📘 হে যুবক! ফিরে এসো রবের দিকে > 📄 যুবসমাজের অবক্ষয় ও তার পরিবর্তন

📄 যুবসমাজের অবক্ষয় ও তার পরিবর্তন


বর্তমান যুবসমাজের মারাত্মক অবক্ষয় ঘটেছে। তাদের চরিত্র নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাদের চেতনার বিলুপ্তি ঘটেছে। সোনালি যুগের সেসব যুবক যাদের হাতে রচিত হয়েছে ইসলামের ইতিহাস, আজ যুবসমাজ কল্যাণের সেই পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গিয়েছে। তাদের অন্তরে বাসা বেঁধেছে চরম গাফলত ও সীমাহীন আলস্য। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا
'তাদের পরে এমন এক প্রজন্ম এলো যারা নামাজ বিনষ্ট করল এবং প্রবৃত্তির বশবর্তী হলো। অতএব তারা ভ্রষ্টতার পরিণতি দেখতে পারে। '⁶⁵
সোনালি যুগের যুবকদের পর এলো এমন এক প্রজন্ম, যারা তাসবিহ, তাহলিল ও তাকবিরের পরিবর্তে অনর্থক কথাবার্তা এবং গাল-গল্পে মেতে থাকে। তারা মিসওয়াকের পরিবর্তে হাতে তুলে নিয়েছে সিগারেট ও নেশাজাতীয় দ্রব্য। কুরআনের পরিবর্তে হাতে তুলে নিয়েছে পত্রিকা ও অশ্লীল বিভিন্ন ম্যাগাজিন। ইলমি মজলিসকে রূপান্তর করেছে গান-বাদ্য ও সিনেমা-নাটকের দ্বারা। কুরআন তিলাওয়াত ও শ্রবণের পরিবর্তে আজকের যুব প্রজন্ম অশ্লীল গান ও মিউজিক শ্রবণ করছে। তারা ভুলে গিয়েছে জিহাদ। জিহাদের পরিবর্তে তারা মেতে উঠেছে ভ্রষ্টতা ও হঠকারিতায়। আজকের যুব ও তরুণ প্রজন্ম অবক্ষয়ের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গিয়েছে। তাদের অন্তরে নেই ইসলামের জন্য আবেগ ও ভালোবাসা। মুমিনদের জন্য নেই দায়িত্ববোধ। আল্লাহর দেওয়া প্রতিশ্রুতি তারা ভুলে গিয়েছে। কোথায় সেসব যুবক আর কোথায় আজকের যুব প্রজন্ম?
কী হলো, আজ مسلمانوں کا মধ্যে নেই সেসব ব্যক্তি। নেই সাদ ও মিকদাদ রা.-এর মতো সাহসী যুবক। নেই খালিদ ও বারা ইবনে মালেক রা.-এর মতো বীর তরুণ। আজকের যুবকদের ঈমান হয়ে গিয়েছে দুর্বল ও ভঙ্গুর। তাদের ঈমানে নেই তেজোদীপ্ততা। তাদের অন্তরে নেই সাহসের বারুদ। নিভে গিয়েছে তাদের চেতনার আগুন। আজ তারা মৃত। তাদের দেহ মৃত। তাদের অন্তর মৃত। তাদের ঈমান মৃত। অথচ যুবক ও তরুণরাই হলো জাতির শক্তি। জাতির মূল স্প্রিট। অতীতে মুসলিম তরুণদের হাতেই রচিত হয়েছে বিজয়ের ইতিহাস। তাদের গর্জনে কেঁপে উঠেছে শত্রুর হৃদপিণ্ড। বর্তমানে তাদের চেয়ে আরো অধিক সাহসী তরুণদের প্রয়োজন। ইসলাম ও মুসলমানদের আজ চলছে নিদারুণ ক্রান্তিকাল। পৃথিবীর সর্বত্র আজ তারা নির্যাতিত নিপীড়িত। তাদের আর্তনাতে ভারী হয়ে উঠেছে আকাশ বাতাস। উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু সর্বত্র আজ অসহায় মুসলমানদের আর্তনাদ। আজ তাই প্রয়োজন সেসব সাহসী যুবকদের, যারা রচনা করবে উম্মাহর নতুন ইতিহাস। যারা মুক্ত করবে অসহায় মুসলমানদের। হে যুবক! ফিরে এসো। ফিরে এসো রবের দিকে। ঈমানের আলোয় ফিরে এসো। অবাধ্যতা ও নাফরমানির বৃত্ত ভেঙ্গে ফিরে এসো আনুগত্য ও কল্যাণের পথে। আজ বড়ই প্রয়োজন তোমাদের। তোমাদের হতে হবে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার এই আয়াতের আদর্শ।
إِنَّهُمْ فِتْيَةٌ آمَنُوا بِرَبِّهِمْ وَزِدْنَاهُمْ هُدًى
'তারা ছিল কয়েকজন যুবক, যারা তাদের প্রভুর প্রতি ঈমান এনেছিল এবং তাদের হেদায়েতকে আমি বৃদ্ধি করেছি।' ⁶⁶

