পথ রচনা করে গেছেন। তোমাদের আইকন হবে তারা যাঁদের রক্তে সিঞ্চিত হয়েছে ইসলাম নামক বৃক্ষ। মুসলিম যুবকদের আইকন কোনো ফাসেক ফাজের নায়ক ও প্লেয়াররা নয়, মুসলিম তরুণদের আইকন হবেন সাহাবায়ে কেরাম। মুসলিম তরুণ প্রজন্ম অনুসরণ করবে খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ও তার সঙ্গীদের। হে তরুণ! হে যুবক! তোমাদের হতে হবে উম্মাহর উমর, খালিদ, আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.দের মত। তোমাদের হতে হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। ইসলামের বিজয় পথ তৈরি করতে হবে তোমাদের। এ জাতির কান্ডারি তোমরাই। আল্লাহর জমিনের আল্লাহর কালিমা বুলন্দি করার জন্য তোমাদের এগিয়ে আসতে হবে সময়ের খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে।
আজ দিকে দিকে তাকিয়ে দেখো মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে। মুসলিম নারী-শিশুদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পৃথিবীর আকাশ। উত্তাল সমুদ্রের তরঙ্গে ভাসছে মুসলমানের লাশ। আজ জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে मुसलमानों کا। পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে मुसलमानों کا রক্তে ভেসে যাচ্ছে মানচিত্র। কুফরি শক্তির হাত থেকে তাদের রক্ষা করার ঈমানি দায়িত্বে তোমাকেই এগিয়ে আসতে হবে। আল্লাহর কসম! আজ মুসলমানরা তাকিয়ে আছে তোমাদের পানে। তোমাদের ডাকছে আহাজারি করে। তোমাদের এগিয়ে আসার জন্য তারা প্রার্থনা করছে আল্লাহর দরবারে। হে উম্মাহর তরুণ প্রজন্ম! হে উম্মাহর তরুণ শক্তি! হে উম্মাহর সৈনিক! তোমরা এগিয়ে আসো জমানার খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে। জুলুম ও নিপীড়ন থেকে তাদের মুক্ত করো। পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা করো আল্লাহর দ্বীন। যে দ্বীন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমানতস্বরূপ রেখে গেছেন তোমাদের নিকট।
প্রার্থনা করি, আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা যেন আমাদের হৃদয়কে জীবন্ত করে দেন। এবং আমাদের সৎপথে পরিচালিত করেন। ভ্রষ্টতা ও গোমরাহি থেকে হেফাজত করেন। মুসলিম উম্মাহর তরুণ প্রজন্মের হৃদয়কে জাগ্রত করেন। তাদের শক্তি, সাহসকে ইসলামের বিজয়ের জন্য কবুল করে নেন। আমিন।

হযরত আবু বকর রা.-এর ইন্তেকালের পর খলিফাতুল মুসলিমিন নির্বাচিত হলেন হযরত উমর রা.। খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। তার স্থলে সেনাপতি নিযুক্ত করেন হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.-কে। হযরত উমর রা. খেলাফতের মসনদে বসে কেন অপরাজেয় সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলেন? অথচ তিনি প্রতিটি যুদ্ধে অসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে मुसलमानों کا একের-পর-এক বিজয় উপহার দিয়েছেন। কে আছে এমন যে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর তরবারিকে ভেঙে দেবে? আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে সাইফুল্লাহ (আল্লাহর তরবারি) উপাধি দিয়েছেন।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ হযরত উমর রা. নিজেই বর্ণনা করেছেন। আল্লাহু আকবার! কী ছিল সে কথা, যা হযরত উমর রা. বলেছেন?
