📘 হে যুবক! ফিরে এসো রবের দিকে > 📄 রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ

📄 রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ


হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এখন মুসলমান। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন প্রিয় সাহাবি। ইসলামের নিবেদিত সৈনিক। মুসলিম বাহিনীর একজন সাহসী সদস্য। ইসলাম গ্রহণের পর মুসলমানের সাথে বহু যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি যুদ্ধে তিনি প্রদর্শন করেছেন সীমাহীন বীরত্ব। তার অসীম সাহসে কেঁপে উঠত রণাঙ্গন। শত্রুপক্ষ তার ভয়ে থাকত কম্পমান। প্রচণ্ড সাহসিকতায় তিনি শত্রুদের ভেতর ঢুকে পড়তেন। তার বীরত্বগাথা ইতিহাসে আলো করা। তেমনি একটি যুদ্ধ রোমানদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধ।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্যে পৃথিবীর সকল রাজা-বাদশাহদের নিকট ইসলামের দাওয়াতপত্র প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোম সম্রাটের নিকট দূতের মাধ্যমে একটি চিঠি প্রেরণ করলেন। চিঠি নিয়ে গেলেন হযরত হারেসা ইবনে উমায়ের রা.। কিন্তু পথিমধ্যে ঘটে গেল এক নৃশংস ঘটনা। পাপিষ্ঠ সুরাহ বিন আমর নবীজির পাঠানো দূত হযরত হারেসা ইবনে উমায়ের রা.-কে মুতার প্রান্তরে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সুরাহ বিন আমর ছিল রোম সম্রাটের নিযুক্ত গভর্নর। তৎকালীন সময়ে দূত হত্যা ছিল অত্যন্ত জঘন্য। দূত হত্যার সংবাদ শুনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীষণ ক্ষিপ্ত হলেন। তখনই অঙ্গীকার করলেন দূত হত্যার প্রতিশোধ নেবেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা.-কে সেনাপতি করে তিন হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী প্রেরণ করলেন রোমানদের বিরুদ্ধে। মাত্র তিন হাজার সৈন্য নিয়ে হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা. রওনা হলেন রোমের অভিমুখে। মুসলমানদের আগমনের সংবাদ পৌঁছে গেল রোম সম্রাটের নিকট। খবর পেয়ে রোম সম্রাট মুসলমানদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বাহিনী প্রস্তুত করে। এক লক্ষ বিশ হাজার সৈন্যের বিশাল সৈন্যবাহিনী তৈরি হলো।
মুসলমানদের তিন হাজার সৈন্যের মোকাবেলায় শক্তিশালী রোমানদের এক লক্ষ বিশ হাজার সৈন্য। বাহ্যত মুসলমানদের কাফেলাকে কিছুই মনে হয় না। এত বড় বাহিনীর সাথে সামান্য সৈন্য দিয়ে কুলিয়ে কীভাবে সম্ভব। কিন্তু মুসলমান কখনো সংখ্যা ও বাহ্যিক উপকরণের ভিত্তিতে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে না। مسلمانوں کا সাহায্য তো আসে আসমান থেকে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা উপর থেকে তাদের জন্য সাহায্য প্রেরণ করেন। বাহ্যিক আসবাব উপকরণের সাথে مسلمانوں کا বিজয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِن يَنصُرْكُمُ اللَّهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ وَإِن يَخْذُلْكُمْ فَمَن ذَا الَّذِي يَنصُرُكُم مِّن بَعْدِهِ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ
'আল্লাহ যদি তোমাদের সাহায্য করেন তাহলে তোমাদের ওপর কেউ বিজয়ী হতে পারবে না। আর তিনি যদি তোমাদের পরিত্যাগ করেন তাহলে তিনি ছাড়া এমন কে আছে যে তোমাদের সাহায্য করতে পারে? তাই মুমিনগণ যেন আল্লাহর ওপর ভরসা করে।' ⁹⁰
আরেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
قَدْ كَانَ لَكُمْ آيَةٌ فِي فِئَتَيْنِ الْتَقَتَا فِئَةٌ تُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأُخْرَى كَافِرَةٌ يَرَوْنَهُم مِّثْلَيْهِمْ رَأْيَ الْعَيْنِ وَاللَّهُ يُؤَيِّدُ بِنَصْرِهِ مَن يَشَاءُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَعِبْرَةً لِأُولِي الْأَبْصَارِ
'যুদ্ধক্ষেত্রে মিলিত হওয়া দুটো দলের মধ্যে তোমাদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন ছিল। একটি দল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করেছিল আর অন্যটি ছিল কাফেরদের দল; যারা ঈমানদারদের চোখের দেখায় দ্বিগুণ দেখেছিল। আর আল্লাহ যাকে চান স্বীয় সাহায্য দ্বারা শক্তিশালী করেন। নিশ্চয় ঐ ঘটনার মধ্যে দৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য রয়েছে শিক্ষা।' ⁹¹
অন্য আয়াদে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَمْ مِنْ فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةٌ كَثِيرَةٌ بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصابرين
'আল্লাহর হুকুমে কত ছোট দল কত বড় দলকে পরাজিত করেছে। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।'⁹²
অভিযানে প্রেরণ করার পূর্বে মুসলিম বাহিনীকে লক্ষ্য করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'যুদ্ধে সেনাপতি যায়েদ যদি শহিদ হয়, তাহলে পরবর্তী সেনাপতি নিযুক্ত হবে জাফর ইবনে আবু তালেব। জাফর যদি শহিদ হয়, তাহলে পরবর্তী সেনাপতি হবে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা। যদি আবদুল্লাহও শহিদ হয়ে যায় তাহলে মুসলমানদের ভেতর থেকে পছন্দনীয় ব্যক্তিকে সেনাপতি নির্বাচন করা হবে।'
আর কোনো যুদ্ধে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনজন সেনাপতি নিযুক্ত করেননি। আর যে তিনজনকে ধারাবাহিক সেনাপতি নিযুক্ত করেছেন তারা ছিলেন সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তাদের বৈশিষ্ট্য ছিল, তারা দিনের আলোতে ঘোড়সওয়ার ও দক্ষ সমরনায়ক এবং রাতের আঁধারে সাধক, তাহাজ্জুদ ও জিকির-আজকারে মত্ত থাকতেন।
স্বভাবতই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এ যুদ্ধের গুরুত্ব ছিল অত্যধিক। হযরত যায়েদ ইবনে হারেসার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী ছুটে চলল। مسلمانوں کا ততদিনে শক্তি ও সামর্থ্য যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন আর পূর্বের মতো অত দুর্বল ও সহায় সম্বলহীন নয়। অস্ত্রের ঝনঝনানি আর ঘোড়ার ক্ষুরধ্বনিতে তারা বহুবার প্রকম্পিত করেছে আরবের মাটি। জর্দানের মাআন নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেন মুসলিম সেনাপতি হযরত যায়েদ ইবনে হারেসা। রোমান বাহিনী মুসলমানদের অদূরেই যুদ্ধের তাবু স্থাপন করে।
কাফেরদের সৈন্যসংখ্যা দেখে মুসলিম বাহিনী ভাবনায় পড়ে গেল। তাদের কপালে দেখা দিলো নিদারুণ চিন্তার ভাঁজ। কিছুটা ভয়ও। এত বড় বাহিনীর মোকাবেলা করতে হবে ভাবতে পারেননি সেনাপতি যায়েদ ইবনে হারেসা। সৈন্যও তাদের অতি সামান্য। এমতাবস্থায় করণীয় কী হতে পারে এ নিয়ে ভাবতে থাকেন সাহাবায়ে কেরাম। পরস্পরে চলতে থাকে বিভিন্ন শলা-পরামর্শ। কেউ বললেন, রোমানদের সৈন্যসংখ্যা জানিয়ে পত্র লেখা হোক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট। রাসুল আমাদের যে পরামর্শ দেবেন আমরা সে অনুযায়ী কাজ করব। কেউ বললেন, আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমরা সংখ্যাধিক্য এবং শক্তির ওপর ভরসা করে যুদ্ধ করি না। আমরা যুদ্ধ করি দ্বীনের জন্য। সুতরাং আমরা যে উদ্দেশ্যে বের হয়েছি, সে উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত করব। আল্লাহ আমাদের দুটি কল্যাণের কোনো একটি অবশ্যই দান করবেন। হয় বিজয়, নয় আল্লাহর পথে শাহাদত।
সর্বশেষ সেনাপতি হযরত যায়েদ বিন হারেসা রোমানদের সাথে যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। মুসলিম বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তাদের সংখ্যাধিক্য যেন আমাদের হৃদয়ে কোনো ভীতি সঞ্চার করতে না পারে। আমরা সংখ্যার ভিত্তিতে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করি না। আমাদের সাহায্য প্রেরিত আল্লাহর পক্ষ থেকে।
মুতার প্রান্তরে মুখোমুখি হলো উভয় দল। শুরু হলো ভয়ানক লড়াই। রোমানদের লক্ষাধিক সৈন্যের দুর্ধর্ষ বাহিনীর সামনে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে লড়াই করছেন মাত্র তিন হাজার মুসলিম সৈন্য। অস্ত্র-শস্ত্রেও মুসলমানরা রোমানদের চেয়ে দুর্বল। কিন্তু মুতার প্রান্তরে সেদিন ঘটে গেল বিস্ময়কর এক উপাখ্যান। পৃথিবীর ইতিহাসে রচিত হলো এক নয়া দাস্তান।
মুসলমানদের মাত্র তিন হাজার সৈন্য শক্তিশালী রোমানদের লক্ষ্য সৈন্যকে রীতিমতো নাকানি-চুবানি খাইয়ে দিচ্ছে। مسلمانوں کا সাহসিকতা ও যুদ্ধের দক্ষতা দেখে রোমান সৈন্যরা বিস্ময়ে হতবাক। রোমানরা যেখানে ভেবেছে, সামান্য লড়াইয়ে উড়িয়ে দেবে مسلمانوں کا, সেখানে তারা তৈরি করেছে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
মুতার প্রান্তরে দুই পক্ষের মধ্যে চলছে তুমুল লড়াই। মুসলমানদের পতাকা সেনাপতি হযরত যায়েদ ইবনে হারেসার হাতে। এক হাতে পতাকা আর অপর হাতে তরবারি হাতে তিনি ঢুকে পড়েন শত্রুদের ভেতর। শাহাদতের তৃষ্ণায় ব্যাকুল হয়ে ওঠেন মুসলিম সেনাপতি হযরত যায়েদ। তার চোখের সামনে যেন বারবার ভেসে উঠছে প্রতিশ্রুত বেহেশত। জীবনের কথা ভুলে গেলেন তিনি।
মুতার প্রান্তরে হযরত যায়েদ বিন হারেসা যে অসীম বীরত্ব দেখিয়েছেন ইতিহাসে তার জুড়ি মেলা ভার। শত্রুকে আঘাত করে করে সম্মুখে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার তরবারির আঘাতে একের-পর-এক ধরাশায়ী হতে থাকে রোমান সৈন্য। তিনি যখন শত্রুদের গর্দানে তরবারি চালাচ্ছেন তখন এক শত্রু প্রচণ্ড শক্তিকে আঘাত করে। রক্তে ভেসে যায় মুসলিম সেনাপতির শরীর। অস্ফুট স্বরে কালিমা পড়তে পড়তে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা.। পান করেন শাহাদতের অমীয় সুধা।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা অনুযায়ী যুদ্ধের পতাকা হাতে তুলে নেন হযরত জাফর রা.। এক হাতে পতাকা, আরেক হাতে তরবারি নিয়ে তিনিও প্রাণপন লড়ে যাচ্ছেন রোমানদের বিরুদ্ধে। লড়াই করতে করতে অবশেষে তিনিও শহিদ হয়ে গেলেন।
এবার পতাকা হাতে তুলে নেন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা.। অবিশ্রান্ত যুদ্ধ করতে করতে তিনিও দুই সেনাপতির সাথে মিলিত হলেন। মুতার প্রান্তর ভেসে গেল হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহার রক্তে।
রণাঙ্গনে মৃত্যু হয় যার, তার জীবন তো আসমানের। আত্মোৎসর্গের অপার্থিব ঝরনায় সিক্ত হলেন ইসলামের তিন সাহসী সেনাপতি।
একে একে তিনজন সেনাপতি শাহাদতবরণ করলেন। মুসলমানরা এবার সেনাপতি নির্বাচন করলেন হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ-ইতিহাসের এক রণবীরের নাম। মহাকালের মহানায়ক তিনি।
তিনি রণাঙ্গনের স্বর্ণঈগল। অপরাজেয় সেনাপতি।
সর্বকালের বীরশ্রেষ্ঠদের একজন হযরত খালিদ। ইতিহাস গর্ব করে আজও তার নাম উচ্চারণ করে। এ নাম উচ্চারণ করামাত্র মুমিনের হৃদয় ও রক্তে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ফুলে ওঠে সাহসের প্রতিটি শিরা-উপশিরা।
যুদ্ধের পতাকা হাতে নিলেন সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.। যুদ্ধের নতুন ছক আকলেন তিনি। সাহাবায়ে কেরامকে নিয়ে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেন রোমানদের বিরুদ্ধে। লক্ষ রোমান সেনার বিরুদ্ধে তিন হাজার মুজাহিদ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
ঘোড়ার পিঠে চড়ে বাতাসের মতো ক্ষিপ্রগতিতে তিনি এগিয়ে যান কাফেরদের সম্মুখে। সাহাবায়ে কেরাম ছুটছেন তার পেছনে পেছনে। মুসলমানরা যখন জীবনের মায়া ভুলে তলোয়ার উঁচু করে রোমান কাফেরদের ধাওয়া করল, তখন এক অলৌকিক ভয় রোমানদের হৃদয়কে কাঁপিয়ে তুলে। জীবন বাঁচাতে পেছনের দিকে ছুটতে থাকে তারা। রোমান সেনাপতি সৈন্যদের ডাকতে থাকে; কিন্তু সেদিকে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ নেই তাদের। প্রাণ বাঁচাতে তারা উর্ধ্বশ্বাসে পালাতে থাকে। সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. মুসলিম সৈন্যদের নিয়ে ঢুকে পড়েন রোমান বাহিনীর ভেতর। তীব্রভাবে মুসলমানরা তরবারি চালাতে থাকে। দিশেহারা হয়ে পড়ে শত্রুর দল। তখন বহু সৈন্য হতাহত হয়। রোমানদের রক্তে ভেসে যায় মুতার প্রান্তর।
আল্লাহ বিজয় দান করলেন مسلمانوں کا। মুতার প্রান্তরে রচিত হলো ইতিহাসের অমর বিজয়কাব্য। সেদিন পৃথিবী চিনল এক নতুন সেনাপতিকে। এক নতুন মহানায়ককে। তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.। তার জীবনের একমাত্র স্বপ্ন ছিল, যেন জিহাদের ময়দানে শহিদি মৃত্যু হয় তার। কিন্তু এমন কোনো বীর বাহাদুরের জন্ম হয়নি যে হত্যা করবে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম দিয়েছিলেন সাইফুল্লাহ তথা আল্লাহর তরবারি। আল্লাহর তরবারি ভাঙতে পারেনি কেউ কোনোদিন।
মক্কা বিজয় ও খালিদ বিন ওয়ালিদ রা: কাফেরদের অত্যাচারে একদিন মুসলমানরা মাতৃভূমি ছেড়ে মদিনায় হিজরত করে। ধীরে ধীরে মুসলমানরা শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে। ৮ম হিজরিতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের ইচ্ছা করলেন। রাসুলের নির্দেশে সাহাবায়ে কেরাম যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। হকের বাহিনী এগিয়ে চলছে মক্কা অভিমুখে। আজ সঙ্গে আছেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। কাফেরদের সাথে মুসলমানদের আজ চূড়ান্ত সংঘাত হবে। দূর থেকে مسلمانوں کا আগমন দেখে মক্কাবাসী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। ভেতরে ভেতরে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এককালে মক্কার দুর্দণ্ড প্রতাপ থাকলেও ততদিনে খর্ব হয়ে এসেছে তাদের শক্তি-সামর্থ্য। মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মতো সাহস ও প্রস্তুতি তাদের ছিল না। তাই তারা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। কিন্তু কতিপয় পাপিষ্ঠ তারা কিছুতেই মুসলমানদের বিনা বাধায় মক্কায় প্রবেশ করতে দেবে না। সংখ্যায় ছিল তারা নিতান্তই স্বল্প। ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের জিঘাংসা এতই প্রগাঢ় যে, কিছুতেই তারা مسلمانوں কা ফের মক্কায় প্রবেশ করতে দেবে না। মুসলিম বাহিনীকে প্রতিহত করতে তারা এগিয়ে আসে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে প্রেরণ করলেন তাদের মুকাবেলা করার জন্য। নবীজি জানতেন, খালিদই তাদের জন্য যথেষ্ট। হযরত খালিদ অসীম সাহসে এগিয়ে গেলেন তাদের দিকে। মক্কার কাফেরদের হযরত খালিদ একাই ধরাশায়ী করেন। তাদের ক-জনকে তিনি হত্যা করেন। আর ক-জন জান নিয়ে পালিয়ে যায়।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقُ وَلَكُمُ الْوَيْلُ مِمَّا تَصِفُون
'আমি সত্য দ্বারা মিথ্যার ওপর আঘাত করি; সত্য তখন মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় আর তখনই মিথ্যা বিলুপ্ত হয়ে যায়। তোমরা যা বলছ তার কারণে তোমাদের জন্য রয়েছে বড় দুর্ভোগ।' ⁹³
মক্কা বিজয় হলো। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরامকে নিয়ে মক্কায় প্রবেশ করলেন। সেই মক্কা, যা ছিল তাদের জন্মভূমি। যেখান থেকে একদিন তারা হিজরত করেছিলেন মদিনায়।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন সেসব মহান সাহাবায়ে কেরামের মধ্য থেকে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মানের ঘোষণা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
لَا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُوْلَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنَ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلًّا وَعَدَ اللهُ الْحُسْنَى
'তোমাদের মধ্যে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে তারা অন্যদের সমান নয়। মর্যাদায় এরা তাদের চেয়ে বড়, যারা পরে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে। তবে আল্লাহ প্রত্যেককে কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। '⁹⁴

টিকাঃ
৯০ সুরা আলে ইমরান: ১৬০
৯১ সুরা আলে ইমরান: ১৩
৯২ সুরা বাকারা: ২৪৯
৯৩ সুরা আম্বিয়া: ২১
৯৪ সুরা হাদিদ: ১০

হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এখন মুসলমান। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন প্রিয় সাহাবি। ইসলামের নিবেদিত সৈনিক। মুসলিম বাহিনীর একজন সাহসী সদস্য। ইসলাম গ্রহণের পর মুসলমানের সাথে বহু যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি যুদ্ধে তিনি প্রদর্শন করেছেন সীমাহীন বীরত্ব। তার অসীম সাহসে কেঁপে উঠত রণাঙ্গন। শত্রুপক্ষ তার ভয়ে থাকত কম্পমান। প্রচণ্ড সাহসিকতায় তিনি শত্রুদের ভেতর ঢুকে পড়তেন। তার বীরত্বগাথা ইতিহাসে আলো করা। তেমনি একটি যুদ্ধ রোমানদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধ।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্যে পৃথিবীর সকল রাজা-বাদশাহদের নিকট ইসলামের দাওয়াতপত্র প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোম সম্রাটের নিকট দূতের মাধ্যমে একটি চিঠি প্রেরণ করলেন। চিঠি নিয়ে গেলেন হযরত হারেসা ইবনে উমায়ের রা.। কিন্তু পথিমধ্যে ঘটে গেল এক নৃশংস ঘটনা। পাপিষ্ঠ সুরাহ বিন আমর নবীজির পাঠানো দূত হযরত হারেসা ইবনে উমায়ের রা.-কে মুতার প্রান্তরে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সুরাহ বিন আমর ছিল রোম সম্রাটের নিযুক্ত গভর্নর। তৎকালীন সময়ে দূত হত্যা ছিল অত্যন্ত জঘন্য। দূত হত্যার সংবাদ শুনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীষণ ক্ষিপ্ত হলেন। তখনই অঙ্গীকার করলেন দূত হত্যার প্রতিশোধ নেবেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা.-কে সেনাপতি করে তিন হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী প্রেরণ করলেন রোমানদের বিরুদ্ধে। মাত্র তিন হাজার সৈন্য নিয়ে হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা. রওনা হলেন রোমের অভিমুখে। মুসলমানদের আগমনের সংবাদ পৌঁছে গেল রোম সম্রাটের নিকট। খবর পেয়ে রোম সম্রাট মুসলমানদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বাহিনী প্রস্তুত করে। এক লক্ষ বিশ হাজার সৈন্যের বিশাল সৈন্যবাহিনী তৈরি হলো।
মুসলমানদের তিন হাজার সৈন্যের মোকাবেলায় শক্তিশালী রোমানদের এক লক্ষ বিশ হাজার সৈন্য। বাহ্যত মুসলমানদের কাফেলাকে কিছুই মনে হয় না। এত বড় বাহিনীর সাথে সামান্য সৈন্য দিয়ে কুলিয়ে কীভাবে সম্ভব। কিন্তু মুসলমান কখনো সংখ্যা ও বাহ্যিক উপকরণের ভিত্তিতে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে না। مسلمانوں کا সাহায্য তো আসে আসমান থেকে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা উপর থেকে তাদের জন্য সাহায্য প্রেরণ করেন। বাহ্যিক আসবাব উপকরণের সাথে مسلمانوں کا বিজয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِن يَنصُرْكُمُ اللَّهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ وَإِن يَخْذُلْكُمْ فَمَن ذَا الَّذِي يَنصُرُكُم مِّن بَعْدِهِ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ
'আল্লাহ যদি তোমাদের সাহায্য করেন তাহলে তোমাদের ওপর কেউ বিজয়ী হতে পারবে না। আর তিনি যদি তোমাদের পরিত্যাগ করেন তাহলে তিনি ছাড়া এমন কে আছে যে তোমাদের সাহায্য করতে পারে? তাই মুমিনগণ যেন আল্লাহর ওপর ভরসা করে।' ⁹⁰
আরেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
قَدْ كَانَ لَكُمْ آيَةٌ فِي فِئَتَيْنِ الْتَقَتَا فِئَةٌ تُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأُخْرَى كَافِرَةٌ يَرَوْنَهُم مِّثْلَيْهِمْ رَأْيَ الْعَيْنِ وَاللَّهُ يُؤَيِّدُ بِنَصْرِهِ مَن يَشَاءُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَعِبْرَةً لِأُولِي الْأَبْصَارِ
'যুদ্ধক্ষেত্রে মিলিত হওয়া দুটো দলের মধ্যে তোমাদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন ছিল। একটি দল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করেছিল আর অন্যটি ছিল কাফেরদের দল; যারা ঈমানদারদের চোখের দেখায় দ্বিগুণ দেখেছিল। আর আল্লাহ যাকে চান স্বীয় সাহায্য দ্বারা শক্তিশালী করেন। নিশ্চয় ঐ ঘটনার মধ্যে দৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য রয়েছে শিক্ষা।' ⁹¹
অন্য আয়াদে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَمْ مِنْ فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةٌ كَثِيرَةٌ بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصابرين
'আল্লাহর হুকুমে কত ছোট দল কত বড় দলকে পরাজিত করেছে। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।'⁹²
অভিযানে প্রেরণ করার পূর্বে মুসলিম বাহিনীকে লক্ষ্য করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'যুদ্ধে সেনাপতি যায়েদ যদি শহিদ হয়, তাহলে পরবর্তী সেনাপতি নিযুক্ত হবে জাফর ইবনে আবু তালেব। জাফর যদি শহিদ হয়, তাহলে পরবর্তী সেনাপতি হবে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা। যদি আবদুল্লাহও শহিদ হয়ে যায় তাহলে মুসলমানদের ভেতর থেকে পছন্দনীয় ব্যক্তিকে সেনাপতি নির্বাচন করা হবে।'
আর কোনো যুদ্ধে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনজন সেনাপতি নিযুক্ত করেননি। আর যে তিনজনকে ধারাবাহিক সেনাপতি নিযুক্ত করেছেন তারা ছিলেন সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তাদের বৈশিষ্ট্য ছিল, তারা দিনের আলোতে ঘোড়সওয়ার ও দক্ষ সমরনায়ক এবং রাতের আঁধারে সাধক, তাহাজ্জুদ ও জিকির-আজকারে মত্ত থাকতেন।
স্বভাবতই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এ যুদ্ধের গুরুত্ব ছিল অত্যধিক। হযরত যায়েদ ইবনে হারেসার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী ছুটে চলল। مسلمانوں کا ততদিনে শক্তি ও সামর্থ্য যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন আর পূর্বের মতো অত দুর্বল ও সহায় সম্বলহীন নয়। অস্ত্রের ঝনঝনানি আর ঘোড়ার ক্ষুরধ্বনিতে তারা বহুবার প্রকম্পিত করেছে আরবের মাটি। জর্দানের মাআন নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেন মুসলিম সেনাপতি হযরত যায়েদ ইবনে হারেসা। রোমান বাহিনী মুসলমানদের অদূরেই যুদ্ধের তাবু স্থাপন করে।
কাফেরদের সৈন্যসংখ্যা দেখে মুসলিম বাহিনী ভাবনায় পড়ে গেল। তাদের কপালে দেখা দিলো নিদারুণ চিন্তার ভাঁজ। কিছুটা ভয়ও। এত বড় বাহিনীর মোকাবেলা করতে হবে ভাবতে পারেননি সেনাপতি যায়েদ ইবনে হারেসা। সৈন্যও তাদের অতি সামান্য। এমতাবস্থায় করণীয় কী হতে পারে এ নিয়ে ভাবতে থাকেন সাহাবায়ে কেরাম। পরস্পরে চলতে থাকে বিভিন্ন শলা-পরামর্শ। কেউ বললেন, রোমানদের সৈন্যসংখ্যা জানিয়ে পত্র লেখা হোক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট। রাসুল আমাদের যে পরামর্শ দেবেন আমরা সে অনুযায়ী কাজ করব। কেউ বললেন, আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমরা সংখ্যাধিক্য এবং শক্তির ওপর ভরসা করে যুদ্ধ করি না। আমরা যুদ্ধ করি দ্বীনের জন্য। সুতরাং আমরা যে উদ্দেশ্যে বের হয়েছি, সে উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত করব। আল্লাহ আমাদের দুটি কল্যাণের কোনো একটি অবশ্যই দান করবেন। হয় বিজয়, নয় আল্লাহর পথে শাহাদত।
সর্বশেষ সেনাপতি হযরত যায়েদ বিন হারেসা রোমানদের সাথে যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। মুসলিম বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তাদের সংখ্যাধিক্য যেন আমাদের হৃদয়ে কোনো ভীতি সঞ্চার করতে না পারে। আমরা সংখ্যার ভিত্তিতে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করি না। আমাদের সাহায্য প্রেরিত আল্লাহর পক্ষ থেকে।
মুতার প্রান্তরে মুখোমুখি হলো উভয় দল। শুরু হলো ভয়ানক লড়াই। রোমানদের লক্ষাধিক সৈন্যের দুর্ধর্ষ বাহিনীর সামনে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে লড়াই করছেন মাত্র তিন হাজার মুসলিম সৈন্য। অস্ত্র-শস্ত্রেও মুসলমানরা রোমানদের চেয়ে দুর্বল। কিন্তু মুতার প্রান্তরে সেদিন ঘটে গেল বিস্ময়কর এক উপাখ্যান। পৃথিবীর ইতিহাসে রচিত হলো এক নয়া দাস্তান।
মুসলমানদের মাত্র তিন হাজার সৈন্য শক্তিশালী রোমানদের লক্ষ্য সৈন্যকে রীতিমতো নাকানি-চুবানি খাইয়ে দিচ্ছে। مسلمانوں کا সাহসিকতা ও যুদ্ধের দক্ষতা দেখে রোমান সৈন্যরা বিস্ময়ে হতবাক। রোমানরা যেখানে ভেবেছে, সামান্য লড়াইয়ে উড়িয়ে দেবে مسلمانوں کا, সেখানে তারা তৈরি করেছে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
মুতার প্রান্তরে দুই পক্ষের মধ্যে চলছে তুমুল লড়াই। মুসলমানদের পতাকা সেনাপতি হযরত যায়েদ ইবনে হারেসার হাতে। এক হাতে পতাকা আর অপর হাতে তরবারি হাতে তিনি ঢুকে পড়েন শত্রুদের ভেতর। শাহাদতের তৃষ্ণায় ব্যাকুল হয়ে ওঠেন মুসলিম সেনাপতি হযরত যায়েদ। তার চোখের সামনে যেন বারবার ভেসে উঠছে প্রতিশ্রুত বেহেশত। জীবনের কথা ভুলে গেলেন তিনি।
মুতার প্রান্তরে হযরত যায়েদ বিন হারেসা যে অসীম বীরত্ব দেখিয়েছেন ইতিহাসে তার জুড়ি মেলা ভার। শত্রুকে আঘাত করে করে সম্মুখে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার তরবারির আঘাতে একের-পর-এক ধরাশায়ী হতে থাকে রোমান সৈন্য। তিনি যখন শত্রুদের গর্দানে তরবারি চালাচ্ছেন তখন এক শত্রু প্রচণ্ড শক্তিকে আঘাত করে। রক্তে ভেসে যায় মুসলিম সেনাপতির শরীর। অস্ফুট স্বরে কালিমা পড়তে পড়তে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা.। পান করেন শাহাদতের অমীয় সুধা।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা অনুযায়ী যুদ্ধের পতাকা হাতে তুলে নেন হযরত জাফর রা.। এক হাতে পতাকা, আরেক হাতে তরবারি নিয়ে তিনিও প্রাণপন লড়ে যাচ্ছেন রোমানদের বিরুদ্ধে। লড়াই করতে করতে অবশেষে তিনিও শহিদ হয়ে গেলেন।
এবার পতাকা হাতে তুলে নেন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা.। অবিশ্রান্ত যুদ্ধ করতে করতে তিনিও দুই সেনাপতির সাথে মিলিত হলেন। মুতার প্রান্তর ভেসে গেল হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহার রক্তে।
রণাঙ্গনে মৃত্যু হয় যার, তার জীবন তো আসমানের। আত্মোৎসর্গের অপার্থিব ঝরনায় সিক্ত হলেন ইসলামের তিন সাহসী সেনাপতি।
একে একে তিনজন সেনাপতি শাহাদতবরণ করলেন। মুসলমানরা এবার সেনাপতি নির্বাচন করলেন হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ-ইতিহাসের এক রণবীরের নাম। মহাকালের মহানায়ক তিনি।
তিনি রণাঙ্গনের স্বর্ণঈগল। অপরাজেয় সেনাপতি।
সর্বকালের বীরশ্রেষ্ঠদের একজন হযরত খালিদ। ইতিহাস গর্ব করে আজও তার নাম উচ্চারণ করে। এ নাম উচ্চারণ করামাত্র মুমিনের হৃদয় ও রক্তে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ফুলে ওঠে সাহসের প্রতিটি শিরা-উপশিরা।
যুদ্ধের পতাকা হাতে নিলেন সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.। যুদ্ধের নতুন ছক আকলেন তিনি। সাহাবায়ে কেরامকে নিয়ে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেন রোমানদের বিরুদ্ধে। লক্ষ রোমান সেনার বিরুদ্ধে তিন হাজার মুজাহিদ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
ঘোড়ার পিঠে চড়ে বাতাসের মতো ক্ষিপ্রগতিতে তিনি এগিয়ে যান কাফেরদের সম্মুখে। সাহাবায়ে কেরাম ছুটছেন তার পেছনে পেছনে। মুসলমানরা যখন জীবনের মায়া ভুলে তলোয়ার উঁচু করে রোমান কাফেরদের ধাওয়া করল, তখন এক অলৌকিক ভয় রোমানদের হৃদয়কে কাঁপিয়ে তুলে। জীবন বাঁচাতে পেছনের দিকে ছুটতে থাকে তারা। রোমান সেনাপতি সৈন্যদের ডাকতে থাকে; কিন্তু সেদিকে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ নেই তাদের। প্রাণ বাঁচাতে তারা উর্ধ্বশ্বাসে পালাতে থাকে। সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. মুসলিম সৈন্যদের নিয়ে ঢুকে পড়েন রোমান বাহিনীর ভেতর। তীব্রভাবে মুসলমানরা তরবারি চালাতে থাকে। দিশেহারা হয়ে পড়ে শত্রুর দল। তখন বহু সৈন্য হতাহত হয়। রোমানদের রক্তে ভেসে যায় মুতার প্রান্তর।
আল্লাহ বিজয় দান করলেন مسلمانوں کا। মুতার প্রান্তরে রচিত হলো ইতিহাসের অমর বিজয়কাব্য। সেদিন পৃথিবী চিনল এক নতুন সেনাপতিকে। এক নতুন মহানায়ককে। তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.। তার জীবনের একমাত্র স্বপ্ন ছিল, যেন জিহাদের ময়দানে শহিদি মৃত্যু হয় তার। কিন্তু এমন কোনো বীর বাহাদুরের জন্ম হয়নি যে হত্যা করবে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম দিয়েছিলেন সাইফুল্লাহ তথা আল্লাহর তরবারি। আল্লাহর তরবারি ভাঙতে পারেনি কেউ কোনোদিন।
মক্কা বিজয় ও খালিদ বিন ওয়ালিদ রা: কাফেরদের অত্যাচারে একদিন মুসলমানরা মাতৃভূমি ছেড়ে মদিনায় হিজরত করে। ধীরে ধীরে মুসলমানরা শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে। ৮ম হিজরিতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের ইচ্ছা করলেন। রাসুলের নির্দেশে সাহাবায়ে কেরাম যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। হকের বাহিনী এগিয়ে চলছে মক্কা অভিমুখে। আজ সঙ্গে আছেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। কাফেরদের সাথে মুসলমানদের আজ চূড়ান্ত সংঘাত হবে। দূর থেকে مسلمانوں کا আগমন দেখে মক্কাবাসী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। ভেতরে ভেতরে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এককালে মক্কার দুর্দণ্ড প্রতাপ থাকলেও ততদিনে খর্ব হয়ে এসেছে তাদের শক্তি-সামর্থ্য। মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মতো সাহস ও প্রস্তুতি তাদের ছিল না। তাই তারা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। কিন্তু কতিপয় পাপিষ্ঠ তারা কিছুতেই মুসলমানদের বিনা বাধায় মক্কায় প্রবেশ করতে দেবে না। সংখ্যায় ছিল তারা নিতান্তই স্বল্প। ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের জিঘাংসা এতই প্রগাঢ় যে, কিছুতেই তারা مسلمانوں কা ফের মক্কায় প্রবেশ করতে দেবে না। মুসলিম বাহিনীকে প্রতিহত করতে তারা এগিয়ে আসে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে প্রেরণ করলেন তাদের মুকাবেলা করার জন্য। নবীজি জানতেন, খালিদই তাদের জন্য যথেষ্ট। হযরত খালিদ অসীম সাহসে এগিয়ে গেলেন তাদের দিকে। মক্কার কাফেরদের হযরত খালিদ একাই ধরাশায়ী করেন। তাদের ক-জনকে তিনি হত্যা করেন। আর ক-জন জান নিয়ে পালিয়ে যায়।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقُ وَلَكُمُ الْوَيْلُ مِمَّا تَصِفُون
'আমি সত্য দ্বারা মিথ্যার ওপর আঘাত করি; সত্য তখন মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় আর তখনই মিথ্যা বিলুপ্ত হয়ে যায়। তোমরা যা বলছ তার কারণে তোমাদের জন্য রয়েছে বড় দুর্ভোগ।' ⁹³
মক্কা বিজয় হলো। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরامকে নিয়ে মক্কায় প্রবেশ করলেন। সেই মক্কা, যা ছিল তাদের জন্মভূমি। যেখান থেকে একদিন তারা হিজরত করেছিলেন মদিনায়।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন সেসব মহান সাহাবায়ে কেরামের মধ্য থেকে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মানের ঘোষণা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
لَا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُوْلَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنَ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلًّا وَعَدَ اللهُ الْحُسْنَى
'তোমাদের মধ্যে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে তারা অন্যদের সমান নয়। মর্যাদায় এরা তাদের চেয়ে বড়, যারা পরে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে। তবে আল্লাহ প্রত্যেককে কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। '⁹⁴

টিকাঃ
৯০ সুরা আলে ইমরান: ১৬০
৯১ সুরা আলে ইমরান: ১৩
৯২ সুরা বাকারা: ২৪৯
৯৩ সুরা আম্বিয়া: ২১
৯৪ সুরা হাদিদ: ১০

হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এখন মুসলমান। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন প্রিয় সাহাবি। ইসলামের নিবেদিত সৈনিক। মুসলিম বাহিনীর একজন সাহসী সদস্য। ইসলাম গ্রহণের পর মুসলমানের সাথে বহু যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি যুদ্ধে তিনি প্রদর্শন করেছেন সীমাহীন বীরত্ব। তার অসীম সাহসে কেঁপে উঠত রণাঙ্গন। শত্রুপক্ষ তার ভয়ে থাকত কম্পমান। প্রচণ্ড সাহসিকতায় তিনি শত্রুদের ভেতর ঢুকে পড়তেন। তার বীরত্বগাথা ইতিহাসে আলো করা। তেমনি একটি যুদ্ধ রোমানদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধ।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্যে পৃথিবীর সকল রাজা-বাদশাহদের নিকট ইসলামের দাওয়াতপত্র প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোম সম্রাটের নিকট দূতের মাধ্যমে একটি চিঠি প্রেরণ করলেন। চিঠি নিয়ে গেলেন হযরত হারেসা ইবনে উমায়ের রা.। কিন্তু পথিমধ্যে ঘটে গেল এক নৃশংস ঘটনা। পাপিষ্ঠ সুরাহ বিন আমর নবীজির পাঠানো দূত হযরত হারেসা ইবনে উমায়ের রা.-কে মুতার প্রান্তরে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সুরাহ বিন আমর ছিল রোম সম্রাটের নিযুক্ত গভর্নর। তৎকালীন সময়ে দূত হত্যা ছিল অত্যন্ত জঘন্য। দূত হত্যার সংবাদ শুনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীষণ ক্ষিপ্ত হলেন। তখনই অঙ্গীকার করলেন দূত হত্যার প্রতিশোধ নেবেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা.-কে সেনাপতি করে তিন হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী প্রেরণ করলেন রোমানদের বিরুদ্ধে। মাত্র তিন হাজার সৈন্য নিয়ে হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা. রওনা হলেন রোমের অভিমুখে। মুসলমানদের আগমনের সংবাদ পৌঁছে গেল রোম সম্রাটের নিকট। খবর পেয়ে রোম সম্রাট মুসলমানদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বাহিনী প্রস্তুত করে। এক লক্ষ বিশ হাজার সৈন্যের বিশাল সৈন্যবাহিনী তৈরি হলো।
মুসলমানদের তিন হাজার সৈন্যের মোকাবেলায় শক্তিশালী রোমানদের এক লক্ষ বিশ হাজার সৈন্য। বাহ্যত মুসলমানদের কাফেলাকে কিছুই মনে হয় না। এত বড় বাহিনীর সাথে সামান্য সৈন্য দিয়ে কুলিয়ে কীভাবে সম্ভব। কিন্তু মুসলমান কখনো সংখ্যা ও বাহ্যিক উপকরণের ভিত্তিতে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে না। مسلمانوں کا সাহায্য তো আসে আসমান থেকে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা উপর থেকে তাদের জন্য সাহায্য প্রেরণ করেন। বাহ্যিক আসবাব উপকরণের সাথে مسلمانوں کا বিজয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِن يَنصُرْكُمُ اللَّهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ وَإِن يَخْذُلْكُمْ فَمَن ذَا الَّذِي يَنصُرُكُم مِّن بَعْدِهِ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ
'আল্লাহ যদি তোমাদের সাহায্য করেন তাহলে তোমাদের ওপর কেউ বিজয়ী হতে পারবে না। আর তিনি যদি তোমাদের পরিত্যাগ করেন তাহলে তিনি ছাড়া এমন কে আছে যে তোমাদের সাহায্য করতে পারে? তাই মুমিনগণ যেন আল্লাহর ওপর ভরসা করে।' ⁹⁰
আরেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
قَدْ كَانَ لَكُمْ آيَةٌ فِي فِئَتَيْنِ الْتَقَتَا فِئَةٌ تُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأُخْرَى كَافِرَةٌ يَرَوْنَهُم مِّثْلَيْهِمْ رَأْيَ الْعَيْنِ وَاللَّهُ يُؤَيِّدُ بِنَصْرِهِ مَن يَشَاءُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَعِبْرَةً لِأُولِي الْأَبْصَارِ
'যুদ্ধক্ষেত্রে মিলিত হওয়া দুটো দলের মধ্যে তোমাদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন ছিল। একটি দল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করেছিল আর অন্যটি ছিল কাফেরদের দল; যারা ঈমানদারদের চোখের দেখায় দ্বিগুণ দেখেছিল। আর আল্লাহ যাকে চান স্বীয় সাহায্য দ্বারা শক্তিশালী করেন। নিশ্চয় ঐ ঘটনার মধ্যে দৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য রয়েছে শিক্ষা।' ⁹¹
অন্য আয়াদে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَمْ مِنْ فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةٌ كَثِيرَةٌ بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصابرين
'আল্লাহর হুকুমে কত ছোট দল কত বড় দলকে পরাজিত করেছে। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।'⁹²
অভিযানে প্রেরণ করার পূর্বে মুসলিম বাহিনীকে লক্ষ্য করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'যুদ্ধে সেনাপতি যায়েদ যদি শহিদ হয়, তাহলে পরবর্তী সেনাপতি নিযুক্ত হবে জাফর ইবনে আবু তালেব। জাফর যদি শহিদ হয়, তাহলে পরবর্তী সেনাপতি হবে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা। যদি আবদুল্লাহও শহিদ হয়ে যায় তাহলে মুসলমানদের ভেতর থেকে পছন্দনীয় ব্যক্তিকে সেনাপতি নির্বাচন করা হবে।'
আর কোনো যুদ্ধে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনজন সেনাপতি নিযুক্ত করেননি। আর যে তিনজনকে ধারাবাহিক সেনাপতি নিযুক্ত করেছেন তারা ছিলেন সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তাদের বৈশিষ্ট্য ছিল, তারা দিনের আলোতে ঘোড়সওয়ার ও দক্ষ সমরনায়ক এবং রাতের আঁধারে সাধক, তাহাজ্জুদ ও জিকির-আজকারে মত্ত থাকতেন।
স্বভাবতই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এ যুদ্ধের গুরুত্ব ছিল অত্যধিক। হযরত যায়েদ ইবনে হারেসার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী ছুটে চলল। مسلمانوں کا ততদিনে শক্তি ও সামর্থ্য যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন আর পূর্বের মতো অত দুর্বল ও সহায় সম্বলহীন নয়। অস্ত্রের ঝনঝনানি আর ঘোড়ার ক্ষুরধ্বনিতে তারা বহুবার প্রকম্পিত করেছে আরবের মাটি। জর্দানের মাআন নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেন মুসলিম সেনাপতি হযরত যায়েদ ইবনে হারেসা। রোমান বাহিনী মুসলমানদের অদূরেই যুদ্ধের তাবু স্থাপন করে।
কাফেরদের সৈন্যসংখ্যা দেখে মুসলিম বাহিনী ভাবনায় পড়ে গেল। তাদের কপালে দেখা দিলো নিদারুণ চিন্তার ভাঁজ। কিছুটা ভয়ও। এত বড় বাহিনীর মোকাবেলা করতে হবে ভাবতে পারেননি সেনাপতি যায়েদ ইবনে হারেসা। সৈন্যও তাদের অতি সামান্য। এমতাবস্থায় করণীয় কী হতে পারে এ নিয়ে ভাবতে থাকেন সাহাবায়ে কেরাম। পরস্পরে চলতে থাকে বিভিন্ন শলা-পরামর্শ। কেউ বললেন, রোমানদের সৈন্যসংখ্যা জানিয়ে পত্র লেখা হোক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট। রাসুল আমাদের যে পরামর্শ দেবেন আমরা সে অনুযায়ী কাজ করব। কেউ বললেন, আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমরা সংখ্যাধিক্য এবং শক্তির ওপর ভরসা করে যুদ্ধ করি না। আমরা যুদ্ধ করি দ্বীনের জন্য। সুতরাং আমরা যে উদ্দেশ্যে বের হয়েছি, সে উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত করব। আল্লাহ আমাদের দুটি কল্যাণের কোনো একটি অবশ্যই দান করবেন। হয় বিজয়, নয় আল্লাহর পথে শাহাদত।
সর্বশেষ সেনাপতি হযরত যায়েদ বিন হারেসা রোমানদের সাথে যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। মুসলিম বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তাদের সংখ্যাধিক্য যেন আমাদের হৃদয়ে কোনো ভীতি সঞ্চার করতে না পারে। আমরা সংখ্যার ভিত্তিতে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করি না। আমাদের সাহায্য প্রেরিত আল্লাহর পক্ষ থেকে।
মুতার প্রান্তরে মুখোমুখি হলো উভয় দল। শুরু হলো ভয়ানক লড়াই। রোমানদের লক্ষাধিক সৈন্যের দুর্ধর্ষ বাহিনীর সামনে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে লড়াই করছেন মাত্র তিন হাজার মুসলিম সৈন্য। অস্ত্র-শস্ত্রেও মুসলমানরা রোমানদের চেয়ে দুর্বল। কিন্তু মুতার প্রান্তরে সেদিন ঘটে গেল বিস্ময়কর এক উপাখ্যান। পৃথিবীর ইতিহাসে রচিত হলো এক নয়া দাস্তান।
মুসলমানদের মাত্র তিন হাজার সৈন্য শক্তিশালী রোমানদের লক্ষ্য সৈন্যকে রীতিমতো নাকানি-চুবানি খাইয়ে দিচ্ছে। مسلمانوں کا সাহসিকতা ও যুদ্ধের দক্ষতা দেখে রোমান সৈন্যরা বিস্ময়ে হতবাক। রোমানরা যেখানে ভেবেছে, সামান্য লড়াইয়ে উড়িয়ে দেবে مسلمانوں کا, সেখানে তারা তৈরি করেছে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
মুতার প্রান্তরে দুই পক্ষের মধ্যে চলছে তুমুল লড়াই। মুসলমানদের পতাকা সেনাপতি হযরত যায়েদ ইবনে হারেসার হাতে। এক হাতে পতাকা আর অপর হাতে তরবারি হাতে তিনি ঢুকে পড়েন শত্রুদের ভেতর। শাহাদতের তৃষ্ণায় ব্যাকুল হয়ে ওঠেন মুসলিম সেনাপতি হযরত যায়েদ। তার চোখের সামনে যেন বারবার ভেসে উঠছে প্রতিশ্রুত বেহেশত। জীবনের কথা ভুলে গেলেন তিনি।
মুতার প্রান্তরে হযরত যায়েদ বিন হারেসা যে অসীম বীরত্ব দেখিয়েছেন ইতিহাসে তার জুড়ি মেলা ভার। শত্রুকে আঘাত করে করে সম্মুখে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার তরবারির আঘাতে একের-পর-এক ধরাশায়ী হতে থাকে রোমান সৈন্য। তিনি যখন শত্রুদের গর্দানে তরবারি চালাচ্ছেন তখন এক শত্রু প্রচণ্ড শক্তিকে আঘাত করে। রক্তে ভেসে যায় মুসলিম সেনাপতির শরীর। অস্ফুট স্বরে কালিমা পড়তে পড়তে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা.। পান করেন শাহাদতের অমীয় সুধা।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা অনুযায়ী যুদ্ধের পতাকা হাতে তুলে নেন হযরত জাফর রা.। এক হাতে পতাকা, আরেক হাতে তরবারি নিয়ে তিনিও প্রাণপন লড়ে যাচ্ছেন রোমানদের বিরুদ্ধে। লড়াই করতে করতে অবশেষে তিনিও শহিদ হয়ে গেলেন।
এবার পতাকা হাতে তুলে নেন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা.। অবিশ্রান্ত যুদ্ধ করতে করতে তিনিও দুই সেনাপতির সাথে মিলিত হলেন। মুতার প্রান্তর ভেসে গেল হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহার রক্তে।
রণাঙ্গনে মৃত্যু হয় যার, তার জীবন তো আসমানের। আত্মোৎসর্গের অপার্থিব ঝরনায় সিক্ত হলেন ইসলামের তিন সাহসী সেনাপতি।
একে একে তিনজন সেনাপতি শাহাদতবরণ করলেন। মুসলমানরা এবার সেনাপতি নির্বাচন করলেন হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ-ইতিহাসের এক রণবীরের নাম। মহাকালের মহানায়ক তিনি।
তিনি রণাঙ্গনের স্বর্ণঈগল। অপরাজেয় সেনাপতি।
সর্বকালের বীরশ্রেষ্ঠদের একজন হযরত খালিদ। ইতিহাস গর্ব করে আজও তার নাম উচ্চারণ করে। এ নাম উচ্চারণ করামাত্র মুমিনের হৃদয় ও রক্তে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ফুলে ওঠে সাহসের প্রতিটি শিরা-উপশিরা।
যুদ্ধের পতাকা হাতে নিলেন সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.। যুদ্ধের নতুন ছক আকলেন তিনি। সাহাবায়ে কেরامকে নিয়ে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেন রোমানদের বিরুদ্ধে। লক্ষ রোমান সেনার বিরুদ্ধে তিন হাজার মুজাহিদ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
ঘোড়ার পিঠে চড়ে বাতাসের মতো ক্ষিপ্রগতিতে তিনি এগিয়ে যান কাফেরদের সম্মুখে। সাহাবায়ে কেরাম ছুটছেন তার পেছনে পেছনে। মুসলমানরা যখন জীবনের মায়া ভুলে তলোয়ার উঁচু করে রোমান কাফেরদের ধাওয়া করল, তখন এক অলৌকিক ভয় রোমানদের হৃদয়কে কাঁপিয়ে তুলে। জীবন বাঁচাতে পেছনের দিকে ছুটতে থাকে তারা। রোমান সেনাপতি সৈন্যদের ডাকতে থাকে; কিন্তু সেদিকে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ নেই তাদের। প্রাণ বাঁচাতে তারা উর্ধ্বশ্বাসে পালাতে থাকে। সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. মুসলিম সৈন্যদের নিয়ে ঢুকে পড়েন রোমান বাহিনীর ভেতর। তীব্রভাবে মুসলমানরা তরবারি চালাতে থাকে। দিশেহারা হয়ে পড়ে শত্রুর দল। তখন বহু সৈন্য হতাহত হয়। রোমানদের রক্তে ভেসে যায় মুতার প্রান্তর।
আল্লাহ বিজয় দান করলেন مسلمانوں کا। মুতার প্রান্তরে রচিত হলো ইতিহাসের অমর বিজয়কাব্য। সেদিন পৃথিবী চিনল এক নতুন সেনাপতিকে। এক নতুন মহানায়ককে। তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.। তার জীবনের একমাত্র স্বপ্ন ছিল, যেন জিহাদের ময়দানে শহিদি মৃত্যু হয় তার। কিন্তু এমন কোনো বীর বাহাদুরের জন্ম হয়নি যে হত্যা করবে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম দিয়েছিলেন সাইফুল্লাহ তথা আল্লাহর তরবারি। আল্লাহর তরবারি ভাঙতে পারেনি কেউ কোনোদিন।
মক্কা বিজয় ও খালিদ বিন ওয়ালিদ রা: কাফেরদের অত্যাচারে একদিন মুসলমানরা মাতৃভূমি ছেড়ে মদিনায় হিজরত করে। ধীরে ধীরে মুসলমানরা শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে। ৮ম হিজরিতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের ইচ্ছা করলেন। রাসুলের নির্দেশে সাহাবায়ে কেরাম যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। হকের বাহিনী এগিয়ে চলছে মক্কা অভিমুখে। আজ সঙ্গে আছেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। কাফেরদের সাথে মুসলমানদের আজ চূড়ান্ত সংঘাত হবে। দূর থেকে مسلمانوں کا আগমন দেখে মক্কাবাসী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। ভেতরে ভেতরে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এককালে মক্কার দুর্দণ্ড প্রতাপ থাকলেও ততদিনে খর্ব হয়ে এসেছে তাদের শক্তি-সামর্থ্য। মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মতো সাহস ও প্রস্তুতি তাদের ছিল না। তাই তারা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। কিন্তু কতিপয় পাপিষ্ঠ তারা কিছুতেই মুসলমানদের বিনা বাধায় মক্কায় প্রবেশ করতে দেবে না। সংখ্যায় ছিল তারা নিতান্তই স্বল্প। ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের জিঘাংসা এতই প্রগাঢ় যে, কিছুতেই তারা مسلمانوں কা ফের মক্কায় প্রবেশ করতে দেবে না। মুসলিম বাহিনীকে প্রতিহত করতে তারা এগিয়ে আসে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে প্রেরণ করলেন তাদের মুকাবেলা করার জন্য। নবীজি জানতেন, খালিদই তাদের জন্য যথেষ্ট। হযরত খালিদ অসীম সাহসে এগিয়ে গেলেন তাদের দিকে। মক্কার কাফেরদের হযরত খালিদ একাই ধরাশায়ী করেন। তাদের ক-জনকে তিনি হত্যা করেন। আর ক-জন জান নিয়ে পালিয়ে যায়।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقُ وَلَكُمُ الْوَيْلُ مِمَّا تَصِفُون
'আমি সত্য দ্বারা মিথ্যার ওপর আঘাত করি; সত্য তখন মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় আর তখনই মিথ্যা বিলুপ্ত হয়ে যায়। তোমরা যা বলছ তার কারণে তোমাদের জন্য রয়েছে বড় দুর্ভোগ।' ⁹³
মক্কা বিজয় হলো। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরامকে নিয়ে মক্কায় প্রবেশ করলেন। সেই মক্কা, যা ছিল তাদের জন্মভূমি। যেখান থেকে একদিন তারা হিজরত করেছিলেন মদিনায়।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন সেসব মহান সাহাবায়ে কেরামের মধ্য থেকে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মানের ঘোষণা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
لَا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُوْلَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنَ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلًّا وَعَدَ اللهُ الْحُسْنَى
'তোমাদের মধ্যে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে তারা অন্যদের সমান নয়। মর্যাদায় এরা তাদের চেয়ে বড়, যারা পরে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে। তবে আল্লাহ প্রত্যেককে কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। '⁹⁴

টিকাঃ
৯০ সুরা আলে ইমরান: ১৬০
৯১ সুরা আলে ইমরান: ১৩
৯২ সুরা বাকারা: ২৪৯
৯৩ সুরা আম্বিয়া: ২১
৯৪ সুরা হাদিদ: ১০

হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এখন মুসলমান। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন প্রিয় সাহাবি। ইসলামের নিবেদিত সৈনিক। মুসলিম বাহিনীর একজন সাহসী সদস্য। ইসলাম গ্রহণের পর মুসলমানের সাথে বহু যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি যুদ্ধে তিনি প্রদর্শন করেছেন সীমাহীন বীরত্ব। তার অসীম সাহসে কেঁপে উঠত রণাঙ্গন। শত্রুপক্ষ তার ভয়ে থাকত কম্পমান। প্রচণ্ড সাহসিকতায় তিনি শত্রুদের ভেতর ঢুকে পড়তেন। তার বীরত্বগাথা ইতিহাসে আলো করা। তেমনি একটি যুদ্ধ রোমানদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধ।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্যে পৃথিবীর সকল রাজা-বাদশাহদের নিকট ইসলামের দাওয়াতপত্র প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোম সম্রাটের নিকট দূতের মাধ্যমে একটি চিঠি প্রেরণ করলেন। চিঠি নিয়ে গেলেন হযরত হারেসা ইবনে উমায়ের রা.। কিন্তু পথিমধ্যে ঘটে গেল এক নৃশংস ঘটনা। পাপিষ্ঠ সুরাহ বিন আমর নবীজির পাঠানো দূত হযরত হারেসা ইবনে উমায়ের রা.-কে মুতার প্রান্তরে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সুরাহ বিন আমর ছিল রোম সম্রাটের নিযুক্ত গভর্নর। তৎকালীন সময়ে দূত হত্যা ছিল অত্যন্ত জঘন্য। দূত হত্যার সংবাদ শুনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীষণ ক্ষিপ্ত হলেন। তখনই অঙ্গীকার করলেন দূত হত্যার প্রতিশোধ নেবেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা.-কে সেনাপতি করে তিন হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী প্রেরণ করলেন রোমানদের বিরুদ্ধে। মাত্র তিন হাজার সৈন্য নিয়ে হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা. রওনা হলেন রোমের অভিমুখে। মুসলমানদের আগমনের সংবাদ পৌঁছে গেল রোম সম্রাটের নিকট। খবর পেয়ে রোম সম্রাট মুসলমানদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বাহিনী প্রস্তুত করে। এক লক্ষ বিশ হাজার সৈন্যের বিশাল সৈন্যবাহিনী তৈরি হলো।
মুসলমানদের তিন হাজার সৈন্যের মোকাবেলায় শক্তিশালী রোমানদের এক লক্ষ বিশ হাজার সৈন্য। বাহ্যত মুসলমানদের কাফেলাকে কিছুই মনে হয় না। এত বড় বাহিনীর সাথে সামান্য সৈন্য দিয়ে কুলিয়ে কীভাবে সম্ভব। কিন্তু মুসলমান কখনো সংখ্যা ও বাহ্যিক উপকরণের ভিত্তিতে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে না। مسلمانوں کا সাহায্য তো আসে আসমান থেকে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা উপর থেকে তাদের জন্য সাহায্য প্রেরণ করেন। বাহ্যিক আসবাব উপকরণের সাথে مسلمانوں کا বিজয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِن يَنصُرْكُمُ اللَّهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ وَإِن يَخْذُلْكُمْ فَمَن ذَا الَّذِي يَنصُرُكُم مِّن بَعْدِهِ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ
'আল্লাহ যদি তোমাদের সাহায্য করেন তাহলে তোমাদের ওপর কেউ বিজয়ী হতে পারবে না। আর তিনি যদি তোমাদের পরিত্যাগ করেন তাহলে তিনি ছাড়া এমন কে আছে যে তোমাদের সাহায্য করতে পারে? তাই মুমিনগণ যেন আল্লাহর ওপর ভরসা করে।' ⁹⁰
আরেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
قَدْ كَانَ لَكُمْ آيَةٌ فِي فِئَتَيْنِ الْتَقَتَا فِئَةٌ تُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأُخْرَى كَافِرَةٌ يَرَوْنَهُم مِّثْلَيْهِمْ رَأْيَ الْعَيْنِ وَاللَّهُ يُؤَيِّدُ بِنَصْرِهِ مَن يَشَاءُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَعِبْرَةً لِأُولِي الْأَبْصَارِ
'যুদ্ধক্ষেত্রে মিলিত হওয়া দুটো দলের মধ্যে তোমাদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন ছিল। একটি দল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করেছিল আর অন্যটি ছিল কাফেরদের দল; যারা ঈমানদারদের চোখের দেখায় দ্বিগুণ দেখেছিল। আর আল্লাহ যাকে চান স্বীয় সাহায্য দ্বারা শক্তিশালী করেন। নিশ্চয় ঐ ঘটনার মধ্যে দৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য রয়েছে শিক্ষা।' ⁹¹
অন্য আয়াদে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَمْ مِنْ فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةٌ كَثِيرَةٌ بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصابرين
'আল্লাহর হুকুমে কত ছোট দল কত বড় দলকে পরাজিত করেছে। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।'⁹²
অভিযানে প্রেরণ করার পূর্বে মুসলিম বাহিনীকে লক্ষ্য করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'যুদ্ধে সেনাপতি যায়েদ যদি শহিদ হয়, তাহলে পরবর্তী সেনাপতি নিযুক্ত হবে জাফর ইবনে আবু তালেব। জাফর যদি শহিদ হয়, তাহলে পরবর্তী সেনাপতি হবে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা। যদি আবদুল্লাহও শহিদ হয়ে যায় তাহলে মুসলমানদের ভেতর থেকে পছন্দনীয় ব্যক্তিকে সেনাপতি নির্বাচন করা হবে।'
আর কোনো যুদ্ধে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনজন সেনাপতি নিযুক্ত করেননি। আর যে তিনজনকে ধারাবাহিক সেনাপতি নিযুক্ত করেছেন তারা ছিলেন সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তাদের বৈশিষ্ট্য ছিল, তারা দিনের আলোতে ঘোড়সওয়ার ও দক্ষ সমরনায়ক এবং রাতের আঁধারে সাধক, তাহাজ্জুদ ও জিকির-আজকারে মত্ত থাকতেন।
স্বভাবতই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এ যুদ্ধের গুরুত্ব ছিল অত্যধিক। হযরত যায়েদ ইবনে হারেসার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী ছুটে চলল। مسلمانوں کا ততদিনে শক্তি ও সামর্থ্য যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন আর পূর্বের মতো অত দুর্বল ও সহায় সম্বলহীন নয়। অস্ত্রের ঝনঝনানি আর ঘোড়ার ক্ষুরধ্বনিতে তারা বহুবার প্রকম্পিত করেছে আরবের মাটি। জর্দানের মাআন নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেন মুসলিম সেনাপতি হযরত যায়েদ ইবনে হারেসা। রোমান বাহিনী মুসলমানদের অদূরেই যুদ্ধের তাবু স্থাপন করে।
কাফেরদের সৈন্যসংখ্যা দেখে মুসলিম বাহিনী ভাবনায় পড়ে গেল। তাদের কপালে দেখা দিলো নিদারুণ চিন্তার ভাঁজ। কিছুটা ভয়ও। এত বড় বাহিনীর মোকাবেলা করতে হবে ভাবতে পারেননি সেনাপতি যায়েদ ইবনে হারেসা। সৈন্যও তাদের অতি সামান্য। এমতাবস্থায় করণীয় কী হতে পারে এ নিয়ে ভাবতে থাকেন সাহাবায়ে কেরাম। পরস্পরে চলতে থাকে বিভিন্ন শলা-পরামর্শ। কেউ বললেন, রোমানদের সৈন্যসংখ্যা জানিয়ে পত্র লেখা হোক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট। রাসুল আমাদের যে পরামর্শ দেবেন আমরা সে অনুযায়ী কাজ করব। কেউ বললেন, আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমরা সংখ্যাধিক্য এবং শক্তির ওপর ভরসা করে যুদ্ধ করি না। আমরা যুদ্ধ করি দ্বীনের জন্য। সুতরাং আমরা যে উদ্দেশ্যে বের হয়েছি, সে উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত করব। আল্লাহ আমাদের দুটি কল্যাণের কোনো একটি অবশ্যই দান করবেন। হয় বিজয়, নয় আল্লাহর পথে শাহাদত।
সর্বশেষ সেনাপতি হযরত যায়েদ বিন হারেসা রোমানদের সাথে যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। মুসলিম বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তাদের সংখ্যাধিক্য যেন আমাদের হৃদয়ে কোনো ভীতি সঞ্চার করতে না পারে। আমরা সংখ্যার ভিত্তিতে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করি না। আমাদের সাহায্য প্রেরিত আল্লাহর পক্ষ থেকে।
মুতার প্রান্তরে মুখোমুখি হলো উভয় দল। শুরু হলো ভয়ানক লড়াই। রোমানদের লক্ষাধিক সৈন্যের দুর্ধর্ষ বাহিনীর সামনে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে লড়াই করছেন মাত্র তিন হাজার মুসলিম সৈন্য। অস্ত্র-শস্ত্রেও মুসলমানরা রোমানদের চেয়ে দুর্বল। কিন্তু মুতার প্রান্তরে সেদিন ঘটে গেল বিস্ময়কর এক উপাখ্যান। পৃথিবীর ইতিহাসে রচিত হলো এক নয়া দাস্তান।
মুসলমানদের মাত্র তিন হাজার সৈন্য শক্তিশালী রোমানদের লক্ষ্য সৈন্যকে রীতিমতো নাকানি-চুবানি খাইয়ে দিচ্ছে। مسلمانوں کا সাহসিকতা ও যুদ্ধের দক্ষতা দেখে রোমান সৈন্যরা বিস্ময়ে হতবাক। রোমানরা যেখানে ভেবেছে, সামান্য লড়াইয়ে উড়িয়ে দেবে مسلمانوں کا, সেখানে তারা তৈরি করেছে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
মুতার প্রান্তরে দুই পক্ষের মধ্যে চলছে তুমুল লড়াই। মুসলমানদের পতাকা সেনাপতি হযরত যায়েদ ইবনে হারেসার হাতে। এক হাতে পতাকা আর অপর হাতে তরবারি হাতে তিনি ঢুকে পড়েন শত্রুদের ভেতর। শাহাদতের তৃষ্ণায় ব্যাকুল হয়ে ওঠেন মুসলিম সেনাপতি হযরত যায়েদ। তার চোখের সামনে যেন বারবার ভেসে উঠছে প্রতিশ্রুত বেহেশত। জীবনের কথা ভুলে গেলেন তিনি।
মুতার প্রান্তরে হযরত যায়েদ বিন হারেসা যে অসীম বীরত্ব দেখিয়েছেন ইতিহাসে তার জুড়ি মেলা ভার। শত্রুকে আঘাত করে করে সম্মুখে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার তরবারির আঘাতে একের-পর-এক ধরাশায়ী হতে থাকে রোমান সৈন্য। তিনি যখন শত্রুদের গর্দানে তরবারি চালাচ্ছেন তখন এক শত্রু প্রচণ্ড শক্তিকে আঘাত করে। রক্তে ভেসে যায় মুসলিম সেনাপতির শরীর। অস্ফুট স্বরে কালিমা পড়তে পড়তে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা.। পান করেন শাহাদতের অমীয় সুধা।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা অনুযায়ী যুদ্ধের পতাকা হাতে তুলে নেন হযরত জাফর রা.। এক হাতে পতাকা, আরেক হাতে তরবারি নিয়ে তিনিও প্রাণপন লড়ে যাচ্ছেন রোমানদের বিরুদ্ধে। লড়াই করতে করতে অবশেষে তিনিও শহিদ হয়ে গেলেন।
এবার পতাকা হাতে তুলে নেন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা.। অবিশ্রান্ত যুদ্ধ করতে করতে তিনিও দুই সেনাপতির সাথে মিলিত হলেন। মুতার প্রান্তর ভেসে গেল হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহার রক্তে।
রণাঙ্গনে মৃত্যু হয় যার, তার জীবন তো আসমানের। আত্মোৎসর্গের অপার্থিব ঝরনায় সিক্ত হলেন ইসলামের তিন সাহসী সেনাপতি।
একে একে তিনজন সেনাপতি শাহাদতবরণ করলেন। মুসলমানরা এবার সেনাপতি নির্বাচন করলেন হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ-ইতিহাসের এক রণবীরের নাম। মহাকালের মহানায়ক তিনি।
তিনি রণাঙ্গনের স্বর্ণঈগল। অপরাজেয় সেনাপতি।
সর্বকালের বীরশ্রেষ্ঠদের একজন হযরত খালিদ। ইতিহাস গর্ব করে আজও তার নাম উচ্চারণ করে। এ নাম উচ্চারণ করামাত্র মুমিনের হৃদয় ও রক্তে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ফুলে ওঠে সাহসের প্রতিটি শিরা-উপশিরা।
যুদ্ধের পতাকা হাতে নিলেন সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.। যুদ্ধের নতুন ছক আকলেন তিনি। সাহাবায়ে কেরامকে নিয়ে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেন রোমানদের বিরুদ্ধে। লক্ষ রোমান সেনার বিরুদ্ধে তিন হাজার মুজাহিদ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
ঘোড়ার পিঠে চড়ে বাতাসের মতো ক্ষিপ্রগতিতে তিনি এগিয়ে যান কাফেরদের সম্মুখে। সাহাবায়ে কেরাম ছুটছেন তার পেছনে পেছনে। মুসলমানরা যখন জীবনের মায়া ভুলে তলোয়ার উঁচু করে রোমান কাফেরদের ধাওয়া করল, তখন এক অলৌকিক ভয় রোমানদের হৃদয়কে কাঁপিয়ে তুলে। জীবন বাঁচাতে পেছনের দিকে ছুটতে থাকে তারা। রোমান সেনাপতি সৈন্যদের ডাকতে থাকে; কিন্তু সেদিকে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ নেই তাদের। প্রাণ বাঁচাতে তারা উর্ধ্বশ্বাসে পালাতে থাকে। সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. মুসলিম সৈন্যদের নিয়ে ঢুকে পড়েন রোমান বাহিনীর ভেতর। তীব্রভাবে মুসলমানরা তরবারি চালাতে থাকে। দিশেহারা হয়ে পড়ে শত্রুর দল। তখন বহু সৈন্য হতাহত হয়। রোমানদের রক্তে ভেসে যায় মুতার প্রান্তর।
আল্লাহ বিজয় দান করলেন مسلمانوں کا। মুতার প্রান্তরে রচিত হলো ইতিহাসের অমর বিজয়কাব্য। সেদিন পৃথিবী চিনল এক নতুন সেনাপতিকে। এক নতুন মহানায়ককে। তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.। তার জীবনের একমাত্র স্বপ্ন ছিল, যেন জিহাদের ময়দানে শহিদি মৃত্যু হয় তার। কিন্তু এমন কোনো বীর বাহাদুরের জন্ম হয়নি যে হত্যা করবে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম দিয়েছিলেন সাইফুল্লাহ তথা আল্লাহর তরবারি। আল্লাহর তরবারি ভাঙতে পারেনি কেউ কোনোদিন।
মক্কা বিজয় ও খালিদ বিন ওয়ালিদ রা: কাফেরদের অত্যাচারে একদিন মুসলমানরা মাতৃভূমি ছেড়ে মদিনায় হিজরত করে। ধীরে ধীরে মুসলমানরা শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে। ৮ম হিজরিতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের ইচ্ছা করলেন। রাসুলের নির্দেশে সাহাবায়ে কেরাম যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। হকের বাহিনী এগিয়ে চলছে মক্কা অভিমুখে। আজ সঙ্গে আছেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। কাফেরদের সাথে মুসলমানদের আজ চূড়ান্ত সংঘাত হবে। দূর থেকে مسلمانوں کا আগমন দেখে মক্কাবাসী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। ভেতরে ভেতরে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এককালে মক্কার দুর্দণ্ড প্রতাপ থাকলেও ততদিনে খর্ব হয়ে এসেছে তাদের শক্তি-সামর্থ্য। মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মতো সাহস ও প্রস্তুতি তাদের ছিল না। তাই তারা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। কিন্তু কতিপয় পাপিষ্ঠ তারা কিছুতেই মুসলমানদের বিনা বাধায় মক্কায় প্রবেশ করতে দেবে না। সংখ্যায় ছিল তারা নিতান্তই স্বল্প। ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের জিঘাংসা এতই প্রগাঢ় যে, কিছুতেই তারা مسلمانوں কা ফের মক্কায় প্রবেশ করতে দেবে না। মুসলিম বাহিনীকে প্রতিহত করতে তারা এগিয়ে আসে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে প্রেরণ করলেন তাদের মুকাবেলা করার জন্য। নবীজি জানতেন, খালিদই তাদের জন্য যথেষ্ট। হযরত খালিদ অসীম সাহসে এগিয়ে গেলেন তাদের দিকে। মক্কার কাফেরদের হযরত খালিদ একাই ধরাশায়ী করেন। তাদের ক-জনকে তিনি হত্যা করেন। আর ক-জন জান নিয়ে পালিয়ে যায়।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقُ وَلَكُمُ الْوَيْلُ مِمَّا تَصِفُون
'আমি সত্য দ্বারা মিথ্যার ওপর আঘাত করি; সত্য তখন মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় আর তখনই মিথ্যা বিলুপ্ত হয়ে যায়। তোমরা যা বলছ তার কারণে তোমাদের জন্য রয়েছে বড় দুর্ভোগ।' ⁹³
মক্কা বিজয় হলো। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরامকে নিয়ে মক্কায় প্রবেশ করলেন। সেই মক্কা, যা ছিল তাদের জন্মভূমি। যেখান থেকে একদিন তারা হিজরত করেছিলেন মদিনায়।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন সেসব মহান সাহাবায়ে কেরামের মধ্য থেকে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মানের ঘোষণা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
لَا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُوْلَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنَ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلًّا وَعَدَ اللهُ الْحُسْنَى
'তোমাদের মধ্যে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে তারা অন্যদের সমান নয়। মর্যাদায় এরা তাদের চেয়ে বড়, যারা পরে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে। তবে আল্লাহ প্রত্যেককে কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। '⁹⁴

টিকাঃ
৯০ সুরা আলে ইমরান: ১৬০
৯১ সুরা আলে ইমরান: ১৩
৯২ সুরা বাকারা: ২৪৯
৯৩ সুরা আম্বিয়া: ২১
৯৪ সুরা হাদিদ: ১০

হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এখন মুসলমান। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন প্রিয় সাহাবি। ইসলামের নিবেদিত সৈনিক। মুসলিম বাহিনীর একজন সাহসী সদস্য। ইসলাম গ্রহণের পর মুসলমানের সাথে বহু যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি যুদ্ধে তিনি প্রদর্শন করেছেন সীমাহীন বীরত্ব। তার অসীম সাহসে কেঁপে উঠত রণাঙ্গন। শত্রুপক্ষ তার ভয়ে থাকত কম্পমান। প্রচণ্ড সাহসিকতায় তিনি শত্রুদের ভেতর ঢুকে পড়তেন। তার বীরত্বগাথা ইতিহাসে আলো করা। তেমনি একটি যুদ্ধ রোমানদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধ।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্যে পৃথিবীর সকল রাজা-বাদশাহদের নিকট ইসলামের দাওয়াতপত্র প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোম সম্রাটের নিকট দূতের মাধ্যমে একটি চিঠি প্রেরণ করলেন। চিঠি নিয়ে গেলেন হযরত হারেসা ইবনে উমায়ের রা.। কিন্তু পথিমধ্যে ঘটে গেল এক নৃশংস ঘটনা। পাপিষ্ঠ সুরাহ বিন আমর নবীজির পাঠানো দূত হযরত হারেসা ইবনে উমায়ের রা.-কে মুতার প্রান্তরে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সুরাহ বিন আমর ছিল রোম সম্রাটের নিযুক্ত গভর্নর। তৎকালীন সময়ে দূত হত্যা ছিল অত্যন্ত জঘন্য। দূত হত্যার সংবাদ শুনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীষণ ক্ষিপ্ত হলেন। তখনই অঙ্গীকার করলেন দূত হত্যার প্রতিশোধ নেবেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা.-কে সেনাপতি করে তিন হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী প্রেরণ করলেন রোমানদের বিরুদ্ধে। মাত্র তিন হাজার সৈন্য নিয়ে হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা. রওনা হলেন রোমের অভিমুখে। মুসলমানদের আগমনের সংবাদ পৌঁছে গেল রোম সম্রাটের নিকট। খবর পেয়ে রোম সম্রাট মুসলমানদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বাহিনী প্রস্তুত করে। এক লক্ষ বিশ হাজার সৈন্যের বিশাল সৈন্যবাহিনী তৈরি হলো।
মুসলমানদের তিন হাজার সৈন্যের মোকাবেলায় শক্তিশালী রোমানদের এক লক্ষ বিশ হাজার সৈন্য। বাহ্যত মুসলমানদের কাফেলাকে কিছুই মনে হয় না। এত বড় বাহিনীর সাথে সামান্য সৈন্য দিয়ে কুলিয়ে কীভাবে সম্ভব। কিন্তু মুসলমান কখনো সংখ্যা ও বাহ্যিক উপকরণের ভিত্তিতে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে না। مسلمانوں کا সাহায্য তো আসে আসমান থেকে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা উপর থেকে তাদের জন্য সাহায্য প্রেরণ করেন। বাহ্যিক আসবাব উপকরণের সাথে مسلمانوں کا বিজয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِن يَنصُرْكُمُ اللَّهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ وَإِن يَخْذُلْكُمْ فَمَن ذَا الَّذِي يَنصُرُكُم مِّن بَعْدِهِ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ
'আল্লাহ যদি তোমাদের সাহায্য করেন তাহলে তোমাদের ওপর কেউ বিজয়ী হতে পারবে না। আর তিনি যদি তোমাদের পরিত্যাগ করেন তাহলে তিনি ছাড়া এমন কে আছে যে তোমাদের সাহায্য করতে পারে? তাই মুমিনগণ যেন আল্লাহর ওপর ভরসা করে।' ⁹⁰
আরেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
قَدْ كَانَ لَكُمْ آيَةٌ فِي فِئَتَيْنِ الْتَقَتَا فِئَةٌ تُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأُخْرَى كَافِرَةٌ يَرَوْنَهُم مِّثْلَيْهِمْ رَأْيَ الْعَيْنِ وَاللَّهُ يُؤَيِّدُ بِنَصْرِهِ مَن يَشَاءُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَعِبْرَةً لِأُولِي الْأَبْصَارِ
'যুদ্ধক্ষেত্রে মিলিত হওয়া দুটো দলের মধ্যে তোমাদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন ছিল। একটি দল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করেছিল আর অন্যটি ছিল কাফেরদের দল; যারা ঈমানদারদের চোখের দেখায় দ্বিগুণ দেখেছিল। আর আল্লাহ যাকে চান স্বীয় সাহায্য দ্বারা শক্তিশালী করেন। নিশ্চয় ঐ ঘটনার মধ্যে দৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য রয়েছে শিক্ষা।' ⁹¹
অন্য আয়াদে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَمْ مِنْ فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةٌ كَثِيرَةٌ بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصابرين
'আল্লাহর হুকুমে কত ছোট দল কত বড় দলকে পরাজিত করেছে। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।'⁹²
অভিযানে প্রেরণ করার পূর্বে মুসলিম বাহিনীকে লক্ষ্য করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'যুদ্ধে সেনাপতি যায়েদ যদি শহিদ হয়, তাহলে পরবর্তী সেনাপতি নিযুক্ত হবে জাফর ইবনে আবু তালেব। জাফর যদি শহিদ হয়, তাহলে পরবর্তী সেনাপতি হবে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা। যদি আবদুল্লাহও শহিদ হয়ে যায় তাহলে মুসলমানদের ভেতর থেকে পছন্দনীয় ব্যক্তিকে সেনাপতি নির্বাচন করা হবে।'
আর কোনো যুদ্ধে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনজন সেনাপতি নিযুক্ত করেননি। আর যে তিনজনকে ধারাবাহিক সেনাপতি নিযুক্ত করেছেন তারা ছিলেন সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তাদের বৈশিষ্ট্য ছিল, তারা দিনের আলোতে ঘোড়সওয়ার ও দক্ষ সমরনায়ক এবং রাতের আঁধারে সাধক, তাহাজ্জুদ ও জিকির-আজকারে মত্ত থাকতেন।
স্বভাবতই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এ যুদ্ধের গুরুত্ব ছিল অত্যধিক। হযরত যায়েদ ইবনে হারেসার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী ছুটে চলল। مسلمانوں کا ততদিনে শক্তি ও সামর্থ্য যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন আর পূর্বের মতো অত দুর্বল ও সহায় সম্বলহীন নয়। অস্ত্রের ঝনঝনানি আর ঘোড়ার ক্ষুরধ্বনিতে তারা বহুবার প্রকম্পিত করেছে আরবের মাটি। জর্দানের মাআন নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেন মুসলিম সেনাপতি হযরত যায়েদ ইবনে হারেসা। রোমান বাহিনী মুসলমানদের অদূরেই যুদ্ধের তাবু স্থাপন করে।
কাফেরদের সৈন্যসংখ্যা দেখে মুসলিম বাহিনী ভাবনায় পড়ে গেল। তাদের কপালে দেখা দিলো নিদারুণ চিন্তার ভাঁজ। কিছুটা ভয়ও। এত বড় বাহিনীর মোকাবেলা করতে হবে ভাবতে পারেননি সেনাপতি যায়েদ ইবনে হারেসা। সৈন্যও তাদের অতি সামান্য। এমতাবস্থায় করণীয় কী হতে পারে এ নিয়ে ভাবতে থাকেন সাহাবায়ে কেরাম। পরস্পরে চলতে থাকে বিভিন্ন শলা-পরামর্শ। কেউ বললেন, রোমানদের সৈন্যসংখ্যা জানিয়ে পত্র লেখা হোক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট। রাসুল আমাদের যে পরামর্শ দেবেন আমরা সে অনুযায়ী কাজ করব। কেউ বললেন, আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমরা সংখ্যাধিক্য এবং শক্তির ওপর ভরসা করে যুদ্ধ করি না। আমরা যুদ্ধ করি দ্বীনের জন্য। সুতরাং আমরা যে উদ্দেশ্যে বের হয়েছি, সে উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত করব। আল্লাহ আমাদের দুটি কল্যাণের কোনো একটি অবশ্যই দান করবেন। হয় বিজয়, নয় আল্লাহর পথে শাহাদত।
সর্বশেষ সেনাপতি হযরত যায়েদ বিন হারেসা রোমানদের সাথে যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। মুসলিম বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তাদের সংখ্যাধিক্য যেন আমাদের হৃদয়ে কোনো ভীতি সঞ্চার করতে না পারে। আমরা সংখ্যার ভিত্তিতে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করি না। আমাদের সাহায্য প্রেরিত আল্লাহর পক্ষ থেকে।
মুতার প্রান্তরে মুখোমুখি হলো উভয় দল। শুরু হলো ভয়ানক লড়াই। রোমানদের লক্ষাধিক সৈন্যের দুর্ধর্ষ বাহিনীর সামনে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে লড়াই করছেন মাত্র তিন হাজার মুসলিম সৈন্য। অস্ত্র-শস্ত্রেও মুসলমানরা রোমানদের চেয়ে দুর্বল। কিন্তু মুতার প্রান্তরে সেদিন ঘটে গেল বিস্ময়কর এক উপাখ্যান। পৃথিবীর ইতিহাসে রচিত হলো এক নয়া দাস্তান।
মুসলমানদের মাত্র তিন হাজার সৈন্য শক্তিশালী রোমানদের লক্ষ্য সৈন্যকে রীতিমতো নাকানি-চুবানি খাইয়ে দিচ্ছে। مسلمانوں کا সাহসিকতা ও যুদ্ধের দক্ষতা দেখে রোমান সৈন্যরা বিস্ময়ে হতবাক। রোমানরা যেখানে ভেবেছে, সামান্য লড়াইয়ে উড়িয়ে দেবে مسلمانوں کا, সেখানে তারা তৈরি করেছে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
মুতার প্রান্তরে দুই পক্ষের মধ্যে চলছে তুমুল লড়াই। মুসলমানদের পতাকা সেনাপতি হযরত যায়েদ ইবনে হারেসার হাতে। এক হাতে পতাকা আর অপর হাতে তরবারি হাতে তিনি ঢুকে পড়েন শত্রুদের ভেতর। শাহাদতের তৃষ্ণায় ব্যাকুল হয়ে ওঠেন মুসলিম সেনাপতি হযরত যায়েদ। তার চোখের সামনে যেন বারবার ভেসে উঠছে প্রতিশ্রুত বেহেশত। জীবনের কথা ভুলে গেলেন তিনি।
মুতার প্রান্তরে হযরত যায়েদ বিন হারেসা যে অসীম বীরত্ব দেখিয়েছেন ইতিহাসে তার জুড়ি মেলা ভার। শত্রুকে আঘাত করে করে সম্মুখে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার তরবারির আঘাতে একের-পর-এক ধরাশায়ী হতে থাকে রোমান সৈন্য। তিনি যখন শত্রুদের গর্দানে তরবারি চালাচ্ছেন তখন এক শত্রু প্রচণ্ড শক্তিকে আঘাত করে। রক্তে ভেসে যায় মুসলিম সেনাপতির শরীর। অস্ফুট স্বরে কালিমা পড়তে পড়তে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা.। পান করেন শাহাদতের অমীয় সুধা।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা অনুযায়ী যুদ্ধের পতাকা হাতে তুলে নেন হযরত জাফর রা.। এক হাতে পতাকা, আরেক হাতে তরবারি নিয়ে তিনিও প্রাণপন লড়ে যাচ্ছেন রোমানদের বিরুদ্ধে। লড়াই করতে করতে অবশেষে তিনিও শহিদ হয়ে গেলেন।
এবার পতাকা হাতে তুলে নেন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা.। অবিশ্রান্ত যুদ্ধ করতে করতে তিনিও দুই সেনাপতির সাথে মিলিত হলেন। মুতার প্রান্তর ভেসে গেল হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহার রক্তে।
রণাঙ্গনে মৃত্যু হয় যার, তার জীবন তো আসমানের। আত্মোৎসর্গের অপার্থিব ঝরনায় সিক্ত হলেন ইসলামের তিন সাহসী সেনাপতি।
একে একে তিনজন সেনাপতি শাহাদতবরণ করলেন। মুসলমানরা এবার সেনাপতি নির্বাচন করলেন হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ-ইতিহাসের এক রণবীরের নাম। মহাকালের মহানায়ক তিনি।
তিনি রণাঙ্গনের স্বর্ণঈগল। অপরাজেয় সেনাপতি।
সর্বকালের বীরশ্রেষ্ঠদের একজন হযরত খালিদ। ইতিহাস গর্ব করে আজও তার নাম উচ্চারণ করে। এ নাম উচ্চারণ করামাত্র মুমিনের হৃদয় ও রক্তে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ফুলে ওঠে সাহসের প্রতিটি শিরা-উপশিরা।
যুদ্ধের পতাকা হাতে নিলেন সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.। যুদ্ধের নতুন ছক আকলেন তিনি। সাহাবায়ে কেরامকে নিয়ে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেন রোমানদের বিরুদ্ধে। লক্ষ রোমান সেনার বিরুদ্ধে তিন হাজার মুজাহিদ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
ঘোড়ার পিঠে চড়ে বাতাসের মতো ক্ষিপ্রগতিতে তিনি এগিয়ে যান কাফেরদের সম্মুখে। সাহাবায়ে কেরাম ছুটছেন তার পেছনে পেছনে। মুসলমানরা যখন জীবনের মায়া ভুলে তলোয়ার উঁচু করে রোমান কাফেরদের ধাওয়া করল, তখন এক অলৌকিক ভয় রোমানদের হৃদয়কে কাঁপিয়ে তুলে। জীবন বাঁচাতে পেছনের দিকে ছুটতে থাকে তারা। রোমান সেনাপতি সৈন্যদের ডাকতে থাকে; কিন্তু সেদিকে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ নেই তাদের। প্রাণ বাঁচাতে তারা উর্ধ্বশ্বাসে পালাতে থাকে। সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. মুসলিম সৈন্যদের নিয়ে ঢুকে পড়েন রোমান বাহিনীর ভেতর। তীব্রভাবে মুসলমানরা তরবারি চালাতে থাকে। দিশেহারা হয়ে পড়ে শত্রুর দল। তখন বহু সৈন্য হতাহত হয়। রোমানদের রক্তে ভেসে যায় মুতার প্রান্তর।
আল্লাহ বিজয় দান করলেন مسلمانوں کا। মুতার প্রান্তরে রচিত হলো ইতিহাসের অমর বিজয়কাব্য। সেদিন পৃথিবী চিনল এক নতুন সেনাপতিকে। এক নতুন মহানায়ককে। তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.। তার জীবনের একমাত্র স্বপ্ন ছিল, যেন জিহাদের ময়দানে শহিদি মৃত্যু হয় তার। কিন্তু এমন কোনো বীর বাহাদুরের জন্ম হয়নি যে হত্যা করবে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম দিয়েছিলেন সাইফুল্লাহ তথা আল্লাহর তরবারি। আল্লাহর তরবারি ভাঙতে পারেনি কেউ কোনোদিন।
মক্কা বিজয় ও খালিদ বিন ওয়ালিদ রা: কাফেরদের অত্যাচারে একদিন মুসলমানরা মাতৃভূমি ছেড়ে মদিনায় হিজরত করে। ধীরে ধীরে মুসলমানরা শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে। ৮ম হিজরিতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের ইচ্ছা করলেন। রাসুলের নির্দেশে সাহাবায়ে কেরাম যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। হকের বাহিনী এগিয়ে চলছে মক্কা অভিমুখে। আজ সঙ্গে আছেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। কাফেরদের সাথে মুসলমানদের আজ চূড়ান্ত সংঘাত হবে। দূর থেকে مسلمانوں کا আগমন দেখে মক্কাবাসী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। ভেতরে ভেতরে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এককালে মক্কার দুর্দণ্ড প্রতাপ থাকলেও ততদিনে খর্ব হয়ে এসেছে তাদের শক্তি-সামর্থ্য। মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মতো সাহস ও প্রস্তুতি তাদের ছিল না। তাই তারা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। কিন্তু কতিপয় পাপিষ্ঠ তারা কিছুতেই মুসলমানদের বিনা বাধায় মক্কায় প্রবেশ করতে দেবে না। সংখ্যায় ছিল তারা নিতান্তই স্বল্প। ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের জিঘাংসা এতই প্রগাঢ় যে, কিছুতেই তারা مسلمانوں কা ফের মক্কায় প্রবেশ করতে দেবে না। মুসলিম বাহিনীকে প্রতিহত করতে তারা এগিয়ে আসে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে প্রেরণ করলেন তাদের মুকাবেলা করার জন্য। নবীজি জানতেন, খালিদই তাদের জন্য যথেষ্ট। হযরত খালিদ অসীম সাহসে এগিয়ে গেলেন তাদের দিকে। মক্কার কাফেরদের হযরত খালিদ একাই ধরাশায়ী করেন। তাদের ক-জনকে তিনি হত্যা করেন। আর ক-জন জান নিয়ে পালিয়ে যায়।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقُ وَلَكُمُ الْوَيْلُ مِمَّا تَصِفُون
'আমি সত্য দ্বারা মিথ্যার ওপর আঘাত করি; সত্য তখন মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় আর তখনই মিথ্যা বিলুপ্ত হয়ে যায়। তোমরা যা বলছ তার কারণে তোমাদের জন্য রয়েছে বড় দুর্ভোগ।' ⁹³
মক্কা বিজয় হলো। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরامকে নিয়ে মক্কায় প্রবেশ করলেন। সেই মক্কা, যা ছিল তাদের জন্মভূমি। যেখান থেকে একদিন তারা হিজরত করেছিলেন মদিনায়।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন সেসব মহান সাহাবায়ে কেরামের মধ্য থেকে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মানের ঘোষণা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
لَا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُوْلَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنَ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلًّا وَعَدَ اللهُ الْحُسْنَى
'তোমাদের মধ্যে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে তারা অন্যদের সমান নয়। মর্যাদায় এরা তাদের চেয়ে বড়, যারা পরে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে। তবে আল্লাহ প্রত্যেককে কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। '⁹⁴

টিকাঃ
৯০ সুরা আলে ইমরান: ১৬০
৯১ সুরা আলে ইমরান: ১৩
৯২ সুরা বাকারা: ২৪৯
৯৩ সুরা আম্বিয়া: ২১
৯৪ সুরা হাদিদ: ১০

হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এখন মুসলমান। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন প্রিয় সাহাবি। ইসলামের নিবেদিত সৈনিক। মুসলিম বাহিনীর একজন সাহসী সদস্য। ইসলাম গ্রহণের পর মুসলমানের সাথে বহু যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি যুদ্ধে তিনি প্রদর্শন করেছেন সীমাহীন বীরত্ব। তার অসীম সাহসে কেঁপে উঠত রণাঙ্গন। শত্রুপক্ষ তার ভয়ে থাকত কম্পমান। প্রচণ্ড সাহসিকতায় তিনি শত্রুদের ভেতর ঢুকে পড়তেন। তার বীরত্বগাথা ইতিহাসে আলো করা। তেমনি একটি যুদ্ধ রোমানদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধ।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্যে পৃথিবীর সকল রাজা-বাদশাহদের নিকট ইসলামের দাওয়াতপত্র প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোম সম্রাটের নিকট দূতের মাধ্যমে একটি চিঠি প্রেরণ করলেন। চিঠি নিয়ে গেলেন হযরত হারেসা ইবনে উমায়ের রা.। কিন্তু পথিমধ্যে ঘটে গেল এক নৃশংস ঘটনা। পাপিষ্ঠ সুরাহ বিন আমর নবীজির পাঠানো দূত হযরত হারেসা ইবনে উমায়ের রা.-কে মুতার প্রান্তরে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সুরাহ বিন আমর ছিল রোম সম্রাটের নিযুক্ত গভর্নর। তৎকালীন সময়ে দূত হত্যা ছিল অত্যন্ত জঘন্য। দূত হত্যার সংবাদ শুনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীষণ ক্ষিপ্ত হলেন। তখনই অঙ্গীকার করলেন দূত হত্যার প্রতিশোধ নেবেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা.-কে সেনাপতি করে তিন হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী প্রেরণ করলেন রোমানদের বিরুদ্ধে। মাত্র তিন হাজার সৈন্য নিয়ে হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা. রওনা হলেন রোমের অভিমুখে। মুসলমানদের আগমনের সংবাদ পৌঁছে গেল রোম সম্রাটের নিকট। খবর পেয়ে রোম সম্রাট মুসলমানদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বাহিনী প্রস্তুত করে। এক লক্ষ বিশ হাজার সৈন্যের বিশাল সৈন্যবাহিনী তৈরি হলো।
মুসলমানদের তিন হাজার সৈন্যের মোকাবেলায় শক্তিশালী রোমানদের এক লক্ষ বিশ হাজার সৈন্য। বাহ্যত মুসলমানদের কাফেলাকে কিছুই মনে হয় না। এত বড় বাহিনীর সাথে সামান্য সৈন্য দিয়ে কুলিয়ে কীভাবে সম্ভব। কিন্তু মুসলমান কখনো সংখ্যা ও বাহ্যিক উপকরণের ভিত্তিতে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে না। مسلمانوں کا সাহায্য তো আসে আসমান থেকে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা উপর থেকে তাদের জন্য সাহায্য প্রেরণ করেন। বাহ্যিক আসবাব উপকরণের সাথে مسلمانوں کا বিজয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِن يَنصُرْكُمُ اللَّهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ وَإِن يَخْذُلْكُمْ فَمَن ذَا الَّذِي يَنصُرُكُم مِّن بَعْدِهِ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ
'আল্লাহ যদি তোমাদের সাহায্য করেন তাহলে তোমাদের ওপর কেউ বিজয়ী হতে পারবে না। আর তিনি যদি তোমাদের পরিত্যাগ করেন তাহলে তিনি ছাড়া এমন কে আছে যে তোমাদের সাহায্য করতে পারে? তাই মুমিনগণ যেন আল্লাহর ওপর ভরসা করে।' ⁹⁰
আরেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
قَدْ كَانَ لَكُمْ آيَةٌ فِي فِئَتَيْنِ الْتَقَتَا فِئَةٌ تُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأُخْرَى كَافِرَةٌ يَرَوْنَهُم مِّثْلَيْهِمْ رَأْيَ الْعَيْنِ وَاللَّهُ يُؤَيِّدُ بِنَصْرِهِ مَن يَشَاءُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَعِبْرَةً لِأُولِي الْأَبْصَارِ
'যুদ্ধক্ষেত্রে মিলিত হওয়া দুটো দলের মধ্যে তোমাদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন ছিল। একটি দল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করেছিল আর অন্যটি ছিল কাফেরদের দল; যারা ঈমানদারদের চোখের দেখায় দ্বিগুণ দেখেছিল। আর আল্লাহ যাকে চান স্বীয় সাহায্য দ্বারা শক্তিশালী করেন। নিশ্চয় ঐ ঘটনার মধ্যে দৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য রয়েছে শিক্ষা।' ⁹¹
অন্য আয়াদে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَمْ مِنْ فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةٌ كَثِيرَةٌ بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصابرين
'আল্লাহর হুকুমে কত ছোট দল কত বড় দলকে পরাজিত করেছে। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।'⁹²
অভিযানে প্রেরণ করার পূর্বে মুসলিম বাহিনীকে লক্ষ্য করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'যুদ্ধে সেনাপতি যায়েদ যদি শহিদ হয়, তাহলে পরবর্তী সেনাপতি নিযুক্ত হবে জাফর ইবনে আবু তালেব। জাফর যদি শহিদ হয়, তাহলে পরবর্তী সেনাপতি হবে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা। যদি আবদুল্লাহও শহিদ হয়ে যায় তাহলে মুসলমানদের ভেতর থেকে পছন্দনীয় ব্যক্তিকে সেনাপতি নির্বাচন করা হবে।'
আর কোনো যুদ্ধে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনজন সেনাপতি নিযুক্ত করেননি। আর যে তিনজনকে ধারাবাহিক সেনাপতি নিযুক্ত করেছেন তারা ছিলেন সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তাদের বৈশিষ্ট্য ছিল, তারা দিনের আলোতে ঘোড়সওয়ার ও দক্ষ সমরনায়ক এবং রাতের আঁধারে সাধক, তাহাজ্জুদ ও জিকির-আজকারে মত্ত থাকতেন।
স্বভাবতই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এ যুদ্ধের গুরুত্ব ছিল অত্যধিক। হযরত যায়েদ ইবনে হারেসার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী ছুটে চলল। مسلمانوں کا ততদিনে শক্তি ও সামর্থ্য যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন আর পূর্বের মতো অত দুর্বল ও সহায় সম্বলহীন নয়। অস্ত্রের ঝনঝনানি আর ঘোড়ার ক্ষুরধ্বনিতে তারা বহুবার প্রকম্পিত করেছে আরবের মাটি। জর্দানের মাআন নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেন মুসলিম সেনাপতি হযরত যায়েদ ইবনে হারেসা। রোমান বাহিনী মুসলমানদের অদূরেই যুদ্ধের তাবু স্থাপন করে।
কাফেরদের সৈন্যসংখ্যা দেখে মুসলিম বাহিনী ভাবনায় পড়ে গেল। তাদের কপালে দেখা দিলো নিদারুণ চিন্তার ভাঁজ। কিছুটা ভয়ও। এত বড় বাহিনীর মোকাবেলা করতে হবে ভাবতে পারেননি সেনাপতি যায়েদ ইবনে হারেসা। সৈন্যও তাদের অতি সামান্য। এমতাবস্থায় করণীয় কী হতে পারে এ নিয়ে ভাবতে থাকেন সাহাবায়ে কেরাম। পরস্পরে চলতে থাকে বিভিন্ন শলা-পরামর্শ। কেউ বললেন, রোমানদের সৈন্যসংখ্যা জানিয়ে পত্র লেখা হোক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট। রাসুল আমাদের যে পরামর্শ দেবেন আমরা সে অনুযায়ী কাজ করব। কেউ বললেন, আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমরা সংখ্যাধিক্য এবং শক্তির ওপর ভরসা করে যুদ্ধ করি না। আমরা যুদ্ধ করি দ্বীনের জন্য। সুতরাং আমরা যে উদ্দেশ্যে বের হয়েছি, সে উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত করব। আল্লাহ আমাদের দুটি কল্যাণের কোনো একটি অবশ্যই দান করবেন। হয় বিজয়, নয় আল্লাহর পথে শাহাদত।
সর্বশেষ সেনাপতি হযরত যায়েদ বিন হারেসা রোমানদের সাথে যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। মুসলিম বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তাদের সংখ্যাধিক্য যেন আমাদের হৃদয়ে কোনো ভীতি সঞ্চার করতে না পারে। আমরা সংখ্যার ভিত্তিতে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করি না। আমাদের সাহায্য প্রেরিত আল্লাহর পক্ষ থেকে।
মুতার প্রান্তরে মুখোমুখি হলো উভয় দল। শুরু হলো ভয়ানক লড়াই। রোমানদের লক্ষাধিক সৈন্যের দুর্ধর্ষ বাহিনীর সামনে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে লড়াই করছেন মাত্র তিন হাজার মুসলিম সৈন্য। অস্ত্র-শস্ত্রেও মুসলমানরা রোমানদের চেয়ে দুর্বল। কিন্তু মুতার প্রান্তরে সেদিন ঘটে গেল বিস্ময়কর এক উপাখ্যান। পৃথিবীর ইতিহাসে রচিত হলো এক নয়া দাস্তান।
মুসলমানদের মাত্র তিন হাজার সৈন্য শক্তিশালী রোমানদের লক্ষ্য সৈন্যকে রীতিমতো নাকানি-চুবানি খাইয়ে দিচ্ছে। مسلمانوں کا সাহসিকতা ও যুদ্ধের দক্ষতা দেখে রোমান সৈন্যরা বিস্ময়ে হতবাক। রোমানরা যেখানে ভেবেছে, সামান্য লড়াইয়ে উড়িয়ে দেবে مسلمانوں کا, সেখানে তারা তৈরি করেছে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
মুতার প্রান্তরে দুই পক্ষের মধ্যে চলছে তুমুল লড়াই। মুসলমানদের পতাকা সেনাপতি হযরত যায়েদ ইবনে হারেসার হাতে। এক হাতে পতাকা আর অপর হাতে তরবারি হাতে তিনি ঢুকে পড়েন শত্রুদের ভেতর। শাহাদতের তৃষ্ণায় ব্যাকুল হয়ে ওঠেন মুসলিম সেনাপতি হযরত যায়েদ। তার চোখের সামনে যেন বারবার ভেসে উঠছে প্রতিশ্রুত বেহেশত। জীবনের কথা ভুলে গেলেন তিনি।
মুতার প্রান্তরে হযরত যায়েদ বিন হারেসা যে অসীম বীরত্ব দেখিয়েছেন ইতিহাসে তার জুড়ি মেলা ভার। শত্রুকে আঘাত করে করে সম্মুখে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার তরবারির আঘাতে একের-পর-এক ধরাশায়ী হতে থাকে রোমান সৈন্য। তিনি যখন শত্রুদের গর্দানে তরবারি চালাচ্ছেন তখন এক শত্রু প্রচণ্ড শক্তিকে আঘাত করে। রক্তে ভেসে যায় মুসলিম সেনাপতির শরীর। অস্ফুট স্বরে কালিমা পড়তে পড়তে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা.। পান করেন শাহাদতের অমীয় সুধা।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা অনুযায়ী যুদ্ধের পতাকা হাতে তুলে নেন হযরত জাফর রা.। এক হাতে পতাকা, আরেক হাতে তরবারি নিয়ে তিনিও প্রাণপন লড়ে যাচ্ছেন রোমানদের বিরুদ্ধে। লড়াই করতে করতে অবশেষে তিনিও শহিদ হয়ে গেলেন।
এবার পতাকা হাতে তুলে নেন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা.। অবিশ্রান্ত যুদ্ধ করতে করতে তিনিও দুই সেনাপতির সাথে মিলিত হলেন। মুতার প্রান্তর ভেসে গেল হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহার রক্তে।
রণাঙ্গনে মৃত্যু হয় যার, তার জীবন তো আসমানের। আত্মোৎসর্গের অপার্থিব ঝরনায় সিক্ত হলেন ইসলামের তিন সাহসী সেনাপতি।
একে একে তিনজন সেনাপতি শাহাদতবরণ করলেন। মুসলমানরা এবার সেনাপতি নির্বাচন করলেন হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ-ইতিহাসের এক রণবীরের নাম। মহাকালের মহানায়ক তিনি।
তিনি রণাঙ্গনের স্বর্ণঈগল। অপরাজেয় সেনাপতি।
সর্বকালের বীরশ্রেষ্ঠদের একজন হযরত খালিদ। ইতিহাস গর্ব করে আজও তার নাম উচ্চারণ করে। এ নাম উচ্চারণ করামাত্র মুমিনের হৃদয় ও রক্তে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ফুলে ওঠে সাহসের প্রতিটি শিরা-উপশিরা।
যুদ্ধের পতাকা হাতে নিলেন সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.। যুদ্ধের নতুন ছক আকলেন তিনি। সাহাবায়ে কেরامকে নিয়ে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেন রোমানদের বিরুদ্ধে। লক্ষ রোমান সেনার বিরুদ্ধে তিন হাজার মুজাহিদ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
ঘোড়ার পিঠে চড়ে বাতাসের মতো ক্ষিপ্রগতিতে তিনি এগিয়ে যান কাফেরদের সম্মুখে। সাহাবায়ে কেরাম ছুটছেন তার পেছনে পেছনে। মুসলমানরা যখন জীবনের মায়া ভুলে তলোয়ার উঁচু করে রোমান কাফেরদের ধাওয়া করল, তখন এক অলৌকিক ভয় রোমানদের হৃদয়কে কাঁপিয়ে তুলে। জীবন বাঁচাতে পেছনের দিকে ছুটতে থাকে তারা। রোমান সেনাপতি সৈন্যদের ডাকতে থাকে; কিন্তু সেদিকে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ নেই তাদের। প্রাণ বাঁচাতে তারা উর্ধ্বশ্বাসে পালাতে থাকে। সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. মুসলিম সৈন্যদের নিয়ে ঢুকে পড়েন রোমান বাহিনীর ভেতর। তীব্রভাবে মুসলমানরা তরবারি চালাতে থাকে। দিশেহারা হয়ে পড়ে শত্রুর দল। তখন বহু সৈন্য হতাহত হয়। রোমানদের রক্তে ভেসে যায় মুতার প্রান্তর।
আল্লাহ বিজয় দান করলেন مسلمانوں کا। মুতার প্রান্তরে রচিত হলো ইতিহাসের অমর বিজয়কাব্য। সেদিন পৃথিবী চিনল এক নতুন সেনাপতিকে। এক নতুন মহানায়ককে। তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.। তার জীবনের একমাত্র স্বপ্ন ছিল, যেন জিহাদের ময়দানে শহিদি মৃত্যু হয় তার। কিন্তু এমন কোনো বীর বাহাদুরের জন্ম হয়নি যে হত্যা করবে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম দিয়েছিলেন সাইফুল্লাহ তথা আল্লাহর তরবারি। আল্লাহর তরবারি ভাঙতে পারেনি কেউ কোনোদিন।
মক্কা বিজয় ও খালিদ বিন ওয়ালিদ রা: কাফেরদের অত্যাচারে একদিন মুসলমানরা মাতৃভূমি ছেড়ে মদিনায় হিজরত করে। ধীরে ধীরে মুসলমানরা শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে। ৮ম হিজরিতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের ইচ্ছা করলেন। রাসুলের নির্দেশে সাহাবায়ে কেরাম যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। হকের বাহিনী এগিয়ে চলছে মক্কা অভিমুখে। আজ সঙ্গে আছেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। কাফেরদের সাথে মুসলমানদের আজ চূড়ান্ত সংঘাত হবে। দূর থেকে مسلمانوں کا আগমন দেখে মক্কাবাসী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। ভেতরে ভেতরে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এককালে মক্কার দুর্দণ্ড প্রতাপ থাকলেও ততদিনে খর্ব হয়ে এসেছে তাদের শক্তি-সামর্থ্য। মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মতো সাহস ও প্রস্তুতি তাদের ছিল না। তাই তারা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। কিন্তু কতিপয় পাপিষ্ঠ তারা কিছুতেই মুসলমানদের বিনা বাধায় মক্কায় প্রবেশ করতে দেবে না। সংখ্যায় ছিল তারা নিতান্তই স্বল্প। ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের জিঘাংসা এতই প্রগাঢ় যে, কিছুতেই তারা مسلمانوں কা ফের মক্কায় প্রবেশ করতে দেবে না। মুসলিম বাহিনীকে প্রতিহত করতে তারা এগিয়ে আসে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে প্রেরণ করলেন তাদের মুকাবেলা করার জন্য। নবীজি জানতেন, খালিদই তাদের জন্য যথেষ্ট। হযরত খালিদ অসীম সাহসে এগিয়ে গেলেন তাদের দিকে। মক্কার কাফেরদের হযরত খালিদ একাই ধরাশায়ী করেন। তাদের ক-জনকে তিনি হত্যা করেন। আর ক-জন জান নিয়ে পালিয়ে যায়।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقُ وَلَكُمُ الْوَيْلُ مِمَّا تَصِفُون
'আমি সত্য দ্বারা মিথ্যার ওপর আঘাত করি; সত্য তখন মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় আর তখনই মিথ্যা বিলুপ্ত হয়ে যায়। তোমরা যা বলছ তার কারণে তোমাদের জন্য রয়েছে বড় দুর্ভোগ।' ⁹³
মক্কা বিজয় হলো। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরامকে নিয়ে মক্কায় প্রবেশ করলেন। সেই মক্কা, যা ছিল তাদের জন্মভূমি। যেখান থেকে একদিন তারা হিজরত করেছিলেন মদিনায়।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন সেসব মহান সাহাবায়ে কেরামের মধ্য থেকে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মানের ঘোষণা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
لَا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُوْلَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنَ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلًّا وَعَدَ اللهُ الْحُسْنَى
'তোমাদের মধ্যে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে তারা অন্যদের সমান নয়। মর্যাদায় এরা তাদের চেয়ে বড়, যারা পরে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে। তবে আল্লাহ প্রত্যেককে কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। '⁹⁴

টিকাঃ
৯০ সুরা আলে ইমরান: ১৬০
৯১ সুরা আলে ইমরান: ১৩
৯২ সুরা বাকারা: ২৪৯
৯৩ সুরা আম্বিয়া: ২১
৯৪ সুরা হাদিদ: ১০

হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এখন মুসলমান। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন প্রিয় সাহাবি। ইসলামের নিবেদিত সৈনিক। মুসলিম বাহিনীর একজন সাহসী সদস্য। ইসলাম গ্রহণের পর মুসলমানের সাথে বহু যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি যুদ্ধে তিনি প্রদর্শন করেছেন সীমাহীন বীরত্ব। তার অসীম সাহসে কেঁপে উঠত রণাঙ্গন। শত্রুপক্ষ তার ভয়ে থাকত কম্পমান। প্রচণ্ড সাহসিকতায় তিনি শত্রুদের ভেতর ঢুকে পড়তেন। তার বীরত্বগাথা ইতিহাসে আলো করা। তেমনি একটি যুদ্ধ রোমানদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধ।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্যে পৃথিবীর সকল রাজা-বাদশাহদের নিকট ইসলামের দাওয়াতপত্র প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোম সম্রাটের নিকট দূতের মাধ্যমে একটি চিঠি প্রেরণ করলেন। চিঠি নিয়ে গেলেন হযরত হারেসা ইবনে উমায়ের রা.। কিন্তু পথিমধ্যে ঘটে গেল এক নৃশংস ঘটনা। পাপিষ্ঠ সুরাহ বিন আমর নবীজির পাঠানো দূত হযরত হারেসা ইবনে উমায়ের রা.-কে মুতার প্রান্তরে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সুরাহ বিন আমর ছিল রোম সম্রাটের নিযুক্ত গভর্নর। তৎকালীন সময়ে দূত হত্যা ছিল অত্যন্ত জঘন্য। দূত হত্যার সংবাদ শুনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীষণ ক্ষিপ্ত হলেন। তখনই অঙ্গীকার করলেন দূত হত্যার প্রতিশোধ নেবেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা.-কে সেনাপতি করে তিন হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী প্রেরণ করলেন রোমানদের বিরুদ্ধে। মাত্র তিন হাজার সৈন্য নিয়ে হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা. রওনা হলেন রোমের অভিমুখে। মুসলমানদের আগমনের সংবাদ পৌঁছে গেল রোম সম্রাটের নিকট। খবর পেয়ে রোম সম্রাট মুসলমানদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বাহিনী প্রস্তুত করে। এক লক্ষ বিশ হাজার সৈন্যের বিশাল সৈন্যবাহিনী তৈরি হলো।
মুসলমানদের তিন হাজার সৈন্যের মোকাবেলায় শক্তিশালী রোমানদের এক লক্ষ বিশ হাজার সৈন্য। বাহ্যত মুসলমানদের কাফেলাকে কিছুই মনে হয় না। এত বড় বাহিনীর সাথে সামান্য সৈন্য দিয়ে কুলিয়ে কীভাবে সম্ভব। কিন্তু মুসলমান কখনো সংখ্যা ও বাহ্যিক উপকরণের ভিত্তিতে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে না। مسلمانوں کا সাহায্য তো আসে আসমান থেকে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা উপর থেকে তাদের জন্য সাহায্য প্রেরণ করেন। বাহ্যিক আসবাব উপকরণের সাথে مسلمانوں کا বিজয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِن يَنصُرْكُمُ اللَّهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ وَإِن يَخْذُلْكُمْ فَمَن ذَا الَّذِي يَنصُرُكُم مِّن بَعْدِهِ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ
'আল্লাহ যদি তোমাদের সাহায্য করেন তাহলে তোমাদের ওপর কেউ বিজয়ী হতে পারবে না। আর তিনি যদি তোমাদের পরিত্যাগ করেন তাহলে তিনি ছাড়া এমন কে আছে যে তোমাদের সাহায্য করতে পারে? তাই মুমিনগণ যেন আল্লাহর ওপর ভরসা করে।' ⁹⁰
আরেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
قَدْ كَانَ لَكُمْ آيَةٌ فِي فِئَتَيْنِ الْتَقَتَا فِئَةٌ تُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأُخْرَى كَافِرَةٌ يَرَوْنَهُم مِّثْلَيْهِمْ رَأْيَ الْعَيْنِ وَاللَّهُ يُؤَيِّدُ بِنَصْرِهِ مَن يَشَاءُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَعِبْرَةً لِأُولِي الْأَبْصَارِ
'যুদ্ধক্ষেত্রে মিলিত হওয়া দুটো দলের মধ্যে তোমাদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন ছিল। একটি দল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করেছিল আর অন্যটি ছিল কাফেরদের দল; যারা ঈমানদারদের চোখের দেখায় দ্বিগুণ দেখেছিল। আর আল্লাহ যাকে চান স্বীয় সাহায্য দ্বারা শক্তিশালী করেন। নিশ্চয় ঐ ঘটনার মধ্যে দৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য রয়েছে শিক্ষা।' ⁹¹
অন্য আয়াদে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَمْ مِنْ فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةٌ كَثِيرَةٌ بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصابرين
'আল্লাহর হুকুমে কত ছোট দল কত বড় দলকে পরাজিত করেছে। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।'⁹²
অভিযানে প্রেরণ করার পূর্বে মুসলিম বাহিনীকে লক্ষ্য করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'যুদ্ধে সেনাপতি যায়েদ যদি শহিদ হয়, তাহলে পরবর্তী সেনাপতি নিযুক্ত হবে জাফর ইবনে আবু তালেব। জাফর যদি শহিদ হয়, তাহলে পরবর্তী সেনাপতি হবে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা। যদি আবদুল্লাহও শহিদ হয়ে যায় তাহলে মুসলমানদের ভেতর থেকে পছন্দনীয় ব্যক্তিকে সেনাপতি নির্বাচন করা হবে।'
আর কোনো যুদ্ধে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনজন সেনাপতি নিযুক্ত করেননি। আর যে তিনজনকে ধারাবাহিক সেনাপতি নিযুক্ত করেছেন তারা ছিলেন সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তাদের বৈশিষ্ট্য ছিল, তারা দিনের আলোতে ঘোড়সওয়ার ও দক্ষ সমরনায়ক এবং রাতের আঁধারে সাধক, তাহাজ্জুদ ও জিকির-আজকারে মত্ত থাকতেন।
স্বভাবতই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এ যুদ্ধের গুরুত্ব ছিল অত্যধিক। হযরত যায়েদ ইবনে হারেসার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী ছুটে চলল। مسلمانوں کا ততদিনে শক্তি ও সামর্থ্য যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন আর পূর্বের মতো অত দুর্বল ও সহায় সম্বলহীন নয়। অস্ত্রের ঝনঝনানি আর ঘোড়ার ক্ষুরধ্বনিতে তারা বহুবার প্রকম্পিত করেছে আরবের মাটি। জর্দানের মাআন নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেন মুসলিম সেনাপতি হযরত যায়েদ ইবনে হারেসা। রোমান বাহিনী মুসলমানদের অদূরেই যুদ্ধের তাবু স্থাপন করে।
কাফেরদের সৈন্যসংখ্যা দেখে মুসলিম বাহিনী ভাবনায় পড়ে গেল। তাদের কপালে দেখা দিলো নিদারুণ চিন্তার ভাঁজ। কিছুটা ভয়ও। এত বড় বাহিনীর মোকাবেলা করতে হবে ভাবতে পারেননি সেনাপতি যায়েদ ইবনে হারেসা। সৈন্যও তাদের অতি সামান্য। এমতাবস্থায় করণীয় কী হতে পারে এ নিয়ে ভাবতে থাকেন সাহাবায়ে কেরাম। পরস্পরে চলতে থাকে বিভিন্ন শলা-পরামর্শ। কেউ বললেন, রোমানদের সৈন্যসংখ্যা জানিয়ে পত্র লেখা হোক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট। রাসুল আমাদের যে পরামর্শ দেবেন আমরা সে অনুযায়ী কাজ করব। কেউ বললেন, আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমরা সংখ্যাধিক্য এবং শক্তির ওপর ভরসা করে যুদ্ধ করি না। আমরা যুদ্ধ করি দ্বীনের জন্য। সুতরাং আমরা যে উদ্দেশ্যে বের হয়েছি, সে উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত করব। আল্লাহ আমাদের দুটি কল্যাণের কোনো একটি অবশ্যই দান করবেন। হয় বিজয়, নয় আল্লাহর পথে শাহাদত।
সর্বশেষ সেনাপতি হযরত যায়েদ বিন হারেসা রোমানদের সাথে যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। মুসলিম বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তাদের সংখ্যাধিক্য যেন আমাদের হৃদয়ে কোনো ভীতি সঞ্চার করতে না পারে। আমরা সংখ্যার ভিত্তিতে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করি না। আমাদের সাহায্য প্রেরিত আল্লাহর পক্ষ থেকে।
মুতার প্রান্তরে মুখোমুখি হলো উভয় দল। শুরু হলো ভয়ানক লড়াই। রোমানদের লক্ষাধিক সৈন্যের দুর্ধর্ষ বাহিনীর সামনে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে লড়াই করছেন মাত্র তিন হাজার মুসলিম সৈন্য। অস্ত্র-শস্ত্রেও মুসলমানরা রোমানদের চেয়ে দুর্বল। কিন্তু মুতার প্রান্তরে সেদিন ঘটে গেল বিস্ময়কর এক উপাখ্যান। পৃথিবীর ইতিহাসে রচিত হলো এক নয়া দাস্তান।
মুসলমানদের মাত্র তিন হাজার সৈন্য শক্তিশালী রোমানদের লক্ষ্য সৈন্যকে রীতিমতো নাকানি-চুবানি খাইয়ে দিচ্ছে। مسلمانوں کا সাহসিকতা ও যুদ্ধের দক্ষতা দেখে রোমান সৈন্যরা বিস্ময়ে হতবাক। রোমানরা যেখানে ভেবেছে, সামান্য লড়াইয়ে উড়িয়ে দেবে مسلمانوں کا, সেখানে তারা তৈরি করেছে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
মুতার প্রান্তরে দুই পক্ষের মধ্যে চলছে তুমুল লড়াই। মুসলমানদের পতাকা সেনাপতি হযরত যায়েদ ইবনে হারেসার হাতে। এক হাতে পতাকা আর অপর হাতে তরবারি হাতে তিনি ঢুকে পড়েন শত্রুদের ভেতর। শাহাদতের তৃষ্ণায় ব্যাকুল হয়ে ওঠেন মুসলিম সেনাপতি হযরত যায়েদ। তার চোখের সামনে যেন বারবার ভেসে উঠছে প্রতিশ্রুত বেহেশত। জীবনের কথা ভুলে গেলেন তিনি।
মুতার প্রান্তরে হযরত যায়েদ বিন হারেসা যে অসীম বীরত্ব দেখিয়েছেন ইতিহাসে তার জুড়ি মেলা ভার। শত্রুকে আঘাত করে করে সম্মুখে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার তরবারির আঘাতে একের-পর-এক ধরাশায়ী হতে থাকে রোমান সৈন্য। তিনি যখন শত্রুদের গর্দানে তরবারি চালাচ্ছেন তখন এক শত্রু প্রচণ্ড শক্তিকে আঘাত করে। রক্তে ভেসে যায় মুসলিম সেনাপতির শরীর। অস্ফুট স্বরে কালিমা পড়তে পড়তে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা.। পান করেন শাহাদতের অমীয় সুধা।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা অনুযায়ী যুদ্ধের পতাকা হাতে তুলে নেন হযরত জাফর রা.। এক হাতে পতাকা, আরেক হাতে তরবারি নিয়ে তিনিও প্রাণপন লড়ে যাচ্ছেন রোমানদের বিরুদ্ধে। লড়াই করতে করতে অবশেষে তিনিও শহিদ হয়ে গেলেন।
এবার পতাকা হাতে তুলে নেন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা.। অবিশ্রান্ত যুদ্ধ করতে করতে তিনিও দুই সেনাপতির সাথে মিলিত হলেন। মুতার প্রান্তর ভেসে গেল হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহার রক্তে।
রণাঙ্গনে মৃত্যু হয় যার, তার জীবন তো আসমানের। আত্মোৎসর্গের অপার্থিব ঝরনায় সিক্ত হলেন ইসলামের তিন সাহসী সেনাপতি।
একে একে তিনজন সেনাপতি শাহাদতবরণ করলেন। মুসলমানরা এবার সেনাপতি নির্বাচন করলেন হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ-ইতিহাসের এক রণবীরের নাম। মহাকালের মহানায়ক তিনি।
তিনি রণাঙ্গনের স্বর্ণঈগল। অপরাজেয় সেনাপতি।
সর্বকালের বীরশ্রেষ্ঠদের একজন হযরত খালিদ। ইতিহাস গর্ব করে আজও তার নাম উচ্চারণ করে। এ নাম উচ্চারণ করামাত্র মুমিনের হৃদয় ও রক্তে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ফুলে ওঠে সাহসের প্রতিটি শিরা-উপশিরা।
যুদ্ধের পতাকা হাতে নিলেন সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.। যুদ্ধের নতুন ছক আকলেন তিনি। সাহাবায়ে কেরامকে নিয়ে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেন রোমানদের বিরুদ্ধে। লক্ষ রোমান সেনার বিরুদ্ধে তিন হাজার মুজাহিদ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
ঘোড়ার পিঠে চড়ে বাতাসের মতো ক্ষিপ্রগতিতে তিনি এগিয়ে যান কাফেরদের সম্মুখে। সাহাবায়ে কেরাম ছুটছেন তার পেছনে পেছনে। মুসলমানরা যখন জীবনের মায়া ভুলে তলোয়ার উঁচু করে রোমান কাফেরদের ধাওয়া করল, তখন এক অলৌকিক ভয় রোমানদের হৃদয়কে কাঁপিয়ে তুলে। জীবন বাঁচাতে পেছনের দিকে ছুটতে থাকে তারা। রোমান সেনাপতি সৈন্যদের ডাকতে থাকে; কিন্তু সেদিকে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ নেই তাদের। প্রাণ বাঁচাতে তারা উর্ধ্বশ্বাসে পালাতে থাকে। সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. মুসলিম সৈন্যদের নিয়ে ঢুকে পড়েন রোমান বাহিনীর ভেতর। তীব্রভাবে মুসলমানরা তরবারি চালাতে থাকে। দিশেহারা হয়ে পড়ে শত্রুর দল। তখন বহু সৈন্য হতাহত হয়। রোমানদের রক্তে ভেসে যায় মুতার প্রান্তর।
আল্লাহ বিজয় দান করলেন مسلمانوں کا। মুতার প্রান্তরে রচিত হলো ইতিহাসের অমর বিজয়কাব্য। সেদিন পৃথিবী চিনল এক নতুন সেনাপতিকে। এক নতুন মহানায়ককে। তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.। তার জীবনের একমাত্র স্বপ্ন ছিল, যেন জিহাদের ময়দানে শহিদি মৃত্যু হয় তার। কিন্তু এমন কোনো বীর বাহাদুরের জন্ম হয়নি যে হত্যা করবে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম দিয়েছিলেন সাইফুল্লাহ তথা আল্লাহর তরবারি। আল্লাহর তরবারি ভাঙতে পারেনি কেউ কোনোদিন।
মক্কা বিজয় ও খালিদ বিন ওয়ালিদ রা: কাফেরদের অত্যাচারে একদিন মুসলমানরা মাতৃভূমি ছেড়ে মদিনায় হিজরত করে। ধীরে ধীরে মুসলমানরা শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে। ৮ম হিজরিতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের ইচ্ছা করলেন। রাসুলের নির্দেশে সাহাবায়ে কেরাম যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। হকের বাহিনী এগিয়ে চলছে মক্কা অভিমুখে। আজ সঙ্গে আছেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। কাফেরদের সাথে মুসলমানদের আজ চূড়ান্ত সংঘাত হবে। দূর থেকে مسلمانوں کا আগমন দেখে মক্কাবাসী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। ভেতরে ভেতরে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এককালে মক্কার দুর্দণ্ড প্রতাপ থাকলেও ততদিনে খর্ব হয়ে এসেছে তাদের শক্তি-সামর্থ্য। মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মতো সাহস ও প্রস্তুতি তাদের ছিল না। তাই তারা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। কিন্তু কতিপয় পাপিষ্ঠ তারা কিছুতেই মুসলমানদের বিনা বাধায় মক্কায় প্রবেশ করতে দেবে না। সংখ্যায় ছিল তারা নিতান্তই স্বল্প। ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের জিঘাংসা এতই প্রগাঢ় যে, কিছুতেই তারা مسلمانوں কা ফের মক্কায় প্রবেশ করতে দেবে না। মুসলিম বাহিনীকে প্রতিহত করতে তারা এগিয়ে আসে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে প্রেরণ করলেন তাদের মুকাবেলা করার জন্য। নবীজি জানতেন, খালিদই তাদের জন্য যথেষ্ট। হযরত খালিদ অসীম সাহসে এগিয়ে গেলেন তাদের দিকে। মক্কার কাফেরদের হযরত খালিদ একাই ধরাশায়ী করেন। তাদের ক-জনকে তিনি হত্যা করেন। আর ক-জন জান নিয়ে পালিয়ে যায়।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقُ وَلَكُمُ الْوَيْلُ مِمَّا تَصِفُون
'আমি সত্য দ্বারা মিথ্যার ওপর আঘাত করি; সত্য তখন মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় আর তখনই মিথ্যা বিলুপ্ত হয়ে যায়। তোমরা যা বলছ তার কারণে তোমাদের জন্য রয়েছে বড় দুর্ভোগ।' ⁹³
মক্কা বিজয় হলো। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরامকে নিয়ে মক্কায় প্রবেশ করলেন। সেই মক্কা, যা ছিল তাদের জন্মভূমি। যেখান থেকে একদিন তারা হিজরত করেছিলেন মদিনায়।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন সেসব মহান সাহাবায়ে কেরামের মধ্য থেকে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মানের ঘোষণা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
لَا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُوْلَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنَ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلًّا وَعَدَ اللهُ الْحُسْنَى
'তোমাদের মধ্যে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে তারা অন্যদের সমান নয়। মর্যাদায় এরা তাদের চেয়ে বড়, যারা পরে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে। তবে আল্লাহ প্রত্যেককে কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। '⁹⁴

টিকাঃ
৯০ সুরা আলে ইমরান: ১৬০
৯১ সুরা আলে ইমরান: ১৩
৯২ সুরা বাকারা: ২৪৯
৯৩ সুরা আম্বিয়া: ২১
৯৪ সুরা হাদিদ: ১০

হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এখন মুসলমান। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন প্রিয় সাহাবি। ইসলামের নিবেদিত সৈনিক। মুসলিম বাহিনীর একজন সাহসী সদস্য। ইসলাম গ্রহণের পর মুসলমানের সাথে বহু যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি যুদ্ধে তিনি প্রদর্শন করেছেন সীমাহীন বীরত্ব। তার অসীম সাহসে কেঁপে উঠত রণাঙ্গন। শত্রুপক্ষ তার ভয়ে থাকত কম্পমান। প্রচণ্ড সাহসিকতায় তিনি শত্রুদের ভেতর ঢুকে পড়তেন। তার বীরত্বগাথা ইতিহাসে আলো করা। তেমনি একটি যুদ্ধ রোমানদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধ।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্যে পৃথিবীর সকল রাজা-বাদশাহদের নিকট ইসলামের দাওয়াতপত্র প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোম সম্রাটের নিকট দূতের মাধ্যমে একটি চিঠি প্রেরণ করলেন। চিঠি নিয়ে গেলেন হযরত হারেসা ইবনে উমায়ের রা.। কিন্তু পথিমধ্যে ঘটে গেল এক নৃশংস ঘটনা। পাপিষ্ঠ সুরাহ বিন আমর নবীজির পাঠানো দূত হযরত হারেসা ইবনে উমায়ের রা.-কে মুতার প্রান্তরে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সুরাহ বিন আমর ছিল রোম সম্রাটের নিযুক্ত গভর্নর। তৎকালীন সময়ে দূত হত্যা ছিল অত্যন্ত জঘন্য। দূত হত্যার সংবাদ শুনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীষণ ক্ষিপ্ত হলেন। তখনই অঙ্গীকার করলেন দূত হত্যার প্রতিশোধ নেবেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা.-কে সেনাপতি করে তিন হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী প্রেরণ করলেন রোমানদের বিরুদ্ধে। মাত্র তিন হাজার সৈন্য নিয়ে হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা. রওনা হলেন রোমের অভিমুখে। মুসলমানদের আগমনের সংবাদ পৌঁছে গেল রোম সম্রাটের নিকট। খবর পেয়ে রোম সম্রাট মুসলমানদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বাহিনী প্রস্তুত করে। এক লক্ষ বিশ হাজার সৈন্যের বিশাল সৈন্যবাহিনী তৈরি হলো।
মুসলমানদের তিন হাজার সৈন্যের মোকাবেলায় শক্তিশালী রোমানদের এক লক্ষ বিশ হাজার সৈন্য। বাহ্যত মুসলমানদের কাফেলাকে কিছুই মনে হয় না। এত বড় বাহিনীর সাথে সামান্য সৈন্য দিয়ে কুলিয়ে কীভাবে সম্ভব। কিন্তু মুসলমান কখনো সংখ্যা ও বাহ্যিক উপকরণের ভিত্তিতে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে না। مسلمانوں کا সাহায্য তো আসে আসমান থেকে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা উপর থেকে তাদের জন্য সাহায্য প্রেরণ করেন। বাহ্যিক আসবাব উপকরণের সাথে مسلمانوں کا বিজয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِن يَنصُرْكُمُ اللَّهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ وَإِن يَخْذُلْكُمْ فَمَن ذَا الَّذِي يَنصُرُكُم مِّن بَعْدِهِ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ
'আল্লাহ যদি তোমাদের সাহায্য করেন তাহলে তোমাদের ওপর কেউ বিজয়ী হতে পারবে না। আর তিনি যদি তোমাদের পরিত্যাগ করেন তাহলে তিনি ছাড়া এমন কে আছে যে তোমাদের সাহায্য করতে পারে? তাই মুমিনগণ যেন আল্লাহর ওপর ভরসা করে।' ⁹⁰
আরেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
قَدْ كَانَ لَكُمْ آيَةٌ فِي فِئَتَيْنِ الْتَقَتَا فِئَةٌ تُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأُخْرَى كَافِرَةٌ يَرَوْنَهُم مِّثْلَيْهِمْ رَأْيَ الْعَيْنِ وَاللَّهُ يُؤَيِّدُ بِنَصْرِهِ مَن يَشَاءُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَعِبْرَةً لِأُولِي الْأَبْصَارِ
'যুদ্ধক্ষেত্রে মিলিত হওয়া দুটো দলের মধ্যে তোমাদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন ছিল। একটি দল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করেছিল আর অন্যটি ছিল কাফেরদের দল; যারা ঈমানদারদের চোখের দেখায় দ্বিগুণ দেখেছিল। আর আল্লাহ যাকে চান স্বীয় সাহায্য দ্বারা শক্তিশালী করেন। নিশ্চয় ঐ ঘটনার মধ্যে দৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য রয়েছে শিক্ষা।' ⁹¹
অন্য আয়াদে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَمْ مِنْ فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةٌ كَثِيرَةٌ بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصابرين
'আল্লাহর হুকুমে কত ছোট দল কত বড় দলকে পরাজিত করেছে। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।'⁹²
অভিযানে প্রেরণ করার পূর্বে মুসলিম বাহিনীকে লক্ষ্য করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'যুদ্ধে সেনাপতি যায়েদ যদি শহিদ হয়, তাহলে পরবর্তী সেনাপতি নিযুক্ত হবে জাফর ইবনে আবু তালেব। জাফর যদি শহিদ হয়, তাহলে পরবর্তী সেনাপতি হবে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা। যদি আবদুল্লাহও শহিদ হয়ে যায় তাহলে মুসলমানদের ভেতর থেকে পছন্দনীয় ব্যক্তিকে সেনাপতি নির্বাচন করা হবে।'
আর কোনো যুদ্ধে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনজন সেনাপতি নিযুক্ত করেননি। আর যে তিনজনকে ধারাবাহিক সেনাপতি নিযুক্ত করেছেন তারা ছিলেন সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তাদের বৈশিষ্ট্য ছিল, তারা দিনের আলোতে ঘোড়সওয়ার ও দক্ষ সমরনায়ক এবং রাতের আঁধারে সাধক, তাহাজ্জুদ ও জিকির-আজকারে মত্ত থাকতেন।
স্বভাবতই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এ যুদ্ধের গুরুত্ব ছিল অত্যধিক। হযরত যায়েদ ইবনে হারেসার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী ছুটে চলল। مسلمانوں کا ততদিনে শক্তি ও সামর্থ্য যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন আর পূর্বের মতো অত দুর্বল ও সহায় সম্বলহীন নয়। অস্ত্রের ঝনঝনানি আর ঘোড়ার ক্ষুরধ্বনিতে তারা বহুবার প্রকম্পিত করেছে আরবের মাটি। জর্দানের মাআন নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেন মুসলিম সেনাপতি হযরত যায়েদ ইবনে হারেসা। রোমান বাহিনী মুসলমানদের অদূরেই যুদ্ধের তাবু স্থাপন করে।
কাফেরদের সৈন্যসংখ্যা দেখে মুসলিম বাহিনী ভাবনায় পড়ে গেল। তাদের কপালে দেখা দিলো নিদারুণ চিন্তার ভাঁজ। কিছুটা ভয়ও। এত বড় বাহিনীর মোকাবেলা করতে হবে ভাবতে পারেননি সেনাপতি যায়েদ ইবনে হারেসা। সৈন্যও তাদের অতি সামান্য। এমতাবস্থায় করণীয় কী হতে পারে এ নিয়ে ভাবতে থাকেন সাহাবায়ে কেরাম। পরস্পরে চলতে থাকে বিভিন্ন শলা-পরামর্শ। কেউ বললেন, রোমানদের সৈন্যসংখ্যা জানিয়ে পত্র লেখা হোক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট। রাসুল আমাদের যে পরামর্শ দেবেন আমরা সে অনুযায়ী কাজ করব। কেউ বললেন, আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমরা সংখ্যাধিক্য এবং শক্তির ওপর ভরসা করে যুদ্ধ করি না। আমরা যুদ্ধ করি দ্বীনের জন্য। সুতরাং আমরা যে উদ্দেশ্যে বের হয়েছি, সে উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত করব। আল্লাহ আমাদের দুটি কল্যাণের কোনো একটি অবশ্যই দান করবেন। হয় বিজয়, নয় আল্লাহর পথে শাহাদত।
সর্বশেষ সেনাপতি হযরত যায়েদ বিন হারেসা রোমানদের সাথে যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। মুসলিম বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তাদের সংখ্যাধিক্য যেন আমাদের হৃদয়ে কোনো ভীতি সঞ্চার করতে না পারে। আমরা সংখ্যার ভিত্তিতে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করি না। আমাদের সাহায্য প্রেরিত আল্লাহর পক্ষ থেকে।
মুতার প্রান্তরে মুখোমুখি হলো উভয় দল। শুরু হলো ভয়ানক লড়াই। রোমানদের লক্ষাধিক সৈন্যের দুর্ধর্ষ বাহিনীর সামনে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে লড়াই করছেন মাত্র তিন হাজার মুসলিম সৈন্য। অস্ত্র-শস্ত্রেও মুসলমানরা রোমানদের চেয়ে দুর্বল। কিন্তু মুতার প্রান্তরে সেদিন ঘটে গেল বিস্ময়কর এক উপাখ্যান। পৃথিবীর ইতিহাসে রচিত হলো এক নয়া দাস্তান।
মুসলমানদের মাত্র তিন হাজার সৈন্য শক্তিশালী রোমানদের লক্ষ্য সৈন্যকে রীতিমতো নাকানি-চুবানি খাইয়ে দিচ্ছে। مسلمانوں کا সাহসিকতা ও যুদ্ধের দক্ষতা দেখে রোমান সৈন্যরা বিস্ময়ে হতবাক। রোমানরা যেখানে ভেবেছে, সামান্য লড়াইয়ে উড়িয়ে দেবে مسلمانوں کا, সেখানে তারা তৈরি করেছে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
মুতার প্রান্তরে দুই পক্ষের মধ্যে চলছে তুমুল লড়াই। মুসলমানদের পতাকা সেনাপতি হযরত যায়েদ ইবনে হারেসার হাতে। এক হাতে পতাকা আর অপর হাতে তরবারি হাতে তিনি ঢুকে পড়েন শত্রুদের ভেতর। শাহাদতের তৃষ্ণায় ব্যাকুল হয়ে ওঠেন মুসলিম সেনাপতি হযরত যায়েদ। তার চোখের সামনে যেন বারবার ভেসে উঠছে প্রতিশ্রুত বেহেশত। জীবনের কথা ভুলে গেলেন তিনি।
মুতার প্রান্তরে হযরত যায়েদ বিন হারেসা যে অসীম বীরত্ব দেখিয়েছেন ইতিহাসে তার জুড়ি মেলা ভার। শত্রুকে আঘাত করে করে সম্মুখে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার তরবারির আঘাতে একের-পর-এক ধরাশায়ী হতে থাকে রোমান সৈন্য। তিনি যখন শত্রুদের গর্দানে তরবারি চালাচ্ছেন তখন এক শত্রু প্রচণ্ড শক্তিকে আঘাত করে। রক্তে ভেসে যায় মুসলিম সেনাপতির শরীর। অস্ফুট স্বরে কালিমা পড়তে পড়তে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা.। পান করেন শাহাদতের অমীয় সুধা।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা অনুযায়ী যুদ্ধের পতাকা হাতে তুলে নেন হযরত জাফর রা.। এক হাতে পতাকা, আরেক হাতে তরবারি নিয়ে তিনিও প্রাণপন লড়ে যাচ্ছেন রোমানদের বিরুদ্ধে। লড়াই করতে করতে অবশেষে তিনিও শহিদ হয়ে গেলেন।
এবার পতাকা হাতে তুলে নেন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা.। অবিশ্রান্ত যুদ্ধ করতে করতে তিনিও দুই সেনাপতির সাথে মিলিত হলেন। মুতার প্রান্তর ভেসে গেল হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহার রক্তে।
রণাঙ্গনে মৃত্যু হয় যার, তার জীবন তো আসমানের। আত্মোৎসর্গের অপার্থিব ঝরনায় সিক্ত হলেন ইসলামের তিন সাহসী সেনাপতি।
একে একে তিনজন সেনাপতি শাহাদতবরণ করলেন। মুসলমানরা এবার সেনাপতি নির্বাচন করলেন হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ-ইতিহাসের এক রণবীরের নাম। মহাকালের মহানায়ক তিনি।
তিনি রণাঙ্গনের স্বর্ণঈগল। অপরাজেয় সেনাপতি।
সর্বকালের বীরশ্রেষ্ঠদের একজন হযরত খালিদ। ইতিহাস গর্ব করে আজও তার নাম উচ্চারণ করে। এ নাম উচ্চারণ করামাত্র মুমিনের হৃদয় ও রক্তে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ফুলে ওঠে সাহসের প্রতিটি শিরা-উপশিরা।
যুদ্ধের পতাকা হাতে নিলেন সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.। যুদ্ধের নতুন ছক আকলেন তিনি। সাহাবায়ে কেরامকে নিয়ে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেন রোমানদের বিরুদ্ধে। লক্ষ রোমান সেনার বিরুদ্ধে তিন হাজার মুজাহিদ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
ঘোড়ার পিঠে চড়ে বাতাসের মতো ক্ষিপ্রগতিতে তিনি এগিয়ে যান কাফেরদের সম্মুখে। সাহাবায়ে কেরাম ছুটছেন তার পেছনে পেছনে। মুসলমানরা যখন জীবনের মায়া ভুলে তলোয়ার উঁচু করে রোমান কাফেরদের ধাওয়া করল, তখন এক অলৌকিক ভয় রোমানদের হৃদয়কে কাঁপিয়ে তুলে। জীবন বাঁচাতে পেছনের দিকে ছুটতে থাকে তারা। রোমান সেনাপতি সৈন্যদের ডাকতে থাকে; কিন্তু সেদিকে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ নেই তাদের। প্রাণ বাঁচাতে তারা উর্ধ্বশ্বাসে পালাতে থাকে। সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. মুসলিম সৈন্যদের নিয়ে ঢুকে পড়েন রোমান বাহিনীর ভেতর। তীব্রভাবে মুসলমানরা তরবারি চালাতে থাকে। দিশেহারা হয়ে পড়ে শত্রুর দল। তখন বহু সৈন্য হতাহত হয়। রোমানদের রক্তে ভেসে যায় মুতার প্রান্তর।
আল্লাহ বিজয় দান করলেন مسلمانوں کا। মুতার প্রান্তরে রচিত হলো ইতিহাসের অমর বিজয়কাব্য। সেদিন পৃথিবী চিনল এক নতুন সেনাপতিকে। এক নতুন মহানায়ককে। তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.। তার জীবনের একমাত্র স্বপ্ন ছিল, যেন জিহাদের ময়দানে শহিদি মৃত্যু হয় তার। কিন্তু এমন কোনো বীর বাহাদুরের জন্ম হয়নি যে হত্যা করবে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম দিয়েছিলেন সাইফুল্লাহ তথা আল্লাহর তরবারি। আল্লাহর তরবারি ভাঙতে পারেনি কেউ কোনোদিন।
মক্কা বিজয় ও খালিদ বিন ওয়ালিদ রা: কাফেরদের অত্যাচারে একদিন মুসলমানরা মাতৃভূমি ছেড়ে মদিনায় হিজরত করে। ধীরে ধীরে মুসলমানরা শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে। ৮ম হিজরিতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের ইচ্ছা করলেন। রাসুলের নির্দেশে সাহাবায়ে কেরাম যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। হকের বাহিনী এগিয়ে চলছে মক্কা অভিমুখে। আজ সঙ্গে আছেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। কাফেরদের সাথে মুসলমানদের আজ চূড়ান্ত সংঘাত হবে। দূর থেকে مسلمانوں کا আগমন দেখে মক্কাবাসী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। ভেতরে ভেতরে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এককালে মক্কার দুর্দণ্ড প্রতাপ থাকলেও ততদিনে খর্ব হয়ে এসেছে তাদের শক্তি-সামর্থ্য। মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মতো সাহস ও প্রস্তুতি তাদের ছিল না। তাই তারা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। কিন্তু কতিপয় পাপিষ্ঠ তারা কিছুতেই মুসলমানদের বিনা বাধায় মক্কায় প্রবেশ করতে দেবে না। সংখ্যায় ছিল তারা নিতান্তই স্বল্প। ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের জিঘাংসা এতই প্রগাঢ় যে, কিছুতেই তারা مسلمانوں কা ফের মক্কায় প্রবেশ করতে দেবে না। মুসলিম বাহিনীকে প্রতিহত করতে তারা এগিয়ে আসে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে প্রেরণ করলেন তাদের মুকাবেলা করার জন্য। নবীজি জানতেন, খালিদই তাদের জন্য যথেষ্ট। হযরত খালিদ অসীম সাহসে এগিয়ে গেলেন তাদের দিকে। মক্কার কাফেরদের হযরত খালিদ একাই ধরাশায়ী করেন। তাদের ক-জনকে তিনি হত্যা করেন। আর ক-জন জান নিয়ে পালিয়ে যায়।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقُ وَلَكُمُ الْوَيْلُ مِمَّا تَصِفُون
'আমি সত্য দ্বারা মিথ্যার ওপর আঘাত করি; সত্য তখন মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় আর তখনই মিথ্যা বিলুপ্ত হয়ে যায়। তোমরা যা বলছ তার কারণে তোমাদের জন্য রয়েছে বড় দুর্ভোগ।' ⁹³
মক্কা বিজয় হলো। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরامকে নিয়ে মক্কায় প্রবেশ করলেন। সেই মক্কা, যা ছিল তাদের জন্মভূমি। যেখান থেকে একদিন তারা হিজরত করেছিলেন মদিনায়।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন সেসব মহান সাহাবায়ে কেরামের মধ্য থেকে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মানের ঘোষণা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
لَا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُوْلَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنَ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلًّا وَعَدَ اللهُ الْحُسْنَى
'তোমাদের মধ্যে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে তারা অন্যদের সমান নয়। মর্যাদায় এরা তাদের চেয়ে বড়, যারা পরে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে। তবে আল্লাহ প্রত্যেককে কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। '⁹⁴

টিকাঃ
৯০ সুরা আলে ইমরান: ১৬০
৯১ সুরা আলে ইমরান: ১৩
৯২ সুরা বাকারা: ২৪৯
৯৩ সুরা আম্বিয়া: ২১
৯৪ সুরা হাদিদ: ১০

হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এখন মুসলমান। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন প্রিয় সাহাবি। ইসলামের নিবেদিত সৈনিক। মুসলিম বাহিনীর একজন সাহসী সদস্য। ইসলাম গ্রহণের পর মুসলমানের সাথে বহু যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি যুদ্ধে তিনি প্রদর্শন করেছেন সীমাহীন বীরত্ব। তার অসীম সাহসে কেঁপে উঠত রণাঙ্গন। শত্রুপক্ষ তার ভয়ে থাকত কম্পমান। প্রচণ্ড সাহসিকতায় তিনি শত্রুদের ভেতর ঢুকে পড়তেন। তার বীরত্বগাথা ইতিহাসে আলো করা। তেমনি একটি যুদ্ধ রোমানদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধ।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্যে পৃথিবীর সকল রাজা-বাদশাহদের নিকট ইসলামের দাওয়াতপত্র প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোম সম্রাটের নিকট দূতের মাধ্যমে একটি চিঠি প্রেরণ করলেন। চিঠি নিয়ে গেলেন হযরত হারেসা ইবনে উমায়ের রা.। কিন্তু পথিমধ্যে ঘটে গেল এক নৃশংস ঘটনা। পাপিষ্ঠ সুরাহ বিন আমর নবীজির পাঠানো দূত হযরত হারেসা ইবনে উমায়ের রা.-কে মুতার প্রান্তরে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সুরাহ বিন আমর ছিল রোম সম্রাটের নিযুক্ত গভর্নর। তৎকালীন সময়ে দূত হত্যা ছিল অত্যন্ত জঘন্য। দূত হত্যার সংবাদ শুনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীষণ ক্ষিপ্ত হলেন। তখনই অঙ্গীকার করলেন দূত হত্যার প্রতিশোধ নেবেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা.-কে সেনাপতি করে তিন হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী প্রেরণ করলেন রোমানদের বিরুদ্ধে। মাত্র তিন হাজার সৈন্য নিয়ে হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা. রওনা হলেন রোমের অভিমুখে। মুসলমানদের আগমনের সংবাদ পৌঁছে গেল রোম সম্রাটের নিকট। খবর পেয়ে রোম সম্রাট মুসলমানদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বাহিনী প্রস্তুত করে। এক লক্ষ বিশ হাজার সৈন্যের বিশাল সৈন্যবাহিনী তৈরি হলো।
মুসলমানদের তিন হাজার সৈন্যের মোকাবেলায় শক্তিশালী রোমানদের এক লক্ষ বিশ হাজার সৈন্য। বাহ্যত মুসলমানদের কাফেলাকে কিছুই মনে হয় না। এত বড় বাহিনীর সাথে সামান্য সৈন্য দিয়ে কুলিয়ে কীভাবে সম্ভব। কিন্তু মুসলমান কখনো সংখ্যা ও বাহ্যিক উপকরণের ভিত্তিতে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে না। مسلمانوں کا সাহায্য তো আসে আসমান থেকে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা উপর থেকে তাদের জন্য সাহায্য প্রেরণ করেন। বাহ্যিক আসবাব উপকরণের সাথে مسلمانوں کا বিজয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِن يَنصُرْكُمُ اللَّهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ وَإِن يَخْذُلْكُمْ فَمَن ذَا الَّذِي يَنصُرُكُم مِّن بَعْدِهِ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ
'আল্লাহ যদি তোমাদের সাহায্য করেন তাহলে তোমাদের ওপর কেউ বিজয়ী হতে পারবে না। আর তিনি যদি তোমাদের পরিত্যাগ করেন তাহলে তিনি ছাড়া এমন কে আছে যে তোমাদের সাহায্য করতে পারে? তাই মুমিনগণ যেন আল্লাহর ওপর ভরসা করে।' ⁹⁰
আরেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
قَدْ كَانَ لَكُمْ آيَةٌ فِي فِئَتَيْنِ الْتَقَتَا فِئَةٌ تُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأُخْرَى كَافِرَةٌ يَرَوْنَهُم مِّثْلَيْهِمْ رَأْيَ الْعَيْنِ وَاللَّهُ يُؤَيِّدُ بِنَصْرِهِ مَن يَشَاءُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَعِبْرَةً لِأُولِي الْأَبْصَارِ
'যুদ্ধক্ষেত্রে মিলিত হওয়া দুটো দলের মধ্যে তোমাদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন ছিল। একটি দল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করেছিল আর অন্যটি ছিল কাফেরদের দল; যারা ঈমানদারদের চোখের দেখায় দ্বিগুণ দেখেছিল। আর আল্লাহ যাকে চান স্বীয় সাহায্য দ্বারা শক্তিশালী করেন। নিশ্চয় ঐ ঘটনার মধ্যে দৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য রয়েছে শিক্ষা।' ⁹¹
অন্য আয়াদে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَمْ مِنْ فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةٌ كَثِيرَةٌ بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصابرين
'আল্লাহর হুকুমে কত ছোট দল কত বড় দলকে পরাজিত করেছে। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।'⁹²
অভিযানে প্রেরণ করার পূর্বে মুসলিম বাহিনীকে লক্ষ্য করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'যুদ্ধে সেনাপতি যায়েদ যদি শহিদ হয়, তাহলে পরবর্তী সেনাপতি নিযুক্ত হবে জাফর ইবনে আবু তালেব। জাফর যদি শহিদ হয়, তাহলে পরবর্তী সেনাপতি হবে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা। যদি আবদুল্লাহও শহিদ হয়ে যায় তাহলে মুসলমানদের ভেতর থেকে পছন্দনীয় ব্যক্তিকে সেনাপতি নির্বাচন করা হবে।'
আর কোনো যুদ্ধে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনজন সেনাপতি নিযুক্ত করেননি। আর যে তিনজনকে ধারাবাহিক সেনাপতি নিযুক্ত করেছেন তারা ছিলেন সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তাদের বৈশিষ্ট্য ছিল, তারা দিনের আলোতে ঘোড়সওয়ার ও দক্ষ সমরনায়ক এবং রাতের আঁধারে সাধক, তাহাজ্জুদ ও জিকির-আজকারে মত্ত থাকতেন।
স্বভাবতই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এ যুদ্ধের গুরুত্ব ছিল অত্যধিক। হযরত যায়েদ ইবনে হারেসার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী ছুটে চলল। مسلمانوں کا ততদিনে শক্তি ও সামর্থ্য যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন আর পূর্বের মতো অত দুর্বল ও সহায় সম্বলহীন নয়। অস্ত্রের ঝনঝনানি আর ঘোড়ার ক্ষুরধ্বনিতে তারা বহুবার প্রকম্পিত করেছে আরবের মাটি। জর্দানের মাআন নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেন মুসলিম সেনাপতি হযরত যায়েদ ইবনে হারেসা। রোমান বাহিনী মুসলমানদের অদূরেই যুদ্ধের তাবু স্থাপন করে।
কাফেরদের সৈন্যসংখ্যা দেখে মুসলিম বাহিনী ভাবনায় পড়ে গেল। তাদের কপালে দেখা দিলো নিদারুণ চিন্তার ভাঁজ। কিছুটা ভয়ও। এত বড় বাহিনীর মোকাবেলা করতে হবে ভাবতে পারেননি সেনাপতি যায়েদ ইবনে হারেসা। সৈন্যও তাদের অতি সামান্য। এমতাবস্থায় করণীয় কী হতে পারে এ নিয়ে ভাবতে থাকেন সাহাবায়ে কেরাম। পরস্পরে চলতে থাকে বিভিন্ন শলা-পরামর্শ। কেউ বললেন, রোমানদের সৈন্যসংখ্যা জানিয়ে পত্র লেখা হোক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট। রাসুল আমাদের যে পরামর্শ দেবেন আমরা সে অনুযায়ী কাজ করব। কেউ বললেন, আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমরা সংখ্যাধিক্য এবং শক্তির ওপর ভরসা করে যুদ্ধ করি না। আমরা যুদ্ধ করি দ্বীনের জন্য। সুতরাং আমরা যে উদ্দেশ্যে বের হয়েছি, সে উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত করব। আল্লাহ আমাদের দুটি কল্যাণের কোনো একটি অবশ্যই দান করবেন। হয় বিজয়, নয় আল্লাহর পথে শাহাদত।
সর্বশেষ সেনাপতি হযরত যায়েদ বিন হারেসা রোমানদের সাথে যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। মুসলিম বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তাদের সংখ্যাধিক্য যেন আমাদের হৃদয়ে কোনো ভীতি সঞ্চার করতে না পারে। আমরা সংখ্যার ভিত্তিতে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করি না। আমাদের সাহায্য প্রেরিত আল্লাহর পক্ষ থেকে।
মুতার প্রান্তরে মুখোমুখি হলো উভয় দল। শুরু হলো ভয়ানক লড়াই। রোমানদের লক্ষাধিক সৈন্যের দুর্ধর্ষ বাহিনীর সামনে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে লড়াই করছেন মাত্র তিন হাজার মুসলিম সৈন্য। অস্ত্র-শস্ত্রেও মুসলমানরা রোমানদের চেয়ে দুর্বল। কিন্তু মুতার প্রান্তরে সেদিন ঘটে গেল বিস্ময়কর এক উপাখ্যান। পৃথিবীর ইতিহাসে রচিত হলো এক নয়া দাস্তান।
মুসলমানদের মাত্র তিন হাজার সৈন্য শক্তিশালী রোমানদের লক্ষ্য সৈন্যকে রীতিমতো নাকানি-চুবানি খাইয়ে দিচ্ছে। مسلمانوں کا সাহসিকতা ও যুদ্ধের দক্ষতা দেখে রোমান সৈন্যরা বিস্ময়ে হতবাক। রোমানরা যেখানে ভেবেছে, সামান্য লড়াইয়ে উড়িয়ে দেবে مسلمانوں کا, সেখানে তারা তৈরি করেছে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
মুতার প্রান্তরে দুই পক্ষের মধ্যে চলছে তুমুল লড়াই। মুসলমানদের পতাকা সেনাপতি হযরত যায়েদ ইবনে হারেসার হাতে। এক হাতে পতাকা আর অপর হাতে তরবারি হাতে তিনি ঢুকে পড়েন শত্রুদের ভেতর। শাহাদতের তৃষ্ণায় ব্যাকুল হয়ে ওঠেন মুসলিম সেনাপতি হযরত যায়েদ। তার চোখের সামনে যেন বারবার ভেসে উঠছে প্রতিশ্রুত বেহেশত। জীবনের কথা ভুলে গেলেন তিনি।
মুতার প্রান্তরে হযরত যায়েদ বিন হারেসা যে অসীম বীরত্ব দেখিয়েছেন ইতিহাসে তার জুড়ি মেলা ভার। শত্রুকে আঘাত করে করে সম্মুখে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার তরবারির আঘাতে একের-পর-এক ধরাশায়ী হতে থাকে রোমান সৈন্য। তিনি যখন শত্রুদের গর্দানে তরবারি চালাচ্ছেন তখন এক শত্রু প্রচণ্ড শক্তিকে আঘাত করে। রক্তে ভেসে যায় মুসলিম সেনাপতির শরীর। অস্ফুট স্বরে কালিমা পড়তে পড়তে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা.। পান করেন শাহাদতের অমীয় সুধা।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা অনুযায়ী যুদ্ধের পতাকা হাতে তুলে নেন হযরত জাফর রা.। এক হাতে পতাকা, আরেক হাতে তরবারি নিয়ে তিনিও প্রাণপন লড়ে যাচ্ছেন রোমানদের বিরুদ্ধে। লড়াই করতে করতে অবশেষে তিনিও শহিদ হয়ে গেলেন।
এবার পতাকা হাতে তুলে নেন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা.। অবিশ্রান্ত যুদ্ধ করতে করতে তিনিও দুই সেনাপতির সাথে মিলিত হলেন। মুতার প্রান্তর ভেসে গেল হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহার রক্তে।
রণাঙ্গনে মৃত্যু হয় যার, তার জীবন তো আসমানের। আত্মোৎসর্গের অপার্থিব ঝরনায় সিক্ত হলেন ইসলামের তিন সাহসী সেনাপতি।
একে একে তিনজন সেনাপতি শাহাদতবরণ করলেন। মুসলমানরা এবার সেনাপতি নির্বাচন করলেন হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ-ইতিহাসের এক রণবীরের নাম। মহাকালের মহানায়ক তিনি।
তিনি রণাঙ্গনের স্বর্ণঈগল। অপরাজেয় সেনাপতি।
সর্বকালের বীরশ্রেষ্ঠদের একজন হযরত খালিদ। ইতিহাস গর্ব করে আজও তার নাম উচ্চারণ করে। এ নাম উচ্চারণ করামাত্র মুমিনের হৃদয় ও রক্তে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ফুলে ওঠে সাহসের প্রতিটি শিরা-উপশিরা।
যুদ্ধের পতাকা হাতে নিলেন সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.। যুদ্ধের নতুন ছক আকলেন তিনি। সাহাবায়ে কেরامকে নিয়ে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেন রোমানদের বিরুদ্ধে। লক্ষ রোমান সেনার বিরুদ্ধে তিন হাজার মুজাহিদ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
ঘোড়ার পিঠে চড়ে বাতাসের মতো ক্ষিপ্রগতিতে তিনি এগিয়ে যান কাফেরদের সম্মুখে। সাহাবায়ে কেরাম ছুটছেন তার পেছনে পেছনে। মুসলমানরা যখন জীবনের মায়া ভুলে তলোয়ার উঁচু করে রোমান কাফেরদের ধাওয়া করল, তখন এক অলৌকিক ভয় রোমানদের হৃদয়কে কাঁপিয়ে তুলে। জীবন বাঁচাতে পেছনের দিকে ছুটতে থাকে তারা। রোমান সেনাপতি সৈন্যদের ডাকতে থাকে; কিন্তু সেদিকে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ নেই তাদের। প্রাণ বাঁচাতে তারা উর্ধ্বশ্বাসে পালাতে থাকে। সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. মুসলিম সৈন্যদের নিয়ে ঢুকে পড়েন রোমান বাহিনীর ভেতর। তীব্রভাবে মুসলমানরা তরবারি চালাতে থাকে। দিশেহারা হয়ে পড়ে শত্রুর দল। তখন বহু সৈন্য হতাহত হয়। রোমানদের রক্তে ভেসে যায় মুতার প্রান্তর।
আল্লাহ বিজয় দান করলেন مسلمانوں کا। মুতার প্রান্তরে রচিত হলো ইতিহাসের অমর বিজয়কাব্য। সেদিন পৃথিবী চিনল এক নতুন সেনাপতিকে। এক নতুন মহানায়ককে। তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.। তার জীবনের একমাত্র স্বপ্ন ছিল, যেন জিহাদের ময়দানে শহিদি মৃত্যু হয় তার। কিন্তু এমন কোনো বীর বাহাদুরের জন্ম হয়নি যে হত্যা করবে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম দিয়েছিলেন সাইফুল্লাহ তথা আল্লাহর তরবারি। আল্লাহর তরবারি ভাঙতে পারেনি কেউ কোনোদিন।
মক্কা বিজয় ও খালিদ বিন ওয়ালিদ রা: কাফেরদের অত্যাচারে একদিন মুসলমানরা মাতৃভূমি ছেড়ে মদিনায় হিজরত করে। ধীরে ধীরে মুসলমানরা শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে। ৮ম হিজরিতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের ইচ্ছা করলেন। রাসুলের নির্দেশে সাহাবায়ে কেরাম যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। হকের বাহিনী এগিয়ে চলছে মক্কা অভিমুখে। আজ সঙ্গে আছেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। কাফেরদের সাথে মুসলমানদের আজ চূড়ান্ত সংঘাত হবে। দূর থেকে مسلمانوں کا আগমন দেখে মক্কাবাসী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। ভেতরে ভেতরে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এককালে মক্কার দুর্দণ্ড প্রতাপ থাকলেও ততদিনে খর্ব হয়ে এসেছে তাদের শক্তি-সামর্থ্য। মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মতো সাহস ও প্রস্তুতি তাদের ছিল না। তাই তারা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। কিন্তু কতিপয় পাপিষ্ঠ তারা কিছুতেই মুসলমানদের বিনা বাধায় মক্কায় প্রবেশ করতে দেবে না। সংখ্যায় ছিল তারা নিতান্তই স্বল্প। ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের জিঘাংসা এতই প্রগাঢ় যে, কিছুতেই তারা مسلمانوں কা ফের মক্কায় প্রবেশ করতে দেবে না। মুসলিম বাহিনীকে প্রতিহত করতে তারা এগিয়ে আসে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে প্রেরণ করলেন তাদের মুকাবেলা করার জন্য। নবীজি জানতেন, খালিদই তাদের জন্য যথেষ্ট। হযরত খালিদ অসীম সাহসে এগিয়ে গেলেন তাদের দিকে। মক্কার কাফেরদের হযরত খালিদ একাই ধরাশায়ী করেন। তাদের ক-জনকে তিনি হত্যা করেন। আর ক-জন জান নিয়ে পালিয়ে যায়।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقُ وَلَكُمُ الْوَيْلُ مِمَّا تَصِفُون
'আমি সত্য দ্বারা মিথ্যার ওপর আঘাত করি; সত্য তখন মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় আর তখনই মিথ্যা বিলুপ্ত হয়ে যায়। তোমরা যা বলছ তার কারণে তোমাদের জন্য রয়েছে বড় দুর্ভোগ।' ⁹³
মক্কা বিজয় হলো। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরامকে নিয়ে মক্কায় প্রবেশ করলেন। সেই মক্কা, যা ছিল তাদের জন্মভূমি। যেখান থেকে একদিন তারা হিজরত করেছিলেন মদিনায়।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন সেসব মহান সাহাবায়ে কেরামের মধ্য থেকে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মানের ঘোষণা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
لَا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُوْلَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنَ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلًّا وَعَدَ اللهُ الْحُسْنَى
'তোমাদের মধ্যে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে তারা অন্যদের সমান নয়। মর্যাদায় এরা তাদের চেয়ে বড়, যারা পরে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে। তবে আল্লাহ প্রত্যেককে কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। '⁹⁴

টিকাঃ
৯০ সুরা আলে ইমরান: ১৬০
৯১ সুরা আলে ইমরান: ১৩
৯২ সুরা বাকারা: ২৪৯
৯৩ সুরা আম্বিয়া: ২১
৯৪ সুরা হাদিদ: ১০