টিকাঃ
৬৫ সুরা মারইয়াম: ৫৯
৬৬ সুরা কাহফ: ১৩

📘 হে যুবক! ফিরে এসো রবের দিকে > 📄 হে তরুণ! উম্মাহ ডাকছে তোমায়

📄 হে তরুণ! উম্মাহ ডাকছে তোমায়


আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুসলিম যুবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। ইসলামের ইতিহাসের এক অজেয় ও কিংবদন্তি মহানায়কের গল্প বলব। যিনি ছিলেন সাহসিকতা ও বীরত্বে অনন্য। ছিলেন ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। ইসলামের জন্য সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন যিনি এটি তার গল্প। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে সে গল্পের পুনরাবৃত্তি আজ অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে। মুসলিম উম্মাহর আজ এমন সাহসী তরুণের প্রয়োজন, যারা ইসলামের গতিধারা পাল্টে দেবে। যারা প্রতিহত করবে ইসলামের ওপর আপতিত আক্রমণ। যারা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর শত্রুদের মোকাবেলা করবে শক্তহাতে। শুধু কথা নয় কাজেও যারা হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। আজ কথার ফুলঝুরি ফোটানোর মতো বহু ব্যক্তি আছে কিন্তু কর্মের ময়দানে তারা শূন্য। উম্মাহর প্রয়োজনের সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
আল্লাহ তায়ালার ঘোষণার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তিনি বলেছেন,
رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ
'কতক লোক যারা আল্লাহকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছে।'⁸⁸
মুসলিম উম্মাহর আজ এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন যারা ইসলামকে তার পুরনো গতিপথে ফিরিয়ে দেবে। ফিরিয়ে আনবে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর হারানো গৌরব। যারা ইসলামকে তার প্রকৃত লক্ষ্যে পৌঁছাতে নিজেদের জান-মাল কুরবান করবে। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় উৎসর্গ করবে দেহের প্রতি ফোটা রক্ত। আজ প্রয়োজন তাদের যারা উষ্ণ রক্ত প্রবাহিত করতে মোটেও ভয় করবে না। জালিমের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে যারা কালিমার ঝান্ডা হাতে এগিয়ে যাবে সম্মুখপানে। যাদের হৃদয়ে থাকবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার আনুগত্যের প্রতি স্পৃহা। পার্থিব কোনো লালসা যাদের হঠাতে পারবে না। তাদের প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি কাজ হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য। আর তাদেরই হাতে রচিত হবে ইসলামের নয়া ইতিহাস। আল্লাহর কসম! আজ তো উম্মাহর এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন। উম্মাহর ভাগ্যাকাশে যেদিন উদিত হবে তাদের মতো কতিপয় নক্ষত্র সেদিন প্রকৃতপক্ষে মুসলিম জাতি ঘুরে দাঁড়াবে। লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকল ভেঙে তারা বেরিয়ে আসবে সম্মান ও বিজয়ের রণাঙ্গনে।
এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা সকল উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। পূর্ববর্তী সকল জাতির চেয়ে সম্মান ও মর্যাদায় অগ্রগামী করেছেন। কারণ এ উম্মতের নবী হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা এক কল্যাণকর জাতি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মানুষের কল্যাণে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের নির্বাচিত করেছেন। তারা হলো মধ্যপন্থি উম্মাহ। পূর্বে অতিবাহিত সকল উম্মতের মধ্য থেকে এ উম্মতকে নির্বাচন করেছেন। এ উম্মতের রয়েছে প্রভূত ফজিলত, যা পূর্বেকার উম্মতদের আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দেননি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
من أمتي سبعون ألفاً يدخلون الجنة بغير حساب، وجوههم كالقمر ليلة البدر
'আমার সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল।'⁸⁹
নিশ্চয় এটি উম্মতে মুহাম্মদির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উম্মতের মুহাম্মদির প্রতি মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ ও অশেষ কৃপা। অন্যান্য উম্মতের ওপর উম্মতে মুহাম্মদিকে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন নিছক এমনিতেই নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে বহু কারণ। সেসব কারণের একটি হলো সাহসিকতা। আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের চেয়ে অধিকতর সাহসিকতা দান করেছেন। তাদের বক্ষে দিয়েছেন আল্লাহর দ্বীনের জন্য অপরিসীম স্পৃহা ও বীরত্ব। এলায়ে কালিমাতুল্লাহ তথা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা জীবনবাজি রাখতে কুণ্ঠাবোধ করে না। যা নিঃস্বার্থ এবং কেবলই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে। তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত সাহসিকতা ও বীরত্ব প্রদর্শন উদ্দেশ্য নয়। আর এ বৈশিষ্ট্য উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের ওপর মর্যাদা ও সম্মানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছে।
খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.
হে আল্লাহর বান্দাগণ! হে উম্মাহর অতন্ত্র প্রহরী তরুণ শক্তি! এমন এক ব্যক্তির জীবন ও কর্মপন্থা আজ আলোচনা করব যা আমাদের ঈমানকে শানিত করবে। যার জীবনপ্রবাহ সাহসী করে তুলবে আমাদের হৃদয়কে। তার আত্মোৎসর্গের বিরল ঘটনা আমাদের ইসলামের জন্য আরো নিবেদিতপ্রাণ করে তুলবে। তিনি এমন এক ব্যক্তি উম্মাহর কোনো সদস্য তার সম্পর্কে অনবগত নয়। ছোট-बড়, নারী-পুরুষ সকলের নিকট তিনি অত্যন্ত সুবিদিত। তার নাম ও প্রশংসনীয় সাহসিকতা প্রসিদ্ধ। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে তিনি স্বীকৃত ও বরিত। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে তার নাম।
যখন তার বীরত্বের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বীর। যখন ইসলামের জন্য তার আত্মোৎসর্গের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রহরী। যখন তার বৈশিষ্ট্যের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনি এ উম্মতের শ্রেষ্ঠ পুরুষ। ইসলামের ইতিহাস এবং মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি সদস্যের নিকট তার নাম আকাশে উদিত সূর্যের মতো দেদীপ্যমান। রাতের আকাশে ধ্রুব-নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল।
তিনি কে?
কে তিনি, যার এত মহিমা? যিনি পাল্টে দিয়েছেন ইতিহাসের গতিধারা? যিনি রচনা করেছেন বিপ্লবের সোনালি দাস্তান?

টিকাঃ
৮৮ সুরা আহযাব: ২৩
৮৯ তাবারানি

আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুসলিম যুবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। ইসলামের ইতিহাসের এক অজেয় ও কিংবদন্তি মহানায়কের গল্প বলব। যিনি ছিলেন সাহসিকতা ও বীরত্বে অনন্য। ছিলেন ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। ইসলামের জন্য সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন যিনি এটি তার গল্প। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে সে গল্পের পুনরাবৃত্তি আজ অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে। মুসলিম উম্মাহর আজ এমন সাহসী তরুণের প্রয়োজন, যারা ইসলামের গতিধারা পাল্টে দেবে। যারা প্রতিহত করবে ইসলামের ওপর আপতিত আক্রমণ। যারা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর শত্রুদের মোকাবেলা করবে শক্তহাতে। শুধু কথা নয় কাজেও যারা হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। আজ কথার ফুলঝুরি ফোটানোর মতো বহু ব্যক্তি আছে কিন্তু কর্মের ময়দানে তারা শূন্য। উম্মাহর প্রয়োজনের সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
আল্লাহ তায়ালার ঘোষণার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তিনি বলেছেন,
رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ
'কতক লোক যারা আল্লাহকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছে।'⁸⁸
মুসলিম উম্মাহর আজ এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন যারা ইসলামকে তার পুরনো গতিপথে ফিরিয়ে দেবে। ফিরিয়ে আনবে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর হারানো গৌরব। যারা ইসলামকে তার প্রকৃত লক্ষ্যে পৌঁছাতে নিজেদের জান-মাল কুরবান করবে। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় উৎসর্গ করবে দেহের প্রতি ফোটা রক্ত। আজ প্রয়োজন তাদের যারা উষ্ণ রক্ত প্রবাহিত করতে মোটেও ভয় করবে না। জালিমের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে যারা কালিমার ঝান্ডা হাতে এগিয়ে যাবে সম্মুখপানে। যাদের হৃদয়ে থাকবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার আনুগত্যের প্রতি স্পৃহা। পার্থিব কোনো লালসা যাদের হঠাতে পারবে না। তাদের প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি কাজ হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য। আর তাদেরই হাতে রচিত হবে ইসলামের নয়া ইতিহাস। আল্লাহর কসম! আজ তো উম্মাহর এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন। উম্মাহর ভাগ্যাকাশে যেদিন উদিত হবে তাদের মতো কতিপয় নক্ষত্র সেদিন প্রকৃতপক্ষে মুসলিম জাতি ঘুরে দাঁড়াবে। লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকল ভেঙে তারা বেরিয়ে আসবে সম্মান ও বিজয়ের রণাঙ্গনে।
এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা সকল উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। পূর্ববর্তী সকল জাতির চেয়ে সম্মান ও মর্যাদায় অগ্রগামী করেছেন। কারণ এ উম্মতের নবী হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা এক কল্যাণকর জাতি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মানুষের কল্যাণে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের নির্বাচিত করেছেন। তারা হলো মধ্যপন্থি উম্মাহ। পূর্বে অতিবাহিত সকল উম্মতের মধ্য থেকে এ উম্মতকে নির্বাচন করেছেন। এ উম্মতের রয়েছে প্রভূত ফজিলত, যা পূর্বেকার উম্মতদের আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দেননি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
من أمتي سبعون ألفاً يدخلون الجنة بغير حساب، وجوههم كالقمر ليلة البدر
'আমার সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল।'⁸⁹
নিশ্চয় এটি উম্মতে মুহাম্মদির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উম্মতের মুহাম্মদির প্রতি মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ ও অশেষ কৃপা। অন্যান্য উম্মতের ওপর উম্মতে মুহাম্মদিকে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন নিছক এমনিতেই নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে বহু কারণ। সেসব কারণের একটি হলো সাহসিকতা। আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের চেয়ে অধিকতর সাহসিকতা দান করেছেন। তাদের বক্ষে দিয়েছেন আল্লাহর দ্বীনের জন্য অপরিসীম স্পৃহা ও বীরত্ব। এলায়ে কালিমাতুল্লাহ তথা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা জীবনবাজি রাখতে কুণ্ঠাবোধ করে না। যা নিঃস্বার্থ এবং কেবলই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে। তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত সাহসিকতা ও বীরত্ব প্রদর্শন উদ্দেশ্য নয়। আর এ বৈশিষ্ট্য উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের ওপর মর্যাদা ও সম্মানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছে।
খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.
হে আল্লাহর বান্দাগণ! হে উম্মাহর অতন্ত্র প্রহরী তরুণ শক্তি! এমন এক ব্যক্তির জীবন ও কর্মপন্থা আজ আলোচনা করব যা আমাদের ঈমানকে শানিত করবে। যার জীবনপ্রবাহ সাহসী করে তুলবে আমাদের হৃদয়কে। তার আত্মোৎসর্গের বিরল ঘটনা আমাদের ইসলামের জন্য আরো নিবেদিতপ্রাণ করে তুলবে। তিনি এমন এক ব্যক্তি উম্মাহর কোনো সদস্য তার সম্পর্কে অনবগত নয়। ছোট-बড়, নারী-পুরুষ সকলের নিকট তিনি অত্যন্ত সুবিদিত। তার নাম ও প্রশংসনীয় সাহসিকতা প্রসিদ্ধ। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে তিনি স্বীকৃত ও বরিত। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে তার নাম।
যখন তার বীরত্বের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বীর। যখন ইসলামের জন্য তার আত্মোৎসর্গের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রহরী। যখন তার বৈশিষ্ট্যের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনি এ উম্মতের শ্রেষ্ঠ পুরুষ। ইসলামের ইতিহাস এবং মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি সদস্যের নিকট তার নাম আকাশে উদিত সূর্যের মতো দেদীপ্যমান। রাতের আকাশে ধ্রুব-নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল।
তিনি কে?
কে তিনি, যার এত মহিমা? যিনি পাল্টে দিয়েছেন ইতিহাসের গতিধারা? যিনি রচনা করেছেন বিপ্লবের সোনালি দাস্তান?