مَا عَزَلْتُ خَالِداً عَنْ سُخْطَةِ وَلَا عَنْ خِيَانَةٍ، وَلَكِنِّي رَأَيْتُ النَّاسَ قَدْ فُتِنُوا بِـ خَالِدٍ، فَأَرَدْتُ أَنْ يَعْلَمَ النَّاسُ أَنَّ النَّصْرَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الصَّانِعِ وَلَيْسَ مِنْ عِنْدِ خَالِدٍ
'আমি ক্রোধ কিংবা খেয়ানতের বশবর্তী হয়ে খালিদকে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিইনি। কিন্তু আমি দেখেছি, লোকেরা খালিদের ব্যাপারে ফিতনায় পতিত হচ্ছে। আমি চেয়েছি লোকদের এ কথা জানাতে যে, مسلمانوں کا বিজয় আসে একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, খালিদের পক্ষ থেকে নয়।'
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন এমন এক বীর যে, লোকেরা মনে করতে লাগল, যুদ্ধে مسلمانوں کا বিজয় অর্জিত হয় খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর শক্তি ও নিপুণ বুদ্ধিতে। লোকেদের মনে এ কথা বদ্ধমূল হয়ে গেল, হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদই مسلمانوں کا বিজয়ের কারণ। অথচ مسلمانوں کا বিজয় কোনো শক্তি আর সৈন্যবলে নয়, مسلمانوں کا বিজয় আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাদের এ ধারণার মূলোৎপাটন করার লক্ষ্যে হযরত উমর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
হে মুসলিম যুব ও তরুণ প্রজন্ম! হে ইসলামের প্রাণশক্তি তরুণ প্রজন্ম! তোমরা হবে খালিদের অনুসারী। হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. হবেন তোমাদের নেতা। তোমরা পদাঙ্ক অনুসরণ করবে তাদের যারা উম্মাহর বিজয়ের পথ রচনা করে গেছেন। তোমাদের আইকন হবে তারা যাঁদের রক্তে সিঞ্চিত হয়েছে ইসলাম নামক বৃক্ষ। মুসলিম যুবকদের আইকন কোনো ফাসেক ফাজের নায়ক ও প্লেয়াররা নয়, মুসলিম তরুণদের আইকন হবেন সাহাবায়ে কেরাম। মুসলিম তরুণ প্রজন্ম অনুসরণ করবে খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ও তার সঙ্গীদের। হে তরুণ! হে যুবক! তোমাদের হতে হবে উম্মাহর উমর, খালিদ, আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.দের মত। তোমাদের হতে হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। ইসলামের বিজয় পথ তৈরি করতে হবে তোমাদের। এ জাতির কান্ডারি তোমরাই। আল্লাহর জমিনের আল্লাহর কালিমা বুলন্দি করার জন্য তোমাদের এগিয়ে আসতে হবে সময়ের খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে।
আজ দিকে দিকে তাকিয়ে দেখো মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে। মুসলিম নারী-শিশুদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পৃথিবীর আকাশ। উত্তাল সমুদ্রের তরঙ্গে ভাসছে মুসলমানের লাশ। আজ জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে मुसलमानों کا। পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে मुसलमानों کا রক্তে ভেসে যাচ্ছে মানচিত্র। কুফরি শক্তির হাত থেকে তাদের রক্ষা করার ঈমানি দায়িত্বে তোমাকেই এগিয়ে আসতে হবে। আল্লাহর কসম! আজ মুসলমানরা তাকিয়ে আছে তোমাদের পানে। তোমাদের ডাকছে আহাজারি করে। তোমাদের এগিয়ে আসার জন্য তারা প্রার্থনা করছে আল্লাহর দরবারে। হে উম্মাহর তরুণ প্রজন্ম! হে উম্মাহর তরুণ শক্তি! হে উম্মাহর সৈনিক! তোমরা এগিয়ে আসো জমানার খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে। জুলুম ও নিপীড়ন থেকে তাদের মুক্ত করো। পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা করো আল্লাহর দ্বীন। যে দ্বীন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমানতস্বরূপ রেখে গেছেন তোমাদের নিকট।
প্রার্থনা করি, আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা যেন আমাদের হৃদয়কে জীবন্ত করে দেন। এবং আমাদের সৎপথে পরিচালিত করেন। ভ্রষ্টতা ও গোমরাহি থেকে হেফাজত করেন। মুসলিম উম্মাহর তরুণ প্রজন্মের হৃদয়কে জাগ্রত করেন। তাদের শক্তি, সাহসকে ইসলামের বিজয়ের জন্য কবুল করে নেন। আমিন।

হযরত আবু বকর রা.-এর ইন্তেকালের পর খলিফাতুল মুসলিমিন নির্বাচিত হলেন হযরত উমর রা.। খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। তার স্থলে সেনাপতি নিযুক্ত করেন হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.-কে। হযরত উমর রা. খেলাফতের মসনদে বসে কেন অপরাজেয় সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলেন? অথচ তিনি প্রতিটি যুদ্ধে অসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে मुसलमानों کا একের-পর-এক বিজয় উপহার দিয়েছেন। কে আছে এমন যে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর তরবারিকে ভেঙে দেবে? আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে সাইফুল্লাহ (আল্লাহর তরবারি) উপাধি দিয়েছেন।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ হযরত উমর রা. নিজেই বর্ণনা করেছেন। আল্লাহু আকবার! কী ছিল সে কথা, যা হযরত উমর রা. বলেছেন?
