📘 হে যুবক! ফিরে এসো রবের দিকে > 📄 সালাফদের সতর্কতা

📄 সালাফদের সতর্কতা


আমরা দিন ও রাতকে যে অর্থে গ্রহণ করেছি এবং যেভাবে এর খসরা সাজিয়েছি, পূর্ববর্তী মনীষীদের নিকট রাত ও দিনের অর্থ ছিল ভিন্ন। আমরা রাতকে নিছক ঘুম আর দিনকে বানিয়েছি পার্থিব সঞ্চয়ের মাধ্যম। আমাদের জীবন যেন একটি ছকবাঁধা নিয়মে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। যার একমাত্র আয়োজন হলো দুনিয়া, দুনিয়া এবং দুনিয়া। কিন্তু আমাদের পূর্ববর্তী মনীষীদের জীবন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত উমর ইবনে আবদুল আযিয রহ. বলেন, রাত ও দিন তোমাদের জন্য কাজ করে, সুতরাং তোমরাও রাত-দিনের কাজ করো। রাত-দিনের কতিপয় হক রয়েছে সেগুলো যথাযথ আদায় করো।
হযরত আবু বকর রা. একদা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা.-কে বললেন, রাত-দিনের কতিপয় হক রয়েছে। দিনের হক আদায় করার দ্বারা রাতের হক আদায় হবে না। তেমনিভাবে রাতের হক আদায় করার দ্বারা দিনের হক আদায় হবে না।'
হযরত আবু জর রা. ছিলেন দুনিয়াবিমুখ সাহাবি। দুনিয়ার প্রতি তার ছিল না ন্যূনতম আকর্ষণ। লোকালয় ছেড়ে তিনি এক নির্জন উপত্যকায় বসবাস করতেন। অনেকদিন পর তিনি একদিন মক্কায় আগমন করেন। এসে দেখেন মক্কার লোকজন বসবাসের জন্য বিশাল বিশাল পাকা গৃহ নির্মাণ করছে। খাদ্য-পানীয়ের প্রতি তাদের লালসা পূর্বের চেয়ে ঢের বৃদ্ধি পেয়েছে। এ দেখে তিনি ভারি আশ্চর্য হলেন। হৃদয়ে তার নিদারুণ বেদনা জাগ্রত হলো। তাদের পরিণতির কথা ভেবে তিনি প্রচণ্ড আহত হলেন। মনের এ কষ্ট তিনি লুকিয়ে রাখতে পারেননি। মক্কার লোকদের ডেকে উচ্চৈস্বরে ও তেজোদীপ্ত কণ্ঠে বলেন, 'হে মক্কাবাসী! আমি তোমাদের উপদেশ দিচ্ছি। আর আমি তোমাদের প্রতি দয়ালু ও বিশ্বস্ত। তোমরা আমার কথা হৃদয়ের কান দিয়ে শ্রবণ করো। দুনিয়াতে কেউ যদি কোথাও সফরে বের হয় তাহলে সফরের যতটুকু পাথেয় দরকার কেবল ততটুকু সঙ্গে বহন করে। এর বেশি যে নেয় সে বোকা। কেননা, কোনো বুদ্ধিমান কখনো অযথা বোঝা বহনের কষ্টে নিজেকে পতিত করে না। জেনে রেখো! এ দুনিয়াতে তোমরা সকলেই মুসাফির। তোমাদের এ সফরের পরিসমাপ্তি ঘটবে মৃত্যুর মাধ্যমে। আখেরাত হবে চিরস্থায়ী বাসস্থান। ক্ষণকাল দুনিয়াতে তোমরা বসবাস করবে। তারপর ফিরে যেতে হবে চিরস্থায়ী গন্তব্য আখেরাতে। সুতরাং দুনিয়াতে থাকার জন্য যে পরিমাণ পাথেয় প্রয়োজন কেবল সে পরিমাণই গ্রহণ করো। এর বেশি তোমরা গ্রহণ করো না। আখেরাতের অনন্ত জীবনের পাথেয় সংগ্রহ করো। যার শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই।
হযরত আবু জর রা.-এর কথা শুনে মক্কার লোকেরা বলল, আখেরাতের পাথেয় কী যা আমরা দুনিয়া থেকে আখেরাতে প্রেরণ করব?