📘 হে যুবক! ফিরে এসো রবের দিকে > 📄 রাসূলের মৃত্যু-পরবর্তী সৃষ্ট ফেতনার মোকাবেলা

📄 রাসূলের মৃত্যু-পরবর্তী সৃষ্ট ফেতনার মোকাবেলা


একাদশ হিজরি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন। রাসুলের তিরোধানের পর ইসলাম সম্মুখীন হলো ভয়াবহ সঙ্কটের। مسلمانوں کا ওপর নেমে এলো ঘোরতর বিপদ। এতদিন পর্যন্ত ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হতো। সবকিছু তাই সকলের জন্য সহজ ছিল। কিন্তু তিনি চলে গেলেন রফিকে আলার সান্নিধ্যে। হে আল্লাহর বান্দাগণ! এ হলো মৃত্যু। এর থেকে কেউ পলায়ন করতে পারবে না। দুনিয়াতে যার আগমন হয়েছে তাকেই মৃত্যুবরণ করতে হবে। এ চিরসত্য। পৃথিবীর অমোঘ বিধান। চাই তিনি নবী বা রাসুল হোন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর দেখা দিলো নতুন ফিতনা। ইতিহাসে যা ফিতনায়ে ইরতিদাদ নামে প্রসিদ্ধ। মুসলমানরা চতুর্দিকে মুরতাদ হয়ে যেতে লাগল। অপরদিকে মুসায়লামা নিজেকে নবী দাবি করল। নতুন ও সরলমনা মুসলমানদের মুসায়লামা ইসলাম থেকে বিচ্যুত করতে লাগল। তার গোত্রের সকলে তাকে নবী হিসেবে মেনে নিয়ে ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়ে গেল। অন্যদিকে সরলমনা একদল মুসলমানরা যাকাত দিতে অস্বীকার করল। যাকাত ইসলামের অন্যতম রুকন। ইসলামের ভিত্তি রাখা হয়েছে যে কয়টি বিধানের ওপর, তন্মধ্যে একটি হলো যাকাত। मुसलमानों کا খলিফা তখন হযরত আবু বকর রা.। ইসলাম ও مسلمانوں کا জন্য ভয়াবহ এ ফেতনাকে মূলোৎপাটন করার জন্য খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. অত্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। দ্ব্যর্থ কণ্ঠে ঘোষণা দিলেন, ইসলামের ক্ষতি হবে আর আমি আবু বকর বেঁচে থাকব?
হযরত আবু বকর রা. তাদের বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা পর্যন্ত দিলেন। যিনি ছিলেন কোমল, ইসলামের সঙ্কট মুকাবলোয় তিনি হলেন শক্ত পাথর। যিনি ছিলেন বৃষ্টির মতো শীতল, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের সম্মান রক্ষার্থে তিনি ধারণ করলেন বজ্রকঠিন। সাহাবায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করলেন। বললেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর তার ধর্মকে পরিবর্তন করা হবে-এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আমরা অস্ত্রধারণ করব।
ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর এ দুর্দিনে হযরত আবু বকর রা. অত্যন্ত সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করেছেন। রাসুলের ইন্তেকালের পর ইসলামের ওপর আগত ধাক্কা সামাল দেওয়ার জন্য একজন আবু বকরের প্রয়োজন ছিল। এ উম্মতের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, আল্লাহ তায়ালা প্রতি একশ বছরে এ উম্মতের মাঝে একজন মুজাদ্দিদ প্রেরণ করবেন। হযরত আবু বকর রা. হলেন প্রথম মুজাদ্দিদ। যার অপরিসীম ত্যাগে ইসলাম তার সঠিক পথে অটল ছিল। সে সময় হযরত আবু বকর রা.-এর সিদ্ধান্ত ছিল যে-কোনো মূল্যে ইসলামকে সাহায্য করতে হবে। কিছুতেই রাসুলের রেখে যাওয়া শরিয়তের মাঝে পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা যাবে না। এমনকি রাসুলের একটি সুন্নতের সাথেও আপস করা যাবে না।
তাদের ক্ষেত্রেই আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেছেন,
إِنْ تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ
'যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো তাহলে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তিনি তোমাদের অটল ও অবিচল রাখবেন।'⁹⁵
ভণ্ডনবী দাবিদার মুসাইলামা ও তার অনুসারীদের দমন করতে কোমল খলিফা রূঢ় হলেন। ফুলের মানব হলেন শক্ত পাথর। জ্বলে উঠলেন ইসলামের চেতনায়। ভণ্ডনবী মুসাইলামাকে নির্মূলে কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। মুসাইলামা ও তার দোষরদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সংবাদ আসতে থাকে খলিফার কানে। পেরেশান হয়ে ভাবতে থাকেন কী করা যায়। দেখলেন, যুদ্ধ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ খোলা নেই। যুদ্ধই একমাত্র সমাধান। সুতবাং যুদ্ধ অনিবার্য। খলিফা হযরত আবু বকর রা. যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন ভণ্ডনবী দাবিদারদের অন্যতম পাষণ্ড মুসাইলামাতুল কাজ্জাবের বিরুদ্ধে। খলিফার নির্দেশে তৈরি হলো মুসলিম বাহিনী। যুদ্ধের সেনাপতি নিযুক্ত করলেন তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে।
মুসলিম বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. রওনা করলেন ইয়ামামার প্রান্তর। সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. মুসলিম বাহিনীকে সুসজ্জিত করলেন। মুসলিম বাহিনীকে তিনি সিসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করালেন। মুখোমুখি হলো দুই বাহিনী। ভণ্ডনবী ও তার ভণ্ড অনুসারীদের সাথে সত্যনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারীদের যুদ্ধ। সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার লড়াই। এ যুদ্ধ মিথ্যাকে পরাজিত করার। অন্ধকার দূরীভূত করে আলো জ্বালানোর এক গুরুত্বপূর্ণ সংঘাত। বেজে উঠল যুদ্ধের দামামা। দু-পক্ষের তীব্র আক্রমণে কেঁপে-কেঁপে উঠছে ইয়ামামার প্রান্তর। তরবারির ঝলকানিতে ঝলসে উঠছে তীব্র রোদ। পাথর খণ্ডের সাথে ঘোড়ার পদাঘাতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়ানক শব্দের। লড়াই তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। মুসাইলামা তার সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে मुसलमानों کا বিরুদ্ধে। কেননা মুসাইলামা জানে, আজ যদি হেরে যায়, তাহলে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে তার নবী হওয়ার বাসনা।
এ উম্মতের প্রথম মুজাদ্দিদ হযরত আবু বকর রা. ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণ ও সীমাহীন প্রজ্ঞার অধিকারী। সর্বোপরি নবীজির তিরোধানের পর এই প্রথম বড় কোনো অভিযান। তাই অধিকতর সাহসী ও বিচক্ষণ যোদ্ধা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে সেনাপতি বানিয়ে প্রেরণ করেন শক্তিশালী কাফেলা।
মুসলিম বাহিনীর চেষ্টা ছিল প্রাণান্ত। মরণপণ তারা লড়ে যাচ্ছেন। যুদ্ধ চলছে তুমুল তুফানে। ক্ষিপ্রগতিতে মুসলিম সৈন্যরা ঝাঁপিয়ে পড়ে কাফেরদের ওপর। তীব্র লড়াই চলছে। যুদ্ধের প্রারম্ভে উভয় পক্ষ ছিল সমানে সমান। কেউ ছাড় দিতে রাজি নয় আজ। না মুসলিম বাহিনী। না মুসাইলামার দল। এ লড়াই নিছক জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়; সত্য ও মিথ্যা নিরূপণের এক চূড়ান্ত যুদ্ধ। যুদ্ধের মাঝেই সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ নিজ ঘোড়ার ওপর দাঁড়িয়ে তেজস্বী কণ্ঠে মুসলিম বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে এক সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন। তিনি বলেন, 'হে মদিনার অধিবাসীগণ! আজ তোমরা অন্তর থেকে মদিনার চিন্তা মুছে ফেলো। আজ তোমাদের অন্তরে শুধু আল্লাহ এবং জান্নাতের স্মরণ থাকা উচিত। আজকের এ লড়াই পার্থক্য করবে সত্য ও মিথ্যার।'
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর এমন অগ্নিময় ভাষণ শুনে দ্বিগুণ শক্তিতে জ্বলে ওঠে মুসলিম বাহিনী। তাদের রক্তে বলখ মেরে ওঠে সাহস ও শৌর্যের আগুন। অসীম প্রেরণায় মুসলিম বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্রুদের ওপর। মরণঘাতী লড়াই চলছে ইয়ামামার প্রান্তরে। যুদ্ধ ক্রমশ চূড়ান্ত মুহূর্তে প্রবেশ করছে। নাঙা তলোয়ার উঁচিয়ে ঘোড়া ছুটিয়েছেন হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ ও তার অনুগত বাহিনী। মুসলমান বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মুসাইলামার বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। অবশেষে মুসলমানদের প্রতিহত করতে না পেরে তারা তাদের দূর্গের ভেতর চলে যায়। ভণ্ডনবী ঘাতক মুসাইলামা দূর্গের ভেতর আত্মগোপন করে। শত্রুপক্ষ পিছু হটলেও সেনাপতি হযরত খালিদ থেমে যাননি। আজ তিনি একটি চূড়ান্ত রফাদফা করে তবেই যাবেন ইয়ামামার প্রান্তর থেকে। যে ইচ্ছা সে কাজ। মুসলমান বাহিনী দূর্গের ভেতর আক্রমণ চালায়। مسلمانوں کا সাহসী অভিযানে অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় মুসাইলামা বাহিনী। مسلمانوں کا হাতে অত্যন্ত মর্মান্তিকভাবে নিহত হয় মুসাইলামা। বীরের বেশে মুসলিম বাহিনী মদিনায় ফিরে আসে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর সংঘটিত প্রথম যুদ্ধে মুসলমানরা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে বিপুল বিজয় অর্জন করে। ইয়ামামার ধূসর প্রান্তরে সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদের অসীম সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় বীরত্ব ইতিহাসে লেখা আছে স্বর্ণাক্ষরে।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
فَإِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا فَضَرْبَ الرِّقَابِ حَتَّى إِذَا أَشْخَنتُمُوهُمْ فَشُدُّوا الْوَثَاقَ فَإِمَّا مَنَّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً حَتَّى تَضَعَ الْحَرْبُ أَوْزَارَهَا ، ذَلِكَ وَلَوْ يَشَاءُ اللَّهُ لَا نَتَصَرَ مِنْهُمْ وَلَكِن لَيَبْلُوَ بَعْضَكُم بِبَعْضٍ ، وَالَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَلَن يُضِلَّ أَعْمَالَهُمْ سَيَهْدِيهِمْ وَيُصْلِحُ بَالَهُمْ وَيُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ عَرَّفَهَا لَهُمْ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ
'অতঃপর কাফেরদের সাথে যখন তোমাদের মোকাবেলা হবে তখন তাদের গর্দানে আঘাত করবে। অবশেষে যখন তোমরা তাদের রক্তপাত ঘটাবে তখন শক্তভাবে বাঁধবে। তারপর হয় অনুকম্পা করবে নাহয় মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেবে। যতক্ষণ না যুদ্ধ তার বোঝা নামিয়ে রাখে। এটাই আল্লাহর নির্দেশ। আল্লাহ চাইলে তাদের থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন, কিন্তু তিনি চান তোমাদের কতককে কতকের দ্বারা পরীক্ষা করতে। যারা আল্লাহর পথে শহিদ হয় তাদের কর্ম তিনি কিছুতেই নষ্ট করবেন না। এবং তাদের সেই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার কথা তিনি তাদের জানিয়েছেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি আল্লাহকে সাহায্য করো তাহলে তিনিও তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা তথা অবস্থান সুদৃঢ় রাখবেন। '⁹⁶

টিকাঃ
৯৫ সুরা মুহাম্মদ: ৭
৯৬ সুরা মুহাম্মদ: ৪-৭

একাদশ হিজরি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন। রাসুলের তিরোধানের পর ইসলাম সম্মুখীন হলো ভয়াবহ সঙ্কটের। مسلمانوں کا ওপর নেমে এলো ঘোরতর বিপদ। এতদিন পর্যন্ত ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হতো। সবকিছু তাই সকলের জন্য সহজ ছিল। কিন্তু তিনি চলে গেলেন রফিকে আলার সান্নিধ্যে। হে আল্লাহর বান্দাগণ! এ হলো মৃত্যু। এর থেকে কেউ পলায়ন করতে পারবে না। দুনিয়াতে যার আগমন হয়েছে তাকেই মৃত্যুবরণ করতে হবে। এ চিরসত্য। পৃথিবীর অমোঘ বিধান। চাই তিনি নবী বা রাসুল হোন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর দেখা দিলো নতুন ফিতনা। ইতিহাসে যা ফিতনায়ে ইরতিদাদ নামে প্রসিদ্ধ। মুসলমানরা চতুর্দিকে মুরতাদ হয়ে যেতে লাগল। অপরদিকে মুসায়লামা নিজেকে নবী দাবি করল। নতুন ও সরলমনা মুসলমানদের মুসায়লামা ইসলাম থেকে বিচ্যুত করতে লাগল। তার গোত্রের সকলে তাকে নবী হিসেবে মেনে নিয়ে ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়ে গেল। অন্যদিকে সরলমনা একদল মুসলমানরা যাকাত দিতে অস্বীকার করল। যাকাত ইসলামের অন্যতম রুকন। ইসলামের ভিত্তি রাখা হয়েছে যে কয়টি বিধানের ওপর, তন্মধ্যে একটি হলো যাকাত। मुसलमानों کا খলিফা তখন হযরত আবু বকর রা.। ইসলাম ও مسلمانوں کا জন্য ভয়াবহ এ ফেতনাকে মূলোৎপাটন করার জন্য খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. অত্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। দ্ব্যর্থ কণ্ঠে ঘোষণা দিলেন, ইসলামের ক্ষতি হবে আর আমি আবু বকর বেঁচে থাকব?
হযরত আবু বকর রা. তাদের বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা পর্যন্ত দিলেন। যিনি ছিলেন কোমল, ইসলামের সঙ্কট মুকাবলোয় তিনি হলেন শক্ত পাথর। যিনি ছিলেন বৃষ্টির মতো শীতল, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের সম্মান রক্ষার্থে তিনি ধারণ করলেন বজ্রকঠিন। সাহাবায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করলেন। বললেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর তার ধর্মকে পরিবর্তন করা হবে-এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আমরা অস্ত্রধারণ করব।
ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর এ দুর্দিনে হযরত আবু বকর রা. অত্যন্ত সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করেছেন। রাসুলের ইন্তেকালের পর ইসলামের ওপর আগত ধাক্কা সামাল দেওয়ার জন্য একজন আবু বকরের প্রয়োজন ছিল। এ উম্মতের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, আল্লাহ তায়ালা প্রতি একশ বছরে এ উম্মতের মাঝে একজন মুজাদ্দিদ প্রেরণ করবেন। হযরত আবু বকর রা. হলেন প্রথম মুজাদ্দিদ। যার অপরিসীম ত্যাগে ইসলাম তার সঠিক পথে অটল ছিল। সে সময় হযরত আবু বকর রা.-এর সিদ্ধান্ত ছিল যে-কোনো মূল্যে ইসলামকে সাহায্য করতে হবে। কিছুতেই রাসুলের রেখে যাওয়া শরিয়তের মাঝে পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা যাবে না। এমনকি রাসুলের একটি সুন্নতের সাথেও আপস করা যাবে না।
তাদের ক্ষেত্রেই আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেছেন,
إِنْ تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ
'যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো তাহলে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তিনি তোমাদের অটল ও অবিচল রাখবেন।'⁹⁵
ভণ্ডনবী দাবিদার মুসাইলামা ও তার অনুসারীদের দমন করতে কোমল খলিফা রূঢ় হলেন। ফুলের মানব হলেন শক্ত পাথর। জ্বলে উঠলেন ইসলামের চেতনায়। ভণ্ডনবী মুসাইলামাকে নির্মূলে কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। মুসাইলামা ও তার দোষরদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সংবাদ আসতে থাকে খলিফার কানে। পেরেশান হয়ে ভাবতে থাকেন কী করা যায়। দেখলেন, যুদ্ধ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ খোলা নেই। যুদ্ধই একমাত্র সমাধান। সুতবাং যুদ্ধ অনিবার্য। খলিফা হযরত আবু বকর রা. যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন ভণ্ডনবী দাবিদারদের অন্যতম পাষণ্ড মুসাইলামাতুল কাজ্জাবের বিরুদ্ধে। খলিফার নির্দেশে তৈরি হলো মুসলিম বাহিনী। যুদ্ধের সেনাপতি নিযুক্ত করলেন তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে।
মুসলিম বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. রওনা করলেন ইয়ামামার প্রান্তর। সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. মুসলিম বাহিনীকে সুসজ্জিত করলেন। মুসলিম বাহিনীকে তিনি সিসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করালেন। মুখোমুখি হলো দুই বাহিনী। ভণ্ডনবী ও তার ভণ্ড অনুসারীদের সাথে সত্যনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারীদের যুদ্ধ। সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার লড়াই। এ যুদ্ধ মিথ্যাকে পরাজিত করার। অন্ধকার দূরীভূত করে আলো জ্বালানোর এক গুরুত্বপূর্ণ সংঘাত। বেজে উঠল যুদ্ধের দামামা। দু-পক্ষের তীব্র আক্রমণে কেঁপে-কেঁপে উঠছে ইয়ামামার প্রান্তর। তরবারির ঝলকানিতে ঝলসে উঠছে তীব্র রোদ। পাথর খণ্ডের সাথে ঘোড়ার পদাঘাতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়ানক শব্দের। লড়াই তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। মুসাইলামা তার সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে मुसलमानों کا বিরুদ্ধে। কেননা মুসাইলামা জানে, আজ যদি হেরে যায়, তাহলে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে তার নবী হওয়ার বাসনা।
এ উম্মতের প্রথম মুজাদ্দিদ হযরত আবু বকর রা. ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণ ও সীমাহীন প্রজ্ঞার অধিকারী। সর্বোপরি নবীজির তিরোধানের পর এই প্রথম বড় কোনো অভিযান। তাই অধিকতর সাহসী ও বিচক্ষণ যোদ্ধা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে সেনাপতি বানিয়ে প্রেরণ করেন শক্তিশালী কাফেলা।
মুসলিম বাহিনীর চেষ্টা ছিল প্রাণান্ত। মরণপণ তারা লড়ে যাচ্ছেন। যুদ্ধ চলছে তুমুল তুফানে। ক্ষিপ্রগতিতে মুসলিম সৈন্যরা ঝাঁপিয়ে পড়ে কাফেরদের ওপর। তীব্র লড়াই চলছে। যুদ্ধের প্রারম্ভে উভয় পক্ষ ছিল সমানে সমান। কেউ ছাড় দিতে রাজি নয় আজ। না মুসলিম বাহিনী। না মুসাইলামার দল। এ লড়াই নিছক জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়; সত্য ও মিথ্যা নিরূপণের এক চূড়ান্ত যুদ্ধ। যুদ্ধের মাঝেই সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ নিজ ঘোড়ার ওপর দাঁড়িয়ে তেজস্বী কণ্ঠে মুসলিম বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে এক সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন। তিনি বলেন, 'হে মদিনার অধিবাসীগণ! আজ তোমরা অন্তর থেকে মদিনার চিন্তা মুছে ফেলো। আজ তোমাদের অন্তরে শুধু আল্লাহ এবং জান্নাতের স্মরণ থাকা উচিত। আজকের এ লড়াই পার্থক্য করবে সত্য ও মিথ্যার।'
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর এমন অগ্নিময় ভাষণ শুনে দ্বিগুণ শক্তিতে জ্বলে ওঠে মুসলিম বাহিনী। তাদের রক্তে বলখ মেরে ওঠে সাহস ও শৌর্যের আগুন। অসীম প্রেরণায় মুসলিম বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্রুদের ওপর। মরণঘাতী লড়াই চলছে ইয়ামামার প্রান্তরে। যুদ্ধ ক্রমশ চূড়ান্ত মুহূর্তে প্রবেশ করছে। নাঙা তলোয়ার উঁচিয়ে ঘোড়া ছুটিয়েছেন হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ ও তার অনুগত বাহিনী। মুসলমান বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মুসাইলামার বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। অবশেষে মুসলমানদের প্রতিহত করতে না পেরে তারা তাদের দূর্গের ভেতর চলে যায়। ভণ্ডনবী ঘাতক মুসাইলামা দূর্গের ভেতর আত্মগোপন করে। শত্রুপক্ষ পিছু হটলেও সেনাপতি হযরত খালিদ থেমে যাননি। আজ তিনি একটি চূড়ান্ত রফাদফা করে তবেই যাবেন ইয়ামামার প্রান্তর থেকে। যে ইচ্ছা সে কাজ। মুসলমান বাহিনী দূর্গের ভেতর আক্রমণ চালায়। مسلمانوں کا সাহসী অভিযানে অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় মুসাইলামা বাহিনী। مسلمانوں کا হাতে অত্যন্ত মর্মান্তিকভাবে নিহত হয় মুসাইলামা। বীরের বেশে মুসলিম বাহিনী মদিনায় ফিরে আসে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর সংঘটিত প্রথম যুদ্ধে মুসলমানরা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে বিপুল বিজয় অর্জন করে। ইয়ামামার ধূসর প্রান্তরে সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদের অসীম সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় বীরত্ব ইতিহাসে লেখা আছে স্বর্ণাক্ষরে।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
فَإِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا فَضَرْبَ الرِّقَابِ حَتَّى إِذَا أَشْخَنتُمُوهُمْ فَشُدُّوا الْوَثَاقَ فَإِمَّا مَنَّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً حَتَّى تَضَعَ الْحَرْبُ أَوْزَارَهَا ، ذَلِكَ وَلَوْ يَشَاءُ اللَّهُ لَا نَتَصَرَ مِنْهُمْ وَلَكِن لَيَبْلُوَ بَعْضَكُم بِبَعْضٍ ، وَالَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَلَن يُضِلَّ أَعْمَالَهُمْ سَيَهْدِيهِمْ وَيُصْلِحُ بَالَهُمْ وَيُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ عَرَّفَهَا لَهُمْ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ
'অতঃপর কাফেরদের সাথে যখন তোমাদের মোকাবেলা হবে তখন তাদের গর্দানে আঘাত করবে। অবশেষে যখন তোমরা তাদের রক্তপাত ঘটাবে তখন শক্তভাবে বাঁধবে। তারপর হয় অনুকম্পা করবে নাহয় মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেবে। যতক্ষণ না যুদ্ধ তার বোঝা নামিয়ে রাখে। এটাই আল্লাহর নির্দেশ। আল্লাহ চাইলে তাদের থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন, কিন্তু তিনি চান তোমাদের কতককে কতকের দ্বারা পরীক্ষা করতে। যারা আল্লাহর পথে শহিদ হয় তাদের কর্ম তিনি কিছুতেই নষ্ট করবেন না। এবং তাদের সেই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার কথা তিনি তাদের জানিয়েছেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি আল্লাহকে সাহায্য করো তাহলে তিনিও তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা তথা অবস্থান সুদৃঢ় রাখবেন। '⁹⁶

টিকাঃ
৯৫ সুরা মুহাম্মদ: ৭
৯৬ সুরা মুহাম্মদ: ৪-৭

একাদশ হিজরি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন। রাসুলের তিরোধানের পর ইসলাম সম্মুখীন হলো ভয়াবহ সঙ্কটের। مسلمانوں کا ওপর নেমে এলো ঘোরতর বিপদ। এতদিন পর্যন্ত ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হতো। সবকিছু তাই সকলের জন্য সহজ ছিল। কিন্তু তিনি চলে গেলেন রফিকে আলার সান্নিধ্যে। হে আল্লাহর বান্দাগণ! এ হলো মৃত্যু। এর থেকে কেউ পলায়ন করতে পারবে না। দুনিয়াতে যার আগমন হয়েছে তাকেই মৃত্যুবরণ করতে হবে। এ চিরসত্য। পৃথিবীর অমোঘ বিধান। চাই তিনি নবী বা রাসুল হোন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর দেখা দিলো নতুন ফিতনা। ইতিহাসে যা ফিতনায়ে ইরতিদাদ নামে প্রসিদ্ধ। মুসলমানরা চতুর্দিকে মুরতাদ হয়ে যেতে লাগল। অপরদিকে মুসায়লামা নিজেকে নবী দাবি করল। নতুন ও সরলমনা মুসলমানদের মুসায়লামা ইসলাম থেকে বিচ্যুত করতে লাগল। তার গোত্রের সকলে তাকে নবী হিসেবে মেনে নিয়ে ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়ে গেল। অন্যদিকে সরলমনা একদল মুসলমানরা যাকাত দিতে অস্বীকার করল। যাকাত ইসলামের অন্যতম রুকন। ইসলামের ভিত্তি রাখা হয়েছে যে কয়টি বিধানের ওপর, তন্মধ্যে একটি হলো যাকাত। मुसलमानों کا খলিফা তখন হযরত আবু বকর রা.। ইসলাম ও مسلمانوں کا জন্য ভয়াবহ এ ফেতনাকে মূলোৎপাটন করার জন্য খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. অত্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। দ্ব্যর্থ কণ্ঠে ঘোষণা দিলেন, ইসলামের ক্ষতি হবে আর আমি আবু বকর বেঁচে থাকব?
হযরত আবু বকর রা. তাদের বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা পর্যন্ত দিলেন। যিনি ছিলেন কোমল, ইসলামের সঙ্কট মুকাবলোয় তিনি হলেন শক্ত পাথর। যিনি ছিলেন বৃষ্টির মতো শীতল, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের সম্মান রক্ষার্থে তিনি ধারণ করলেন বজ্রকঠিন। সাহাবায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করলেন। বললেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর তার ধর্মকে পরিবর্তন করা হবে-এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আমরা অস্ত্রধারণ করব।
ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর এ দুর্দিনে হযরত আবু বকর রা. অত্যন্ত সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করেছেন। রাসুলের ইন্তেকালের পর ইসলামের ওপর আগত ধাক্কা সামাল দেওয়ার জন্য একজন আবু বকরের প্রয়োজন ছিল। এ উম্মতের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, আল্লাহ তায়ালা প্রতি একশ বছরে এ উম্মতের মাঝে একজন মুজাদ্দিদ প্রেরণ করবেন। হযরত আবু বকর রা. হলেন প্রথম মুজাদ্দিদ। যার অপরিসীম ত্যাগে ইসলাম তার সঠিক পথে অটল ছিল। সে সময় হযরত আবু বকর রা.-এর সিদ্ধান্ত ছিল যে-কোনো মূল্যে ইসলামকে সাহায্য করতে হবে। কিছুতেই রাসুলের রেখে যাওয়া শরিয়তের মাঝে পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা যাবে না। এমনকি রাসুলের একটি সুন্নতের সাথেও আপস করা যাবে না।
তাদের ক্ষেত্রেই আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেছেন,
إِنْ تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ
'যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো তাহলে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তিনি তোমাদের অটল ও অবিচল রাখবেন।'⁹⁵
ভণ্ডনবী দাবিদার মুসাইলামা ও তার অনুসারীদের দমন করতে কোমল খলিফা রূঢ় হলেন। ফুলের মানব হলেন শক্ত পাথর। জ্বলে উঠলেন ইসলামের চেতনায়। ভণ্ডনবী মুসাইলামাকে নির্মূলে কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। মুসাইলামা ও তার দোষরদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সংবাদ আসতে থাকে খলিফার কানে। পেরেশান হয়ে ভাবতে থাকেন কী করা যায়। দেখলেন, যুদ্ধ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ খোলা নেই। যুদ্ধই একমাত্র সমাধান। সুতবাং যুদ্ধ অনিবার্য। খলিফা হযরত আবু বকর রা. যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন ভণ্ডনবী দাবিদারদের অন্যতম পাষণ্ড মুসাইলামাতুল কাজ্জাবের বিরুদ্ধে। খলিফার নির্দেশে তৈরি হলো মুসলিম বাহিনী। যুদ্ধের সেনাপতি নিযুক্ত করলেন তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে।
মুসলিম বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. রওনা করলেন ইয়ামামার প্রান্তর। সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. মুসলিম বাহিনীকে সুসজ্জিত করলেন। মুসলিম বাহিনীকে তিনি সিসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করালেন। মুখোমুখি হলো দুই বাহিনী। ভণ্ডনবী ও তার ভণ্ড অনুসারীদের সাথে সত্যনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারীদের যুদ্ধ। সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার লড়াই। এ যুদ্ধ মিথ্যাকে পরাজিত করার। অন্ধকার দূরীভূত করে আলো জ্বালানোর এক গুরুত্বপূর্ণ সংঘাত। বেজে উঠল যুদ্ধের দামামা। দু-পক্ষের তীব্র আক্রমণে কেঁপে-কেঁপে উঠছে ইয়ামামার প্রান্তর। তরবারির ঝলকানিতে ঝলসে উঠছে তীব্র রোদ। পাথর খণ্ডের সাথে ঘোড়ার পদাঘাতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়ানক শব্দের। লড়াই তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। মুসাইলামা তার সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে मुसलमानों کا বিরুদ্ধে। কেননা মুসাইলামা জানে, আজ যদি হেরে যায়, তাহলে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে তার নবী হওয়ার বাসনা।
এ উম্মতের প্রথম মুজাদ্দিদ হযরত আবু বকর রা. ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণ ও সীমাহীন প্রজ্ঞার অধিকারী। সর্বোপরি নবীজির তিরোধানের পর এই প্রথম বড় কোনো অভিযান। তাই অধিকতর সাহসী ও বিচক্ষণ যোদ্ধা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে সেনাপতি বানিয়ে প্রেরণ করেন শক্তিশালী কাফেলা।
মুসলিম বাহিনীর চেষ্টা ছিল প্রাণান্ত। মরণপণ তারা লড়ে যাচ্ছেন। যুদ্ধ চলছে তুমুল তুফানে। ক্ষিপ্রগতিতে মুসলিম সৈন্যরা ঝাঁপিয়ে পড়ে কাফেরদের ওপর। তীব্র লড়াই চলছে। যুদ্ধের প্রারম্ভে উভয় পক্ষ ছিল সমানে সমান। কেউ ছাড় দিতে রাজি নয় আজ। না মুসলিম বাহিনী। না মুসাইলামার দল। এ লড়াই নিছক জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়; সত্য ও মিথ্যা নিরূপণের এক চূড়ান্ত যুদ্ধ। যুদ্ধের মাঝেই সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ নিজ ঘোড়ার ওপর দাঁড়িয়ে তেজস্বী কণ্ঠে মুসলিম বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে এক সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন। তিনি বলেন, 'হে মদিনার অধিবাসীগণ! আজ তোমরা অন্তর থেকে মদিনার চিন্তা মুছে ফেলো। আজ তোমাদের অন্তরে শুধু আল্লাহ এবং জান্নাতের স্মরণ থাকা উচিত। আজকের এ লড়াই পার্থক্য করবে সত্য ও মিথ্যার।'
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর এমন অগ্নিময় ভাষণ শুনে দ্বিগুণ শক্তিতে জ্বলে ওঠে মুসলিম বাহিনী। তাদের রক্তে বলখ মেরে ওঠে সাহস ও শৌর্যের আগুন। অসীম প্রেরণায় মুসলিম বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্রুদের ওপর। মরণঘাতী লড়াই চলছে ইয়ামামার প্রান্তরে। যুদ্ধ ক্রমশ চূড়ান্ত মুহূর্তে প্রবেশ করছে। নাঙা তলোয়ার উঁচিয়ে ঘোড়া ছুটিয়েছেন হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ ও তার অনুগত বাহিনী। মুসলমান বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মুসাইলামার বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। অবশেষে মুসলমানদের প্রতিহত করতে না পেরে তারা তাদের দূর্গের ভেতর চলে যায়। ভণ্ডনবী ঘাতক মুসাইলামা দূর্গের ভেতর আত্মগোপন করে। শত্রুপক্ষ পিছু হটলেও সেনাপতি হযরত খালিদ থেমে যাননি। আজ তিনি একটি চূড়ান্ত রফাদফা করে তবেই যাবেন ইয়ামামার প্রান্তর থেকে। যে ইচ্ছা সে কাজ। মুসলমান বাহিনী দূর্গের ভেতর আক্রমণ চালায়। مسلمانوں کا সাহসী অভিযানে অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় মুসাইলামা বাহিনী। مسلمانوں کا হাতে অত্যন্ত মর্মান্তিকভাবে নিহত হয় মুসাইলামা। বীরের বেশে মুসলিম বাহিনী মদিনায় ফিরে আসে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর সংঘটিত প্রথম যুদ্ধে মুসলমানরা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে বিপুল বিজয় অর্জন করে। ইয়ামামার ধূসর প্রান্তরে সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদের অসীম সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় বীরত্ব ইতিহাসে লেখা আছে স্বর্ণাক্ষরে।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
فَإِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا فَضَرْبَ الرِّقَابِ حَتَّى إِذَا أَشْخَنتُمُوهُمْ فَشُدُّوا الْوَثَاقَ فَإِمَّا مَنَّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً حَتَّى تَضَعَ الْحَرْبُ أَوْزَارَهَا ، ذَلِكَ وَلَوْ يَشَاءُ اللَّهُ لَا نَتَصَرَ مِنْهُمْ وَلَكِن لَيَبْلُوَ بَعْضَكُم بِبَعْضٍ ، وَالَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَلَن يُضِلَّ أَعْمَالَهُمْ سَيَهْدِيهِمْ وَيُصْلِحُ بَالَهُمْ وَيُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ عَرَّفَهَا لَهُمْ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ
'অতঃপর কাফেরদের সাথে যখন তোমাদের মোকাবেলা হবে তখন তাদের গর্দানে আঘাত করবে। অবশেষে যখন তোমরা তাদের রক্তপাত ঘটাবে তখন শক্তভাবে বাঁধবে। তারপর হয় অনুকম্পা করবে নাহয় মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেবে। যতক্ষণ না যুদ্ধ তার বোঝা নামিয়ে রাখে। এটাই আল্লাহর নির্দেশ। আল্লাহ চাইলে তাদের থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন, কিন্তু তিনি চান তোমাদের কতককে কতকের দ্বারা পরীক্ষা করতে। যারা আল্লাহর পথে শহিদ হয় তাদের কর্ম তিনি কিছুতেই নষ্ট করবেন না। এবং তাদের সেই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার কথা তিনি তাদের জানিয়েছেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি আল্লাহকে সাহায্য করো তাহলে তিনিও তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা তথা অবস্থান সুদৃঢ় রাখবেন। '⁹⁶

টিকাঃ
৯৫ সুরা মুহাম্মদ: ৭
৯৬ সুরা মুহাম্মদ: ৪-৭

একাদশ হিজরি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন। রাসুলের তিরোধানের পর ইসলাম সম্মুখীন হলো ভয়াবহ সঙ্কটের। مسلمانوں کا ওপর নেমে এলো ঘোরতর বিপদ। এতদিন পর্যন্ত ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হতো। সবকিছু তাই সকলের জন্য সহজ ছিল। কিন্তু তিনি চলে গেলেন রফিকে আলার সান্নিধ্যে। হে আল্লাহর বান্দাগণ! এ হলো মৃত্যু। এর থেকে কেউ পলায়ন করতে পারবে না। দুনিয়াতে যার আগমন হয়েছে তাকেই মৃত্যুবরণ করতে হবে। এ চিরসত্য। পৃথিবীর অমোঘ বিধান। চাই তিনি নবী বা রাসুল হোন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর দেখা দিলো নতুন ফিতনা। ইতিহাসে যা ফিতনায়ে ইরতিদাদ নামে প্রসিদ্ধ। মুসলমানরা চতুর্দিকে মুরতাদ হয়ে যেতে লাগল। অপরদিকে মুসায়লামা নিজেকে নবী দাবি করল। নতুন ও সরলমনা মুসলমানদের মুসায়লামা ইসলাম থেকে বিচ্যুত করতে লাগল। তার গোত্রের সকলে তাকে নবী হিসেবে মেনে নিয়ে ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়ে গেল। অন্যদিকে সরলমনা একদল মুসলমানরা যাকাত দিতে অস্বীকার করল। যাকাত ইসলামের অন্যতম রুকন। ইসলামের ভিত্তি রাখা হয়েছে যে কয়টি বিধানের ওপর, তন্মধ্যে একটি হলো যাকাত। मुसलमानों کا খলিফা তখন হযরত আবু বকর রা.। ইসলাম ও مسلمانوں کا জন্য ভয়াবহ এ ফেতনাকে মূলোৎপাটন করার জন্য খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. অত্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। দ্ব্যর্থ কণ্ঠে ঘোষণা দিলেন, ইসলামের ক্ষতি হবে আর আমি আবু বকর বেঁচে থাকব?
হযরত আবু বকর রা. তাদের বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা পর্যন্ত দিলেন। যিনি ছিলেন কোমল, ইসলামের সঙ্কট মুকাবলোয় তিনি হলেন শক্ত পাথর। যিনি ছিলেন বৃষ্টির মতো শীতল, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের সম্মান রক্ষার্থে তিনি ধারণ করলেন বজ্রকঠিন। সাহাবায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করলেন। বললেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর তার ধর্মকে পরিবর্তন করা হবে-এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আমরা অস্ত্রধারণ করব।
ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর এ দুর্দিনে হযরত আবু বকর রা. অত্যন্ত সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করেছেন। রাসুলের ইন্তেকালের পর ইসলামের ওপর আগত ধাক্কা সামাল দেওয়ার জন্য একজন আবু বকরের প্রয়োজন ছিল। এ উম্মতের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, আল্লাহ তায়ালা প্রতি একশ বছরে এ উম্মতের মাঝে একজন মুজাদ্দিদ প্রেরণ করবেন। হযরত আবু বকর রা. হলেন প্রথম মুজাদ্দিদ। যার অপরিসীম ত্যাগে ইসলাম তার সঠিক পথে অটল ছিল। সে সময় হযরত আবু বকর রা.-এর সিদ্ধান্ত ছিল যে-কোনো মূল্যে ইসলামকে সাহায্য করতে হবে। কিছুতেই রাসুলের রেখে যাওয়া শরিয়তের মাঝে পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা যাবে না। এমনকি রাসুলের একটি সুন্নতের সাথেও আপস করা যাবে না।
তাদের ক্ষেত্রেই আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেছেন,
إِنْ تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ
'যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো তাহলে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তিনি তোমাদের অটল ও অবিচল রাখবেন।'⁹⁵
ভণ্ডনবী দাবিদার মুসাইলামা ও তার অনুসারীদের দমন করতে কোমল খলিফা রূঢ় হলেন। ফুলের মানব হলেন শক্ত পাথর। জ্বলে উঠলেন ইসলামের চেতনায়। ভণ্ডনবী মুসাইলামাকে নির্মূলে কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। মুসাইলামা ও তার দোষরদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সংবাদ আসতে থাকে খলিফার কানে। পেরেশান হয়ে ভাবতে থাকেন কী করা যায়। দেখলেন, যুদ্ধ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ খোলা নেই। যুদ্ধই একমাত্র সমাধান। সুতবাং যুদ্ধ অনিবার্য। খলিফা হযরত আবু বকর রা. যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন ভণ্ডনবী দাবিদারদের অন্যতম পাষণ্ড মুসাইলামাতুল কাজ্জাবের বিরুদ্ধে। খলিফার নির্দেশে তৈরি হলো মুসলিম বাহিনী। যুদ্ধের সেনাপতি নিযুক্ত করলেন তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে।
মুসলিম বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. রওনা করলেন ইয়ামামার প্রান্তর। সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. মুসলিম বাহিনীকে সুসজ্জিত করলেন। মুসলিম বাহিনীকে তিনি সিসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করালেন। মুখোমুখি হলো দুই বাহিনী। ভণ্ডনবী ও তার ভণ্ড অনুসারীদের সাথে সত্যনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারীদের যুদ্ধ। সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার লড়াই। এ যুদ্ধ মিথ্যাকে পরাজিত করার। অন্ধকার দূরীভূত করে আলো জ্বালানোর এক গুরুত্বপূর্ণ সংঘাত। বেজে উঠল যুদ্ধের দামামা। দু-পক্ষের তীব্র আক্রমণে কেঁপে-কেঁপে উঠছে ইয়ামামার প্রান্তর। তরবারির ঝলকানিতে ঝলসে উঠছে তীব্র রোদ। পাথর খণ্ডের সাথে ঘোড়ার পদাঘাতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়ানক শব্দের। লড়াই তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। মুসাইলামা তার সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে मुसलमानों کا বিরুদ্ধে। কেননা মুসাইলামা জানে, আজ যদি হেরে যায়, তাহলে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে তার নবী হওয়ার বাসনা।
এ উম্মতের প্রথম মুজাদ্দিদ হযরত আবু বকর রা. ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণ ও সীমাহীন প্রজ্ঞার অধিকারী। সর্বোপরি নবীজির তিরোধানের পর এই প্রথম বড় কোনো অভিযান। তাই অধিকতর সাহসী ও বিচক্ষণ যোদ্ধা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে সেনাপতি বানিয়ে প্রেরণ করেন শক্তিশালী কাফেলা।
মুসলিম বাহিনীর চেষ্টা ছিল প্রাণান্ত। মরণপণ তারা লড়ে যাচ্ছেন। যুদ্ধ চলছে তুমুল তুফানে। ক্ষিপ্রগতিতে মুসলিম সৈন্যরা ঝাঁপিয়ে পড়ে কাফেরদের ওপর। তীব্র লড়াই চলছে। যুদ্ধের প্রারম্ভে উভয় পক্ষ ছিল সমানে সমান। কেউ ছাড় দিতে রাজি নয় আজ। না মুসলিম বাহিনী। না মুসাইলামার দল। এ লড়াই নিছক জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়; সত্য ও মিথ্যা নিরূপণের এক চূড়ান্ত যুদ্ধ। যুদ্ধের মাঝেই সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ নিজ ঘোড়ার ওপর দাঁড়িয়ে তেজস্বী কণ্ঠে মুসলিম বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে এক সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন। তিনি বলেন, 'হে মদিনার অধিবাসীগণ! আজ তোমরা অন্তর থেকে মদিনার চিন্তা মুছে ফেলো। আজ তোমাদের অন্তরে শুধু আল্লাহ এবং জান্নাতের স্মরণ থাকা উচিত। আজকের এ লড়াই পার্থক্য করবে সত্য ও মিথ্যার।'
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর এমন অগ্নিময় ভাষণ শুনে দ্বিগুণ শক্তিতে জ্বলে ওঠে মুসলিম বাহিনী। তাদের রক্তে বলখ মেরে ওঠে সাহস ও শৌর্যের আগুন। অসীম প্রেরণায় মুসলিম বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্রুদের ওপর। মরণঘাতী লড়াই চলছে ইয়ামামার প্রান্তরে। যুদ্ধ ক্রমশ চূড়ান্ত মুহূর্তে প্রবেশ করছে। নাঙা তলোয়ার উঁচিয়ে ঘোড়া ছুটিয়েছেন হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ ও তার অনুগত বাহিনী। মুসলমান বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মুসাইলামার বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। অবশেষে মুসলমানদের প্রতিহত করতে না পেরে তারা তাদের দূর্গের ভেতর চলে যায়। ভণ্ডনবী ঘাতক মুসাইলামা দূর্গের ভেতর আত্মগোপন করে। শত্রুপক্ষ পিছু হটলেও সেনাপতি হযরত খালিদ থেমে যাননি। আজ তিনি একটি চূড়ান্ত রফাদফা করে তবেই যাবেন ইয়ামামার প্রান্তর থেকে। যে ইচ্ছা সে কাজ। মুসলমান বাহিনী দূর্গের ভেতর আক্রমণ চালায়। مسلمانوں کا সাহসী অভিযানে অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় মুসাইলামা বাহিনী। مسلمانوں کا হাতে অত্যন্ত মর্মান্তিকভাবে নিহত হয় মুসাইলামা। বীরের বেশে মুসলিম বাহিনী মদিনায় ফিরে আসে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর সংঘটিত প্রথম যুদ্ধে মুসলমানরা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে বিপুল বিজয় অর্জন করে। ইয়ামামার ধূসর প্রান্তরে সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদের অসীম সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় বীরত্ব ইতিহাসে লেখা আছে স্বর্ণাক্ষরে।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
فَإِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا فَضَرْبَ الرِّقَابِ حَتَّى إِذَا أَشْخَنتُمُوهُمْ فَشُدُّوا الْوَثَاقَ فَإِمَّا مَنَّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً حَتَّى تَضَعَ الْحَرْبُ أَوْزَارَهَا ، ذَلِكَ وَلَوْ يَشَاءُ اللَّهُ لَا نَتَصَرَ مِنْهُمْ وَلَكِن لَيَبْلُوَ بَعْضَكُم بِبَعْضٍ ، وَالَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَلَن يُضِلَّ أَعْمَالَهُمْ سَيَهْدِيهِمْ وَيُصْلِحُ بَالَهُمْ وَيُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ عَرَّفَهَا لَهُمْ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ
'অতঃপর কাফেরদের সাথে যখন তোমাদের মোকাবেলা হবে তখন তাদের গর্দানে আঘাত করবে। অবশেষে যখন তোমরা তাদের রক্তপাত ঘটাবে তখন শক্তভাবে বাঁধবে। তারপর হয় অনুকম্পা করবে নাহয় মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেবে। যতক্ষণ না যুদ্ধ তার বোঝা নামিয়ে রাখে। এটাই আল্লাহর নির্দেশ। আল্লাহ চাইলে তাদের থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন, কিন্তু তিনি চান তোমাদের কতককে কতকের দ্বারা পরীক্ষা করতে। যারা আল্লাহর পথে শহিদ হয় তাদের কর্ম তিনি কিছুতেই নষ্ট করবেন না। এবং তাদের সেই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার কথা তিনি তাদের জানিয়েছেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি আল্লাহকে সাহায্য করো তাহলে তিনিও তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা তথা অবস্থান সুদৃঢ় রাখবেন। '⁹⁶

টিকাঃ
৯৫ সুরা মুহাম্মদ: ৭
৯৬ সুরা মুহাম্মদ: ৪-৭

একাদশ হিজরি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন। রাসুলের তিরোধানের পর ইসলাম সম্মুখীন হলো ভয়াবহ সঙ্কটের। مسلمانوں کا ওপর নেমে এলো ঘোরতর বিপদ। এতদিন পর্যন্ত ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হতো। সবকিছু তাই সকলের জন্য সহজ ছিল। কিন্তু তিনি চলে গেলেন রফিকে আলার সান্নিধ্যে। হে আল্লাহর বান্দাগণ! এ হলো মৃত্যু। এর থেকে কেউ পলায়ন করতে পারবে না। দুনিয়াতে যার আগমন হয়েছে তাকেই মৃত্যুবরণ করতে হবে। এ চিরসত্য। পৃথিবীর অমোঘ বিধান। চাই তিনি নবী বা রাসুল হোন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর দেখা দিলো নতুন ফিতনা। ইতিহাসে যা ফিতনায়ে ইরতিদাদ নামে প্রসিদ্ধ। মুসলমানরা চতুর্দিকে মুরতাদ হয়ে যেতে লাগল। অপরদিকে মুসায়লামা নিজেকে নবী দাবি করল। নতুন ও সরলমনা মুসলমানদের মুসায়লামা ইসলাম থেকে বিচ্যুত করতে লাগল। তার গোত্রের সকলে তাকে নবী হিসেবে মেনে নিয়ে ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়ে গেল। অন্যদিকে সরলমনা একদল মুসলমানরা যাকাত দিতে অস্বীকার করল। যাকাত ইসলামের অন্যতম রুকন। ইসলামের ভিত্তি রাখা হয়েছে যে কয়টি বিধানের ওপর, তন্মধ্যে একটি হলো যাকাত। मुसलमानों کا খলিফা তখন হযরত আবু বকর রা.। ইসলাম ও مسلمانوں کا জন্য ভয়াবহ এ ফেতনাকে মূলোৎপাটন করার জন্য খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. অত্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। দ্ব্যর্থ কণ্ঠে ঘোষণা দিলেন, ইসলামের ক্ষতি হবে আর আমি আবু বকর বেঁচে থাকব?
হযরত আবু বকর রা. তাদের বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা পর্যন্ত দিলেন। যিনি ছিলেন কোমল, ইসলামের সঙ্কট মুকাবলোয় তিনি হলেন শক্ত পাথর। যিনি ছিলেন বৃষ্টির মতো শীতল, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের সম্মান রক্ষার্থে তিনি ধারণ করলেন বজ্রকঠিন। সাহাবায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করলেন। বললেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর তার ধর্মকে পরিবর্তন করা হবে-এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আমরা অস্ত্রধারণ করব।
ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর এ দুর্দিনে হযরত আবু বকর রা. অত্যন্ত সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করেছেন। রাসুলের ইন্তেকালের পর ইসলামের ওপর আগত ধাক্কা সামাল দেওয়ার জন্য একজন আবু বকরের প্রয়োজন ছিল। এ উম্মতের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, আল্লাহ তায়ালা প্রতি একশ বছরে এ উম্মতের মাঝে একজন মুজাদ্দিদ প্রেরণ করবেন। হযরত আবু বকর রা. হলেন প্রথম মুজাদ্দিদ। যার অপরিসীম ত্যাগে ইসলাম তার সঠিক পথে অটল ছিল। সে সময় হযরত আবু বকর রা.-এর সিদ্ধান্ত ছিল যে-কোনো মূল্যে ইসলামকে সাহায্য করতে হবে। কিছুতেই রাসুলের রেখে যাওয়া শরিয়তের মাঝে পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা যাবে না। এমনকি রাসুলের একটি সুন্নতের সাথেও আপস করা যাবে না।
তাদের ক্ষেত্রেই আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেছেন,
إِنْ تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ
'যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো তাহলে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তিনি তোমাদের অটল ও অবিচল রাখবেন।'⁹⁵
ভণ্ডনবী দাবিদার মুসাইলামা ও তার অনুসারীদের দমন করতে কোমল খলিফা রূঢ় হলেন। ফুলের মানব হলেন শক্ত পাথর। জ্বলে উঠলেন ইসলামের চেতনায়। ভণ্ডনবী মুসাইলামাকে নির্মূলে কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। মুসাইলামা ও তার দোষরদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সংবাদ আসতে থাকে খলিফার কানে। পেরেশান হয়ে ভাবতে থাকেন কী করা যায়। দেখলেন, যুদ্ধ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ খোলা নেই। যুদ্ধই একমাত্র সমাধান। সুতবাং যুদ্ধ অনিবার্য। খলিফা হযরত আবু বকর রা. যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন ভণ্ডনবী দাবিদারদের অন্যতম পাষণ্ড মুসাইলামাতুল কাজ্জাবের বিরুদ্ধে। খলিফার নির্দেশে তৈরি হলো মুসলিম বাহিনী। যুদ্ধের সেনাপতি নিযুক্ত করলেন তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে।
মুসলিম বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. রওনা করলেন ইয়ামামার প্রান্তর। সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. মুসলিম বাহিনীকে সুসজ্জিত করলেন। মুসলিম বাহিনীকে তিনি সিসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করালেন। মুখোমুখি হলো দুই বাহিনী। ভণ্ডনবী ও তার ভণ্ড অনুসারীদের সাথে সত্যনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারীদের যুদ্ধ। সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার লড়াই। এ যুদ্ধ মিথ্যাকে পরাজিত করার। অন্ধকার দূরীভূত করে আলো জ্বালানোর এক গুরুত্বপূর্ণ সংঘাত। বেজে উঠল যুদ্ধের দামামা। দু-পক্ষের তীব্র আক্রমণে কেঁপে-কেঁপে উঠছে ইয়ামামার প্রান্তর। তরবারির ঝলকানিতে ঝলসে উঠছে তীব্র রোদ। পাথর খণ্ডের সাথে ঘোড়ার পদাঘাতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়ানক শব্দের। লড়াই তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। মুসাইলামা তার সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে मुसलमानों کا বিরুদ্ধে। কেননা মুসাইলামা জানে, আজ যদি হেরে যায়, তাহলে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে তার নবী হওয়ার বাসনা।
এ উম্মতের প্রথম মুজাদ্দিদ হযরত আবু বকর রা. ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণ ও সীমাহীন প্রজ্ঞার অধিকারী। সর্বোপরি নবীজির তিরোধানের পর এই প্রথম বড় কোনো অভিযান। তাই অধিকতর সাহসী ও বিচক্ষণ যোদ্ধা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে সেনাপতি বানিয়ে প্রেরণ করেন শক্তিশালী কাফেলা।
মুসলিম বাহিনীর চেষ্টা ছিল প্রাণান্ত। মরণপণ তারা লড়ে যাচ্ছেন। যুদ্ধ চলছে তুমুল তুফানে। ক্ষিপ্রগতিতে মুসলিম সৈন্যরা ঝাঁপিয়ে পড়ে কাফেরদের ওপর। তীব্র লড়াই চলছে। যুদ্ধের প্রারম্ভে উভয় পক্ষ ছিল সমানে সমান। কেউ ছাড় দিতে রাজি নয় আজ। না মুসলিম বাহিনী। না মুসাইলামার দল। এ লড়াই নিছক জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়; সত্য ও মিথ্যা নিরূপণের এক চূড়ান্ত যুদ্ধ। যুদ্ধের মাঝেই সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ নিজ ঘোড়ার ওপর দাঁড়িয়ে তেজস্বী কণ্ঠে মুসলিম বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে এক সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন। তিনি বলেন, 'হে মদিনার অধিবাসীগণ! আজ তোমরা অন্তর থেকে মদিনার চিন্তা মুছে ফেলো। আজ তোমাদের অন্তরে শুধু আল্লাহ এবং জান্নাতের স্মরণ থাকা উচিত। আজকের এ লড়াই পার্থক্য করবে সত্য ও মিথ্যার।'
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর এমন অগ্নিময় ভাষণ শুনে দ্বিগুণ শক্তিতে জ্বলে ওঠে মুসলিম বাহিনী। তাদের রক্তে বলখ মেরে ওঠে সাহস ও শৌর্যের আগুন। অসীম প্রেরণায় মুসলিম বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্রুদের ওপর। মরণঘাতী লড়াই চলছে ইয়ামামার প্রান্তরে। যুদ্ধ ক্রমশ চূড়ান্ত মুহূর্তে প্রবেশ করছে। নাঙা তলোয়ার উঁচিয়ে ঘোড়া ছুটিয়েছেন হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ ও তার অনুগত বাহিনী। মুসলমান বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মুসাইলামার বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। অবশেষে মুসলমানদের প্রতিহত করতে না পেরে তারা তাদের দূর্গের ভেতর চলে যায়। ভণ্ডনবী ঘাতক মুসাইলামা দূর্গের ভেতর আত্মগোপন করে। শত্রুপক্ষ পিছু হটলেও সেনাপতি হযরত খালিদ থেমে যাননি। আজ তিনি একটি চূড়ান্ত রফাদফা করে তবেই যাবেন ইয়ামামার প্রান্তর থেকে। যে ইচ্ছা সে কাজ। মুসলমান বাহিনী দূর্গের ভেতর আক্রমণ চালায়। مسلمانوں کا সাহসী অভিযানে অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় মুসাইলামা বাহিনী। مسلمانوں کا হাতে অত্যন্ত মর্মান্তিকভাবে নিহত হয় মুসাইলামা। বীরের বেশে মুসলিম বাহিনী মদিনায় ফিরে আসে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর সংঘটিত প্রথম যুদ্ধে মুসলমানরা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে বিপুল বিজয় অর্জন করে। ইয়ামামার ধূসর প্রান্তরে সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদের অসীম সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় বীরত্ব ইতিহাসে লেখা আছে স্বর্ণাক্ষরে।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
فَإِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا فَضَرْبَ الرِّقَابِ حَتَّى إِذَا أَشْخَنتُمُوهُمْ فَشُدُّوا الْوَثَاقَ فَإِمَّا مَنَّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً حَتَّى تَضَعَ الْحَرْبُ أَوْزَارَهَا ، ذَلِكَ وَلَوْ يَشَاءُ اللَّهُ لَا نَتَصَرَ مِنْهُمْ وَلَكِن لَيَبْلُوَ بَعْضَكُم بِبَعْضٍ ، وَالَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَلَن يُضِلَّ أَعْمَالَهُمْ سَيَهْدِيهِمْ وَيُصْلِحُ بَالَهُمْ وَيُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ عَرَّفَهَا لَهُمْ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ
'অতঃপর কাফেরদের সাথে যখন তোমাদের মোকাবেলা হবে তখন তাদের গর্দানে আঘাত করবে। অবশেষে যখন তোমরা তাদের রক্তপাত ঘটাবে তখন শক্তভাবে বাঁধবে। তারপর হয় অনুকম্পা করবে নাহয় মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেবে। যতক্ষণ না যুদ্ধ তার বোঝা নামিয়ে রাখে। এটাই আল্লাহর নির্দেশ। আল্লাহ চাইলে তাদের থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন, কিন্তু তিনি চান তোমাদের কতককে কতকের দ্বারা পরীক্ষা করতে। যারা আল্লাহর পথে শহিদ হয় তাদের কর্ম তিনি কিছুতেই নষ্ট করবেন না। এবং তাদের সেই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার কথা তিনি তাদের জানিয়েছেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি আল্লাহকে সাহায্য করো তাহলে তিনিও তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা তথা অবস্থান সুদৃঢ় রাখবেন। '⁹⁶