مَا عَزَلْتُ خَالِداً عَنْ سُخْطَةِ وَلَا عَنْ خِيَانَةٍ، وَلَكِنِّي رَأَيْتُ النَّاسَ قَدْ فُتِنُوا بِـ خَالِدٍ، فَأَرَدْتُ أَنْ يَعْلَمَ النَّاسُ أَنَّ النَّصْرَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الصَّانِعِ وَلَيْسَ مِنْ عِنْدِ خَالِدٍ
'আমি ক্রোধ কিংবা খেয়ানতের বশবর্তী হয়ে খালিদকে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিইনি। কিন্তু আমি দেখেছি, লোকেরা খালিদের ব্যাপারে ফিতনায় পতিত হচ্ছে। আমি চেয়েছি লোকদের এ কথা জানাতে যে, مسلمانوں کا বিজয় আসে একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, খালিদের পক্ষ থেকে নয়।'
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন এমন এক বীর যে, লোকেরা মনে করতে লাগল, যুদ্ধে مسلمانوں کا বিজয় অর্জিত হয় খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর শক্তি ও নিপুণ বুদ্ধিতে। লোকেদের মনে এ কথা বদ্ধমূল হয়ে গেল, হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদই مسلمانوں کا বিজয়ের কারণ। অথচ مسلمانوں کا বিজয় কোনো শক্তি আর সৈন্যবলে নয়, مسلمانوں کا বিজয় আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাদের এ ধারণার মূলোৎপাটন করার লক্ষ্যে হযরত উমর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
হে মুসলিম যুব ও তরুণ প্রজন্ম! হে ইসলামের প্রাণশক্তি তরুণ প্রজন্ম! তোমরা হবে খালিদের অনুসারী। হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. হবেন তোমাদের নেতা। তোমরা পদাঙ্ক অনুসরণ করবে তাদের যারা উম্মাহর বিজয়ের পথ রচনা করে গেছেন। তোমাদের আইকন হবে তারা যাঁদের রক্তে সিঞ্চিত হয়েছে ইসলাম নামক বৃক্ষ। মুসলিম যুবকদের আইকন কোনো ফাসেক ফাজের নায়ক ও প্লেয়াররা নয়, মুসলিম তরুণদের আইকন হবেন সাহাবায়ে কেরাম। মুসলিম তরুণ প্রজন্ম অনুসরণ করবে খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ও তার সঙ্গীদের। হে তরুণ! হে যুবক! তোমাদের হতে হবে উম্মাহর উমর, খালিদ, আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.দের মত। তোমাদের হতে হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। ইসলামের বিজয় পথ তৈরি করতে হবে তোমাদের। এ জাতির কান্ডারি তোমরাই। আল্লাহর জমিনের আল্লাহর কালিমা বুলন্দি করার জন্য তোমাদের এগিয়ে আসতে হবে সময়ের খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে।
আজ দিকে দিকে তাকিয়ে দেখো মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে। মুসলিম নারী-শিশুদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পৃথিবীর আকাশ। উত্তাল সমুদ্রের তরঙ্গে ভাসছে মুসলমানের লাশ। আজ জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে मुसलमानों کا। পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে मुसलमानों کا রক্তে ভেসে যাচ্ছে মানচিত্র। কুফরি শক্তির হাত থেকে তাদের রক্ষা করার ঈমানি দায়িত্বে তোমাকেই এগিয়ে আসতে হবে। আল্লাহর কসম! আজ মুসলমানরা তাকিয়ে আছে তোমাদের পানে। তোমাদের ডাকছে আহাজারি করে। তোমাদের এগিয়ে আসার জন্য তারা প্রার্থনা করছে আল্লাহর দরবারে। হে উম্মাহর তরুণ প্রজন্ম! হে উম্মাহর তরুণ শক্তি! হে উম্মাহর সৈনিক! তোমরা এগিয়ে আসো জমানার খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে। জুলুম ও নিপীড়ন থেকে তাদের মুক্ত করো। পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা করো আল্লাহর দ্বীন। যে দ্বীন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমানতস্বরূপ রেখে গেছেন তোমাদের নিকট।
প্রার্থনা করি, আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা যেন আমাদের হৃদয়কে জীবন্ত করে দেন। এবং আমাদের সৎপথে পরিচালিত করেন। ভ্রষ্টতা ও গোমরাহি থেকে হেফাজত করেন। মুসলিম উম্মাহর তরুণ প্রজন্মের হৃদয়কে জাগ্রত করেন। তাদের শক্তি, সাহসকে ইসলামের বিজয়ের জন্য কবুল করে নেন। আমিন।

হযরত আবু বকর রা.-এর ইন্তেকালের পর খলিফাতুল মুসলিমিন নির্বাচিত হলেন হযরত উমর রা.। খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। তার স্থলে সেনাপতি নিযুক্ত করেন হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.-কে। হযরত উমর রা. খেলাফতের মসনদে বসে কেন অপরাজেয় সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলেন? অথচ তিনি প্রতিটি যুদ্ধে অসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে मुसलमानों کا একের-পর-এক বিজয় উপহার দিয়েছেন। কে আছে এমন যে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর তরবারিকে ভেঙে দেবে? আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে সাইফুল্লাহ (আল্লাহর তরবারি) উপাধি দিয়েছেন।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ হযরত উমর রা. নিজেই বর্ণনা করেছেন। আল্লাহু আকবার! কী ছিল সে কথা, যা হযরত উমর রা. বলেছেন?
