📘 আইয়ুহাল ওয়ালাদ ! হে বৎস > 📄 উপকারী জ্ঞান কোনটি?

📄 উপকারী জ্ঞান কোনটি?


ওহে সন্তান!
কালামশাস্ত্র, তর্কবিদ্যা, চিকিৎসা বিজ্ঞান, কবিদের দিওয়ান (কাব্যগ্রন্থ), জোতির্বিদ্যা, অলংকার শাস্ত্র এবং ব্যাকরণ পড়ে তোমার কি অর্জন হবে? (আখেরাতের জন্য না হলে) তোমার মূল্যবান জীবনটা আল্লাহ্-যুল্ জালালের রাস্তার উল্টা পথে নষ্ট ও ধ্বংস করারই শামিল হবে। হযরত ঈসা (আ:) এর ইঞ্জিলে দেখেছি যে:
'মৃত্যুর পর লাশ কফিনে রাখার পর থেকে কবরে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ে আল্লাহ্ তাআলা বান্দার কাছে চল্লিশটি প্রশ্ন করেন। প্রথম প্রশ্নটি হল, আল্লাহ্ তাআলা বলেন- হে বান্দা! বছরের পর বছর তুমি লোকদের সামনে নিজেকে পরিপাটি ও সজ্জিত করেছ, অথচ আমার সামনে এক ঘন্টাও নিজেকে সজ্জিত করোনি। প্রতিদিন আল্লাহ্ তোমার জ্বলবে দৃষ্টি দেন এবং বলেন, কেন তুমি অন্যদের দেখানোর জন্য কষ্ট করছ? অথচ তুমি আমার দয়া ও অনুগ্রহের মধ্যেই ডুবে আছ (আমার জন্য তো কষ্ট স্বীকার করছো না); কিন্তু তুমি বধির, কিছুই শুনতে পাওনা।'
হে বৎস!
আমল বিহীন ইল্ল্ম হচ্ছে পাগলামী, আবার বিনা ইল্মে আমল সম্ভব নয়। যে জ্ঞান তোমাকে গোনাহ ও পাপকর্ম থেকে বিরত না রাখে এবং মাবুদ মাওলার ইবাদতে বাধ্য না করে, সে জ্ঞান তোমাকে কাল কেয়ামতে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা করতে পারবে না। আজকেই যদি তোমার জ্ঞান মোতাবেক আমল না কর এবং হারানো দিনগুলোর ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য উদ্যোগী না হও, তাহলে কেয়ামতের দিন ঐসব লোকদের দলে অন্তর্ভূক্ত হতে হবে, যারা বলবে
فَارْجِعْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا
'প্রভু হে! আমাদেরকে দুনিয়াতে ফিরিয়ে নাও, আমরা সেখানে সৎকর্ম সম্পাদন করব।' তখন তোমাকে বলে দেয়া হবে- আহাম্মক! তুমি তো সেখান থেকেই এসেছ।
হে বৎস!
কূলবে শক্তি ও বল বৃদ্ধি করতে হবে আর নক্সকে পর্যুদস্ত করতে হবে। দেহকে মৃত্যুর জন্য তৈরি করতে হবে। কেননা, আসল ঠিকানা তো কবরস্থান। কবরবাসীরা, তুমি কখন তাদের সাথে মিলিত হবে তার অপেক্ষায় আছেন। খবরদার! সম্বলহীনভাবে যেন তুমি সেখানে না যাও। হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা) বলেনঃ
هَذِهِ الْأَجْسَادُ قَفَصُ الطُّيُورِ أَوْ اصْطَبُلُ الدَّوَابِ -
এই যে দেহ, এগুলো হয়ত পাখিদের খাঁচা অথবা গবাদি পশুর আস্তাবল। এখন নিজের দিকে তাকিয়ে দেখ; চিন্তা করে দেখ যে, তুমি এর কোনটি? যদি তুমি উর্ধ্বলোকের পাখি হয়ে থাক, তাহলে ارجعى إِلَى رَبِّد (তোমার প্রভুর পানে ফিরে এসো) '-এর ডাক শোনার সাথে সাথে আরশের সর্বোচ্চ স্থানের পানে উড়াল দাও।
হযরত নবী করীম-(স) এরশাদ করেন:
اهتز عرش الرَّحْمَنِ مِنْ مَوْتِ سَعَدِ بْنِ مَعَادٍ -
সাআদ ইবনে মাআয এর মৃত্যুর পর আল্লাহ্র আরশ প্রকম্পিত হয়। (কারণ, আরশের সাথে ছিল তার সম্পর্ক)।
আল্লাহ্ না করুন, তুমি যদি চতুষ্পদ জন্তুর অন্তর্ভূক্ত হয়ে থাক, তাহলে ঘরের কোণা থেকে হাবিয়া দোযখেই তুমি পাড়ি জমাবে। আল্লাহ্ তাআলা বলেছেন:
أُولَئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ -
ওরা হচ্ছে চতুষ্পদ জন্তুর মত, বরং তার চাইতেও অধিক গোমরাহ। (সূরা আরাফ: ১৭৯)
বর্ণিত আছে যে, হযরত হাসান বসরীর (রহ) কাছে একবার সামান্য ঠান্ডা পানি আনা হয়। তিনি পাত্রটি হাতে নেয়ার সাথে সাথে বেহুশ হয়ে পড়েন এবং তার হাত থেকে পাত্রটি পড়ে যায়। হুঁশ ফিরে পাবার পর এ অবস্থার কারণ জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি বলেন, দোযখের বাসিন্দারা বেহেশতের বাসিন্দাদের কাছে যে আরজু পেশ করবে, সে কথাটি আমার মনে পড়েছিল।
أَنْ أَفِيضُوا عَلَيْنَا مِنَ الْمَاءِ أَوْمِمَا رَزَقَكُمُ اللهُ -
আল্লাহ্ তাআলা আপনাদেরকে বেহেস্তে যে পানীয় দিয়েছেন অথবা যে রিযিক দান করেছেন, তা থেকে সামান্যটুকুন কি আমাদের দান করবেন? (সূরা-আ'রাফ: ৫৭)