হযরত আবু জর রা. বললেন, তোমরা অন্ধকার কবরের পাথেয় হলো রাতের অন্ধকারে নামাজ আদায় করা। বেশি বেশি হজ করো। কাবাগৃহের তাওয়াফ করো। হে মক্কাবাসী! তোমরা তোমাদের জীবনকে দুটি ভাগে ভাগ করো। এক ভাগ হবে আখেরাতের জন্য। আখেরাতের জন্য ততটুকুই করো যতটুকু প্রয়োজন। আরেক ভাগ দুনিয়ার জন্য। দুনিয়ার জন্য ততটুকু করো যতটুকু প্রয়োজন; এর বেশি নয়। তেমনিভাবে তোমাদের সম্পদকে দুটি ভাগে ভাগ করো। এক ভাগ আল্লাহর রাস্তায় খরচ করো এবং আরেক ভাগ খরচ করো তোমাদের পরিবার পরিজনের জন্য। দুর্ভাগ্য তোমাদের জন্য, তোমরা কেন বসবাসের জন্য বিশাল এ উঁচু উঁচু গৃহ নির্মাণ করছ; অথচ এখানে তোমরা চিরদিন বসবাস করতে পারবে না। তোমরা কেন অগুনতি সম্পদ জমা করছ; যা তোমরা নিজেরা খেতে পারবে না। আমি দেখতে পাচ্ছি, দুনিয়ার প্রতি তোমাদের লোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পার্থিব জীবনের ধন-সম্পদের প্রতি তোমাদের আশা দীর্ঘায়ত হচ্ছে।'
হে আল্লাহর বান্দাগণ! আজ কী হতো যদি আবু জর রা. আমাদের কাছে আসতেন? আজ কী হতো যদি আবু জর রা. এসে আমাদেরকে বিশাল বিশাল আকাশছোঁয়া দালান-অট্টালিকা নির্মাণ করতে দেখতেন? আজ কী হতো যদি আবু জর রা. আমাদের কাছে এসে দেখতেন, আমরা অজস্র টাকা ব্যাংকে জমা করছি? আজ কী হতো যদি আবু জর রা. আমাদের নিকট এসে দেখতেন, আমাদের স্ত্রী-সন্তানগণ অশ্লীলতা আর গানবাদ্যে আকণ্ঠ ডুবে আছে? আজ কী হতো যদি আবু জর রা. এসে দেখতেন, যুবকরা নাইটক্লাব আর খেলার স্টেডিয়ামে পড়ে আছে? আজ কী হতো যদি আবু জর রা. এসে দেখতেন, মদের বারগুলো জীবন্ত আর মসজিদগুলো পড়ে আছে বিরান হয়ে? আজ কী হতো? আজ কী হতো যদি আবু জর রা. এসে আমাদের দেখতেন? আল্লাহর কসম! আজ কী হতো আমি জানি না।
হে আল্লাহর বান্দাগণ! আজ পৃথিবীব্যাপী মুসলমানরা নির্যাতিত। দেশে দেশে মুসলমানরা আজ লাঞ্ছিত। নিপীড়িত। কেন আজ মুসলমানদের এ করুণ পরিণতি? আমাদের এমন পরিণতির কারণ কী? এর কারণ হলো, আমরা আমাদের ঈমানের প্রতি গাফেল হয়ে আছি। আল্লাহর আনুগত্য থেকে আমরা বহু দূরে সরে আছি। পৃথিবীতে নিজেদের করণীয় সম্পর্কে গাফেল হয়ে আছি। আমরা আমাদের কর্তব্যের প্রতি সীমাহীন বেখবর। জেনে রেখো! আমাদের পূর্বে আরো বহু শক্তিশালী জনগোষ্ঠী পৃথিবীতে আগমন করেছিল। তাদের শক্তি-সামর্থ্য ও ধন-সম্পদ আমাদের চেয়ে অনেক অনেক বেশি ছিল। কিন্তু তাদের কেউ পৃথিবীতে থাকতে পারেনি। বিশাল এ পৃথিবীতে আজ তাদের কেউ নেই। সবাইকে চলে যেতে হয়েছে কবরে। সবাইকে আস্বাদন করতে হয়েছে মৃত্যুর স্বাদ।
জেনে রেখো! ছোট-বড়, ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ সকলকে মৃত্যুর স্বাদ পেতে হবে। সকলকে যেতে হবে ঐ অন্ধকার কবরগৃহে। অতঃপর সকলের নিকট আগমন করবে ফেরেশতা। এসে জিজ্ঞেস করবে তিনটি মহা প্রশ্ন।
তোমার রব কে? তোমার ধর্ম কী? তোমার নবী কে?