مَا عَزَلْتُ خَالِداً عَنْ سُخْطَةِ وَلَا عَنْ خِيَانَةٍ، وَلَكِنِّي رَأَيْتُ النَّاسَ قَدْ فُتِنُوا بِـ خَالِدٍ، فَأَرَدْتُ أَنْ يَعْلَمَ النَّاسُ أَنَّ النَّصْرَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الصَّانِعِ وَلَيْسَ مِنْ عِنْدِ خَالِدٍ
'আমি ক্রোধ কিংবা খেয়ানতের বশবর্তী হয়ে খালিদকে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিইনি। কিন্তু আমি দেখেছি, লোকেরা খালিদের ব্যাপারে ফিতনায় পতিত হচ্ছে। আমি চেয়েছি লোকদের এ কথা জানাতে যে, مسلمانوں کا বিজয় আসে একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, খালিদের পক্ষ থেকে নয়।'
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন এমন এক বীর যে, লোকেরা মনে করতে লাগল, যুদ্ধে مسلمانوں کا বিজয় অর্জিত হয় খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর শক্তি ও নিপুণ বুদ্ধিতে। লোকেদের মনে এ কথা বদ্ধমূল হয়ে গেল, হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদই مسلمانوں کا বিজয়ের কারণ। অথচ مسلمانوں کا বিজয় কোনো শক্তি আর সৈন্যবলে নয়, مسلمانوں کا বিজয় আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাদের এ ধারণার মূলোৎপাটন করার লক্ষ্যে হযরত উমর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
হে মুসলিম যুব ও তরুণ প্রজন্ম! হে ইসলামের প্রাণশক্তি তরুণ প্রজন্ম! তোমরা হবে খালিদের অনুসারী। হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. হবেন তোমাদের নেতা। তোমরা পদাঙ্ক অনুসরণ করবে তাদের যারা উম্মাহর বিজয়ের পথ রচনা করে গেছেন। তোমাদের আইকন হবে তারা যাঁদের রক্তে সিঞ্চিত হয়েছে ইসলাম নামক বৃক্ষ। মুসলিম যুবকদের আইকন কোনো ফাসেক ফাজের নায়ক ও প্লেয়াররা নয়, মুসলিম তরুণদের আইকন হবেন সাহাবায়ে কেরাম। মুসলিম তরুণ প্রজন্ম অনুসরণ করবে খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ও তার সঙ্গীদের। হে তরুণ! হে যুবক! তোমাদের হতে হবে উম্মাহর উমর, খালিদ, আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.দের মত। তোমাদের হতে হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। ইসলামের বিজয় পথ তৈরি করতে হবে তোমাদের। এ জাতির কান্ডারি তোমরাই। আল্লাহর জমিনের আল্লাহর কালিমা বুলন্দি করার জন্য তোমাদের এগিয়ে আসতে হবে সময়ের খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে।
আজ দিকে দিকে তাকিয়ে দেখো মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে। মুসলিম নারী-শিশুদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পৃথিবীর আকাশ। উত্তাল সমুদ্রের তরঙ্গে ভাসছে মুসলমানের লাশ। আজ জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে मुसलमानों کا। পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে मुसलमानों کا রক্তে ভেসে যাচ্ছে মানচিত্র। কুফরি শক্তির হাত থেকে তাদের রক্ষা করার ঈমানি দায়িত্বে তোমাকেই এগিয়ে আসতে হবে। আল্লাহর কসম! আজ মুসলমানরা তাকিয়ে আছে তোমাদের পানে। তোমাদের ডাকছে আহাজারি করে। তোমাদের এগিয়ে আসার জন্য তারা প্রার্থনা করছে আল্লাহর দরবারে। হে উম্মাহর তরুণ প্রজন্ম! হে উম্মাহর তরুণ শক্তি! হে উম্মাহর সৈনিক! তোমরা এগিয়ে আসো জমানার খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে। জুলুম ও নিপীড়ন থেকে তাদের মুক্ত করো। পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা করো আল্লাহর দ্বীন। যে দ্বীন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমানতস্বরূপ রেখে গেছেন তোমাদের নিকট।