📘 আইয়ুহাল ওয়ালাদ ! হে বৎস > 📄 ইল্ম আমল সহকারে হলেই উপকারী

📄 ইল্ম আমল সহকারে হলেই উপকারী


ওহে বৎস!
যদি শুধু জ্ঞানই তোমার জন্য যথেষ্ট হতো আমলের (জ্ঞান অনুযায়ী কাজ করার) যদি দরকার না হতো, তাহলে আল্লাহ্র পক্ষ হতে এসব আহবান অনর্থক বলে সাব্যস্ত হতো
هَلْ مِنْ سَائِلِ )হাল্ মিন সায়েলিন?) আমার কাছে কি কিছু প্রার্থনাকারী আছো?
وَهَلَ مِنْ تَائِبٍ )ওয়া হাল মিন তায়েবিন?) আমার কাছে তওবাকারী কি কেউ আছো?
وَهَلْ مِنْ مُسْتَغْفِرٍ )ওয়া হাল মিন মুস্তাগফেরিন ?) গোনাহ্ মাফ চাওয়ার কোনো লোক কি আছো?
বর্ণিত আছে যে, একদিন সাহাবায়ে কেরামের একটি দল হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র দরবারে উপস্থিত ছিলেন। এমন সময় অব্দুল্লাহ্ ইবনে ওমরের (রা) প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হয়। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন:
نِعْمَ الرَّجُلُ هُوَ لَوْ كَانَ يُصَلَّى بِاللَّيْلِ
সে খুব ভালো মানুষ, তবে যদি রাতে তাহাজ্জুদের নামায আদায় করে।
অনুরূপভাবে হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি একজন সাহাবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন:
يَا فَلَانُ لَا تُكْثِرِ النَّوْمَ بِاللَّيْلِ فَإِنْ كَثرَةَ النَّوْمِ بِاللَّيْلِ يَدَعُ صَاحِبَهُ فَقِيرًا يَوْمَ القيامة
হে অমুক! লক্ষ্য কর, রাতে বেশি ঘুমাইওনা। কারণ, রাতের অতিরিক্ত ঘুম ঐ লোককে কেয়ামতের দিন ভিখারীতে পরিণত করবে।
হে বৎস!
وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَكَ .
রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদের নামায আদায় করুন, যা আপনার জন্যে (বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ) অতিরিক্ত কাজ। (সূরা-বনী ইসরাঈল: ৭৯)
আর وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ
শেষ রাতে ওঠে তারা (আল্লাহর দরবারে) মাগফেরাত কামনা করে। (সূরা আয-যারিয়াত:১৮)
রাসূলে খোদা-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন :
ثَلْثَةُ أَصْواتِ يُحِبُّهَا اللهُ تَعَالَى صَوْتُ الدِّيكِ وَصَوْتُ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَصَوْتُ الْمُسْتَغْفِرِينَ بِاالْأَسْحَارِ -
তিন ধরনের আওয়াযকে আল্লাহ্ তা'আলা ভালোবাসেন, মোরগের ডাক, কুরআন তেলাওয়াতকারীর আওয়ায এবং শেষরাতে উঠে گোনাহের মাগফেরাত কামনাকারীর আওয়ায।
