📘 হে যুবক! ফিরে এসো রবের দিকে > 📄 মৃত্যুর সময় ভুলে গেছে কালিমা

📄 মৃত্যুর সময় ভুলে গেছে কালিমা


মহাসড়কে ট্রাফিক পুলিশের কাজ করেন এমন এক ব্যক্তি আমাকে কষ্টদায়ক ও হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, একদিন রাস্তায় দুটি গাড়ি পরস্পরে প্রতিযোগিতা করছিল। তাদের প্রতিযোগিতা হলো, কে আগে গন্তব্যে পৌঁছতে পারে তা পরীক্ষা করা। নিজেদের সাহসিকতা ও শক্তিমত্তা জাহির করতে তারা উভয়ে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে তারা তাদের গাড়ির গতি অসম্ভব বাড়িয়ে দিয়েছিল। আর তখনই ঘটে হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি। উভয় গাড়ি একটা আরেকটার সাথে সংঘর্ষ হয়। চোখের পলকে ঘটে যায় মারাত্মক এক্সিডেন্ট। সড়কে নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের উদ্ধারের জন্য দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। আমিও ছিলাম তাদের মাঝে।
প্রথম গাড়িটির ভেতরে গিয়ে দেখি সেখানে কেউ বেঁচে নেই। সকলে মারা গেছে। রক্তাক্ত হয়ে এদিক-সেদিক ছড়িয়ে আছে তাদের শরীর। সেখানে সময় অতিবাহিত না করে আমরা দ্রুত দ্বিতীয় গাড়িতে যাই। আমরা চাচ্ছিলাম, জীবিত কেউ থাকলে তাদের আগে উদ্ধার করা। দ্বিতীয় গাড়িতে প্রবেশ করে দেখি, এখানে তিনজন তরুণ বেঁচে আছে। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকে অবিরাম রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। তাদের জীবন ছিল কণ্ঠাগত। হয়তো খানিক বাদে তারাও মারা যাবে। আমরা দ্রুত তাদের গাড়ির ভেতর থেকে বাহিরে বের করে আনি এবং রাস্তার পাশে শুয়ে দিই। তাদের অবস্থা এতই শোচনীয় ছিল যে, আমরা বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছি। তাই মৃত্যুর পূর্বে আমরা তাদের কালিমা পড়ানোর চেষ্টা করি। আমরা বারবার তাদের কানের কাছে কালিমা পড়ছিলাম; যেন তারা মৃত্যুর পূর্বে কালিমা পড়তে পারে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, তাদের মুখ দিয়ে তখন কালিমার পরিবর্তে গান বেরিয়ে আসছিল। আমরা বারংবার চেষ্টা করে যাচ্ছি। প্রতিবারই তাদের মুখ থেকে গানের কথা বেরিয়ে আসে। তাদের এমন করুণ পরিণতি দেখে আমরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যাই। তাদের ভয়াবহ পরিণতির কথা ভেবে আমাদের মুখ থেকে দিয়ে কোনো কথা পর্যন্ত বের হচ্ছিল না। অবশেষে তাদের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পূর্বে তাদের কারো কালিমা পড়ার সৌভাগ্য হয়নি। জানি না আল্লাহ তাদের সাথে কেমন আচরণ করেছেন। স্বচক্ষে দেখা এ ঘটনা উপস্থিত আমাদের জীবনকে পরিবর্তন করে দিয়েছে। আর কেই-বা আছে এমন যে, এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে না।
হে যুবক! তাদের এমন দুর্ভাগ্য পরিণতির কারণ কী? এর কারণ তো এই যে, তারা জীবনভর পাপাচারে লিপ্ত ছিল। পার্থিব জীবনে তাদের সঙ্গী ছিল গানবাদ্য ও অশ্লীলতা। তারা কখনো কুরআন পড়েনি। মসজিদে যায়নি। নামাজ পড়েনি। আল্লাহর আনুগত্য করেনি। তাকে ভয় করেনি। যদি তাদের অন্তরে তাকওয়া থাকত, যদি তারা গাফেল না হতো তাহলে মৃত্যুর পূর্বে তাদের মুখ থেকে কালিমা বের হতো। অন্তিম সময়ে তাদের মুখ থেকে গান বেরিয়ে আসত না। জীবনভর তারা যে কর্ম করেছে তার ওপরই তাদের মৃত্যু হয়েছে। হে মুসলিম যুব ও তরুণ প্রজন্ম! এর থেকে শিক্ষাগ্রহণ করো। সমস্ত উদাসীনতা পরিহার করে, আল্লাহর অবাধ্যতা ও নাফরমানি পরিত্যাগ করে ফিরে এসো রবের দিকে। তোমাদের হৃদয়ে তাকওয়া অর্জন করো। নামাজের প্রতি যত্নবান হও। মসজিদকে তোমাদের সঙ্গী বানাও। নামাজকে বানাও পরম বন্ধু। হে যুবক! উপর্যুক্ত ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে তোমাদের পরবর্তী জীবন সাজাও।