প্রার্থনা করি, আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা যেন আমাদের হৃদয়কে জীবন্ত করে দেন। এবং আমাদের সৎপথে পরিচালিত করেন। ভ্রষ্টতা ও গোমরাহি থেকে হেফাজত করেন। মুসলিম উম্মাহর তরুণ প্রজন্মের হৃদয়কে জাগ্রত করেন। তাদের শক্তি, সাহসকে ইসলামের বিজয়ের জন্য কবুল করে নেন। আমিন।

হযরত আবু বকর রা.-এর ইন্তেকালের পর খলিফাতুল মুসলিমিন নির্বাচিত হলেন হযরত উমর রা.। খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। তার স্থলে সেনাপতি নিযুক্ত করেন হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.-কে। হযরত উমর রা. খেলাফতের মসনদে বসে কেন অপরাজেয় সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলেন? অথচ তিনি প্রতিটি যুদ্ধে অসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে मुसलमानों کا একের-পর-এক বিজয় উপহার দিয়েছেন। কে আছে এমন যে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর তরবারিকে ভেঙে দেবে? আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে সাইফুল্লাহ (আল্লাহর তরবারি) উপাধি দিয়েছেন।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ হযরত উমর রা. নিজেই বর্ণনা করেছেন। আল্লাহু আকবার! কী ছিল সে কথা, যা হযরত উমর রা. বলেছেন?
مَا عَزَلْتُ خَالِداً عَنْ سُخْطَةِ وَلَا عَنْ خِيَانَةٍ، وَلَكِنِّي رَأَيْتُ النَّاسَ قَدْ فُتِنُوا بِـ خَالِدٍ، فَأَرَدْتُ أَنْ يَعْلَمَ النَّاسُ أَنَّ النَّصْرَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الصَّانِعِ وَلَيْسَ مِنْ عِنْدِ خَالِدٍ
'আমি ক্রোধ কিংবা খেয়ানতের বশবর্তী হয়ে খালিদকে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিইনি। কিন্তু আমি দেখেছি, লোকেরা খালিদের ব্যাপারে ফিতনায় পতিত হচ্ছে। আমি চেয়েছি লোকদের এ কথা জানাতে যে, مسلمانوں کا বিজয় আসে একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, খালিদের পক্ষ থেকে নয়।'
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন এমন এক বীর যে, লোকেরা মনে করতে লাগল, যুদ্ধে مسلمانوں کا বিজয় অর্জিত হয় খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর শক্তি ও নিপুণ বুদ্ধিতে। লোকেদের মনে এ কথা বদ্ধমূল হয়ে গেল, হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদই مسلمانوں کا বিজয়ের কারণ। অথচ مسلمانوں کا বিজয় কোনো শক্তি আর সৈন্যবলে নয়, مسلمانوں کا বিজয় আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাদের এ ধারণার মূলোৎপাটন করার লক্ষ্যে হযরত উমর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