হযরত সুফিয়ান সাওরী-রাহমতুল্লাহ্ আলাইহ্ বলেনঃ
إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى خَلَقَ رِيحًا تَهُنَّ بِالْأَسْحَارِ تَحْمِلُ الْأَذْكَارَ وَالْإِسْتِغْفَارَ إِلَى الْمَلِكِ الْجَبَّارِ
আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলা এমন এক বাতাস সৃষ্টি করেছেন, যা শেষ রাতে প্রবাহিত হয় এবং যিকির ও এস্তেগফারসমূহ মহামহীম আল্লাহর দরবারে নিয়ে যায়।
অনুরূপভাবে বর্ণিত আছেঃ
إِذَا كَانَ أَوَّلُ اللَّيْلِ يُنَادِي مُنَادٍ مِنْ تَحْتِ الْعَرْشِ الْالِيَقُمِ الْعَابِدُونَ فَيَقُومُونَ وَيُصَلُّوْنَ مَا شَاءَ اللهُ ثُمَّ يُنَادِي مُنَادٍ فِي شَطْرٍ اللَّيْلِ الْالِيَقُمِ الْقَانِتُونَ فَيَقُومُونَ وَيُصَلُّونَ إِلَى السَّحَرِ فَإِذَا كَانَ السَّحَرُ نَادَى مُنَادٍ الْالِيَقُمِ الْمُسْتَغْفِرُونَ فَيَقُومُونَ وَيَسْتَغْفِرُ ونَ فَإِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ نَادَى مُنَادٍ الْالِيَقُمِ الْغَافِلُونَ فَيَقُومُونَ مِنْ فُرُوشِهِمْ كَالْمَوْ نَي نُشِرُ وا مِنْ قُبُورِ هِمْ -
যখন রাতের প্রথম ভাগ আসে, আরশের নিচ থেকে একজন আহবানকারী ডাক দিয়ে বলেন : ওহে ইবাদতকারীরা! জাগ্রত হও। সে ডাক শুনে তারা জাগ্রত হয়ে আল্লাহ্ যতখানি ইচ্ছা (যতখানি তওফীক দেন), নামায আদায় করেন। অতপর মধ্যরাতে ডাক দিয়ে বলেন : আল্লাহকে ভয়কারী, পরহেযগাররা জাগ্রত হও। সে ডাক শুনে ঐ দলটি জাগ্রত হয় এবং শেষ রাত পর্যন্ত নামায আদায় করেন। যখন রাতের শেষভাগ হয়, আহবানকারী ডাক দিয়ে বলেন, গোনাহ্ মাফ চাওয়ার লোকেরা জাগ্রত হও। তখন ঐ দলটি জাগ্রত হয়ে আল্লাহর দরবারে মাগফেরাত কামনা করেন। অতঃপর যখন ভোর হয়ে যায়, তখন আহবানকারী ডাক দিয়ে বলেন : ওহে অলসরা! ওঠো। তখন তারা মৃত লোকদের কবর থেকে ওঠার মতো বিছানা ত্যাগ করে।
হযরত লোকমান হাকীম তার সন্তানদের যে ওসিয়ত করে যান, তার অন্যতম হচ্ছেঃ
يَا بُنَيَّ لَا يَكُونَنَّ الدِّيْكَ أَكْبَسُ مِنْكَ يُنَادِي بِالْأَسْحَارِ وَأَنْتَ نَائِمٌ -
হে আমার সন্তান! খবরদার মোরগ যেন তোমার চাইতে চালাক না হয়, মোরগ শেষ রাতে ডাক দেবে; অথচ তুমি ঘুমিয়ে থাকবে (এমন যেন না হয়)।
কবি কত সুন্দর বলেছেন:
