📄 নির্ভেজাল তরিকতপন্থী সাধকের তিনটি কর্তব্য
১. সহীহ্ শুদ্ধ বিশ্বাস, যাতে কোনো বেদাত থাকবে না।
২. তওবায়ে নাসূহ (নিখুঁত নিখাদ তওবা); এরপরে যেন পদস্খলন না হয়।
৩. দুশমনকেও সন্তুষ্ট করা, যাতে সৃষ্টিজগতে কারো হক তার ওপর না থাকে।
৪. শরীয়তের ইল্ম এতখানি অর্জন করা, যদ্ধারা আল্লাহর হুকুম-আহকাম পালন করা হয়। অন্যান্য জ্ঞান এতখানি অর্জন করা, যার মধ্যে ব্যক্তির নিজের মুক্তি ও নাজাত নিহিত।
📄 মুক্তির জন্যে আটটি উপদেশ
এখন আরেকটি ঘটনা মনোযোগের সাথে শোনো। হাতেম আসম ছিলেন শাক্বীক বালখীর মুরিদ ও শিষ্য। একদিন শাক্বীকু তার কাছে জানতে চাইলেন: তুমি দীর্ঘ ত্রিশ বছর আমার সাহচর্যে আছো। এখন বলো যে, এই দীর্ঘ সময়ে তুমি কি হাসিল করেছ। বললেন: আপনার জ্ঞান থেকে আটটি বিষয় (ফায়দা) হাসিল করেছি। এগুলোই আমার জন্য যথেষ্ট। আমি আশা করি যে, এর মধ্যেই আমার মুক্তি নিহিত। শাক্বীক্ব বললেন: ওগুলো কি কি? হাতেম জবাবে বললেনঃ
১. প্রথম শিক্ষা: আমি মানুষের দিকে তাকালাম এবং দেখলাম যে, প্রত্যেকে একেক জনকে বন্ধু ও ভালবাসার পাত্র হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং তার প্রতি তারা ভালোবাসা পোষণ করে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বন্ধুকে ধ্বংসাত্মক রোগ বালাইতেও সঙ্গ দেয়। কেউ কেউ কবরের পাড় পর্যন্ত বন্ধুত্ব রাখে, অথচ এরপর তাকে ছেড়ে আসে। কবরের অন্ধকারে একলাই রেখে দেয়। (কোন বন্ধুই বন্ধুর সাথে কবরে নিঃসঙ্গতার সাথী হয়না।) অতএব আমি চিন্তা করে দেখলাম যে, মানুষের সর্বোত্তম বন্ধু তো সে-ই হবে, যে তার সাথে কবরে যাবে আর তার দুঃখের সাথী হবে। ভেবে দেখলাম যে, সেই বন্ধু নেক আমল ছাড়া আর কিছুই নয়। কাজেই একেই আমার বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছি। হয়ত তা আমার আঁধার কবরে চেরাগ হবে। চির নিঃসঙ্গতায় আমার ব্যাথার সাথী হবে।
২. দ্বিতীয় শিক্ষা: আমি মানুষকে দেখতে পেলাম, তারা নিজের নফসের কামনা বাসনার অনুসরণ করছে। নফসের মর্জি মাফিক চলছে। অতপর আমি কুরআন মজীদের এই আয়াতটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলাম, যেখানে আল্লাহ্ পাক এরশাদ করেছেনঃ
وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى -
আর যে ব্যক্তি আপন প্রভুর মহানত্বকে ভয় করে এবং নিজের নফসের কামনা-বাসনা থেকে বিরত থাকে, নিশ্চিতভাবে জান্নাত হচ্ছে তার ঠিকানা। (সূরা-নাযেআতঃ ৪০)
