📘 হে যুবক! ফিরে এসো রবের দিকে > 📄 যুবকদের মর্যাদা

📄 যুবকদের মর্যাদা


আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْعِزَّةَ فَلِلَّهِ الْعِزَّةُ جَمِيعًا
'যে সম্মান চায় তার জানা উচিত, যাবতীয় সম্মান একমাত্র আল্লাহর জন্য।'⁵⁴
অপর আয়াতে ইরশাদ করেন,
وَلِلَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَلَكِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَا يَعْلَمُونَ
'আসলে সম্মান তো আল্লাহর, তার রাসুলের এবং মুমিনদের। কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না।'⁵⁵
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেছেন এবং মদিনায় ইসলামের প্রচার-প্রসার করছেন। মদিনার ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে ঈমানের আলো। মদিনার লোকেরা দলে দলে মুসলমান হতে লাগল। কিন্তু এ দৃশ্যে গাত্রদাহ শুরু হলো ইসলামের শত্রুদের। কাফের মুশরিকরা মুসলমানদের এ অগ্রযাত্রাকে যে-কোনো মূল্যে রুখে দিতে চাইল। আর এ জন্য তারা গ্রহণ করল একটি মাস্টারপ্ল্যান। মদিনার চারপাশের সকল গোত্র মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হলো। তারা যে-কোনো মূল্যে ইসলামের আলোকে নিভিয়ে দিতে চায়। থামিয়ে দিতে চায় কালিমার অগ্রযাত্রাকে। মদিনায় ইসলাম ও মুসলমানদের তখন নিদারুণ ক্রান্তিকাল। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মুসলমানদের সে অবস্থা বর্ণনা করে বলেন,
إِذْ جَاءُوكُم مِّن فَوْقِكُمْ وَمِنْ أَسْفَلَ مِنكُمْ وَإِذْ زَاغَتِ الْأَبْصَارُ وَبَلَغَتِ الْقُلُوبُ الْحَنَاجِرَ وَتَظُنُّونَ بِاللَّهِ الظُّنُونَا هُنَالِكَ ابْتُلِيَ الْمُؤْمِنُونَ وَزُلْزِلُوا زِلْزَالًا شَدِيدًا
'যখন তোমাদের উপরের দিক থেকে ও নিচের দিক থেকে শত্রুরা তোমাদের দিকে এসেছিল, যখন ভয়ে তোমাদের দৃষ্টিসমূহ নিস্তেজ হয়ে এসেছিল ও হৃৎপিণ্ডগুলো গলার কাছে চলে এসেছিল এবং তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানা রকম সন্দেহ পোষণ করতে শুরু করেছিলে। সেখানেই মুমিনরা পরীক্ষায় নিপতিত হয়েছিল এবং দারুণভাবে প্রকম্পিত হয়েছিল।’⁵⁶
মদিনায় মুসলমানদের তখন নিদারুণ ক্রান্তিকাল। দ্বীন ও জাতির এমন কঠিন মুহূর্তে এবং ঘোরতর বিপদের সময় ঈমানদার যুবকদের মর্যাদা পরিলক্ষিত হয়। প্রস্ফুটিত হয় মুসলিম যুবকদের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য। রাসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দেখলেন, মদিনা ও মদিনার আশপাশের ইহুদি- খ্রিষ্টান ও কাফের মুশরিকরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সম্মিলিত জোট হয়ে তারা মুসলমানদের মদিনা থেকে বিতাড়িত করতে চাচ্ছে। নিভিয়ে দিতে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে আল্লাহর দ্বীনকে। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার গাতফান গোত্রের দুজন নেতার সাথে গোপনে সাক্ষাৎ করলেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গাতফান গোত্রের মনোভাব জানলেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পারলেন, গাতফান গোত্রের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো সম্পদ। মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের কোনো প্রকার শত্রুতা নেই। তাদের উদ্দেশ্য ধন-সম্পদ। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সন্ধির প্রস্তাব দিলেন। যেন তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত জোটের অভিযানে অংশগ্রহণ না করে। এর মাধ্যমে মদিনাবাসীর ওপর শত্রুদের চাপ কিছুটা হলেও লাঘব হবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে মদিনার মুসলমানদের এক তৃতীয়াংশ ফসলের বিনিময়ে সন্ধি করলেন। তবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি শর্ত দিলেন। শর্তটি হলো, তিনি এ ব্যাপারে সাদ ইবনে মুয়াজ রা.-যিনি আউস সম্প্রদায়ের নেতা-এবং সাদ ইবনে উবাদা রা.-যিনি খাজরাজ গোত্রের নেতা-এ দুজনের সাথে পরামর্শ করে তবেই সন্ধিপত্র চূড়ান্ত করবেন।
হযরত সাদ ইবনে মুয়াজ এবং হযরত সাদ ইবনে উবাদা রা. দুজনই ছিলেন বয়সে পরিণত যুবক। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় ইসলাম ও মুসলমানদের চরম সঙ্কটপূর্ণ দিনে দুজন যুবকের সাথে পরামর্শ করে গাতফান গোত্রের সাথে সন্ধিচুক্তি চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সকলের ওপর দুজন যুবক সাহাবিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। মদিনায় তখন আরো অনেক প্রবীণ সাহাবি ছিলেন। কিন্তু পরামর্শ ও সিদ্ধান্তের জন্য রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকলের মধ্যে কেবল দুজন যুবক সাহাবিকে নির্বাচন করলেন। অতঃপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে পরামর্শ করে গাতফান গোত্রের সাথে সন্ধি চূড়ান্ত করলেন। ইসলাম ও মুসলমানদের কঠিনতম দিনে যুবকদের মর্যাদা পরিলক্ষিত হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَلِلَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَلَكِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَا يَعْلَمُونَ
'আসলে সম্মান তো আল্লাহর, তার রাসুলের এবং মুমিনদের। কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না। '⁵⁷
মুসলিম যুবকদের মর্যাদার কথা পবিত্র কুরআনেই বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদেরকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন,
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ ، وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتَّخِذَ مِنكُمْ شُهَدَاءَ ، وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ وَلِيُمَحِّصَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَافِرِينَ أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَعْلَمِ اللَّهُ الَّذِينَ جَاهَدُوا مِنكُم وَيَعْلَمَ الصَّابِرِينَ
'শত্রুর সামনে তোমরা দুর্বল ও বিষণ্ণ হয়ো না। ঈমানদার হলে তোমরাই বিজয়ী হবে। যদি তোমাদের কোনো আঘাত লাগে তাহলে মনে করবে অনুরূপ আঘাত তো অন্যদেরও লেগেছে। আর এই দিনগুলো আমি মানুষের মধ্যে অদলবদল করি; যাতে আল্লাহ মুমিনদের যাচাই করতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহিদদের গ্রহণ করতে পারেন। আল্লাহ জালেমদের ভালোবাসেন না। এবং যাতে তিনি মুমিনদের সংশোধন আর কাফেরদের নির্মূল করতে পারেন। আল্লাহ তোমাদের মধ্য থেকে জিহাদকারী ও ধৈর্যধারণকারীদের যাচাই করতে পারেন।' ⁵⁸
পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী কাফের মুশরিক, ইহুদি, খ্রিষ্টান তারা সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মদিনায় আক্রমন করল। কিন্তু সেদিন ঈমানদার যুবকরা তাদের দ্বীনের ওপর ছিল অটল। তারা সেদিন সাহায্য করেছে ইসলামকে। মুসলিম যুবকদের সম্মিলিত প্রতিরোধ ও প্রচেষ্টায় শত্রুর বিশাল দল পলায়ন করতে বাধ্য হয়। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَرَدَّ اللَّهُ الَّذِينَ كَفَرُوا بِغَيْظِهِمْ لَمْ يَنَالُوا خَيْرًا وَكَفَى اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ الْقِتَالَ
'আল্লাহ কাফেরদের তাদের ক্রোধ নিয়েই ফিরিয়ে দিলেন। তারা কোনো কল্যাণ লাভ করতে পারেনি। যুদ্ধে মুমিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আল্লাহ হলেন মহাশক্তিধর ও পরাক্রমশালী।'⁵⁹
মদিনায় তখন মুসলমানদের সৈন্যসংখ্যা ছিল নিতান্তই স্বল্প। কিন্তু আল্লাহ ঈমানদারদের সাহায্য করেছেন। ঈমানদারদের সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি আল্লাহ স্বয়ং দিয়েছেন,
وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ بِبَدْرٍ وَأَنْتُمْ أَذِلَّةٌ فَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
'তোমরা দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও বদরে আল্লাহ তোমাদেরকে বিজয়ী করেছিলেন। অতএব আল্লাহকে ভয় করো। যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পারো।'⁶⁰
সাহাবায়ে কেরام রাতের অন্ধকারে ছিলেন সাধক এবং দিনের আলোতে ছিলেন সাহসী ঘোরসওয়ার। আজ পৃথিবীতে মুসলমানরা একমাত্র লাঞ্ছিত, নির্যাতিত। দেশে দেশে আজ মুসলমানদের ওপর চলছে ইতিহাসের ভয়াবহ জুলুম। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে এবং কাঙ্ক্ষিত বিজয় ছিনিয়ে আনতে হলে প্রয়োজন মুসলিম যুবকদের জাগরণ। মুসলিম যুবকদের সাহাবায়ে কেরামের আদর্শে আদর্শিত হতে হবে। সাহাবায়ে কেরামের মতো রাতের সাধক এবং দিনের ঘোরসওয়ার হতে হবে।

টিকাঃ
৫৪ সূরা ফাতির: ১০
৫৫ সুরা মুনাফিকুন: ৮
৫৬ সুরা আহযাব: ৯-১০
৫৭ সুরা মুনাফিকুন: ৮
৫৮ সুরা আলে ইমরান: ১৩৯-১৪২
৫৯ সুরা আহযাব: ২৫
৬০ সুরা আলে ইমরান: ১২৩