আল্লাহর কসম! এ প্রশ্নের সম্মুখীন সকলকেই হতে হবে। কেউ এর ব্যতিক্রম হবে না। চাই সে যতই ক্ষমতাবান হোক না কেন। দুনিয়াতে তার সম্পদের যত বড় পাহাড় থাকুন না কেন।
ভেবো না এ কথা যে, এগুলো তো ভারি সহজ প্রশ্ন। বেশ মামুলি কথাবার্তা। নিমিষেই উত্তর দিয়ে দেব। ঐ সত্তার কসম যিনি সৃষ্টি করেছেন আসমান- জমিন, সৃষ্টি করেছেন সমস্ত নিখিল, দুনিয়াতে যারা গাফেল তারা কিছুতেই তিন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে না। তাদের কাছে সেদিন অত্যন্ত কঠিন ও ভারী মনে হবে। তাদের যখন কবরে রাখা হবে তখনই তারা ভুলে যাবে সবকিছু। প্রচণ্ড ভয়ে তাদের মুখ থেকে কোনো কথাই বের হবে না তখন। একমাত্র ব্যতিক্রম হবে তারা যারা দুনিয়ায় আল্লাহর আনুগত্য করেছে। মহা তিন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে কেবল আল্লাহর সেসব প্রিয় বান্দাগণ যাদের অন্তর ছিল সদা জাগ্রত। যারা দুনিয়াতে ছিল পরকালের প্রতি সতর্ক। দুনিয়ার গাফলত যাদের কখনো স্পর্শ করেনি।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ وَيُضِلُّ اللَّهُ الظَّالِمِينَ وَيَفْعَلُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ
'আল্লাহ সুদৃঢ় কথা দ্বারা মুমিনদের পার্থিব জীবন ও পরকালে অটল ও অবিচল রাখেন। আল্লাহ জালেমদের বিপথগামী করেন। আল্লাহ যা চান তাই করে থাকেন।' ²⁶

টিকাঃ
২৬ সুরা ইবরাহিম: ২৭

আমরা দিন ও রাতকে যে অর্থে গ্রহণ করেছি এবং যেভাবে এর খসরা সাজিয়েছি, পূর্ববর্তী মনীষীদের নিকট রাত ও দিনের অর্থ ছিল ভিন্ন। আমরা রাতকে নিছক ঘুম আর দিনকে বানিয়েছি পার্থিব সঞ্চয়ের মাধ্যম। আমাদের জীবন যেন একটি ছকবাঁধা নিয়মে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। যার একমাত্র আয়োজন হলো দুনিয়া, দুনিয়া এবং দুনিয়া। কিন্তু আমাদের পূর্ববর্তী মনীষীদের জীবন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। খলিফাতুল মুসলিমিন হযরত উমর ইবনে আবদুল আযিয রহ. বলেন, রাত ও দিন তোমাদের জন্য কাজ করে, সুতরাং তোমরাও রাত-দিনের কাজ করো। রাত-দিনের কতিপয় হক রয়েছে সেগুলো যথাযথ আদায় করো।