টিকাঃ
৮৮ সুরা আহযাব: ২৩
৮৯ তাবারানি

আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুসলিম যুবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। ইসলামের ইতিহাসের এক অজেয় ও কিংবদন্তি মহানায়কের গল্প বলব। যিনি ছিলেন সাহসিকতা ও বীরত্বে অনন্য। ছিলেন ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। ইসলামের জন্য সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন যিনি এটি তার গল্প। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে সে গল্পের পুনরাবৃত্তি আজ অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে। মুসলিম উম্মাহর আজ এমন সাহসী তরুণের প্রয়োজন, যারা ইসলামের গতিধারা পাল্টে দেবে। যারা প্রতিহত করবে ইসলামের ওপর আপতিত আক্রমণ। যারা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর শত্রুদের মোকাবেলা করবে শক্তহাতে। শুধু কথা নয় কাজেও যারা হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। আজ কথার ফুলঝুরি ফোটানোর মতো বহু ব্যক্তি আছে কিন্তু কর্মের ময়দানে তারা শূন্য। উম্মাহর প্রয়োজনের সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
আল্লাহ তায়ালার ঘোষণার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তিনি বলেছেন,
رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ
'কতক লোক যারা আল্লাহকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছে।'⁸⁸
মুসলিম উম্মাহর আজ এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন যারা ইসলামকে তার পুরনো গতিপথে ফিরিয়ে দেবে। ফিরিয়ে আনবে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর হারানো গৌরব। যারা ইসলামকে তার প্রকৃত লক্ষ্যে পৌঁছাতে নিজেদের জান-মাল কুরবান করবে। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় উৎসর্গ করবে দেহের প্রতি ফোটা রক্ত। আজ প্রয়োজন তাদের যারা উষ্ণ রক্ত প্রবাহিত করতে মোটেও ভয় করবে না। জালিমের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে যারা কালিমার ঝান্ডা হাতে এগিয়ে যাবে সম্মুখপানে। যাদের হৃদয়ে থাকবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার আনুগত্যের প্রতি স্পৃহা। পার্থিব কোনো লালসা যাদের হঠাতে পারবে না। তাদের প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি কাজ হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য। আর তাদেরই হাতে রচিত হবে ইসলামের নয়া ইতিহাস। আল্লাহর কসম! আজ তো উম্মাহর এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন। উম্মাহর ভাগ্যাকাশে যেদিন উদিত হবে তাদের মতো কতিপয় নক্ষত্র সেদিন প্রকৃতপক্ষে মুসলিম জাতি ঘুরে দাঁড়াবে। লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকল ভেঙে তারা বেরিয়ে আসবে সম্মান ও বিজয়ের রণাঙ্গনে।
এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা সকল উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। পূর্ববর্তী সকল জাতির চেয়ে সম্মান ও মর্যাদায় অগ্রগামী করেছেন। কারণ এ উম্মতের নবী হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা এক কল্যাণকর জাতি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মানুষের কল্যাণে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের নির্বাচিত করেছেন। তারা হলো মধ্যপন্থি উম্মাহ। পূর্বে অতিবাহিত সকল উম্মতের মধ্য থেকে এ উম্মতকে নির্বাচন করেছেন। এ উম্মতের রয়েছে প্রভূত ফজিলত, যা পূর্বেকার উম্মতদের আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দেননি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
من أمتي سبعون ألفاً يدخلون الجنة بغير حساب، وجوههم كالقمر ليلة البدر
'আমার সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল।'⁸⁹
নিশ্চয় এটি উম্মতে মুহাম্মদির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উম্মতের মুহাম্মদির প্রতি মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ ও অশেষ কৃপা। অন্যান্য উম্মতের ওপর উম্মতে মুহাম্মদিকে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন নিছক এমনিতেই নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে বহু কারণ। সেসব কারণের একটি হলো সাহসিকতা। আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের চেয়ে অধিকতর সাহসিকতা দান করেছেন। তাদের বক্ষে দিয়েছেন আল্লাহর দ্বীনের জন্য অপরিসীম স্পৃহা ও বীরত্ব। এলায়ে কালিমাতুল্লাহ তথা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা জীবনবাজি রাখতে কুণ্ঠাবোধ করে না। যা নিঃস্বার্থ এবং কেবলই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে। তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত সাহসিকতা ও বীরত্ব প্রদর্শন উদ্দেশ্য নয়। আর এ বৈশিষ্ট্য উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের ওপর মর্যাদা ও সম্মানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছে।
খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.
হে আল্লাহর বান্দাগণ! হে উম্মাহর অতন্ত্র প্রহরী তরুণ শক্তি! এমন এক ব্যক্তির জীবন ও কর্মপন্থা আজ আলোচনা করব যা আমাদের ঈমানকে শানিত করবে। যার জীবনপ্রবাহ সাহসী করে তুলবে আমাদের হৃদয়কে। তার আত্মোৎসর্গের বিরল ঘটনা আমাদের ইসলামের জন্য আরো নিবেদিতপ্রাণ করে তুলবে। তিনি এমন এক ব্যক্তি উম্মাহর কোনো সদস্য তার সম্পর্কে অনবগত নয়। ছোট-बড়, নারী-পুরুষ সকলের নিকট তিনি অত্যন্ত সুবিদিত। তার নাম ও প্রশংসনীয় সাহসিকতা প্রসিদ্ধ। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে তিনি স্বীকৃত ও বরিত। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে তার নাম।
যখন তার বীরত্বের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বীর। যখন ইসলামের জন্য তার আত্মোৎসর্গের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রহরী। যখন তার বৈশিষ্ট্যের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনি এ উম্মতের শ্রেষ্ঠ পুরুষ। ইসলামের ইতিহাস এবং মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি সদস্যের নিকট তার নাম আকাশে উদিত সূর্যের মতো দেদীপ্যমান। রাতের আকাশে ধ্রুব-নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল।
তিনি কে?
কে তিনি, যার এত মহিমা? যিনি পাল্টে দিয়েছেন ইতিহাসের গতিধারা? যিনি রচনা করেছেন বিপ্লবের সোনালি দাস্তান?