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْعِزَّةَ فَلِلَّهِ الْعِزَّةُ جَمِيعًا
'যে সম্মান চায় তার জানা উচিত, যাবতীয় সম্মান একমাত্র আল্লাহর জন্য।'⁵⁴
অপর আয়াতে ইরশাদ করেন,
وَلِلَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَلَكِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَا يَعْلَمُونَ
'আসলে সম্মান তো আল্লাহর, তার রাসুলের এবং মুমিনদের। কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না।'⁵⁵
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেছেন এবং মদিনায় ইসলামের প্রচার-প্রসার করছেন। মদিনার ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে ঈমানের আলো। মদিনার লোকেরা দলে দলে মুসলমান হতে লাগল। কিন্তু এ দৃশ্যে গাত্রদাহ শুরু হলো ইসলামের শত্রুদের। কাফের মুশরিকরা মুসলমানদের এ অগ্রযাত্রাকে যে-কোনো মূল্যে রুখে দিতে চাইল। আর এ জন্য তারা গ্রহণ করল একটি মাস্টারপ্ল্যান। মদিনার চারপাশের সকল গোত্র মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হলো। তারা যে-কোনো মূল্যে ইসলামের আলোকে নিভিয়ে দিতে চায়। থামিয়ে দিতে চায় কালিমার অগ্রযাত্রাকে। মদিনায় ইসলাম ও মুসলমানদের তখন নিদারুণ ক্রান্তিকাল। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মুসলমানদের সে অবস্থা বর্ণনা করে বলেন,
إِذْ جَاءُوكُم مِّن فَوْقِكُمْ وَمِنْ أَسْفَلَ مِنكُمْ وَإِذْ زَاغَتِ الْأَبْصَارُ وَبَلَغَتِ الْقُلُوبُ الْحَنَاجِرَ وَتَظُنُّونَ بِاللَّهِ الظُّنُونَا هُنَالِكَ ابْتُلِيَ الْمُؤْمِنُونَ وَزُلْزِلُوا زِلْزَالًا شَدِيدًا
'যখন তোমাদের উপরের দিক থেকে ও নিচের দিক থেকে শত্রুরা তোমাদের দিকে এসেছিল, যখন ভয়ে তোমাদের দৃষ্টিসমূহ নিস্তেজ হয়ে এসেছিল ও হৃৎপিণ্ডগুলো গলার কাছে চলে এসেছিল এবং তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানা রকম সন্দেহ পোষণ করতে শুরু করেছিলে। সেখানেই মুমিনরা পরীক্ষায় নিপতিত হয়েছিল এবং দারুণভাবে প্রকম্পিত হয়েছিল।’⁵⁶
মদিনায় মুসলমানদের তখন নিদারুণ ক্রান্তিকাল। দ্বীন ও জাতির এমন কঠিন মুহূর্তে এবং ঘোরতর বিপদের সময় ঈমানদার যুবকদের মর্যাদা পরিলক্ষিত হয়। প্রস্ফুটিত হয় মুসলিম যুবকদের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য। রাসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দেখলেন, মদিনা ও মদিনার আশপাশের ইহুদি- খ্রিষ্টান ও কাফের মুশরিকরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সম্মিলিত জোট হয়ে তারা মুসলমানদের মদিনা থেকে বিতাড়িত করতে চাচ্ছে। নিভিয়ে দিতে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে আল্লাহর দ্বীনকে। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার গাতফান গোত্রের দুজন নেতার সাথে গোপনে সাক্ষাৎ করলেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গাতফান গোত্রের মনোভাব জানলেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পারলেন, গাতফান গোত্রের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো সম্পদ। মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের কোনো প্রকার শত্রুতা নেই। তাদের উদ্দেশ্য ধন-সম্পদ। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সন্ধির প্রস্তাব দিলেন। যেন তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত জোটের অভিযানে অংশগ্রহণ না করে। এর মাধ্যমে মদিনাবাসীর ওপর শত্রুদের চাপ কিছুটা হলেও লাঘব হবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে মদিনার মুসলমানদের এক তৃতীয়াংশ ফসলের বিনিময়ে সন্ধি করলেন। তবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি শর্ত দিলেন। শর্তটি হলো, তিনি এ ব্যাপারে সাদ ইবনে মুয়াজ রা.-যিনি আউস সম্প্রদায়ের নেতা-এবং সাদ ইবনে উবাদা রা.-যিনি খাজরাজ গোত্রের নেতা-এ দুজনের সাথে পরামর্শ করে তবেই সন্ধিপত্র চূড়ান্ত করবেন।
হযরত সাদ ইবনে মুয়াজ এবং হযরত সাদ ইবনে উবাদা রা. দুজনই ছিলেন বয়সে পরিণত যুবক। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় ইসলাম ও মুসলমানদের চরম সঙ্কটপূর্ণ দিনে দুজন যুবকের সাথে পরামর্শ করে গাতফান গোত্রের সাথে সন্ধিচুক্তি চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সকলের ওপর দুজন যুবক সাহাবিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। মদিনায় তখন আরো অনেক প্রবীণ সাহাবি ছিলেন। কিন্তু পরামর্শ ও সিদ্ধান্তের জন্য রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকলের মধ্যে কেবল দুজন যুবক সাহাবিকে নির্বাচন করলেন। অতঃপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে পরামর্শ করে গাতফান গোত্রের সাথে সন্ধি চূড়ান্ত করলেন। ইসলাম ও মুসলমানদের কঠিনতম দিনে যুবকদের মর্যাদা পরিলক্ষিত হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَلِلَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَلَكِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَا يَعْلَمُونَ
'আসলে সম্মান তো আল্লাহর, তার রাসুলের এবং মুমিনদের। কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না। '⁵⁷
মুসলিম যুবকদের মর্যাদার কথা পবিত্র কুরআনেই বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদেরকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন,
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ ، وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتَّخِذَ مِنكُمْ شُهَدَاءَ ، وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ وَلِيُمَحِّصَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَافِرِينَ أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَعْلَمِ اللَّهُ الَّذِينَ جَاهَدُوا مِنكُم وَيَعْلَمَ الصَّابِرِينَ
'শত্রুর সামনে তোমরা দুর্বল ও বিষণ্ণ হয়ো না। ঈমানদার হলে তোমরাই বিজয়ী হবে। যদি তোমাদের কোনো আঘাত লাগে তাহলে মনে করবে অনুরূপ আঘাত তো অন্যদেরও লেগেছে। আর এই দিনগুলো আমি মানুষের মধ্যে অদলবদল করি; যাতে আল্লাহ মুমিনদের যাচাই করতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহিদদের গ্রহণ করতে পারেন। আল্লাহ জালেমদের ভালোবাসেন না। এবং যাতে তিনি মুমিনদের সংশোধন আর কাফেরদের নির্মূল করতে পারেন। আল্লাহ তোমাদের মধ্য থেকে জিহাদকারী ও ধৈর্যধারণকারীদের যাচাই করতে পারেন।' ⁵⁸
পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী কাফের মুশরিক, ইহুদি, খ্রিষ্টান তারা সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মদিনায় আক্রমন করল। কিন্তু সেদিন ঈমানদার যুবকরা তাদের দ্বীনের ওপর ছিল অটল। তারা সেদিন সাহায্য করেছে ইসলামকে। মুসলিম যুবকদের সম্মিলিত প্রতিরোধ ও প্রচেষ্টায় শত্রুর বিশাল দল পলায়ন করতে বাধ্য হয়। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَرَدَّ اللَّهُ الَّذِينَ كَفَرُوا بِغَيْظِهِمْ لَمْ يَنَالُوا خَيْرًا وَكَفَى اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ الْقِتَالَ
'আল্লাহ কাফেরদের তাদের ক্রোধ নিয়েই ফিরিয়ে দিলেন। তারা কোনো কল্যাণ লাভ করতে পারেনি। যুদ্ধে মুমিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আল্লাহ হলেন মহাশক্তিধর ও পরাক্রমশালী।'⁵⁹
মদিনায় তখন মুসলমানদের সৈন্যসংখ্যা ছিল নিতান্তই স্বল্প। কিন্তু আল্লাহ ঈমানদারদের সাহায্য করেছেন। ঈমানদারদের সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি আল্লাহ স্বয়ং দিয়েছেন,
وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ بِبَدْرٍ وَأَنْتُمْ أَذِلَّةٌ فَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
'তোমরা দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও বদরে আল্লাহ তোমাদেরকে বিজয়ী করেছিলেন। অতএব আল্লাহকে ভয় করো। যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পারো।'⁶⁰
সাহাবায়ে কেরام রাতের অন্ধকারে ছিলেন সাধক এবং দিনের আলোতে ছিলেন সাহসী ঘোরসওয়ার। আজ পৃথিবীতে মুসলমানরা একমাত্র লাঞ্ছিত, নির্যাতিত। দেশে দেশে আজ মুসলমানদের ওপর চলছে ইতিহাসের ভয়াবহ জুলুম। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে এবং কাঙ্ক্ষিত বিজয় ছিনিয়ে আনতে হলে প্রয়োজন মুসলিম যুবকদের জাগরণ। মুসলিম যুবকদের সাহাবায়ে কেরামের আদর্শে আদর্শিত হতে হবে। সাহাবায়ে কেরামের মতো রাতের সাধক এবং দিনের ঘোরসওয়ার হতে হবে।

টিকাঃ
৫৪ সূরা ফাতির: ১০
৫৫ সুরা মুনাফিকুন: ৮
৫৬ সুরা আহযাব: ৯-১০
৫৭ সুরা মুনাফিকুন: ৮
৫৮ সুরা আলে ইমরান: ১৩৯-১৪২
৫৯ সুরা আহযাব: ২৫
৬০ সুরা আলে ইমরান: ১২৩

📘 হে যুবক! ফিরে এসো রবের দিকে > 📄 যুবকদের প্রতি জান্নাতের হাতছানি

📄 যুবকদের প্রতি জান্নাতের হাতছানি


আল্লাহ ও মুসলিম যুবকদের মাঝে সম্পাদিত হয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা হলেন ক্রেতা, যুবকরা হলো বিক্রেতা। আর দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মূল্য হলো জান্নাত। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللَّهَ يَدُ اللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ فَمَنْ نَكَثَ فَإِنَّمَا يَنْكُثُ عَلَى نَفْسِهِ وَمَنْ أَوْفَى بِمَا عَاهَدَ عَلَيْهُ اللَّهَ فَسَيُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا
'হে নবী! যারা আপনার নিকট বাইয়াত করে, তারা মূলত আল্লাহর কাছেই বাইয়াত করে। তাদের হাতের উপর রয়েছে আল্লাহর হাত। সুতরাং যে তা ভঙ্গ করে সে নিজেরই ক্ষতি করে। আর যে আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূরণ করে তাকে তিনি বড় এক বড় পুরস্কার (জান্নাত) দেবেন।'৬১
যুবকদের একটি বড় গুণ হলো, যুবকরা হয় প্রচণ্ড সাহসী। তাদের শিরায় শিরায় বীরত্ব। তাদের দমনীতে প্রবাহিত হয় উষ্ণ রক্ত। যুবকরা হলো আল্লাহর সৈনিক। তাদের চেতনা হলো, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী ও প্রতিষ্ঠা করা এবং কাফেরদের পরাজিত ও অপদস্থ করা। যুবকদের প্রতীক হলো,
نحن الذين بايعوا محمداً على الجهاد ما بقينا أبداً
'আমরা আজন্ম রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর জিহাদের বাইয়াত গ্রহণ করেছি।
যুবকদের শ্লোগান হলো,
كنا جبالاً فوق الجبال وربما صرنا على موج البحار بحاراً
'আমরা পাহাড়ের চেয়েও সুদৃঢ়। আমাদের হৃদয় সমুদ্রেরও অধিক তরঙ্গবিক্ষুব্ধ।'