হযরত আবু বকর রা. একদা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা.-কে বললেন, রাত-দিনের কতিপয় হক রয়েছে। দিনের হক আদায় করার দ্বারা রাতের হক আদায় হবে না। তেমনিভাবে রাতের হক আদায় করার দ্বারা দিনের হক আদায় হবে না।'
হযরত আবু জর রা. ছিলেন দুনিয়াবিমুখ সাহাবি। দুনিয়ার প্রতি তার ছিল না ন্যূনতম আকর্ষণ। লোকালয় ছেড়ে তিনি এক নির্জন উপত্যকায় বসবাস করতেন। অনেকদিন পর তিনি একদিন মক্কায় আগমন করেন। এসে দেখেন মক্কার লোকজন বসবাসের জন্য বিশাল বিশাল পাকা গৃহ নির্মাণ করছে। খাদ্য-পানীয়ের প্রতি তাদের লালসা পূর্বের চেয়ে ঢের বৃদ্ধি পেয়েছে। এ দেখে তিনি ভারি আশ্চর্য হলেন। হৃদয়ে তার নিদারুণ বেদনা জাগ্রত হলো। তাদের পরিণতির কথা ভেবে তিনি প্রচণ্ড আহত হলেন। মনের এ কষ্ট তিনি লুকিয়ে রাখতে পারেননি। মক্কার লোকদের ডেকে উচ্চৈস্বরে ও তেজোদীপ্ত কণ্ঠে বলেন, 'হে মক্কাবাসী! আমি তোমাদের উপদেশ দিচ্ছি। আর আমি তোমাদের প্রতি দয়ালু ও বিশ্বস্ত। তোমরা আমার কথা হৃদয়ের কান দিয়ে শ্রবণ করো। দুনিয়াতে কেউ যদি কোথাও সফরে বের হয় তাহলে সফরের যতটুকু পাথেয় দরকার কেবল ততটুকু সঙ্গে বহন করে। এর বেশি যে নেয় সে বোকা। কেননা, কোনো বুদ্ধিমান কখনো অযথা বোঝা বহনের কষ্টে নিজেকে পতিত করে না। জেনে রেখো! এ দুনিয়াতে তোমরা সকলেই মুসাফির। তোমাদের এ সফরের পরিসমাপ্তি ঘটবে মৃত্যুর মাধ্যমে। আখেরাত হবে চিরস্থায়ী বাসস্থান। ক্ষণকাল দুনিয়াতে তোমরা বসবাস করবে। তারপর ফিরে যেতে হবে চিরস্থায়ী গন্তব্য আখেরাতে। সুতরাং দুনিয়াতে থাকার জন্য যে পরিমাণ পাথেয় প্রয়োজন কেবল সে পরিমাণই গ্রহণ করো। এর বেশি তোমরা গ্রহণ করো না। আখেরাতের অনন্ত জীবনের পাথেয় সংগ্রহ করো। যার শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই।
হযরত আবু জর রা.-এর কথা শুনে মক্কার লোকেরা বলল, আখেরাতের পাথেয় কী যা আমরা দুনিয়া থেকে আখেরাতে প্রেরণ করব?
