📄 উদাসীনতা মানুষকে সঠিক পথ থেকে বিরত রাখে
গাফলত তথা উদাসীনতা মানুষকে ইসলামের সরল-সঠিক পথ থেকে বিরত রাখে। গাফেল ব্যক্তি দুনিয়া-আখেরাতের চিরস্থায়ী সফলতা থেকে বঞ্চিত হয়। কুরআন-হাদিসের শাশ্বত কল্যাণ থেকে বহু দূরে অবস্থান করে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
سَأَصْرِفُ عَنْ آيَاتِيَ الَّذِينَ يَتَكَبَّرُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَإِنْ يَرَوْا كُلَّ آيَةٍ لَا يُؤْمِنُوا بِهَا وَإِنْ يَرَوْا سَبِيلَ الرُّشْدِ لَا يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًا وَإِنْ يَرَوْا سَبِيلَ الغَيِّ يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًا ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَكَانُوا عَنْهَا غَافِلِينَ
যারা অন্যায়ভাবে পৃথিবীতে দাম্ভিক আচরণ করে আমি তাদের আমার নিদর্শনসমূহ থেকে ফিরিয়ে রাখব। তারা প্রতিটি নিদর্শন দেখলেও তা বিশ্বাস করে না। তারা সৎপথ দেখলেও তাকে পথ হিসেবে গ্রহণ করে না। কিন্তু ভ্রান্ত পথ দেখলেই তাকে পথ হিসেবে গ্রহণ করে। এটা এজন্য যে, তারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলেছে এবং সে সম্বন্ধে তারা গাফেল ও অমনোযোগী। ²⁷
হে আল্লাহর বান্দাগণ! পরকালের জন্য কী পাথেয় গ্রহণ করেছ? কবরের অন্ধকার গৃহের জন্য তোমার প্রস্তুতি কী? কবরের সেই তিন প্রশ্নে জবাব কি তুমি দিতে পারবে? আল্লাহ তায়ালা যখন তোমার প্রতি ওয়াক্ত নামাজের হিসাব চাইবেন তখন তোমার উত্তর কী হবে? কী বলবে সেদিন রাজাধিরাজ মহাশক্তিধর আল্লাহকে?
জেনে রেখো! আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াতে তোমার প্রতিটি কর্মের যথোচিত হিসাব চাইবেন। পার্থিব জীবনে তোমার মুখ থেকে নির্গত প্রতিটি শব্দ ও বাক্যের হিসাব সেদিন দিতে হবে। ছোট বড় কোনো আমলই আল্লাহর নিকট অজানা নয়। সেদিন কেউ এক পা অগ্রসর হতে পারবে না যতক্ষণ না সে তার প্রতিটি কথা ও আমলের হিসাব দেবে।
একদা হযরত হাসান আল বসরি রহ. পথ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। রাস্তার পাশে অনেকগুলো তরুণ দাড়িয়ে খোশগল্প করছে। তাদের মধ্যে একজন এমন অট্টহাসি দিলো যে, তার হাসিতে চারপাশ কলরিত হয়ে উঠল। হযরত হাসান বসরি রহ. ডাকলেন তাকে। জিজ্ঞেস করলেন, তুমি এভাবে হাসছ কেন? তুমি কি পুলসিরাত অতিক্রম করে ফেলেছ? যুবক জবাব দিলো, না।
হাসানা বসরি রহ. তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জানো পুলসিরাত যে অতিক্রম করতে পারবে সে জান্নাতে যাবে, আর যে তা অতিক্রম করতে পারবে না সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে? যুবক পুনরায় জবাব দিলো, না।
অতঃপর হযরত হাসান বসরি রহ. যুবককে বললেন, তাহলে তুমি উন্মাদের মতো এভাবে হাসছ কেন? তোমার চূড়ান্ত সফলতা তো এখনো নির্ধারণ হয়নি। তবুও তুমি হাসছ এভাবে? কোন জিনিস তোমাকে আখেরাত সম্পর্কে উদাসীন করে রেখেছে যার ফলে এমনভাবে হাসছ তুমি?