যুবকদের হাতছানি দিচ্ছে জান্নাত। আর তারাও জান্নাতকে হাতছানি দিচ্ছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর ইসলাম ও মুসলমানদের ওপর নেমে এলো আকস্মিক মহা বিপর্যয়। দিকে দিকে ফেতনা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে লাগল। ইসলাম ত্যাগ করে অনেকে মুরতাদ হয়ে যাচ্ছিল। কোনো কোনো ভণ্ড ও প্রতারক নিজেকে নবী বলে দাবি করে। মুসলমানদের অনেকে ঈমান থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল। মুসলমানদের মধ্যে তখন যারা ইসলামের ওপর অটল ছিলেন তারা ইসলামকে সাহায্য করেন। পাহাড়ের মতো অটল থেকে তারা ইসলামের ওপর আরোপিত সকল ফেতনা মোকাবেলা করেন। হযরত আবু বকর রা. নিজ মনোবলকে অত্যন্ত সুদৃঢ় করেন। খেলাফতের আসনে বসে তিনি সেসব ফেতনা মোকাবেলা করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সমগ্র মুসলমানদের তিনি এগারটি দলে বিভক্ত করেন। তাদের মাঝে নিযুক্ত করেন এগার জন সেনাপতি। তাদের হাতে তুলে দেন এগারটি পতাকা। তাদের তিনি যুদ্ধের সরঞ্জাম দিয়ে আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন দিকে প্রেরণ করেন।
সর্বাধিক বড় ফিতনা ছিল তখন মুসাইলামা। মুসাইলামা নিজেকে নবী বলে দাবি করে। তার সাথে তার গোত্রের লোকেরা ঐক্যবদ্ধ হয়। সংখ্যায় ছিল তারা চল্লিশ হাজার। হযরত আবু বকর রা. তাদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের শক্তিশালী একটি সৈন্যদল প্রেরণ করেন। সেনাপতি নিযুক্ত করেন হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে। হযরত আবু বকর রা. বলেন, মুসাইলামার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য খালিদকে প্রয়োজন। হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন একজন যুবক সাহাবি। সাহসিকতা ও বীরত্বে তিনি ছিলেন মুসলমানদের মধ্যে সেরা। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সাইফুল্লাহ তথা আল্লাহর তরবারি বলে উপাধি দিয়েছেন।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. আনসার ও মুহাজিরদের একটি কাফেলা নিয়ে রওনা হলেন ইয়ামামার প্রান্তরে। মুসাইলামার বাহিনী সেখানে প্রস্তুত ছিল। উভয় দল মুখোমুখি হলো। সৈন্যসংখ্যায় কাফেররা ছিল অধিক। মুসলমানদের সৈন্যসংখ্যা নিতান্তই নগণ্য। তবুও তাদের ভয় নেই। কেননা, তাদের জন্য সাহায্য প্রেরিত হয় আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে। مسلمانوں کا বিজয় লেখা হয় আল্লাহর কুদরতি হাতে। রবের পক্ষ থেকে তাদের দেওয়া হয় যুদ্ধের নির্দেশনা। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا زَحْفًا فَلَا تُوَلُّوهُمُ الْأَدْبَارَ
'হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা কাফেরদের সাথে যুদ্ধের ময়দানে মুখোমুখি হবে তখন তোমরা পশ্চাদপসরণ করবে না। '⁶²
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা কোনো বাহিনীর মুখোমুখি হবে তখন অবিচল থাকবে এবং আল্লাহকে স্মরণ করবে, যাতে তোমরা সফল হতে পারে। '⁶³
শুরু হলো উভয় বাহিনীর লড়াই। ইয়ামামার প্রান্তরে মুসাইলামা ও হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর বাহিনীর মধ্যে চলছে তুমুল সংঘাত। মুসলিম বাহিনীর মধ্যে ছিলেন হযরত বারা ইবনে মালিক রা.। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী এক যোদ্ধা। শক্তি ও বিচক্ষণতার সমাহার ছিল তার মধ্যে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বহু যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। প্রতিটি যুদ্ধেই সাহস ও রণকৌশলের স্বাক্ষর রেখেছেন। মুসলিম শিবিরে প্রসিদ্ধ ছিল তার অসীম বীরত্বের কথা।
নবীজির প্রতি হযরত বারা রা. এর ভালোবাসা ছিল অত্যধিক। সে ভালোবাসা ছিল মরুভূমির বালির চেয়েও অধিক। চাঁদের জোছনার মতো কোমল। সূর্যের মতো নিখাদ ও শানিত। হযরত বারা ইবনে মালেকের সাহস ও নবীর প্রতি অসীম ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ ইয়ামামার যুদ্ধে তিনি লড়ে যাচ্ছেন প্রচণ্ড বীরবিক্রমে। তার বীরত্ব টগবগ করে উঠছে জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির মতো। যুদ্ধ চলছে তুমুল তুফানে। ক্ষিপ্রগতিতে মুসলিম সৈন্যরা ঝাঁপিয়ে পড়ে কাফেরদের ওপর। উভয় পক্ষ সমানে সমান। কেউ ছাড় দিতে রাজি নয় আজ। না মুসলিম বাহিনী। না মুসায়লামার দল। এ লড়াই নিছক জয়- পরাজয়ের লড়াই নয়; সত্য ও মিথ্যার এক চূড়ান্ত পার্থক্যকারী যুদ্ধ।
যুদ্ধের মাঝেই সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ নিজ ঘোড়ার ওপর দাঁড়িয়ে তেজস্বী কণ্ঠে মুসলিম বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে এক সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন। তিনি বলেন, 'হে মদিনার অধিবাসীগণ! আজ তোমরা অন্তর থেকে মদিনার চিন্তা মুছে ফেলো। আজ তোমাদের অন্তরে থাকবে কেবল আল্লাহ এবং জান্নাতের স্মরণ। আজকের এ লড়াই আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে নিশ্চিত হবে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য।'
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর এমন অগ্নিময় ভাষণ শুনে দ্বিগুণ শক্তিতে জ্বলে ওঠেন হযরত বারা ইবনে মালিক। তার রক্তে বলখ মেরে উঠে সাহস ও শৌর্যের আগুন। নতুন প্রেরণায় তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন শত্রুর ওপর। নাঙা তলোয়ার উঁচিয়ে প্রবল তেজে তিনি ঘোড়া ছুটিয়েছেন শত্রুর দিকে।
তারপর একের-পর-এক বীর পাহলোয়ান যোদ্ধাকে ধরাশয়ী করে মাটিতে ফেলে দেন হযরত বারা। তারপর পেটে তলোয়ার ঢুকিয়ে দ্বিখণ্ডিত করে ফেলেন মুহূর্তের মধ্যে। রক্তে মেখে যায় তার ঘোড়ার পা। মুসলিম বাহিনীর আক্রমণের প্রচণ্ডতায় মুসায়লামার বাহিনী পিছু হঠতে বাধ্য হয়। ইয়ামামার অদূরে ছিল প্রাচীরবেষ্টিত একটি বাগান। মুসায়লামা লুকিয়ে ছিল বাগানের ভেতর। মুসাইলামার বাহিনী পিছু হঠতে হঠতে বাগানের নিকটবর্তী হলে মুসাইলামা তাদের প্রাচীরের ভেতর চলে আসতে আহ্বান করে। শত্রুরা প্রাচীরের ভেতর প্রবেশ করলে প্রাচীরের ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
দুঃসাহসী বারা রা.। শত্রুপক্ষকে পিছু হঠিয়ে তবুও শীতল হয় না তার রক্তে জ্বলা আগুন। টগবগ করতে থাকে সাহসের প্রচণ্ডতায়। সঙ্গী সৈনিকদের বলেন তিনি, আমাকে প্রাচীরের ওপারে নিক্ষেপ করো। আমি লড়ব তাদের সাথে। মুসাইলামার একটা দফারফা না করে আজ ফিরব না।'
কিন্তু হযরত বারা ইবনে মালিকের কথায় প্রথমে অমত করে বাকিরা। তারা চান না, বারা ইবনে মালিক নিজেকে শত্রুর হাতে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে পতিত হোক। সকলেই নিষেধ করলেন বারা ইবনে মালিককে। কিন্তু, তিনি অনড় নিজের সিদ্ধান্তে। নবীর দুশমনদের আজ অমনি অমনি ছেড়ে দেবেন না। সঙ্গীদের পীড়াপীড়ি করতে থাকেন তিনি। তার অনড় সিদ্ধান্তের সামনে নতি স্বীকার করলেন সাহাবায়ে কেরাম। প্রাচীরের উপর উচু করে তুলে ধরেন তারা হযরত বারা ইবনে মালিককে। প্রাচীরের উপর বসে প্রথমে ভেতরটা ভালো করে পরখ করে নেন তিনি।
অতঃপর ঝাঁপিয়ে পড়েন প্রাচীরের ভেতরে। ক্ষিপ্র বাঘের মতো তিনি হামলে পড়েন। অতর্কিত আক্রমণ করতে থাকেন শত্রুদের ওপর। হযরত বারা ইবনে মালিকের অমন অতর্কিত আক্রমনের কথা ভাবতেই পারেনি শত্রুপক্ষ। তার আচানক হামলায় দিশেহারা হয়ে পড়ে মুসাইলামার দল। তারা বাগানের ভেতর দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করতে থাকে। পালাতে থাকে কেউ কউে এদিক-সেদিক। সুযোগ বুঝে বাগানের ফটক খুলে দেন হযরত বারা। আর অমনি মুসলিম সৈন্যরা হুমড়ি দিয়ে ঢুকে পড়ে দূর্গের ভেতরে। আর রক্ষা কোথায় তাদের। বেধড়ক তলোয়ার চালাতে থাকেন মুসলিম সৈন্যরা। মুসলমানদের তরবারি ফায়সালা করতে থাকে ভণ্ড প্রতারকদের। মুহূর্তে রক্তে ছেয়ে যায় প্রাচীরঘেরা বাগান। একটি আঘাত মুসাইলামার জীবন সাঙ্গ করে দেয়। লুটিয়ে পড়ে মুসাইলামা। তারপর আরেকটি আঘাত, তারপর আরেকটি...। দুনিয়া থেকে চিরবিদায় হলো মিথ্যা নবী দাবিদার মুসাইলামা।
মুসলমান সৈন্যরা শত্রুদের ধরে ধরে হত্যা করতে থাকে। বিশ হাজার শত্রুকে সেদিন হত্যা করা হয়। বাকিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়। যুদ্ধে পরাজিত হয় মুসাইলামার বাহিনী। ইয়ামামার ধূসর প্রান্তরে রচিত হয় এক যুগান্তকারী ইতিহাসের। ইয়ামামার যুদ্ধে হযরত বারা ইবনে মালিক দুঃসাহসী ভূমিকা পালন করেন। সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ এবং হযরত বারা ইবনে মালেক রা.-এর অসীম বীরত্বে জয়লাভ করে মুসলমানরা। ইয়ামামার প্রান্তরে রচিত হয় নতুন ইতিহাস। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মান ও নবুওয়াত রক্ষার প্রথম নজরানা আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,
فَإِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا فَضَرْبَ الرِّقَابِ حَتَّى إِذَا أَثْخَنتُمُوهُمْ فَشُدُّوا الْوَثَاقَ فَإِمَّا مَنَّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً حَتَّى تَضَعَ الْحَرْبُ أَوْزَارَهَا ، ذَلِكَ وَلَوْ يَشَاءُ اللَّهُ لَا نَتَصَرَ مِنْهُمْ وَلَكِن لِّيَبْلُوَ بَعْضَكُم بِبَعْضٍ وَالَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَلَن يُضِلَّ أَعْمَالَهُمْ سَيَهْدِيهِمْ وَيُصْلِحُ بَالَهُمْ وَيُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ عَرَّفَهَا لَهُمْ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ
'কাফেরদের সাথে যখন যুদ্ধের ময়দানে তোমাদের মোকাবেলা হবে তখন তাদের গর্দানে আঘাত করবে। অবশেষে যখন তোমরা তাদের রক্তপাত ঘটাবে তখন বাকিদের শক্ত করে বাঁধবে। তারপর হয় তাদের প্রতি অনুগ্রহ করবে অথবা মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেবে। যতক্ষণ না যুদ্ধ তার বোঝা নামিয়ে রাখে। এটিই আল্লাহর নির্দেশ। আল্লাহ চাইলে তাদের থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন, কিন্তু তিনি চান তোমাদের কতককে কতকের দ্বারা পরীক্ষা করতে। তবে যারা আল্লাহর পথে নিহত হয় তাদের আমল তিনি কিছুতেই নষ্ট করবেন না। তিনি তাদের সেই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার কথা তিনি তাদের জানিয়ে দিয়েছেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি আল্লাহকে সাহায্য করো তাহলে তিনিও তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা সুদৃঢ় রাখবেন। '⁶⁴