📘 হে যুবক! ফিরে এসো রবের দিকে > 📄 নামাজ না পড়া তরুণের করুণ পরিণতি

📄 নামাজ না পড়া তরুণের করুণ পরিণতি


মৃত ব্যক্তিদের গোসল দেন এমন এক ব্যক্তি একটি করুণ কাহিনি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন। এক যুবক। দেখতে ছিল ভারি সুদর্শন। দেহ-গঠনে ছিল পরিপূর্ণ ও দারুণ সৌন্দর্যমণ্ডিত। একদিন আকস্মিক সে মৃত্যুবরণ করে। না তার কোনো অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণ ছিল না। তাকে গোসল দেওয়ার জন্য যথারীতি আমাকে ডাকা হলো। আমি যখন গোসল দেওয়ার জন্য তার মুখমণ্ডল খুলেছি, দেখি-তার সুন্দর চেহারা খুবই ভয়ংকর ও কুৎসিত আকৃতি ধারণ করেছে। আমি তার চেহারা দেখে ভয় পেয়ে যাই। অনেক মৃতকেই আমি গোসল দিয়েছি কিন্তু এমন কখনো দেখিনি। আল্লাহ তায়ালা সত্যই বলেছেন,
وَلَوْ تَرَى إِذْ يَتَوَفَّى الَّذِينَ كَفَرُوا الْمَلَائِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ وَذُوقُوا عَذَابَ الْحَرِيقِ ذُلِكَ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيكُمْ وَأَنَّ اللَّهَ لَيْسَ بِظَلَّامٍ لِلْعَبِيدِ
'ফেরেশতারা যখন কাফেরদের জান কবজ করে তখন তুমি যদি দেখতে, তারা তাদের মুখে ও পাছায় আঘাত করে আর বলে, জ্বলন্ত আগুনের শান্তি আস্বাদন করো। এটি তোমাদের কৃতকর্মের ফল। আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি জুলুম করেন না।'²⁸
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَأَنَّ اللَّهَ لَيْسَ بِظَلَّامٍ لِلْعَبِيدِ وَمَا ظَلَمَهُمُ اللَّهُ وَلَكِنْ أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ
আল্লাহ তাদের প্রতি জুলুম করেননি, বরং তারাই নিজেদের ওপর জুলুম করেছে।'²⁹
লোকটি বলেন, এ দেখে আমি এতই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি যে, দ্রুত গোসলখানা থেকে বেরিয়ে আসি। বাহিরে তখন যুবকের পিতা দাঁড়ানো ছিল। আমি যুবকের পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম দুনিয়াতে তার কর্ম সম্পর্কে। তিনি আমাকে অবহিত করলেন, 'আমার ছেলে কখনো নামাজ পড়ত না। আল্লাহ বিধি-বিধান পালনের প্রতি ছিল পূর্ণ গাফেল ও উদাসীন।'
হে যুবক! শোনো তোমাদের মতোই এক যুবকের পরিণতির কথা। মৃত্যুর পর কোন ভয়ংকর পরিণতি তাকে গ্রাস করেছে। দুনিয়াতেই তার আজাব শুরু হয়ে যায়। তার চেহারা বিকৃতি হয়ে যায়। লোকে তাকে দেখে ভয়ে ছিটকে পড়ে। এর কারণ তো আর কিছু নয়। এর কারণ হলো, যুবকটি ছিল গাফেল। আমলের প্রতি ছিল তার চরম উদাসীনতা। আল্লাহর আনুগত্য করত না। তাকে ভয় করত না। নামাজ পড়ত না। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন,
أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَن تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ وَمَا نَzَلَ مِنَ الْحَقِّ وَلَا يَكُونُوا كَالَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْأَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ فَاسِقُونَ اعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يُحْيِي الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا قَدْ بَيَّنَّا لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ
'আল্লাহর স্মরণ ও তার অবতীর্ণ সত্যের কল্যাণে মুমিনদের জন্য কি সময় হয়নি যে, তাদের অন্তর বিনম্র হবে এবং তারা তাদের মতো হবে না যাদের ইতিপূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছিল? অতঃপর বহুকাল অতিক্রান্ত হওয়ায় তাদের অন্তর শক্ত হয়ে গিয়েছে। তাদের অনেকেই অবাধ্য। জেনে রেখো! আল্লাহ জমিনকে মৃত্যুর পর জীবিত করেন। আমি তোমাদের জন্য নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পারো।'³⁰