টিকাঃ
৮৮ সুরা আহযাব: ২৩
৮৯ তাবারানি

আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুসলিম যুবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। ইসলামের ইতিহাসের এক অজেয় ও কিংবদন্তি মহানায়কের গল্প বলব। যিনি ছিলেন সাহসিকতা ও বীরত্বে অনন্য। ছিলেন ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। ইসলামের জন্য সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন যিনি এটি তার গল্প। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে সে গল্পের পুনরাবৃত্তি আজ অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে। মুসলিম উম্মাহর আজ এমন সাহসী তরুণের প্রয়োজন, যারা ইসলামের গতিধারা পাল্টে দেবে। যারা প্রতিহত করবে ইসলামের ওপর আপতিত আক্রমণ। যারা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর শত্রুদের মোকাবেলা করবে শক্তহাতে। শুধু কথা নয় কাজেও যারা হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। আজ কথার ফুলঝুরি ফোটানোর মতো বহু ব্যক্তি আছে কিন্তু কর্মের ময়দানে তারা শূন্য। উম্মাহর প্রয়োজনের সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
আল্লাহ তায়ালার ঘোষণার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তিনি বলেছেন,
رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ
'কতক লোক যারা আল্লাহকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছে।'⁸⁸
মুসলিম উম্মাহর আজ এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন যারা ইসলামকে তার পুরনো গতিপথে ফিরিয়ে দেবে। ফিরিয়ে আনবে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর হারানো গৌরব। যারা ইসলামকে তার প্রকৃত লক্ষ্যে পৌঁছাতে নিজেদের জান-মাল কুরবান করবে। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় উৎসর্গ করবে দেহের প্রতি ফোটা রক্ত। আজ প্রয়োজন তাদের যারা উষ্ণ রক্ত প্রবাহিত করতে মোটেও ভয় করবে না। জালিমের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে যারা কালিমার ঝান্ডা হাতে এগিয়ে যাবে সম্মুখপানে। যাদের হৃদয়ে থাকবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার আনুগত্যের প্রতি স্পৃহা। পার্থিব কোনো লালসা যাদের হঠাতে পারবে না। তাদের প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি কাজ হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য। আর তাদেরই হাতে রচিত হবে ইসলামের নয়া ইতিহাস। আল্লাহর কসম! আজ তো উম্মাহর এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন। উম্মাহর ভাগ্যাকাশে যেদিন উদিত হবে তাদের মতো কতিপয় নক্ষত্র সেদিন প্রকৃতপক্ষে মুসলিম জাতি ঘুরে দাঁড়াবে। লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকল ভেঙে তারা বেরিয়ে আসবে সম্মান ও বিজয়ের রণাঙ্গনে।
এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা সকল উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। পূর্ববর্তী সকল জাতির চেয়ে সম্মান ও মর্যাদায় অগ্রগামী করেছেন। কারণ এ উম্মতের নবী হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা এক কল্যাণকর জাতি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মানুষের কল্যাণে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের নির্বাচিত করেছেন। তারা হলো মধ্যপন্থি উম্মাহ। পূর্বে অতিবাহিত সকল উম্মতের মধ্য থেকে এ উম্মতকে নির্বাচন করেছেন। এ উম্মতের রয়েছে প্রভূত ফজিলত, যা পূর্বেকার উম্মতদের আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দেননি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
من أمتي سبعون ألفاً يدخلون الجنة بغير حساب، وجوههم كالقمر ليلة البدر
'আমার সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল।'⁸⁹
নিশ্চয় এটি উম্মতে মুহাম্মদির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উম্মতের মুহাম্মদির প্রতি মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ ও অশেষ কৃপা। অন্যান্য উম্মতের ওপর উম্মতে মুহাম্মদিকে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন নিছক এমনিতেই নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে বহু কারণ। সেসব কারণের একটি হলো সাহসিকতা। আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের চেয়ে অধিকতর সাহসিকতা দান করেছেন। তাদের বক্ষে দিয়েছেন আল্লাহর দ্বীনের জন্য অপরিসীম স্পৃহা ও বীরত্ব। এলায়ে কালিমাতুল্লাহ তথা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা জীবনবাজি রাখতে কুণ্ঠাবোধ করে না। যা নিঃস্বার্থ এবং কেবলই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে। তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত সাহসিকতা ও বীরত্ব প্রদর্শন উদ্দেশ্য নয়। আর এ বৈশিষ্ট্য উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের ওপর মর্যাদা ও সম্মানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছে।
খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.
হে আল্লাহর বান্দাগণ! হে উম্মাহর অতন্ত্র প্রহরী তরুণ শক্তি! এমন এক ব্যক্তির জীবন ও কর্মপন্থা আজ আলোচনা করব যা আমাদের ঈমানকে শানিত করবে। যার জীবনপ্রবাহ সাহসী করে তুলবে আমাদের হৃদয়কে। তার আত্মোৎসর্গের বিরল ঘটনা আমাদের ইসলামের জন্য আরো নিবেদিতপ্রাণ করে তুলবে। তিনি এমন এক ব্যক্তি উম্মাহর কোনো সদস্য তার সম্পর্কে অনবগত নয়। ছোট-बড়, নারী-পুরুষ সকলের নিকট তিনি অত্যন্ত সুবিদিত। তার নাম ও প্রশংসনীয় সাহসিকতা প্রসিদ্ধ। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে তিনি স্বীকৃত ও বরিত। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে তার নাম।
যখন তার বীরত্বের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বীর। যখন ইসলামের জন্য তার আত্মোৎসর্গের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রহরী। যখন তার বৈশিষ্ট্যের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনি এ উম্মতের শ্রেষ্ঠ পুরুষ। ইসলামের ইতিহাস এবং মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি সদস্যের নিকট তার নাম আকাশে উদিত সূর্যের মতো দেদীপ্যমান। রাতের আকাশে ধ্রুব-নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল।
তিনি কে?
কে তিনি, যার এত মহিমা? যিনি পাল্টে দিয়েছেন ইতিহাসের গতিধারা? যিনি রচনা করেছেন বিপ্লবের সোনালি দাস্তান?

