📄 হে যুবক! ফিরে এসো রবের দিকে
إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنفُسِنَا ، وَمِن سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا . مَن يَهْدِهِ اللهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَن يُضْلِل فَلَا هَادِيَ لَهُ. وَأَشْهَدُ أَن لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُسْلِمُونَ
মুসলিম যুব ও তরুণ প্রজন্ম আজ সীমাহীন গাফলতের মাঝে ডুবে আছে। তাদের জীবনকে ঢেকে নিয়েছে উদাসীনতার কুৎসিত চাদর। তাদের মন ও মননকে বড় শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরেছে অভিশপ্ততার শৃঙ্খল। পাপ ও নাফরমানির কালো থাবায় আজ তারা জর্জরিত। তাদের চক্ষু থাকলেও তারা দেখতে পায় না সত্যের দিশা। কান থাকলেও তারা শুনতে পায় না হেদায়েতের বাণী। হৃদয় থাকলেও তারা অনুভব করতে পারে না কোথায় রয়েছে তাদের জীবনের প্রকৃত কল্যাণ ও সফলতা। পবিত্র কুরআনের ভাষায় তারা যেন চতুষ্পদ জন্তু। সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে তারা পূর্ণ উদাসীন। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা কেন পাঠিয়েছেন, পার্থিব জীবনের লোভ-লালসা ও অন্ধ মোহ তাদের ভুলিয়ে দিয়েছে সে কথা। শয়তানের ধোঁকা ও বস্তুবাদের আগ্রাসনে তারা ভুলে গেছে উম্মাহর প্রতি নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা। তারা ভুলে গেছে মহান রবের প্রতিশ্রুতির কথা।
হে যুবক! উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী! কতদিন এভাবে গাফলতের দরিয়ায় ডুবে থাকবে? কতকাল উদ্ভ্রান্ত হয়ে ফিরতে থাকবে অবাধ্যতার উপত্যকায়? কতকাল বিভোর থাকবে নষ্ট ও ভ্রষ্টতার ঘুমে? কতকাল পান করবে পাপের শরাব? হে যুবক! মৃত্যুর কথা কি তোমার স্মরণ হয় না? তোমার কি মনে পড়ে না আল্লাহর কঠিন শাস্তির কথা? প্রতিদিন অগণিত মানুষের মৃত্যু কি তোমাকে অন্ধকার কবরের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় না? বলো, কে আছে এমন, মৃত্যু যাকে স্পর্শ করবে না? কে আছে এমন যার দুয়ারে এসে আকস্মিক মৃত্যুর পরোয়ানা নিয়ে উপস্থিত হবে না মালাকুল মওত?
জেনে রেখো! প্রতিটি মানুষকেই একদিন মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। মৃত্যু এমন এক অপরাজেয়, যার থেকে কেউ কোনোদিন মুক্তি পায়নি। আর কেউই মুক্তি পাবে না। না তুমি, আর না আমি। হে যুবক! তুমি বলো আমাকে, সাদা কাফনে প্যাঁচিয়ে কোথায় রেখে এসেছে তোমার বাবাকে? কোথায় কোন অচিনপুরে মাটিচাপা দিয়ে রেখে এসেছে তোমার মমতাময়ী মাকে? অনুভূতির শক্ত চাবুক দিয়ে করাঘাত করো হৃদয় দুয়ারে। জাগ্রত করো তোমার ঘুমন্ত সত্তাকে। ফিরিয়ে আনো অবাধ্য মনকে পাপের আসর থেকে। জীবন নিছক খেল-তামাশার নাম নয়। জীবন নয় কেবল শরাবের পেয়ালায় চুমুক দেওয়া। জীবনের সূচনা যেমন হয়েছে, তেমনি এর পরিসমাপ্তিও আছে। কোন সে জিনিস যার সূচনা আছে কিন্তু সমাপ্তি নেই? হ্যাঁ, একমাত্র আখেরাত, যার সূচনা আছে কিন্তু সমাপ্তি নেই।
শপথ সে সত্তার যিনি স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন সপ্ত আসমান-জমিন! দুনিয়াতে আগত সকল প্রাণী ও মানুষকে মৃত্যুবরণ করতে হবে। সকলকে প্রবেশ করতে হবে আঁধারঘেরা কবরের গৃহে। কবর প্রতিনিয়ত হাতছানি দিয়ে ডাকছে তোমাকে আমাকে। জীবনের সময় দ্রুতই ফুরিয়ে আসছে। জীবন গলে গলে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে বরফের মতো। জীবন একটি খরগোশ যে ক্রমাগত মৃত্যুর দিকে দৌড়াচ্ছে।