টিকাঃ
২৮ সুরা আনফাল: ৫০-৫১
২৯ সুরা আলে ইমরান: ১১৭
৩০ সুরা হাদিদ: ১৬-১৭

📘 হে যুবক! ফিরে এসো রবের দিকে > 📄 মৃত্যুর সময় কুরআন পড়ছিল এক যুবক

📄 মৃত্যুর সময় কুরআন পড়ছিল এক যুবক


জনৈক ব্যক্তি একটি অতি আশ্চর্য ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এক পরিণত যুবক রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছিল। চলতে চলতে হঠাৎ পথে তার গাড়িটি নষ্ট হয়ে যায়। যুবকটি গাড়ি থেকে নেমে রাস্তার পাশে তার গাড়িটি মেরামত করছিল। এমন সময় পেছন থেকে অন্য একটি গাড়ি এসে যুবককে সজোরে ধাক্কা দেয়। অমনি সাথে সাথে যুবকটি রাস্তার ওপর মুখ থুবড়ে পড়ে যায়। তার পুরো শরীর থেতলে যায়। রক্তে ভেসে যায় চারপাশ। গাড়িটি তাকে আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। আমরা যারা পথিক ছিলাম দৌড়ে যুবকের নিকট গেলাম। তখনো সে বেঁচে ছিল। আমরা তাকে হাসপাতাল নেওয়ার জন্য একটি গাড়িতে ওঠালাম।
গাড়ি হাসপাতালের দিকে যাচ্ছে। আমাদের সকলকে দারুণ বিস্মিত করে যুবকটি হঠাৎ আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় অত্যন্ত মধুর সুরে কুরআন তিলাওয়াত করতে শুরু করে। বিষয়টি আমাদের ভীষণ রকমের আশ্চর্যান্বিত করে। আমরা উপস্থিত সকলে বিস্মিত হয়ে চোখ বড় বড় করে যুবকের দিকে তাকিয়ে থাকি। যুবকটি তখন আমার কোলে মাথা রেখে শুয়ে ছিল। হাসপাতাল তখনো আর অনেক পথ বাকি। আমরা তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকি। কিন্তু জীবন ও মৃত্যু একমাত্র তারই হাতে যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন। ধীরে ধীরে তার কণ্ঠ স্তিমিত হয়ে আসে। আমরা তাকে কালিমা পড়ানোর আগেই সে কালিমা পড়ে। কিছুক্ষণ পর তার হাত দুটো নিস্তেজ হয়ে আমার ওপর পড়ে যায়। কালিমা পড়তে পড়তে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
আল্লাহু আকবার! কী সৌভাগ্যের মৃত্যু এ যুবকের। কতই-না সুন্দর মৃত্যু হয়েছে তার। মৃত্যুর পূর্বে কুরআন তিলাওয়াত করেছে। বারবার কালিমা পড়েছে। হে আল্লার বান্দা! মৃত্যুর পূর্বে কালিমা কেবল তারাই পড়তে পারে যারা আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার সৌভাগ্যবান বান্দা। যাদের আল্লাহ তায়ালা নির্বাচন করেছেন তার প্রিয় বান্দা হিসেবে। এ মৃত্যু যুবকের সুন্দর জীবনযাপনের প্রমাণ। জীবনভর সে আল্লাহর আনুগত্য করেছে। নামাজ পড়েছে। দুনিয়ার মোহে আখেরাতকে সে ভুলে যায়নি কখনো। হে মুসলিম যুবক! শিক্ষাগ্রহণ করো। এক যুবককে মৃত্যুর সময় কত চেষ্টা করেও কালিমা পড়ানো যায়নি। এক যুবককে চেষ্টা ছাড়াই কুরআন তিলাওয়াত এবং কালিমা পড়তে শুরু করেছে। এর পেছনে আসল রহস্য কী? হে যুবক! চিন্তা করো। ভেবে দেখো। উপদেশ গ্রহণ করো। এর মাধ্যমে তোমাদের আগামীর কর্মপন্থা নির্ধারণ করো।

