📄 যুবকের সৌভাগ্যের মৃত্যু
মৃত ব্যক্তিদের গোসল দেন এমন ব্যক্তি একটি অতি আশ্চর্যজনক ঘটনা বলেছেন। তিনি বলেন, এক যুবককে মৃত্যুর পর গোসল দেওয়ার জন্য আমাকে ডাকা হলো। তাকে গোসল দেওয়ার জন্য আমি ভেতরে প্রবেশ করি। তখন আমার সাথে ছিল আরো একজন। আমরা যখন যুবককে গোসল দিচ্ছি তখন চারদিক সুগন্ধে মোহিত হয়ে যায়। এমন সুগন্ধ আমি কখনো পাইনি জীবনে।
লোকটি বলেন, আমি আমার সহকারীকে বললাম, তুমি কি সুঘ্রাণ পাচ্ছ? সে বলল, হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন, আমি কখনো এমন সুঘ্রাণের সাথে ইতিপূর্বে পরিচিত ছিলাম না। আর তার মুখমণ্ডল অতি উজ্জ্বলতায় ফকফক করছিল। দীর্ঘদিন কত মৃত ব্যক্তিকে গোসল দিয়েছি কিন্তু এমন সুন্দর চেহারা আমি কোনো মৃত ব্যক্তির দেখিনি। আমি অত্যন্ত আগ্রহ উদ্দীপনার সাথে যুবককে গোসল দিতে থাকি। পরবর্তীতে আমি জেনেছি, যুবকটি ছিল অত্যন্ত সৎ ও পরহেজগার। আল্লাহর আনুগত্য করত। সৎকাজের আদেশ করত, অসৎকাজ থেকে লোকদের বিরত রাখত। তার জীবন ছিল সততা ও উত্তম আদর্শে মোড়ানো। আমরা তাকে গোসল দিয়ে কাফন পরিয়ে জানাজা শেষে কবরস্থানে নিয়ে গেলাম।
যারা তাকে কবরে নামিয়েছে তাদের মাঝে আমিও ছিলাম। আল্লাহর কসম! কবরে রাখার পর তার লাশ কেমন নড়ে উঠল। আমি আশ্চর্য হয়ে আমার সঙ্গীদের জিজ্ঞেস করলাম, তারাও এমনটি অনুভব করল। তার চেহারা আপনা থেকেই কেবলামুখি হয়ে গেল। আমি আশ্চর্য হয়ে তার মুখমণ্ডলের দিকে তাকালাম। দেখি, সে হাসছে। অতি উজ্জ্বল তার চেহারার রঙ। যেন পূর্ণিমার চাঁদ নেমে এসেছে কবরে। আমি সন্দেহ পোষণ করলাম, সত্যিই সে মৃত্যুবরণ করেছে কি না। কিন্তু পরক্ষণেই আমার সন্দেহ দূর হয়ে গেল। কারণ, আমিই তো তাকে গোসল দিয়েছি। এবং আমি জানি সে ছিল একজন আদর্শবান যুবক। কখনো আল্লাহর অবাধ্যতা করেনি। আমরা যুবককে কবরস্থ করে ফিরে এলাম।