হযরত আবু জর রা. বললেন, তোমরা অন্ধকার কবরের পাথেয় হলো রাতের অন্ধকারে নামাজ আদায় করা। বেশি বেশি হজ করো। কাবাগৃহের তাওয়াফ করো। হে মক্কাবাসী! তোমরা তোমাদের জীবনকে দুটি ভাগে ভাগ করো। এক ভাগ হবে আখেরাতের জন্য। আখেরাতের জন্য ততটুকুই করো যতটুকু প্রয়োজন। আরেক ভাগ দুনিয়ার জন্য। দুনিয়ার জন্য ততটুকু করো যতটুকু প্রয়োজন; এর বেশি নয়। তেমনিভাবে তোমাদের সম্পদকে দুটি ভাগে ভাগ করো। এক ভাগ আল্লাহর রাস্তায় খরচ করো এবং আরেক ভাগ খরচ করো তোমাদের পরিবার পরিজনের জন্য। দুর্ভাগ্য তোমাদের জন্য, তোমরা কেন বসবাসের জন্য বিশাল এ উঁচু উঁচু গৃহ নির্মাণ করছ; অথচ এখানে তোমরা চিরদিন বসবাস করতে পারবে না। তোমরা কেন অগুনতি সম্পদ জমা করছ; যা তোমরা নিজেরা খেতে পারবে না। আমি দেখতে পাচ্ছি, দুনিয়ার প্রতি তোমাদের লোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পার্থিব জীবনের ধন-সম্পদের প্রতি তোমাদের আশা দীর্ঘায়ত হচ্ছে।'
হে আল্লাহর বান্দাগণ! আজ কী হতো যদি আবু জর রা. আমাদের কাছে আসতেন? আজ কী হতো যদি আবু জর রা. এসে আমাদেরকে বিশাল বিশাল আকাশছোঁয়া দালান-অট্টালিকা নির্মাণ করতে দেখতেন? আজ কী হতো যদি আবু জর রা. আমাদের কাছে এসে দেখতেন, আমরা অজস্র টাকা ব্যাংকে জমা করছি? আজ কী হতো যদি আবু জর রা. আমাদের নিকট এসে দেখতেন, আমাদের স্ত্রী-সন্তানগণ অশ্লীলতা আর গানবাদ্যে আকণ্ঠ ডুবে আছে? আজ কী হতো যদি আবু জর রা. এসে দেখতেন, যুবকরা নাইটক্লাব আর খেলার স্টেডিয়ামে পড়ে আছে? আজ কী হতো যদি আবু জর রা. এসে দেখতেন, মদের বারগুলো জীবন্ত আর মসজিদগুলো পড়ে আছে বিরান হয়ে? আজ কী হতো? আজ কী হতো যদি আবু জর রা. এসে আমাদের দেখতেন? আল্লাহর কসম! আজ কী হতো আমি জানি না।
হে আল্লাহর বান্দাগণ! আজ পৃথিবীব্যাপী মুসলমানরা নির্যাতিত। দেশে দেশে মুসলমানরা আজ লাঞ্ছিত। নিপীড়িত। কেন আজ মুসলমানদের এ করুণ পরিণতি? আমাদের এমন পরিণতির কারণ কী? এর কারণ হলো, আমরা আমাদের ঈমানের প্রতি গাফেল হয়ে আছি। আল্লাহর আনুগত্য থেকে আমরা বহু দূরে সরে আছি। পৃথিবীতে নিজেদের করণীয় সম্পর্কে গাফেল হয়ে আছি। আমরা আমাদের কর্তব্যের প্রতি সীমাহীন বেখবর। জেনে রেখো! আমাদের পূর্বে আরো বহু শক্তিশালী জনগোষ্ঠী পৃথিবীতে আগমন করেছিল। তাদের শক্তি-সামর্থ্য ও ধন-সম্পদ আমাদের চেয়ে অনেক অনেক বেশি ছিল। কিন্তু তাদের কেউ পৃথিবীতে থাকতে পারেনি। বিশাল এ পৃথিবীতে আজ তাদের কেউ নেই। সবাইকে চলে যেতে হয়েছে কবরে। সবাইকে আস্বাদন করতে হয়েছে মৃত্যুর স্বাদ।
জেনে রেখো! ছোট-বড়, ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ সকলকে মৃত্যুর স্বাদ পেতে হবে। সকলকে যেতে হবে ঐ অন্ধকার কবরগৃহে। অতঃপর সকলের নিকট আগমন করবে ফেরেশতা। এসে জিজ্ঞেস করবে তিনটি মহা প্রশ্ন।
তোমার রব কে? তোমার ধর্ম কী? তোমার নবী কে?