হে মুসলিম যুব ও তরুণ প্রজন্ম! হে ইসলামের প্রাণশক্তি তরুণ প্রজন্ম! তোমরা হবে খালিদের অনুসারী। হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. হবেন তোমাদের নেতা। তোমরা পদাঙ্ক অনুসরণ করবে তাদের যারা উম্মাহর বিজয়ের পথ রচনা করে গেছেন। তোমাদের আইকন হবে তারা যাঁদের রক্তে সিঞ্চিত হয়েছে ইসলাম নামক বৃক্ষ। মুসলিম যুবকদের আইকন কোনো ফাসেক ফাজের নায়ক ও প্লেয়াররা নয়, মুসলিম তরুণদের আইকন হবেন সাহাবায়ে কেরাম। মুসলিম তরুণ প্রজন্ম অনুসরণ করবে খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ও তার সঙ্গীদের। হে তরুণ! হে যুবক! তোমাদের হতে হবে উম্মাহর উমর, খালিদ, আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.দের মত। তোমাদের হতে হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। ইসলামের বিজয় পথ তৈরি করতে হবে তোমাদের। এ জাতির কান্ডারি তোমরাই। আল্লাহর জমিনের আল্লাহর কালিমা বুলন্দি করার জন্য তোমাদের এগিয়ে আসতে হবে সময়ের খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে।
আজ দিকে দিকে তাকিয়ে দেখো মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে। মুসলিম নারী-শিশুদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পৃথিবীর আকাশ। উত্তাল সমুদ্রের তরঙ্গে ভাসছে মুসলমানের লাশ। আজ জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে मुसलमानों کا। পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে मुसलमानों کا রক্তে ভেসে যাচ্ছে মানচিত্র। কুফরি শক্তির হাত থেকে তাদের রক্ষা করার ঈমানি দায়িত্বে তোমাকেই এগিয়ে আসতে হবে। আল্লাহর কসম! আজ মুসলমানরা তাকিয়ে আছে তোমাদের পানে। তোমাদের ডাকছে আহাজারি করে। তোমাদের এগিয়ে আসার জন্য তারা প্রার্থনা করছে আল্লাহর দরবারে। হে উম্মাহর তরুণ প্রজন্ম! হে উম্মাহর তরুণ শক্তি! হে উম্মাহর সৈনিক! তোমরা এগিয়ে আসো জমানার খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে। জুলুম ও নিপীড়ন থেকে তাদের মুক্ত করো। পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা করো আল্লাহর দ্বীন। যে দ্বীন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমানতস্বরূপ রেখে গেছেন তোমাদের নিকট।
প্রার্থনা করি, আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা যেন আমাদের হৃদয়কে জীবন্ত করে দেন। এবং আমাদের সৎপথে পরিচালিত করেন। ভ্রষ্টতা ও গোমরাহি থেকে হেফাজত করেন। মুসলিম উম্মাহর তরুণ প্রজন্মের হৃদয়কে জাগ্রত করেন। তাদের শক্তি, সাহসকে ইসলামের বিজয়ের জন্য কবুল করে নেন। আমিন।

হযরত আবু বকর রা.-এর ইন্তেকালের পর খলিফাতুল মুসলিমিন নির্বাচিত হলেন হযরত উমর রা.। খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। তার স্থলে সেনাপতি নিযুক্ত করেন হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.-কে। হযরত উমর রা. খেলাফতের মসনদে বসে কেন অপরাজেয় সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলেন? অথচ তিনি প্রতিটি যুদ্ধে অসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে मुसलमानों کا একের-পর-এক বিজয় উপহার দিয়েছেন। কে আছে এমন যে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর তরবারিকে ভেঙে দেবে? আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে সাইফুল্লাহ (আল্লাহর তরবারি) উপাধি দিয়েছেন।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ হযরত উমর রা. নিজেই বর্ণনা করেছেন। আল্লাহু আকবার! কী ছিল সে কথা, যা হযরত উমর রা. বলেছেন?