আমি একীন হাসিল করেছি যে, কুরআন সত্য ও সত্যবাদী। কাজেই আমার নফসের কামনা-বাসনার বিরোধিতা করলাম। নক্সের সাথে অবিরাম জিহাদের জন্য প্রস্তুত হলাম। নফসকে কামনা-বাসনা থেকে বাধা দিলাম। অবশেষে সে আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্যে প্রশান্ত হলো; আল্লাহর একান্ত অনুগত ও বশীভূত হলো।
৩. তৃতীয় শিক্ষা: দুনিয়াতে প্রত্যেকে সম্পদ আহরণের চেষ্টায় নিয়োজিত, তার জন্য অহর্নিশ চিন্তামগ্ন। আমি মহান আল্লাহ্ তা'আলার এই উক্তি নিয়ে চিন্তা করলাম। তিনি বলেছেন যে:
وَمَا عِنْدَكُمْ يَنْفَدُ وَمَا عِنْدَ اللَّهِ بَاقٍ -
তোমাদের কাছে যা আছে, ধ্বংস হয়ে যাবে আর আল্লাহ্র কাছে যা আছে, চিরস্থায়ী হবে। (সূরা-নাহল: ৯৬)
কাজেই দুনিয়াতে ভোগের যেসব সামগ্রী সংগ্রহ করেছিলাম তা আল্লাহ্ রাস্তায় অভাবী অনাথদের মাঝে বন্টন করে দিলাম, যাতে আল্লাহ্র কাছে আমার জন্য সঞ্চয় হয়ে থাকে।
৪. চতুর্থ শিক্ষা: আমি দেখলাম যে, কিছু সংখ্যক লোক নিজের আত্মীয় স্বজন বেশি হওয়াকেই সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক বলে মনে করে, এ নিয়ে মাতোয়ারা হয়ে থাকে। আর এক শ্রেণীর লোককে দেখলাম যে, তারা বেশি বেশি সম্পদ অর্জন এবং সন্তান-সন্ততি অধিক হওয়াকেই মর্যাদার বিষয় বলে মনে করে। আর এক শ্রেণীর লোক জনসাধারণের সম্পদ আত্মসাৎ, জুলম ও রক্তপাত ঘটাতে পারলেই নিজেকে সম্মানী হিসেবে গণ্য করে। আর কিছু লোক মনে করে যে, সম্পদের অপচয় ও অপব্যয় করাই সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক। এ ক্ষেত্রে আমি আল্লাহ্ তা'আলার এই বাণী নিয়ে চিন্তা করলাম:
إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ -
তোমাদের মধ্যে যে অধিক খোদাভীরু, আল্লাহ্র দরবারে সে-ই অধিক সম্মানী। (সূরা-হুজরাত : ১৩)
কাজেই আমি তাকওয়া (খোদাভীরুতা) অবলম্বন করলাম এবং এই প্রত্যয় অর্জন করলাম যে, আল্লাহ্র কুরআনই হক্ব, মানুষের ধারণা- অনুমান বাতিল ও ধ্বংসশীল।
৫. পঞ্চম শিক্ষা: আমি দেখলাম যে, এক শ্রেণীর লোক আরেক শ্রেণীর লোককে ঘৃণা করছে, তাদের গীবতে (নিন্দা চর্চায়) ব্যস্ত। আমি এর কারণ অনুসন্ধান করে জানলাম যে, পরস্পরের সম্পদ, পদমর্যাদা জ্ঞান নিয়ে হিংসা-বিদ্বেষের কারণেই এমনটি হচ্ছে। কাজেই আমি আল্লাহ্ তা'আলার এই ঘোষণাটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলাম:
نَحْنُ قَسَمْنَا بَيْنَهُمْ مَعِيشَتَهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا .
আমি (হেকমত ও কল্যাণের খাতিরে) দুনিয়ার জীবনে মানুষের মধ্যে তাদের জীবিকাকে ভাগ-বন্টন করে দিয়েছি। (সূরা-যুখরুফ: ৩২)
অতএব বুঝতে পারলাম যে, দুনিয়ার জীবনে এই যে জীবিকা, তা আল্লাহর পক্ষ হতে নির্ধারিত। তখনই আমি আল্লাহর ইবাদতে নিবেদিত হলাম এবং কারো প্রতি হাসদ (হিংসা বিদ্বেষ) পোষণ করলাম না।
৬. ষষ্ঠ শিক্ষা: মানুষকে দেখতে পেলাম যে, দুনিয়াবী স্বার্থে ও কারণে পরস্পরের সাথে শত্রুতা করছে। তখন আমি আল্লাহর এই বাণীতে মনোযোগ নিবদ্ধ করলাম। তিনি এরশাদ করেছেনঃ
إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوًّا
নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের শত্রু, কাজেই তোমরাও তার সাথে শত্রুতা করো। (সূরা-ফাতির: ৬)
আমি বুঝতে পারলাম যে, শয়তান ছাড়া অন্য কারো সাথে শত্রুতা করা, কারো প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা উচিৎ নয়।
৭. সপ্তম শিক্ষা: আমি দেখতে পেলাম যে, লোকেরা প্রত্যেকেই রুটি রুজি যোগাড় করার জন্যে প্রচুর চেষ্টা চালাচ্ছে। এ কারণে এমনকি হারাম ও সন্দেহযুক্ত বিষয়েও পতিত হচ্ছে। বাছ-বিচার না করে নিজেকে অপদস্থ ও মূল্যহীন করে ফেলছে। তখন আমি আল্লাহ্ এই বাণীতে মনোনিবেশ করলাম, যেখানে তিনি এরশাদ করেছেন:
وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا.
পৃথিবীতে কোনো প্রাণী নেই; বরং তার রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহ্র ওপর। (সূরা-হুদ: ৬)
আমি বুঝতে পারলাম যে, আমার রিযিকের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ্ ওপর। আল্লাহ্ তা'আলা সে রিযিক পৌঁছে দেয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। কাজেই আমি তার ইবাদতে মশগুল হলাম। তিনি ছাড়া আর কারো প্রতি আমার চাওয়া-পাওয়া ত্যাগ করলাম।
৮. অষ্টম শিক্ষা: আমি দেখতে পেলাম যে, প্রত্যেকে কোনো না কোনো সৃষ্টির প্রতি আস্থা ও ভরসা রাখে। এক শ্রেণী পার্থিব জগৎ ও টাকা-পয়সার প্রতি, এক শ্রেণী সম্পদ ও পদমর্যাদার প্রতি। কেউ কেউ পেশা ও চাকুরীর প্রতি, আরেক শ্রেণী তাদেরই মতো মানুষের প্রতি ভরসা করে থাকে। এ ব্যাপারে আমি আল্লাহ্ এই বাণী নিয়ে অনুধ্যান করলাম যেঃ
وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللهِ فَهُوَ حَسْبُهُ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا -
যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ওপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট। নিঃসন্দেহে আল্লাহ্র আদেশ সর্বত্র বিরাজমান, নিশ্চয়ই তিনি প্রত্যেক কিছুর জন্য একটি পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন। (সূরা তালাক: ৩)