আমি একটি উপমা পেশ করছি, যা তোমার হৃদয়ে রেখাপাত করবে। শক্ত নখরে আঁচড় কাটবে। একদা হযরত ইসা আলাইহিস সালামের সামনে দুনিয়াকে এক বৃদ্ধা নারীর বেশে হাজির করা হলো। আর তাকে সাজানো হয়েছে সকল প্রকার সৌন্দর্য দিয়ে। হযরত ইসা আলাইহিস সালাম কোমল কণ্ঠে সুন্দরী বৃদ্ধাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'কতজন পুরুষের সাথে তোমার বিয়ে হয়েছে?' বৃদ্ধা জবাব দিলো, 'অনেক পুরুষের সাথেই আমার বিয়ে হয়েছে।' হযরত ইসা আলাইহিস সালাম পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, 'তাহলে তোমার সেসব স্বামীরা কোথায়? তারা কি সবাই মৃত্যুবরণ করেছে নাকি তারা তোমাকে তালাক দিয়েছে?' বৃদ্ধা বলল, 'না, তাদের কেউ আমাকে তালাক দেয়নি। বরং তাদের সকলকে আমি হত্যা করেছি।' এ কথা শুনে হযরত ইসা আলাইহিস সালাম ভারি দুঃখবোধ করলেন। এবং বললেন, 'তাহলে বর্তমানে যে তোমার বিবাহাধীন রয়েছে সে কেন পূর্ববর্তীদের থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে না? তার অন্তরে কি নৃশংস মৃত্যুভয় জাগ্রত হয় না? তাহলে সে তো বড্ড নির্বোধ আর বোকা।'
দুনিয়ার লোকদের অবস্থা বৃদ্ধা মহিলার সে স্বামীর মতো, যে প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষের মৃত্যু দেখেও হৃদয়ে তার মৃত্যুভয় জাগ্রত হয় না। অবশ্যম্ভাবী পরিণতির কথা ভেবে চিন্তিত হয় না। এর থেকে উত্তোরণের কোনো উপায় সে খুঁজে বের করে না।
সুতরাং হে গাফেল! হে ঈমান ও আমল সম্পর্কে উদাসীন ব্যক্তি! হে দুনিয়ার মোহ ও লালসায় আশান্বিত ব্যক্তি! ফিরে এসো। ফিরে এসো গাফলতের আবরণ ভেঙে। জীবনকে গ্রহণ করো মুসাফিরের মতো। দুনিয়ার জীবনকে বানাও আখেরাতের পাথেয়। জীবন আছে যতদিন, কেবল পরকালের প্রস্তুতি গ্রহণ করো। আমলকে তোমার প্রিয়তম বন্ধু বানাও। আল্লাহর আনুগত্যকে বানাও উত্তম সঙ্গী। জিকির ও আলেমদের মজলিসকে গ্রহণ করো যাপিত জীবনের অবারিত সুযোগ হিসেবে। জেনে রেখো! অকস্মাৎ একদিন জীবনের দুয়ারে এসে হাজির হবে মৃত্যু। জেনো! সেদিন কেউ পলায়ন করতে পারবে না মৃত্যুর ভয়ংকর থাবা থেকে। তাই হে গাফেল! সময় থাকতে সতর্ক হও। সময় থাকতে ফিরে এসো রবের দিকে।
📄 তারুণ্য উম্মাহর প্রাণশক্তি
কোনো জাতির ভাগ্য নির্ধারণ হয় সে জাতির যুব ও তরুণ প্রজন্মের শক্তি , সাহস, চিন্তা-চেতনা, তাদের কর্মক্ষমতা, দক্ষতা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে। তারুণ্য একটি জাতির প্রাণশক্তি। একটি জাতির মেরুদণ্ড। তারুণ্যের উপমা হলো সূর্যের সাথে। সূর্য যেমন দিবসের শুরুতে আগুনের মতো জ্বলতে থাকে মধ্য আকাশে আর দিবসের শেষে তা স্তিমিত হয়ে আসে, তেমনি যুবক ও তরুণ প্রজন্ম হলো একটি জাতির সূর্য। তারা তাদের শক্তি সাহস ও বুদ্ধি দিয়ে জয় করে সকল কিছু। সূর্যের আলোয় যেমন সমগ্র পৃথিবী আলোকিত হয়ে ওঠে, তেমনি যুবকদের শক্তিতে পৃথিবীর বুকে কোনো জাতির দখল ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। যুবক ও তরুণদের উপমা হলো সিংহের সাথে। সিংহের সাহস ও গর্জনের যেমন মূল্য দেওয়া যায় না জবাই করা বকরির মূল্যের মতো, তেমনি যুবকরা হলো একটি জাতির সিংহ। তাদের শক্তি ও বীরত্বের কোনো তুলনা হতে পারে না।