مَا عَزَلْتُ خَالِداً عَنْ سُخْطَةِ وَلَا عَنْ خِيَانَةٍ، وَلَكِنِّي رَأَيْتُ النَّاسَ قَدْ فُتِنُوا بِـ خَالِدٍ، فَأَرَدْتُ أَنْ يَعْلَمَ النَّاسُ أَنَّ النَّصْرَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الصَّانِعِ وَلَيْسَ مِنْ عِنْدِ خَالِدٍ
'আমি ক্রোধ কিংবা খেয়ানতের বশবর্তী হয়ে খালিদকে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিইনি। কিন্তু আমি দেখেছি, লোকেরা খালিদের ব্যাপারে ফিতনায় পতিত হচ্ছে। আমি চেয়েছি লোকদের এ কথা জানাতে যে, مسلمانوں کا বিজয় আসে একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, খালিদের পক্ষ থেকে নয়।'
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন এমন এক বীর যে, লোকেরা মনে করতে লাগল, যুদ্ধে مسلمانوں کا বিজয় অর্জিত হয় খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর শক্তি ও নিপুণ বুদ্ধিতে। লোকেদের মনে এ কথা বদ্ধমূল হয়ে গেল, হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদই مسلمانوں کا বিজয়ের কারণ। অথচ مسلمانوں کا বিজয় কোনো শক্তি আর সৈন্যবলে নয়, مسلمانوں کا বিজয় আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাদের এ ধারণার মূলোৎপাটন করার লক্ষ্যে হযরত উমর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
হে মুসলিম যুব ও তরুণ প্রজন্ম! হে ইসলামের প্রাণশক্তি তরুণ প্রজন্ম! তোমরা হবে খালিদের অনুসারী। হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. হবেন তোমাদের নেতা। তোমরা পদাঙ্ক অনুসরণ করবে তাদের যারা উম্মাহর বিজয়ের পথ রচনা করে গেছেন। তোমাদের আইকন হবে তারা যাঁদের রক্তে সিঞ্চিত হয়েছে ইসলাম নামক বৃক্ষ। মুসলিম যুবকদের আইকন কোনো ফাসেক ফাজের নায়ক ও প্লেয়াররা নয়, মুসলিম তরুণদের আইকন হবেন সাহাবায়ে কেরাম। মুসলিম তরুণ প্রজন্ম অনুসরণ করবে খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ও তার সঙ্গীদের। হে তরুণ! হে যুবক! তোমাদের হতে হবে উম্মাহর উমর, খালিদ, আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.দের মত। তোমাদের হতে হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। ইসলামের বিজয় পথ তৈরি করতে হবে তোমাদের। এ জাতির কান্ডারি তোমরাই। আল্লাহর জমিনের আল্লাহর কালিমা বুলন্দি করার জন্য তোমাদের এগিয়ে আসতে হবে সময়ের খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে।
আজ দিকে দিকে তাকিয়ে দেখো মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে। মুসলিম নারী-শিশুদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পৃথিবীর আকাশ। উত্তাল সমুদ্রের তরঙ্গে ভাসছে মুসলমানের লাশ। আজ জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে मुसलमानों کا। পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে मुसलमानों کا রক্তে ভেসে যাচ্ছে মানচিত্র। কুফরি শক্তির হাত থেকে তাদের রক্ষা করার ঈমানি দায়িত্বে তোমাকেই এগিয়ে আসতে হবে। আল্লাহর কসম! আজ মুসলমানরা তাকিয়ে আছে তোমাদের পানে। তোমাদের ডাকছে আহাজারি করে। তোমাদের এগিয়ে আসার জন্য তারা প্রার্থনা করছে আল্লাহর দরবারে। হে উম্মাহর তরুণ প্রজন্ম! হে উম্মাহর তরুণ শক্তি! হে উম্মাহর সৈনিক! তোমরা এগিয়ে আসো জমানার খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে। জুলুম ও নিপীড়ন থেকে তাদের মুক্ত করো। পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা করো আল্লাহর দ্বীন। যে দ্বীন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমানতস্বরূপ রেখে গেছেন তোমাদের নিকট।
প্রার্থনা করি, আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা যেন আমাদের হৃদয়কে জীবন্ত করে দেন। এবং আমাদের সৎপথে পরিচালিত করেন। ভ্রষ্টতা ও গোমরাহি থেকে হেফাজত করেন। মুসলিম উম্মাহর তরুণ প্রজন্মের হৃদয়কে জাগ্রত করেন। তাদের শক্তি, সাহসকে ইসলামের বিজয়ের জন্য কবুল করে নেন। আমিন।

হযরত আবু বকর রা.-এর ইন্তেকালের পর খলিফাতুল মুসলিমিন নির্বাচিত হলেন হযরত উমর রা.। খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। তার স্থলে সেনাপতি নিযুক্ত করেন হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.-কে। হযরত উমর রা. খেলাফতের মসনদে বসে কেন অপরাজেয় সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলেন? অথচ তিনি প্রতিটি যুদ্ধে অসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে मुसलमानों کا একের-পর-এক বিজয় উপহার দিয়েছেন। কে আছে এমন যে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর তরবারিকে ভেঙে দেবে? আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে সাইফুল্লাহ (আল্লাহর তরবারি) উপাধি দিয়েছেন।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ হযরত উমর রা. নিজেই বর্ণনা করেছেন। আল্লাহু আকবার! কী ছিল সে কথা, যা হযরত উমর রা. বলেছেন?