টিকাঃ
৮৮ সুরা আহযাব: ২৩
৮৯ তাবারানি

আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুসলিম যুবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। ইসলামের ইতিহাসের এক অজেয় ও কিংবদন্তি মহানায়কের গল্প বলব। যিনি ছিলেন সাহসিকতা ও বীরত্বে অনন্য। ছিলেন ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। ইসলামের জন্য সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন যিনি এটি তার গল্প। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে সে গল্পের পুনরাবৃত্তি আজ অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে। মুসলিম উম্মাহর আজ এমন সাহসী তরুণের প্রয়োজন, যারা ইসলামের গতিধারা পাল্টে দেবে। যারা প্রতিহত করবে ইসলামের ওপর আপতিত আক্রমণ। যারা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর শত্রুদের মোকাবেলা করবে শক্তহাতে। শুধু কথা নয় কাজেও যারা হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। আজ কথার ফুলঝুরি ফোটানোর মতো বহু ব্যক্তি আছে কিন্তু কর্মের ময়দানে তারা শূন্য। উম্মাহর প্রয়োজনের সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
আল্লাহ তায়ালার ঘোষণার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তিনি বলেছেন,
رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ
'কতক লোক যারা আল্লাহকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছে।'⁸⁸
মুসলিম উম্মাহর আজ এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন যারা ইসলামকে তার পুরনো গতিপথে ফিরিয়ে দেবে। ফিরিয়ে আনবে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর হারানো গৌরব। যারা ইসলামকে তার প্রকৃত লক্ষ্যে পৌঁছাতে নিজেদের জান-মাল কুরবান করবে। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় উৎসর্গ করবে দেহের প্রতি ফোটা রক্ত। আজ প্রয়োজন তাদের যারা উষ্ণ রক্ত প্রবাহিত করতে মোটেও ভয় করবে না। জালিমের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে যারা কালিমার ঝান্ডা হাতে এগিয়ে যাবে সম্মুখপানে। যাদের হৃদয়ে থাকবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার আনুগত্যের প্রতি স্পৃহা। পার্থিব কোনো লালসা যাদের হঠাতে পারবে না। তাদের প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি কাজ হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য। আর তাদেরই হাতে রচিত হবে ইসলামের নয়া ইতিহাস। আল্লাহর কসম! আজ তো উম্মাহর এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন। উম্মাহর ভাগ্যাকাশে যেদিন উদিত হবে তাদের মতো কতিপয় নক্ষত্র সেদিন প্রকৃতপক্ষে মুসলিম জাতি ঘুরে দাঁড়াবে। লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকল ভেঙে তারা বেরিয়ে আসবে সম্মান ও বিজয়ের রণাঙ্গনে।
এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা সকল উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। পূর্ববর্তী সকল জাতির চেয়ে সম্মান ও মর্যাদায় অগ্রগামী করেছেন। কারণ এ উম্মতের নবী হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা এক কল্যাণকর জাতি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মানুষের কল্যাণে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের নির্বাচিত করেছেন। তারা হলো মধ্যপন্থি উম্মাহ। পূর্বে অতিবাহিত সকল উম্মতের মধ্য থেকে এ উম্মতকে নির্বাচন করেছেন। এ উম্মতের রয়েছে প্রভূত ফজিলত, যা পূর্বেকার উম্মতদের আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দেননি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
من أمتي سبعون ألفاً يدخلون الجنة بغير حساب، وجوههم كالقمر ليلة البدر
'আমার সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল।'⁸⁹
নিশ্চয় এটি উম্মতে মুহাম্মদির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উম্মতের মুহাম্মদির প্রতি মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ ও অশেষ কৃপা। অন্যান্য উম্মতের ওপর উম্মতে মুহাম্মদিকে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন নিছক এমনিতেই নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে বহু কারণ। সেসব কারণের একটি হলো সাহসিকতা। আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের চেয়ে অধিকতর সাহসিকতা দান করেছেন। তাদের বক্ষে দিয়েছেন আল্লাহর দ্বীনের জন্য অপরিসীম স্পৃহা ও বীরত্ব। এলায়ে কালিমাতুল্লাহ তথা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা জীবনবাজি রাখতে কুণ্ঠাবোধ করে না। যা নিঃস্বার্থ এবং কেবলই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে। তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত সাহসিকতা ও বীরত্ব প্রদর্শন উদ্দেশ্য নয়। আর এ বৈশিষ্ট্য উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের ওপর মর্যাদা ও সম্মানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছে।
খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.
হে আল্লাহর বান্দাগণ! হে উম্মাহর অতন্ত্র প্রহরী তরুণ শক্তি! এমন এক ব্যক্তির জীবন ও কর্মপন্থা আজ আলোচনা করব যা আমাদের ঈমানকে শানিত করবে। যার জীবনপ্রবাহ সাহসী করে তুলবে আমাদের হৃদয়কে। তার আত্মোৎসর্গের বিরল ঘটনা আমাদের ইসলামের জন্য আরো নিবেদিতপ্রাণ করে তুলবে। তিনি এমন এক ব্যক্তি উম্মাহর কোনো সদস্য তার সম্পর্কে অনবগত নয়। ছোট-बড়, নারী-পুরুষ সকলের নিকট তিনি অত্যন্ত সুবিদিত। তার নাম ও প্রশংসনীয় সাহসিকতা প্রসিদ্ধ। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে তিনি স্বীকৃত ও বরিত। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে তার নাম।
যখন তার বীরত্বের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বীর। যখন ইসলামের জন্য তার আত্মোৎসর্গের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রহরী। যখন তার বৈশিষ্ট্যের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনি এ উম্মতের শ্রেষ্ঠ পুরুষ। ইসলামের ইতিহাস এবং মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি সদস্যের নিকট তার নাম আকাশে উদিত সূর্যের মতো দেদীপ্যমান। রাতের আকাশে ধ্রুব-নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল।
তিনি কে?
কে তিনি, যার এত মহিমা? যিনি পাল্টে দিয়েছেন ইতিহাসের গতিধারা? যিনি রচনা করেছেন বিপ্লবের সোনালি দাস্তান?