যুবসমাজ হলো অপ্রতিরোধ্য ও অজেয়। ক্লান্তি তাদেরকে স্পর্শ করে না। রাত-দিনের ক্রমাগত পরিশ্রমে তারা ভেঙে পড়ে না সমাজের বৃদ্ধদের মতো। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছা পর্যন্ত কোনো শক্তিই তাদের থামিয়ে দিতে পারে না। অপ্রতিরোধ্য হেষাধ্বনি ছড়িয়ে তারা ছুটতে থাকে দিগ্বিজয়ী বীরের বেশে। মৃত্যুভয় তাদের ভীত করে না। শত্রুর শানিত তরবারির আঘাত তাদের চিন্তিত করে না কখনো। মৃত্যুকে যারা জয় করেছে তারাই পারে বিজয়ের ফুলেল মাল্য অর্জন করতে।
মুসলিম উম্মাহর শক্তির কেন্দ্রবিন্দু হলো তরুণ ও যুব শ্রেণি। ইতিহাসের পাতায় গভীরভাবে তাকালে দেখা যায় যে, মুসলিম উম্মাহর বিজয় সূচিত হয়েছে তরুণদের রক্ত ও শ্রমের বিনিময়ে। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন বিজয়ী করার পেছনে মূল নিয়ামক শক্তি ছিল মুসলিম যুব ও তারুণ্য। কারণ তাদের বাহুতে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দিয়েছেন শত্রুকে কুপোকাত করার অদম্য শক্তি। তাদের শিরায় দিয়েছেন অপ্রতিরোধ্য ধমনী। তাদের অন্তরে দিয়েছেন ইসলামের জন্য অপরিসীম আবেগ।
ইতিহাসের পাতায় সাহাবায়ে কেরামের অবদান লেখা আছে স্বর্ণাক্ষরে। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চারপাশে থেকে যারা রণাঙ্গনে রক্ত ঝরিয়েছেন, ছিনিয়ে এনেছেন বিজয়ের মাল্য তাদের অধিকাংশ ছিল তরুণ। সকল যুদ্ধে তারা নবীজিকে সাহায্য করেছেন। ইসলামের জন্য তাদের ছিল অসামান্য ভূমিকা। আল্লাহ ও তার রাসুলের জন্য ছিল হৃদয়ে অফুরন্ত আবেগ। যার ফলে জীবন ছিল তাদের নিকট অতি তুচ্ছ। রক্ত ছিল তাদের নিকট নগণ্য। তাদের নিকট ইসলামই ছিল একমাত্র বিষয়। পৃথিবীর বুকে ঈমানের পতাকা উঁচু করাই ছিল তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের আদেশ করেছেন আর অমনি তারা বাঁজপাখির মতো ছুটে গিয়েছেন রণাঙ্গনে। ঝাঁপিয়ে পড়েছেন শত্রুদলের ওপর। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের রক্ত ও ঘামে উম্মাহকে বিজয় দান করেছেন।
হে তরুণ! হে উম্মাহর প্রাণশক্তি! তোমাকে বলছি শোনো! রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয় করে যখন বীরের বেশে কাবা নগরীতে প্রবেশ করেন তখন উটের পেছনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কে বসা ছিল জানো? কে সেদিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উটের পেছনে জড়িয়ে ধরেছিল? হ্যাঁ, তিনি একজন যুবক! একজন সাহসী তরুণ সাহাবি! তিনি হলেন হযরত উসামা রা.। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের জন্য শক্তিশালী প্রস্তুতি নিয়ে রওনা করেছিলেন আর তার পেছনে সাহায্যকারী হিসেবে বসিয়েছিলেন হযরত উসামা রা.-কে। তার বয়স তখনো বিশ অতিক্রম করেনি। টগবগে এক তরুণ। চোখে-মুখে তার অপরিসীম আবেগ। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আয়েশা রা.-কে বলেছেন, হে আয়েশা! তুমি উসামাকে ভালোবাসো কারণ আমি তাকে ভালোবাসি।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত ওসামা রা.