টিকাঃ
৯৫ সুরা মুহাম্মদ: ৭
৯৬ সুরা মুহাম্মদ: ৪-৭

একাদশ হিজরি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন। রাসুলের তিরোধানের পর ইসলাম সম্মুখীন হলো ভয়াবহ সঙ্কটের। مسلمانوں کا ওপর নেমে এলো ঘোরতর বিপদ। এতদিন পর্যন্ত ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হতো। সবকিছু তাই সকলের জন্য সহজ ছিল। কিন্তু তিনি চলে গেলেন রফিকে আলার সান্নিধ্যে। হে আল্লাহর বান্দাগণ! এ হলো মৃত্যু। এর থেকে কেউ পলায়ন করতে পারবে না। দুনিয়াতে যার আগমন হয়েছে তাকেই মৃত্যুবরণ করতে হবে। এ চিরসত্য। পৃথিবীর অমোঘ বিধান। চাই তিনি নবী বা রাসুল হোন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর দেখা দিলো নতুন ফিতনা। ইতিহাসে যা ফিতনায়ে ইরতিদাদ নামে প্রসিদ্ধ। মুসলমানরা চতুর্দিকে মুরতাদ হয়ে যেতে লাগল। অপরদিকে মুসায়লামা নিজেকে নবী দাবি করল। নতুন ও সরলমনা মুসলমানদের মুসায়লামা ইসলাম থেকে বিচ্যুত করতে লাগল। তার গোত্রের সকলে তাকে নবী হিসেবে মেনে নিয়ে ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়ে গেল। অন্যদিকে সরলমনা একদল মুসলমানরা যাকাত দিতে অস্বীকার করল। যাকাত ইসলামের অন্যতম রুকন। ইসলামের ভিত্তি রাখা হয়েছে যে কয়টি বিধানের ওপর, তন্মধ্যে একটি হলো যাকাত। मुसलमानों کا খলিফা তখন হযরত আবু বকর রা.। ইসলাম ও مسلمانوں کا জন্য ভয়াবহ এ ফেতনাকে মূলোৎপাটন করার জন্য খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. অত্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। দ্ব্যর্থ কণ্ঠে ঘোষণা দিলেন, ইসলামের ক্ষতি হবে আর আমি আবু বকর বেঁচে থাকব?
হযরত আবু বকর রা. তাদের বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা পর্যন্ত দিলেন। যিনি ছিলেন কোমল, ইসলামের সঙ্কট মুকাবলোয় তিনি হলেন শক্ত পাথর। যিনি ছিলেন বৃষ্টির মতো শীতল, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের সম্মান রক্ষার্থে তিনি ধারণ করলেন বজ্রকঠিন। সাহাবায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করলেন। বললেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর তার ধর্মকে পরিবর্তন করা হবে-এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আমরা অস্ত্রধারণ করব।
ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর এ দুর্দিনে হযরত আবু বকর রা. অত্যন্ত সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করেছেন। রাসুলের ইন্তেকালের পর ইসলামের ওপর আগত ধাক্কা সামাল দেওয়ার জন্য একজন আবু বকরের প্রয়োজন ছিল। এ উম্মতের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, আল্লাহ তায়ালা প্রতি একশ বছরে এ উম্মতের মাঝে একজন মুজাদ্দিদ প্রেরণ করবেন। হযরত আবু বকর রা. হলেন প্রথম মুজাদ্দিদ। যার অপরিসীম ত্যাগে ইসলাম তার সঠিক পথে অটল ছিল। সে সময় হযরত আবু বকর রা.-এর সিদ্ধান্ত ছিল যে-কোনো মূল্যে ইসলামকে সাহায্য করতে হবে। কিছুতেই রাসুলের রেখে যাওয়া শরিয়তের মাঝে পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা যাবে না। এমনকি রাসুলের একটি সুন্নতের সাথেও আপস করা যাবে না।
তাদের ক্ষেত্রেই আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেছেন,
إِنْ تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ
'যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো তাহলে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তিনি তোমাদের অটল ও অবিচল রাখবেন।'⁹⁵
ভণ্ডনবী দাবিদার মুসাইলামা ও তার অনুসারীদের দমন করতে কোমল খলিফা রূঢ় হলেন। ফুলের মানব হলেন শক্ত পাথর। জ্বলে উঠলেন ইসলামের চেতনায়। ভণ্ডনবী মুসাইলামাকে নির্মূলে কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। মুসাইলামা ও তার দোষরদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সংবাদ আসতে থাকে খলিফার কানে। পেরেশান হয়ে ভাবতে থাকেন কী করা যায়। দেখলেন, যুদ্ধ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ খোলা নেই। যুদ্ধই একমাত্র সমাধান। সুতবাং যুদ্ধ অনিবার্য। খলিফা হযরত আবু বকর রা. যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন ভণ্ডনবী দাবিদারদের অন্যতম পাষণ্ড মুসাইলামাতুল কাজ্জাবের বিরুদ্ধে। খলিফার নির্দেশে তৈরি হলো মুসলিম বাহিনী। যুদ্ধের সেনাপতি নিযুক্ত করলেন তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে।
মুসলিম বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. রওনা করলেন ইয়ামামার প্রান্তর। সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. মুসলিম বাহিনীকে সুসজ্জিত করলেন। মুসলিম বাহিনীকে তিনি সিসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করালেন। মুখোমুখি হলো দুই বাহিনী। ভণ্ডনবী ও তার ভণ্ড অনুসারীদের সাথে সত্যনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারীদের যুদ্ধ। সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার লড়াই। এ যুদ্ধ মিথ্যাকে পরাজিত করার। অন্ধকার দূরীভূত করে আলো জ্বালানোর এক গুরুত্বপূর্ণ সংঘাত। বেজে উঠল যুদ্ধের দামামা। দু-পক্ষের তীব্র আক্রমণে কেঁপে-কেঁপে উঠছে ইয়ামামার প্রান্তর। তরবারির ঝলকানিতে ঝলসে উঠছে তীব্র রোদ। পাথর খণ্ডের সাথে ঘোড়ার পদাঘাতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়ানক শব্দের। লড়াই তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। মুসাইলামা তার সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে मुसलमानों کا বিরুদ্ধে। কেননা মুসাইলামা জানে, আজ যদি হেরে যায়, তাহলে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে তার নবী হওয়ার বাসনা।
এ উম্মতের প্রথম মুজাদ্দিদ হযরত আবু বকর রা. ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণ ও সীমাহীন প্রজ্ঞার অধিকারী। সর্বোপরি নবীজির তিরোধানের পর এই প্রথম বড় কোনো অভিযান। তাই অধিকতর সাহসী ও বিচক্ষণ যোদ্ধা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে সেনাপতি বানিয়ে প্রেরণ করেন শক্তিশালী কাফেলা।
মুসলিম বাহিনীর চেষ্টা ছিল প্রাণান্ত। মরণপণ তারা লড়ে যাচ্ছেন। যুদ্ধ চলছে তুমুল তুফানে। ক্ষিপ্রগতিতে মুসলিম সৈন্যরা ঝাঁপিয়ে পড়ে কাফেরদের ওপর। তীব্র লড়াই চলছে। যুদ্ধের প্রারম্ভে উভয় পক্ষ ছিল সমানে সমান। কেউ ছাড় দিতে রাজি নয় আজ। না মুসলিম বাহিনী। না মুসাইলামার দল। এ লড়াই নিছক জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়; সত্য ও মিথ্যা নিরূপণের এক চূড়ান্ত যুদ্ধ। যুদ্ধের মাঝেই সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ নিজ ঘোড়ার ওপর দাঁড়িয়ে তেজস্বী কণ্ঠে মুসলিম বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে এক সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন। তিনি বলেন, 'হে মদিনার অধিবাসীগণ! আজ তোমরা অন্তর থেকে মদিনার চিন্তা মুছে ফেলো। আজ তোমাদের অন্তরে শুধু আল্লাহ এবং জান্নাতের স্মরণ থাকা উচিত। আজকের এ লড়াই পার্থক্য করবে সত্য ও মিথ্যার।'
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর এমন অগ্নিময় ভাষণ শুনে দ্বিগুণ শক্তিতে জ্বলে ওঠে মুসলিম বাহিনী। তাদের রক্তে বলখ মেরে ওঠে সাহস ও শৌর্যের আগুন। অসীম প্রেরণায় মুসলিম বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্রুদের ওপর। মরণঘাতী লড়াই চলছে ইয়ামামার প্রান্তরে। যুদ্ধ ক্রমশ চূড়ান্ত মুহূর্তে প্রবেশ করছে। নাঙা তলোয়ার উঁচিয়ে ঘোড়া ছুটিয়েছেন হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ ও তার অনুগত বাহিনী। মুসলমান বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মুসাইলামার বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। অবশেষে মুসলমানদের প্রতিহত করতে না পেরে তারা তাদের দূর্গের ভেতর চলে যায়। ভণ্ডনবী ঘাতক মুসাইলামা দূর্গের ভেতর আত্মগোপন করে। শত্রুপক্ষ পিছু হটলেও সেনাপতি হযরত খালিদ থেমে যাননি। আজ তিনি একটি চূড়ান্ত রফাদফা করে তবেই যাবেন ইয়ামামার প্রান্তর থেকে। যে ইচ্ছা সে কাজ। মুসলমান বাহিনী দূর্গের ভেতর আক্রমণ চালায়। مسلمانوں کا সাহসী অভিযানে অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় মুসাইলামা বাহিনী। مسلمانوں کا হাতে অত্যন্ত মর্মান্তিকভাবে নিহত হয় মুসাইলামা। বীরের বেশে মুসলিম বাহিনী মদিনায় ফিরে আসে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর সংঘটিত প্রথম যুদ্ধে মুসলমানরা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে বিপুল বিজয় অর্জন করে। ইয়ামামার ধূসর প্রান্তরে সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদের অসীম সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় বীরত্ব ইতিহাসে লেখা আছে স্বর্ণাক্ষরে।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
فَإِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا فَضَرْبَ الرِّقَابِ حَتَّى إِذَا أَشْخَنتُمُوهُمْ فَشُدُّوا الْوَثَاقَ فَإِمَّا مَنَّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً حَتَّى تَضَعَ الْحَرْبُ أَوْزَارَهَا ، ذَلِكَ وَلَوْ يَشَاءُ اللَّهُ لَا نَتَصَرَ مِنْهُمْ وَلَكِن لَيَبْلُوَ بَعْضَكُم بِبَعْضٍ ، وَالَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَلَن يُضِلَّ أَعْمَالَهُمْ سَيَهْدِيهِمْ وَيُصْلِحُ بَالَهُمْ وَيُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ عَرَّفَهَا لَهُمْ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ
'অতঃপর কাফেরদের সাথে যখন তোমাদের মোকাবেলা হবে তখন তাদের গর্দানে আঘাত করবে। অবশেষে যখন তোমরা তাদের রক্তপাত ঘটাবে তখন শক্তভাবে বাঁধবে। তারপর হয় অনুকম্পা করবে নাহয় মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেবে। যতক্ষণ না যুদ্ধ তার বোঝা নামিয়ে রাখে। এটাই আল্লাহর নির্দেশ। আল্লাহ চাইলে তাদের থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন, কিন্তু তিনি চান তোমাদের কতককে কতকের দ্বারা পরীক্ষা করতে। যারা আল্লাহর পথে শহিদ হয় তাদের কর্ম তিনি কিছুতেই নষ্ট করবেন না। এবং তাদের সেই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার কথা তিনি তাদের জানিয়েছেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি আল্লাহকে সাহায্য করো তাহলে তিনিও তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা তথা অবস্থান সুদৃঢ় রাখবেন। '⁹⁶

টিকাঃ
৯৫ সুরা মুহাম্মদ: ৭
৯৬ সুরা মুহাম্মদ: ৪-৭

একাদশ হিজরি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন। রাসুলের তিরোধানের পর ইসলাম সম্মুখীন হলো ভয়াবহ সঙ্কটের। مسلمانوں کا ওপর নেমে এলো ঘোরতর বিপদ। এতদিন পর্যন্ত ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হতো। সবকিছু তাই সকলের জন্য সহজ ছিল। কিন্তু তিনি চলে গেলেন রফিকে আলার সান্নিধ্যে। হে আল্লাহর বান্দাগণ! এ হলো মৃত্যু। এর থেকে কেউ পলায়ন করতে পারবে না। দুনিয়াতে যার আগমন হয়েছে তাকেই মৃত্যুবরণ করতে হবে। এ চিরসত্য। পৃথিবীর অমোঘ বিধান। চাই তিনি নবী বা রাসুল হোন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর দেখা দিলো নতুন ফিতনা। ইতিহাসে যা ফিতনায়ে ইরতিদাদ নামে প্রসিদ্ধ। মুসলমানরা চতুর্দিকে মুরতাদ হয়ে যেতে লাগল। অপরদিকে মুসায়লামা নিজেকে নবী দাবি করল। নতুন ও সরলমনা মুসলমানদের মুসায়লামা ইসলাম থেকে বিচ্যুত করতে লাগল। তার গোত্রের সকলে তাকে নবী হিসেবে মেনে নিয়ে ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়ে গেল। অন্যদিকে সরলমনা একদল মুসলমানরা যাকাত দিতে অস্বীকার করল। যাকাত ইসলামের অন্যতম রুকন। ইসলামের ভিত্তি রাখা হয়েছে যে কয়টি বিধানের ওপর, তন্মধ্যে একটি হলো যাকাত। मुसलमानों کا খলিফা তখন হযরত আবু বকর রা.। ইসলাম ও مسلمانوں کا জন্য ভয়াবহ এ ফেতনাকে মূলোৎপাটন করার জন্য খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. অত্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। দ্ব্যর্থ কণ্ঠে ঘোষণা দিলেন, ইসলামের ক্ষতি হবে আর আমি আবু বকর বেঁচে থাকব?
হযরত আবু বকর রা. তাদের বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা পর্যন্ত দিলেন। যিনি ছিলেন কোমল, ইসলামের সঙ্কট মুকাবলোয় তিনি হলেন শক্ত পাথর। যিনি ছিলেন বৃষ্টির মতো শীতল, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের সম্মান রক্ষার্থে তিনি ধারণ করলেন বজ্রকঠিন। সাহাবায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করলেন। বললেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর তার ধর্মকে পরিবর্তন করা হবে-এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আমরা অস্ত্রধারণ করব।
ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর এ দুর্দিনে হযরত আবু বকর রা. অত্যন্ত সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করেছেন। রাসুলের ইন্তেকালের পর ইসলামের ওপর আগত ধাক্কা সামাল দেওয়ার জন্য একজন আবু বকরের প্রয়োজন ছিল। এ উম্মতের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, আল্লাহ তায়ালা প্রতি একশ বছরে এ উম্মতের মাঝে একজন মুজাদ্দিদ প্রেরণ করবেন। হযরত আবু বকর রা. হলেন প্রথম মুজাদ্দিদ। যার অপরিসীম ত্যাগে ইসলাম তার সঠিক পথে অটল ছিল। সে সময় হযরত আবু বকর রা.-এর সিদ্ধান্ত ছিল যে-কোনো মূল্যে ইসলামকে সাহায্য করতে হবে। কিছুতেই রাসুলের রেখে যাওয়া শরিয়তের মাঝে পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা যাবে না। এমনকি রাসুলের একটি সুন্নতের সাথেও আপস করা যাবে না।
তাদের ক্ষেত্রেই আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেছেন,
إِنْ تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ
'যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো তাহলে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তিনি তোমাদের অটল ও অবিচল রাখবেন।'⁹⁵
ভণ্ডনবী দাবিদার মুসাইলামা ও তার অনুসারীদের দমন করতে কোমল খলিফা রূঢ় হলেন। ফুলের মানব হলেন শক্ত পাথর। জ্বলে উঠলেন ইসলামের চেতনায়। ভণ্ডনবী মুসাইলামাকে নির্মূলে কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। মুসাইলামা ও তার দোষরদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সংবাদ আসতে থাকে খলিফার কানে। পেরেশান হয়ে ভাবতে থাকেন কী করা যায়। দেখলেন, যুদ্ধ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ খোলা নেই। যুদ্ধই একমাত্র সমাধান। সুতবাং যুদ্ধ অনিবার্য। খলিফা হযরত আবু বকর রা. যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন ভণ্ডনবী দাবিদারদের অন্যতম পাষণ্ড মুসাইলামাতুল কাজ্জাবের বিরুদ্ধে। খলিফার নির্দেশে তৈরি হলো মুসলিম বাহিনী। যুদ্ধের সেনাপতি নিযুক্ত করলেন তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে।
মুসলিম বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. রওনা করলেন ইয়ামামার প্রান্তর। সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. মুসলিম বাহিনীকে সুসজ্জিত করলেন। মুসলিম বাহিনীকে তিনি সিসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করালেন। মুখোমুখি হলো দুই বাহিনী। ভণ্ডনবী ও তার ভণ্ড অনুসারীদের সাথে সত্যনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারীদের যুদ্ধ। সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার লড়াই। এ যুদ্ধ মিথ্যাকে পরাজিত করার। অন্ধকার দূরীভূত করে আলো জ্বালানোর এক গুরুত্বপূর্ণ সংঘাত। বেজে উঠল যুদ্ধের দামামা। দু-পক্ষের তীব্র আক্রমণে কেঁপে-কেঁপে উঠছে ইয়ামামার প্রান্তর। তরবারির ঝলকানিতে ঝলসে উঠছে তীব্র রোদ। পাথর খণ্ডের সাথে ঘোড়ার পদাঘাতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়ানক শব্দের। লড়াই তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। মুসাইলামা তার সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে मुसलमानों کا বিরুদ্ধে। কেননা মুসাইলামা জানে, আজ যদি হেরে যায়, তাহলে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে তার নবী হওয়ার বাসনা।
এ উম্মতের প্রথম মুজাদ্দিদ হযরত আবু বকর রা. ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণ ও সীমাহীন প্রজ্ঞার অধিকারী। সর্বোপরি নবীজির তিরোধানের পর এই প্রথম বড় কোনো অভিযান। তাই অধিকতর সাহসী ও বিচক্ষণ যোদ্ধা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে সেনাপতি বানিয়ে প্রেরণ করেন শক্তিশালী কাফেলা।
মুসলিম বাহিনীর চেষ্টা ছিল প্রাণান্ত। মরণপণ তারা লড়ে যাচ্ছেন। যুদ্ধ চলছে তুমুল তুফানে। ক্ষিপ্রগতিতে মুসলিম সৈন্যরা ঝাঁপিয়ে পড়ে কাফেরদের ওপর। তীব্র লড়াই চলছে। যুদ্ধের প্রারম্ভে উভয় পক্ষ ছিল সমানে সমান। কেউ ছাড় দিতে রাজি নয় আজ। না মুসলিম বাহিনী। না মুসাইলামার দল। এ লড়াই নিছক জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়; সত্য ও মিথ্যা নিরূপণের এক চূড়ান্ত যুদ্ধ। যুদ্ধের মাঝেই সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ নিজ ঘোড়ার ওপর দাঁড়িয়ে তেজস্বী কণ্ঠে মুসলিম বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে এক সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন। তিনি বলেন, 'হে মদিনার অধিবাসীগণ! আজ তোমরা অন্তর থেকে মদিনার চিন্তা মুছে ফেলো। আজ তোমাদের অন্তরে শুধু আল্লাহ এবং জান্নাতের স্মরণ থাকা উচিত। আজকের এ লড়াই পার্থক্য করবে সত্য ও মিথ্যার।'
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর এমন অগ্নিময় ভাষণ শুনে দ্বিগুণ শক্তিতে জ্বলে ওঠে মুসলিম বাহিনী। তাদের রক্তে বলখ মেরে ওঠে সাহস ও শৌর্যের আগুন। অসীম প্রেরণায় মুসলিম বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্রুদের ওপর। মরণঘাতী লড়াই চলছে ইয়ামামার প্রান্তরে। যুদ্ধ ক্রমশ চূড়ান্ত মুহূর্তে প্রবেশ করছে। নাঙা তলোয়ার উঁচিয়ে ঘোড়া ছুটিয়েছেন হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ ও তার অনুগত বাহিনী। মুসলমান বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মুসাইলামার বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। অবশেষে মুসলমানদের প্রতিহত করতে না পেরে তারা তাদের দূর্গের ভেতর চলে যায়। ভণ্ডনবী ঘাতক মুসাইলামা দূর্গের ভেতর আত্মগোপন করে। শত্রুপক্ষ পিছু হটলেও সেনাপতি হযরত খালিদ থেমে যাননি। আজ তিনি একটি চূড়ান্ত রফাদফা করে তবেই যাবেন ইয়ামামার প্রান্তর থেকে। যে ইচ্ছা সে কাজ। মুসলমান বাহিনী দূর্গের ভেতর আক্রমণ চালায়। مسلمانوں کا সাহসী অভিযানে অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় মুসাইলামা বাহিনী। مسلمانوں کا হাতে অত্যন্ত মর্মান্তিকভাবে নিহত হয় মুসাইলামা। বীরের বেশে মুসলিম বাহিনী মদিনায় ফিরে আসে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর সংঘটিত প্রথম যুদ্ধে মুসলমানরা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে বিপুল বিজয় অর্জন করে। ইয়ামামার ধূসর প্রান্তরে সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদের অসীম সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় বীরত্ব ইতিহাসে লেখা আছে স্বর্ণাক্ষরে।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
فَإِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا فَضَرْبَ الرِّقَابِ حَتَّى إِذَا أَشْخَنتُمُوهُمْ فَشُدُّوا الْوَثَاقَ فَإِمَّا مَنَّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً حَتَّى تَضَعَ الْحَرْبُ أَوْزَارَهَا ، ذَلِكَ وَلَوْ يَشَاءُ اللَّهُ لَا نَتَصَرَ مِنْهُمْ وَلَكِن لَيَبْلُوَ بَعْضَكُم بِبَعْضٍ ، وَالَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَلَن يُضِلَّ أَعْمَالَهُمْ سَيَهْدِيهِمْ وَيُصْلِحُ بَالَهُمْ وَيُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ عَرَّفَهَا لَهُمْ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ
'অতঃপর কাফেরদের সাথে যখন তোমাদের মোকাবেলা হবে তখন তাদের গর্দানে আঘাত করবে। অবশেষে যখন তোমরা তাদের রক্তপাত ঘটাবে তখন শক্তভাবে বাঁধবে। তারপর হয় অনুকম্পা করবে নাহয় মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেবে। যতক্ষণ না যুদ্ধ তার বোঝা নামিয়ে রাখে। এটাই আল্লাহর নির্দেশ। আল্লাহ চাইলে তাদের থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন, কিন্তু তিনি চান তোমাদের কতককে কতকের দ্বারা পরীক্ষা করতে। যারা আল্লাহর পথে শহিদ হয় তাদের কর্ম তিনি কিছুতেই নষ্ট করবেন না। এবং তাদের সেই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার কথা তিনি তাদের জানিয়েছেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি আল্লাহকে সাহায্য করো তাহলে তিনিও তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা তথা অবস্থান সুদৃঢ় রাখবেন। '⁹⁶

টিকাঃ
৯৫ সুরা মুহাম্মদ: ৭
৯৬ সুরা মুহাম্মদ: ৪-৭

একাদশ হিজরি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন। রাসুলের তিরোধানের পর ইসলাম সম্মুখীন হলো ভয়াবহ সঙ্কটের। مسلمانوں کا ওপর নেমে এলো ঘোরতর বিপদ। এতদিন পর্যন্ত ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হতো। সবকিছু তাই সকলের জন্য সহজ ছিল। কিন্তু তিনি চলে গেলেন রফিকে আলার সান্নিধ্যে। হে আল্লাহর বান্দাগণ! এ হলো মৃত্যু। এর থেকে কেউ পলায়ন করতে পারবে না। দুনিয়াতে যার আগমন হয়েছে তাকেই মৃত্যুবরণ করতে হবে। এ চিরসত্য। পৃথিবীর অমোঘ বিধান। চাই তিনি নবী বা রাসুল হোন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর দেখা দিলো নতুন ফিতনা। ইতিহাসে যা ফিতনায়ে ইরতিদাদ নামে প্রসিদ্ধ। মুসলমানরা চতুর্দিকে মুরতাদ হয়ে যেতে লাগল। অপরদিকে মুসায়লামা নিজেকে নবী দাবি করল। নতুন ও সরলমনা মুসলমানদের মুসায়লামা ইসলাম থেকে বিচ্যুত করতে লাগল। তার গোত্রের সকলে তাকে নবী হিসেবে মেনে নিয়ে ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়ে গেল। অন্যদিকে সরলমনা একদল মুসলমানরা যাকাত দিতে অস্বীকার করল। যাকাত ইসলামের অন্যতম রুকন। ইসলামের ভিত্তি রাখা হয়েছে যে কয়টি বিধানের ওপর, তন্মধ্যে একটি হলো যাকাত। मुसलमानों کا খলিফা তখন হযরত আবু বকর রা.। ইসলাম ও مسلمانوں کا জন্য ভয়াবহ এ ফেতনাকে মূলোৎপাটন করার জন্য খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. অত্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। দ্ব্যর্থ কণ্ঠে ঘোষণা দিলেন, ইসলামের ক্ষতি হবে আর আমি আবু বকর বেঁচে থাকব?
হযরত আবু বকর রা. তাদের বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা পর্যন্ত দিলেন। যিনি ছিলেন কোমল, ইসলামের সঙ্কট মুকাবলোয় তিনি হলেন শক্ত পাথর। যিনি ছিলেন বৃষ্টির মতো শীতল, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের সম্মান রক্ষার্থে তিনি ধারণ করলেন বজ্রকঠিন। সাহাবায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করলেন। বললেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর তার ধর্মকে পরিবর্তন করা হবে-এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আমরা অস্ত্রধারণ করব।
ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর এ দুর্দিনে হযরত আবু বকর রা. অত্যন্ত সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করেছেন। রাসুলের ইন্তেকালের পর ইসলামের ওপর আগত ধাক্কা সামাল দেওয়ার জন্য একজন আবু বকরের প্রয়োজন ছিল। এ উম্মতের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, আল্লাহ তায়ালা প্রতি একশ বছরে এ উম্মতের মাঝে একজন মুজাদ্দিদ প্রেরণ করবেন। হযরত আবু বকর রা. হলেন প্রথম মুজাদ্দিদ। যার অপরিসীম ত্যাগে ইসলাম তার সঠিক পথে অটল ছিল। সে সময় হযরত আবু বকর রা.-এর সিদ্ধান্ত ছিল যে-কোনো মূল্যে ইসলামকে সাহায্য করতে হবে। কিছুতেই রাসুলের রেখে যাওয়া শরিয়তের মাঝে পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা যাবে না। এমনকি রাসুলের একটি সুন্নতের সাথেও আপস করা যাবে না।
তাদের ক্ষেত্রেই আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেছেন,
إِنْ تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ
'যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো তাহলে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তিনি তোমাদের অটল ও অবিচল রাখবেন।'⁹⁵
ভণ্ডনবী দাবিদার মুসাইলামা ও তার অনুসারীদের দমন করতে কোমল খলিফা রূঢ় হলেন। ফুলের মানব হলেন শক্ত পাথর। জ্বলে উঠলেন ইসলামের চেতনায়। ভণ্ডনবী মুসাইলামাকে নির্মূলে কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। মুসাইলামা ও তার দোষরদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সংবাদ আসতে থাকে খলিফার কানে। পেরেশান হয়ে ভাবতে থাকেন কী করা যায়। দেখলেন, যুদ্ধ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ খোলা নেই। যুদ্ধই একমাত্র সমাধান। সুতবাং যুদ্ধ অনিবার্য। খলিফা হযরত আবু বকর রা. যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন ভণ্ডনবী দাবিদারদের অন্যতম পাষণ্ড মুসাইলামাতুল কাজ্জাবের বিরুদ্ধে। খলিফার নির্দেশে তৈরি হলো মুসলিম বাহিনী। যুদ্ধের সেনাপতি নিযুক্ত করলেন তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে।
মুসলিম বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. রওনা করলেন ইয়ামামার প্রান্তর। সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. মুসলিম বাহিনীকে সুসজ্জিত করলেন। মুসলিম বাহিনীকে তিনি সিসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করালেন। মুখোমুখি হলো দুই বাহিনী। ভণ্ডনবী ও তার ভণ্ড অনুসারীদের সাথে সত্যনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারীদের যুদ্ধ। সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার লড়াই। এ যুদ্ধ মিথ্যাকে পরাজিত করার। অন্ধকার দূরীভূত করে আলো জ্বালানোর এক গুরুত্বপূর্ণ সংঘাত। বেজে উঠল যুদ্ধের দামামা। দু-পক্ষের তীব্র আক্রমণে কেঁপে-কেঁপে উঠছে ইয়ামামার প্রান্তর। তরবারির ঝলকানিতে ঝলসে উঠছে তীব্র রোদ। পাথর খণ্ডের সাথে ঘোড়ার পদাঘাতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়ানক শব্দের। লড়াই তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। মুসাইলামা তার সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে मुसलमानों کا বিরুদ্ধে। কেননা মুসাইলামা জানে, আজ যদি হেরে যায়, তাহলে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে তার নবী হওয়ার বাসনা।
এ উম্মতের প্রথম মুজাদ্দিদ হযরত আবু বকর রা. ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণ ও সীমাহীন প্রজ্ঞার অধিকারী। সর্বোপরি নবীজির তিরোধানের পর এই প্রথম বড় কোনো অভিযান। তাই অধিকতর সাহসী ও বিচক্ষণ যোদ্ধা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে সেনাপতি বানিয়ে প্রেরণ করেন শক্তিশালী কাফেলা।
মুসলিম বাহিনীর চেষ্টা ছিল প্রাণান্ত। মরণপণ তারা লড়ে যাচ্ছেন। যুদ্ধ চলছে তুমুল তুফানে। ক্ষিপ্রগতিতে মুসলিম সৈন্যরা ঝাঁপিয়ে পড়ে কাফেরদের ওপর। তীব্র লড়াই চলছে। যুদ্ধের প্রারম্ভে উভয় পক্ষ ছিল সমানে সমান। কেউ ছাড় দিতে রাজি নয় আজ। না মুসলিম বাহিনী। না মুসাইলামার দল। এ লড়াই নিছক জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়; সত্য ও মিথ্যা নিরূপণের এক চূড়ান্ত যুদ্ধ। যুদ্ধের মাঝেই সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ নিজ ঘোড়ার ওপর দাঁড়িয়ে তেজস্বী কণ্ঠে মুসলিম বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে এক সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন। তিনি বলেন, 'হে মদিনার অধিবাসীগণ! আজ তোমরা অন্তর থেকে মদিনার চিন্তা মুছে ফেলো। আজ তোমাদের অন্তরে শুধু আল্লাহ এবং জান্নাতের স্মরণ থাকা উচিত। আজকের এ লড়াই পার্থক্য করবে সত্য ও মিথ্যার।'
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর এমন অগ্নিময় ভাষণ শুনে দ্বিগুণ শক্তিতে জ্বলে ওঠে মুসলিম বাহিনী। তাদের রক্তে বলখ মেরে ওঠে সাহস ও শৌর্যের আগুন। অসীম প্রেরণায় মুসলিম বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্রুদের ওপর। মরণঘাতী লড়াই চলছে ইয়ামামার প্রান্তরে। যুদ্ধ ক্রমশ চূড়ান্ত মুহূর্তে প্রবেশ করছে। নাঙা তলোয়ার উঁচিয়ে ঘোড়া ছুটিয়েছেন হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ ও তার অনুগত বাহিনী। মুসলমান বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মুসাইলামার বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। অবশেষে মুসলমানদের প্রতিহত করতে না পেরে তারা তাদের দূর্গের ভেতর চলে যায়। ভণ্ডনবী ঘাতক মুসাইলামা দূর্গের ভেতর আত্মগোপন করে। শত্রুপক্ষ পিছু হটলেও সেনাপতি হযরত খালিদ থেমে যাননি। আজ তিনি একটি চূড়ান্ত রফাদফা করে তবেই যাবেন ইয়ামামার প্রান্তর থেকে। যে ইচ্ছা সে কাজ। মুসলমান বাহিনী দূর্গের ভেতর আক্রমণ চালায়। مسلمانوں کا সাহসী অভিযানে অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় মুসাইলামা বাহিনী। مسلمانوں کا হাতে অত্যন্ত মর্মান্তিকভাবে নিহত হয় মুসাইলামা। বীরের বেশে মুসলিম বাহিনী মদিনায় ফিরে আসে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর সংঘটিত প্রথম যুদ্ধে মুসলমানরা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে বিপুল বিজয় অর্জন করে। ইয়ামামার ধূসর প্রান্তরে সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদের অসীম সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় বীরত্ব ইতিহাসে লেখা আছে স্বর্ণাক্ষরে।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
فَإِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا فَضَرْبَ الرِّقَابِ حَتَّى إِذَا أَشْخَنتُمُوهُمْ فَشُدُّوا الْوَثَاقَ فَإِمَّا مَنَّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً حَتَّى تَضَعَ الْحَرْبُ أَوْزَارَهَا ، ذَلِكَ وَلَوْ يَشَاءُ اللَّهُ لَا نَتَصَرَ مِنْهُمْ وَلَكِن لَيَبْلُوَ بَعْضَكُم بِبَعْضٍ ، وَالَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَلَن يُضِلَّ أَعْمَالَهُمْ سَيَهْدِيهِمْ وَيُصْلِحُ بَالَهُمْ وَيُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ عَرَّفَهَا لَهُمْ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ
'অতঃপর কাফেরদের সাথে যখন তোমাদের মোকাবেলা হবে তখন তাদের গর্দানে আঘাত করবে। অবশেষে যখন তোমরা তাদের রক্তপাত ঘটাবে তখন শক্তভাবে বাঁধবে। তারপর হয় অনুকম্পা করবে নাহয় মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেবে। যতক্ষণ না যুদ্ধ তার বোঝা নামিয়ে রাখে। এটাই আল্লাহর নির্দেশ। আল্লাহ চাইলে তাদের থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন, কিন্তু তিনি চান তোমাদের কতককে কতকের দ্বারা পরীক্ষা করতে। যারা আল্লাহর পথে শহিদ হয় তাদের কর্ম তিনি কিছুতেই নষ্ট করবেন না। এবং তাদের সেই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার কথা তিনি তাদের জানিয়েছেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি আল্লাহকে সাহায্য করো তাহলে তিনিও তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা তথা অবস্থান সুদৃঢ় রাখবেন। '⁹⁶

টিকাঃ
৯৫ সুরা মুহাম্মদ: ৭
৯৬ সুরা মুহাম্মদ: ৪-৭

একাদশ হিজরি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন। রাসুলের তিরোধানের পর ইসলাম সম্মুখীন হলো ভয়াবহ সঙ্কটের। مسلمانوں کا ওপর নেমে এলো ঘোরতর বিপদ। এতদিন পর্যন্ত ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হতো। সবকিছু তাই সকলের জন্য সহজ ছিল। কিন্তু তিনি চলে গেলেন রফিকে আলার সান্নিধ্যে। হে আল্লাহর বান্দাগণ! এ হলো মৃত্যু। এর থেকে কেউ পলায়ন করতে পারবে না। দুনিয়াতে যার আগমন হয়েছে তাকেই মৃত্যুবরণ করতে হবে। এ চিরসত্য। পৃথিবীর অমোঘ বিধান। চাই তিনি নবী বা রাসুল হোন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর দেখা দিলো নতুন ফিতনা। ইতিহাসে যা ফিতনায়ে ইরতিদাদ নামে প্রসিদ্ধ। মুসলমানরা চতুর্দিকে মুরতাদ হয়ে যেতে লাগল। অপরদিকে মুসায়লামা নিজেকে নবী দাবি করল। নতুন ও সরলমনা মুসলমানদের মুসায়লামা ইসলাম থেকে বিচ্যুত করতে লাগল। তার গোত্রের সকলে তাকে নবী হিসেবে মেনে নিয়ে ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়ে গেল। অন্যদিকে সরলমনা একদল মুসলমানরা যাকাত দিতে অস্বীকার করল। যাকাত ইসলামের অন্যতম রুকন। ইসলামের ভিত্তি রাখা হয়েছে যে কয়টি বিধানের ওপর, তন্মধ্যে একটি হলো যাকাত। मुसलमानों کا খলিফা তখন হযরত আবু বকর রা.। ইসলাম ও مسلمانوں کا জন্য ভয়াবহ এ ফেতনাকে মূলোৎপাটন করার জন্য খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. অত্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। দ্ব্যর্থ কণ্ঠে ঘোষণা দিলেন, ইসলামের ক্ষতি হবে আর আমি আবু বকর বেঁচে থাকব?
হযরত আবু বকর রা. তাদের বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা পর্যন্ত দিলেন। যিনি ছিলেন কোমল, ইসলামের সঙ্কট মুকাবলোয় তিনি হলেন শক্ত পাথর। যিনি ছিলেন বৃষ্টির মতো শীতল, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের সম্মান রক্ষার্থে তিনি ধারণ করলেন বজ্রকঠিন। সাহাবায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করলেন। বললেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর তার ধর্মকে পরিবর্তন করা হবে-এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আমরা অস্ত্রধারণ করব।
ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর এ দুর্দিনে হযরত আবু বকর রা. অত্যন্ত সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করেছেন। রাসুলের ইন্তেকালের পর ইসলামের ওপর আগত ধাক্কা সামাল দেওয়ার জন্য একজন আবু বকরের প্রয়োজন ছিল। এ উম্মতের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, আল্লাহ তায়ালা প্রতি একশ বছরে এ উম্মতের মাঝে একজন মুজাদ্দিদ প্রেরণ করবেন। হযরত আবু বকর রা. হলেন প্রথম মুজাদ্দিদ। যার অপরিসীম ত্যাগে ইসলাম তার সঠিক পথে অটল ছিল। সে সময় হযরত আবু বকর রা.-এর সিদ্ধান্ত ছিল যে-কোনো মূল্যে ইসলামকে সাহায্য করতে হবে। কিছুতেই রাসুলের রেখে যাওয়া শরিয়তের মাঝে পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা যাবে না। এমনকি রাসুলের একটি সুন্নতের সাথেও আপস করা যাবে না।
তাদের ক্ষেত্রেই আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেছেন,
إِنْ تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ
'যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো তাহলে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তিনি তোমাদের অটল ও অবিচল রাখবেন।'⁹⁵
ভণ্ডনবী দাবিদার মুসাইলামা ও তার অনুসারীদের দমন করতে কোমল খলিফা রূঢ় হলেন। ফুলের মানব হলেন শক্ত পাথর। জ্বলে উঠলেন ইসলামের চেতনায়। ভণ্ডনবী মুসাইলামাকে নির্মূলে কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। মুসাইলামা ও তার দোষরদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সংবাদ আসতে থাকে খলিফার কানে। পেরেশান হয়ে ভাবতে থাকেন কী করা যায়। দেখলেন, যুদ্ধ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ খোলা নেই। যুদ্ধই একমাত্র সমাধান। সুতবাং যুদ্ধ অনিবার্য। খলিফা হযরত আবু বকর রা. যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন ভণ্ডনবী দাবিদারদের অন্যতম পাষণ্ড মুসাইলামাতুল কাজ্জাবের বিরুদ্ধে। খলিফার নির্দেশে তৈরি হলো মুসলিম বাহিনী। যুদ্ধের সেনাপতি নিযুক্ত করলেন তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে।
মুসলিম বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. রওনা করলেন ইয়ামামার প্রান্তর। সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. মুসলিম বাহিনীকে সুসজ্জিত করলেন। মুসলিম বাহিনীকে তিনি সিসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করালেন। মুখোমুখি হলো দুই বাহিনী। ভণ্ডনবী ও তার ভণ্ড অনুসারীদের সাথে সত্যনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারীদের যুদ্ধ। সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার লড়াই। এ যুদ্ধ মিথ্যাকে পরাজিত করার। অন্ধকার দূরীভূত করে আলো জ্বালানোর এক গুরুত্বপূর্ণ সংঘাত। বেজে উঠল যুদ্ধের দামামা। দু-পক্ষের তীব্র আক্রমণে কেঁপে-কেঁপে উঠছে ইয়ামামার প্রান্তর। তরবারির ঝলকানিতে ঝলসে উঠছে তীব্র রোদ। পাথর খণ্ডের সাথে ঘোড়ার পদাঘাতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়ানক শব্দের। লড়াই তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। মুসাইলামা তার সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে मुसलमानों کا বিরুদ্ধে। কেননা মুসাইলামা জানে, আজ যদি হেরে যায়, তাহলে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে তার নবী হওয়ার বাসনা।
এ উম্মতের প্রথম মুজাদ্দিদ হযরত আবু বকর রা. ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণ ও সীমাহীন প্রজ্ঞার অধিকারী। সর্বোপরি নবীজির তিরোধানের পর এই প্রথম বড় কোনো অভিযান। তাই অধিকতর সাহসী ও বিচক্ষণ যোদ্ধা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে সেনাপতি বানিয়ে প্রেরণ করেন শক্তিশালী কাফেলা।
মুসলিম বাহিনীর চেষ্টা ছিল প্রাণান্ত। মরণপণ তারা লড়ে যাচ্ছেন। যুদ্ধ চলছে তুমুল তুফানে। ক্ষিপ্রগতিতে মুসলিম সৈন্যরা ঝাঁপিয়ে পড়ে কাফেরদের ওপর। তীব্র লড়াই চলছে। যুদ্ধের প্রারম্ভে উভয় পক্ষ ছিল সমানে সমান। কেউ ছাড় দিতে রাজি নয় আজ। না মুসলিম বাহিনী। না মুসাইলামার দল। এ লড়াই নিছক জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়; সত্য ও মিথ্যা নিরূপণের এক চূড়ান্ত যুদ্ধ। যুদ্ধের মাঝেই সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ নিজ ঘোড়ার ওপর দাঁড়িয়ে তেজস্বী কণ্ঠে মুসলিম বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে এক সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন। তিনি বলেন, 'হে মদিনার অধিবাসীগণ! আজ তোমরা অন্তর থেকে মদিনার চিন্তা মুছে ফেলো। আজ তোমাদের অন্তরে শুধু আল্লাহ এবং জান্নাতের স্মরণ থাকা উচিত। আজকের এ লড়াই পার্থক্য করবে সত্য ও মিথ্যার।'
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর এমন অগ্নিময় ভাষণ শুনে দ্বিগুণ শক্তিতে জ্বলে ওঠে মুসলিম বাহিনী। তাদের রক্তে বলখ মেরে ওঠে সাহস ও শৌর্যের আগুন। অসীম প্রেরণায় মুসলিম বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্রুদের ওপর। মরণঘাতী লড়াই চলছে ইয়ামামার প্রান্তরে। যুদ্ধ ক্রমশ চূড়ান্ত মুহূর্তে প্রবেশ করছে। নাঙা তলোয়ার উঁচিয়ে ঘোড়া ছুটিয়েছেন হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ ও তার অনুগত বাহিনী। মুসলমান বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মুসাইলামার বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। অবশেষে মুসলমানদের প্রতিহত করতে না পেরে তারা তাদের দূর্গের ভেতর চলে যায়। ভণ্ডনবী ঘাতক মুসাইলামা দূর্গের ভেতর আত্মগোপন করে। শত্রুপক্ষ পিছু হটলেও সেনাপতি হযরত খালিদ থেমে যাননি। আজ তিনি একটি চূড়ান্ত রফাদফা করে তবেই যাবেন ইয়ামামার প্রান্তর থেকে। যে ইচ্ছা সে কাজ। মুসলমান বাহিনী দূর্গের ভেতর আক্রমণ চালায়। مسلمانوں کا সাহসী অভিযানে অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় মুসাইলামা বাহিনী। مسلمانوں کا হাতে অত্যন্ত মর্মান্তিকভাবে নিহত হয় মুসাইলামা। বীরের বেশে মুসলিম বাহিনী মদিনায় ফিরে আসে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর সংঘটিত প্রথম যুদ্ধে মুসলমানরা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে বিপুল বিজয় অর্জন করে। ইয়ামামার ধূসর প্রান্তরে সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদের অসীম সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় বীরত্ব ইতিহাসে লেখা আছে স্বর্ণাক্ষরে।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
فَإِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا فَضَرْبَ الرِّقَابِ حَتَّى إِذَا أَشْخَنتُمُوهُمْ فَشُدُّوا الْوَثَاقَ فَإِمَّا مَنَّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً حَتَّى تَضَعَ الْحَرْبُ أَوْزَارَهَا ، ذَلِكَ وَلَوْ يَشَاءُ اللَّهُ لَا نَتَصَرَ مِنْهُمْ وَلَكِن لَيَبْلُوَ بَعْضَكُم بِبَعْضٍ ، وَالَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَلَن يُضِلَّ أَعْمَالَهُمْ سَيَهْدِيهِمْ وَيُصْلِحُ بَالَهُمْ وَيُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ عَرَّفَهَا لَهُمْ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ
'অতঃপর কাফেরদের সাথে যখন তোমাদের মোকাবেলা হবে তখন তাদের গর্দানে আঘাত করবে। অবশেষে যখন তোমরা তাদের রক্তপাত ঘটাবে তখন শক্তভাবে বাঁধবে। তারপর হয় অনুকম্পা করবে নাহয় মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেবে। যতক্ষণ না যুদ্ধ তার বোঝা নামিয়ে রাখে। এটাই আল্লাহর নির্দেশ। আল্লাহ চাইলে তাদের থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন, কিন্তু তিনি চান তোমাদের কতককে কতকের দ্বারা পরীক্ষা করতে। যারা আল্লাহর পথে শহিদ হয় তাদের কর্ম তিনি কিছুতেই নষ্ট করবেন না। এবং তাদের সেই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার কথা তিনি তাদের জানিয়েছেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি আল্লাহকে সাহায্য করো তাহলে তিনিও তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা তথা অবস্থান সুদৃঢ় রাখবেন। '⁹⁶