অতএব আমি আল্লাহ্ তা'আলার উপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) করলাম। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট। তিনি আমার জন্য উত্তম কার্য সম্পাদনকারী।
শাক্বীকু বললেন : আল্লাহ্ তোমাকে সফলকাম করুন। বাস্তবিকই আমি তাওরাত, ইঞ্জিল, যবুর ও ফুরকান (কুরআন)-এ গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখেছি যে, এই চারটি কিতাবে উল্লেখিত আটটি বিষয়ই বারবার বলা হয়েছে। যে কেউ এই আটটি বিষয় বাস্তবায়ন করবে, সে ঐ চারটি (আসমানী) কিতাবের আদেশ নিষেধের অনুসরণ করবে।
হে বৎস! উল্লেখিত দুটি হেকায়াত থেকে তুমি জানতে পেরেছ যে, তোমার প্রচুর জ্ঞানের প্রয়োজন নেই। এখন আল্লাহর সাধকের জন্য যা কর্তব্য, তোমার কাছে তা বর্ণনা করছি।
📄 মুর্শিদের গুণাবলী
আল্লাহ্ পথের প্রত্যেক সাধকের জন্য একজন শায়খ, মুর্শিদ ও মুরব্বী থাকা উচিৎ। যিনি সঠিক দীক্ষা দিয়ে তার অপছন্দনীয় স্বভাব চরিত্রগুলো দূর করবেন এবং পরিবর্তে পছন্দনীয় স্বভাব চরিত্রের উন্মেষ ঘটাবেন। এই দীক্ষাদানের বিষয়টির কৃষকের কাজের সাথে মিল আছে। কৃষক জমি থেকে প্রথমে কাঁটা, পাথর তুলে নেয়, আগাছা পরিস্কার করে বাইরে ফেলে দেয়, যাতে শস্য ভালোভাবে জন্মায় এবং ভালো ফসল ফলে। আল্লাহর পথে যে সাধনা করবে, তারও একজন পীরের দরকার। যিনি তাকে আদব শিক্ষা দেবেন, আল্লাহর পথে হেদায়াত করবেন। কেননা, আল্লাহ্ তার বান্দাদের জন্য রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদেরকে সীরাতুল মুস্তাকীমে পরিচালনা করবেন। হযরত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ওফাত লাভ করেন, তখন তার স্থলাভিষিক্ত খলীফাদের রেখে যান, যাতে আল্লাহ্ দিকে মানুষের দিশারী হন।
শায়খ বা পীর হবার শর্ত হচ্ছে, তিনি রাসূলে খোদার নায়েব (স্থালাভিষিক্ত) বলে গণ্য হবেন, তাকে আলেম হতে হবে। তবে সব আলেম রাসূলে খোদা (স)-এর প্রতিনিধি হবার যোগ্যতা রাখেনা। আমি খুব সংক্ষেপে তাদের কিছু লক্ষণ বলে দিচ্ছি, যাতে যে কোনো উদ্ভ্রান্ত এসে রাসূলে পাক (স) এর নায়েব হবার আকাংখা পোষণ করতে না পারে।
তিনি সেই আলেম, যিনি দুনিয়ার মহব্বত ও দুনিয়ার মান-সম্মান পদমর্যাদা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। যিনি এমন দৃষ্টিমান, বিচক্ষণ ব্যক্তির অনুসরণ করবেন, যার প্রতি আনুগত্যের সিলসিলা (ধারাবাহিকতা) অব্যাহতভাবে সাইয়েদুল মুরসালীন হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
তিনি এমন নেককার লোকের আনুগত্য করে থাকবেন, যার নির্দেশে সব ধরনের রেয়াযাত ও কৃচ্ছ সাধনা আঞ্জাম দিয়েছেন। যেমন কম খাওয়া, কম ঘুমানো, কম কথা বলা, বেশি বেশি নামায পড়া, বেশি পরিমাণে রোযা রাখা, অধিক পরিমাণে সদকা করা।