-কে যুদ্ধের সেনাপতি নিযুক্ত করলেন। অথচ তার বয়স তখনো বিশ অতিক্রম করেনি। সদ্য প্রস্ফুটিত এক যুবক। সাহস যার শরীরে টগবগ করছে। যার ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে উষ্ণ রক্তের শিরা। যার বাহু শক্তিতে ভরপুর। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত উসামা রা.-এর মতো একজন যুবককে যুদ্ধের সেনাপতি নিযুক্ত করেছেন, অথচ তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে উপস্থিত ছিলেন হযরত আবু বকর রা.-এর মতো প্রবীণ সাহাবিগণ। হযরত উমর রা.-এর মতো সাহসী ব্যক্তিবর্গ, যারা ছিলেন বিশ্বস্ত ও ইসলামের জন্য নিবেদিত। যাদের রক্ত ও ঘামের ওপর সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে ইসলাম। কিন্তু তাদের সেনাপতি নিযুক্ত না করে একজন যুবককে যুদ্ধের সেনাপতি নিযুক্ত করেছেন। উম্মাহর তরুণ প্রজনোর প্রতি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছিল অকুণ্ঠ সমর্থন। শুধু তাই নয়, সকলকে সতর্ক করে বলে দিয়েছেন, কেউ যেন হযরত উসামার সেনাপতিত্বের বিরুদ্ধাচরণ না করেন। যদি কেউ হযরত উসামার সাথে বিরুদ্ধাচরণ করে তাহলে সে যেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধাচরণ করল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেদিন এমন কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যেন সকলে হযরত উসামা রা.-এর নেতৃত্ব মেনে নেয়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আশঙ্কা ছিল হয়তো বয়সে তরুণ হওয়ার কারণে কেউ কেউ হযরত উসামা রা.-এর নেতৃত্ব মেনে নিতে অস্বীকার করবে। কিন্তু সেনাপতি হিসেবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পছন্দ ছিল হযরত উসামা রা.। কারণ, হযরত উসামা রা. ছিলেন একজন তরুণ। তার সাহস ছিল অফুরন্ত। ইসলামের প্রতিটি বিষয়ে তার আনুগত্য ছিল প্রশংসনীয়। আল্লাহর রাসুলের কাছে হযরত উসামা ছিলেন অতি প্রিয় ও বিশ্বস্ত।
এ হলো সেকালের তরুণ ও যুব সমাজের অবস্থা। বর্তমান তরুণ প্রজন্মের অবস্থা কী? আফসোস, কত আফসোস। সেকালের তরুণদের সাথে একালের তরুণদের অবস্থা খুবই করুণ ও মর্মান্তিক। চরম দুঃখজনক হলেও সত্য; আজ মুসলিম উম্মাহর তরুণ প্রজন্ম অতিক্রম করছে ধ্বংস ও পতনের এক নিদারুণ ক্রান্তিকাল। নৈতিক ও চারিত্রিক অধঃপতনের চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করে এখন অপেক্ষা করছে কলঙ্কতিলক পরাজয়ের। নির্লজ্জতা ও বেহায়াপনার অতল গহ্বরে নিমজ্জিত তারা। অনৈক্য ও আত্মঘাতির বেড়াজালে আবদ্ধ। চিন্তা-চেতনা, মন-মনন দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দি। দুনিয়ার মোহ-মায়া এবং বস্তুবাদের রঙিন নেশায় তারা এতই মত্ত যে, বেমালুম ভুলে গেছে আপন দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা। ভুলে গেছে উম্মাহর প্রতি তার করণীয়ের কথা। ভুলে গেছে নিজেদের গৌরবান্বিত অতীত ইতিহাস। ঐতিহ্যের কথা। ভুলে গেছে একদা উম্মাহর বিজয় রচিত হয়েছিল মুসলিম যুবকদেরই হাতে।