টিকাঃ
৬১সুরা ফাতহ: ১০
৬২ সুরা আনফাল: ১৫
৬৩ সুরা আনফাল: ৪৫
৬৪ সুরা মুহাম্মদ: ৪-৭

আল্লাহ ও মুসলিম যুবকদের মাঝে সম্পাদিত হয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা হলেন ক্রেতা, যুবকরা হলো বিক্রেতা। আর দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মূল্য হলো জান্নাত। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,
إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللَّهَ يَدُ اللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ فَمَنْ نَكَثَ فَإِنَّمَا يَنْكُثُ عَلَى نَفْسِهِ وَمَنْ أَوْفَى بِمَا عَاهَدَ عَلَيْهُ اللَّهَ فَسَيُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا
'হে নবী! যারা আপনার নিকট বাইয়াত করে, তারা মূলত আল্লাহর কাছেই বাইয়াত করে। তাদের হাতের উপর রয়েছে আল্লাহর হাত। সুতরাং যে তা ভঙ্গ করে সে নিজেরই ক্ষতি করে। আর যে আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূরণ করে তাকে তিনি বড় এক বড় পুরস্কার (জান্নাত) দেবেন।'৬১
যুবকদের একটি বড় গুণ হলো, যুবকরা হয় প্রচণ্ড সাহসী। তাদের শিরায় শিরায় বীরত্ব। তাদের দমনীতে প্রবাহিত হয় উষ্ণ রক্ত। যুবকরা হলো আল্লাহর সৈনিক। তাদের চেতনা হলো, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী ও প্রতিষ্ঠা করা এবং কাফেরদের পরাজিত ও অপদস্থ করা। যুবকদের প্রতীক হলো,
نحن الذين بايعوا محمداً على الجهاد ما بقينا أبداً
'আমরা আজন্ম রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর জিহাদের বাইয়াত গ্রহণ করেছি।
যুবকদের শ্লোগান হলো,
كنا جبالاً فوق الجبال وربما صرنا على موج البحار بحاراً
'আমরা পাহাড়ের চেয়েও সুদৃঢ়। আমাদের হৃদয় সমুদ্রেরও অধিক তরঙ্গবিক্ষুব্ধ।'
যুবকদের হাতছানি দিচ্ছে জান্নাত। আর তারাও জান্নাতকে হাতছানি দিচ্ছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর ইসলাম ও মুসলমানদের ওপর নেমে এলো আকস্মিক মহা বিপর্যয়। দিকে দিকে ফেতনা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে লাগল। ইসলাম ত্যাগ করে অনেকে মুরতাদ হয়ে যাচ্ছিল। কোনো কোনো ভণ্ড ও প্রতারক নিজেকে নবী বলে দাবি করে। মুসলমানদের অনেকে ঈমান থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল। মুসলমানদের মধ্যে তখন যারা ইসলামের ওপর অটল ছিলেন তারা ইসলামকে সাহায্য করেন। পাহাড়ের মতো অটল থেকে তারা ইসলামের ওপর আরোপিত সকল ফেতনা মোকাবেলা করেন। হযরত আবু বকর রা. নিজ মনোবলকে অত্যন্ত সুদৃঢ় করেন। খেলাফতের আসনে বসে তিনি সেসব ফেতনা মোকাবেলা করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সমগ্র মুসলমানদের তিনি এগারটি দলে বিভক্ত করেন। তাদের মাঝে নিযুক্ত করেন এগার জন সেনাপতি। তাদের হাতে তুলে দেন এগারটি পতাকা। তাদের তিনি যুদ্ধের সরঞ্জাম দিয়ে আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন দিকে প্রেরণ করেন।
সর্বাধিক বড় ফিতনা ছিল তখন মুসাইলামা। মুসাইলামা নিজেকে নবী বলে দাবি করে। তার সাথে তার গোত্রের লোকেরা ঐক্যবদ্ধ হয়। সংখ্যায় ছিল তারা চল্লিশ হাজার। হযরত আবু বকর রা. তাদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের শক্তিশালী একটি সৈন্যদল প্রেরণ করেন। সেনাপতি নিযুক্ত করেন হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে। হযরত আবু বকর রা. বলেন, মুসাইলামার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য খালিদকে প্রয়োজন। হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ছিলেন একজন যুবক সাহাবি। সাহসিকতা ও বীরত্বে তিনি ছিলেন মুসলমানদের মধ্যে সেরা। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সাইফুল্লাহ তথা আল্লাহর তরবারি বলে উপাধি দিয়েছেন।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. আনসার ও মুহাজিরদের একটি কাফেলা নিয়ে রওনা হলেন ইয়ামামার প্রান্তরে। মুসাইলামার বাহিনী সেখানে প্রস্তুত ছিল। উভয় দল মুখোমুখি হলো। সৈন্যসংখ্যায় কাফেররা ছিল অধিক। মুসলমানদের সৈন্যসংখ্যা নিতান্তই নগণ্য। তবুও তাদের ভয় নেই। কেননা, তাদের জন্য সাহায্য প্রেরিত হয় আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে। مسلمانوں کا বিজয় লেখা হয় আল্লাহর কুদরতি হাতে। রবের পক্ষ থেকে তাদের দেওয়া হয় যুদ্ধের নির্দেশনা। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا زَحْفًا فَلَا تُوَلُّوهُمُ الْأَدْبَارَ
'হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা কাফেরদের সাথে যুদ্ধের ময়দানে মুখোমুখি হবে তখন তোমরা পশ্চাদপসরণ করবে না। '⁶²
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা কোনো বাহিনীর মুখোমুখি হবে তখন অবিচল থাকবে এবং আল্লাহকে স্মরণ করবে, যাতে তোমরা সফল হতে পারে। '⁶³
শুরু হলো উভয় বাহিনীর লড়াই। ইয়ামামার প্রান্তরে মুসাইলামা ও হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর বাহিনীর মধ্যে চলছে তুমুল সংঘাত। মুসলিম বাহিনীর মধ্যে ছিলেন হযরত বারা ইবনে মালিক রা.। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী এক যোদ্ধা। শক্তি ও বিচক্ষণতার সমাহার ছিল তার মধ্যে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বহু যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। প্রতিটি যুদ্ধেই সাহস ও রণকৌশলের স্বাক্ষর রেখেছেন। মুসলিম শিবিরে প্রসিদ্ধ ছিল তার অসীম বীরত্বের কথা।
নবীজির প্রতি হযরত বারা রা. এর ভালোবাসা ছিল অত্যধিক। সে ভালোবাসা ছিল মরুভূমির বালির চেয়েও অধিক। চাঁদের জোছনার মতো কোমল। সূর্যের মতো নিখাদ ও শানিত। হযরত বারা ইবনে মালেকের সাহস ও নবীর প্রতি অসীম ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ ইয়ামামার যুদ্ধে তিনি লড়ে যাচ্ছেন প্রচণ্ড বীরবিক্রমে। তার বীরত্ব টগবগ করে উঠছে জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির মতো। যুদ্ধ চলছে তুমুল তুফানে। ক্ষিপ্রগতিতে মুসলিম সৈন্যরা ঝাঁপিয়ে পড়ে কাফেরদের ওপর। উভয় পক্ষ সমানে সমান। কেউ ছাড় দিতে রাজি নয় আজ। না মুসলিম বাহিনী। না মুসায়লামার দল। এ লড়াই নিছক জয়- পরাজয়ের লড়াই নয়; সত্য ও মিথ্যার এক চূড়ান্ত পার্থক্যকারী যুদ্ধ।
যুদ্ধের মাঝেই সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ নিজ ঘোড়ার ওপর দাঁড়িয়ে তেজস্বী কণ্ঠে মুসলিম বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে এক সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন। তিনি বলেন, 'হে মদিনার অধিবাসীগণ! আজ তোমরা অন্তর থেকে মদিনার চিন্তা মুছে ফেলো। আজ তোমাদের অন্তরে থাকবে কেবল আল্লাহ এবং জান্নাতের স্মরণ। আজকের এ লড়াই আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে নিশ্চিত হবে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য।'
সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর এমন অগ্নিময় ভাষণ শুনে দ্বিগুণ শক্তিতে জ্বলে ওঠেন হযরত বারা ইবনে মালিক। তার রক্তে বলখ মেরে উঠে সাহস ও শৌর্যের আগুন। নতুন প্রেরণায় তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন শত্রুর ওপর। নাঙা তলোয়ার উঁচিয়ে প্রবল তেজে তিনি ঘোড়া ছুটিয়েছেন শত্রুর দিকে।
তারপর একের-পর-এক বীর পাহলোয়ান যোদ্ধাকে ধরাশয়ী করে মাটিতে ফেলে দেন হযরত বারা। তারপর পেটে তলোয়ার ঢুকিয়ে দ্বিখণ্ডিত করে ফেলেন মুহূর্তের মধ্যে। রক্তে মেখে যায় তার ঘোড়ার পা। মুসলিম বাহিনীর আক্রমণের প্রচণ্ডতায় মুসায়লামার বাহিনী পিছু হঠতে বাধ্য হয়। ইয়ামামার অদূরে ছিল প্রাচীরবেষ্টিত একটি বাগান। মুসায়লামা লুকিয়ে ছিল বাগানের ভেতর। মুসাইলামার বাহিনী পিছু হঠতে হঠতে বাগানের নিকটবর্তী হলে মুসাইলামা তাদের প্রাচীরের ভেতর চলে আসতে আহ্বান করে। শত্রুরা প্রাচীরের ভেতর প্রবেশ করলে প্রাচীরের ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
দুঃসাহসী বারা রা.। শত্রুপক্ষকে পিছু হঠিয়ে তবুও শীতল হয় না তার রক্তে জ্বলা আগুন। টগবগ করতে থাকে সাহসের প্রচণ্ডতায়। সঙ্গী সৈনিকদের বলেন তিনি, আমাকে প্রাচীরের ওপারে নিক্ষেপ করো। আমি লড়ব তাদের সাথে। মুসাইলামার একটা দফারফা না করে আজ ফিরব না।'
কিন্তু হযরত বারা ইবনে মালিকের কথায় প্রথমে অমত করে বাকিরা। তারা চান না, বারা ইবনে মালিক নিজেকে শত্রুর হাতে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে পতিত হোক। সকলেই নিষেধ করলেন বারা ইবনে মালিককে। কিন্তু, তিনি অনড় নিজের সিদ্ধান্তে। নবীর দুশমনদের আজ অমনি অমনি ছেড়ে দেবেন না। সঙ্গীদের পীড়াপীড়ি করতে থাকেন তিনি। তার অনড় সিদ্ধান্তের সামনে নতি স্বীকার করলেন সাহাবায়ে কেরাম। প্রাচীরের উপর উচু করে তুলে ধরেন তারা হযরত বারা ইবনে মালিককে। প্রাচীরের উপর বসে প্রথমে ভেতরটা ভালো করে পরখ করে নেন তিনি।
অতঃপর ঝাঁপিয়ে পড়েন প্রাচীরের ভেতরে। ক্ষিপ্র বাঘের মতো তিনি হামলে পড়েন। অতর্কিত আক্রমণ করতে থাকেন শত্রুদের ওপর। হযরত বারা ইবনে মালিকের অমন অতর্কিত আক্রমনের কথা ভাবতেই পারেনি শত্রুপক্ষ। তার আচানক হামলায় দিশেহারা হয়ে পড়ে মুসাইলামার দল। তারা বাগানের ভেতর দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করতে থাকে। পালাতে থাকে কেউ কউে এদিক-সেদিক। সুযোগ বুঝে বাগানের ফটক খুলে দেন হযরত বারা। আর অমনি মুসলিম সৈন্যরা হুমড়ি দিয়ে ঢুকে পড়ে দূর্গের ভেতরে। আর রক্ষা কোথায় তাদের। বেধড়ক তলোয়ার চালাতে থাকেন মুসলিম সৈন্যরা। মুসলমানদের তরবারি ফায়সালা করতে থাকে ভণ্ড প্রতারকদের। মুহূর্তে রক্তে ছেয়ে যায় প্রাচীরঘেরা বাগান। একটি আঘাত মুসাইলামার জীবন সাঙ্গ করে দেয়। লুটিয়ে পড়ে মুসাইলামা। তারপর আরেকটি আঘাত, তারপর আরেকটি...। দুনিয়া থেকে চিরবিদায় হলো মিথ্যা নবী দাবিদার মুসাইলামা।
মুসলমান সৈন্যরা শত্রুদের ধরে ধরে হত্যা করতে থাকে। বিশ হাজার শত্রুকে সেদিন হত্যা করা হয়। বাকিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়। যুদ্ধে পরাজিত হয় মুসাইলামার বাহিনী। ইয়ামামার ধূসর প্রান্তরে রচিত হয় এক যুগান্তকারী ইতিহাসের। ইয়ামামার যুদ্ধে হযরত বারা ইবনে মালিক দুঃসাহসী ভূমিকা পালন করেন। সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ এবং হযরত বারা ইবনে মালেক রা.-এর অসীম বীরত্বে জয়লাভ করে মুসলমানরা। ইয়ামামার প্রান্তরে রচিত হয় নতুন ইতিহাস। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মান ও নবুওয়াত রক্ষার প্রথম নজরানা আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,
فَإِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا فَضَرْبَ الرِّقَابِ حَتَّى إِذَا أَثْخَنتُمُوهُمْ فَشُدُّوا الْوَثَاقَ فَإِمَّا مَنَّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً حَتَّى تَضَعَ الْحَرْبُ أَوْزَارَهَا ، ذَلِكَ وَلَوْ يَشَاءُ اللَّهُ لَا نَتَصَرَ مِنْهُمْ وَلَكِن لِّيَبْلُوَ بَعْضَكُم بِبَعْضٍ وَالَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَلَن يُضِلَّ أَعْمَالَهُمْ سَيَهْدِيهِمْ وَيُصْلِحُ بَالَهُمْ وَيُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ عَرَّفَهَا لَهُمْ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ
'কাফেরদের সাথে যখন যুদ্ধের ময়দানে তোমাদের মোকাবেলা হবে তখন তাদের গর্দানে আঘাত করবে। অবশেষে যখন তোমরা তাদের রক্তপাত ঘটাবে তখন বাকিদের শক্ত করে বাঁধবে। তারপর হয় তাদের প্রতি অনুগ্রহ করবে অথবা মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেবে। যতক্ষণ না যুদ্ধ তার বোঝা নামিয়ে রাখে। এটিই আল্লাহর নির্দেশ। আল্লাহ চাইলে তাদের থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন, কিন্তু তিনি চান তোমাদের কতককে কতকের দ্বারা পরীক্ষা করতে। তবে যারা আল্লাহর পথে নিহত হয় তাদের আমল তিনি কিছুতেই নষ্ট করবেন না। তিনি তাদের সেই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার কথা তিনি তাদের জানিয়ে দিয়েছেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি আল্লাহকে সাহায্য করো তাহলে তিনিও তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা সুদৃঢ় রাখবেন। '⁶⁴

টিকাঃ
৬১সুরা ফাতহ: ১০
৬২ সুরা আনফাল: ১৫
৬৩ সুরা আনফাল: ৪৫
৬৪ সুরা মুহাম্মদ: ৪-৭

📘 হে যুবক! ফিরে এসো রবের দিকে > 📄 যুবসমাজের অবক্ষয় ও তার পরিবর্তন

📄 যুবসমাজের অবক্ষয় ও তার পরিবর্তন


বর্তমান যুবসমাজের মারাত্মক অবক্ষয় ঘটেছে। তাদের চরিত্র নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাদের চেতনার বিলুপ্তি ঘটেছে। সোনালি যুগের সেসব যুবক যাদের হাতে রচিত হয়েছে ইসলামের ইতিহাস, আজ যুবসমাজ কল্যাণের সেই পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গিয়েছে। তাদের অন্তরে বাসা বেঁধেছে চরম গাফলত ও সীমাহীন আলস্য। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا
'তাদের পরে এমন এক প্রজন্ম এলো যারা নামাজ বিনষ্ট করল এবং প্রবৃত্তির বশবর্তী হলো। অতএব তারা ভ্রষ্টতার পরিণতি দেখতে পারে। '⁶⁵
সোনালি যুগের যুবকদের পর এলো এমন এক প্রজন্ম, যারা তাসবিহ, তাহলিল ও তাকবিরের পরিবর্তে অনর্থক কথাবার্তা এবং গাল-গল্পে মেতে থাকে। তারা মিসওয়াকের পরিবর্তে হাতে তুলে নিয়েছে সিগারেট ও নেশাজাতীয় দ্রব্য। কুরআনের পরিবর্তে হাতে তুলে নিয়েছে পত্রিকা ও অশ্লীল বিভিন্ন ম্যাগাজিন। ইলমি মজলিসকে রূপান্তর করেছে গান-বাদ্য ও সিনেমা-নাটকের দ্বারা। কুরআন তিলাওয়াত ও শ্রবণের পরিবর্তে আজকের যুব প্রজন্ম অশ্লীল গান ও মিউজিক শ্রবণ করছে। তারা ভুলে গিয়েছে জিহাদ। জিহাদের পরিবর্তে তারা মেতে উঠেছে ভ্রষ্টতা ও হঠকারিতায়। আজকের যুব ও তরুণ প্রজন্ম অবক্ষয়ের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গিয়েছে। তাদের অন্তরে নেই ইসলামের জন্য আবেগ ও ভালোবাসা। মুমিনদের জন্য নেই দায়িত্ববোধ। আল্লাহর দেওয়া প্রতিশ্রুতি তারা ভুলে গিয়েছে। কোথায় সেসব যুবক আর কোথায় আজকের যুব প্রজন্ম?
কী হলো, আজ مسلمانوں کا মধ্যে নেই সেসব ব্যক্তি। নেই সাদ ও মিকদাদ রা.-এর মতো সাহসী যুবক। নেই খালিদ ও বারা ইবনে মালেক রা.-এর মতো বীর তরুণ। আজকের যুবকদের ঈমান হয়ে গিয়েছে দুর্বল ও ভঙ্গুর। তাদের ঈমানে নেই তেজোদীপ্ততা। তাদের অন্তরে নেই সাহসের বারুদ। নিভে গিয়েছে তাদের চেতনার আগুন। আজ তারা মৃত। তাদের দেহ মৃত। তাদের অন্তর মৃত। তাদের ঈমান মৃত। অথচ যুবক ও তরুণরাই হলো জাতির শক্তি। জাতির মূল স্প্রিট। অতীতে মুসলিম তরুণদের হাতেই রচিত হয়েছে বিজয়ের ইতিহাস। তাদের গর্জনে কেঁপে উঠেছে শত্রুর হৃদপিণ্ড। বর্তমানে তাদের চেয়ে আরো অধিক সাহসী তরুণদের প্রয়োজন। ইসলাম ও মুসলমানদের আজ চলছে নিদারুণ ক্রান্তিকাল। পৃথিবীর সর্বত্র আজ তারা নির্যাতিত নিপীড়িত। তাদের আর্তনাতে ভারী হয়ে উঠেছে আকাশ বাতাস। উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু সর্বত্র আজ অসহায় মুসলমানদের আর্তনাদ। আজ তাই প্রয়োজন সেসব সাহসী যুবকদের, যারা রচনা করবে উম্মাহর নতুন ইতিহাস। যারা মুক্ত করবে অসহায় মুসলমানদের। হে যুবক! ফিরে এসো। ফিরে এসো রবের দিকে। ঈমানের আলোয় ফিরে এসো। অবাধ্যতা ও নাফরমানির বৃত্ত ভেঙ্গে ফিরে এসো আনুগত্য ও কল্যাণের পথে। আজ বড়ই প্রয়োজন তোমাদের। তোমাদের হতে হবে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার এই আয়াতের আদর্শ।
إِنَّهُمْ فِتْيَةٌ آمَنُوا بِرَبِّهِمْ وَزِدْنَاهُمْ هُدًى
'তারা ছিল কয়েকজন যুবক, যারা তাদের প্রভুর প্রতি ঈমান এনেছিল এবং তাদের হেদায়েতকে আমি বৃদ্ধি করেছি।' ⁶⁶