لَقَدْ هَتَفَتْ فِي جُنْحِ اللَّيْلِ حَمَامَةٌ عَلَى فَنَنِ وَهَنَّا وَإِنِّي لَنَائِمٌ كذبتُ، وَبَيْتِ اللهِ لَوْ كُنْتُ عَاشِقًا لَمَّا سَبَقَتْنِي بِالْبُكَاءِ الْحَمَائِمُ وَأَزْعُمُ أَنِّي هَانِمْ ذُو صَبَابَةٍ لِرَبِّي فَلَا ابْكِي وَتَبْكِي الْبَهَائِمُ -
কবুতর রাতে গাছের ডালে বেদনায় ভরা কন্ঠে ডাকে
অথচ আমি ঘুমিয়ে কাটাই বিছানার পরে।
আল্লাহ্র ঘরের কসম, মিথ্যা বলেছি; যদি বলি-আমি প্রেমিক
কেননা কবুতররা তাহলে কান্নায় ছাড়িয়ে যেতে পারত না আমাকে।
আমি কিনা ভাবি, আমি আল্লাহ্ প্রেমিক, কিন্তু কাঁদি না।
অথচ পশু-পক্ষীরা কাঁদে তার জন্য নিরবাধি।
হে বৎস!
ইল্ম বা জ্ঞানের সার কথা হলো, আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদতের স্বরূপ তোমাকে জানতে হবে। জেনে রেখো যে, উভয়ের মর্মার্থ হচ্ছে, শরীয়তের আদেশ ও নিষেধসমূহের বেলায়, কথা ও কাজের মধ্য দিয়ে তুমি শরীয়তের অনুসরণ করবে। অর্থাৎ তুমি যে কাজ সম্পাদন করবে বা করবে না, মুখে বলবে অথবা বলবে না, তা যেন পবিত্র শরীয়ত অনুযায়ী হয়। (যদি শরীয়তের আদেশ অনুযায়ী আমল করো তাহলেই ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে, অন্যথায় নয়।) তুমি তো দেখতেই পাচ্ছ যে, ঈদুল ফিত্র বা আইয়ামে তাশরীক (কোরবানীর ঈদের তিনদিন) রোযা রাখা গোনাহ। অনুরূপভাবে কেউ যদি চুরি-ডাকাতি করা কাপড় পরে নামায পড়ে (সওয়াব তো হবে না; বরং) গোনাহগার হবে। যদিও তা দেখতে ইবাদতের মতো দেখায়। (কাজেই শরীয়তের ওপর আমল করাই হচ্ছে মূল কথা; আসল ইবাদত।)
হে বৎস!
তোমার কথা ও কাজ পবিত্র শরীয়ত মোতাবেক হওয়া চাই। কারণ, ইল্ম ও আমল যদি শরীয়তের অনুগামী না হয়, তাহলে গোমরাহী ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনে না।
অনুরূপভাবে সূফীগণ মাঝে মধ্যে বাহ্যত শরীয়ত পরিপন্থ যেসব উক্তি করেন বা অগোছালো হাকডাক করেন, তাতে প্রতারিত হওয়া তোমার উচিৎ নয়। কারণ, সূফী সাধনার কঠিন পথ অতিক্রম করাটা, কঠোর সাধনা, নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা, নফসের কামনা বাসনা দমন এবং কৃচ্ছতার তরবারী দিয়ে কুপ্রবৃত্তিকে হত্যা করা ছাড়া অন্য কোনো পথে সম্ভব নয়, আবোল তাবোল কথাবার্তা দিয়ে তো নয়ই। তুমি মনে রাখবে যে, লাগামহীন মুখ, অলসতা ও নফসের খায়েসে পরিপূর্ণ মন, দুর্ভাগ্য ও নাফরমানীরই লক্ষণ। কৃচ্ছ সাধনার সততা দিয়ে যদি নফসের কামনা বাসনাকে হত্যা করা না হয়, তাহলে অন্তর মারেফাতের আলোতে জীবন্ত হবে না।