বর্তমান মুসলিম তরুণ প্রজন্ম হারিয়ে গেছে অন্ধকারের চোরাবালিতে। তারা ভুলে গেছে নিজেদের মুসলিম পরিচয়। তাদের জীবন ও চরিত্র ধ্বংস হয়ে গেছে। দিন-রাত তারা ডুবে থাকে অশ্লীলতা ও পাপাচারে। গান-বাদ্য তাদের প্রিয় বিষয়। সকাল-সন্ধ্যা তারা মত্ত থাকে খেলাধূলায়। জীবনের একমাত্র নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের খেলা। আজ মুসলিম যুবকরা মসজিদ ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছে খেলার মাঠে। মুসলিম দেশে দেশে আজ নির্মিত হচ্ছে বড় বড় স্টেডিয়াম। তৈরি হচ্ছে উন্নত মদের আসর। নাটক সিনেমা আর পর্ণগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়েছে তারা। পশ্চিমা সভ্যতার অন্ধ অনুকরণে মুসলিম যুবকরা বেড়ে উঠছে। মুসলিম যুবকদের চরিত্র ধ্বংস করার জন্য পশ্চিমা দুনিয়া তাদের ধ্বংসাত্মক বহু কার্যক্রম বাস্তবায়নে উঠেপড়ে লেগেছে। না বুঝে মুসলিম যুবকরা সেসবে আটকে পড়ে হারিয়ে ফেলছে তাদের ঈমান আকিদা। তারা ভুলে যাচ্ছে তাদের অতীত ইতিহাস ঐতিহ্য।
ইসলামের শত্রুরা জানে, মুসলিম যুব ও তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করতে পারলে ইসলামকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা যাবে সহজেই। তারা জানে এ কথা, একটি জাতির মূল চালিকাশক্তি হলো সে জাতির তরুণ শ্রেণি। তাই তারা মুসলিম যুবকদের ধ্বংস করতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে। তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো, ইসলামকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা। আর এর জন্য প্রথমে প্রয়োজন মুসলিম যুবকদের হৃদয় থেকে ইসলামি চেতনাকে বিলুপ্ত করা। যে চেতনার বলে মুসলিমরা একদিন শাসন করেছিল অর্ধ পৃথিবী।
হে মুসলিম যুবক! ফিরে এসো। ফিরে এসো আপন নীড়ে। ফিরে এসো ইসলামের আলোয়। ইসলামের চেতনায় সুন্দর ও সজীব করো তোমাদের জীবন। ইসলামের আদর্শে আদর্শিত হও। হে যুবক! আজ মুসলিম উম্মাহ তাকিয়ে আছে তোমার দিকে। তাকিয়ে আছে তোমার সাহসের দিকে। তোমার চেতনার দিকে। একদিন তুমি ছিলে ইসলামের বিজয়ের মন্ত্র। তোমার রক্তে অর্জিত হয়েছিল উম্মাহর বিজয়। ইসলামের ঝান্ডা উড্ডীন হয়েছিল তোমার বাহুর শক্তিতে। আজ নির্যাতিত উম্মাহ তাকিয়ে আছে তোমার দিকে। তুমি উম্মাহর প্রাণশক্তি। তুমি উম্মাহর সূর্য। তুমি উম্মাহর সিংহ।
📄 তরুণ সাহাবি হযরত মুসআব ইবনে উমায়ের রা.
কোন সে যুবক যে শত্রুর সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়াবে? কোন সে যুবক যে শত্রুর চোখ রাঙানিতে ভীত হবে না? কোন সে যুবক যার হৃদয় ভরপুর ইসলামের শাশ্বত আলোয়? হ্যাঁ, তিনি হযরত মুসআব ইবনে উমায়ের! রাসুল সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সর্বপ্রথম মদিনায় হিজরত করতে আদেশ করেছেন। প্রাণাধিক প্রিয় রাসুলের আদেশে তাৎক্ষণিক তিনি রাজি হয়ে গেছেন মক্কার আবেগ ও ভালোবাসা ছেড়ে মদিনায় হিজরত করার জন্য। তখন মক্কা নগরীতে ইসলাম ও মুসলমানদের ওপর চলছে অমানবিক অত্যাচার। কাফেররা ঝাঁপিয়ে পড়েছে নবাগত মুসলমানদের ওপর। উত্তপ্ত মরুবালিতে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখছে তাদের। পিঠে চাপা দিয়ে দিচ্ছে রোদে পোড়া ভারী পাথর। আহ! সে কী বর্বরতা ছিল মুসলমানদের ওপর। পৃথিবী প্রত্যক্ষ করেছে পাষবিকতার সে করুণ দৃশ্য। ইতিহাস লিখে রেখেছে অত্যাচার নিপীড়নের প্রতিটি বর্ণনা। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত মুসআব ইবনে উমায়ের রা.