টিকাঃ
৬৫ সুরা মারইয়াম: ৫৯
৬৬ সুরা কাহফ: ১৩

📘 হে যুবক! ফিরে এসো রবের দিকে > 📄 হে তরুণ! উম্মাহ ডাকছে তোমায়

📄 হে তরুণ! উম্মাহ ডাকছে তোমায়


আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুসলিম যুবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। ইসলামের ইতিহাসের এক অজেয় ও কিংবদন্তি মহানায়কের গল্প বলব। যিনি ছিলেন সাহসিকতা ও বীরত্বে অনন্য। ছিলেন ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। ইসলামের জন্য সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন যিনি এটি তার গল্প। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে সে গল্পের পুনরাবৃত্তি আজ অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে। মুসলিম উম্মাহর আজ এমন সাহসী তরুণের প্রয়োজন, যারা ইসলামের গতিধারা পাল্টে দেবে। যারা প্রতিহত করবে ইসলামের ওপর আপতিত আক্রমণ। যারা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর শত্রুদের মোকাবেলা করবে শক্তহাতে। শুধু কথা নয় কাজেও যারা হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। আজ কথার ফুলঝুরি ফোটানোর মতো বহু ব্যক্তি আছে কিন্তু কর্মের ময়দানে তারা শূন্য। উম্মাহর প্রয়োজনের সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
আল্লাহ তায়ালার ঘোষণার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তিনি বলেছেন,
رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ
'কতক লোক যারা আল্লাহকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছে।'⁸⁸
মুসলিম উম্মাহর আজ এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন যারা ইসলামকে তার পুরনো গতিপথে ফিরিয়ে দেবে। ফিরিয়ে আনবে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর হারানো গৌরব। যারা ইসলামকে তার প্রকৃত লক্ষ্যে পৌঁছাতে নিজেদের জান-মাল কুরবান করবে। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় উৎসর্গ করবে দেহের প্রতি ফোটা রক্ত। আজ প্রয়োজন তাদের যারা উষ্ণ রক্ত প্রবাহিত করতে মোটেও ভয় করবে না। জালিমের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে যারা কালিমার ঝান্ডা হাতে এগিয়ে যাবে সম্মুখপানে। যাদের হৃদয়ে থাকবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার আনুগত্যের প্রতি স্পৃহা। পার্থিব কোনো লালসা যাদের হঠাতে পারবে না। তাদের প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি কাজ হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য। আর তাদেরই হাতে রচিত হবে ইসলামের নয়া ইতিহাস। আল্লাহর কসম! আজ তো উম্মাহর এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন। উম্মাহর ভাগ্যাকাশে যেদিন উদিত হবে তাদের মতো কতিপয় নক্ষত্র সেদিন প্রকৃতপক্ষে মুসলিম জাতি ঘুরে দাঁড়াবে। লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকল ভেঙে তারা বেরিয়ে আসবে সম্মান ও বিজয়ের রণাঙ্গনে।
এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা সকল উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। পূর্ববর্তী সকল জাতির চেয়ে সম্মান ও মর্যাদায় অগ্রগামী করেছেন। কারণ এ উম্মতের নবী হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা এক কল্যাণকর জাতি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মানুষের কল্যাণে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের নির্বাচিত করেছেন। তারা হলো মধ্যপন্থি উম্মাহ। পূর্বে অতিবাহিত সকল উম্মতের মধ্য থেকে এ উম্মতকে নির্বাচন করেছেন। এ উম্মতের রয়েছে প্রভূত ফজিলত, যা পূর্বেকার উম্মতদের আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দেননি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
من أمتي سبعون ألفاً يدخلون الجنة بغير حساب، وجوههم كالقمر ليلة البدر
'আমার সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল।'⁸⁹
নিশ্চয় এটি উম্মতে মুহাম্মদির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উম্মতের মুহাম্মদির প্রতি মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ ও অশেষ কৃপা। অন্যান্য উম্মতের ওপর উম্মতে মুহাম্মদিকে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন নিছক এমনিতেই নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে বহু কারণ। সেসব কারণের একটি হলো সাহসিকতা। আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের চেয়ে অধিকতর সাহসিকতা দান করেছেন। তাদের বক্ষে দিয়েছেন আল্লাহর দ্বীনের জন্য অপরিসীম স্পৃহা ও বীরত্ব। এলায়ে কালিমাতুল্লাহ তথা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা জীবনবাজি রাখতে কুণ্ঠাবোধ করে না। যা নিঃস্বার্থ এবং কেবলই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে। তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত সাহসিকতা ও বীরত্ব প্রদর্শন উদ্দেশ্য নয়। আর এ বৈশিষ্ট্য উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের ওপর মর্যাদা ও সম্মানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছে।
খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.
হে আল্লাহর বান্দাগণ! হে উম্মাহর অতন্ত্র প্রহরী তরুণ শক্তি! এমন এক ব্যক্তির জীবন ও কর্মপন্থা আজ আলোচনা করব যা আমাদের ঈমানকে শানিত করবে। যার জীবনপ্রবাহ সাহসী করে তুলবে আমাদের হৃদয়কে। তার আত্মোৎসর্গের বিরল ঘটনা আমাদের ইসলামের জন্য আরো নিবেদিতপ্রাণ করে তুলবে। তিনি এমন এক ব্যক্তি উম্মাহর কোনো সদস্য তার সম্পর্কে অনবগত নয়। ছোট-बড়, নারী-পুরুষ সকলের নিকট তিনি অত্যন্ত সুবিদিত। তার নাম ও প্রশংসনীয় সাহসিকতা প্রসিদ্ধ। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে তিনি স্বীকৃত ও বরিত। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে তার নাম।
যখন তার বীরত্বের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বীর। যখন ইসলামের জন্য তার আত্মোৎসর্গের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রহরী। যখন তার বৈশিষ্ট্যের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনি এ উম্মতের শ্রেষ্ঠ পুরুষ। ইসলামের ইতিহাস এবং মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি সদস্যের নিকট তার নাম আকাশে উদিত সূর্যের মতো দেদীপ্যমান। রাতের আকাশে ধ্রুব-নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল।
তিনি কে?
কে তিনি, যার এত মহিমা? যিনি পাল্টে দিয়েছেন ইতিহাসের গতিধারা? যিনি রচনা করেছেন বিপ্লবের সোনালি দাস্তান?

টিকাঃ
৮৮ সুরা আহযাব: ২৩
৮৯ তাবারানি

আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুসলিম যুবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। ইসলামের ইতিহাসের এক অজেয় ও কিংবদন্তি মহানায়কের গল্প বলব। যিনি ছিলেন সাহসিকতা ও বীরত্বে অনন্য। ছিলেন ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। ইসলামের জন্য সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন যিনি এটি তার গল্প। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে সে গল্পের পুনরাবৃত্তি আজ অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে। মুসলিম উম্মাহর আজ এমন সাহসী তরুণের প্রয়োজন, যারা ইসলামের গতিধারা পাল্টে দেবে। যারা প্রতিহত করবে ইসলামের ওপর আপতিত আক্রমণ। যারা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর শত্রুদের মোকাবেলা করবে শক্তহাতে। শুধু কথা নয় কাজেও যারা হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। আজ কথার ফুলঝুরি ফোটানোর মতো বহু ব্যক্তি আছে কিন্তু কর্মের ময়দানে তারা শূন্য। উম্মাহর প্রয়োজনের সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
আল্লাহ তায়ালার ঘোষণার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তিনি বলেছেন,
رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ
'কতক লোক যারা আল্লাহকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছে।'⁸⁸
মুসলিম উম্মাহর আজ এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন যারা ইসলামকে তার পুরনো গতিপথে ফিরিয়ে দেবে। ফিরিয়ে আনবে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর হারানো গৌরব। যারা ইসলামকে তার প্রকৃত লক্ষ্যে পৌঁছাতে নিজেদের জান-মাল কুরবান করবে। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় উৎসর্গ করবে দেহের প্রতি ফোটা রক্ত। আজ প্রয়োজন তাদের যারা উষ্ণ রক্ত প্রবাহিত করতে মোটেও ভয় করবে না। জালিমের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে যারা কালিমার ঝান্ডা হাতে এগিয়ে যাবে সম্মুখপানে। যাদের হৃদয়ে থাকবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার আনুগত্যের প্রতি স্পৃহা। পার্থিব কোনো লালসা যাদের হঠাতে পারবে না। তাদের প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি কাজ হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য। আর তাদেরই হাতে রচিত হবে ইসলামের নয়া ইতিহাস। আল্লাহর কসম! আজ তো উম্মাহর এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন। উম্মাহর ভাগ্যাকাশে যেদিন উদিত হবে তাদের মতো কতিপয় নক্ষত্র সেদিন প্রকৃতপক্ষে মুসলিম জাতি ঘুরে দাঁড়াবে। লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকল ভেঙে তারা বেরিয়ে আসবে সম্মান ও বিজয়ের রণাঙ্গনে।
এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা সকল উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। পূর্ববর্তী সকল জাতির চেয়ে সম্মান ও মর্যাদায় অগ্রগামী করেছেন। কারণ এ উম্মতের নবী হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা এক কল্যাণকর জাতি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মানুষের কল্যাণে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের নির্বাচিত করেছেন। তারা হলো মধ্যপন্থি উম্মাহ। পূর্বে অতিবাহিত সকল উম্মতের মধ্য থেকে এ উম্মতকে নির্বাচন করেছেন। এ উম্মতের রয়েছে প্রভূত ফজিলত, যা পূর্বেকার উম্মতদের আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দেননি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
من أمتي سبعون ألفاً يدخلون الجنة بغير حساب، وجوههم كالقمر ليلة البدر
'আমার সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল।'⁸⁹
নিশ্চয় এটি উম্মতে মুহাম্মদির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উম্মতের মুহাম্মদির প্রতি মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ ও অশেষ কৃপা। অন্যান্য উম্মতের ওপর উম্মতে মুহাম্মদিকে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন নিছক এমনিতেই নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে বহু কারণ। সেসব কারণের একটি হলো সাহসিকতা। আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের চেয়ে অধিকতর সাহসিকতা দান করেছেন। তাদের বক্ষে দিয়েছেন আল্লাহর দ্বীনের জন্য অপরিসীম স্পৃহা ও বীরত্ব। এলায়ে কালিমাতুল্লাহ তথা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা জীবনবাজি রাখতে কুণ্ঠাবোধ করে না। যা নিঃস্বার্থ এবং কেবলই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে। তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত সাহসিকতা ও বীরত্ব প্রদর্শন উদ্দেশ্য নয়। আর এ বৈশিষ্ট্য উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের ওপর মর্যাদা ও সম্মানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছে।
খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.
হে আল্লাহর বান্দাগণ! হে উম্মাহর অতন্ত্র প্রহরী তরুণ শক্তি! এমন এক ব্যক্তির জীবন ও কর্মপন্থা আজ আলোচনা করব যা আমাদের ঈমানকে শানিত করবে। যার জীবনপ্রবাহ সাহসী করে তুলবে আমাদের হৃদয়কে। তার আত্মোৎসর্গের বিরল ঘটনা আমাদের ইসলামের জন্য আরো নিবেদিতপ্রাণ করে তুলবে। তিনি এমন এক ব্যক্তি উম্মাহর কোনো সদস্য তার সম্পর্কে অনবগত নয়। ছোট-बড়, নারী-পুরুষ সকলের নিকট তিনি অত্যন্ত সুবিদিত। তার নাম ও প্রশংসনীয় সাহসিকতা প্রসিদ্ধ। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে তিনি স্বীকৃত ও বরিত। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে তার নাম।
যখন তার বীরত্বের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বীর। যখন ইসলামের জন্য তার আত্মোৎসর্গের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রহরী। যখন তার বৈশিষ্ট্যের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনি এ উম্মতের শ্রেষ্ঠ পুরুষ। ইসলামের ইতিহাস এবং মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি সদস্যের নিকট তার নাম আকাশে উদিত সূর্যের মতো দেদীপ্যমান। রাতের আকাশে ধ্রুব-নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল।
তিনি কে?
কে তিনি, যার এত মহিমা? যিনি পাল্টে দিয়েছেন ইতিহাসের গতিধারা? যিনি রচনা করেছেন বিপ্লবের সোনালি দাস্তান?