হে আল্লাহর বান্দাগণ! এর কারণ হলো গাফলত। আর কত? আর কত গাফলতের চাদরে মুড়িয়ে থাকবে? উদাসীনতার উপত্যকায় আর কতদিন উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরতে থাকবে? তুমি কি দেখো না, প্রতিনিয়ত আমাদের মধ্য থেকে কেউ না কেউ মৃত্যুবরণ করছে? চলে যাচ্ছে জীবনের সকল পাঠ চুকিয়ে। সকল স্বপ্ন সকল আশা তার পেছনে পড়ে থাকে তখন। আমরা নিজহাতে তাদের কাফন-দাফন দিই। তাদের রেখে আসি একাকী অন্ধকার নির্জন কবরগৃহে। তবুও কেন আমাদের বোধ জাগ্রত হয় না? আমাদের জীবন থেকে গাফলতি দূর হয় না? জীবনের সকাল-সন্ধ্যাগুলো কেটে যাচ্ছে একে একে। হারিয়ে যাচ্ছে জীবনের একের-পর-এক বসন্ত। তবুও আমরা ফিরে আসছি না আমাদের রবের দিকে।
টিকাঃ
২৭ সুরা আরাফ: ১৪৬
গাফলত তথা উদাসীনতা মানুষকে ইসলামের সরল-সঠিক পথ থেকে বিরত রাখে। গাফেল ব্যক্তি দুনিয়া-আখেরাতের চিরস্থায়ী সফলতা থেকে বঞ্চিত হয়। কুরআন-হাদিসের শাশ্বত কল্যাণ থেকে বহু দূরে অবস্থান করে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
سَأَصْرِفُ عَنْ آيَاتِيَ الَّذِينَ يَتَكَبَّرُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَإِنْ يَرَوْا كُلَّ آيَةٍ لَا يُؤْمِنُوا بِهَا وَإِنْ يَرَوْا سَبِيلَ الرُّشْدِ لَا يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًا وَإِنْ يَرَوْا سَبِيلَ الغَيِّ يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًا ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَكَانُوا عَنْهَا غَافِلِينَ
যারা অন্যায়ভাবে পৃথিবীতে দাম্ভিক আচরণ করে আমি তাদের আমার নিদর্শনসমূহ থেকে ফিরিয়ে রাখব। তারা প্রতিটি নিদর্শন দেখলেও তা বিশ্বাস করে না। তারা সৎপথ দেখলেও তাকে পথ হিসেবে গ্রহণ করে না। কিন্তু ভ্রান্ত পথ দেখলেই তাকে পথ হিসেবে গ্রহণ করে। এটা এজন্য যে, তারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলেছে এবং সে সম্বন্ধে তারা গাফেল ও অমনোযোগী। ²⁷
হে আল্লাহর বান্দাগণ! পরকালের জন্য কী পাথেয় গ্রহণ করেছ? কবরের অন্ধকার গৃহের জন্য তোমার প্রস্তুতি কী? কবরের সেই তিন প্রশ্নে জবাব কি তুমি দিতে পারবে? আল্লাহ তায়ালা যখন তোমার প্রতি ওয়াক্ত নামাজের হিসাব চাইবেন তখন তোমার উত্তর কী হবে? কী বলবে সেদিন রাজাধিরাজ মহাশক্তিধর আল্লাহকে?
জেনে রেখো! আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াতে তোমার প্রতিটি কর্মের যথোচিত হিসাব চাইবেন। পার্থিব জীবনে তোমার মুখ থেকে নির্গত প্রতিটি শব্দ ও বাক্যের হিসাব সেদিন দিতে হবে। ছোট বড় কোনো আমলই আল্লাহর নিকট অজানা নয়। সেদিন কেউ এক পা অগ্রসর হতে পারবে না যতক্ষণ না সে তার প্রতিটি কথা ও আমলের হিসাব দেবে।
একদা হযরত হাসান আল বসরি রহ. পথ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। রাস্তার পাশে অনেকগুলো তরুণ দাড়িয়ে খোশগল্প করছে। তাদের মধ্যে একজন এমন অট্টহাসি দিলো যে, তার হাসিতে চারপাশ কলরিত হয়ে উঠল। হযরত হাসান বসরি রহ. ডাকলেন তাকে। জিজ্ঞেস করলেন, তুমি এভাবে হাসছ কেন? তুমি কি পুলসিরাত অতিক্রম করে ফেলেছ? যুবক জবাব দিলো, না।
হাসানা বসরি রহ. তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জানো পুলসিরাত যে অতিক্রম করতে পারবে সে জান্নাতে যাবে, আর যে তা অতিক্রম করতে পারবে না সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে? যুবক পুনরায় জবাব দিলো, না।
অতঃপর হযরত হাসান বসরি রহ. যুবককে বললেন, তাহলে তুমি উন্মাদের মতো এভাবে হাসছ কেন? তোমার চূড়ান্ত সফলতা তো এখনো নির্ধারণ হয়নি। তবুও তুমি হাসছ এভাবে? কোন জিনিস তোমাকে আখেরাত সম্পর্কে উদাসীন করে রেখেছে যার ফলে এমনভাবে হাসছ তুমি?
হে আল্লাহর বান্দাগণ! এর কারণ হলো গাফলত। আর কত? আর কত গাফলতের চাদরে মুড়িয়ে থাকবে? উদাসীনতার উপত্যকায় আর কতদিন উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরতে থাকবে? তুমি কি দেখো না, প্রতিনিয়ত আমাদের মধ্য থেকে কেউ না কেউ মৃত্যুবরণ করছে? চলে যাচ্ছে জীবনের সকল পাঠ চুকিয়ে। সকল স্বপ্ন সকল আশা তার পেছনে পড়ে থাকে তখন। আমরা নিজহাতে তাদের কাফন-দাফন দিই। তাদের রেখে আসি একাকী অন্ধকার নির্জন কবরগৃহে। তবুও কেন আমাদের বোধ জাগ্রত হয় না? আমাদের জীবন থেকে গাফলতি দূর হয় না? জীবনের সকাল-সন্ধ্যাগুলো কেটে যাচ্ছে একে একে। হারিয়ে যাচ্ছে জীবনের একের-পর-এক বসন্ত। তবুও আমরা ফিরে আসছি না আমাদের রবের দিকে।
টিকাঃ
২৭ সুরা আরাফ: ১৪৬