-কে আদেশ করলেন মদিনায় হিজরত করার জন্য। মদিনার লোকদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার জন্য। মদিনার যে কয়জন নতুন মুসলমান রয়েছে তাদের নামাজ, কুরআনসহ ইসলামের প্রাথমিক বিষয়াদি শিক্ষা দিতে। বিশেষত তাদের কুরআন শিক্ষা দেওয়ার জন্য নবীজি হযরত মুসআব ইবনে উমায়ের রা.-কে মদিনায় প্রেরণ করেছেন। নবীজির আদেশ সে তো অলঙ্ঘনীয়। জীবনবাজি রেখে হলেও তা বাস্তবায়ন করতে হবে। শরীরের শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো আদেশ অমান্য করেননি সাহাবায়ে কেরাম। আর এজন্যই তারা এ উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ।
মুসআব ইবনে উমায়র রা. তখন বিশ না পেরুনো এক টগবগে যুবক। মক্কার সুদর্শন ও আত্মমর্যাদাশীল যুবকদের একজন। জন্মগ্রহণ করেছেন আরবের অভিজাত এক পরিবারে। বংশ ছিল সম্ভ্রান্ত। সম্পদ ও ধনে তার গোত্র ছিল প্রাচুর্যময়। তার জীবন ছিল বিলাসিতা ও ভোগ-বিলাসে ভরপুর। আরবের সবচেয়ে মূল্যবান সুগন্ধি তিনি ব্যবহার করতেন। এমন কোনো মূল্যবান রেশম নেই যা তিনি পরিধান করেননি। জীবনের অগাধ সুখ ও শান্তির মাঝে কাটছিল হযরত মুসআব ইবনে উমায়ের রা.-এর যৌবন। কিন্তু যখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন তখনই পাল্টে গেল তার সমস্ত জীবনাচার। তিনি হয়ে গেলেন অন্য এক মুসআব। এক অন্য যুবক। আগে যিনি পরিধান করতেন আরবের শ্রেষ্ঠ রেশমি পোশাক এখন তিনি পরিধান করেন অতিশয় পুরাতন ছিন্ন ও মলিন কাপড়। আগে যিনি আহার করতেন আরবের শ্রেষ্ঠ সব খাবার এখন তিনি একদিন খেলে আরেকদিন থাকেন উপোস। জীবনে যার শরীরে লাগেনি এক চিলতে আঁচড় এখন তিনি সহ্য করেন স্বগোত্রীয়দের অবর্ণনীয় অত্যাচার। সম্পূর্ণ পাল্টে গেলেন তিনি। এক আরবীয় যুবকের যৌবনের সকল উন্মাদনা বন্ধ হয়ে গেল। ইসলাম তাকে পাল্টে দিয়েছে। রাসুলের চেতনা তাকে বদলে দিয়েছে।
মুসআব ইবনে উমায়ের রা. মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র আমানত নিয়ে তিনি মদিনার পানে রওনা করেন। মক্কায় রেখে গেলেন তার পরিবার পরিজন। সকল মায়া ও ভালোবাসা তুচ্ছ করে তিনি মদিনায় চলে গেলেন। হযরত মুসআব ইবনে উমায়ের রা. যখন হিজরত করেন মদিনায় তখন মাত্র বারজন মুসলমান। তাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি মদিনার সর্বত্র ইসলামের দাওয়াত দিতে শুরু করেন। ইহুদিদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তিনি মদিনার লোকদের মাঝে ঈমানের আলো ছড়াতে থাকেন। তার দাওয়াত এবং অক্লান্ত চেষ্টার ফলে একদিন মদিনার ঘরে ঘরে ইসলামের আলো প্রবেশ করে। হযরত মুসআব ইবনে উমায়ের রা.-এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছেন উসায়দ ইবনে হুযাইর, যার কুরআন তিলাওয়াত শোনার জন্য আকাশ থেকে নেমে এসেছিল ঝাঁকে ঝাঁকে ফেরেশতা। তার হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছেন মুয়াজ ইবনে জাবাল রা., যার মৃত্যুতে কেঁপে উঠেছিল আল্লাহর আরশ। হযরত মুসআব ইবনে উমায়ের রা.-এর উত্তম আদর্শ ও জীবনাচার দেখে মদিনার লোকেরা তার দাওয়াত কবুল করতে লাগল। মদিনার ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়তে লাগল ইসলামের শাশ্বত আলো।