টিকাঃ
৮৮ সুরা আহযাব: ২৩
৮৯ তাবারানি

আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুসলিম যুবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। ইসলামের ইতিহাসের এক অজেয় ও কিংবদন্তি মহানায়কের গল্প বলব। যিনি ছিলেন সাহসিকতা ও বীরত্বে অনন্য। ছিলেন ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। ইসলামের জন্য সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন যিনি এটি তার গল্প। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে সে গল্পের পুনরাবৃত্তি আজ অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে। মুসলিম উম্মাহর আজ এমন সাহসী তরুণের প্রয়োজন, যারা ইসলামের গতিধারা পাল্টে দেবে। যারা প্রতিহত করবে ইসলামের ওপর আপতিত আক্রমণ। যারা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর শত্রুদের মোকাবেলা করবে শক্তহাতে। শুধু কথা নয় কাজেও যারা হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। আজ কথার ফুলঝুরি ফোটানোর মতো বহু ব্যক্তি আছে কিন্তু কর্মের ময়দানে তারা শূন্য। উম্মাহর প্রয়োজনের সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
আল্লাহ তায়ালার ঘোষণার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তিনি বলেছেন,
رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ
'কতক লোক যারা আল্লাহকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছে।'⁸⁸
মুসলিম উম্মাহর আজ এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন যারা ইসলামকে তার পুরনো গতিপথে ফিরিয়ে দেবে। ফিরিয়ে আনবে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর হারানো গৌরব। যারা ইসলামকে তার প্রকৃত লক্ষ্যে পৌঁছাতে নিজেদের জান-মাল কুরবান করবে। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় উৎসর্গ করবে দেহের প্রতি ফোটা রক্ত। আজ প্রয়োজন তাদের যারা উষ্ণ রক্ত প্রবাহিত করতে মোটেও ভয় করবে না। জালিমের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে যারা কালিমার ঝান্ডা হাতে এগিয়ে যাবে সম্মুখপানে। যাদের হৃদয়ে থাকবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার আনুগত্যের প্রতি স্পৃহা। পার্থিব কোনো লালসা যাদের হঠাতে পারবে না। তাদের প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি কাজ হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য। আর তাদেরই হাতে রচিত হবে ইসলামের নয়া ইতিহাস। আল্লাহর কসম! আজ তো উম্মাহর এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন। উম্মাহর ভাগ্যাকাশে যেদিন উদিত হবে তাদের মতো কতিপয় নক্ষত্র সেদিন প্রকৃতপক্ষে মুসলিম জাতি ঘুরে দাঁড়াবে। লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকল ভেঙে তারা বেরিয়ে আসবে সম্মান ও বিজয়ের রণাঙ্গনে।
এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা সকল উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। পূর্ববর্তী সকল জাতির চেয়ে সম্মান ও মর্যাদায় অগ্রগামী করেছেন। কারণ এ উম্মতের নবী হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা এক কল্যাণকর জাতি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মানুষের কল্যাণে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের নির্বাচিত করেছেন। তারা হলো মধ্যপন্থি উম্মাহ। পূর্বে অতিবাহিত সকল উম্মতের মধ্য থেকে এ উম্মতকে নির্বাচন করেছেন। এ উম্মতের রয়েছে প্রভূত ফজিলত, যা পূর্বেকার উম্মতদের আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দেননি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
من أمتي سبعون ألفاً يدخلون الجنة بغير حساب، وجوههم كالقمر ليلة البدر
'আমার সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল।'⁸⁹
নিশ্চয় এটি উম্মতে মুহাম্মদির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উম্মতের মুহাম্মদির প্রতি মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ ও অশেষ কৃপা। অন্যান্য উম্মতের ওপর উম্মতে মুহাম্মদিকে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন নিছক এমনিতেই নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে বহু কারণ। সেসব কারণের একটি হলো সাহসিকতা। আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের চেয়ে অধিকতর সাহসিকতা দান করেছেন। তাদের বক্ষে দিয়েছেন আল্লাহর দ্বীনের জন্য অপরিসীম স্পৃহা ও বীরত্ব। এলায়ে কালিমাতুল্লাহ তথা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা জীবনবাজি রাখতে কুণ্ঠাবোধ করে না। যা নিঃস্বার্থ এবং কেবলই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে। তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত সাহসিকতা ও বীরত্ব প্রদর্শন উদ্দেশ্য নয়। আর এ বৈশিষ্ট্য উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের ওপর মর্যাদা ও সম্মানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছে।
খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.
হে আল্লাহর বান্দাগণ! হে উম্মাহর অতন্ত্র প্রহরী তরুণ শক্তি! এমন এক ব্যক্তির জীবন ও কর্মপন্থা আজ আলোচনা করব যা আমাদের ঈমানকে শানিত করবে। যার জীবনপ্রবাহ সাহসী করে তুলবে আমাদের হৃদয়কে। তার আত্মোৎসর্গের বিরল ঘটনা আমাদের ইসলামের জন্য আরো নিবেদিতপ্রাণ করে তুলবে। তিনি এমন এক ব্যক্তি উম্মাহর কোনো সদস্য তার সম্পর্কে অনবগত নয়। ছোট-बড়, নারী-পুরুষ সকলের নিকট তিনি অত্যন্ত সুবিদিত। তার নাম ও প্রশংসনীয় সাহসিকতা প্রসিদ্ধ। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে তিনি স্বীকৃত ও বরিত। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে তার নাম।
যখন তার বীরত্বের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বীর। যখন ইসলামের জন্য তার আত্মোৎসর্গের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রহরী। যখন তার বৈশিষ্ট্যের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনি এ উম্মতের শ্রেষ্ঠ পুরুষ। ইসলামের ইতিহাস এবং মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি সদস্যের নিকট তার নাম আকাশে উদিত সূর্যের মতো দেদীপ্যমান। রাতের আকাশে ধ্রুব-নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল।
তিনি কে?
কে তিনি, যার এত মহিমা? যিনি পাল্টে দিয়েছেন ইতিহাসের গতিধারা? যিনি রচনা করেছেন বিপ্লবের সোনালি দাস্তান?

টিকাঃ
৮৮ সুরা আহযাব: ২৩
৮৯ তাবারানি

আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুসলিম যুবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। ইসলামের ইতিহাসের এক অজেয় ও কিংবদন্তি মহানায়কের গল্প বলব। যিনি ছিলেন সাহসিকতা ও বীরত্বে অনন্য। ছিলেন ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। ইসলামের জন্য সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন যিনি এটি তার গল্প। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে সে গল্পের পুনরাবৃত্তি আজ অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে। মুসলিম উম্মাহর আজ এমন সাহসী তরুণের প্রয়োজন, যারা ইসলামের গতিধারা পাল্টে দেবে। যারা প্রতিহত করবে ইসলামের ওপর আপতিত আক্রমণ। যারা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর শত্রুদের মোকাবেলা করবে শক্তহাতে। শুধু কথা নয় কাজেও যারা হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। আজ কথার ফুলঝুরি ফোটানোর মতো বহু ব্যক্তি আছে কিন্তু কর্মের ময়দানে তারা শূন্য। উম্মাহর প্রয়োজনের সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
আল্লাহ তায়ালার ঘোষণার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তিনি বলেছেন,
رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ
'কতক লোক যারা আল্লাহকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছে।'⁸⁸
মুসলিম উম্মাহর আজ এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন যারা ইসলামকে তার পুরনো গতিপথে ফিরিয়ে দেবে। ফিরিয়ে আনবে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর হারানো গৌরব। যারা ইসলামকে তার প্রকৃত লক্ষ্যে পৌঁছাতে নিজেদের জান-মাল কুরবান করবে। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় উৎসর্গ করবে দেহের প্রতি ফোটা রক্ত। আজ প্রয়োজন তাদের যারা উষ্ণ রক্ত প্রবাহিত করতে মোটেও ভয় করবে না। জালিমের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে যারা কালিমার ঝান্ডা হাতে এগিয়ে যাবে সম্মুখপানে। যাদের হৃদয়ে থাকবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার আনুগত্যের প্রতি স্পৃহা। পার্থিব কোনো লালসা যাদের হঠাতে পারবে না। তাদের প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি কাজ হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য। আর তাদেরই হাতে রচিত হবে ইসলামের নয়া ইতিহাস। আল্লাহর কসম! আজ তো উম্মাহর এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন। উম্মাহর ভাগ্যাকাশে যেদিন উদিত হবে তাদের মতো কতিপয় নক্ষত্র সেদিন প্রকৃতপক্ষে মুসলিম জাতি ঘুরে দাঁড়াবে। লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকল ভেঙে তারা বেরিয়ে আসবে সম্মান ও বিজয়ের রণাঙ্গনে।
এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা সকল উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। পূর্ববর্তী সকল জাতির চেয়ে সম্মান ও মর্যাদায় অগ্রগামী করেছেন। কারণ এ উম্মতের নবী হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা এক কল্যাণকর জাতি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মানুষের কল্যাণে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের নির্বাচিত করেছেন। তারা হলো মধ্যপন্থি উম্মাহ। পূর্বে অতিবাহিত সকল উম্মতের মধ্য থেকে এ উম্মতকে নির্বাচন করেছেন। এ উম্মতের রয়েছে প্রভূত ফজিলত, যা পূর্বেকার উম্মতদের আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দেননি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
من أمتي سبعون ألفاً يدخلون الجنة بغير حساب، وجوههم كالقمر ليلة البدر
'আমার সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল।'⁸⁹
নিশ্চয় এটি উম্মতে মুহাম্মদির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উম্মতের মুহাম্মদির প্রতি মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ ও অশেষ কৃপা। অন্যান্য উম্মতের ওপর উম্মতে মুহাম্মদিকে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন নিছক এমনিতেই নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে বহু কারণ। সেসব কারণের একটি হলো সাহসিকতা। আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের চেয়ে অধিকতর সাহসিকতা দান করেছেন। তাদের বক্ষে দিয়েছেন আল্লাহর দ্বীনের জন্য অপরিসীম স্পৃহা ও বীরত্ব। এলায়ে কালিমাতুল্লাহ তথা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা জীবনবাজি রাখতে কুণ্ঠাবোধ করে না। যা নিঃস্বার্থ এবং কেবলই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে। তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত সাহসিকতা ও বীরত্ব প্রদর্শন উদ্দেশ্য নয়। আর এ বৈশিষ্ট্য উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের ওপর মর্যাদা ও সম্মানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছে।
খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.
হে আল্লাহর বান্দাগণ! হে উম্মাহর অতন্ত্র প্রহরী তরুণ শক্তি! এমন এক ব্যক্তির জীবন ও কর্মপন্থা আজ আলোচনা করব যা আমাদের ঈমানকে শানিত করবে। যার জীবনপ্রবাহ সাহসী করে তুলবে আমাদের হৃদয়কে। তার আত্মোৎসর্গের বিরল ঘটনা আমাদের ইসলামের জন্য আরো নিবেদিতপ্রাণ করে তুলবে। তিনি এমন এক ব্যক্তি উম্মাহর কোনো সদস্য তার সম্পর্কে অনবগত নয়। ছোট-बড়, নারী-পুরুষ সকলের নিকট তিনি অত্যন্ত সুবিদিত। তার নাম ও প্রশংসনীয় সাহসিকতা প্রসিদ্ধ। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে তিনি স্বীকৃত ও বরিত। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে তার নাম।
যখন তার বীরত্বের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বীর। যখন ইসলামের জন্য তার আত্মোৎসর্গের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রহরী। যখন তার বৈশিষ্ট্যের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনি এ উম্মতের শ্রেষ্ঠ পুরুষ। ইসলামের ইতিহাস এবং মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি সদস্যের নিকট তার নাম আকাশে উদিত সূর্যের মতো দেদীপ্যমান। রাতের আকাশে ধ্রুব-নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল।
তিনি কে?
কে তিনি, যার এত মহিমা? যিনি পাল্টে দিয়েছেন ইতিহাসের গতিধারা? যিনি রচনা করেছেন বিপ্লবের সোনালি দাস্তান?

টিকাঃ
৮৮ সুরা আহযাব: ২৩
৮৯ তাবারানি

আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুসলিম যুবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। ইসলামের ইতিহাসের এক অজেয় ও কিংবদন্তি মহানায়কের গল্প বলব। যিনি ছিলেন সাহসিকতা ও বীরত্বে অনন্য। ছিলেন ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। ইসলামের জন্য সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন যিনি এটি তার গল্প। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে সে গল্পের পুনরাবৃত্তি আজ অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে। মুসলিম উম্মাহর আজ এমন সাহসী তরুণের প্রয়োজন, যারা ইসলামের গতিধারা পাল্টে দেবে। যারা প্রতিহত করবে ইসলামের ওপর আপতিত আক্রমণ। যারা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর শত্রুদের মোকাবেলা করবে শক্তহাতে। শুধু কথা নয় কাজেও যারা হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। আজ কথার ফুলঝুরি ফোটানোর মতো বহু ব্যক্তি আছে কিন্তু কর্মের ময়দানে তারা শূন্য। উম্মাহর প্রয়োজনের সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
আল্লাহ তায়ালার ঘোষণার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তিনি বলেছেন,
رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ
'কতক লোক যারা আল্লাহকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছে।'⁸⁸
মুসলিম উম্মাহর আজ এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন যারা ইসলামকে তার পুরনো গতিপথে ফিরিয়ে দেবে। ফিরিয়ে আনবে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর হারানো গৌরব। যারা ইসলামকে তার প্রকৃত লক্ষ্যে পৌঁছাতে নিজেদের জান-মাল কুরবান করবে। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় উৎসর্গ করবে দেহের প্রতি ফোটা রক্ত। আজ প্রয়োজন তাদের যারা উষ্ণ রক্ত প্রবাহিত করতে মোটেও ভয় করবে না। জালিমের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে যারা কালিমার ঝান্ডা হাতে এগিয়ে যাবে সম্মুখপানে। যাদের হৃদয়ে থাকবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার আনুগত্যের প্রতি স্পৃহা। পার্থিব কোনো লালসা যাদের হঠাতে পারবে না। তাদের প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি কাজ হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য। আর তাদেরই হাতে রচিত হবে ইসলামের নয়া ইতিহাস। আল্লাহর কসম! আজ তো উম্মাহর এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন। উম্মাহর ভাগ্যাকাশে যেদিন উদিত হবে তাদের মতো কতিপয় নক্ষত্র সেদিন প্রকৃতপক্ষে মুসলিম জাতি ঘুরে দাঁড়াবে। লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকল ভেঙে তারা বেরিয়ে আসবে সম্মান ও বিজয়ের রণাঙ্গনে।
এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা সকল উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। পূর্ববর্তী সকল জাতির চেয়ে সম্মান ও মর্যাদায় অগ্রগামী করেছেন। কারণ এ উম্মতের নবী হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা এক কল্যাণকর জাতি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মানুষের কল্যাণে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের নির্বাচিত করেছেন। তারা হলো মধ্যপন্থি উম্মাহ। পূর্বে অতিবাহিত সকল উম্মতের মধ্য থেকে এ উম্মতকে নির্বাচন করেছেন। এ উম্মতের রয়েছে প্রভূত ফজিলত, যা পূর্বেকার উম্মতদের আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দেননি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
من أمتي سبعون ألفاً يدخلون الجنة بغير حساب، وجوههم كالقمر ليلة البدر
'আমার সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল।'⁸⁹
নিশ্চয় এটি উম্মতে মুহাম্মদির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উম্মতের মুহাম্মদির প্রতি মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ ও অশেষ কৃপা। অন্যান্য উম্মতের ওপর উম্মতে মুহাম্মদিকে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন নিছক এমনিতেই নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে বহু কারণ। সেসব কারণের একটি হলো সাহসিকতা। আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের চেয়ে অধিকতর সাহসিকতা দান করেছেন। তাদের বক্ষে দিয়েছেন আল্লাহর দ্বীনের জন্য অপরিসীম স্পৃহা ও বীরত্ব। এলায়ে কালিমাতুল্লাহ তথা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা জীবনবাজি রাখতে কুণ্ঠাবোধ করে না। যা নিঃস্বার্থ এবং কেবলই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে। তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত সাহসিকতা ও বীরত্ব প্রদর্শন উদ্দেশ্য নয়। আর এ বৈশিষ্ট্য উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের ওপর মর্যাদা ও সম্মানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছে।
খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.
হে আল্লাহর বান্দাগণ! হে উম্মাহর অতন্ত্র প্রহরী তরুণ শক্তি! এমন এক ব্যক্তির জীবন ও কর্মপন্থা আজ আলোচনা করব যা আমাদের ঈমানকে শানিত করবে। যার জীবনপ্রবাহ সাহসী করে তুলবে আমাদের হৃদয়কে। তার আত্মোৎসর্গের বিরল ঘটনা আমাদের ইসলামের জন্য আরো নিবেদিতপ্রাণ করে তুলবে। তিনি এমন এক ব্যক্তি উম্মাহর কোনো সদস্য তার সম্পর্কে অনবগত নয়। ছোট-बড়, নারী-পুরুষ সকলের নিকট তিনি অত্যন্ত সুবিদিত। তার নাম ও প্রশংসনীয় সাহসিকতা প্রসিদ্ধ। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে তিনি স্বীকৃত ও বরিত। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে তার নাম।
যখন তার বীরত্বের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বীর। যখন ইসলামের জন্য তার আত্মোৎসর্গের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রহরী। যখন তার বৈশিষ্ট্যের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনি এ উম্মতের শ্রেষ্ঠ পুরুষ। ইসলামের ইতিহাস এবং মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি সদস্যের নিকট তার নাম আকাশে উদিত সূর্যের মতো দেদীপ্যমান। রাতের আকাশে ধ্রুব-নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল।
তিনি কে?
কে তিনি, যার এত মহিমা? যিনি পাল্টে দিয়েছেন ইতিহাসের গতিধারা? যিনি রচনা করেছেন বিপ্লবের সোনালি দাস্তান?