টিকাঃ
৮৮ সুরা আহযাব: ২৩
৮৯ তাবারানি

আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুসলিম যুবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। ইসলামের ইতিহাসের এক অজেয় ও কিংবদন্তি মহানায়কের গল্প বলব। যিনি ছিলেন সাহসিকতা ও বীরত্বে অনন্য। ছিলেন ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। ইসলামের জন্য সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন যিনি এটি তার গল্প। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে সে গল্পের পুনরাবৃত্তি আজ অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে। মুসলিম উম্মাহর আজ এমন সাহসী তরুণের প্রয়োজন, যারা ইসলামের গতিধারা পাল্টে দেবে। যারা প্রতিহত করবে ইসলামের ওপর আপতিত আক্রমণ। যারা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর শত্রুদের মোকাবেলা করবে শক্তহাতে। শুধু কথা নয় কাজেও যারা হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। আজ কথার ফুলঝুরি ফোটানোর মতো বহু ব্যক্তি আছে কিন্তু কর্মের ময়দানে তারা শূন্য। উম্মাহর প্রয়োজনের সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
আল্লাহ তায়ালার ঘোষণার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তিনি বলেছেন,
رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ
'কতক লোক যারা আল্লাহকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছে।'⁸⁸
মুসলিম উম্মাহর আজ এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন যারা ইসলামকে তার পুরনো গতিপথে ফিরিয়ে দেবে। ফিরিয়ে আনবে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর হারানো গৌরব। যারা ইসলামকে তার প্রকৃত লক্ষ্যে পৌঁছাতে নিজেদের জান-মাল কুরবান করবে। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় উৎসর্গ করবে দেহের প্রতি ফোটা রক্ত। আজ প্রয়োজন তাদের যারা উষ্ণ রক্ত প্রবাহিত করতে মোটেও ভয় করবে না। জালিমের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে যারা কালিমার ঝান্ডা হাতে এগিয়ে যাবে সম্মুখপানে। যাদের হৃদয়ে থাকবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার আনুগত্যের প্রতি স্পৃহা। পার্থিব কোনো লালসা যাদের হঠাতে পারবে না। তাদের প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি কাজ হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য। আর তাদেরই হাতে রচিত হবে ইসলামের নয়া ইতিহাস। আল্লাহর কসম! আজ তো উম্মাহর এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন। উম্মাহর ভাগ্যাকাশে যেদিন উদিত হবে তাদের মতো কতিপয় নক্ষত্র সেদিন প্রকৃতপক্ষে মুসলিম জাতি ঘুরে দাঁড়াবে। লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকল ভেঙে তারা বেরিয়ে আসবে সম্মান ও বিজয়ের রণাঙ্গনে।
এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা সকল উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। পূর্ববর্তী সকল জাতির চেয়ে সম্মান ও মর্যাদায় অগ্রগামী করেছেন। কারণ এ উম্মতের নবী হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা এক কল্যাণকর জাতি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মানুষের কল্যাণে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের নির্বাচিত করেছেন। তারা হলো মধ্যপন্থি উম্মাহ। পূর্বে অতিবাহিত সকল উম্মতের মধ্য থেকে এ উম্মতকে নির্বাচন করেছেন। এ উম্মতের রয়েছে প্রভূত ফজিলত, যা পূর্বেকার উম্মতদের আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দেননি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
من أمتي سبعون ألفاً يدخلون الجنة بغير حساب، وجوههم كالقمر ليلة البدر
'আমার সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল।'⁸⁹
নিশ্চয় এটি উম্মতে মুহাম্মদির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উম্মতের মুহাম্মদির প্রতি মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ ও অশেষ কৃপা। অন্যান্য উম্মতের ওপর উম্মতে মুহাম্মদিকে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন নিছক এমনিতেই নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে বহু কারণ। সেসব কারণের একটি হলো সাহসিকতা। আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের চেয়ে অধিকতর সাহসিকতা দান করেছেন। তাদের বক্ষে দিয়েছেন আল্লাহর দ্বীনের জন্য অপরিসীম স্পৃহা ও বীরত্ব। এলায়ে কালিমাতুল্লাহ তথা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা জীবনবাজি রাখতে কুণ্ঠাবোধ করে না। যা নিঃস্বার্থ এবং কেবলই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে। তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত সাহসিকতা ও বীরত্ব প্রদর্শন উদ্দেশ্য নয়। আর এ বৈশিষ্ট্য উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের ওপর মর্যাদা ও সম্মানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছে।
খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.
হে আল্লাহর বান্দাগণ! হে উম্মাহর অতন্ত্র প্রহরী তরুণ শক্তি! এমন এক ব্যক্তির জীবন ও কর্মপন্থা আজ আলোচনা করব যা আমাদের ঈমানকে শানিত করবে। যার জীবনপ্রবাহ সাহসী করে তুলবে আমাদের হৃদয়কে। তার আত্মোৎসর্গের বিরল ঘটনা আমাদের ইসলামের জন্য আরো নিবেদিতপ্রাণ করে তুলবে। তিনি এমন এক ব্যক্তি উম্মাহর কোনো সদস্য তার সম্পর্কে অনবগত নয়। ছোট-बড়, নারী-পুরুষ সকলের নিকট তিনি অত্যন্ত সুবিদিত। তার নাম ও প্রশংসনীয় সাহসিকতা প্রসিদ্ধ। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে তিনি স্বীকৃত ও বরিত। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে তার নাম।
যখন তার বীরত্বের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বীর। যখন ইসলামের জন্য তার আত্মোৎসর্গের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রহরী। যখন তার বৈশিষ্ট্যের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনি এ উম্মতের শ্রেষ্ঠ পুরুষ। ইসলামের ইতিহাস এবং মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি সদস্যের নিকট তার নাম আকাশে উদিত সূর্যের মতো দেদীপ্যমান। রাতের আকাশে ধ্রুব-নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল।
তিনি কে?
কে তিনি, যার এত মহিমা? যিনি পাল্টে দিয়েছেন ইতিহাসের গতিধারা? যিনি রচনা করেছেন বিপ্লবের সোনালি দাস্তান?

টিকাঃ
৮৮ সুরা আহযাব: ২৩
৮৯ তাবারানি

আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুসলিম যুবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। ইসলামের ইতিহাসের এক অজেয় ও কিংবদন্তি মহানায়কের গল্প বলব। যিনি ছিলেন সাহসিকতা ও বীরত্বে অনন্য। ছিলেন ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। ইসলামের জন্য সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন যিনি এটি তার গল্প। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে সে গল্পের পুনরাবৃত্তি আজ অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে। মুসলিম উম্মাহর আজ এমন সাহসী তরুণের প্রয়োজন, যারা ইসলামের গতিধারা পাল্টে দেবে। যারা প্রতিহত করবে ইসলামের ওপর আপতিত আক্রমণ। যারা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর শত্রুদের মোকাবেলা করবে শক্তহাতে। শুধু কথা নয় কাজেও যারা হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। আজ কথার ফুলঝুরি ফোটানোর মতো বহু ব্যক্তি আছে কিন্তু কর্মের ময়দানে তারা শূন্য। উম্মাহর প্রয়োজনের সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
আল্লাহ তায়ালার ঘোষণার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তিনি বলেছেন,
رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ
'কতক লোক যারা আল্লাহকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছে।'⁸⁸
মুসলিম উম্মাহর আজ এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন যারা ইসলামকে তার পুরনো গতিপথে ফিরিয়ে দেবে। ফিরিয়ে আনবে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর হারানো গৌরব। যারা ইসলামকে তার প্রকৃত লক্ষ্যে পৌঁছাতে নিজেদের জান-মাল কুরবান করবে। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় উৎসর্গ করবে দেহের প্রতি ফোটা রক্ত। আজ প্রয়োজন তাদের যারা উষ্ণ রক্ত প্রবাহিত করতে মোটেও ভয় করবে না। জালিমের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে যারা কালিমার ঝান্ডা হাতে এগিয়ে যাবে সম্মুখপানে। যাদের হৃদয়ে থাকবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার আনুগত্যের প্রতি স্পৃহা। পার্থিব কোনো লালসা যাদের হঠাতে পারবে না। তাদের প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি কাজ হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য। আর তাদেরই হাতে রচিত হবে ইসলামের নয়া ইতিহাস। আল্লাহর কসম! আজ তো উম্মাহর এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন। উম্মাহর ভাগ্যাকাশে যেদিন উদিত হবে তাদের মতো কতিপয় নক্ষত্র সেদিন প্রকৃতপক্ষে মুসলিম জাতি ঘুরে দাঁড়াবে। লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকল ভেঙে তারা বেরিয়ে আসবে সম্মান ও বিজয়ের রণাঙ্গনে।
এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা সকল উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। পূর্ববর্তী সকল জাতির চেয়ে সম্মান ও মর্যাদায় অগ্রগামী করেছেন। কারণ এ উম্মতের নবী হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা এক কল্যাণকর জাতি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মানুষের কল্যাণে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের নির্বাচিত করেছেন। তারা হলো মধ্যপন্থি উম্মাহ। পূর্বে অতিবাহিত সকল উম্মতের মধ্য থেকে এ উম্মতকে নির্বাচন করেছেন। এ উম্মতের রয়েছে প্রভূত ফজিলত, যা পূর্বেকার উম্মতদের আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দেননি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
من أمتي سبعون ألفاً يدخلون الجنة بغير حساب، وجوههم كالقمر ليلة البدر
'আমার সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল।'⁸⁹
নিশ্চয় এটি উম্মতে মুহাম্মদির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উম্মতের মুহাম্মদির প্রতি মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ ও অশেষ কৃপা। অন্যান্য উম্মতের ওপর উম্মতে মুহাম্মদিকে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন নিছক এমনিতেই নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে বহু কারণ। সেসব কারণের একটি হলো সাহসিকতা। আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের চেয়ে অধিকতর সাহসিকতা দান করেছেন। তাদের বক্ষে দিয়েছেন আল্লাহর দ্বীনের জন্য অপরিসীম স্পৃহা ও বীরত্ব। এলায়ে কালিমাতুল্লাহ তথা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা জীবনবাজি রাখতে কুণ্ঠাবোধ করে না। যা নিঃস্বার্থ এবং কেবলই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে। তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত সাহসিকতা ও বীরত্ব প্রদর্শন উদ্দেশ্য নয়। আর এ বৈশিষ্ট্য উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের ওপর মর্যাদা ও সম্মানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছে।
খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.
হে আল্লাহর বান্দাগণ! হে উম্মাহর অতন্ত্র প্রহরী তরুণ শক্তি! এমন এক ব্যক্তির জীবন ও কর্মপন্থা আজ আলোচনা করব যা আমাদের ঈমানকে শানিত করবে। যার জীবনপ্রবাহ সাহসী করে তুলবে আমাদের হৃদয়কে। তার আত্মোৎসর্গের বিরল ঘটনা আমাদের ইসলামের জন্য আরো নিবেদিতপ্রাণ করে তুলবে। তিনি এমন এক ব্যক্তি উম্মাহর কোনো সদস্য তার সম্পর্কে অনবগত নয়। ছোট-बড়, নারী-পুরুষ সকলের নিকট তিনি অত্যন্ত সুবিদিত। তার নাম ও প্রশংসনীয় সাহসিকতা প্রসিদ্ধ। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে তিনি স্বীকৃত ও বরিত। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে তার নাম।
যখন তার বীরত্বের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বীর। যখন ইসলামের জন্য তার আত্মোৎসর্গের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রহরী। যখন তার বৈশিষ্ট্যের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনি এ উম্মতের শ্রেষ্ঠ পুরুষ। ইসলামের ইতিহাস এবং মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি সদস্যের নিকট তার নাম আকাশে উদিত সূর্যের মতো দেদীপ্যমান। রাতের আকাশে ধ্রুব-নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল।
তিনি কে?
কে তিনি, যার এত মহিমা? যিনি পাল্টে দিয়েছেন ইতিহাসের গতিধারা? যিনি রচনা করেছেন বিপ্লবের সোনালি দাস্তান?