হে যুবক! মুসআব ইবনে উমায়ের ছিলেন তোমার মতো একজন যুবক। বিশ বছরের এক সুদর্শন যুবক। একজন মুসআব ইবনে উমায়ের পরিবর্তন করে দিয়েছেন গোটা মদিনা। মদিনাকে তিনি আলোকিত করে তুলেছেন কুরআনের আলোয়। হে যুবক! তিনিও তোমার মতো একজন যুবক ছিলেন। যে ইসলাম মুসআব ইবনে উমায়ের তৈরি করেছে সে ইসলাম আজও আছে। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মুসআব ইবনে উমায়ের কিছুই ছিলেন না। ইসলাম তাকে দিয়েছে শ্রেষ্ঠত্বের আসন। সম্মান ও মর্যাদার সুউচ্চ চূড়ায় আসীন করেছে। আল্লাহর কসম! আজও রয়েছে সে ইসলাম। ইসলামের সে আদর্শ ও চেতনা আজও রয়েছে। হে যুবক! শুধু পরিবর্তনের ইচ্ছে করো। নিজেকে ইসলামের আলোয় আলোকিত করার স্বপ্ন দেখো। ইসলামের রঙে রঙিন করো। তাহলে ইসলাম তোমাকে কালের মুসআব ইবনে উমায়ের হিসেবে তৈরি করবে। প্রয়োজন কেবল পরিবর্তনের অদম্য ইচ্ছা।
হে যুবক! তোমার কি এখনো সময় হয়নি নিজেকে পরিবর্তন করার? হে যুবক! তুমি যদি মুসলমান হয়ে থাকো তাহলে নিজেকে জিজ্ঞেস করো যে, তুমি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসো কি না? যদি তোমার উত্তর হয় হ্যাঁ, তাহলে পার্থিব খেল-তামাশা পরিত্যাগ করার সময় কি তোমার এখনো হয়নি? হযরত মুসআব ইবনে উমায়ের রা. কেন ছেড়ে দিয়েছেন পূর্বপুরুষের সকল রীতি-নীতি? কেন ছেড়ে দিয়েছেন ভোগের জীবন? আয়েশি নরম বিছানা ত্যাগ করে তিনি কেন পছন্দ করলেন পাথুরে বিছানা? কেন হযরত মুসআব পরিত্যাগ করলেন সবকিছু? শুধুমাত্র আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবেসেছেন বলে। আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ভালোবাসা তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেছে পার্থিব জীবনের সকল মোহ ত্যাগ করতে। হে যুবক! তুমি যদি সত্যিই আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসো তাহলে কেন নিজেকে পরিবর্তন করো না? কেন নিজের অবাধ্য ও নাফরমানির জীবন পরিত্যাগ করো না? আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেছেন,
أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ وَلا يَكُونُوا كَالَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الأَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَكَثِيرٌ مِنْهُمْ فَاسِقُونَ
'আল্লাহর স্মরণ এবং তিনি যে সত্য অবতীর্ণ করেছেন তার কল্যাণে মুমিনদের জন্য কি সময় হয়নি যে, তাদের অন্তর বিনম্র হবে এবং তারা তাদের মতো হবে না যাদের ইতিপূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছিল অতঃপর বহুকাল অতিক্রান্ত হওয়ায় তাদের অন্তর শক্ত হয়ে গিয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই অবাধ্য।"⁵
সুতরাং হে যুবক! ফিরে এসো তোমার রবের দিকে। ফিরে এসো তোমার রবের দেওয়া প্রতিশ্রুতির দিকে। ছেড়ে দাও সকল অবাধ্যতা। প্রবৃত্তির অনুসরণ ছেড়ে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রণীত জীবনের দিকে ফিরে এসো। নাফরমানিতে ডুবে থাকবে আর কতকাল? আর কতকাল উপেক্ষা করবে তোমার রবের আহ্বান? অবাধ্যতার পিঞ্জর ভেঙে ফিরে এসো কল্যাণ ও সফলতার পথে।