📘 হে যুবক! ফিরে এসো রবের দিকে > 📄 যুবকের সৌভাগ্যের মৃত্যু

📄 যুবকের সৌভাগ্যের মৃত্যু


মৃত ব্যক্তিদের গোসল দেন এমন ব্যক্তি একটি অতি আশ্চর্যজনক ঘটনা বলেছেন। তিনি বলেন, এক যুবককে মৃত্যুর পর গোসল দেওয়ার জন্য আমাকে ডাকা হলো। তাকে গোসল দেওয়ার জন্য আমি ভেতরে প্রবেশ করি। তখন আমার সাথে ছিল আরো একজন। আমরা যখন যুবককে গোসল দিচ্ছি তখন চারদিক সুগন্ধে মোহিত হয়ে যায়। এমন সুগন্ধ আমি কখনো পাইনি জীবনে।
লোকটি বলেন, আমি আমার সহকারীকে বললাম, তুমি কি সুঘ্রাণ পাচ্ছ? সে বলল, হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন, আমি কখনো এমন সুঘ্রাণের সাথে ইতিপূর্বে পরিচিত ছিলাম না। আর তার মুখমণ্ডল অতি উজ্জ্বলতায় ফকফক করছিল। দীর্ঘদিন কত মৃত ব্যক্তিকে গোসল দিয়েছি কিন্তু এমন সুন্দর চেহারা আমি কোনো মৃত ব্যক্তির দেখিনি। আমি অত্যন্ত আগ্রহ উদ্দীপনার সাথে যুবককে গোসল দিতে থাকি। পরবর্তীতে আমি জেনেছি, যুবকটি ছিল অত্যন্ত সৎ ও পরহেজগার। আল্লাহর আনুগত্য করত। সৎকাজের আদেশ করত, অসৎকাজ থেকে লোকদের বিরত রাখত। তার জীবন ছিল সততা ও উত্তম আদর্শে মোড়ানো। আমরা তাকে গোসল দিয়ে কাফন পরিয়ে জানাজা শেষে কবরস্থানে নিয়ে গেলাম।
যারা তাকে কবরে নামিয়েছে তাদের মাঝে আমিও ছিলাম। আল্লাহর কসম! কবরে রাখার পর তার লাশ কেমন নড়ে উঠল। আমি আশ্চর্য হয়ে আমার সঙ্গীদের জিজ্ঞেস করলাম, তারাও এমনটি অনুভব করল। তার চেহারা আপনা থেকেই কেবলামুখি হয়ে গেল। আমি আশ্চর্য হয়ে তার মুখমণ্ডলের দিকে তাকালাম। দেখি, সে হাসছে। অতি উজ্জ্বল তার চেহারার রঙ। যেন পূর্ণিমার চাঁদ নেমে এসেছে কবরে। আমি সন্দেহ পোষণ করলাম, সত্যিই সে মৃত্যুবরণ করেছে কি না। কিন্তু পরক্ষণেই আমার সন্দেহ দূর হয়ে গেল। কারণ, আমিই তো তাকে গোসল দিয়েছি। এবং আমি জানি সে ছিল একজন আদর্শবান যুবক। কখনো আল্লাহর অবাধ্যতা করেনি। আমরা যুবককে কবরস্থ করে ফিরে এলাম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00