টিকাঃ
৮৮ সুরা আহযাব: ২৩
৮৯ তাবারানি

আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুসলিম যুবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। ইসলামের ইতিহাসের এক অজেয় ও কিংবদন্তি মহানায়কের গল্প বলব। যিনি ছিলেন সাহসিকতা ও বীরত্বে অনন্য। ছিলেন ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। ইসলামের জন্য সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন যিনি এটি তার গল্প। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে সে গল্পের পুনরাবৃত্তি আজ অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে। মুসলিম উম্মাহর আজ এমন সাহসী তরুণের প্রয়োজন, যারা ইসলামের গতিধারা পাল্টে দেবে। যারা প্রতিহত করবে ইসলামের ওপর আপতিত আক্রমণ। যারা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর শত্রুদের মোকাবেলা করবে শক্তহাতে। শুধু কথা নয় কাজেও যারা হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। আজ কথার ফুলঝুরি ফোটানোর মতো বহু ব্যক্তি আছে কিন্তু কর্মের ময়দানে তারা শূন্য। উম্মাহর প্রয়োজনের সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
আল্লাহ তায়ালার ঘোষণার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তিনি বলেছেন,
رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ
'কতক লোক যারা আল্লাহকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছে।'⁸⁸
মুসলিম উম্মাহর আজ এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন যারা ইসলামকে তার পুরনো গতিপথে ফিরিয়ে দেবে। ফিরিয়ে আনবে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর হারানো গৌরব। যারা ইসলামকে তার প্রকৃত লক্ষ্যে পৌঁছাতে নিজেদের জান-মাল কুরবান করবে। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় উৎসর্গ করবে দেহের প্রতি ফোটা রক্ত। আজ প্রয়োজন তাদের যারা উষ্ণ রক্ত প্রবাহিত করতে মোটেও ভয় করবে না। জালিমের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে যারা কালিমার ঝান্ডা হাতে এগিয়ে যাবে সম্মুখপানে। যাদের হৃদয়ে থাকবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার আনুগত্যের প্রতি স্পৃহা। পার্থিব কোনো লালসা যাদের হঠাতে পারবে না। তাদের প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি কাজ হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য। আর তাদেরই হাতে রচিত হবে ইসলামের নয়া ইতিহাস। আল্লাহর কসম! আজ তো উম্মাহর এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন। উম্মাহর ভাগ্যাকাশে যেদিন উদিত হবে তাদের মতো কতিপয় নক্ষত্র সেদিন প্রকৃতপক্ষে মুসলিম জাতি ঘুরে দাঁড়াবে। লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকল ভেঙে তারা বেরিয়ে আসবে সম্মান ও বিজয়ের রণাঙ্গনে।
এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা সকল উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। পূর্ববর্তী সকল জাতির চেয়ে সম্মান ও মর্যাদায় অগ্রগামী করেছেন। কারণ এ উম্মতের নবী হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা এক কল্যাণকর জাতি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মানুষের কল্যাণে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের নির্বাচিত করেছেন। তারা হলো মধ্যপন্থি উম্মাহ। পূর্বে অতিবাহিত সকল উম্মতের মধ্য থেকে এ উম্মতকে নির্বাচন করেছেন। এ উম্মতের রয়েছে প্রভূত ফজিলত, যা পূর্বেকার উম্মতদের আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দেননি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
من أمتي سبعون ألفاً يدخلون الجنة بغير حساب، وجوههم كالقمر ليلة البدر
'আমার সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল।'⁸⁹
নিশ্চয় এটি উম্মতে মুহাম্মদির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উম্মতের মুহাম্মদির প্রতি মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ ও অশেষ কৃপা। অন্যান্য উম্মতের ওপর উম্মতে মুহাম্মদিকে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন নিছক এমনিতেই নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে বহু কারণ। সেসব কারণের একটি হলো সাহসিকতা। আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের চেয়ে অধিকতর সাহসিকতা দান করেছেন। তাদের বক্ষে দিয়েছেন আল্লাহর দ্বীনের জন্য অপরিসীম স্পৃহা ও বীরত্ব। এলায়ে কালিমাতুল্লাহ তথা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা জীবনবাজি রাখতে কুণ্ঠাবোধ করে না। যা নিঃস্বার্থ এবং কেবলই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে। তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত সাহসিকতা ও বীরত্ব প্রদর্শন উদ্দেশ্য নয়। আর এ বৈশিষ্ট্য উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের ওপর মর্যাদা ও সম্মানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছে।
খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.
হে আল্লাহর বান্দাগণ! হে উম্মাহর অতন্ত্র প্রহরী তরুণ শক্তি! এমন এক ব্যক্তির জীবন ও কর্মপন্থা আজ আলোচনা করব যা আমাদের ঈমানকে শানিত করবে। যার জীবনপ্রবাহ সাহসী করে তুলবে আমাদের হৃদয়কে। তার আত্মোৎসর্গের বিরল ঘটনা আমাদের ইসলামের জন্য আরো নিবেদিতপ্রাণ করে তুলবে। তিনি এমন এক ব্যক্তি উম্মাহর কোনো সদস্য তার সম্পর্কে অনবগত নয়। ছোট-बড়, নারী-পুরুষ সকলের নিকট তিনি অত্যন্ত সুবিদিত। তার নাম ও প্রশংসনীয় সাহসিকতা প্রসিদ্ধ। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে তিনি স্বীকৃত ও বরিত। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে তার নাম।
যখন তার বীরত্বের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বীর। যখন ইসলামের জন্য তার আত্মোৎসর্গের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রহরী। যখন তার বৈশিষ্ট্যের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনি এ উম্মতের শ্রেষ্ঠ পুরুষ। ইসলামের ইতিহাস এবং মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি সদস্যের নিকট তার নাম আকাশে উদিত সূর্যের মতো দেদীপ্যমান। রাতের আকাশে ধ্রুব-নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল।
তিনি কে?
কে তিনি, যার এত মহিমা? যিনি পাল্টে দিয়েছেন ইতিহাসের গতিধারা? যিনি রচনা করেছেন বিপ্লবের সোনালি দাস্তান?