হে আল্লাহ! হে রাহমানুর রাহিম! আপনি মুসলিম যুব ও তরুণ প্রজন্মকে কবুল করে নিন। তাদেরকে পরিপূর্ণরূপে ইসলামের প্রবেশ করার তাওফিক দান করুন। তাদের অন্তরকে ইসলামের সৌন্দর্য দ্বারা সৌন্দর্যমণ্ডিত করে দিন। তাদের অন্তরকে ঈমানের আলোয় আলোকিত করে দিন। আপনার রাসুলের আদর্শে তাদের আদর্শবান বানিয়ে দিন। হে আল্লাহ! আপনি যুবকদের অন্তরে ইসলামের জন্য ভালোবাসা ও আবেগ সৃষ্টি করে দিন। ইসলামের জন্য নিজেদের জান ও মাল ব্যয় করার তাওফিক দান করুন। তাদের অন্তর থেকে সকল প্রকার নাফরমানি দূর করে দিন। তাদের আপনার পূর্ণ আনুগত্য করার তাওফিক দান করুন। তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে হেফাজত করুন। তাদের অন্তর থেকে সকল প্রকার মন্দ কামনা-বাসনা দূর করে দিন। হে আল্লাহ! আপনি মুসলিম যুবকদের আপনার দ্বীনের প্রাণশক্তি হিসেবে কবুল করে নিন। আপনার দ্বীনের বিজয়ের জন্য তাদের আপনি সৈনিক হিসেবে কবুল করে নিন। হে আল্লাহ! মুসলিম যুবকদের মাঝে আপনি হযরত উসামা এবং হযরত মুসআব ইবনে উমায়ের রা.-এর মতো যুবক তৈরি করে দিন।
টিকাঃ
৫ সুরা হাদিদ: ১৬
📄 তারুণ্য উম্মাহর আশার প্রদীপ
এ আলোচনার সারমর্ম হলো ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর মুক্তি লাভ এবং হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে উপযুক্ত করণীয় সম্পর্কে আলোকপাত করা। উম্মাহ কীভাবে মুক্তি পাবে? কোন পথে রয়েছে উম্মাহর কাঙ্ক্ষিত সফলতা? কীভাবে আমরা একে অপরকে সৎকাজ এবং তাকওয়া অর্জনে সহযোগিতা করতে পারি? এবং কীভাবে আমরা নিজেদের এবং আমাদের পরিবার- পরিজনকে আল্লাহর শান্তি থেকে রক্ষা করতে পারি? সে সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা করা।
তরুণ ও যুব প্রজন্ম একটি জাতির মেরুদণ্ড। সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রাণ। তাদের রক্ত ও ঘামের ওপর নির্মিত হয় জাতির সফলতা ও ব্যর্থতা। চলমান নৈরাজ্য এবং পতনের অতল গহ্বর থেকে কোনো জাতিকে টেনে তুলে এনে সফলতার সুউচ্চ চূড়ায় আরোহণ করায় যারা তারা সে জাতির তরুণ প্রজন্ম। পক্ষান্তরে কোনো জাতির তরুণ প্রজন্ম যদি শৃঙ্খলা ও নিজেদের কর্তব্যের কথা ভুলে যায় তাহলে সে জাতির পতন অবশ্যম্ভাবী। ধ্বংস ও পরাজয়ের হাত থেকে আর কোনো মন্ত্রই তাদের রক্ষা করতে পারে না।
আজ সূর্যের আলোর ন্যায় এ কথা সুস্পষ্ট যে, মুসলিম জাতি ইতিহাসের সবচেয়ে করুণ সময় অতিক্রম করছে। গোলামির শিকলে আজ তারা আবদ্ধ। পৃথিবীর দিকে দিকে তাকালে দেখা যায় মুসলমানদের নিদারুণ অসহায়ত্বের মর্মন্তুদ দৃশ্য। আজ অত্যাচার ও নিপীড়নের খড়গ নেমে এসেছে তাদের ওপর। দেশে দেশে নির্যাতিত অসহায় মুসলমান নারী পুরুষদের আর্তচিৎকারে ভারী হয়ে উঠেছে পৃথিবীর আকাশ বাতাস। সাগরে ভেসে বেড়াচ্ছে মুসলমান শিশু ও বৃদ্ধের লাশ। সামগ্রিকভাবে মুসলিম উম্মাহ আজ ইতিহাসের সর্বাধিক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি।
এ নিদারুণ ক্রান্তি ও অচল অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে, লজ্জাস্কর এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে উম্মাহর তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন তরুণ ও যুব প্রজন্মের হাতেই পরিবর্তন ঘটবে অধুনা মুসলমানদের করুণ পরিস্থিতির। তাদের হাতেই রচিত হবে আগামীর বিজয়। তবে এর জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু কর্মপন্থা ও উত্তম কতিপয় করণীয়। যা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। নিম্নে মুসলিম তরুণ ও যুব প্রজন্মের করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করা হলো, যার মাধ্যমে উম্মাহর অবস্থার পরিবর্তন সাধিত হবে।