টিকাঃ
৯৫ সুরা মুহাম্মদ: ৭
৯৬ সুরা মুহাম্মদ: ৪-৭

📘 হে যুবক! ফিরে এসো রবের দিকে > 📄 ফের নতুন যুদ্ধের ডাক

📄 ফের নতুন যুদ্ধের ডাক


খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. তখন দারুণ বিচক্ষণতার সাথে পরিচালনা করছেন খেলাফতের মসনদ। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও ইসলামকে বিজয় করার লক্ষ্যে খলিফাতুল মুসলিমিন নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করতে লাগলেন। তৎকালীন পৃথিবীর দুই পরাশক্তি হলো পারস্য ও রোম। যারা দুনিয়াকে শাসন করছিল প্রবল প্রতাপে। খলিফা চিন্তা করলেন, পারস্য ও রোম সাম্রাজ্য অন্তর্গত বিভিন্ন শহরে সাহাবায়ে কেরামকে প্রেরণ করবেন। তারা প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেবেন, যদি তারা ইসলামের দাওয়াত কবুল না করে তাহলে ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করতে বলবেন। যদি তাও না করে তাহলে তাদের সাথে مسلمانوں کا ফায়সালা হবে তরবারির। এটিই ইসলামের নীতি। ইসলাম প্রথমেই কাউকে আঘাত করে না। প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হবে। বলা হবে ইসলাম গ্রহণ করতে। যদি তারা ইসলাম গ্রহণ না করে তাহলে বলা হবে مسلمانوں کا বশ্যতা স্বীকার করতে। ইসলামী সাম্রাজ্যে কর ও জিযিয়া প্রদান করতে। যদি কোনোটিই না মেনে নেয় তাহলে তখন তাদের সাথে লড়াই হবে।
খলিফা হযরত আবু বকর রা. ইসলামের ইতিহাসের অকুতভয় সেনানায়ক সাহাবি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে পারস্য অভিমুখে প্রেরণ করেন। সাহাবায়ে কেরাম ও مسلمانوں کا একটি বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ রওনা হলেন পারস্য অভিমুখে। খলিফাতুল মুসলিমিন এখানে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্বাচন করেছেন। কারণ তার সাহসিকতা ও বীরত্ব ছিল প্রশংসনীয়। রণাঙ্গনে শত্রুপক্ষকে তিনি নাস্তানাবুদ করেন। ক্ষতবিক্ষত করেন। শত্রুপক্ষের ব্যুহ ভেদ করে তিনি পৌঁছে যান অভীষ্ট লক্ষ্যে। যুদ্ধের ময়দানে তিনি হন বিজয়ী। তার যুদ্ধ কৌশল প্রখর। ইয়ামামার প্রান্তরে তার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী শত্রুপক্ষকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেছে। হযরত আবু বকর রা. তাই শক্তিশালী পারসিকদের বিরুদ্ধে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কেই নির্বাচিত করেছেন সেনাপতি হিসেবে।
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ তার বাহিনী নিয়ে ইরাকে পৌঁছেন। সেখানে গিয়ে তিনি শাসকদের নিকট ইসলামের দাওয়াতসম্বলিত পত্র প্রেরণ করেন। তাতে লেখা ছিল,
مـن صـلـى صـلاتـنـا، واسـتـقـبـل قـبـلـتـنـا، وأكـل ذبـيـحـتـنـا فـلـه مـا لـنـا، وعـلـيـه مـا عـلـيـنـا، وإلا فـإنـي أتـيـتـكـم بـقـوم يـحـبـون الـمـوت كـمـا تـحـبـون أنـتـم الـحـيـاة، ويـرغـبـون فـي الآخـرة كـمـا تـرغـبـون أنـتـم فـي الـدنـيـا
'যারা নামাজ আদায় করে, আমাদের কেবলাকে কেবলা বলে স্বীকার করে এবং আমাদের জবাইকৃত পশু খায় তারা আমাদের জিম্মায়। তাদের কোনো ক্ষতি করা হবে না। এছাড়া আর যারা রয়েছে তারা শোনে রাখো! আমরা আসছি তোমাদের নিকট। তোমাদের নিকট জীবন যেমন প্রিয় আমাদের নিকট মৃত্যু তেমনই প্রিয়। তোমাদের নিকট দুনিয়া যেমন প্রিয় আমাদের নিকট আখেরাত তেমনই প্রিয়।'
মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর চিঠির সারমর্ম হলো, যারা মুসলমান এবং ইসলাম গ্রহণ করেছে। যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করে নেবে তাদের জীবন ও মাল আমাদের নিকট নিরাপদ। তাদের আমরা কিছুই করব না। আর যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করবে না তাদের সাথে আমাদের সমাধান হবে তরবারির মাধ্যমে। এ চিঠির মাধ্যমে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. পারসিকদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন। এবং দাওয়াত গ্রহণ না করলে তাদের পরিণতি কী হবে সেদিকেও তিনি স্পষ্ট ভাষায় ইঙ্গিত করেছেন।
ইরাকের বেশ কয়েকটি অঞ্চল হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. তার নিপুণ সাহসিকতা ও অসাধারণ বীরত্বে জয় করেন। বিজিত সেসব অঞ্চলের মানুষজন ইসলাম গ্রহণ করে। মুসলমানগণ তখন যেদিকেই গিয়েছেন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের বিজয় দান করেছেন। কেননা, مسلمانوں کا তিনি বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আজ পৃথিবীর দিকে দিকে মুসলমান লাঞ্ছিত ও অপদস্থ। দেশে দেশে তারা মার খাচ্ছে কাফের মুশরিকদের হাতে। নারী ও শিশুদের আর্তনাদে আজ মুসলিম দেশের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। চতুর্দিকেই আজ मुसलमानों کا অধঃপতন। যে আল্লাহ مسلمانوں کا অতীতে বিজয় দান করেছেন তিনি আজও আছেন। আজও রয়েছে তার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু মুসলমানরা নেই সেই পূর্বের মুসলমান। তাদের ঈমানের শক্তি নিস্তেজ হয়ে গেছে। তাদের অন্তরের আলো নিভে গেছে। তাদের সততা ও চরিত্র হারিয়ে গেছে। হ্যাঁ, আজও বিজয় আসবে مسلمانوں کا। যদি তারা পূর্বের সে ঈমান লাভ করতে পারে। যদি তারা সাহাবায়ে কেরামের মতো উত্তম চরিত্র ধারণ করতে পারে। যদি তাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বিদ্যমান থাকে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَعْدَ اللَّهِ لا يُخْلِفُ اللَّهُ وَعْدَهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ
'আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর আল্লাহ তার প্রতিশ্রুতির বিপরীত করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।'⁹⁷
অতঃপর খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্দেশ দিলেন শাম অভিমুখে অভিযান পরিচালনা করার জন্য। শাম তখন অত্যন্ত শক্তিশালী শহর। দুর্ভেদ্য তাদের দূর্গ। শাম বিজয় করা তাই খুব সহজ কথা নয়। খলিফা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে শামে অভিযানের জন্য উপযুক্ত মনে করলেন। কারণ, মুসলিম বাহিনীর অপরাজেয় সেনাপতি তিনি। সেনাপতি হিসেবে তার দক্ষতা সকলের চেয়ে অগ্রগণ্য। যুদ্ধের ময়দানে তার দারুণ বিচক্ষণতা مسلمانوں کا বিজয়কে ত্বরান্বিত করে। সুতরাং অভেদ্য নগরী শাম বিজয় করার জন্য খালিদই অধিকতর উপযুক্ত।
খলিফার নির্দেশে তিনি হযরত মুসান্না রা.-কে ইরাকের বিজিত অঞ্চলসমূহের গভর্নর নিযুক্ত করে শামের দিকে রওনা হলেন। অল্প সময়ে তিনি পৌঁছে যান শামে। শামে পৌঁছে তিনি মুসলিম বাহিনীর উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন। তাদের তিনি শাহাদতের ওপর উদ্বুদ্ধ করেন। জিহাদের ফজিলত বর্ণনা করে তিনি মুসলিম বাহিনীর মনোবল দ্বিগুণ করার চেষ্টা করেন। তাদের অধিকতর আত্মনিবেদিতরূপে প্রস্তুত করেন। তার জাগরণী ভাষণে মুসলিম বাহিনী নতুন প্রেরণায় জেগে ওঠে। তাদের হৃদয় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের ধমনীতে বয়ে যায় শাহাদতের রক্ত। আল্লাহর রাহে জীবন উৎসর্গের জন্য তারা সর্বাঙ্গীন প্রস্তুতি গ্রহণ করে। مسلمانوں کا সৈন্যসংখ্যা তেমন অধিক ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী মুসলিম বাহিনী যুদ্ধের আগের রাতে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন। দীর্ঘ সময় তারা নামাজ আদায় করেন। কুরআন তিলাওয়াত করেন। কাকুতি-মিনতি করে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। কেননা, مسلمانوں کا সাহায্য তো একমাত্র তার পক্ষ থেকেই আসে। মুসলমান কখনো নিজেদের সৈন্য ও অস্ত্রবলের ওপর ভরসা করে না। তাদের সাহায্য আসে আসমান থেকে। मुसलमानों का বিজয় লেখা হয় আরশে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ
'যখন তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছিলে এবং তোমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি তোমাদের এক হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে সাহায্য করব যারা একজনের পেছনে আরেকজন ক্রমান্বয়ে আসতে থাকবে।'⁹⁸
আজকের শত্রুদের নিকট রয়েছে বড় বড় কামান এবং শক্তিশালী বহু অস্ত্র। তাদের নিকট রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। مسلمانوں کا নিকট এসবের কিছু নেই। কিন্তু مسلمانوں کا রয়েছে আল্লাহর সাহায্য। রয়েছে প্রভুর নিযুক্ত অসংখ্য ফেরেশতা। তারা আল্লাহর নির্দেশে আসমান থেকে জমিনে নেমে আসবে মুমিনদের সাহায্য করতে। শুধু প্রয়োজন مسلمانوں کا ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি করা। আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্য করা। আল্লাহকে ভয় করা। তাহলে কে আছে मुसलमानों کا পরাজিত করার। কে আছে مسلمانوں কা যুদ্ধক্ষেত্রে পরাস্ত করবে? আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা সর্বক্ষেত্রে مسلمانوں কা সান্ত্বনার বাণী শুনিয়েছেন। मुसलमानों کا মানসিক অবস্থাকে সুদৃঢ় রাখার জন্য আল্লাহ তাদের দিয়েছেন অফুরন্ত সুসংবাদ। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتْخِذَ مِنكُمْ شُهَدَاءَ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ وَلِيُمَحِّصَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَافِرِينَ
'তোমরা শত্রুর সামনে দুর্বল কিংবা বিষণ্ণ হয়ো না। প্রকৃত ঈমানদার হলে তোমরাই বিজয় হবে। যদি তোমাদের কোনো আঘাত আসে তাহলে মনে করো অনুরূপ আঘাত তো অন্যদেরও লেগেছে। আর এই দিনগুলো আমি মানুষের মধ্যে অদলবদল করি; যাতে আল্লাহ মুমিনদের যাচাই করতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহিদদের গ্রহণ করতে পারেন। আর আল্লাহ জালেমদের ভালবাসেন না। আর এ কারণে আল্লাহ ঈমানদারদেরকে পাক-সাফ করতে চান এবং কাফেরদেরকে ধবংস করে দিতে চান।' ⁹⁹
আন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرُ اللَّهِ قَرِيبٌ
'তোমরা কি মনে করো যে, জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ তোমাদের পূর্বে যারা চলে গেছে তাদের মতো অবস্থা তোমাদের এখনো আসেনি। তারা অভাব-অনটন ও দুঃখ- কষ্টের কবলে পড়েছিল এবং ভয়ে এমনভাবে কম্পিত হয়েছিল যে, রাসুল ও তার সঙ্গী ঈমানদারগণ বলেছিল,
কখন আল্লাহর সাহায্য আসবে? জেনে রেখো! আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী। '¹⁰⁰
অতঃপর সকাল হলো। রাতভর ইবাদত ও আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে মুসলিম বাহিনী সাহায্য প্রার্থনা করেন। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মুসলিম বাহিনীর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। সকালে উভয় বাহিনী মুখোমুখি হলো। আল্লাহু আকবার! সময় বেশি দূর গড়ায়নি। বিজয় मुसलमानों کا চুম্বন করেছে। কে ভেবেছিল এমন একটি ছোট্ট দল শাম বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে পেরে ওঠবে? কেউ ভাবেনি। শত্রুপক্ষ কল্পনাও করতে পারেনি মদিনার মুসলিম বাহিনী তাদের পরাজিত করবে। কিন্তু আল্লাহ مسلمانوں کا বিজয় দান করলেন। আর প্রকৃতার্থে তিনি তো مسلمانوں کا বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেনই। যুদ্ধ সমাপ্ত হলো। বিজয়ী বেশে মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. শত্রুপক্ষের সেনাপতির তাবুতে নামাজ আদায় করলেন। ইসলামের আরো একটি বিজয় অর্জিত হলো হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এর নেতৃত্ব ও অপরিসীম বীরত্বে। ইরশাদ হয়েছে,
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنصُورُونَ وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ
'আমার প্রেরিত বান্দাদের জন্য আমার কথা আগেই ঠিক হয়ে গেছে। তারা অবশ্যই সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। এবং আমার সৈনিকেরাই বিজয়ী হবে।' ¹⁰¹
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَتَبَ اللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ
আল্লাহ লিখে দিয়েছেন, আমি ও আমার রাসুলগণ অবশ্যই বিজয়ী হবো। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিধর ও পরাক্রমশালী। '¹⁰²

টিকাঃ
৯৭ সুরা রুম: ৬
৯৮ সুরা আনফাল: ৯
৯৯ সুরা আলে ইমরান: ১৩৯-১৪১
১০০ সুরা বাকারা: ২১৪
১০১ সুরা সাফফাত: ১৭১-১৭৩
১০২ সুরা মুজাদালা: ২১

খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. তখন দারুণ বিচক্ষণতার সাথে পরিচালনা করছেন খেলাফতের মসনদ। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও ইসলামকে বিজয় করার লক্ষ্যে খলিফাতুল মুসলিমিন নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করতে লাগলেন। তৎকালীন পৃথিবীর দুই পরাশক্তি হলো পারস্য ও রোম। যারা দুনিয়াকে শাসন করছিল প্রবল প্রতাপে। খলিফা চিন্তা করলেন, পারস্য ও রোম সাম্রাজ্য অন্তর্গত বিভিন্ন শহরে সাহাবায়ে কেরামকে প্রেরণ করবেন। তারা প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেবেন, যদি তারা ইসলামের দাওয়াত কবুল না করে তাহলে ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করতে বলবেন। যদি তাও না করে তাহলে তাদের সাথে مسلمانوں کا ফায়সালা হবে তরবারির। এটিই ইসলামের নীতি। ইসলাম প্রথমেই কাউকে আঘাত করে না। প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হবে। বলা হবে ইসলাম গ্রহণ করতে। যদি তারা ইসলাম গ্রহণ না করে তাহলে বলা হবে مسلمانوں کا বশ্যতা স্বীকার করতে। ইসলামী সাম্রাজ্যে কর ও জিযিয়া প্রদান করতে। যদি কোনোটিই না মেনে নেয় তাহলে তখন তাদের সাথে লড়াই হবে।
খলিফা হযরত আবু বকর রা. ইসলামের ইতিহাসের অকুতভয় সেনানায়ক সাহাবি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে পারস্য অভিমুখে প্রেরণ করেন। সাহাবায়ে কেরাম ও مسلمانوں کا একটি বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ রওনা হলেন পারস্য অভিমুখে। খলিফাতুল মুসলিমিন এখানে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্বাচন করেছেন। কারণ তার সাহসিকতা ও বীরত্ব ছিল প্রশংসনীয়। রণাঙ্গনে শত্রুপক্ষকে তিনি নাস্তানাবুদ করেন। ক্ষতবিক্ষত করেন। শত্রুপক্ষের ব্যুহ ভেদ করে তিনি পৌঁছে যান অভীষ্ট লক্ষ্যে। যুদ্ধের ময়দানে তিনি হন বিজয়ী। তার যুদ্ধ কৌশল প্রখর। ইয়ামামার প্রান্তরে তার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী শত্রুপক্ষকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেছে। হযরত আবু বকর রা. তাই শক্তিশালী পারসিকদের বিরুদ্ধে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কেই নির্বাচিত করেছেন সেনাপতি হিসেবে।
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ তার বাহিনী নিয়ে ইরাকে পৌঁছেন। সেখানে গিয়ে তিনি শাসকদের নিকট ইসলামের দাওয়াতসম্বলিত পত্র প্রেরণ করেন। তাতে লেখা ছিল,
مـن صـلـى صـلاتـنـا، واسـتـقـبـل قـبـلـتـنـا، وأكـل ذبـيـحـتـنـا فـلـه مـا لـنـا، وعـلـيـه مـا عـلـيـنـا، وإلا فـإنـي أتـيـتـكـم بـقـوم يـحـبـون الـمـوت كـمـا تـحـبـون أنـتـم الـحـيـاة، ويـرغـبـون فـي الآخـرة كـمـا تـرغـبـون أنـتـم فـي الـدنـيـا
'যারা নামাজ আদায় করে, আমাদের কেবলাকে কেবলা বলে স্বীকার করে এবং আমাদের জবাইকৃত পশু খায় তারা আমাদের জিম্মায়। তাদের কোনো ক্ষতি করা হবে না। এছাড়া আর যারা রয়েছে তারা শোনে রাখো! আমরা আসছি তোমাদের নিকট। তোমাদের নিকট জীবন যেমন প্রিয় আমাদের নিকট মৃত্যু তেমনই প্রিয়। তোমাদের নিকট দুনিয়া যেমন প্রিয় আমাদের নিকট আখেরাত তেমনই প্রিয়।'
মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর চিঠির সারমর্ম হলো, যারা মুসলমান এবং ইসলাম গ্রহণ করেছে। যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করে নেবে তাদের জীবন ও মাল আমাদের নিকট নিরাপদ। তাদের আমরা কিছুই করব না। আর যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করবে না তাদের সাথে আমাদের সমাধান হবে তরবারির মাধ্যমে। এ চিঠির মাধ্যমে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. পারসিকদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন। এবং দাওয়াত গ্রহণ না করলে তাদের পরিণতি কী হবে সেদিকেও তিনি স্পষ্ট ভাষায় ইঙ্গিত করেছেন।
ইরাকের বেশ কয়েকটি অঞ্চল হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. তার নিপুণ সাহসিকতা ও অসাধারণ বীরত্বে জয় করেন। বিজিত সেসব অঞ্চলের মানুষজন ইসলাম গ্রহণ করে। মুসলমানগণ তখন যেদিকেই গিয়েছেন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের বিজয় দান করেছেন। কেননা, مسلمانوں کا তিনি বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আজ পৃথিবীর দিকে দিকে মুসলমান লাঞ্ছিত ও অপদস্থ। দেশে দেশে তারা মার খাচ্ছে কাফের মুশরিকদের হাতে। নারী ও শিশুদের আর্তনাদে আজ মুসলিম দেশের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। চতুর্দিকেই আজ मुसलमानों کا অধঃপতন। যে আল্লাহ مسلمانوں کا অতীতে বিজয় দান করেছেন তিনি আজও আছেন। আজও রয়েছে তার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু মুসলমানরা নেই সেই পূর্বের মুসলমান। তাদের ঈমানের শক্তি নিস্তেজ হয়ে গেছে। তাদের অন্তরের আলো নিভে গেছে। তাদের সততা ও চরিত্র হারিয়ে গেছে। হ্যাঁ, আজও বিজয় আসবে مسلمانوں کا। যদি তারা পূর্বের সে ঈমান লাভ করতে পারে। যদি তারা সাহাবায়ে কেরামের মতো উত্তম চরিত্র ধারণ করতে পারে। যদি তাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বিদ্যমান থাকে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَعْدَ اللَّهِ لا يُخْلِفُ اللَّهُ وَعْدَهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ
'আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর আল্লাহ তার প্রতিশ্রুতির বিপরীত করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।'⁹⁷
অতঃপর খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্দেশ দিলেন শাম অভিমুখে অভিযান পরিচালনা করার জন্য। শাম তখন অত্যন্ত শক্তিশালী শহর। দুর্ভেদ্য তাদের দূর্গ। শাম বিজয় করা তাই খুব সহজ কথা নয়। খলিফা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে শামে অভিযানের জন্য উপযুক্ত মনে করলেন। কারণ, মুসলিম বাহিনীর অপরাজেয় সেনাপতি তিনি। সেনাপতি হিসেবে তার দক্ষতা সকলের চেয়ে অগ্রগণ্য। যুদ্ধের ময়দানে তার দারুণ বিচক্ষণতা مسلمانوں کا বিজয়কে ত্বরান্বিত করে। সুতরাং অভেদ্য নগরী শাম বিজয় করার জন্য খালিদই অধিকতর উপযুক্ত।
খলিফার নির্দেশে তিনি হযরত মুসান্না রা.-কে ইরাকের বিজিত অঞ্চলসমূহের গভর্নর নিযুক্ত করে শামের দিকে রওনা হলেন। অল্প সময়ে তিনি পৌঁছে যান শামে। শামে পৌঁছে তিনি মুসলিম বাহিনীর উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন। তাদের তিনি শাহাদতের ওপর উদ্বুদ্ধ করেন। জিহাদের ফজিলত বর্ণনা করে তিনি মুসলিম বাহিনীর মনোবল দ্বিগুণ করার চেষ্টা করেন। তাদের অধিকতর আত্মনিবেদিতরূপে প্রস্তুত করেন। তার জাগরণী ভাষণে মুসলিম বাহিনী নতুন প্রেরণায় জেগে ওঠে। তাদের হৃদয় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের ধমনীতে বয়ে যায় শাহাদতের রক্ত। আল্লাহর রাহে জীবন উৎসর্গের জন্য তারা সর্বাঙ্গীন প্রস্তুতি গ্রহণ করে। مسلمانوں کا সৈন্যসংখ্যা তেমন অধিক ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী মুসলিম বাহিনী যুদ্ধের আগের রাতে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন। দীর্ঘ সময় তারা নামাজ আদায় করেন। কুরআন তিলাওয়াত করেন। কাকুতি-মিনতি করে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। কেননা, مسلمانوں کا সাহায্য তো একমাত্র তার পক্ষ থেকেই আসে। মুসলমান কখনো নিজেদের সৈন্য ও অস্ত্রবলের ওপর ভরসা করে না। তাদের সাহায্য আসে আসমান থেকে। मुसलमानों का বিজয় লেখা হয় আরশে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ
'যখন তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছিলে এবং তোমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি তোমাদের এক হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে সাহায্য করব যারা একজনের পেছনে আরেকজন ক্রমান্বয়ে আসতে থাকবে।'⁹⁸
আজকের শত্রুদের নিকট রয়েছে বড় বড় কামান এবং শক্তিশালী বহু অস্ত্র। তাদের নিকট রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। مسلمانوں کا নিকট এসবের কিছু নেই। কিন্তু مسلمانوں کا রয়েছে আল্লাহর সাহায্য। রয়েছে প্রভুর নিযুক্ত অসংখ্য ফেরেশতা। তারা আল্লাহর নির্দেশে আসমান থেকে জমিনে নেমে আসবে মুমিনদের সাহায্য করতে। শুধু প্রয়োজন مسلمانوں کا ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি করা। আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্য করা। আল্লাহকে ভয় করা। তাহলে কে আছে मुसलमानों کا পরাজিত করার। কে আছে مسلمانوں কা যুদ্ধক্ষেত্রে পরাস্ত করবে? আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা সর্বক্ষেত্রে مسلمانوں কা সান্ত্বনার বাণী শুনিয়েছেন। मुसलमानों کا মানসিক অবস্থাকে সুদৃঢ় রাখার জন্য আল্লাহ তাদের দিয়েছেন অফুরন্ত সুসংবাদ। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتْخِذَ مِنكُمْ شُهَدَاءَ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ وَلِيُمَحِّصَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَافِرِينَ
'তোমরা শত্রুর সামনে দুর্বল কিংবা বিষণ্ণ হয়ো না। প্রকৃত ঈমানদার হলে তোমরাই বিজয় হবে। যদি তোমাদের কোনো আঘাত আসে তাহলে মনে করো অনুরূপ আঘাত তো অন্যদেরও লেগেছে। আর এই দিনগুলো আমি মানুষের মধ্যে অদলবদল করি; যাতে আল্লাহ মুমিনদের যাচাই করতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহিদদের গ্রহণ করতে পারেন। আর আল্লাহ জালেমদের ভালবাসেন না। আর এ কারণে আল্লাহ ঈমানদারদেরকে পাক-সাফ করতে চান এবং কাফেরদেরকে ধবংস করে দিতে চান।' ⁹⁹
আন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرُ اللَّهِ قَرِيبٌ
'তোমরা কি মনে করো যে, জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ তোমাদের পূর্বে যারা চলে গেছে তাদের মতো অবস্থা তোমাদের এখনো আসেনি। তারা অভাব-অনটন ও দুঃখ- কষ্টের কবলে পড়েছিল এবং ভয়ে এমনভাবে কম্পিত হয়েছিল যে, রাসুল ও তার সঙ্গী ঈমানদারগণ বলেছিল,
কখন আল্লাহর সাহায্য আসবে? জেনে রেখো! আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী। '¹⁰⁰
অতঃপর সকাল হলো। রাতভর ইবাদত ও আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে মুসলিম বাহিনী সাহায্য প্রার্থনা করেন। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মুসলিম বাহিনীর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। সকালে উভয় বাহিনী মুখোমুখি হলো। আল্লাহু আকবার! সময় বেশি দূর গড়ায়নি। বিজয় मुसलमानों کا চুম্বন করেছে। কে ভেবেছিল এমন একটি ছোট্ট দল শাম বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে পেরে ওঠবে? কেউ ভাবেনি। শত্রুপক্ষ কল্পনাও করতে পারেনি মদিনার মুসলিম বাহিনী তাদের পরাজিত করবে। কিন্তু আল্লাহ مسلمانوں کا বিজয় দান করলেন। আর প্রকৃতার্থে তিনি তো مسلمانوں کا বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেনই। যুদ্ধ সমাপ্ত হলো। বিজয়ী বেশে মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. শত্রুপক্ষের সেনাপতির তাবুতে নামাজ আদায় করলেন। ইসলামের আরো একটি বিজয় অর্জিত হলো হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এর নেতৃত্ব ও অপরিসীম বীরত্বে। ইরশাদ হয়েছে,
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنصُورُونَ وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ
'আমার প্রেরিত বান্দাদের জন্য আমার কথা আগেই ঠিক হয়ে গেছে। তারা অবশ্যই সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। এবং আমার সৈনিকেরাই বিজয়ী হবে।' ¹⁰¹
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَتَبَ اللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ
আল্লাহ লিখে দিয়েছেন, আমি ও আমার রাসুলগণ অবশ্যই বিজয়ী হবো। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিধর ও পরাক্রমশালী। '¹⁰²

টিকাঃ
৯৭ সুরা রুম: ৬
৯৮ সুরা আনফাল: ৯
৯৯ সুরা আলে ইমরান: ১৩৯-১৪১
১০০ সুরা বাকারা: ২১৪
১০১ সুরা সাফফাত: ১৭১-১৭৩
১০২ সুরা মুজাদালা: ২১

খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. তখন দারুণ বিচক্ষণতার সাথে পরিচালনা করছেন খেলাফতের মসনদ। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও ইসলামকে বিজয় করার লক্ষ্যে খলিফাতুল মুসলিমিন নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করতে লাগলেন। তৎকালীন পৃথিবীর দুই পরাশক্তি হলো পারস্য ও রোম। যারা দুনিয়াকে শাসন করছিল প্রবল প্রতাপে। খলিফা চিন্তা করলেন, পারস্য ও রোম সাম্রাজ্য অন্তর্গত বিভিন্ন শহরে সাহাবায়ে কেরামকে প্রেরণ করবেন। তারা প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেবেন, যদি তারা ইসলামের দাওয়াত কবুল না করে তাহলে ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করতে বলবেন। যদি তাও না করে তাহলে তাদের সাথে مسلمانوں کا ফায়সালা হবে তরবারির। এটিই ইসলামের নীতি। ইসলাম প্রথমেই কাউকে আঘাত করে না। প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হবে। বলা হবে ইসলাম গ্রহণ করতে। যদি তারা ইসলাম গ্রহণ না করে তাহলে বলা হবে مسلمانوں کا বশ্যতা স্বীকার করতে। ইসলামী সাম্রাজ্যে কর ও জিযিয়া প্রদান করতে। যদি কোনোটিই না মেনে নেয় তাহলে তখন তাদের সাথে লড়াই হবে।
খলিফা হযরত আবু বকর রা. ইসলামের ইতিহাসের অকুতভয় সেনানায়ক সাহাবি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে পারস্য অভিমুখে প্রেরণ করেন। সাহাবায়ে কেরাম ও مسلمانوں کا একটি বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ রওনা হলেন পারস্য অভিমুখে। খলিফাতুল মুসলিমিন এখানে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্বাচন করেছেন। কারণ তার সাহসিকতা ও বীরত্ব ছিল প্রশংসনীয়। রণাঙ্গনে শত্রুপক্ষকে তিনি নাস্তানাবুদ করেন। ক্ষতবিক্ষত করেন। শত্রুপক্ষের ব্যুহ ভেদ করে তিনি পৌঁছে যান অভীষ্ট লক্ষ্যে। যুদ্ধের ময়দানে তিনি হন বিজয়ী। তার যুদ্ধ কৌশল প্রখর। ইয়ামামার প্রান্তরে তার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী শত্রুপক্ষকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেছে। হযরত আবু বকর রা. তাই শক্তিশালী পারসিকদের বিরুদ্ধে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কেই নির্বাচিত করেছেন সেনাপতি হিসেবে।
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ তার বাহিনী নিয়ে ইরাকে পৌঁছেন। সেখানে গিয়ে তিনি শাসকদের নিকট ইসলামের দাওয়াতসম্বলিত পত্র প্রেরণ করেন। তাতে লেখা ছিল,
مـن صـلـى صـلاتـنـا، واسـتـقـبـل قـبـلـتـنـا، وأكـل ذبـيـحـتـنـا فـلـه مـا لـنـا، وعـلـيـه مـا عـلـيـنـا، وإلا فـإنـي أتـيـتـكـم بـقـوم يـحـبـون الـمـوت كـمـا تـحـبـون أنـتـم الـحـيـاة، ويـرغـبـون فـي الآخـرة كـمـا تـرغـبـون أنـتـم فـي الـدنـيـا
'যারা নামাজ আদায় করে, আমাদের কেবলাকে কেবলা বলে স্বীকার করে এবং আমাদের জবাইকৃত পশু খায় তারা আমাদের জিম্মায়। তাদের কোনো ক্ষতি করা হবে না। এছাড়া আর যারা রয়েছে তারা শোনে রাখো! আমরা আসছি তোমাদের নিকট। তোমাদের নিকট জীবন যেমন প্রিয় আমাদের নিকট মৃত্যু তেমনই প্রিয়। তোমাদের নিকট দুনিয়া যেমন প্রিয় আমাদের নিকট আখেরাত তেমনই প্রিয়।'
মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর চিঠির সারমর্ম হলো, যারা মুসলমান এবং ইসলাম গ্রহণ করেছে। যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করে নেবে তাদের জীবন ও মাল আমাদের নিকট নিরাপদ। তাদের আমরা কিছুই করব না। আর যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করবে না তাদের সাথে আমাদের সমাধান হবে তরবারির মাধ্যমে। এ চিঠির মাধ্যমে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. পারসিকদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন। এবং দাওয়াত গ্রহণ না করলে তাদের পরিণতি কী হবে সেদিকেও তিনি স্পষ্ট ভাষায় ইঙ্গিত করেছেন।
ইরাকের বেশ কয়েকটি অঞ্চল হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. তার নিপুণ সাহসিকতা ও অসাধারণ বীরত্বে জয় করেন। বিজিত সেসব অঞ্চলের মানুষজন ইসলাম গ্রহণ করে। মুসলমানগণ তখন যেদিকেই গিয়েছেন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের বিজয় দান করেছেন। কেননা, مسلمانوں کا তিনি বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আজ পৃথিবীর দিকে দিকে মুসলমান লাঞ্ছিত ও অপদস্থ। দেশে দেশে তারা মার খাচ্ছে কাফের মুশরিকদের হাতে। নারী ও শিশুদের আর্তনাদে আজ মুসলিম দেশের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। চতুর্দিকেই আজ मुसलमानों کا অধঃপতন। যে আল্লাহ مسلمانوں کا অতীতে বিজয় দান করেছেন তিনি আজও আছেন। আজও রয়েছে তার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু মুসলমানরা নেই সেই পূর্বের মুসলমান। তাদের ঈমানের শক্তি নিস্তেজ হয়ে গেছে। তাদের অন্তরের আলো নিভে গেছে। তাদের সততা ও চরিত্র হারিয়ে গেছে। হ্যাঁ, আজও বিজয় আসবে مسلمانوں کا। যদি তারা পূর্বের সে ঈমান লাভ করতে পারে। যদি তারা সাহাবায়ে কেরামের মতো উত্তম চরিত্র ধারণ করতে পারে। যদি তাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বিদ্যমান থাকে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَعْدَ اللَّهِ لا يُخْلِفُ اللَّهُ وَعْدَهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ
'আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর আল্লাহ তার প্রতিশ্রুতির বিপরীত করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।'⁹⁷
অতঃপর খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্দেশ দিলেন শাম অভিমুখে অভিযান পরিচালনা করার জন্য। শাম তখন অত্যন্ত শক্তিশালী শহর। দুর্ভেদ্য তাদের দূর্গ। শাম বিজয় করা তাই খুব সহজ কথা নয়। খলিফা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে শামে অভিযানের জন্য উপযুক্ত মনে করলেন। কারণ, মুসলিম বাহিনীর অপরাজেয় সেনাপতি তিনি। সেনাপতি হিসেবে তার দক্ষতা সকলের চেয়ে অগ্রগণ্য। যুদ্ধের ময়দানে তার দারুণ বিচক্ষণতা مسلمانوں کا বিজয়কে ত্বরান্বিত করে। সুতরাং অভেদ্য নগরী শাম বিজয় করার জন্য খালিদই অধিকতর উপযুক্ত।
খলিফার নির্দেশে তিনি হযরত মুসান্না রা.-কে ইরাকের বিজিত অঞ্চলসমূহের গভর্নর নিযুক্ত করে শামের দিকে রওনা হলেন। অল্প সময়ে তিনি পৌঁছে যান শামে। শামে পৌঁছে তিনি মুসলিম বাহিনীর উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন। তাদের তিনি শাহাদতের ওপর উদ্বুদ্ধ করেন। জিহাদের ফজিলত বর্ণনা করে তিনি মুসলিম বাহিনীর মনোবল দ্বিগুণ করার চেষ্টা করেন। তাদের অধিকতর আত্মনিবেদিতরূপে প্রস্তুত করেন। তার জাগরণী ভাষণে মুসলিম বাহিনী নতুন প্রেরণায় জেগে ওঠে। তাদের হৃদয় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের ধমনীতে বয়ে যায় শাহাদতের রক্ত। আল্লাহর রাহে জীবন উৎসর্গের জন্য তারা সর্বাঙ্গীন প্রস্তুতি গ্রহণ করে। مسلمانوں کا সৈন্যসংখ্যা তেমন অধিক ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী মুসলিম বাহিনী যুদ্ধের আগের রাতে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন। দীর্ঘ সময় তারা নামাজ আদায় করেন। কুরআন তিলাওয়াত করেন। কাকুতি-মিনতি করে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। কেননা, مسلمانوں کا সাহায্য তো একমাত্র তার পক্ষ থেকেই আসে। মুসলমান কখনো নিজেদের সৈন্য ও অস্ত্রবলের ওপর ভরসা করে না। তাদের সাহায্য আসে আসমান থেকে। मुसलमानों का বিজয় লেখা হয় আরশে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ
'যখন তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছিলে এবং তোমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি তোমাদের এক হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে সাহায্য করব যারা একজনের পেছনে আরেকজন ক্রমান্বয়ে আসতে থাকবে।'⁹⁸
আজকের শত্রুদের নিকট রয়েছে বড় বড় কামান এবং শক্তিশালী বহু অস্ত্র। তাদের নিকট রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। مسلمانوں کا নিকট এসবের কিছু নেই। কিন্তু مسلمانوں کا রয়েছে আল্লাহর সাহায্য। রয়েছে প্রভুর নিযুক্ত অসংখ্য ফেরেশতা। তারা আল্লাহর নির্দেশে আসমান থেকে জমিনে নেমে আসবে মুমিনদের সাহায্য করতে। শুধু প্রয়োজন مسلمانوں کا ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি করা। আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্য করা। আল্লাহকে ভয় করা। তাহলে কে আছে मुसलमानों کا পরাজিত করার। কে আছে مسلمانوں কা যুদ্ধক্ষেত্রে পরাস্ত করবে? আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা সর্বক্ষেত্রে مسلمانوں কা সান্ত্বনার বাণী শুনিয়েছেন। मुसलमानों کا মানসিক অবস্থাকে সুদৃঢ় রাখার জন্য আল্লাহ তাদের দিয়েছেন অফুরন্ত সুসংবাদ। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتْخِذَ مِنكُمْ شُهَدَاءَ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ وَلِيُمَحِّصَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَافِرِينَ
'তোমরা শত্রুর সামনে দুর্বল কিংবা বিষণ্ণ হয়ো না। প্রকৃত ঈমানদার হলে তোমরাই বিজয় হবে। যদি তোমাদের কোনো আঘাত আসে তাহলে মনে করো অনুরূপ আঘাত তো অন্যদেরও লেগেছে। আর এই দিনগুলো আমি মানুষের মধ্যে অদলবদল করি; যাতে আল্লাহ মুমিনদের যাচাই করতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহিদদের গ্রহণ করতে পারেন। আর আল্লাহ জালেমদের ভালবাসেন না। আর এ কারণে আল্লাহ ঈমানদারদেরকে পাক-সাফ করতে চান এবং কাফেরদেরকে ধবংস করে দিতে চান।' ⁹⁹
আন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرُ اللَّهِ قَرِيبٌ
'তোমরা কি মনে করো যে, জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ তোমাদের পূর্বে যারা চলে গেছে তাদের মতো অবস্থা তোমাদের এখনো আসেনি। তারা অভাব-অনটন ও দুঃখ- কষ্টের কবলে পড়েছিল এবং ভয়ে এমনভাবে কম্পিত হয়েছিল যে, রাসুল ও তার সঙ্গী ঈমানদারগণ বলেছিল,
কখন আল্লাহর সাহায্য আসবে? জেনে রেখো! আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী। '¹⁰⁰
অতঃপর সকাল হলো। রাতভর ইবাদত ও আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে মুসলিম বাহিনী সাহায্য প্রার্থনা করেন। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মুসলিম বাহিনীর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। সকালে উভয় বাহিনী মুখোমুখি হলো। আল্লাহু আকবার! সময় বেশি দূর গড়ায়নি। বিজয় मुसलमानों کا চুম্বন করেছে। কে ভেবেছিল এমন একটি ছোট্ট দল শাম বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে পেরে ওঠবে? কেউ ভাবেনি। শত্রুপক্ষ কল্পনাও করতে পারেনি মদিনার মুসলিম বাহিনী তাদের পরাজিত করবে। কিন্তু আল্লাহ مسلمانوں کا বিজয় দান করলেন। আর প্রকৃতার্থে তিনি তো مسلمانوں کا বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেনই। যুদ্ধ সমাপ্ত হলো। বিজয়ী বেশে মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. শত্রুপক্ষের সেনাপতির তাবুতে নামাজ আদায় করলেন। ইসলামের আরো একটি বিজয় অর্জিত হলো হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এর নেতৃত্ব ও অপরিসীম বীরত্বে। ইরশাদ হয়েছে,
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنصُورُونَ وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ
'আমার প্রেরিত বান্দাদের জন্য আমার কথা আগেই ঠিক হয়ে গেছে। তারা অবশ্যই সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। এবং আমার সৈনিকেরাই বিজয়ী হবে।' ¹⁰¹
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَتَبَ اللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ
আল্লাহ লিখে দিয়েছেন, আমি ও আমার রাসুলগণ অবশ্যই বিজয়ী হবো। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিধর ও পরাক্রমশালী। '¹⁰²

টিকাঃ
৯৭ সুরা রুম: ৬
৯৮ সুরা আনফাল: ৯
৯৯ সুরা আলে ইমরান: ১৩৯-১৪১
১০০ সুরা বাকারা: ২১৪
১০১ সুরা সাফফাত: ১৭১-১৭৩
১০২ সুরা মুজাদালা: ২১

খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. তখন দারুণ বিচক্ষণতার সাথে পরিচালনা করছেন খেলাফতের মসনদ। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও ইসলামকে বিজয় করার লক্ষ্যে খলিফাতুল মুসলিমিন নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করতে লাগলেন। তৎকালীন পৃথিবীর দুই পরাশক্তি হলো পারস্য ও রোম। যারা দুনিয়াকে শাসন করছিল প্রবল প্রতাপে। খলিফা চিন্তা করলেন, পারস্য ও রোম সাম্রাজ্য অন্তর্গত বিভিন্ন শহরে সাহাবায়ে কেরামকে প্রেরণ করবেন। তারা প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেবেন, যদি তারা ইসলামের দাওয়াত কবুল না করে তাহলে ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করতে বলবেন। যদি তাও না করে তাহলে তাদের সাথে مسلمانوں کا ফায়সালা হবে তরবারির। এটিই ইসলামের নীতি। ইসলাম প্রথমেই কাউকে আঘাত করে না। প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হবে। বলা হবে ইসলাম গ্রহণ করতে। যদি তারা ইসলাম গ্রহণ না করে তাহলে বলা হবে مسلمانوں کا বশ্যতা স্বীকার করতে। ইসলামী সাম্রাজ্যে কর ও জিযিয়া প্রদান করতে। যদি কোনোটিই না মেনে নেয় তাহলে তখন তাদের সাথে লড়াই হবে।
খলিফা হযরত আবু বকর রা. ইসলামের ইতিহাসের অকুতভয় সেনানায়ক সাহাবি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে পারস্য অভিমুখে প্রেরণ করেন। সাহাবায়ে কেরাম ও مسلمانوں کا একটি বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ রওনা হলেন পারস্য অভিমুখে। খলিফাতুল মুসলিমিন এখানে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্বাচন করেছেন। কারণ তার সাহসিকতা ও বীরত্ব ছিল প্রশংসনীয়। রণাঙ্গনে শত্রুপক্ষকে তিনি নাস্তানাবুদ করেন। ক্ষতবিক্ষত করেন। শত্রুপক্ষের ব্যুহ ভেদ করে তিনি পৌঁছে যান অভীষ্ট লক্ষ্যে। যুদ্ধের ময়দানে তিনি হন বিজয়ী। তার যুদ্ধ কৌশল প্রখর। ইয়ামামার প্রান্তরে তার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী শত্রুপক্ষকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেছে। হযরত আবু বকর রা. তাই শক্তিশালী পারসিকদের বিরুদ্ধে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কেই নির্বাচিত করেছেন সেনাপতি হিসেবে।
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ তার বাহিনী নিয়ে ইরাকে পৌঁছেন। সেখানে গিয়ে তিনি শাসকদের নিকট ইসলামের দাওয়াতসম্বলিত পত্র প্রেরণ করেন। তাতে লেখা ছিল,
مـن صـلـى صـلاتـنـا، واسـتـقـبـل قـبـلـتـنـا، وأكـل ذبـيـحـتـنـا فـلـه مـا لـنـا، وعـلـيـه مـا عـلـيـنـا، وإلا فـإنـي أتـيـتـكـم بـقـوم يـحـبـون الـمـوت كـمـا تـحـبـون أنـتـم الـحـيـاة، ويـرغـبـون فـي الآخـرة كـمـا تـرغـبـون أنـتـم فـي الـدنـيـا
'যারা নামাজ আদায় করে, আমাদের কেবলাকে কেবলা বলে স্বীকার করে এবং আমাদের জবাইকৃত পশু খায় তারা আমাদের জিম্মায়। তাদের কোনো ক্ষতি করা হবে না। এছাড়া আর যারা রয়েছে তারা শোনে রাখো! আমরা আসছি তোমাদের নিকট। তোমাদের নিকট জীবন যেমন প্রিয় আমাদের নিকট মৃত্যু তেমনই প্রিয়। তোমাদের নিকট দুনিয়া যেমন প্রিয় আমাদের নিকট আখেরাত তেমনই প্রিয়।'
মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর চিঠির সারমর্ম হলো, যারা মুসলমান এবং ইসলাম গ্রহণ করেছে। যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করে নেবে তাদের জীবন ও মাল আমাদের নিকট নিরাপদ। তাদের আমরা কিছুই করব না। আর যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করবে না তাদের সাথে আমাদের সমাধান হবে তরবারির মাধ্যমে। এ চিঠির মাধ্যমে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. পারসিকদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন। এবং দাওয়াত গ্রহণ না করলে তাদের পরিণতি কী হবে সেদিকেও তিনি স্পষ্ট ভাষায় ইঙ্গিত করেছেন।
ইরাকের বেশ কয়েকটি অঞ্চল হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. তার নিপুণ সাহসিকতা ও অসাধারণ বীরত্বে জয় করেন। বিজিত সেসব অঞ্চলের মানুষজন ইসলাম গ্রহণ করে। মুসলমানগণ তখন যেদিকেই গিয়েছেন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের বিজয় দান করেছেন। কেননা, مسلمانوں کا তিনি বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আজ পৃথিবীর দিকে দিকে মুসলমান লাঞ্ছিত ও অপদস্থ। দেশে দেশে তারা মার খাচ্ছে কাফের মুশরিকদের হাতে। নারী ও শিশুদের আর্তনাদে আজ মুসলিম দেশের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। চতুর্দিকেই আজ मुसलमानों کا অধঃপতন। যে আল্লাহ مسلمانوں کا অতীতে বিজয় দান করেছেন তিনি আজও আছেন। আজও রয়েছে তার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু মুসলমানরা নেই সেই পূর্বের মুসলমান। তাদের ঈমানের শক্তি নিস্তেজ হয়ে গেছে। তাদের অন্তরের আলো নিভে গেছে। তাদের সততা ও চরিত্র হারিয়ে গেছে। হ্যাঁ, আজও বিজয় আসবে مسلمانوں کا। যদি তারা পূর্বের সে ঈমান লাভ করতে পারে। যদি তারা সাহাবায়ে কেরামের মতো উত্তম চরিত্র ধারণ করতে পারে। যদি তাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বিদ্যমান থাকে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَعْدَ اللَّهِ لا يُخْلِفُ اللَّهُ وَعْدَهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ
'আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর আল্লাহ তার প্রতিশ্রুতির বিপরীত করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।'⁹⁷
অতঃপর খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্দেশ দিলেন শাম অভিমুখে অভিযান পরিচালনা করার জন্য। শাম তখন অত্যন্ত শক্তিশালী শহর। দুর্ভেদ্য তাদের দূর্গ। শাম বিজয় করা তাই খুব সহজ কথা নয়। খলিফা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে শামে অভিযানের জন্য উপযুক্ত মনে করলেন। কারণ, মুসলিম বাহিনীর অপরাজেয় সেনাপতি তিনি। সেনাপতি হিসেবে তার দক্ষতা সকলের চেয়ে অগ্রগণ্য। যুদ্ধের ময়দানে তার দারুণ বিচক্ষণতা مسلمانوں کا বিজয়কে ত্বরান্বিত করে। সুতরাং অভেদ্য নগরী শাম বিজয় করার জন্য খালিদই অধিকতর উপযুক্ত।
খলিফার নির্দেশে তিনি হযরত মুসান্না রা.-কে ইরাকের বিজিত অঞ্চলসমূহের গভর্নর নিযুক্ত করে শামের দিকে রওনা হলেন। অল্প সময়ে তিনি পৌঁছে যান শামে। শামে পৌঁছে তিনি মুসলিম বাহিনীর উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন। তাদের তিনি শাহাদতের ওপর উদ্বুদ্ধ করেন। জিহাদের ফজিলত বর্ণনা করে তিনি মুসলিম বাহিনীর মনোবল দ্বিগুণ করার চেষ্টা করেন। তাদের অধিকতর আত্মনিবেদিতরূপে প্রস্তুত করেন। তার জাগরণী ভাষণে মুসলিম বাহিনী নতুন প্রেরণায় জেগে ওঠে। তাদের হৃদয় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের ধমনীতে বয়ে যায় শাহাদতের রক্ত। আল্লাহর রাহে জীবন উৎসর্গের জন্য তারা সর্বাঙ্গীন প্রস্তুতি গ্রহণ করে। مسلمانوں کا সৈন্যসংখ্যা তেমন অধিক ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী মুসলিম বাহিনী যুদ্ধের আগের রাতে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন। দীর্ঘ সময় তারা নামাজ আদায় করেন। কুরআন তিলাওয়াত করেন। কাকুতি-মিনতি করে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। কেননা, مسلمانوں کا সাহায্য তো একমাত্র তার পক্ষ থেকেই আসে। মুসলমান কখনো নিজেদের সৈন্য ও অস্ত্রবলের ওপর ভরসা করে না। তাদের সাহায্য আসে আসমান থেকে। मुसलमानों का বিজয় লেখা হয় আরশে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ
'যখন তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছিলে এবং তোমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি তোমাদের এক হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে সাহায্য করব যারা একজনের পেছনে আরেকজন ক্রমান্বয়ে আসতে থাকবে।'⁹⁸
আজকের শত্রুদের নিকট রয়েছে বড় বড় কামান এবং শক্তিশালী বহু অস্ত্র। তাদের নিকট রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। مسلمانوں کا নিকট এসবের কিছু নেই। কিন্তু مسلمانوں کا রয়েছে আল্লাহর সাহায্য। রয়েছে প্রভুর নিযুক্ত অসংখ্য ফেরেশতা। তারা আল্লাহর নির্দেশে আসমান থেকে জমিনে নেমে আসবে মুমিনদের সাহায্য করতে। শুধু প্রয়োজন مسلمانوں کا ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি করা। আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্য করা। আল্লাহকে ভয় করা। তাহলে কে আছে मुसलमानों کا পরাজিত করার। কে আছে مسلمانوں কা যুদ্ধক্ষেত্রে পরাস্ত করবে? আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা সর্বক্ষেত্রে مسلمانوں কা সান্ত্বনার বাণী শুনিয়েছেন। मुसलमानों کا মানসিক অবস্থাকে সুদৃঢ় রাখার জন্য আল্লাহ তাদের দিয়েছেন অফুরন্ত সুসংবাদ। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتْخِذَ مِنكُمْ شُهَدَاءَ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ وَلِيُمَحِّصَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَافِرِينَ
'তোমরা শত্রুর সামনে দুর্বল কিংবা বিষণ্ণ হয়ো না। প্রকৃত ঈমানদার হলে তোমরাই বিজয় হবে। যদি তোমাদের কোনো আঘাত আসে তাহলে মনে করো অনুরূপ আঘাত তো অন্যদেরও লেগেছে। আর এই দিনগুলো আমি মানুষের মধ্যে অদলবদল করি; যাতে আল্লাহ মুমিনদের যাচাই করতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহিদদের গ্রহণ করতে পারেন। আর আল্লাহ জালেমদের ভালবাসেন না। আর এ কারণে আল্লাহ ঈমানদারদেরকে পাক-সাফ করতে চান এবং কাফেরদেরকে ধবংস করে দিতে চান।' ⁹⁹
আন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرُ اللَّهِ قَرِيبٌ
'তোমরা কি মনে করো যে, জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ তোমাদের পূর্বে যারা চলে গেছে তাদের মতো অবস্থা তোমাদের এখনো আসেনি। তারা অভাব-অনটন ও দুঃখ- কষ্টের কবলে পড়েছিল এবং ভয়ে এমনভাবে কম্পিত হয়েছিল যে, রাসুল ও তার সঙ্গী ঈমানদারগণ বলেছিল,
কখন আল্লাহর সাহায্য আসবে? জেনে রেখো! আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী। '¹⁰⁰
অতঃপর সকাল হলো। রাতভর ইবাদত ও আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে মুসলিম বাহিনী সাহায্য প্রার্থনা করেন। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মুসলিম বাহিনীর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। সকালে উভয় বাহিনী মুখোমুখি হলো। আল্লাহু আকবার! সময় বেশি দূর গড়ায়নি। বিজয় मुसलमानों کا চুম্বন করেছে। কে ভেবেছিল এমন একটি ছোট্ট দল শাম বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে পেরে ওঠবে? কেউ ভাবেনি। শত্রুপক্ষ কল্পনাও করতে পারেনি মদিনার মুসলিম বাহিনী তাদের পরাজিত করবে। কিন্তু আল্লাহ مسلمانوں کا বিজয় দান করলেন। আর প্রকৃতার্থে তিনি তো مسلمانوں کا বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেনই। যুদ্ধ সমাপ্ত হলো। বিজয়ী বেশে মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. শত্রুপক্ষের সেনাপতির তাবুতে নামাজ আদায় করলেন। ইসলামের আরো একটি বিজয় অর্জিত হলো হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এর নেতৃত্ব ও অপরিসীম বীরত্বে। ইরশাদ হয়েছে,
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنصُورُونَ وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ
'আমার প্রেরিত বান্দাদের জন্য আমার কথা আগেই ঠিক হয়ে গেছে। তারা অবশ্যই সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। এবং আমার সৈনিকেরাই বিজয়ী হবে।' ¹⁰¹
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَتَبَ اللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ
আল্লাহ লিখে দিয়েছেন, আমি ও আমার রাসুলগণ অবশ্যই বিজয়ী হবো। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিধর ও পরাক্রমশালী। '¹⁰²

টিকাঃ
৯৭ সুরা রুম: ৬
৯৮ সুরা আনফাল: ৯
৯৯ সুরা আলে ইমরান: ১৩৯-১৪১
১০০ সুরা বাকারা: ২১৪
১০১ সুরা সাফফাত: ১৭১-১৭৩
১০২ সুরা মুজাদালা: ২১

খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. তখন দারুণ বিচক্ষণতার সাথে পরিচালনা করছেন খেলাফতের মসনদ। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও ইসলামকে বিজয় করার লক্ষ্যে খলিফাতুল মুসলিমিন নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করতে লাগলেন। তৎকালীন পৃথিবীর দুই পরাশক্তি হলো পারস্য ও রোম। যারা দুনিয়াকে শাসন করছিল প্রবল প্রতাপে। খলিফা চিন্তা করলেন, পারস্য ও রোম সাম্রাজ্য অন্তর্গত বিভিন্ন শহরে সাহাবায়ে কেরামকে প্রেরণ করবেন। তারা প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেবেন, যদি তারা ইসলামের দাওয়াত কবুল না করে তাহলে ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করতে বলবেন। যদি তাও না করে তাহলে তাদের সাথে مسلمانوں کا ফায়সালা হবে তরবারির। এটিই ইসলামের নীতি। ইসলাম প্রথমেই কাউকে আঘাত করে না। প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হবে। বলা হবে ইসলাম গ্রহণ করতে। যদি তারা ইসলাম গ্রহণ না করে তাহলে বলা হবে مسلمانوں کا বশ্যতা স্বীকার করতে। ইসলামী সাম্রাজ্যে কর ও জিযিয়া প্রদান করতে। যদি কোনোটিই না মেনে নেয় তাহলে তখন তাদের সাথে লড়াই হবে।
খলিফা হযরত আবু বকর রা. ইসলামের ইতিহাসের অকুতভয় সেনানায়ক সাহাবি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে পারস্য অভিমুখে প্রেরণ করেন। সাহাবায়ে কেরাম ও مسلمانوں کا একটি বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ রওনা হলেন পারস্য অভিমুখে। খলিফাতুল মুসলিমিন এখানে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্বাচন করেছেন। কারণ তার সাহসিকতা ও বীরত্ব ছিল প্রশংসনীয়। রণাঙ্গনে শত্রুপক্ষকে তিনি নাস্তানাবুদ করেন। ক্ষতবিক্ষত করেন। শত্রুপক্ষের ব্যুহ ভেদ করে তিনি পৌঁছে যান অভীষ্ট লক্ষ্যে। যুদ্ধের ময়দানে তিনি হন বিজয়ী। তার যুদ্ধ কৌশল প্রখর। ইয়ামামার প্রান্তরে তার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী শত্রুপক্ষকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেছে। হযরত আবু বকর রা. তাই শক্তিশালী পারসিকদের বিরুদ্ধে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কেই নির্বাচিত করেছেন সেনাপতি হিসেবে।
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ তার বাহিনী নিয়ে ইরাকে পৌঁছেন। সেখানে গিয়ে তিনি শাসকদের নিকট ইসলামের দাওয়াতসম্বলিত পত্র প্রেরণ করেন। তাতে লেখা ছিল,
مـن صـلـى صـلاتـنـا، واسـتـقـبـل قـبـلـتـنـا، وأكـل ذبـيـحـتـنـا فـلـه مـا لـنـا، وعـلـيـه مـا عـلـيـنـا، وإلا فـإنـي أتـيـتـكـم بـقـوم يـحـبـون الـمـوت كـمـا تـحـبـون أنـتـم الـحـيـاة، ويـرغـبـون فـي الآخـرة كـمـا تـرغـبـون أنـتـم فـي الـدنـيـا
'যারা নামাজ আদায় করে, আমাদের কেবলাকে কেবলা বলে স্বীকার করে এবং আমাদের জবাইকৃত পশু খায় তারা আমাদের জিম্মায়। তাদের কোনো ক্ষতি করা হবে না। এছাড়া আর যারা রয়েছে তারা শোনে রাখো! আমরা আসছি তোমাদের নিকট। তোমাদের নিকট জীবন যেমন প্রিয় আমাদের নিকট মৃত্যু তেমনই প্রিয়। তোমাদের নিকট দুনিয়া যেমন প্রিয় আমাদের নিকট আখেরাত তেমনই প্রিয়।'
মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর চিঠির সারমর্ম হলো, যারা মুসলমান এবং ইসলাম গ্রহণ করেছে। যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করে নেবে তাদের জীবন ও মাল আমাদের নিকট নিরাপদ। তাদের আমরা কিছুই করব না। আর যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করবে না তাদের সাথে আমাদের সমাধান হবে তরবারির মাধ্যমে। এ চিঠির মাধ্যমে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. পারসিকদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন। এবং দাওয়াত গ্রহণ না করলে তাদের পরিণতি কী হবে সেদিকেও তিনি স্পষ্ট ভাষায় ইঙ্গিত করেছেন।
ইরাকের বেশ কয়েকটি অঞ্চল হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. তার নিপুণ সাহসিকতা ও অসাধারণ বীরত্বে জয় করেন। বিজিত সেসব অঞ্চলের মানুষজন ইসলাম গ্রহণ করে। মুসলমানগণ তখন যেদিকেই গিয়েছেন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের বিজয় দান করেছেন। কেননা, مسلمانوں کا তিনি বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আজ পৃথিবীর দিকে দিকে মুসলমান লাঞ্ছিত ও অপদস্থ। দেশে দেশে তারা মার খাচ্ছে কাফের মুশরিকদের হাতে। নারী ও শিশুদের আর্তনাদে আজ মুসলিম দেশের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। চতুর্দিকেই আজ मुसलमानों کا অধঃপতন। যে আল্লাহ مسلمانوں کا অতীতে বিজয় দান করেছেন তিনি আজও আছেন। আজও রয়েছে তার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু মুসলমানরা নেই সেই পূর্বের মুসলমান। তাদের ঈমানের শক্তি নিস্তেজ হয়ে গেছে। তাদের অন্তরের আলো নিভে গেছে। তাদের সততা ও চরিত্র হারিয়ে গেছে। হ্যাঁ, আজও বিজয় আসবে مسلمانوں کا। যদি তারা পূর্বের সে ঈমান লাভ করতে পারে। যদি তারা সাহাবায়ে কেরামের মতো উত্তম চরিত্র ধারণ করতে পারে। যদি তাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বিদ্যমান থাকে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَعْدَ اللَّهِ لا يُخْلِفُ اللَّهُ وَعْدَهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ
'আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর আল্লাহ তার প্রতিশ্রুতির বিপরীত করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।'⁹⁷
অতঃপর খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্দেশ দিলেন শাম অভিমুখে অভিযান পরিচালনা করার জন্য। শাম তখন অত্যন্ত শক্তিশালী শহর। দুর্ভেদ্য তাদের দূর্গ। শাম বিজয় করা তাই খুব সহজ কথা নয়। খলিফা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে শামে অভিযানের জন্য উপযুক্ত মনে করলেন। কারণ, মুসলিম বাহিনীর অপরাজেয় সেনাপতি তিনি। সেনাপতি হিসেবে তার দক্ষতা সকলের চেয়ে অগ্রগণ্য। যুদ্ধের ময়দানে তার দারুণ বিচক্ষণতা مسلمانوں کا বিজয়কে ত্বরান্বিত করে। সুতরাং অভেদ্য নগরী শাম বিজয় করার জন্য খালিদই অধিকতর উপযুক্ত।
খলিফার নির্দেশে তিনি হযরত মুসান্না রা.-কে ইরাকের বিজিত অঞ্চলসমূহের গভর্নর নিযুক্ত করে শামের দিকে রওনা হলেন। অল্প সময়ে তিনি পৌঁছে যান শামে। শামে পৌঁছে তিনি মুসলিম বাহিনীর উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন। তাদের তিনি শাহাদতের ওপর উদ্বুদ্ধ করেন। জিহাদের ফজিলত বর্ণনা করে তিনি মুসলিম বাহিনীর মনোবল দ্বিগুণ করার চেষ্টা করেন। তাদের অধিকতর আত্মনিবেদিতরূপে প্রস্তুত করেন। তার জাগরণী ভাষণে মুসলিম বাহিনী নতুন প্রেরণায় জেগে ওঠে। তাদের হৃদয় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের ধমনীতে বয়ে যায় শাহাদতের রক্ত। আল্লাহর রাহে জীবন উৎসর্গের জন্য তারা সর্বাঙ্গীন প্রস্তুতি গ্রহণ করে। مسلمانوں کا সৈন্যসংখ্যা তেমন অধিক ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী মুসলিম বাহিনী যুদ্ধের আগের রাতে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন। দীর্ঘ সময় তারা নামাজ আদায় করেন। কুরআন তিলাওয়াত করেন। কাকুতি-মিনতি করে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। কেননা, مسلمانوں کا সাহায্য তো একমাত্র তার পক্ষ থেকেই আসে। মুসলমান কখনো নিজেদের সৈন্য ও অস্ত্রবলের ওপর ভরসা করে না। তাদের সাহায্য আসে আসমান থেকে। मुसलमानों का বিজয় লেখা হয় আরশে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ
'যখন তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছিলে এবং তোমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি তোমাদের এক হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে সাহায্য করব যারা একজনের পেছনে আরেকজন ক্রমান্বয়ে আসতে থাকবে।'⁹⁸
আজকের শত্রুদের নিকট রয়েছে বড় বড় কামান এবং শক্তিশালী বহু অস্ত্র। তাদের নিকট রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। مسلمانوں کا নিকট এসবের কিছু নেই। কিন্তু مسلمانوں کا রয়েছে আল্লাহর সাহায্য। রয়েছে প্রভুর নিযুক্ত অসংখ্য ফেরেশতা। তারা আল্লাহর নির্দেশে আসমান থেকে জমিনে নেমে আসবে মুমিনদের সাহায্য করতে। শুধু প্রয়োজন مسلمانوں کا ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি করা। আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্য করা। আল্লাহকে ভয় করা। তাহলে কে আছে मुसलमानों کا পরাজিত করার। কে আছে مسلمانوں কা যুদ্ধক্ষেত্রে পরাস্ত করবে? আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা সর্বক্ষেত্রে مسلمانوں কা সান্ত্বনার বাণী শুনিয়েছেন। मुसलमानों کا মানসিক অবস্থাকে সুদৃঢ় রাখার জন্য আল্লাহ তাদের দিয়েছেন অফুরন্ত সুসংবাদ। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتْخِذَ مِنكُمْ شُهَدَاءَ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ وَلِيُمَحِّصَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَافِرِينَ
'তোমরা শত্রুর সামনে দুর্বল কিংবা বিষণ্ণ হয়ো না। প্রকৃত ঈমানদার হলে তোমরাই বিজয় হবে। যদি তোমাদের কোনো আঘাত আসে তাহলে মনে করো অনুরূপ আঘাত তো অন্যদেরও লেগেছে। আর এই দিনগুলো আমি মানুষের মধ্যে অদলবদল করি; যাতে আল্লাহ মুমিনদের যাচাই করতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহিদদের গ্রহণ করতে পারেন। আর আল্লাহ জালেমদের ভালবাসেন না। আর এ কারণে আল্লাহ ঈমানদারদেরকে পাক-সাফ করতে চান এবং কাফেরদেরকে ধবংস করে দিতে চান।' ⁹⁹
আন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرُ اللَّهِ قَرِيبٌ
'তোমরা কি মনে করো যে, জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ তোমাদের পূর্বে যারা চলে গেছে তাদের মতো অবস্থা তোমাদের এখনো আসেনি। তারা অভাব-অনটন ও দুঃখ- কষ্টের কবলে পড়েছিল এবং ভয়ে এমনভাবে কম্পিত হয়েছিল যে, রাসুল ও তার সঙ্গী ঈমানদারগণ বলেছিল,
কখন আল্লাহর সাহায্য আসবে? জেনে রেখো! আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী। '¹⁰⁰
অতঃপর সকাল হলো। রাতভর ইবাদত ও আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে মুসলিম বাহিনী সাহায্য প্রার্থনা করেন। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মুসলিম বাহিনীর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। সকালে উভয় বাহিনী মুখোমুখি হলো। আল্লাহু আকবার! সময় বেশি দূর গড়ায়নি। বিজয় मुसलमानों کا চুম্বন করেছে। কে ভেবেছিল এমন একটি ছোট্ট দল শাম বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে পেরে ওঠবে? কেউ ভাবেনি। শত্রুপক্ষ কল্পনাও করতে পারেনি মদিনার মুসলিম বাহিনী তাদের পরাজিত করবে। কিন্তু আল্লাহ مسلمانوں کا বিজয় দান করলেন। আর প্রকৃতার্থে তিনি তো مسلمانوں کا বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেনই। যুদ্ধ সমাপ্ত হলো। বিজয়ী বেশে মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. শত্রুপক্ষের সেনাপতির তাবুতে নামাজ আদায় করলেন। ইসলামের আরো একটি বিজয় অর্জিত হলো হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এর নেতৃত্ব ও অপরিসীম বীরত্বে। ইরশাদ হয়েছে,
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنصُورُونَ وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ
'আমার প্রেরিত বান্দাদের জন্য আমার কথা আগেই ঠিক হয়ে গেছে। তারা অবশ্যই সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। এবং আমার সৈনিকেরাই বিজয়ী হবে।' ¹⁰¹
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَتَبَ اللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ
আল্লাহ লিখে দিয়েছেন, আমি ও আমার রাসুলগণ অবশ্যই বিজয়ী হবো। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিধর ও পরাক্রমশালী। '¹⁰²

টিকাঃ
৯৭ সুরা রুম: ৬
৯৮ সুরা আনফাল: ৯
৯৯ সুরা আলে ইমরান: ১৩৯-১৪১
১০০ সুরা বাকারা: ২১৪
১০১ সুরা সাফফাত: ১৭১-১৭৩
১০২ সুরা মুজাদালা: ২১

খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. তখন দারুণ বিচক্ষণতার সাথে পরিচালনা করছেন খেলাফতের মসনদ। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও ইসলামকে বিজয় করার লক্ষ্যে খলিফাতুল মুসলিমিন নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করতে লাগলেন। তৎকালীন পৃথিবীর দুই পরাশক্তি হলো পারস্য ও রোম। যারা দুনিয়াকে শাসন করছিল প্রবল প্রতাপে। খলিফা চিন্তা করলেন, পারস্য ও রোম সাম্রাজ্য অন্তর্গত বিভিন্ন শহরে সাহাবায়ে কেরামকে প্রেরণ করবেন। তারা প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেবেন, যদি তারা ইসলামের দাওয়াত কবুল না করে তাহলে ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করতে বলবেন। যদি তাও না করে তাহলে তাদের সাথে مسلمانوں کا ফায়সালা হবে তরবারির। এটিই ইসলামের নীতি। ইসলাম প্রথমেই কাউকে আঘাত করে না। প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হবে। বলা হবে ইসলাম গ্রহণ করতে। যদি তারা ইসলাম গ্রহণ না করে তাহলে বলা হবে مسلمانوں کا বশ্যতা স্বীকার করতে। ইসলামী সাম্রাজ্যে কর ও জিযিয়া প্রদান করতে। যদি কোনোটিই না মেনে নেয় তাহলে তখন তাদের সাথে লড়াই হবে।
খলিফা হযরত আবু বকর রা. ইসলামের ইতিহাসের অকুতভয় সেনানায়ক সাহাবি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে পারস্য অভিমুখে প্রেরণ করেন। সাহাবায়ে কেরাম ও مسلمانوں کا একটি বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ রওনা হলেন পারস্য অভিমুখে। খলিফাতুল মুসলিমিন এখানে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্বাচন করেছেন। কারণ তার সাহসিকতা ও বীরত্ব ছিল প্রশংসনীয়। রণাঙ্গনে শত্রুপক্ষকে তিনি নাস্তানাবুদ করেন। ক্ষতবিক্ষত করেন। শত্রুপক্ষের ব্যুহ ভেদ করে তিনি পৌঁছে যান অভীষ্ট লক্ষ্যে। যুদ্ধের ময়দানে তিনি হন বিজয়ী। তার যুদ্ধ কৌশল প্রখর। ইয়ামামার প্রান্তরে তার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী শত্রুপক্ষকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেছে। হযরত আবু বকর রা. তাই শক্তিশালী পারসিকদের বিরুদ্ধে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কেই নির্বাচিত করেছেন সেনাপতি হিসেবে।
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ তার বাহিনী নিয়ে ইরাকে পৌঁছেন। সেখানে গিয়ে তিনি শাসকদের নিকট ইসলামের দাওয়াতসম্বলিত পত্র প্রেরণ করেন। তাতে লেখা ছিল,
مـن صـلـى صـلاتـنـا، واسـتـقـبـل قـبـلـتـنـا، وأكـل ذبـيـحـتـنـا فـلـه مـا لـنـا، وعـلـيـه مـا عـلـيـنـا، وإلا فـإنـي أتـيـتـكـم بـقـوم يـحـبـون الـمـوت كـمـا تـحـبـون أنـتـم الـحـيـاة، ويـرغـبـون فـي الآخـرة كـمـا تـرغـبـون أنـتـم فـي الـدنـيـا
'যারা নামাজ আদায় করে, আমাদের কেবলাকে কেবলা বলে স্বীকার করে এবং আমাদের জবাইকৃত পশু খায় তারা আমাদের জিম্মায়। তাদের কোনো ক্ষতি করা হবে না। এছাড়া আর যারা রয়েছে তারা শোনে রাখো! আমরা আসছি তোমাদের নিকট। তোমাদের নিকট জীবন যেমন প্রিয় আমাদের নিকট মৃত্যু তেমনই প্রিয়। তোমাদের নিকট দুনিয়া যেমন প্রিয় আমাদের নিকট আখেরাত তেমনই প্রিয়।'
মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর চিঠির সারমর্ম হলো, যারা মুসলমান এবং ইসলাম গ্রহণ করেছে। যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করে নেবে তাদের জীবন ও মাল আমাদের নিকট নিরাপদ। তাদের আমরা কিছুই করব না। আর যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করবে না তাদের সাথে আমাদের সমাধান হবে তরবারির মাধ্যমে। এ চিঠির মাধ্যমে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. পারসিকদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন। এবং দাওয়াত গ্রহণ না করলে তাদের পরিণতি কী হবে সেদিকেও তিনি স্পষ্ট ভাষায় ইঙ্গিত করেছেন।
ইরাকের বেশ কয়েকটি অঞ্চল হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. তার নিপুণ সাহসিকতা ও অসাধারণ বীরত্বে জয় করেন। বিজিত সেসব অঞ্চলের মানুষজন ইসলাম গ্রহণ করে। মুসলমানগণ তখন যেদিকেই গিয়েছেন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের বিজয় দান করেছেন। কেননা, مسلمانوں کا তিনি বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আজ পৃথিবীর দিকে দিকে মুসলমান লাঞ্ছিত ও অপদস্থ। দেশে দেশে তারা মার খাচ্ছে কাফের মুশরিকদের হাতে। নারী ও শিশুদের আর্তনাদে আজ মুসলিম দেশের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। চতুর্দিকেই আজ मुसलमानों کا অধঃপতন। যে আল্লাহ مسلمانوں کا অতীতে বিজয় দান করেছেন তিনি আজও আছেন। আজও রয়েছে তার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু মুসলমানরা নেই সেই পূর্বের মুসলমান। তাদের ঈমানের শক্তি নিস্তেজ হয়ে গেছে। তাদের অন্তরের আলো নিভে গেছে। তাদের সততা ও চরিত্র হারিয়ে গেছে। হ্যাঁ, আজও বিজয় আসবে مسلمانوں کا। যদি তারা পূর্বের সে ঈমান লাভ করতে পারে। যদি তারা সাহাবায়ে কেরামের মতো উত্তম চরিত্র ধারণ করতে পারে। যদি তাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বিদ্যমান থাকে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَعْدَ اللَّهِ لا يُخْلِفُ اللَّهُ وَعْدَهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ
'আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর আল্লাহ তার প্রতিশ্রুতির বিপরীত করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।'⁹⁷
অতঃপর খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্দেশ দিলেন শাম অভিমুখে অভিযান পরিচালনা করার জন্য। শাম তখন অত্যন্ত শক্তিশালী শহর। দুর্ভেদ্য তাদের দূর্গ। শাম বিজয় করা তাই খুব সহজ কথা নয়। খলিফা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে শামে অভিযানের জন্য উপযুক্ত মনে করলেন। কারণ, মুসলিম বাহিনীর অপরাজেয় সেনাপতি তিনি। সেনাপতি হিসেবে তার দক্ষতা সকলের চেয়ে অগ্রগণ্য। যুদ্ধের ময়দানে তার দারুণ বিচক্ষণতা مسلمانوں کا বিজয়কে ত্বরান্বিত করে। সুতরাং অভেদ্য নগরী শাম বিজয় করার জন্য খালিদই অধিকতর উপযুক্ত।
খলিফার নির্দেশে তিনি হযরত মুসান্না রা.-কে ইরাকের বিজিত অঞ্চলসমূহের গভর্নর নিযুক্ত করে শামের দিকে রওনা হলেন। অল্প সময়ে তিনি পৌঁছে যান শামে। শামে পৌঁছে তিনি মুসলিম বাহিনীর উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন। তাদের তিনি শাহাদতের ওপর উদ্বুদ্ধ করেন। জিহাদের ফজিলত বর্ণনা করে তিনি মুসলিম বাহিনীর মনোবল দ্বিগুণ করার চেষ্টা করেন। তাদের অধিকতর আত্মনিবেদিতরূপে প্রস্তুত করেন। তার জাগরণী ভাষণে মুসলিম বাহিনী নতুন প্রেরণায় জেগে ওঠে। তাদের হৃদয় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের ধমনীতে বয়ে যায় শাহাদতের রক্ত। আল্লাহর রাহে জীবন উৎসর্গের জন্য তারা সর্বাঙ্গীন প্রস্তুতি গ্রহণ করে। مسلمانوں کا সৈন্যসংখ্যা তেমন অধিক ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী মুসলিম বাহিনী যুদ্ধের আগের রাতে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন। দীর্ঘ সময় তারা নামাজ আদায় করেন। কুরআন তিলাওয়াত করেন। কাকুতি-মিনতি করে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। কেননা, مسلمانوں کا সাহায্য তো একমাত্র তার পক্ষ থেকেই আসে। মুসলমান কখনো নিজেদের সৈন্য ও অস্ত্রবলের ওপর ভরসা করে না। তাদের সাহায্য আসে আসমান থেকে। मुसलमानों का বিজয় লেখা হয় আরশে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ
'যখন তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছিলে এবং তোমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি তোমাদের এক হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে সাহায্য করব যারা একজনের পেছনে আরেকজন ক্রমান্বয়ে আসতে থাকবে।'⁹⁸
আজকের শত্রুদের নিকট রয়েছে বড় বড় কামান এবং শক্তিশালী বহু অস্ত্র। তাদের নিকট রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। مسلمانوں کا নিকট এসবের কিছু নেই। কিন্তু مسلمانوں کا রয়েছে আল্লাহর সাহায্য। রয়েছে প্রভুর নিযুক্ত অসংখ্য ফেরেশতা। তারা আল্লাহর নির্দেশে আসমান থেকে জমিনে নেমে আসবে মুমিনদের সাহায্য করতে। শুধু প্রয়োজন مسلمانوں کا ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি করা। আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্য করা। আল্লাহকে ভয় করা। তাহলে কে আছে मुसलमानों کا পরাজিত করার। কে আছে مسلمانوں কা যুদ্ধক্ষেত্রে পরাস্ত করবে? আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা সর্বক্ষেত্রে مسلمانوں কা সান্ত্বনার বাণী শুনিয়েছেন। मुसलमानों کا মানসিক অবস্থাকে সুদৃঢ় রাখার জন্য আল্লাহ তাদের দিয়েছেন অফুরন্ত সুসংবাদ। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتْخِذَ مِنكُمْ شُهَدَاءَ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ وَلِيُمَحِّصَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَافِرِينَ
'তোমরা শত্রুর সামনে দুর্বল কিংবা বিষণ্ণ হয়ো না। প্রকৃত ঈমানদার হলে তোমরাই বিজয় হবে। যদি তোমাদের কোনো আঘাত আসে তাহলে মনে করো অনুরূপ আঘাত তো অন্যদেরও লেগেছে। আর এই দিনগুলো আমি মানুষের মধ্যে অদলবদল করি; যাতে আল্লাহ মুমিনদের যাচাই করতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহিদদের গ্রহণ করতে পারেন। আর আল্লাহ জালেমদের ভালবাসেন না। আর এ কারণে আল্লাহ ঈমানদারদেরকে পাক-সাফ করতে চান এবং কাফেরদেরকে ধবংস করে দিতে চান।' ⁹⁹
আন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرُ اللَّهِ قَرِيبٌ
'তোমরা কি মনে করো যে, জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ তোমাদের পূর্বে যারা চলে গেছে তাদের মতো অবস্থা তোমাদের এখনো আসেনি। তারা অভাব-অনটন ও দুঃখ- কষ্টের কবলে পড়েছিল এবং ভয়ে এমনভাবে কম্পিত হয়েছিল যে, রাসুল ও তার সঙ্গী ঈমানদারগণ বলেছিল,
কখন আল্লাহর সাহায্য আসবে? জেনে রেখো! আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী। '¹⁰⁰
অতঃপর সকাল হলো। রাতভর ইবাদত ও আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে মুসলিম বাহিনী সাহায্য প্রার্থনা করেন। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মুসলিম বাহিনীর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। সকালে উভয় বাহিনী মুখোমুখি হলো। আল্লাহু আকবার! সময় বেশি দূর গড়ায়নি। বিজয় मुसलमानों کا চুম্বন করেছে। কে ভেবেছিল এমন একটি ছোট্ট দল শাম বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে পেরে ওঠবে? কেউ ভাবেনি। শত্রুপক্ষ কল্পনাও করতে পারেনি মদিনার মুসলিম বাহিনী তাদের পরাজিত করবে। কিন্তু আল্লাহ مسلمانوں کا বিজয় দান করলেন। আর প্রকৃতার্থে তিনি তো مسلمانوں کا বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেনই। যুদ্ধ সমাপ্ত হলো। বিজয়ী বেশে মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. শত্রুপক্ষের সেনাপতির তাবুতে নামাজ আদায় করলেন। ইসলামের আরো একটি বিজয় অর্জিত হলো হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এর নেতৃত্ব ও অপরিসীম বীরত্বে। ইরশাদ হয়েছে,
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنصُورُونَ وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ
'আমার প্রেরিত বান্দাদের জন্য আমার কথা আগেই ঠিক হয়ে গেছে। তারা অবশ্যই সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। এবং আমার সৈনিকেরাই বিজয়ী হবে।' ¹⁰¹
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَتَبَ اللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ
আল্লাহ লিখে দিয়েছেন, আমি ও আমার রাসুলগণ অবশ্যই বিজয়ী হবো। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিধর ও পরাক্রমশালী। '¹⁰²

টিকাঃ
৯৭ সুরা রুম: ৬
৯৮ সুরা আনফাল: ৯
৯৯ সুরা আলে ইমরান: ১৩৯-১৪১
১০০ সুরা বাকারা: ২১৪
১০১ সুরা সাফফাত: ১৭১-১৭৩
১০২ সুরা মুজাদালা: ২১

খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. তখন দারুণ বিচক্ষণতার সাথে পরিচালনা করছেন খেলাফতের মসনদ। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও ইসলামকে বিজয় করার লক্ষ্যে খলিফাতুল মুসলিমিন নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করতে লাগলেন। তৎকালীন পৃথিবীর দুই পরাশক্তি হলো পারস্য ও রোম। যারা দুনিয়াকে শাসন করছিল প্রবল প্রতাপে। খলিফা চিন্তা করলেন, পারস্য ও রোম সাম্রাজ্য অন্তর্গত বিভিন্ন শহরে সাহাবায়ে কেরামকে প্রেরণ করবেন। তারা প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেবেন, যদি তারা ইসলামের দাওয়াত কবুল না করে তাহলে ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করতে বলবেন। যদি তাও না করে তাহলে তাদের সাথে مسلمانوں کا ফায়সালা হবে তরবারির। এটিই ইসলামের নীতি। ইসলাম প্রথমেই কাউকে আঘাত করে না। প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হবে। বলা হবে ইসলাম গ্রহণ করতে। যদি তারা ইসলাম গ্রহণ না করে তাহলে বলা হবে مسلمانوں کا বশ্যতা স্বীকার করতে। ইসলামী সাম্রাজ্যে কর ও জিযিয়া প্রদান করতে। যদি কোনোটিই না মেনে নেয় তাহলে তখন তাদের সাথে লড়াই হবে।
খলিফা হযরত আবু বকর রা. ইসলামের ইতিহাসের অকুতভয় সেনানায়ক সাহাবি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে পারস্য অভিমুখে প্রেরণ করেন। সাহাবায়ে কেরাম ও مسلمانوں کا একটি বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ রওনা হলেন পারস্য অভিমুখে। খলিফাতুল মুসলিমিন এখানে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্বাচন করেছেন। কারণ তার সাহসিকতা ও বীরত্ব ছিল প্রশংসনীয়। রণাঙ্গনে শত্রুপক্ষকে তিনি নাস্তানাবুদ করেন। ক্ষতবিক্ষত করেন। শত্রুপক্ষের ব্যুহ ভেদ করে তিনি পৌঁছে যান অভীষ্ট লক্ষ্যে। যুদ্ধের ময়দানে তিনি হন বিজয়ী। তার যুদ্ধ কৌশল প্রখর। ইয়ামামার প্রান্তরে তার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী শত্রুপক্ষকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেছে। হযরত আবু বকর রা. তাই শক্তিশালী পারসিকদের বিরুদ্ধে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কেই নির্বাচিত করেছেন সেনাপতি হিসেবে।
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ তার বাহিনী নিয়ে ইরাকে পৌঁছেন। সেখানে গিয়ে তিনি শাসকদের নিকট ইসলামের দাওয়াতসম্বলিত পত্র প্রেরণ করেন। তাতে লেখা ছিল,
مـن صـلـى صـلاتـنـا، واسـتـقـبـل قـبـلـتـنـا، وأكـل ذبـيـحـتـنـا فـلـه مـا لـنـا، وعـلـيـه مـا عـلـيـنـا، وإلا فـإنـي أتـيـتـكـم بـقـوم يـحـبـون الـمـوت كـمـا تـحـبـون أنـتـم الـحـيـاة، ويـرغـبـون فـي الآخـرة كـمـا تـرغـبـون أنـتـم فـي الـدنـيـا
'যারা নামাজ আদায় করে, আমাদের কেবলাকে কেবলা বলে স্বীকার করে এবং আমাদের জবাইকৃত পশু খায় তারা আমাদের জিম্মায়। তাদের কোনো ক্ষতি করা হবে না। এছাড়া আর যারা রয়েছে তারা শোনে রাখো! আমরা আসছি তোমাদের নিকট। তোমাদের নিকট জীবন যেমন প্রিয় আমাদের নিকট মৃত্যু তেমনই প্রিয়। তোমাদের নিকট দুনিয়া যেমন প্রিয় আমাদের নিকট আখেরাত তেমনই প্রিয়।'
মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর চিঠির সারমর্ম হলো, যারা মুসলমান এবং ইসলাম গ্রহণ করেছে। যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করে নেবে তাদের জীবন ও মাল আমাদের নিকট নিরাপদ। তাদের আমরা কিছুই করব না। আর যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করবে না তাদের সাথে আমাদের সমাধান হবে তরবারির মাধ্যমে। এ চিঠির মাধ্যমে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. পারসিকদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন। এবং দাওয়াত গ্রহণ না করলে তাদের পরিণতি কী হবে সেদিকেও তিনি স্পষ্ট ভাষায় ইঙ্গিত করেছেন।
ইরাকের বেশ কয়েকটি অঞ্চল হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. তার নিপুণ সাহসিকতা ও অসাধারণ বীরত্বে জয় করেন। বিজিত সেসব অঞ্চলের মানুষজন ইসলাম গ্রহণ করে। মুসলমানগণ তখন যেদিকেই গিয়েছেন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের বিজয় দান করেছেন। কেননা, مسلمانوں کا তিনি বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আজ পৃথিবীর দিকে দিকে মুসলমান লাঞ্ছিত ও অপদস্থ। দেশে দেশে তারা মার খাচ্ছে কাফের মুশরিকদের হাতে। নারী ও শিশুদের আর্তনাদে আজ মুসলিম দেশের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। চতুর্দিকেই আজ मुसलमानों کا অধঃপতন। যে আল্লাহ مسلمانوں کا অতীতে বিজয় দান করেছেন তিনি আজও আছেন। আজও রয়েছে তার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু মুসলমানরা নেই সেই পূর্বের মুসলমান। তাদের ঈমানের শক্তি নিস্তেজ হয়ে গেছে। তাদের অন্তরের আলো নিভে গেছে। তাদের সততা ও চরিত্র হারিয়ে গেছে। হ্যাঁ, আজও বিজয় আসবে مسلمانوں کا। যদি তারা পূর্বের সে ঈমান লাভ করতে পারে। যদি তারা সাহাবায়ে কেরামের মতো উত্তম চরিত্র ধারণ করতে পারে। যদি তাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বিদ্যমান থাকে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَعْدَ اللَّهِ لا يُخْلِفُ اللَّهُ وَعْدَهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ
'আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর আল্লাহ তার প্রতিশ্রুতির বিপরীত করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।'⁹⁷
অতঃপর খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্দেশ দিলেন শাম অভিমুখে অভিযান পরিচালনা করার জন্য। শাম তখন অত্যন্ত শক্তিশালী শহর। দুর্ভেদ্য তাদের দূর্গ। শাম বিজয় করা তাই খুব সহজ কথা নয়। খলিফা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে শামে অভিযানের জন্য উপযুক্ত মনে করলেন। কারণ, মুসলিম বাহিনীর অপরাজেয় সেনাপতি তিনি। সেনাপতি হিসেবে তার দক্ষতা সকলের চেয়ে অগ্রগণ্য। যুদ্ধের ময়দানে তার দারুণ বিচক্ষণতা مسلمانوں کا বিজয়কে ত্বরান্বিত করে। সুতরাং অভেদ্য নগরী শাম বিজয় করার জন্য খালিদই অধিকতর উপযুক্ত।
খলিফার নির্দেশে তিনি হযরত মুসান্না রা.-কে ইরাকের বিজিত অঞ্চলসমূহের গভর্নর নিযুক্ত করে শামের দিকে রওনা হলেন। অল্প সময়ে তিনি পৌঁছে যান শামে। শামে পৌঁছে তিনি মুসলিম বাহিনীর উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন। তাদের তিনি শাহাদতের ওপর উদ্বুদ্ধ করেন। জিহাদের ফজিলত বর্ণনা করে তিনি মুসলিম বাহিনীর মনোবল দ্বিগুণ করার চেষ্টা করেন। তাদের অধিকতর আত্মনিবেদিতরূপে প্রস্তুত করেন। তার জাগরণী ভাষণে মুসলিম বাহিনী নতুন প্রেরণায় জেগে ওঠে। তাদের হৃদয় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের ধমনীতে বয়ে যায় শাহাদতের রক্ত। আল্লাহর রাহে জীবন উৎসর্গের জন্য তারা সর্বাঙ্গীন প্রস্তুতি গ্রহণ করে। مسلمانوں کا সৈন্যসংখ্যা তেমন অধিক ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী মুসলিম বাহিনী যুদ্ধের আগের রাতে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন। দীর্ঘ সময় তারা নামাজ আদায় করেন। কুরআন তিলাওয়াত করেন। কাকুতি-মিনতি করে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। কেননা, مسلمانوں کا সাহায্য তো একমাত্র তার পক্ষ থেকেই আসে। মুসলমান কখনো নিজেদের সৈন্য ও অস্ত্রবলের ওপর ভরসা করে না। তাদের সাহায্য আসে আসমান থেকে। मुसलमानों का বিজয় লেখা হয় আরশে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ
'যখন তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছিলে এবং তোমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি তোমাদের এক হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে সাহায্য করব যারা একজনের পেছনে আরেকজন ক্রমান্বয়ে আসতে থাকবে।'⁹⁸
আজকের শত্রুদের নিকট রয়েছে বড় বড় কামান এবং শক্তিশালী বহু অস্ত্র। তাদের নিকট রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। مسلمانوں کا নিকট এসবের কিছু নেই। কিন্তু مسلمانوں کا রয়েছে আল্লাহর সাহায্য। রয়েছে প্রভুর নিযুক্ত অসংখ্য ফেরেশতা। তারা আল্লাহর নির্দেশে আসমান থেকে জমিনে নেমে আসবে মুমিনদের সাহায্য করতে। শুধু প্রয়োজন مسلمانوں کا ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি করা। আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্য করা। আল্লাহকে ভয় করা। তাহলে কে আছে मुसलमानों کا পরাজিত করার। কে আছে مسلمانوں কা যুদ্ধক্ষেত্রে পরাস্ত করবে? আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা সর্বক্ষেত্রে مسلمانوں কা সান্ত্বনার বাণী শুনিয়েছেন। मुसलमानों کا মানসিক অবস্থাকে সুদৃঢ় রাখার জন্য আল্লাহ তাদের দিয়েছেন অফুরন্ত সুসংবাদ। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتْخِذَ مِنكُمْ شُهَدَاءَ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ وَلِيُمَحِّصَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَافِرِينَ
'তোমরা শত্রুর সামনে দুর্বল কিংবা বিষণ্ণ হয়ো না। প্রকৃত ঈমানদার হলে তোমরাই বিজয় হবে। যদি তোমাদের কোনো আঘাত আসে তাহলে মনে করো অনুরূপ আঘাত তো অন্যদেরও লেগেছে। আর এই দিনগুলো আমি মানুষের মধ্যে অদলবদল করি; যাতে আল্লাহ মুমিনদের যাচাই করতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহিদদের গ্রহণ করতে পারেন। আর আল্লাহ জালেমদের ভালবাসেন না। আর এ কারণে আল্লাহ ঈমানদারদেরকে পাক-সাফ করতে চান এবং কাফেরদেরকে ধবংস করে দিতে চান।' ⁹⁹
আন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرُ اللَّهِ قَرِيبٌ
'তোমরা কি মনে করো যে, জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ তোমাদের পূর্বে যারা চলে গেছে তাদের মতো অবস্থা তোমাদের এখনো আসেনি। তারা অভাব-অনটন ও দুঃখ- কষ্টের কবলে পড়েছিল এবং ভয়ে এমনভাবে কম্পিত হয়েছিল যে, রাসুল ও তার সঙ্গী ঈমানদারগণ বলেছিল,
কখন আল্লাহর সাহায্য আসবে? জেনে রেখো! আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী। '¹⁰⁰
অতঃপর সকাল হলো। রাতভর ইবাদত ও আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে মুসলিম বাহিনী সাহায্য প্রার্থনা করেন। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মুসলিম বাহিনীর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। সকালে উভয় বাহিনী মুখোমুখি হলো। আল্লাহু আকবার! সময় বেশি দূর গড়ায়নি। বিজয় मुसलमानों کا চুম্বন করেছে। কে ভেবেছিল এমন একটি ছোট্ট দল শাম বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে পেরে ওঠবে? কেউ ভাবেনি। শত্রুপক্ষ কল্পনাও করতে পারেনি মদিনার মুসলিম বাহিনী তাদের পরাজিত করবে। কিন্তু আল্লাহ مسلمانوں کا বিজয় দান করলেন। আর প্রকৃতার্থে তিনি তো مسلمانوں کا বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেনই। যুদ্ধ সমাপ্ত হলো। বিজয়ী বেশে মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. শত্রুপক্ষের সেনাপতির তাবুতে নামাজ আদায় করলেন। ইসলামের আরো একটি বিজয় অর্জিত হলো হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এর নেতৃত্ব ও অপরিসীম বীরত্বে। ইরশাদ হয়েছে,
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنصُورُونَ وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ
'আমার প্রেরিত বান্দাদের জন্য আমার কথা আগেই ঠিক হয়ে গেছে। তারা অবশ্যই সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। এবং আমার সৈনিকেরাই বিজয়ী হবে।' ¹⁰¹
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَتَبَ اللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ
আল্লাহ লিখে দিয়েছেন, আমি ও আমার রাসুলগণ অবশ্যই বিজয়ী হবো। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিধর ও পরাক্রমশালী। '¹⁰²

টিকাঃ
৯৭ সুরা রুম: ৬
৯৮ সুরা আনফাল: ৯
৯৯ সুরা আলে ইমরান: ১৩৯-১৪১
১০০ সুরা বাকারা: ২১৪
১০১ সুরা সাফফাত: ১৭১-১৭৩
১০২ সুরা মুজাদালা: ২১

খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. তখন দারুণ বিচক্ষণতার সাথে পরিচালনা করছেন খেলাফতের মসনদ। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও ইসলামকে বিজয় করার লক্ষ্যে খলিফাতুল মুসলিমিন নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করতে লাগলেন। তৎকালীন পৃথিবীর দুই পরাশক্তি হলো পারস্য ও রোম। যারা দুনিয়াকে শাসন করছিল প্রবল প্রতাপে। খলিফা চিন্তা করলেন, পারস্য ও রোম সাম্রাজ্য অন্তর্গত বিভিন্ন শহরে সাহাবায়ে কেরামকে প্রেরণ করবেন। তারা প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেবেন, যদি তারা ইসলামের দাওয়াত কবুল না করে তাহলে ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করতে বলবেন। যদি তাও না করে তাহলে তাদের সাথে مسلمانوں کا ফায়সালা হবে তরবারির। এটিই ইসলামের নীতি। ইসলাম প্রথমেই কাউকে আঘাত করে না। প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হবে। বলা হবে ইসলাম গ্রহণ করতে। যদি তারা ইসলাম গ্রহণ না করে তাহলে বলা হবে مسلمانوں کا বশ্যতা স্বীকার করতে। ইসলামী সাম্রাজ্যে কর ও জিযিয়া প্রদান করতে। যদি কোনোটিই না মেনে নেয় তাহলে তখন তাদের সাথে লড়াই হবে।
খলিফা হযরত আবু বকর রা. ইসলামের ইতিহাসের অকুতভয় সেনানায়ক সাহাবি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে পারস্য অভিমুখে প্রেরণ করেন। সাহাবায়ে কেরাম ও مسلمانوں کا একটি বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ রওনা হলেন পারস্য অভিমুখে। খলিফাতুল মুসলিমিন এখানে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্বাচন করেছেন। কারণ তার সাহসিকতা ও বীরত্ব ছিল প্রশংসনীয়। রণাঙ্গনে শত্রুপক্ষকে তিনি নাস্তানাবুদ করেন। ক্ষতবিক্ষত করেন। শত্রুপক্ষের ব্যুহ ভেদ করে তিনি পৌঁছে যান অভীষ্ট লক্ষ্যে। যুদ্ধের ময়দানে তিনি হন বিজয়ী। তার যুদ্ধ কৌশল প্রখর। ইয়ামামার প্রান্তরে তার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী শত্রুপক্ষকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেছে। হযরত আবু বকর রা. তাই শক্তিশালী পারসিকদের বিরুদ্ধে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কেই নির্বাচিত করেছেন সেনাপতি হিসেবে।
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ তার বাহিনী নিয়ে ইরাকে পৌঁছেন। সেখানে গিয়ে তিনি শাসকদের নিকট ইসলামের দাওয়াতসম্বলিত পত্র প্রেরণ করেন। তাতে লেখা ছিল,
مـن صـلـى صـلاتـنـا، واسـتـقـبـل قـبـلـتـنـا، وأكـل ذبـيـحـتـنـا فـلـه مـا لـنـا، وعـلـيـه مـا عـلـيـنـا، وإلا فـإنـي أتـيـتـكـم بـقـوم يـحـبـون الـمـوت كـمـا تـحـبـون أنـتـم الـحـيـاة، ويـرغـبـون فـي الآخـرة كـمـا تـرغـبـون أنـتـم فـي الـدنـيـا
'যারা নামাজ আদায় করে, আমাদের কেবলাকে কেবলা বলে স্বীকার করে এবং আমাদের জবাইকৃত পশু খায় তারা আমাদের জিম্মায়। তাদের কোনো ক্ষতি করা হবে না। এছাড়া আর যারা রয়েছে তারা শোনে রাখো! আমরা আসছি তোমাদের নিকট। তোমাদের নিকট জীবন যেমন প্রিয় আমাদের নিকট মৃত্যু তেমনই প্রিয়। তোমাদের নিকট দুনিয়া যেমন প্রিয় আমাদের নিকট আখেরাত তেমনই প্রিয়।'
মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর চিঠির সারমর্ম হলো, যারা মুসলমান এবং ইসলাম গ্রহণ করেছে। যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করে নেবে তাদের জীবন ও মাল আমাদের নিকট নিরাপদ। তাদের আমরা কিছুই করব না। আর যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করবে না তাদের সাথে আমাদের সমাধান হবে তরবারির মাধ্যমে। এ চিঠির মাধ্যমে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. পারসিকদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন। এবং দাওয়াত গ্রহণ না করলে তাদের পরিণতি কী হবে সেদিকেও তিনি স্পষ্ট ভাষায় ইঙ্গিত করেছেন।
ইরাকের বেশ কয়েকটি অঞ্চল হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. তার নিপুণ সাহসিকতা ও অসাধারণ বীরত্বে জয় করেন। বিজিত সেসব অঞ্চলের মানুষজন ইসলাম গ্রহণ করে। মুসলমানগণ তখন যেদিকেই গিয়েছেন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের বিজয় দান করেছেন। কেননা, مسلمانوں کا তিনি বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আজ পৃথিবীর দিকে দিকে মুসলমান লাঞ্ছিত ও অপদস্থ। দেশে দেশে তারা মার খাচ্ছে কাফের মুশরিকদের হাতে। নারী ও শিশুদের আর্তনাদে আজ মুসলিম দেশের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। চতুর্দিকেই আজ मुसलमानों کا অধঃপতন। যে আল্লাহ مسلمانوں کا অতীতে বিজয় দান করেছেন তিনি আজও আছেন। আজও রয়েছে তার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু মুসলমানরা নেই সেই পূর্বের মুসলমান। তাদের ঈমানের শক্তি নিস্তেজ হয়ে গেছে। তাদের অন্তরের আলো নিভে গেছে। তাদের সততা ও চরিত্র হারিয়ে গেছে। হ্যাঁ, আজও বিজয় আসবে مسلمانوں کا। যদি তারা পূর্বের সে ঈমান লাভ করতে পারে। যদি তারা সাহাবায়ে কেরামের মতো উত্তম চরিত্র ধারণ করতে পারে। যদি তাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বিদ্যমান থাকে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَعْدَ اللَّهِ لا يُخْلِفُ اللَّهُ وَعْدَهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ
'আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর আল্লাহ তার প্রতিশ্রুতির বিপরীত করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।'⁹⁷
অতঃপর খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্দেশ দিলেন শাম অভিমুখে অভিযান পরিচালনা করার জন্য। শাম তখন অত্যন্ত শক্তিশালী শহর। দুর্ভেদ্য তাদের দূর্গ। শাম বিজয় করা তাই খুব সহজ কথা নয়। খলিফা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে শামে অভিযানের জন্য উপযুক্ত মনে করলেন। কারণ, মুসলিম বাহিনীর অপরাজেয় সেনাপতি তিনি। সেনাপতি হিসেবে তার দক্ষতা সকলের চেয়ে অগ্রগণ্য। যুদ্ধের ময়দানে তার দারুণ বিচক্ষণতা مسلمانوں کا বিজয়কে ত্বরান্বিত করে। সুতরাং অভেদ্য নগরী শাম বিজয় করার জন্য খালিদই অধিকতর উপযুক্ত।
খলিফার নির্দেশে তিনি হযরত মুসান্না রা.-কে ইরাকের বিজিত অঞ্চলসমূহের গভর্নর নিযুক্ত করে শামের দিকে রওনা হলেন। অল্প সময়ে তিনি পৌঁছে যান শামে। শামে পৌঁছে তিনি মুসলিম বাহিনীর উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন। তাদের তিনি শাহাদতের ওপর উদ্বুদ্ধ করেন। জিহাদের ফজিলত বর্ণনা করে তিনি মুসলিম বাহিনীর মনোবল দ্বিগুণ করার চেষ্টা করেন। তাদের অধিকতর আত্মনিবেদিতরূপে প্রস্তুত করেন। তার জাগরণী ভাষণে মুসলিম বাহিনী নতুন প্রেরণায় জেগে ওঠে। তাদের হৃদয় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের ধমনীতে বয়ে যায় শাহাদতের রক্ত। আল্লাহর রাহে জীবন উৎসর্গের জন্য তারা সর্বাঙ্গীন প্রস্তুতি গ্রহণ করে। مسلمانوں کا সৈন্যসংখ্যা তেমন অধিক ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী মুসলিম বাহিনী যুদ্ধের আগের রাতে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন। দীর্ঘ সময় তারা নামাজ আদায় করেন। কুরআন তিলাওয়াত করেন। কাকুতি-মিনতি করে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। কেননা, مسلمانوں کا সাহায্য তো একমাত্র তার পক্ষ থেকেই আসে। মুসলমান কখনো নিজেদের সৈন্য ও অস্ত্রবলের ওপর ভরসা করে না। তাদের সাহায্য আসে আসমান থেকে। मुसलमानों का বিজয় লেখা হয় আরশে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ
'যখন তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছিলে এবং তোমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি তোমাদের এক হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে সাহায্য করব যারা একজনের পেছনে আরেকজন ক্রমান্বয়ে আসতে থাকবে।'⁹⁸
আজকের শত্রুদের নিকট রয়েছে বড় বড় কামান এবং শক্তিশালী বহু অস্ত্র। তাদের নিকট রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। مسلمانوں کا নিকট এসবের কিছু নেই। কিন্তু مسلمانوں کا রয়েছে আল্লাহর সাহায্য। রয়েছে প্রভুর নিযুক্ত অসংখ্য ফেরেশতা। তারা আল্লাহর নির্দেশে আসমান থেকে জমিনে নেমে আসবে মুমিনদের সাহায্য করতে। শুধু প্রয়োজন مسلمانوں کا ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি করা। আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্য করা। আল্লাহকে ভয় করা। তাহলে কে আছে मुसलमानों کا পরাজিত করার। কে আছে مسلمانوں কা যুদ্ধক্ষেত্রে পরাস্ত করবে? আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা সর্বক্ষেত্রে مسلمانوں কা সান্ত্বনার বাণী শুনিয়েছেন। मुसलमानों کا মানসিক অবস্থাকে সুদৃঢ় রাখার জন্য আল্লাহ তাদের দিয়েছেন অফুরন্ত সুসংবাদ। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتْخِذَ مِنكُمْ شُهَدَاءَ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ وَلِيُمَحِّصَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَافِرِينَ
'তোমরা শত্রুর সামনে দুর্বল কিংবা বিষণ্ণ হয়ো না। প্রকৃত ঈমানদার হলে তোমরাই বিজয় হবে। যদি তোমাদের কোনো আঘাত আসে তাহলে মনে করো অনুরূপ আঘাত তো অন্যদেরও লেগেছে। আর এই দিনগুলো আমি মানুষের মধ্যে অদলবদল করি; যাতে আল্লাহ মুমিনদের যাচাই করতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহিদদের গ্রহণ করতে পারেন। আর আল্লাহ জালেমদের ভালবাসেন না। আর এ কারণে আল্লাহ ঈমানদারদেরকে পাক-সাফ করতে চান এবং কাফেরদেরকে ধবংস করে দিতে চান।' ⁹⁹
আন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرُ اللَّهِ قَرِيبٌ
'তোমরা কি মনে করো যে, জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ তোমাদের পূর্বে যারা চলে গেছে তাদের মতো অবস্থা তোমাদের এখনো আসেনি। তারা অভাব-অনটন ও দুঃখ- কষ্টের কবলে পড়েছিল এবং ভয়ে এমনভাবে কম্পিত হয়েছিল যে, রাসুল ও তার সঙ্গী ঈমানদারগণ বলেছিল,
কখন আল্লাহর সাহায্য আসবে? জেনে রেখো! আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী। '¹⁰⁰
অতঃপর সকাল হলো। রাতভর ইবাদত ও আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে মুসলিম বাহিনী সাহায্য প্রার্থনা করেন। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মুসলিম বাহিনীর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। সকালে উভয় বাহিনী মুখোমুখি হলো। আল্লাহু আকবার! সময় বেশি দূর গড়ায়নি। বিজয় मुसलमानों کا চুম্বন করেছে। কে ভেবেছিল এমন একটি ছোট্ট দল শাম বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে পেরে ওঠবে? কেউ ভাবেনি। শত্রুপক্ষ কল্পনাও করতে পারেনি মদিনার মুসলিম বাহিনী তাদের পরাজিত করবে। কিন্তু আল্লাহ مسلمانوں کا বিজয় দান করলেন। আর প্রকৃতার্থে তিনি তো مسلمانوں کا বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেনই। যুদ্ধ সমাপ্ত হলো। বিজয়ী বেশে মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. শত্রুপক্ষের সেনাপতির তাবুতে নামাজ আদায় করলেন। ইসলামের আরো একটি বিজয় অর্জিত হলো হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এর নেতৃত্ব ও অপরিসীম বীরত্বে। ইরশাদ হয়েছে,
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنصُورُونَ وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ
'আমার প্রেরিত বান্দাদের জন্য আমার কথা আগেই ঠিক হয়ে গেছে। তারা অবশ্যই সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। এবং আমার সৈনিকেরাই বিজয়ী হবে।' ¹⁰¹
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَتَبَ اللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ
আল্লাহ লিখে দিয়েছেন, আমি ও আমার রাসুলগণ অবশ্যই বিজয়ী হবো। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিধর ও পরাক্রমশালী। '¹⁰²

টিকাঃ
৯৭ সুরা রুম: ৬
৯৮ সুরা আনফাল: ৯
৯৯ সুরা আলে ইমরান: ১৩৯-১৪১
১০০ সুরা বাকারা: ২১৪
১০১ সুরা সাফফাত: ১৭১-১৭৩
১০২ সুরা মুজাদালা: ২১

খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. তখন দারুণ বিচক্ষণতার সাথে পরিচালনা করছেন খেলাফতের মসনদ। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও ইসলামকে বিজয় করার লক্ষ্যে খলিফাতুল মুসলিমিন নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করতে লাগলেন। তৎকালীন পৃথিবীর দুই পরাশক্তি হলো পারস্য ও রোম। যারা দুনিয়াকে শাসন করছিল প্রবল প্রতাপে। খলিফা চিন্তা করলেন, পারস্য ও রোম সাম্রাজ্য অন্তর্গত বিভিন্ন শহরে সাহাবায়ে কেরামকে প্রেরণ করবেন। তারা প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেবেন, যদি তারা ইসলামের দাওয়াত কবুল না করে তাহলে ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করতে বলবেন। যদি তাও না করে তাহলে তাদের সাথে مسلمانوں کا ফায়সালা হবে তরবারির। এটিই ইসলামের নীতি। ইসলাম প্রথমেই কাউকে আঘাত করে না। প্রথমে তাদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হবে। বলা হবে ইসলাম গ্রহণ করতে। যদি তারা ইসলাম গ্রহণ না করে তাহলে বলা হবে مسلمانوں کا বশ্যতা স্বীকার করতে। ইসলামী সাম্রাজ্যে কর ও জিযিয়া প্রদান করতে। যদি কোনোটিই না মেনে নেয় তাহলে তখন তাদের সাথে লড়াই হবে।
খলিফা হযরত আবু বকর রা. ইসলামের ইতিহাসের অকুতভয় সেনানায়ক সাহাবি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে পারস্য অভিমুখে প্রেরণ করেন। সাহাবায়ে কেরাম ও مسلمانوں کا একটি বাহিনী নিয়ে হযরত খালিদ রওনা হলেন পারস্য অভিমুখে। খলিফাতুল মুসলিমিন এখানে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্বাচন করেছেন। কারণ তার সাহসিকতা ও বীরত্ব ছিল প্রশংসনীয়। রণাঙ্গনে শত্রুপক্ষকে তিনি নাস্তানাবুদ করেন। ক্ষতবিক্ষত করেন। শত্রুপক্ষের ব্যুহ ভেদ করে তিনি পৌঁছে যান অভীষ্ট লক্ষ্যে। যুদ্ধের ময়দানে তিনি হন বিজয়ী। তার যুদ্ধ কৌশল প্রখর। ইয়ামামার প্রান্তরে তার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী শত্রুপক্ষকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেছে। হযরত আবু বকর রা. তাই শক্তিশালী পারসিকদের বিরুদ্ধে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কেই নির্বাচিত করেছেন সেনাপতি হিসেবে।
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ তার বাহিনী নিয়ে ইরাকে পৌঁছেন। সেখানে গিয়ে তিনি শাসকদের নিকট ইসলামের দাওয়াতসম্বলিত পত্র প্রেরণ করেন। তাতে লেখা ছিল,
مـن صـلـى صـلاتـنـا، واسـتـقـبـل قـبـلـتـنـا، وأكـل ذبـيـحـتـنـا فـلـه مـا لـنـا، وعـلـيـه مـا عـلـيـنـا، وإلا فـإنـي أتـيـتـكـم بـقـوم يـحـبـون الـمـوت كـمـا تـحـبـون أنـتـم الـحـيـاة، ويـرغـبـون فـي الآخـرة كـمـا تـرغـبـون أنـتـم فـي الـدنـيـا
'যারা নামাজ আদায় করে, আমাদের কেবলাকে কেবলা বলে স্বীকার করে এবং আমাদের জবাইকৃত পশু খায় তারা আমাদের জিম্মায়। তাদের কোনো ক্ষতি করা হবে না। এছাড়া আর যারা রয়েছে তারা শোনে রাখো! আমরা আসছি তোমাদের নিকট। তোমাদের নিকট জীবন যেমন প্রিয় আমাদের নিকট মৃত্যু তেমনই প্রিয়। তোমাদের নিকট দুনিয়া যেমন প্রিয় আমাদের নিকট আখেরাত তেমনই প্রিয়।'
মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর চিঠির সারমর্ম হলো, যারা মুসলমান এবং ইসলাম গ্রহণ করেছে। যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করে নেবে তাদের জীবন ও মাল আমাদের নিকট নিরাপদ। তাদের আমরা কিছুই করব না। আর যারা ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করবে না তাদের সাথে আমাদের সমাধান হবে তরবারির মাধ্যমে। এ চিঠির মাধ্যমে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. পারসিকদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন। এবং দাওয়াত গ্রহণ না করলে তাদের পরিণতি কী হবে সেদিকেও তিনি স্পষ্ট ভাষায় ইঙ্গিত করেছেন।
ইরাকের বেশ কয়েকটি অঞ্চল হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. তার নিপুণ সাহসিকতা ও অসাধারণ বীরত্বে জয় করেন। বিজিত সেসব অঞ্চলের মানুষজন ইসলাম গ্রহণ করে। মুসলমানগণ তখন যেদিকেই গিয়েছেন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের বিজয় দান করেছেন। কেননা, مسلمانوں کا তিনি বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আজ পৃথিবীর দিকে দিকে মুসলমান লাঞ্ছিত ও অপদস্থ। দেশে দেশে তারা মার খাচ্ছে কাফের মুশরিকদের হাতে। নারী ও শিশুদের আর্তনাদে আজ মুসলিম দেশের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। চতুর্দিকেই আজ मुसलमानों کا অধঃপতন। যে আল্লাহ مسلمانوں کا অতীতে বিজয় দান করেছেন তিনি আজও আছেন। আজও রয়েছে তার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু মুসলমানরা নেই সেই পূর্বের মুসলমান। তাদের ঈমানের শক্তি নিস্তেজ হয়ে গেছে। তাদের অন্তরের আলো নিভে গেছে। তাদের সততা ও চরিত্র হারিয়ে গেছে। হ্যাঁ, আজও বিজয় আসবে مسلمانوں کا। যদি তারা পূর্বের সে ঈমান লাভ করতে পারে। যদি তারা সাহাবায়ে কেরামের মতো উত্তম চরিত্র ধারণ করতে পারে। যদি তাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বিদ্যমান থাকে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَعْدَ اللَّهِ لا يُخْلِفُ اللَّهُ وَعْدَهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ
'আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর আল্লাহ তার প্রতিশ্রুতির বিপরীত করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।'⁹⁷
অতঃপর খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত আবু বকর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে নির্দেশ দিলেন শাম অভিমুখে অভিযান পরিচালনা করার জন্য। শাম তখন অত্যন্ত শক্তিশালী শহর। দুর্ভেদ্য তাদের দূর্গ। শাম বিজয় করা তাই খুব সহজ কথা নয়। খলিফা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদকে শামে অভিযানের জন্য উপযুক্ত মনে করলেন। কারণ, মুসলিম বাহিনীর অপরাজেয় সেনাপতি তিনি। সেনাপতি হিসেবে তার দক্ষতা সকলের চেয়ে অগ্রগণ্য। যুদ্ধের ময়দানে তার দারুণ বিচক্ষণতা مسلمانوں کا বিজয়কে ত্বরান্বিত করে। সুতরাং অভেদ্য নগরী শাম বিজয় করার জন্য খালিদই অধিকতর উপযুক্ত।
খলিফার নির্দেশে তিনি হযরত মুসান্না রা.-কে ইরাকের বিজিত অঞ্চলসমূহের গভর্নর নিযুক্ত করে শামের দিকে রওনা হলেন। অল্প সময়ে তিনি পৌঁছে যান শামে। শামে পৌঁছে তিনি মুসলিম বাহিনীর উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন। তাদের তিনি শাহাদতের ওপর উদ্বুদ্ধ করেন। জিহাদের ফজিলত বর্ণনা করে তিনি মুসলিম বাহিনীর মনোবল দ্বিগুণ করার চেষ্টা করেন। তাদের অধিকতর আত্মনিবেদিতরূপে প্রস্তুত করেন। তার জাগরণী ভাষণে মুসলিম বাহিনী নতুন প্রেরণায় জেগে ওঠে। তাদের হৃদয় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের ধমনীতে বয়ে যায় শাহাদতের রক্ত। আল্লাহর রাহে জীবন উৎসর্গের জন্য তারা সর্বাঙ্গীন প্রস্তুতি গ্রহণ করে। مسلمانوں کا সৈন্যসংখ্যা তেমন অধিক ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী মুসলিম বাহিনী যুদ্ধের আগের রাতে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন। দীর্ঘ সময় তারা নামাজ আদায় করেন। কুরআন তিলাওয়াত করেন। কাকুতি-মিনতি করে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। কেননা, مسلمانوں کا সাহায্য তো একমাত্র তার পক্ষ থেকেই আসে। মুসলমান কখনো নিজেদের সৈন্য ও অস্ত্রবলের ওপর ভরসা করে না। তাদের সাহায্য আসে আসমান থেকে। मुसलमानों का বিজয় লেখা হয় আরশে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ
'যখন তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছিলে এবং তোমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি তোমাদের এক হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে সাহায্য করব যারা একজনের পেছনে আরেকজন ক্রমান্বয়ে আসতে থাকবে।'⁹⁸
আজকের শত্রুদের নিকট রয়েছে বড় বড় কামান এবং শক্তিশালী বহু অস্ত্র। তাদের নিকট রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। مسلمانوں کا নিকট এসবের কিছু নেই। কিন্তু مسلمانوں کا রয়েছে আল্লাহর সাহায্য। রয়েছে প্রভুর নিযুক্ত অসংখ্য ফেরেশতা। তারা আল্লাহর নির্দেশে আসমান থেকে জমিনে নেমে আসবে মুমিনদের সাহায্য করতে। শুধু প্রয়োজন مسلمانوں کا ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি করা। আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্য করা। আল্লাহকে ভয় করা। তাহলে কে আছে मुसलमानों کا পরাজিত করার। কে আছে مسلمانوں কা যুদ্ধক্ষেত্রে পরাস্ত করবে? আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা সর্বক্ষেত্রে مسلمانوں কা সান্ত্বনার বাণী শুনিয়েছেন। मुसलमानों کا মানসিক অবস্থাকে সুদৃঢ় রাখার জন্য আল্লাহ তাদের দিয়েছেন অফুরন্ত সুসংবাদ। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتْخِذَ مِنكُمْ شُهَدَاءَ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ وَلِيُمَحِّصَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَافِرِينَ
'তোমরা শত্রুর সামনে দুর্বল কিংবা বিষণ্ণ হয়ো না। প্রকৃত ঈমানদার হলে তোমরাই বিজয় হবে। যদি তোমাদের কোনো আঘাত আসে তাহলে মনে করো অনুরূপ আঘাত তো অন্যদেরও লেগেছে। আর এই দিনগুলো আমি মানুষের মধ্যে অদলবদল করি; যাতে আল্লাহ মুমিনদের যাচাই করতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহিদদের গ্রহণ করতে পারেন। আর আল্লাহ জালেমদের ভালবাসেন না। আর এ কারণে আল্লাহ ঈমানদারদেরকে পাক-সাফ করতে চান এবং কাফেরদেরকে ধবংস করে দিতে চান।' ⁹⁹
আন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرُ اللَّهِ قَرِيبٌ
'তোমরা কি মনে করো যে, জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ তোমাদের পূর্বে যারা চলে গেছে তাদের মতো অবস্থা তোমাদের এখনো আসেনি। তারা অভাব-অনটন ও দুঃখ- কষ্টের কবলে পড়েছিল এবং ভয়ে এমনভাবে কম্পিত হয়েছিল যে, রাসুল ও তার সঙ্গী ঈমানদারগণ বলেছিল,
কখন আল্লাহর সাহায্য আসবে? জেনে রেখো! আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী। '¹⁰⁰
অতঃপর সকাল হলো। রাতভর ইবাদত ও আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে মুসলিম বাহিনী সাহায্য প্রার্থনা করেন। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মুসলিম বাহিনীর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। সকালে উভয় বাহিনী মুখোমুখি হলো। আল্লাহু আকবার! সময় বেশি দূর গড়ায়নি। বিজয় मुसलमानों کا চুম্বন করেছে। কে ভেবেছিল এমন একটি ছোট্ট দল শাম বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে পেরে ওঠবে? কেউ ভাবেনি। শত্রুপক্ষ কল্পনাও করতে পারেনি মদিনার মুসলিম বাহিনী তাদের পরাজিত করবে। কিন্তু আল্লাহ مسلمانوں کا বিজয় দান করলেন। আর প্রকৃতার্থে তিনি তো مسلمانوں کا বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেনই। যুদ্ধ সমাপ্ত হলো। বিজয়ী বেশে মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. শত্রুপক্ষের সেনাপতির তাবুতে নামাজ আদায় করলেন। ইসলামের আরো একটি বিজয় অর্জিত হলো হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এর নেতৃত্ব ও অপরিসীম বীরত্বে। ইরশাদ হয়েছে,
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنصُورُونَ وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ
'আমার প্রেরিত বান্দাদের জন্য আমার কথা আগেই ঠিক হয়ে গেছে। তারা অবশ্যই সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। এবং আমার সৈনিকেরাই বিজয়ী হবে।' ¹⁰¹
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَتَبَ اللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ
আল্লাহ লিখে দিয়েছেন, আমি ও আমার রাসুলগণ অবশ্যই বিজয়ী হবো। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিধর ও পরাক্রমশালী। '¹⁰²