টিকাঃ
৮৮ সুরা আহযাব: ২৩
৮৯ তাবারানি

আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুসলিম যুবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। ইসলামের ইতিহাসের এক অজেয় ও কিংবদন্তি মহানায়কের গল্প বলব। যিনি ছিলেন সাহসিকতা ও বীরত্বে অনন্য। ছিলেন ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। ইসলামের জন্য সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন যিনি এটি তার গল্প। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে সে গল্পের পুনরাবৃত্তি আজ অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে। মুসলিম উম্মাহর আজ এমন সাহসী তরুণের প্রয়োজন, যারা ইসলামের গতিধারা পাল্টে দেবে। যারা প্রতিহত করবে ইসলামের ওপর আপতিত আক্রমণ। যারা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর শত্রুদের মোকাবেলা করবে শক্তহাতে। শুধু কথা নয় কাজেও যারা হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। আজ কথার ফুলঝুরি ফোটানোর মতো বহু ব্যক্তি আছে কিন্তু কর্মের ময়দানে তারা শূন্য। উম্মাহর প্রয়োজনের সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
আল্লাহ তায়ালার ঘোষণার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তিনি বলেছেন,
رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ
'কতক লোক যারা আল্লাহকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছে।'⁸⁸
মুসলিম উম্মাহর আজ এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন যারা ইসলামকে তার পুরনো গতিপথে ফিরিয়ে দেবে। ফিরিয়ে আনবে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর হারানো গৌরব। যারা ইসলামকে তার প্রকৃত লক্ষ্যে পৌঁছাতে নিজেদের জান-মাল কুরবান করবে। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় উৎসর্গ করবে দেহের প্রতি ফোটা রক্ত। আজ প্রয়োজন তাদের যারা উষ্ণ রক্ত প্রবাহিত করতে মোটেও ভয় করবে না। জালিমের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে যারা কালিমার ঝান্ডা হাতে এগিয়ে যাবে সম্মুখপানে। যাদের হৃদয়ে থাকবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার আনুগত্যের প্রতি স্পৃহা। পার্থিব কোনো লালসা যাদের হঠাতে পারবে না। তাদের প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি কাজ হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য। আর তাদেরই হাতে রচিত হবে ইসলামের নয়া ইতিহাস। আল্লাহর কসম! আজ তো উম্মাহর এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন। উম্মাহর ভাগ্যাকাশে যেদিন উদিত হবে তাদের মতো কতিপয় নক্ষত্র সেদিন প্রকৃতপক্ষে মুসলিম জাতি ঘুরে দাঁড়াবে। লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকল ভেঙে তারা বেরিয়ে আসবে সম্মান ও বিজয়ের রণাঙ্গনে।
এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা সকল উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। পূর্ববর্তী সকল জাতির চেয়ে সম্মান ও মর্যাদায় অগ্রগামী করেছেন। কারণ এ উম্মতের নবী হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা এক কল্যাণকর জাতি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মানুষের কল্যাণে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের নির্বাচিত করেছেন। তারা হলো মধ্যপন্থি উম্মাহ। পূর্বে অতিবাহিত সকল উম্মতের মধ্য থেকে এ উম্মতকে নির্বাচন করেছেন। এ উম্মতের রয়েছে প্রভূত ফজিলত, যা পূর্বেকার উম্মতদের আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দেননি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
من أمتي سبعون ألفاً يدخلون الجنة بغير حساب، وجوههم كالقمر ليلة البدر
'আমার সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল।'⁸⁹
নিশ্চয় এটি উম্মতে মুহাম্মদির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উম্মতের মুহাম্মদির প্রতি মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ ও অশেষ কৃপা। অন্যান্য উম্মতের ওপর উম্মতে মুহাম্মদিকে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন নিছক এমনিতেই নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে বহু কারণ। সেসব কারণের একটি হলো সাহসিকতা। আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের চেয়ে অধিকতর সাহসিকতা দান করেছেন। তাদের বক্ষে দিয়েছেন আল্লাহর দ্বীনের জন্য অপরিসীম স্পৃহা ও বীরত্ব। এলায়ে কালিমাতুল্লাহ তথা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা জীবনবাজি রাখতে কুণ্ঠাবোধ করে না। যা নিঃস্বার্থ এবং কেবলই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে। তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত সাহসিকতা ও বীরত্ব প্রদর্শন উদ্দেশ্য নয়। আর এ বৈশিষ্ট্য উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের ওপর মর্যাদা ও সম্মানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছে।
খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.
হে আল্লাহর বান্দাগণ! হে উম্মাহর অতন্ত্র প্রহরী তরুণ শক্তি! এমন এক ব্যক্তির জীবন ও কর্মপন্থা আজ আলোচনা করব যা আমাদের ঈমানকে শানিত করবে। যার জীবনপ্রবাহ সাহসী করে তুলবে আমাদের হৃদয়কে। তার আত্মোৎসর্গের বিরল ঘটনা আমাদের ইসলামের জন্য আরো নিবেদিতপ্রাণ করে তুলবে। তিনি এমন এক ব্যক্তি উম্মাহর কোনো সদস্য তার সম্পর্কে অনবগত নয়। ছোট-बড়, নারী-পুরুষ সকলের নিকট তিনি অত্যন্ত সুবিদিত। তার নাম ও প্রশংসনীয় সাহসিকতা প্রসিদ্ধ। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে তিনি স্বীকৃত ও বরিত। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে তার নাম।
যখন তার বীরত্বের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বীর। যখন ইসলামের জন্য তার আত্মোৎসর্গের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রহরী। যখন তার বৈশিষ্ট্যের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনি এ উম্মতের শ্রেষ্ঠ পুরুষ। ইসলামের ইতিহাস এবং মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি সদস্যের নিকট তার নাম আকাশে উদিত সূর্যের মতো দেদীপ্যমান। রাতের আকাশে ধ্রুব-নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল।
তিনি কে?
কে তিনি, যার এত মহিমা? যিনি পাল্টে দিয়েছেন ইতিহাসের গতিধারা? যিনি রচনা করেছেন বিপ্লবের সোনালি দাস্তান?

টিকাঃ
৮৮ সুরা আহযাব: ২৩
৮৯ তাবারানি

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00