আল্লাহর কসম! এ প্রশ্নের সম্মুখীন সকলকেই হতে হবে। কেউ এর ব্যতিক্রম হবে না। চাই সে যতই ক্ষমতাবান হোক না কেন। দুনিয়াতে তার সম্পদের যত বড় পাহাড় থাকুন না কেন।
ভেবো না এ কথা যে, এগুলো তো ভারি সহজ প্রশ্ন। বেশ মামুলি কথাবার্তা। নিমিষেই উত্তর দিয়ে দেব। ঐ সত্তার কসম যিনি সৃষ্টি করেছেন আসমান- জমিন, সৃষ্টি করেছেন সমস্ত নিখিল, দুনিয়াতে যারা গাফেল তারা কিছুতেই তিন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে না। তাদের কাছে সেদিন অত্যন্ত কঠিন ও ভারী মনে হবে। তাদের যখন কবরে রাখা হবে তখনই তারা ভুলে যাবে সবকিছু। প্রচণ্ড ভয়ে তাদের মুখ থেকে কোনো কথাই বের হবে না তখন। একমাত্র ব্যতিক্রম হবে তারা যারা দুনিয়ায় আল্লাহর আনুগত্য করেছে। মহা তিন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে কেবল আল্লাহর সেসব প্রিয় বান্দাগণ যাদের অন্তর ছিল সদা জাগ্রত। যারা দুনিয়াতে ছিল পরকালের প্রতি সতর্ক। দুনিয়ার গাফলত যাদের কখনো স্পর্শ করেনি।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ وَيُضِلُّ اللَّهُ الظَّالِمِينَ وَيَفْعَلُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ
'আল্লাহ সুদৃঢ় কথা দ্বারা মুমিনদের পার্থিব জীবন ও পরকালে অটল ও অবিচল রাখেন। আল্লাহ জালেমদের বিপথগামী করেন। আল্লাহ যা চান তাই করে থাকেন।' ²⁶

টিকাঃ
২৬ সুরা ইবরাহিম: ২৭

📘 হে যুবক! ফিরে এসো রবের দিকে > 📄 উদাসীনতা মানুষকে সঠিক পথ থেকে বিরত রাখে

📄 উদাসীনতা মানুষকে সঠিক পথ থেকে বিরত রাখে


গাফলত তথা উদাসীনতা মানুষকে ইসলামের সরল-সঠিক পথ থেকে বিরত রাখে। গাফেল ব্যক্তি দুনিয়া-আখেরাতের চিরস্থায়ী সফলতা থেকে বঞ্চিত হয়। কুরআন-হাদিসের শাশ্বত কল্যাণ থেকে বহু দূরে অবস্থান করে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
سَأَصْرِفُ عَنْ آيَاتِيَ الَّذِينَ يَتَكَبَّرُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَإِنْ يَرَوْا كُلَّ آيَةٍ لَا يُؤْمِنُوا بِهَا وَإِنْ يَرَوْا سَبِيلَ الرُّشْدِ لَا يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًا وَإِنْ يَرَوْا سَبِيلَ الغَيِّ يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًا ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَكَانُوا عَنْهَا غَافِلِينَ
যারা অন্যায়ভাবে পৃথিবীতে দাম্ভিক আচরণ করে আমি তাদের আমার নিদর্শনসমূহ থেকে ফিরিয়ে রাখব। তারা প্রতিটি নিদর্শন দেখলেও তা বিশ্বাস করে না। তারা সৎপথ দেখলেও তাকে পথ হিসেবে গ্রহণ করে না। কিন্তু ভ্রান্ত পথ দেখলেই তাকে পথ হিসেবে গ্রহণ করে। এটা এজন্য যে, তারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলেছে এবং সে সম্বন্ধে তারা গাফেল ও অমনোযোগী। ²⁷
হে আল্লাহর বান্দাগণ! পরকালের জন্য কী পাথেয় গ্রহণ করেছ? কবরের অন্ধকার গৃহের জন্য তোমার প্রস্তুতি কী? কবরের সেই তিন প্রশ্নে জবাব কি তুমি দিতে পারবে? আল্লাহ তায়ালা যখন তোমার প্রতি ওয়াক্ত নামাজের হিসাব চাইবেন তখন তোমার উত্তর কী হবে? কী বলবে সেদিন রাজাধিরাজ মহাশক্তিধর আল্লাহকে?