টিকাঃ
৮৮ সুরা আহযাব: ২৩
৮৯ তাবারানি

আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুসলিম যুবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। ইসলামের ইতিহাসের এক অজেয় ও কিংবদন্তি মহানায়কের গল্প বলব। যিনি ছিলেন সাহসিকতা ও বীরত্বে অনন্য। ছিলেন ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। ইসলামের জন্য সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন যিনি এটি তার গল্প। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে সে গল্পের পুনরাবৃত্তি আজ অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে। মুসলিম উম্মাহর আজ এমন সাহসী তরুণের প্রয়োজন, যারা ইসলামের গতিধারা পাল্টে দেবে। যারা প্রতিহত করবে ইসলামের ওপর আপতিত আক্রমণ। যারা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর শত্রুদের মোকাবেলা করবে শক্তহাতে। শুধু কথা নয় কাজেও যারা হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। আজ কথার ফুলঝুরি ফোটানোর মতো বহু ব্যক্তি আছে কিন্তু কর্মের ময়দানে তারা শূন্য। উম্মাহর প্রয়োজনের সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
আল্লাহ তায়ালার ঘোষণার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তিনি বলেছেন,
رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ
'কতক লোক যারা আল্লাহকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছে।'⁸⁸
মুসলিম উম্মাহর আজ এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন যারা ইসলামকে তার পুরনো গতিপথে ফিরিয়ে দেবে। ফিরিয়ে আনবে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর হারানো গৌরব। যারা ইসলামকে তার প্রকৃত লক্ষ্যে পৌঁছাতে নিজেদের জান-মাল কুরবান করবে। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় উৎসর্গ করবে দেহের প্রতি ফোটা রক্ত। আজ প্রয়োজন তাদের যারা উষ্ণ রক্ত প্রবাহিত করতে মোটেও ভয় করবে না। জালিমের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে যারা কালিমার ঝান্ডা হাতে এগিয়ে যাবে সম্মুখপানে। যাদের হৃদয়ে থাকবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার আনুগত্যের প্রতি স্পৃহা। পার্থিব কোনো লালসা যাদের হঠাতে পারবে না। তাদের প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি কাজ হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য। আর তাদেরই হাতে রচিত হবে ইসলামের নয়া ইতিহাস। আল্লাহর কসম! আজ তো উম্মাহর এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন। উম্মাহর ভাগ্যাকাশে যেদিন উদিত হবে তাদের মতো কতিপয় নক্ষত্র সেদিন প্রকৃতপক্ষে মুসলিম জাতি ঘুরে দাঁড়াবে। লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকল ভেঙে তারা বেরিয়ে আসবে সম্মান ও বিজয়ের রণাঙ্গনে।
এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা সকল উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। পূর্ববর্তী সকল জাতির চেয়ে সম্মান ও মর্যাদায় অগ্রগামী করেছেন। কারণ এ উম্মতের নবী হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা এক কল্যাণকর জাতি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মানুষের কল্যাণে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের নির্বাচিত করেছেন। তারা হলো মধ্যপন্থি উম্মাহ। পূর্বে অতিবাহিত সকল উম্মতের মধ্য থেকে এ উম্মতকে নির্বাচন করেছেন। এ উম্মতের রয়েছে প্রভূত ফজিলত, যা পূর্বেকার উম্মতদের আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দেননি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
من أمتي سبعون ألفاً يدخلون الجنة بغير حساب، وجوههم كالقمر ليلة البدر
'আমার সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল।'⁸⁹
নিশ্চয় এটি উম্মতে মুহাম্মদির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উম্মতের মুহাম্মদির প্রতি মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ ও অশেষ কৃপা। অন্যান্য উম্মতের ওপর উম্মতে মুহাম্মদিকে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন নিছক এমনিতেই নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে বহু কারণ। সেসব কারণের একটি হলো সাহসিকতা। আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের চেয়ে অধিকতর সাহসিকতা দান করেছেন। তাদের বক্ষে দিয়েছেন আল্লাহর দ্বীনের জন্য অপরিসীম স্পৃহা ও বীরত্ব। এলায়ে কালিমাতুল্লাহ তথা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা জীবনবাজি রাখতে কুণ্ঠাবোধ করে না। যা নিঃস্বার্থ এবং কেবলই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে। তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত সাহসিকতা ও বীরত্ব প্রদর্শন উদ্দেশ্য নয়। আর এ বৈশিষ্ট্য উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের ওপর মর্যাদা ও সম্মানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছে।
খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.
হে আল্লাহর বান্দাগণ! হে উম্মাহর অতন্ত্র প্রহরী তরুণ শক্তি! এমন এক ব্যক্তির জীবন ও কর্মপন্থা আজ আলোচনা করব যা আমাদের ঈমানকে শানিত করবে। যার জীবনপ্রবাহ সাহসী করে তুলবে আমাদের হৃদয়কে। তার আত্মোৎসর্গের বিরল ঘটনা আমাদের ইসলামের জন্য আরো নিবেদিতপ্রাণ করে তুলবে। তিনি এমন এক ব্যক্তি উম্মাহর কোনো সদস্য তার সম্পর্কে অনবগত নয়। ছোট-बড়, নারী-পুরুষ সকলের নিকট তিনি অত্যন্ত সুবিদিত। তার নাম ও প্রশংসনীয় সাহসিকতা প্রসিদ্ধ। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে তিনি স্বীকৃত ও বরিত। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে তার নাম।
যখন তার বীরত্বের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বীর। যখন ইসলামের জন্য তার আত্মোৎসর্গের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রহরী। যখন তার বৈশিষ্ট্যের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনি এ উম্মতের শ্রেষ্ঠ পুরুষ। ইসলামের ইতিহাস এবং মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি সদস্যের নিকট তার নাম আকাশে উদিত সূর্যের মতো দেদীপ্যমান। রাতের আকাশে ধ্রুব-নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল।
তিনি কে?
কে তিনি, যার এত মহিমা? যিনি পাল্টে দিয়েছেন ইতিহাসের গতিধারা? যিনি রচনা করেছেন বিপ্লবের সোনালি দাস্তান?

টিকাঃ
৮৮ সুরা আহযাব: ২৩
৮৯ তাবারানি

আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুসলিম যুবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। ইসলামের ইতিহাসের এক অজেয় ও কিংবদন্তি মহানায়কের গল্প বলব। যিনি ছিলেন সাহসিকতা ও বীরত্বে অনন্য। ছিলেন ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। ইসলামের জন্য সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন যিনি এটি তার গল্প। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে সে গল্পের পুনরাবৃত্তি আজ অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে। মুসলিম উম্মাহর আজ এমন সাহসী তরুণের প্রয়োজন, যারা ইসলামের গতিধারা পাল্টে দেবে। যারা প্রতিহত করবে ইসলামের ওপর আপতিত আক্রমণ। যারা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর শত্রুদের মোকাবেলা করবে শক্তহাতে। শুধু কথা নয় কাজেও যারা হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। আজ কথার ফুলঝুরি ফোটানোর মতো বহু ব্যক্তি আছে কিন্তু কর্মের ময়দানে তারা শূন্য। উম্মাহর প্রয়োজনের সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
আল্লাহ তায়ালার ঘোষণার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তিনি বলেছেন,
رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ
'কতক লোক যারা আল্লাহকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছে।'⁸⁸
মুসলিম উম্মাহর আজ এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন যারা ইসলামকে তার পুরনো গতিপথে ফিরিয়ে দেবে। ফিরিয়ে আনবে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর হারানো গৌরব। যারা ইসলামকে তার প্রকৃত লক্ষ্যে পৌঁছাতে নিজেদের জান-মাল কুরবান করবে। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় উৎসর্গ করবে দেহের প্রতি ফোটা রক্ত। আজ প্রয়োজন তাদের যারা উষ্ণ রক্ত প্রবাহিত করতে মোটেও ভয় করবে না। জালিমের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে যারা কালিমার ঝান্ডা হাতে এগিয়ে যাবে সম্মুখপানে। যাদের হৃদয়ে থাকবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার আনুগত্যের প্রতি স্পৃহা। পার্থিব কোনো লালসা যাদের হঠাতে পারবে না। তাদের প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি কাজ হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য। আর তাদেরই হাতে রচিত হবে ইসলামের নয়া ইতিহাস। আল্লাহর কসম! আজ তো উম্মাহর এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন। উম্মাহর ভাগ্যাকাশে যেদিন উদিত হবে তাদের মতো কতিপয় নক্ষত্র সেদিন প্রকৃতপক্ষে মুসলিম জাতি ঘুরে দাঁড়াবে। লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকল ভেঙে তারা বেরিয়ে আসবে সম্মান ও বিজয়ের রণাঙ্গনে।
এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা সকল উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। পূর্ববর্তী সকল জাতির চেয়ে সম্মান ও মর্যাদায় অগ্রগামী করেছেন। কারণ এ উম্মতের নবী হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা এক কল্যাণকর জাতি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মানুষের কল্যাণে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের নির্বাচিত করেছেন। তারা হলো মধ্যপন্থি উম্মাহ। পূর্বে অতিবাহিত সকল উম্মতের মধ্য থেকে এ উম্মতকে নির্বাচন করেছেন। এ উম্মতের রয়েছে প্রভূত ফজিলত, যা পূর্বেকার উম্মতদের আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দেননি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
من أمتي سبعون ألفاً يدخلون الجنة بغير حساب، وجوههم كالقمر ليلة البدر
'আমার সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল।'⁸⁹
নিশ্চয় এটি উম্মতে মুহাম্মদির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উম্মতের মুহাম্মদির প্রতি মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ ও অশেষ কৃপা। অন্যান্য উম্মতের ওপর উম্মতে মুহাম্মদিকে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন নিছক এমনিতেই নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে বহু কারণ। সেসব কারণের একটি হলো সাহসিকতা। আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের চেয়ে অধিকতর সাহসিকতা দান করেছেন। তাদের বক্ষে দিয়েছেন আল্লাহর দ্বীনের জন্য অপরিসীম স্পৃহা ও বীরত্ব। এলায়ে কালিমাতুল্লাহ তথা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা জীবনবাজি রাখতে কুণ্ঠাবোধ করে না। যা নিঃস্বার্থ এবং কেবলই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে। তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত সাহসিকতা ও বীরত্ব প্রদর্শন উদ্দেশ্য নয়। আর এ বৈশিষ্ট্য উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের ওপর মর্যাদা ও সম্মানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছে।
খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.
হে আল্লাহর বান্দাগণ! হে উম্মাহর অতন্ত্র প্রহরী তরুণ শক্তি! এমন এক ব্যক্তির জীবন ও কর্মপন্থা আজ আলোচনা করব যা আমাদের ঈমানকে শানিত করবে। যার জীবনপ্রবাহ সাহসী করে তুলবে আমাদের হৃদয়কে। তার আত্মোৎসর্গের বিরল ঘটনা আমাদের ইসলামের জন্য আরো নিবেদিতপ্রাণ করে তুলবে। তিনি এমন এক ব্যক্তি উম্মাহর কোনো সদস্য তার সম্পর্কে অনবগত নয়। ছোট-बড়, নারী-পুরুষ সকলের নিকট তিনি অত্যন্ত সুবিদিত। তার নাম ও প্রশংসনীয় সাহসিকতা প্রসিদ্ধ। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে তিনি স্বীকৃত ও বরিত। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে তার নাম।
যখন তার বীরত্বের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বীর। যখন ইসলামের জন্য তার আত্মোৎসর্গের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রহরী। যখন তার বৈশিষ্ট্যের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনি এ উম্মতের শ্রেষ্ঠ পুরুষ। ইসলামের ইতিহাস এবং মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি সদস্যের নিকট তার নাম আকাশে উদিত সূর্যের মতো দেদীপ্যমান। রাতের আকাশে ধ্রুব-নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল।
তিনি কে?
কে তিনি, যার এত মহিমা? যিনি পাল্টে দিয়েছেন ইতিহাসের গতিধারা? যিনি রচনা করেছেন বিপ্লবের সোনালি দাস্তান?