مَا عَزَلْتُ خَالِداً عَنْ سُخْطَةِ وَلَا عَنْ خِيَانَةٍ، وَلَكِنِّي رَأَيْتُ النَّاسَ قَدْ فُتِنُوا بِـ خَالِدٍ، فَأَرَدْتُ أَنْ يَعْلَمَ النَّاسُ أَنَّ النَّصْرَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الصَّانِعِ وَلَيْسَ مِنْ عِنْدِ خَالِدٍ
'আমি ক্রোধ কিংবা খেয়ানতের বশবর্তী হয়ে খালিদকে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিইনি। কিন্তু আমি দেখেছি, লোকেরা খালিদের ব্যাপারে ফিতনায় পতিত হচ্ছে। আমি চেয়েছি লোকদের এ কথা জানাতে যে, مسلمانوں کا বিজয় আসে একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, খালিদের পক্ষ থেকে নয়।'
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন এমন এক বীর যে, লোকেরা মনে করতে লাগল, যুদ্ধে مسلمانوں کا বিজয় অর্জিত হয় খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর শক্তি ও নিপুণ বুদ্ধিতে। লোকেদের মনে এ কথা বদ্ধমূল হয়ে গেল, হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদই مسلمانوں کا বিজয়ের কারণ। অথচ مسلمانوں کا বিজয় কোনো শক্তি আর সৈন্যবলে নয়, مسلمانوں کا বিজয় আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাদের এ ধারণার মূলোৎপাটন করার লক্ষ্যে হযরত উমর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
হে মুসলিম যুব ও তরুণ প্রজন্ম! হে ইসলামের প্রাণশক্তি তরুণ প্রজন্ম! তোমরা হবে খালিদের অনুসারী। হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. হবেন তোমাদের নেতা। তোমরা পদাঙ্ক অনুসরণ করবে তাদের যারা উম্মাহর বিজয়ের পথ রচনা করে গেছেন। তোমাদের আইকন হবে তারা যাঁদের রক্তে সিঞ্চিত হয়েছে ইসলাম নামক বৃক্ষ। মুসলিম যুবকদের আইকন কোনো ফাসেক ফাজের নায়ক ও প্লেয়াররা নয়, মুসলিম তরুণদের আইকন হবেন সাহাবায়ে কেরাম। মুসলিম তরুণ প্রজন্ম অনুসরণ করবে খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ও তার সঙ্গীদের। হে তরুণ! হে যুবক! তোমাদের হতে হবে উম্মাহর উমর, খালিদ, আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.দের মত। তোমাদের হতে হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। ইসলামের বিজয় পথ তৈরি করতে হবে তোমাদের। এ জাতির কান্ডারি তোমরাই। আল্লাহর জমিনের আল্লাহর কালিমা বুলন্দি করার জন্য তোমাদের এগিয়ে আসতে হবে সময়ের খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে।
আজ দিকে দিকে তাকিয়ে দেখো মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে। মুসলিম নারী-শিশুদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পৃথিবীর আকাশ। উত্তাল সমুদ্রের তরঙ্গে ভাসছে মুসলমানের লাশ। আজ জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে मुसलमानों کا। পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে मुसलमानों کا রক্তে ভেসে যাচ্ছে মানচিত্র। কুফরি শক্তির হাত থেকে তাদের রক্ষা করার ঈমানি দায়িত্বে তোমাকেই এগিয়ে আসতে হবে। আল্লাহর কসম! আজ মুসলমানরা তাকিয়ে আছে তোমাদের পানে। তোমাদের ডাকছে আহাজারি করে। তোমাদের এগিয়ে আসার জন্য তারা প্রার্থনা করছে আল্লাহর দরবারে। হে উম্মাহর তরুণ প্রজন্ম! হে উম্মাহর তরুণ শক্তি! হে উম্মাহর সৈনিক! তোমরা এগিয়ে আসো জমানার খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে। জুলুম ও নিপীড়ন থেকে তাদের মুক্ত করো। পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা করো আল্লাহর দ্বীন। যে দ্বীন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমানতস্বরূপ রেখে গেছেন তোমাদের নিকট।
প্রার্থনা করি, আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা যেন আমাদের হৃদয়কে জীবন্ত করে দেন। এবং আমাদের সৎপথে পরিচালিত করেন। ভ্রষ্টতা ও গোমরাহি থেকে হেফাজত করেন। মুসলিম উম্মাহর তরুণ প্রজন্মের হৃদয়কে জাগ্রত করেন। তাদের শক্তি, সাহসকে ইসলামের বিজয়ের জন্য কবুল করে নেন। আমিন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00