জেনে রেখো! আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াতে তোমার প্রতিটি কর্মের যথোচিত হিসাব চাইবেন। পার্থিব জীবনে তোমার মুখ থেকে নির্গত প্রতিটি শব্দ ও বাক্যের হিসাব সেদিন দিতে হবে। ছোট বড় কোনো আমলই আল্লাহর নিকট অজানা নয়। সেদিন কেউ এক পা অগ্রসর হতে পারবে না যতক্ষণ না সে তার প্রতিটি কথা ও আমলের হিসাব দেবে।
একদা হযরত হাসান আল বসরি রহ. পথ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। রাস্তার পাশে অনেকগুলো তরুণ দাড়িয়ে খোশগল্প করছে। তাদের মধ্যে একজন এমন অট্টহাসি দিলো যে, তার হাসিতে চারপাশ কলরিত হয়ে উঠল। হযরত হাসান বসরি রহ. ডাকলেন তাকে। জিজ্ঞেস করলেন, তুমি এভাবে হাসছ কেন? তুমি কি পুলসিরাত অতিক্রম করে ফেলেছ? যুবক জবাব দিলো, না।
হাসানা বসরি রহ. তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জানো পুলসিরাত যে অতিক্রম করতে পারবে সে জান্নাতে যাবে, আর যে তা অতিক্রম করতে পারবে না সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে? যুবক পুনরায় জবাব দিলো, না।
অতঃপর হযরত হাসান বসরি রহ. যুবককে বললেন, তাহলে তুমি উন্মাদের মতো এভাবে হাসছ কেন? তোমার চূড়ান্ত সফলতা তো এখনো নির্ধারণ হয়নি। তবুও তুমি হাসছ এভাবে? কোন জিনিস তোমাকে আখেরাত সম্পর্কে উদাসীন করে রেখেছে যার ফলে এমনভাবে হাসছ তুমি?
হে আল্লাহর বান্দাগণ! এর কারণ হলো গাফলত। আর কত? আর কত গাফলতের চাদরে মুড়িয়ে থাকবে? উদাসীনতার উপত্যকায় আর কতদিন উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরতে থাকবে? তুমি কি দেখো না, প্রতিনিয়ত আমাদের মধ্য থেকে কেউ না কেউ মৃত্যুবরণ করছে? চলে যাচ্ছে জীবনের সকল পাঠ চুকিয়ে। সকল স্বপ্ন সকল আশা তার পেছনে পড়ে থাকে তখন। আমরা নিজহাতে তাদের কাফন-দাফন দিই। তাদের রেখে আসি একাকী অন্ধকার নির্জন কবরগৃহে। তবুও কেন আমাদের বোধ জাগ্রত হয় না? আমাদের জীবন থেকে গাফলতি দূর হয় না? জীবনের সকাল-সন্ধ্যাগুলো কেটে যাচ্ছে একে একে। হারিয়ে যাচ্ছে জীবনের একের-পর-এক বসন্ত। তবুও আমরা ফিরে আসছি না আমাদের রবের দিকে।

টিকাঃ
২৭ সুরা আরাফ: ১৪৬

গাফলত তথা উদাসীনতা মানুষকে ইসলামের সরল-সঠিক পথ থেকে বিরত রাখে। গাফেল ব্যক্তি দুনিয়া-আখেরাতের চিরস্থায়ী সফলতা থেকে বঞ্চিত হয়। কুরআন-হাদিসের শাশ্বত কল্যাণ থেকে বহু দূরে অবস্থান করে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন,
سَأَصْرِفُ عَنْ آيَاتِيَ الَّذِينَ يَتَكَبَّرُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَإِنْ يَرَوْا كُلَّ آيَةٍ لَا يُؤْمِنُوا بِهَا وَإِنْ يَرَوْا سَبِيلَ الرُّشْدِ لَا يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًا وَإِنْ يَرَوْا سَبِيلَ الغَيِّ يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًا ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَكَانُوا عَنْهَا غَافِلِينَ
যারা অন্যায়ভাবে পৃথিবীতে দাম্ভিক আচরণ করে আমি তাদের আমার নিদর্শনসমূহ থেকে ফিরিয়ে রাখব। তারা প্রতিটি নিদর্শন দেখলেও তা বিশ্বাস করে না। তারা সৎপথ দেখলেও তাকে পথ হিসেবে গ্রহণ করে না। কিন্তু ভ্রান্ত পথ দেখলেই তাকে পথ হিসেবে গ্রহণ করে। এটা এজন্য যে, তারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলেছে এবং সে সম্বন্ধে তারা গাফেল ও অমনোযোগী। ²⁷
হে আল্লাহর বান্দাগণ! পরকালের জন্য কী পাথেয় গ্রহণ করেছ? কবরের অন্ধকার গৃহের জন্য তোমার প্রস্তুতি কী? কবরের সেই তিন প্রশ্নে জবাব কি তুমি দিতে পারবে? আল্লাহ তায়ালা যখন তোমার প্রতি ওয়াক্ত নামাজের হিসাব চাইবেন তখন তোমার উত্তর কী হবে? কী বলবে সেদিন রাজাধিরাজ মহাশক্তিধর আল্লাহকে?