টিকাঃ
৮৮ সুরা আহযাব: ২৩
৮৯ তাবারানি

আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুসলিম যুবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। ইসলামের ইতিহাসের এক অজেয় ও কিংবদন্তি মহানায়কের গল্প বলব। যিনি ছিলেন সাহসিকতা ও বীরত্বে অনন্য। ছিলেন ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। ইসলামের জন্য সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন যিনি এটি তার গল্প। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে সে গল্পের পুনরাবৃত্তি আজ অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে। মুসলিম উম্মাহর আজ এমন সাহসী তরুণের প্রয়োজন, যারা ইসলামের গতিধারা পাল্টে দেবে। যারা প্রতিহত করবে ইসলামের ওপর আপতিত আক্রমণ। যারা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর শত্রুদের মোকাবেলা করবে শক্তহাতে। শুধু কথা নয় কাজেও যারা হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। আজ কথার ফুলঝুরি ফোটানোর মতো বহু ব্যক্তি আছে কিন্তু কর্মের ময়দানে তারা শূন্য। উম্মাহর প্রয়োজনের সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
আল্লাহ তায়ালার ঘোষণার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তিনি বলেছেন,
رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ
'কতক লোক যারা আল্লাহকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছে।'⁸⁸
মুসলিম উম্মাহর আজ এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন যারা ইসলামকে তার পুরনো গতিপথে ফিরিয়ে দেবে। ফিরিয়ে আনবে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর হারানো গৌরব। যারা ইসলামকে তার প্রকৃত লক্ষ্যে পৌঁছাতে নিজেদের জান-মাল কুরবান করবে। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় উৎসর্গ করবে দেহের প্রতি ফোটা রক্ত। আজ প্রয়োজন তাদের যারা উষ্ণ রক্ত প্রবাহিত করতে মোটেও ভয় করবে না। জালিমের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে যারা কালিমার ঝান্ডা হাতে এগিয়ে যাবে সম্মুখপানে। যাদের হৃদয়ে থাকবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার আনুগত্যের প্রতি স্পৃহা। পার্থিব কোনো লালসা যাদের হঠাতে পারবে না। তাদের প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি কাজ হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য। আর তাদেরই হাতে রচিত হবে ইসলামের নয়া ইতিহাস। আল্লাহর কসম! আজ তো উম্মাহর এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন। উম্মাহর ভাগ্যাকাশে যেদিন উদিত হবে তাদের মতো কতিপয় নক্ষত্র সেদিন প্রকৃতপক্ষে মুসলিম জাতি ঘুরে দাঁড়াবে। লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকল ভেঙে তারা বেরিয়ে আসবে সম্মান ও বিজয়ের রণাঙ্গনে।
এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা সকল উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। পূর্ববর্তী সকল জাতির চেয়ে সম্মান ও মর্যাদায় অগ্রগামী করেছেন। কারণ এ উম্মতের নবী হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা এক কল্যাণকর জাতি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মানুষের কল্যাণে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের নির্বাচিত করেছেন। তারা হলো মধ্যপন্থি উম্মাহ। পূর্বে অতিবাহিত সকল উম্মতের মধ্য থেকে এ উম্মতকে নির্বাচন করেছেন। এ উম্মতের রয়েছে প্রভূত ফজিলত, যা পূর্বেকার উম্মতদের আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দেননি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
من أمتي سبعون ألفاً يدخلون الجنة بغير حساب، وجوههم كالقمر ليلة البدر
'আমার সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল।'⁸⁹
নিশ্চয় এটি উম্মতে মুহাম্মদির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উম্মতের মুহাম্মদির প্রতি মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ ও অশেষ কৃপা। অন্যান্য উম্মতের ওপর উম্মতে মুহাম্মদিকে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন নিছক এমনিতেই নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে বহু কারণ। সেসব কারণের একটি হলো সাহসিকতা। আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের চেয়ে অধিকতর সাহসিকতা দান করেছেন। তাদের বক্ষে দিয়েছেন আল্লাহর দ্বীনের জন্য অপরিসীম স্পৃহা ও বীরত্ব। এলায়ে কালিমাতুল্লাহ তথা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা জীবনবাজি রাখতে কুণ্ঠাবোধ করে না। যা নিঃস্বার্থ এবং কেবলই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে। তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত সাহসিকতা ও বীরত্ব প্রদর্শন উদ্দেশ্য নয়। আর এ বৈশিষ্ট্য উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের ওপর মর্যাদা ও সম্মানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছে।
খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.
হে আল্লাহর বান্দাগণ! হে উম্মাহর অতন্ত্র প্রহরী তরুণ শক্তি! এমন এক ব্যক্তির জীবন ও কর্মপন্থা আজ আলোচনা করব যা আমাদের ঈমানকে শানিত করবে। যার জীবনপ্রবাহ সাহসী করে তুলবে আমাদের হৃদয়কে। তার আত্মোৎসর্গের বিরল ঘটনা আমাদের ইসলামের জন্য আরো নিবেদিতপ্রাণ করে তুলবে। তিনি এমন এক ব্যক্তি উম্মাহর কোনো সদস্য তার সম্পর্কে অনবগত নয়। ছোট-बড়, নারী-পুরুষ সকলের নিকট তিনি অত্যন্ত সুবিদিত। তার নাম ও প্রশংসনীয় সাহসিকতা প্রসিদ্ধ। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে তিনি স্বীকৃত ও বরিত। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে তার নাম।
যখন তার বীরত্বের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বীর। যখন ইসলামের জন্য তার আত্মোৎসর্গের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রহরী। যখন তার বৈশিষ্ট্যের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনি এ উম্মতের শ্রেষ্ঠ পুরুষ। ইসলামের ইতিহাস এবং মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি সদস্যের নিকট তার নাম আকাশে উদিত সূর্যের মতো দেদীপ্যমান। রাতের আকাশে ধ্রুব-নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল।
তিনি কে?
কে তিনি, যার এত মহিমা? যিনি পাল্টে দিয়েছেন ইতিহাসের গতিধারা? যিনি রচনা করেছেন বিপ্লবের সোনালি দাস্তান?

টিকাঃ
৮৮ সুরা আহযাব: ২৩
৮৯ তাবারানি

আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুসলিম যুবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। ইসলামের ইতিহাসের এক অজেয় ও কিংবদন্তি মহানায়কের গল্প বলব। যিনি ছিলেন সাহসিকতা ও বীরত্বে অনন্য। ছিলেন ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। ইসলামের জন্য সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন যিনি এটি তার গল্প। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে সে গল্পের পুনরাবৃত্তি আজ অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে। মুসলিম উম্মাহর আজ এমন সাহসী তরুণের প্রয়োজন, যারা ইসলামের গতিধারা পাল্টে দেবে। যারা প্রতিহত করবে ইসলামের ওপর আপতিত আক্রমণ। যারা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর শত্রুদের মোকাবেলা করবে শক্তহাতে। শুধু কথা নয় কাজেও যারা হবে উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী। আজ কথার ফুলঝুরি ফোটানোর মতো বহু ব্যক্তি আছে কিন্তু কর্মের ময়দানে তারা শূন্য। উম্মাহর প্রয়োজনের সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
আল্লাহ তায়ালার ঘোষণার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তিনি বলেছেন,
رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ
'কতক লোক যারা আল্লাহকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছে।'⁸⁸
মুসলিম উম্মাহর আজ এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন যারা ইসলামকে তার পুরনো গতিপথে ফিরিয়ে দেবে। ফিরিয়ে আনবে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর হারানো গৌরব। যারা ইসলামকে তার প্রকৃত লক্ষ্যে পৌঁছাতে নিজেদের জান-মাল কুরবান করবে। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় উৎসর্গ করবে দেহের প্রতি ফোটা রক্ত। আজ প্রয়োজন তাদের যারা উষ্ণ রক্ত প্রবাহিত করতে মোটেও ভয় করবে না। জালিমের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে যারা কালিমার ঝান্ডা হাতে এগিয়ে যাবে সম্মুখপানে। যাদের হৃদয়ে থাকবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার আনুগত্যের প্রতি স্পৃহা। পার্থিব কোনো লালসা যাদের হঠাতে পারবে না। তাদের প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি কাজ হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য। আর তাদেরই হাতে রচিত হবে ইসলামের নয়া ইতিহাস। আল্লাহর কসম! আজ তো উম্মাহর এমন কতিপয় ব্যক্তির প্রয়োজন। উম্মাহর ভাগ্যাকাশে যেদিন উদিত হবে তাদের মতো কতিপয় নক্ষত্র সেদিন প্রকৃতপক্ষে মুসলিম জাতি ঘুরে দাঁড়াবে। লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকল ভেঙে তারা বেরিয়ে আসবে সম্মান ও বিজয়ের রণাঙ্গনে।
এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা সকল উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। পূর্ববর্তী সকল জাতির চেয়ে সম্মান ও মর্যাদায় অগ্রগামী করেছেন। কারণ এ উম্মতের নবী হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। এ উম্মতকে আল্লাহ তায়ালা এক কল্যাণকর জাতি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মানুষের কল্যাণে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের নির্বাচিত করেছেন। তারা হলো মধ্যপন্থি উম্মাহ। পূর্বে অতিবাহিত সকল উম্মতের মধ্য থেকে এ উম্মতকে নির্বাচন করেছেন। এ উম্মতের রয়েছে প্রভূত ফজিলত, যা পূর্বেকার উম্মতদের আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দেননি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
من أمتي سبعون ألفاً يدخلون الجنة بغير حساب، وجوههم كالقمر ليلة البدر
'আমার সত্তর হাজার উম্মত বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল।'⁸⁹
নিশ্চয় এটি উম্মতে মুহাম্মদির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উম্মতের মুহাম্মদির প্রতি মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ ও অশেষ কৃপা। অন্যান্য উম্মতের ওপর উম্মতে মুহাম্মদিকে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন নিছক এমনিতেই নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে বহু কারণ। সেসব কারণের একটি হলো সাহসিকতা। আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের চেয়ে অধিকতর সাহসিকতা দান করেছেন। তাদের বক্ষে দিয়েছেন আল্লাহর দ্বীনের জন্য অপরিসীম স্পৃহা ও বীরত্ব। এলায়ে কালিমাতুল্লাহ তথা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা জীবনবাজি রাখতে কুণ্ঠাবোধ করে না। যা নিঃস্বার্থ এবং কেবলই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে। তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত সাহসিকতা ও বীরত্ব প্রদর্শন উদ্দেশ্য নয়। আর এ বৈশিষ্ট্য উম্মতে মুহাম্মদিকে অন্যান্য উম্মতের ওপর মর্যাদা ও সম্মানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছে।
খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.
হে আল্লাহর বান্দাগণ! হে উম্মাহর অতন্ত্র প্রহরী তরুণ শক্তি! এমন এক ব্যক্তির জীবন ও কর্মপন্থা আজ আলোচনা করব যা আমাদের ঈমানকে শানিত করবে। যার জীবনপ্রবাহ সাহসী করে তুলবে আমাদের হৃদয়কে। তার আত্মোৎসর্গের বিরল ঘটনা আমাদের ইসলামের জন্য আরো নিবেদিতপ্রাণ করে তুলবে। তিনি এমন এক ব্যক্তি উম্মাহর কোনো সদস্য তার সম্পর্কে অনবগত নয়। ছোট-बড়, নারী-পুরুষ সকলের নিকট তিনি অত্যন্ত সুবিদিত। তার নাম ও প্রশংসনীয় সাহসিকতা প্রসিদ্ধ। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে তিনি স্বীকৃত ও বরিত। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে তার নাম।
যখন তার বীরত্বের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বীর। যখন ইসলামের জন্য তার আত্মোৎসর্গের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনিই ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রহরী। যখন তার বৈশিষ্ট্যের আলোচনা করা হয়, মনে হয় তিনি এ উম্মতের শ্রেষ্ঠ পুরুষ। ইসলামের ইতিহাস এবং মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি সদস্যের নিকট তার নাম আকাশে উদিত সূর্যের মতো দেদীপ্যমান। রাতের আকাশে ধ্রুব-নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল।
তিনি কে?
কে তিনি, যার এত মহিমা? যিনি পাল্টে দিয়েছেন ইতিহাসের গতিধারা? যিনি রচনা করেছেন বিপ্লবের সোনালি দাস্তান?

টিকাঃ
৮৮ সুরা আহযাব: ২৩
৮৯ তাবারানি

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00