📄 মৃত্যুর সময় কুরআন পড়ছিল এক যুবক
জনৈক ব্যক্তি একটি অতি আশ্চর্য ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এক পরিণত যুবক রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছিল। চলতে চলতে হঠাৎ পথে তার গাড়িটি নষ্ট হয়ে যায়। যুবকটি গাড়ি থেকে নেমে রাস্তার পাশে তার গাড়িটি মেরামত করছিল। এমন সময় পেছন থেকে অন্য একটি গাড়ি এসে যুবককে সজোরে ধাক্কা দেয়। অমনি সাথে সাথে যুবকটি রাস্তার ওপর মুখ থুবড়ে পড়ে যায়। তার পুরো শরীর থেতলে যায়। রক্তে ভেসে যায় চারপাশ। গাড়িটি তাকে আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। আমরা যারা পথিক ছিলাম দৌড়ে যুবকের নিকট গেলাম। তখনো সে বেঁচে ছিল। আমরা তাকে হাসপাতাল নেওয়ার জন্য একটি গাড়িতে ওঠালাম।
গাড়ি হাসপাতালের দিকে যাচ্ছে। আমাদের সকলকে দারুণ বিস্মিত করে যুবকটি হঠাৎ আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় অত্যন্ত মধুর সুরে কুরআন তিলাওয়াত করতে শুরু করে। বিষয়টি আমাদের ভীষণ রকমের আশ্চর্যান্বিত করে। আমরা উপস্থিত সকলে বিস্মিত হয়ে চোখ বড় বড় করে যুবকের দিকে তাকিয়ে থাকি। যুবকটি তখন আমার কোলে মাথা রেখে শুয়ে ছিল। হাসপাতাল তখনো আর অনেক পথ বাকি। আমরা তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকি। কিন্তু জীবন ও মৃত্যু একমাত্র তারই হাতে যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন। ধীরে ধীরে তার কণ্ঠ স্তিমিত হয়ে আসে। আমরা তাকে কালিমা পড়ানোর আগেই সে কালিমা পড়ে। কিছুক্ষণ পর তার হাত দুটো নিস্তেজ হয়ে আমার ওপর পড়ে যায়। কালিমা পড়তে পড়তে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
আল্লাহু আকবার! কী সৌভাগ্যের মৃত্যু এ যুবকের। কতই-না সুন্দর মৃত্যু হয়েছে তার। মৃত্যুর পূর্বে কুরআন তিলাওয়াত করেছে। বারবার কালিমা পড়েছে। হে আল্লার বান্দা! মৃত্যুর পূর্বে কালিমা কেবল তারাই পড়তে পারে যারা আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার সৌভাগ্যবান বান্দা। যাদের আল্লাহ তায়ালা নির্বাচন করেছেন তার প্রিয় বান্দা হিসেবে। এ মৃত্যু যুবকের সুন্দর জীবনযাপনের প্রমাণ। জীবনভর সে আল্লাহর আনুগত্য করেছে। নামাজ পড়েছে। দুনিয়ার মোহে আখেরাতকে সে ভুলে যায়নি কখনো। হে মুসলিম যুবক! শিক্ষাগ্রহণ করো। এক যুবককে মৃত্যুর সময় কত চেষ্টা করেও কালিমা পড়ানো যায়নি। এক যুবককে চেষ্টা ছাড়াই কুরআন তিলাওয়াত এবং কালিমা পড়তে শুরু করেছে। এর পেছনে আসল রহস্য কী? হে যুবক! চিন্তা করো। ভেবে দেখো। উপদেশ গ্রহণ করো। এর মাধ্যমে তোমাদের আগামীর কর্মপন্থা নির্ধারণ করো।
📄 যুবকের সৌভাগ্যের মৃত্যু
মৃত ব্যক্তিদের গোসল দেন এমন ব্যক্তি একটি অতি আশ্চর্যজনক ঘটনা বলেছেন। তিনি বলেন, এক যুবককে মৃত্যুর পর গোসল দেওয়ার জন্য আমাকে ডাকা হলো। তাকে গোসল দেওয়ার জন্য আমি ভেতরে প্রবেশ করি। তখন আমার সাথে ছিল আরো একজন। আমরা যখন যুবককে গোসল দিচ্ছি তখন চারদিক সুগন্ধে মোহিত হয়ে যায়। এমন সুগন্ধ আমি কখনো পাইনি জীবনে।
লোকটি বলেন, আমি আমার সহকারীকে বললাম, তুমি কি সুঘ্রাণ পাচ্ছ? সে বলল, হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন, আমি কখনো এমন সুঘ্রাণের সাথে ইতিপূর্বে পরিচিত ছিলাম না। আর তার মুখমণ্ডল অতি উজ্জ্বলতায় ফকফক করছিল। দীর্ঘদিন কত মৃত ব্যক্তিকে গোসল দিয়েছি কিন্তু এমন সুন্দর চেহারা আমি কোনো মৃত ব্যক্তির দেখিনি। আমি অত্যন্ত আগ্রহ উদ্দীপনার সাথে যুবককে গোসল দিতে থাকি। পরবর্তীতে আমি জেনেছি, যুবকটি ছিল অত্যন্ত সৎ ও পরহেজগার। আল্লাহর আনুগত্য করত। সৎকাজের আদেশ করত, অসৎকাজ থেকে লোকদের বিরত রাখত। তার জীবন ছিল সততা ও উত্তম আদর্শে মোড়ানো। আমরা তাকে গোসল দিয়ে কাফন পরিয়ে জানাজা শেষে কবরস্থানে নিয়ে গেলাম।
যারা তাকে কবরে নামিয়েছে তাদের মাঝে আমিও ছিলাম। আল্লাহর কসম! কবরে রাখার পর তার লাশ কেমন নড়ে উঠল। আমি আশ্চর্য হয়ে আমার সঙ্গীদের জিজ্ঞেস করলাম, তারাও এমনটি অনুভব করল। তার চেহারা আপনা থেকেই কেবলামুখি হয়ে গেল। আমি আশ্চর্য হয়ে তার মুখমণ্ডলের দিকে তাকালাম। দেখি, সে হাসছে। অতি উজ্জ্বল তার চেহারার রঙ। যেন পূর্ণিমার চাঁদ নেমে এসেছে কবরে। আমি সন্দেহ পোষণ করলাম, সত্যিই সে মৃত্যুবরণ করেছে কি না। কিন্তু পরক্ষণেই আমার সন্দেহ দূর হয়ে গেল। কারণ, আমিই তো তাকে গোসল দিয়েছি। এবং আমি জানি সে ছিল একজন আদর্শবান যুবক। কখনো আল্লাহর অবাধ্যতা করেনি। আমরা যুবককে কবরস্থ করে ফিরে এলাম।