জেনে রেখো! আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াতে তোমার প্রতিটি কর্মের যথোচিত হিসাব চাইবেন। পার্থিব জীবনে তোমার মুখ থেকে নির্গত প্রতিটি শব্দ ও বাক্যের হিসাব সেদিন দিতে হবে। ছোট বড় কোনো আমলই আল্লাহর নিকট অজানা নয়। সেদিন কেউ এক পা অগ্রসর হতে পারবে না যতক্ষণ না সে তার প্রতিটি কথা ও আমলের হিসাব দেবে।
একদা হযরত হাসান আল বসরি রহ. পথ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। রাস্তার পাশে অনেকগুলো তরুণ দাড়িয়ে খোশগল্প করছে। তাদের মধ্যে একজন এমন অট্টহাসি দিলো যে, তার হাসিতে চারপাশ কলরিত হয়ে উঠল। হযরত হাসান বসরি রহ. ডাকলেন তাকে। জিজ্ঞেস করলেন, তুমি এভাবে হাসছ কেন? তুমি কি পুলসিরাত অতিক্রম করে ফেলেছ? যুবক জবাব দিলো, না।
হাসানা বসরি রহ. তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জানো পুলসিরাত যে অতিক্রম করতে পারবে সে জান্নাতে যাবে, আর যে তা অতিক্রম করতে পারবে না সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে? যুবক পুনরায় জবাব দিলো, না।
অতঃপর হযরত হাসান বসরি রহ. যুবককে বললেন, তাহলে তুমি উন্মাদের মতো এভাবে হাসছ কেন? তোমার চূড়ান্ত সফলতা তো এখনো নির্ধারণ হয়নি। তবুও তুমি হাসছ এভাবে? কোন জিনিস তোমাকে আখেরাত সম্পর্কে উদাসীন করে রেখেছে যার ফলে এমনভাবে হাসছ তুমি?
হে আল্লাহর বান্দাগণ! এর কারণ হলো গাফলত। আর কত? আর কত গাফলতের চাদরে মুড়িয়ে থাকবে? উদাসীনতার উপত্যকায় আর কতদিন উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরতে থাকবে? তুমি কি দেখো না, প্রতিনিয়ত আমাদের মধ্য থেকে কেউ না কেউ মৃত্যুবরণ করছে? চলে যাচ্ছে জীবনের সকল পাঠ চুকিয়ে। সকল স্বপ্ন সকল আশা তার পেছনে পড়ে থাকে তখন। আমরা নিজহাতে তাদের কাফন-দাফন দিই। তাদের রেখে আসি একাকী অন্ধকার নির্জন কবরগৃহে। তবুও কেন আমাদের বোধ জাগ্রত হয় না? আমাদের জীবন থেকে গাফলতি দূর হয় না? জীবনের সকাল-সন্ধ্যাগুলো কেটে যাচ্ছে একে একে। হারিয়ে যাচ্ছে জীবনের একের-পর-এক বসন্ত। তবুও আমরা ফিরে আসছি না আমাদের রবের দিকে।

টিকাঃ
২৭ সুরা আরাফ: ১৪৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00