এছাড়াও চরিত্রের সৌন্দর্যসমূহ তার স্বভাবে পরিণত হবে। যেমন, ধৈর্য, শোকর (সর্বাবস্থায় আল্লাহর কৃতজ্ঞ থাকা), তাওয়াক্কুল, একীন, অল্পেতুষ্টি, প্রশস্ত চিন্তা, সহনশীলতা, বিনয়, জ্ঞান, সততা, লজ্জাশীলতা, ওয়াদাপূরণ, সম্ভ্রম, ভাবগাম্ভীর্য, স্থিরতা এবং এ জাতীয় গুণাবলী। হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নূরসমূহ থেকে একটি নূর (আলোকশিখা) তিনি লাভ করে থাকবেন এবং হযরতের প্রতি একতেদার ছায়াতলেই সংশোধন হয়ে থাকবেন। কিন্তু এ ধরনের মুর্শিদ দুর্লভ, প্রিয়ভাজন, অত্যন্ত দামী ও মূল্যবান। যে লোককে সৌভাগ্য হাতছানি দেয় এবং উল্লেখিত জ্ঞান ও লক্ষণযুক্ত পীর পেয়ে যায়, আর পীরও তাকে শিক্ষাদীক্ষা দিতে রাজি হয়, তার ওপর কর্তব্য হচ্ছে এই পীরকে গোপনে প্রকাশ্যে (সামনে পেছনে) সম্মান করা। প্রকাশ্যে সম্মান দেখানো বলতে বুঝায়, তার সাথে ঝগড়া করবে না, যে কোনো মাসআলায় তার সাথে তর্ক করবেনা। এমনকি তার (পীরের) ভুল বুঝতে পারলেও না।
তার কাছে জায়নামায বিছাবে না। হ্যাঁ নামাজের সময় হলে বিছাবে। নামায যখন শেষ হবে জায়নামায গুটিয়ে নেবে। তার সামনে অধিক নফল নামায আদায় করবে না। পীর যা আদেশ করবেন, নিজের সাধ্য ও শক্তি অনুযায়ী তা পালন করবে। আর ভেতরে বা পেছনে সম্মান প্রদর্শনের অর্থ হচ্ছে, প্রকাশ্যে তার কাছ থেকে যা গ্রহণ করবে, পেছনে বা মনে মনে তাকে ঘৃণা বা প্রত্যাখ্যান করবে না। কাজেও না, কথায়ও না। অন্যথায় তার কপালে মুনাফেকীর দাগ পড়ে যাবে। যদি এগুলো মেনে চলতে না পারে, তাহলে তার সাহচর্য ত্যাগ করবে, যতক্ষণ না তার ভেতরটা বাইরের মতো (ভেতরে ও বাইরের অবস্থা এক রকম) হয়। এই লোকের ওপর আরো ফরয হলো, মন্দ সঙ্গীর সাথে ওঠা বসা ত্যাগ করতে হবে। যাতে মানুষ ও জ্বীন শয়তান তার জ্বলবের রাজ্যে হস্তক্ষেপ করতে না পারে। তার অন্তর যেন শয়তানের ময়লা কদর্যতা থেকে পাক-পবিত্র হয়। একই সাথে সর্বাবস্থায় সম্পদের প্রতি ভালোবাসার ওপর সংসারত্যাগী মনোভাবকে প্রাধান্য দিতে হবে।
📄 তাসাওয়াফের দুটি বৈশিষ্ট
জেনে রেখো যে, তাসাওফের দুটি বৈশিষ্ট্য আছে। যথাঃ
১. মহান রাব্বুল আলামীনের সাথে হিসাব-নিকাশ ঠিক থাকা।
২. সৃষ্টির ব্যপারে নিশ্চিন্ত হওয়া।
আল্লাহ্ তা'আলার সাথে যে ব্যাক্তির হিসাব-নিকাশ ঠিক থাকে এবং মানুষের সাথে সহনশীলতা ও সুন্দর আচরণ দেখায়, সে ব্যক্তি সূফী। আল্লাহ্র সাথে ঠিক থাকার মানে হলো, তার হুকুমের সামনে নিজের স্বার্থ ও ইচ্ছাকে কোরবান করে দেবে। মানুষের সাথে সুন্দর আচরণের তাৎপর্য হলো, মানুষের ওপর যেন নিজের স্বার্থ চাপিয়ে না দেয়, বরং তার উল্টা মানুষের স্বার্থ ও লাভকে নিজের ওপর প্রাধান্য দিয়ে গ্রহণ করে। অবশ্য যতক্ষণ মানুষের ইচ্ছা ও স্বার্থ শরীয়ত মাফিক হয়, ততক্ষণ।