📘 আইয়ুহাল ওয়ালাদ ! হে বৎস > 📄 আধ্যাত্মিকতার জ্ঞান শেখার বিষয় নয়, উপলব্ধির বিষয়

📄 আধ্যাত্মিকতার জ্ঞান শেখার বিষয় নয়, উপলব্ধির বিষয়


হে বৎস!
যেসব বিষয় তুমি আমার কাছে জানতে চেয়েছ, তন্মধ্যে কতিপয় বিষয় কথা ও লেখার আকারে আসে না। তুমি যদি ঐ অবস্থায় উপনীত হও, পৌছে যাও, তাহলে তুমি নিজেই জানতে পারবে। নচেৎ ঐগুলো জানার চেষ্টা করা অনর্থক ও বাতুলতা। কারণ, ওগুলো সম্পূর্ণ আবেগ অনুভূতি ও প্রেরণা সম্পর্কিত বিষয়। আবেগ ও প্রেরণা সঞ্জাত বিষয়, কথা ও লেখায় আনা যায়না। যেমন মিষ্টি বা তিতা যতক্ষণ স্বয়ং নিজে তার স্বাদ অনুভব করতে না পারে, ততক্ষণ তিতা বা মিষ্টি কি জিনিষ জানা সম্ভব নয়। একটি গল্প আছে যে, জনৈক নপুংসক তার বন্ধুর কাছে পত্র লিখে সহবাসের স্বাদ কি রকম জানতে চাইল। বন্ধু জবাবে লিখল, আমি এতকাল মনে করেছিলাম যে, তুমি কেবলই নপুংসক। এখন বুঝতে পেরেছি যে, তার সাথে তুমি আস্ত আহাম্মকও। সত্যিই এই স্বাদ অনুভবের জিনিষ। এই স্বাদ তখনই বুঝতে পারবে, যখন তুমি তাতে উপনীত হবে। অন্যথায় মুখের কথা বা কলমের লেখা দিয়ে ঐ স্বাদের স্বরূপ বর্ণনা সম্ভব নয়।
হে বৎস! তোমার কোনো কোনো প্রশ্ন ঐরকমই। তবে বাদবাকী প্রশ্নের উত্তর দেয়া যায়। আমি এহয়াউ উলূম ও অন্যান্য কিতাবে তার ব্যাখ্যা দিয়েছি। এখানেও কিছু ইঙ্গিত দিচ্ছি।

📘 আইয়ুহাল ওয়ালাদ ! হে বৎস > 📄 নির্ভেজাল তরিকতপন্থী সাধকের তিনটি কর্তব্য

📄 নির্ভেজাল তরিকতপন্থী সাধকের তিনটি কর্তব্য


১. সহীহ্ শুদ্ধ বিশ্বাস, যাতে কোনো বেদাত থাকবে না।
২. তওবায়ে নাসূহ (নিখুঁত নিখাদ তওবা); এরপরে যেন পদস্খলন না হয়।
৩. দুশমনকেও সন্তুষ্ট করা, যাতে সৃষ্টিজগতে কারো হক তার ওপর না থাকে।
৪. শরীয়তের ইল্ম এতখানি অর্জন করা, যদ্ধারা আল্লাহর হুকুম-আহকাম পালন করা হয়। অন্যান্য জ্ঞান এতখানি অর্জন করা, যার মধ্যে ব্যক্তির নিজের মুক্তি ও নাজাত নিহিত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00