টিকাঃ
৯৭ সুরা রুম: ৬
৯৮ সুরা আনফাল: ৯
৯৯ সুরা আলে ইমরান: ১৩৯-১৪১
১০০ সুরা বাকারা: ২১৪
১০১ সুরা সাফফাত: ১৭১-১৭৩
১০২ সুরা মুজাদালা: ২১

📘 হে যুবক! ফিরে এসো রবের দিকে > 📄 সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির কারণ

📄 সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির কারণ


হযরত আবু বকর রা.-এর ইন্তেকালের পর খলিফাতুল মুসলিমিন নির্বাচিত হলেন হযরত উমর রা.। খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। তার স্থলে সেনাপতি নিযুক্ত করেন হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.-কে। হযরত উমর রা. খেলাফতের মসনদে বসে কেন অপরাজেয় সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলেন? অথচ তিনি প্রতিটি যুদ্ধে অসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে मुसलमानों کا একের-পর-এক বিজয় উপহার দিয়েছেন। কে আছে এমন যে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর তরবারিকে ভেঙে দেবে? আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে সাইফুল্লাহ (আল্লাহর তরবারি) উপাধি দিয়েছেন।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ হযরত উমর রা. নিজেই বর্ণনা করেছেন। আল্লাহু আকবার! কী ছিল সে কথা, যা হযরত উমর রা. বলেছেন?
مَا عَزَلْتُ خَالِداً عَنْ سُخْطَةِ وَلَا عَنْ خِيَانَةٍ، وَلَكِنِّي رَأَيْتُ النَّاسَ قَدْ فُتِنُوا بِـ خَالِدٍ، فَأَرَدْتُ أَنْ يَعْلَمَ النَّاسُ أَنَّ النَّصْرَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الصَّانِعِ وَلَيْسَ مِنْ عِنْدِ خَالِدٍ
'আমি ক্রোধ কিংবা খেয়ানতের বশবর্তী হয়ে খালিদকে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিইনি। কিন্তু আমি দেখেছি, লোকেরা খালিদের ব্যাপারে ফিতনায় পতিত হচ্ছে। আমি চেয়েছি লোকদের এ কথা জানাতে যে, مسلمانوں کا বিজয় আসে একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, খালিদের পক্ষ থেকে নয়।'
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন এমন এক বীর যে, লোকেরা মনে করতে লাগল, যুদ্ধে مسلمانوں کا বিজয় অর্জিত হয় খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর শক্তি ও নিপুণ বুদ্ধিতে। লোকেদের মনে এ কথা বদ্ধমূল হয়ে গেল, হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদই مسلمانوں کا বিজয়ের কারণ। অথচ مسلمانوں کا বিজয় কোনো শক্তি আর সৈন্যবলে নয়, مسلمانوں کا বিজয় আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাদের এ ধারণার মূলোৎপাটন করার লক্ষ্যে হযরত উমর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
হে মুসলিম যুব ও তরুণ প্রজন্ম! হে ইসলামের প্রাণশক্তি তরুণ প্রজন্ম! তোমরা হবে খালিদের অনুসারী। হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. হবেন তোমাদের নেতা। তোমরা পদাঙ্ক অনুসরণ করবে তাদের যারা উম্মাহর বিজয়ের পথ রচনা করে গেছেন। তোমাদের আইকন হবে তারা যাঁদের রক্তে সিঞ্চিত হয়েছে ইসলাম নামক বৃক্ষ। মুসলিম যুবকদের আইকন কোনো ফাসেক ফাজের নায়ক ও প্লেয়াররা নয়, মুসলিম তরুণদের আইকন হবেন সাহাবায়ে কেরাম। মুসলিম তরুণ প্রজন্ম অনুসরণ করবে খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ও তার সঙ্গীদের। হে তরুণ! হে যুবক! তোমাদের হতে হবে উম্মাহর উমর, খালিদ, আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.দের মত। তোমাদের হতে হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। ইসলামের বিজয় পথ তৈরি করতে হবে তোমাদের। এ জাতির কান্ডারি তোমরাই। আল্লাহর জমিনের আল্লাহর কালিমা বুলন্দি করার জন্য তোমাদের এগিয়ে আসতে হবে সময়ের খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে।
আজ দিকে দিকে তাকিয়ে দেখো মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে। মুসলিম নারী-শিশুদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পৃথিবীর আকাশ। উত্তাল সমুদ্রের তরঙ্গে ভাসছে মুসলমানের লাশ। আজ জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে मुसलमानों کا। পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে मुसलमानों کا রক্তে ভেসে যাচ্ছে মানচিত্র। কুফরি শক্তির হাত থেকে তাদের রক্ষা করার ঈমানি দায়িত্বে তোমাকেই এগিয়ে আসতে হবে। আল্লাহর কসম! আজ মুসলমানরা তাকিয়ে আছে তোমাদের পানে। তোমাদের ডাকছে আহাজারি করে। তোমাদের এগিয়ে আসার জন্য তারা প্রার্থনা করছে আল্লাহর দরবারে। হে উম্মাহর তরুণ প্রজন্ম! হে উম্মাহর তরুণ শক্তি! হে উম্মাহর সৈনিক! তোমরা এগিয়ে আসো জমানার খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে। জুলুম ও নিপীড়ন থেকে তাদের মুক্ত করো। পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা করো আল্লাহর দ্বীন। যে দ্বীন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমানতস্বরূপ রেখে গেছেন তোমাদের নিকট।
প্রার্থনা করি, আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা যেন আমাদের হৃদয়কে জীবন্ত করে দেন। এবং আমাদের সৎপথে পরিচালিত করেন। ভ্রষ্টতা ও গোমরাহি থেকে হেফাজত করেন। মুসলিম উম্মাহর তরুণ প্রজন্মের হৃদয়কে জাগ্রত করেন। তাদের শক্তি, সাহসকে ইসলামের বিজয়ের জন্য কবুল করে নেন। আমিন।

হযরত আবু বকর রা.-এর ইন্তেকালের পর খলিফাতুল মুসলিমিন নির্বাচিত হলেন হযরত উমর রা.। খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। তার স্থলে সেনাপতি নিযুক্ত করেন হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.-কে। হযরত উমর রা. খেলাফতের মসনদে বসে কেন অপরাজেয় সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলেন? অথচ তিনি প্রতিটি যুদ্ধে অসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে मुसलमानों کا একের-পর-এক বিজয় উপহার দিয়েছেন। কে আছে এমন যে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর তরবারিকে ভেঙে দেবে? আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে সাইফুল্লাহ (আল্লাহর তরবারি) উপাধি দিয়েছেন।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ হযরত উমর রা. নিজেই বর্ণনা করেছেন। আল্লাহু আকবার! কী ছিল সে কথা, যা হযরত উমর রা. বলেছেন?
مَا عَزَلْتُ خَالِداً عَنْ سُخْطَةِ وَلَا عَنْ خِيَانَةٍ، وَلَكِنِّي رَأَيْتُ النَّاسَ قَدْ فُتِنُوا بِـ خَالِدٍ، فَأَرَدْتُ أَنْ يَعْلَمَ النَّاسُ أَنَّ النَّصْرَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الصَّانِعِ وَلَيْسَ مِنْ عِنْدِ خَالِدٍ
'আমি ক্রোধ কিংবা খেয়ানতের বশবর্তী হয়ে খালিদকে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিইনি। কিন্তু আমি দেখেছি, লোকেরা খালিদের ব্যাপারে ফিতনায় পতিত হচ্ছে। আমি চেয়েছি লোকদের এ কথা জানাতে যে, مسلمانوں کا বিজয় আসে একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, খালিদের পক্ষ থেকে নয়।'
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন এমন এক বীর যে, লোকেরা মনে করতে লাগল, যুদ্ধে مسلمانوں کا বিজয় অর্জিত হয় খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর শক্তি ও নিপুণ বুদ্ধিতে। লোকেদের মনে এ কথা বদ্ধমূল হয়ে গেল, হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদই مسلمانوں کا বিজয়ের কারণ। অথচ مسلمانوں کا বিজয় কোনো শক্তি আর সৈন্যবলে নয়, مسلمانوں کا বিজয় আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাদের এ ধারণার মূলোৎপাটন করার লক্ষ্যে হযরত উমর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
হে মুসলিম যুব ও তরুণ প্রজন্ম! হে ইসলামের প্রাণশক্তি তরুণ প্রজন্ম! তোমরা হবে খালিদের অনুসারী। হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. হবেন তোমাদের নেতা। তোমরা পদাঙ্ক অনুসরণ করবে তাদের যারা উম্মাহর বিজয়ের পথ রচনা করে গেছেন। তোমাদের আইকন হবে তারা যাঁদের রক্তে সিঞ্চিত হয়েছে ইসলাম নামক বৃক্ষ। মুসলিম যুবকদের আইকন কোনো ফাসেক ফাজের নায়ক ও প্লেয়াররা নয়, মুসলিম তরুণদের আইকন হবেন সাহাবায়ে কেরাম। মুসলিম তরুণ প্রজন্ম অনুসরণ করবে খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ও তার সঙ্গীদের। হে তরুণ! হে যুবক! তোমাদের হতে হবে উম্মাহর উমর, খালিদ, আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.দের মত। তোমাদের হতে হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। ইসলামের বিজয় পথ তৈরি করতে হবে তোমাদের। এ জাতির কান্ডারি তোমরাই। আল্লাহর জমিনের আল্লাহর কালিমা বুলন্দি করার জন্য তোমাদের এগিয়ে আসতে হবে সময়ের খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে।
আজ দিকে দিকে তাকিয়ে দেখো মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে। মুসলিম নারী-শিশুদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পৃথিবীর আকাশ। উত্তাল সমুদ্রের তরঙ্গে ভাসছে মুসলমানের লাশ। আজ জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে मुसलमानों کا। পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে मुसलमानों کا রক্তে ভেসে যাচ্ছে মানচিত্র। কুফরি শক্তির হাত থেকে তাদের রক্ষা করার ঈমানি দায়িত্বে তোমাকেই এগিয়ে আসতে হবে। আল্লাহর কসম! আজ মুসলমানরা তাকিয়ে আছে তোমাদের পানে। তোমাদের ডাকছে আহাজারি করে। তোমাদের এগিয়ে আসার জন্য তারা প্রার্থনা করছে আল্লাহর দরবারে। হে উম্মাহর তরুণ প্রজন্ম! হে উম্মাহর তরুণ শক্তি! হে উম্মাহর সৈনিক! তোমরা এগিয়ে আসো জমানার খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে। জুলুম ও নিপীড়ন থেকে তাদের মুক্ত করো। পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা করো আল্লাহর দ্বীন। যে দ্বীন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমানতস্বরূপ রেখে গেছেন তোমাদের নিকট।
প্রার্থনা করি, আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা যেন আমাদের হৃদয়কে জীবন্ত করে দেন। এবং আমাদের সৎপথে পরিচালিত করেন। ভ্রষ্টতা ও গোমরাহি থেকে হেফাজত করেন। মুসলিম উম্মাহর তরুণ প্রজন্মের হৃদয়কে জাগ্রত করেন। তাদের শক্তি, সাহসকে ইসলামের বিজয়ের জন্য কবুল করে নেন। আমিন।

হযরত আবু বকর রা.-এর ইন্তেকালের পর খলিফাতুল মুসলিমিন নির্বাচিত হলেন হযরত উমর রা.। খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। তার স্থলে সেনাপতি নিযুক্ত করেন হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.-কে। হযরত উমর রা. খেলাফতের মসনদে বসে কেন অপরাজেয় সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলেন? অথচ তিনি প্রতিটি যুদ্ধে অসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে मुसलमानों کا একের-পর-এক বিজয় উপহার দিয়েছেন। কে আছে এমন যে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর তরবারিকে ভেঙে দেবে? আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে সাইফুল্লাহ (আল্লাহর তরবারি) উপাধি দিয়েছেন।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ হযরত উমর রা. নিজেই বর্ণনা করেছেন। আল্লাহু আকবার! কী ছিল সে কথা, যা হযরত উমর রা. বলেছেন?
مَا عَزَلْتُ خَالِداً عَنْ سُخْطَةِ وَلَا عَنْ خِيَانَةٍ، وَلَكِنِّي رَأَيْتُ النَّاسَ قَدْ فُتِنُوا بِـ خَالِدٍ، فَأَرَدْتُ أَنْ يَعْلَمَ النَّاسُ أَنَّ النَّصْرَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الصَّانِعِ وَلَيْسَ مِنْ عِنْدِ خَالِدٍ
'আমি ক্রোধ কিংবা খেয়ানতের বশবর্তী হয়ে খালিদকে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিইনি। কিন্তু আমি দেখেছি, লোকেরা খালিদের ব্যাপারে ফিতনায় পতিত হচ্ছে। আমি চেয়েছি লোকদের এ কথা জানাতে যে, مسلمانوں کا বিজয় আসে একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, খালিদের পক্ষ থেকে নয়।'
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন এমন এক বীর যে, লোকেরা মনে করতে লাগল, যুদ্ধে مسلمانوں کا বিজয় অর্জিত হয় খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর শক্তি ও নিপুণ বুদ্ধিতে। লোকেদের মনে এ কথা বদ্ধমূল হয়ে গেল, হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদই مسلمانوں کا বিজয়ের কারণ। অথচ مسلمانوں کا বিজয় কোনো শক্তি আর সৈন্যবলে নয়, مسلمانوں کا বিজয় আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাদের এ ধারণার মূলোৎপাটন করার লক্ষ্যে হযরত উমর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
হে মুসলিম যুব ও তরুণ প্রজন্ম! হে ইসলামের প্রাণশক্তি তরুণ প্রজন্ম! তোমরা হবে খালিদের অনুসারী। হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. হবেন তোমাদের নেতা। তোমরা পদাঙ্ক অনুসরণ করবে তাদের যারা উম্মাহর বিজয়ের পথ রচনা করে গেছেন। তোমাদের আইকন হবে তারা যাঁদের রক্তে সিঞ্চিত হয়েছে ইসলাম নামক বৃক্ষ। মুসলিম যুবকদের আইকন কোনো ফাসেক ফাজের নায়ক ও প্লেয়াররা নয়, মুসলিম তরুণদের আইকন হবেন সাহাবায়ে কেরাম। মুসলিম তরুণ প্রজন্ম অনুসরণ করবে খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ও তার সঙ্গীদের। হে তরুণ! হে যুবক! তোমাদের হতে হবে উম্মাহর উমর, খালিদ, আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.দের মত। তোমাদের হতে হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। ইসলামের বিজয় পথ তৈরি করতে হবে তোমাদের। এ জাতির কান্ডারি তোমরাই। আল্লাহর জমিনের আল্লাহর কালিমা বুলন্দি করার জন্য তোমাদের এগিয়ে আসতে হবে সময়ের খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে।
আজ দিকে দিকে তাকিয়ে দেখো মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে। মুসলিম নারী-শিশুদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পৃথিবীর আকাশ। উত্তাল সমুদ্রের তরঙ্গে ভাসছে মুসলমানের লাশ। আজ জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে मुसलमानों کا। পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে मुसलमानों کا রক্তে ভেসে যাচ্ছে মানচিত্র। কুফরি শক্তির হাত থেকে তাদের রক্ষা করার ঈমানি দায়িত্বে তোমাকেই এগিয়ে আসতে হবে। আল্লাহর কসম! আজ মুসলমানরা তাকিয়ে আছে তোমাদের পানে। তোমাদের ডাকছে আহাজারি করে। তোমাদের এগিয়ে আসার জন্য তারা প্রার্থনা করছে আল্লাহর দরবারে। হে উম্মাহর তরুণ প্রজন্ম! হে উম্মাহর তরুণ শক্তি! হে উম্মাহর সৈনিক! তোমরা এগিয়ে আসো জমানার খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে। জুলুম ও নিপীড়ন থেকে তাদের মুক্ত করো। পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা করো আল্লাহর দ্বীন। যে দ্বীন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমানতস্বরূপ রেখে গেছেন তোমাদের নিকট।
প্রার্থনা করি, আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা যেন আমাদের হৃদয়কে জীবন্ত করে দেন। এবং আমাদের সৎপথে পরিচালিত করেন। ভ্রষ্টতা ও গোমরাহি থেকে হেফাজত করেন। মুসলিম উম্মাহর তরুণ প্রজন্মের হৃদয়কে জাগ্রত করেন। তাদের শক্তি, সাহসকে ইসলামের বিজয়ের জন্য কবুল করে নেন। আমিন।

হযরত আবু বকর রা.-এর ইন্তেকালের পর খলিফাতুল মুসলিমিন নির্বাচিত হলেন হযরত উমর রা.। খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। তার স্থলে সেনাপতি নিযুক্ত করেন হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.-কে। হযরত উমর রা. খেলাফতের মসনদে বসে কেন অপরাজেয় সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলেন? অথচ তিনি প্রতিটি যুদ্ধে অসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে मुसलमानों کا একের-পর-এক বিজয় উপহার দিয়েছেন। কে আছে এমন যে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর তরবারিকে ভেঙে দেবে? আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে সাইফুল্লাহ (আল্লাহর তরবারি) উপাধি দিয়েছেন।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ হযরত উমর রা. নিজেই বর্ণনা করেছেন। আল্লাহু আকবার! কী ছিল সে কথা, যা হযরত উমর রা. বলেছেন?
مَا عَزَلْتُ خَالِداً عَنْ سُخْطَةِ وَلَا عَنْ خِيَانَةٍ، وَلَكِنِّي رَأَيْتُ النَّاسَ قَدْ فُتِنُوا بِـ خَالِدٍ، فَأَرَدْتُ أَنْ يَعْلَمَ النَّاسُ أَنَّ النَّصْرَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الصَّانِعِ وَلَيْسَ مِنْ عِنْدِ خَالِدٍ
'আমি ক্রোধ কিংবা খেয়ানতের বশবর্তী হয়ে খালিদকে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিইনি। কিন্তু আমি দেখেছি, লোকেরা খালিদের ব্যাপারে ফিতনায় পতিত হচ্ছে। আমি চেয়েছি লোকদের এ কথা জানাতে যে, مسلمانوں کا বিজয় আসে একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, খালিদের পক্ষ থেকে নয়।'
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন এমন এক বীর যে, লোকেরা মনে করতে লাগল, যুদ্ধে مسلمانوں کا বিজয় অর্জিত হয় খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর শক্তি ও নিপুণ বুদ্ধিতে। লোকেদের মনে এ কথা বদ্ধমূল হয়ে গেল, হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদই مسلمانوں کا বিজয়ের কারণ। অথচ مسلمانوں کا বিজয় কোনো শক্তি আর সৈন্যবলে নয়, مسلمانوں کا বিজয় আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাদের এ ধারণার মূলোৎপাটন করার লক্ষ্যে হযরত উমর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
হে মুসলিম যুব ও তরুণ প্রজন্ম! হে ইসলামের প্রাণশক্তি তরুণ প্রজন্ম! তোমরা হবে খালিদের অনুসারী। হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. হবেন তোমাদের নেতা। তোমরা পদাঙ্ক অনুসরণ করবে তাদের যারা উম্মাহর বিজয়ের পথ রচনা করে গেছেন। তোমাদের আইকন হবে তারা যাঁদের রক্তে সিঞ্চিত হয়েছে ইসলাম নামক বৃক্ষ। মুসলিম যুবকদের আইকন কোনো ফাসেক ফাজের নায়ক ও প্লেয়াররা নয়, মুসলিম তরুণদের আইকন হবেন সাহাবায়ে কেরাম। মুসলিম তরুণ প্রজন্ম অনুসরণ করবে খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ও তার সঙ্গীদের। হে তরুণ! হে যুবক! তোমাদের হতে হবে উম্মাহর উমর, খালিদ, আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.দের মত। তোমাদের হতে হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। ইসলামের বিজয় পথ তৈরি করতে হবে তোমাদের। এ জাতির কান্ডারি তোমরাই। আল্লাহর জমিনের আল্লাহর কালিমা বুলন্দি করার জন্য তোমাদের এগিয়ে আসতে হবে সময়ের খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে।
আজ দিকে দিকে তাকিয়ে দেখো মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে। মুসলিম নারী-শিশুদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পৃথিবীর আকাশ। উত্তাল সমুদ্রের তরঙ্গে ভাসছে মুসলমানের লাশ। আজ জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে मुसलमानों کا। পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে मुसलमानों کا রক্তে ভেসে যাচ্ছে মানচিত্র। কুফরি শক্তির হাত থেকে তাদের রক্ষা করার ঈমানি দায়িত্বে তোমাকেই এগিয়ে আসতে হবে। আল্লাহর কসম! আজ মুসলমানরা তাকিয়ে আছে তোমাদের পানে। তোমাদের ডাকছে আহাজারি করে। তোমাদের এগিয়ে আসার জন্য তারা প্রার্থনা করছে আল্লাহর দরবারে। হে উম্মাহর তরুণ প্রজন্ম! হে উম্মাহর তরুণ শক্তি! হে উম্মাহর সৈনিক! তোমরা এগিয়ে আসো জমানার খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে। জুলুম ও নিপীড়ন থেকে তাদের মুক্ত করো। পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা করো আল্লাহর দ্বীন। যে দ্বীন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমানতস্বরূপ রেখে গেছেন তোমাদের নিকট।
প্রার্থনা করি, আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা যেন আমাদের হৃদয়কে জীবন্ত করে দেন। এবং আমাদের সৎপথে পরিচালিত করেন। ভ্রষ্টতা ও গোমরাহি থেকে হেফাজত করেন। মুসলিম উম্মাহর তরুণ প্রজন্মের হৃদয়কে জাগ্রত করেন। তাদের শক্তি, সাহসকে ইসলামের বিজয়ের জন্য কবুল করে নেন। আমিন।

হযরত আবু বকর রা.-এর ইন্তেকালের পর খলিফাতুল মুসলিমিন নির্বাচিত হলেন হযরত উমর রা.। খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। তার স্থলে সেনাপতি নিযুক্ত করেন হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.-কে। হযরত উমর রা. খেলাফতের মসনদে বসে কেন অপরাজেয় সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলেন? অথচ তিনি প্রতিটি যুদ্ধে অসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে मुसलमानों کا একের-পর-এক বিজয় উপহার দিয়েছেন। কে আছে এমন যে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর তরবারিকে ভেঙে দেবে? আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে সাইফুল্লাহ (আল্লাহর তরবারি) উপাধি দিয়েছেন।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ হযরত উমর রা. নিজেই বর্ণনা করেছেন। আল্লাহু আকবার! কী ছিল সে কথা, যা হযরত উমর রা. বলেছেন?
مَا عَزَلْتُ خَالِداً عَنْ سُخْطَةِ وَلَا عَنْ خِيَانَةٍ، وَلَكِنِّي رَأَيْتُ النَّاسَ قَدْ فُتِنُوا بِـ خَالِدٍ، فَأَرَدْتُ أَنْ يَعْلَمَ النَّاسُ أَنَّ النَّصْرَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الصَّانِعِ وَلَيْسَ مِنْ عِنْدِ خَالِدٍ
'আমি ক্রোধ কিংবা খেয়ানতের বশবর্তী হয়ে খালিদকে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিইনি। কিন্তু আমি দেখেছি, লোকেরা খালিদের ব্যাপারে ফিতনায় পতিত হচ্ছে। আমি চেয়েছি লোকদের এ কথা জানাতে যে, مسلمانوں کا বিজয় আসে একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, খালিদের পক্ষ থেকে নয়।'
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন এমন এক বীর যে, লোকেরা মনে করতে লাগল, যুদ্ধে مسلمانوں کا বিজয় অর্জিত হয় খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর শক্তি ও নিপুণ বুদ্ধিতে। লোকেদের মনে এ কথা বদ্ধমূল হয়ে গেল, হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদই مسلمانوں کا বিজয়ের কারণ। অথচ مسلمانوں کا বিজয় কোনো শক্তি আর সৈন্যবলে নয়, مسلمانوں کا বিজয় আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাদের এ ধারণার মূলোৎপাটন করার লক্ষ্যে হযরত উমর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
হে মুসলিম যুব ও তরুণ প্রজন্ম! হে ইসলামের প্রাণশক্তি তরুণ প্রজন্ম! তোমরা হবে খালিদের অনুসারী। হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. হবেন তোমাদের নেতা। তোমরা পদাঙ্ক অনুসরণ করবে তাদের যারা উম্মাহর বিজয়ের পথ রচনা করে গেছেন। তোমাদের আইকন হবে তারা যাঁদের রক্তে সিঞ্চিত হয়েছে ইসলাম নামক বৃক্ষ। মুসলিম যুবকদের আইকন কোনো ফাসেক ফাজের নায়ক ও প্লেয়াররা নয়, মুসলিম তরুণদের আইকন হবেন সাহাবায়ে কেরাম। মুসলিম তরুণ প্রজন্ম অনুসরণ করবে খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ও তার সঙ্গীদের। হে তরুণ! হে যুবক! তোমাদের হতে হবে উম্মাহর উমর, খালিদ, আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.দের মত। তোমাদের হতে হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। ইসলামের বিজয় পথ তৈরি করতে হবে তোমাদের। এ জাতির কান্ডারি তোমরাই। আল্লাহর জমিনের আল্লাহর কালিমা বুলন্দি করার জন্য তোমাদের এগিয়ে আসতে হবে সময়ের খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে।
আজ দিকে দিকে তাকিয়ে দেখো মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে। মুসলিম নারী-শিশুদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পৃথিবীর আকাশ। উত্তাল সমুদ্রের তরঙ্গে ভাসছে মুসলমানের লাশ। আজ জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে मुसलमानों کا। পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে मुसलमानों کا রক্তে ভেসে যাচ্ছে মানচিত্র। কুফরি শক্তির হাত থেকে তাদের রক্ষা করার ঈমানি দায়িত্বে তোমাকেই এগিয়ে আসতে হবে। আল্লাহর কসম! আজ মুসলমানরা তাকিয়ে আছে তোমাদের পানে। তোমাদের ডাকছে আহাজারি করে। তোমাদের এগিয়ে আসার জন্য তারা প্রার্থনা করছে আল্লাহর দরবারে। হে উম্মাহর তরুণ প্রজন্ম! হে উম্মাহর তরুণ শক্তি! হে উম্মাহর সৈনিক! তোমরা এগিয়ে আসো জমানার খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে। জুলুম ও নিপীড়ন থেকে তাদের মুক্ত করো। পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা করো আল্লাহর দ্বীন। যে দ্বীন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমানতস্বরূপ রেখে গেছেন তোমাদের নিকট।
প্রার্থনা করি, আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা যেন আমাদের হৃদয়কে জীবন্ত করে দেন। এবং আমাদের সৎপথে পরিচালিত করেন। ভ্রষ্টতা ও গোমরাহি থেকে হেফাজত করেন। মুসলিম উম্মাহর তরুণ প্রজন্মের হৃদয়কে জাগ্রত করেন। তাদের শক্তি, সাহসকে ইসলামের বিজয়ের জন্য কবুল করে নেন। আমিন।

হযরত আবু বকর রা.-এর ইন্তেকালের পর খলিফাতুল মুসলিমিন নির্বাচিত হলেন হযরত উমর রা.। খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। তার স্থলে সেনাপতি নিযুক্ত করেন হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.-কে। হযরত উমর রা. খেলাফতের মসনদে বসে কেন অপরাজেয় সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলেন? অথচ তিনি প্রতিটি যুদ্ধে অসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে मुसलमानों کا একের-পর-এক বিজয় উপহার দিয়েছেন। কে আছে এমন যে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর তরবারিকে ভেঙে দেবে? আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে সাইফুল্লাহ (আল্লাহর তরবারি) উপাধি দিয়েছেন।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ হযরত উমর রা. নিজেই বর্ণনা করেছেন। আল্লাহু আকবার! কী ছিল সে কথা, যা হযরত উমর রা. বলেছেন?
مَا عَزَلْتُ خَالِداً عَنْ سُخْطَةِ وَلَا عَنْ خِيَانَةٍ، وَلَكِنِّي رَأَيْتُ النَّاسَ قَدْ فُتِنُوا بِـ خَالِدٍ، فَأَرَدْتُ أَنْ يَعْلَمَ النَّاسُ أَنَّ النَّصْرَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الصَّانِعِ وَلَيْسَ مِنْ عِنْدِ خَالِدٍ
'আমি ক্রোধ কিংবা খেয়ানতের বশবর্তী হয়ে খালিদকে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিইনি। কিন্তু আমি দেখেছি, লোকেরা খালিদের ব্যাপারে ফিতনায় পতিত হচ্ছে। আমি চেয়েছি লোকদের এ কথা জানাতে যে, مسلمانوں کا বিজয় আসে একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, খালিদের পক্ষ থেকে নয়।'
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন এমন এক বীর যে, লোকেরা মনে করতে লাগল, যুদ্ধে مسلمانوں کا বিজয় অর্জিত হয় খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর শক্তি ও নিপুণ বুদ্ধিতে। লোকেদের মনে এ কথা বদ্ধমূল হয়ে গেল, হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদই مسلمانوں کا বিজয়ের কারণ। অথচ مسلمانوں کا বিজয় কোনো শক্তি আর সৈন্যবলে নয়, مسلمانوں کا বিজয় আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাদের এ ধারণার মূলোৎপাটন করার লক্ষ্যে হযরত উমর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
হে মুসলিম যুব ও তরুণ প্রজন্ম! হে ইসলামের প্রাণশক্তি তরুণ প্রজন্ম! তোমরা হবে খালিদের অনুসারী। হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. হবেন তোমাদের নেতা। তোমরা পদাঙ্ক অনুসরণ করবে তাদের যারা উম্মাহর বিজয়ের পথ রচনা করে গেছেন। তোমাদের আইকন হবে তারা যাঁদের রক্তে সিঞ্চিত হয়েছে ইসলাম নামক বৃক্ষ। মুসলিম যুবকদের আইকন কোনো ফাসেক ফাজের নায়ক ও প্লেয়াররা নয়, মুসলিম তরুণদের আইকন হবেন সাহাবায়ে কেরাম। মুসলিম তরুণ প্রজন্ম অনুসরণ করবে খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ও তার সঙ্গীদের। হে তরুণ! হে যুবক! তোমাদের হতে হবে উম্মাহর উমর, খালিদ, আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.দের মত। তোমাদের হতে হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। ইসলামের বিজয় পথ তৈরি করতে হবে তোমাদের। এ জাতির কান্ডারি তোমরাই। আল্লাহর জমিনের আল্লাহর কালিমা বুলন্দি করার জন্য তোমাদের এগিয়ে আসতে হবে সময়ের খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে।
আজ দিকে দিকে তাকিয়ে দেখো মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে। মুসলিম নারী-শিশুদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পৃথিবীর আকাশ। উত্তাল সমুদ্রের তরঙ্গে ভাসছে মুসলমানের লাশ। আজ জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে मुसलमानों کا। পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে मुसलमानों کا রক্তে ভেসে যাচ্ছে মানচিত্র। কুফরি শক্তির হাত থেকে তাদের রক্ষা করার ঈমানি দায়িত্বে তোমাকেই এগিয়ে আসতে হবে। আল্লাহর কসম! আজ মুসলমানরা তাকিয়ে আছে তোমাদের পানে। তোমাদের ডাকছে আহাজারি করে। তোমাদের এগিয়ে আসার জন্য তারা প্রার্থনা করছে আল্লাহর দরবারে। হে উম্মাহর তরুণ প্রজন্ম! হে উম্মাহর তরুণ শক্তি! হে উম্মাহর সৈনিক! তোমরা এগিয়ে আসো জমানার খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে। জুলুম ও নিপীড়ন থেকে তাদের মুক্ত করো। পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা করো আল্লাহর দ্বীন। যে দ্বীন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমানতস্বরূপ রেখে গেছেন তোমাদের নিকট।
প্রার্থনা করি, আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা যেন আমাদের হৃদয়কে জীবন্ত করে দেন। এবং আমাদের সৎপথে পরিচালিত করেন। ভ্রষ্টতা ও গোমরাহি থেকে হেফাজত করেন। মুসলিম উম্মাহর তরুণ প্রজন্মের হৃদয়কে জাগ্রত করেন। তাদের শক্তি, সাহসকে ইসলামের বিজয়ের জন্য কবুল করে নেন। আমিন।

হযরত আবু বকর রা.-এর ইন্তেকালের পর খলিফাতুল মুসলিমিন নির্বাচিত হলেন হযরত উমর রা.। খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। তার স্থলে সেনাপতি নিযুক্ত করেন হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.-কে। হযরত উমর রা. খেলাফতের মসনদে বসে কেন অপরাজেয় সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলেন? অথচ তিনি প্রতিটি যুদ্ধে অসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে मुसलमानों کا একের-পর-এক বিজয় উপহার দিয়েছেন। কে আছে এমন যে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর তরবারিকে ভেঙে দেবে? আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে সাইফুল্লাহ (আল্লাহর তরবারি) উপাধি দিয়েছেন।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ হযরত উমর রা. নিজেই বর্ণনা করেছেন। আল্লাহু আকবার! কী ছিল সে কথা, যা হযরত উমর রা. বলেছেন?
مَا عَزَلْتُ خَالِداً عَنْ سُخْطَةِ وَلَا عَنْ خِيَانَةٍ، وَلَكِنِّي رَأَيْتُ النَّاسَ قَدْ فُتِنُوا بِـ خَالِدٍ، فَأَرَدْتُ أَنْ يَعْلَمَ النَّاسُ أَنَّ النَّصْرَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الصَّانِعِ وَلَيْسَ مِنْ عِنْدِ خَالِدٍ
'আমি ক্রোধ কিংবা খেয়ানতের বশবর্তী হয়ে খালিদকে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিইনি। কিন্তু আমি দেখেছি, লোকেরা খালিদের ব্যাপারে ফিতনায় পতিত হচ্ছে। আমি চেয়েছি লোকদের এ কথা জানাতে যে, مسلمانوں کا বিজয় আসে একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, খালিদের পক্ষ থেকে নয়।'
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন এমন এক বীর যে, লোকেরা মনে করতে লাগল, যুদ্ধে مسلمانوں کا বিজয় অর্জিত হয় খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর শক্তি ও নিপুণ বুদ্ধিতে। লোকেদের মনে এ কথা বদ্ধমূল হয়ে গেল, হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদই مسلمانوں کا বিজয়ের কারণ। অথচ مسلمانوں کا বিজয় কোনো শক্তি আর সৈন্যবলে নয়, مسلمانوں کا বিজয় আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাদের এ ধারণার মূলোৎপাটন করার লক্ষ্যে হযরত উমর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
হে মুসলিম যুব ও তরুণ প্রজন্ম! হে ইসলামের প্রাণশক্তি তরুণ প্রজন্ম! তোমরা হবে খালিদের অনুসারী। হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. হবেন তোমাদের নেতা। তোমরা পদাঙ্ক অনুসরণ করবে তাদের যারা উম্মাহর বিজয়ের পথ রচনা করে গেছেন। তোমাদের আইকন হবে তারা যাঁদের রক্তে সিঞ্চিত হয়েছে ইসলাম নামক বৃক্ষ। মুসলিম যুবকদের আইকন কোনো ফাসেক ফাজের নায়ক ও প্লেয়াররা নয়, মুসলিম তরুণদের আইকন হবেন সাহাবায়ে কেরাম। মুসলিম তরুণ প্রজন্ম অনুসরণ করবে খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ও তার সঙ্গীদের। হে তরুণ! হে যুবক! তোমাদের হতে হবে উম্মাহর উমর, খালিদ, আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.দের মত। তোমাদের হতে হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। ইসলামের বিজয় পথ তৈরি করতে হবে তোমাদের। এ জাতির কান্ডারি তোমরাই। আল্লাহর জমিনের আল্লাহর কালিমা বুলন্দি করার জন্য তোমাদের এগিয়ে আসতে হবে সময়ের খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে।
আজ দিকে দিকে তাকিয়ে দেখো মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে। মুসলিম নারী-শিশুদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পৃথিবীর আকাশ। উত্তাল সমুদ্রের তরঙ্গে ভাসছে মুসলমানের লাশ। আজ জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে मुसलमानों کا। পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে मुसलमानों کا রক্তে ভেসে যাচ্ছে মানচিত্র। কুফরি শক্তির হাত থেকে তাদের রক্ষা করার ঈমানি দায়িত্বে তোমাকেই এগিয়ে আসতে হবে। আল্লাহর কসম! আজ মুসলমানরা তাকিয়ে আছে তোমাদের পানে। তোমাদের ডাকছে আহাজারি করে। তোমাদের এগিয়ে আসার জন্য তারা প্রার্থনা করছে আল্লাহর দরবারে। হে উম্মাহর তরুণ প্রজন্ম! হে উম্মাহর তরুণ শক্তি! হে উম্মাহর সৈনিক! তোমরা এগিয়ে আসো জমানার খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে। জুলুম ও নিপীড়ন থেকে তাদের মুক্ত করো। পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা করো আল্লাহর দ্বীন। যে দ্বীন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমানতস্বরূপ রেখে গেছেন তোমাদের নিকট।
প্রার্থনা করি, আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা যেন আমাদের হৃদয়কে জীবন্ত করে দেন। এবং আমাদের সৎপথে পরিচালিত করেন। ভ্রষ্টতা ও গোমরাহি থেকে হেফাজত করেন। মুসলিম উম্মাহর তরুণ প্রজন্মের হৃদয়কে জাগ্রত করেন। তাদের শক্তি, সাহসকে ইসলামের বিজয়ের জন্য কবুল করে নেন। আমিন।

হযরত আবু বকর রা.-এর ইন্তেকালের পর খলিফাতুল মুসলিমিন নির্বাচিত হলেন হযরত উমর রা.। খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। তার স্থলে সেনাপতি নিযুক্ত করেন হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.-কে। হযরত উমর রা. খেলাফতের মসনদে বসে কেন অপরাজেয় সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলেন? অথচ তিনি প্রতিটি যুদ্ধে অসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে मुसलमानों کا একের-পর-এক বিজয় উপহার দিয়েছেন। কে আছে এমন যে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর তরবারিকে ভেঙে দেবে? আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে সাইফুল্লাহ (আল্লাহর তরবারি) উপাধি দিয়েছেন।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ হযরত উমর রা. নিজেই বর্ণনা করেছেন। আল্লাহু আকবার! কী ছিল সে কথা, যা হযরত উমর রা. বলেছেন?
مَا عَزَلْتُ خَالِداً عَنْ سُخْطَةِ وَلَا عَنْ خِيَانَةٍ، وَلَكِنِّي رَأَيْتُ النَّاسَ قَدْ فُتِنُوا بِـ خَالِدٍ، فَأَرَدْتُ أَنْ يَعْلَمَ النَّاسُ أَنَّ النَّصْرَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الصَّانِعِ وَلَيْسَ مِنْ عِنْدِ خَالِدٍ
'আমি ক্রোধ কিংবা খেয়ানতের বশবর্তী হয়ে খালিদকে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিইনি। কিন্তু আমি দেখেছি, লোকেরা খালিদের ব্যাপারে ফিতনায় পতিত হচ্ছে। আমি চেয়েছি লোকদের এ কথা জানাতে যে, مسلمانوں کا বিজয় আসে একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, খালিদের পক্ষ থেকে নয়।'
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন এমন এক বীর যে, লোকেরা মনে করতে লাগল, যুদ্ধে مسلمانوں کا বিজয় অর্জিত হয় খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর শক্তি ও নিপুণ বুদ্ধিতে। লোকেদের মনে এ কথা বদ্ধমূল হয়ে গেল, হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদই مسلمانوں کا বিজয়ের কারণ। অথচ مسلمانوں کا বিজয় কোনো শক্তি আর সৈন্যবলে নয়, مسلمانوں کا বিজয় আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাদের এ ধারণার মূলোৎপাটন করার লক্ষ্যে হযরত উমর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
হে মুসলিম যুব ও তরুণ প্রজন্ম! হে ইসলামের প্রাণশক্তি তরুণ প্রজন্ম! তোমরা হবে খালিদের অনুসারী। হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. হবেন তোমাদের নেতা। তোমরা পদাঙ্ক অনুসরণ করবে তাদের যারা উম্মাহর বিজয়ের পথ রচনা করে গেছেন। তোমাদের আইকন হবে তারা যাঁদের রক্তে সিঞ্চিত হয়েছে ইসলাম নামক বৃক্ষ। মুসলিম যুবকদের আইকন কোনো ফাসেক ফাজের নায়ক ও প্লেয়াররা নয়, মুসলিম তরুণদের আইকন হবেন সাহাবায়ে কেরাম। মুসলিম তরুণ প্রজন্ম অনুসরণ করবে খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ও তার সঙ্গীদের। হে তরুণ! হে যুবক! তোমাদের হতে হবে উম্মাহর উমর, খালিদ, আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.দের মত। তোমাদের হতে হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। ইসলামের বিজয় পথ তৈরি করতে হবে তোমাদের। এ জাতির কান্ডারি তোমরাই। আল্লাহর জমিনের আল্লাহর কালিমা বুলন্দি করার জন্য তোমাদের এগিয়ে আসতে হবে সময়ের খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে।
আজ দিকে দিকে তাকিয়ে দেখো মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে। মুসলিম নারী-শিশুদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পৃথিবীর আকাশ। উত্তাল সমুদ্রের তরঙ্গে ভাসছে মুসলমানের লাশ। আজ জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে मुसलमानों کا। পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে मुसलमानों کا রক্তে ভেসে যাচ্ছে মানচিত্র। কুফরি শক্তির হাত থেকে তাদের রক্ষা করার ঈমানি দায়িত্বে তোমাকেই এগিয়ে আসতে হবে। আল্লাহর কসম! আজ মুসলমানরা তাকিয়ে আছে তোমাদের পানে। তোমাদের ডাকছে আহাজারি করে। তোমাদের এগিয়ে আসার জন্য তারা প্রার্থনা করছে আল্লাহর দরবারে। হে উম্মাহর তরুণ প্রজন্ম! হে উম্মাহর তরুণ শক্তি! হে উম্মাহর সৈনিক! তোমরা এগিয়ে আসো জমানার খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে। জুলুম ও নিপীড়ন থেকে তাদের মুক্ত করো। পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা করো আল্লাহর দ্বীন। যে দ্বীন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমানতস্বরূপ রেখে গেছেন তোমাদের নিকট।
প্রার্থনা করি, আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা যেন আমাদের হৃদয়কে জীবন্ত করে দেন। এবং আমাদের সৎপথে পরিচালিত করেন। ভ্রষ্টতা ও গোমরাহি থেকে হেফাজত করেন। মুসলিম উম্মাহর তরুণ প্রজন্মের হৃদয়কে জাগ্রত করেন। তাদের শক্তি, সাহসকে ইসলামের বিজয়ের জন্য কবুল করে নেন। আমিন।

হযরত আবু বকর রা.-এর ইন্তেকালের পর খলিফাতুল মুসলিমিন নির্বাচিত হলেন হযরত উমর রা.। খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। তার স্থলে সেনাপতি নিযুক্ত করেন হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.-কে। হযরত উমর রা. খেলাফতের মসনদে বসে কেন অপরাজেয় সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলেন? অথচ তিনি প্রতিটি যুদ্ধে অসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে मुसलमानों کا একের-পর-এক বিজয় উপহার দিয়েছেন। কে আছে এমন যে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর তরবারিকে ভেঙে দেবে? আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে সাইফুল্লাহ (আল্লাহর তরবারি) উপাধি দিয়েছেন।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ হযরত উমর রা. নিজেই বর্ণনা করেছেন। আল্লাহু আকবার! কী ছিল সে কথা, যা হযরত উমর রা. বলেছেন?
مَا عَزَلْتُ خَالِداً عَنْ سُخْطَةِ وَلَا عَنْ خِيَانَةٍ، وَلَكِنِّي رَأَيْتُ النَّاسَ قَدْ فُتِنُوا بِـ خَالِدٍ، فَأَرَدْتُ أَنْ يَعْلَمَ النَّاسُ أَنَّ النَّصْرَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الصَّانِعِ وَلَيْسَ مِنْ عِنْدِ خَالِدٍ
'আমি ক্রোধ কিংবা খেয়ানতের বশবর্তী হয়ে খালিদকে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিইনি। কিন্তু আমি দেখেছি, লোকেরা খালিদের ব্যাপারে ফিতনায় পতিত হচ্ছে। আমি চেয়েছি লোকদের এ কথা জানাতে যে, مسلمانوں کا বিজয় আসে একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, খালিদের পক্ষ থেকে নয়।'
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন এমন এক বীর যে, লোকেরা মনে করতে লাগল, যুদ্ধে مسلمانوں کا বিজয় অর্জিত হয় খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর শক্তি ও নিপুণ বুদ্ধিতে। লোকেদের মনে এ কথা বদ্ধমূল হয়ে গেল, হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদই مسلمانوں کا বিজয়ের কারণ। অথচ مسلمانوں کا বিজয় কোনো শক্তি আর সৈন্যবলে নয়, مسلمانوں کا বিজয় আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাদের এ ধারণার মূলোৎপাটন করার লক্ষ্যে হযরত উমর রা. খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
হে মুসলিম যুব ও তরুণ প্রজন্ম! হে ইসলামের প্রাণশক্তি তরুণ প্রজন্ম! তোমরা হবে খালিদের অনুসারী। হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. হবেন তোমাদের নেতা। তোমরা পদাঙ্ক অনুসরণ করবে তাদের যারা উম্মাহর বিজয়ের পথ রচনা করে গেছেন। তোমাদের আইকন হবে তারা যাঁদের রক্তে সিঞ্চিত হয়েছে ইসলাম নামক বৃক্ষ। মুসলিম যুবকদের আইকন কোনো ফাসেক ফাজের নায়ক ও প্লেয়াররা নয়, মুসলিম তরুণদের আইকন হবেন সাহাবায়ে কেরাম। মুসলিম তরুণ প্রজন্ম অনুসরণ করবে খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ও তার সঙ্গীদের। হে তরুণ! হে যুবক! তোমাদের হতে হবে উম্মাহর উমর, খালিদ, আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা.দের মত। তোমাদের হতে হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। ইসলামের বিজয় পথ তৈরি করতে হবে তোমাদের। এ জাতির কান্ডারি তোমরাই। আল্লাহর জমিনের আল্লাহর কালিমা বুলন্দি করার জন্য তোমাদের এগিয়ে আসতে হবে সময়ের খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে।
আজ দিকে দিকে তাকিয়ে দেখো মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে। মুসলিম নারী-শিশুদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পৃথিবীর আকাশ। উত্তাল সমুদ্রের তরঙ্গে ভাসছে মুসলমানের লাশ। আজ জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে मुसलमानों کا। পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে मुसलमानों کا রক্তে ভেসে যাচ্ছে মানচিত্র। কুফরি শক্তির হাত থেকে তাদের রক্ষা করার ঈমানি দায়িত্বে তোমাকেই এগিয়ে আসতে হবে। আল্লাহর কসম! আজ মুসলমানরা তাকিয়ে আছে তোমাদের পানে। তোমাদের ডাকছে আহাজারি করে। তোমাদের এগিয়ে আসার জন্য তারা প্রার্থনা করছে আল্লাহর দরবারে। হে উম্মাহর তরুণ প্রজন্ম! হে উম্মাহর তরুণ শক্তি! হে উম্মাহর সৈনিক! তোমরা এগিয়ে আসো জমানার খালিদ বিন ওয়ালিদ হয়ে। জুলুম ও নিপীড়ন থেকে তাদের মুক্ত করো। পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা করো আল্লাহর দ্বীন। যে দ্বীন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমানতস্বরূপ রেখে গেছেন তোমাদের নিকট।
প্রার্থনা করি, আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা যেন আমাদের হৃদয়কে জীবন্ত করে দেন। এবং আমাদের সৎপথে পরিচালিত করেন। ভ্রষ্টতা ও গোমরাহি থেকে হেফাজত করেন। মুসলিম উম্মাহর তরুণ প্রজন্মের হৃদয়কে জাগ্রত করেন। তাদের শক্তি, সাহসকে ইসলামের বিজয়ের জন্য কবুল করে নেন। আমিন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00