📘 আইয়ুহাল ওয়ালাদ ! হে বৎস > 📄 পিতাকে তার সন্তানদের কাছে নিজের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হবে

📄 পিতাকে তার সন্তানদের কাছে নিজের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হবে


ইমাম গায্যালী কিমিয়ায়ে সাআদাতের দ্বিতীয় রোকনের নবম ধারায় 'সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ' সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। শরীয়তের দৃষ্টিতে এ কাজকে তিনি ফরয বলে মনে করেন। মানুষকে ভালো কাজের প্রতি আহবান জানানো এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখার কাজও বয়স্কদের শিক্ষাদানের মধ্যে শামিল। কোনো একদল যদি এই ধর্মীয় দায়িত্বটি পালন করেন, তাহলে রক্ষা পাওয়া যাবে। কেননা, আল্লাহ্ তা'আলা নিরপরাধ লোকদেরকে সাধারণ লোকদের অন্যায়ের কারণে আযাব দেন না, তবে যখন তারা অন্যায় দেখবে আর নিষেধ করার ক্ষমতা রাখা সত্ত্বেও নীরবতা পালন করবে (তখন সাধারণের পাপের কারণে তাদেরকেও আযাব দেবেন)।
নাসীহাতুল মুলুকের তৃতীয় অধ্যায়ে তিনি দবীরদের শিক্ষা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। দবীর বা সচিবগণ সে যুগে রাজদরবারের যাবতীয় যোগাযোগ, চুক্তিপত্র ও পত্রাদি লেখার দায়িত্ব পালন করতেন। বর্তমানে উচ্চ পর্যায়ের সরকারী কর্মচারী বা সচিবদের দবির হিসেবে গণ্য করা যায়।
ইমাম গাযযালীর মতে সচিবদের যে সব কাজে পারদর্শীতা অর্জন করতে হবে। তাতে রয়েছে- লেখা ও রচনার পদ্ধতি, ভূগোল, অংক, জ্যামিতি, জোতির্বিদ্যা, চিকিৎসা বিজ্ঞান, অলংকার শাস্ত্র এবং ঔষধ সম্পর্কে জ্ঞান, ভূগর্ভস্থ পানি সম্পর্কে তথ্য, কলম তৈরি, কলম চাঁছার নিয়ম (আগেকার দিনে কলম চেঁছে তৈরি করা হতো এবং দো'আতের কালিতে চুবিয়ে লেখা হতো)। তিনি আরো তাগাদা দিয়েছেন যে, বক্তব্য সংক্ষেপে অথচ অর্থপূর্ণ লিখতে হবে। ভারি ভারি শব্দ ব্যবহার পরিহার করতে হবে। বেশি বেশি পড়াশুনা করতে হবে, যাতে অন্যদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যায়। কেননা, মানুষের বয়সসীমা সংকীর্ণ। সবকিছু নিজের অভিজ্ঞতায় শিক্ষা করা সম্ভব নয়।
মুসলিম জাহানের কালজয়ী মহামনীষী ইমাম গায্যালীর অমূল্য উপদেশসমূহ আজকের আধুনিক যুগেও মানব সমাজ ও সভ্যতাকে মুক্তি ও সৌভাগ্যের পথ দেখাতে পারে। বিশেষতঃ বস্তুবাদ ও ভোগবাদী দর্শনে, স্বার্থ ও অশ্লীলতার সয়লাবে দিশেহারা বিপন্ন মানুষের মাঝে হৃদয়ের আলো জ্বালাতে সক্ষম।

📘 আইয়ুহাল ওয়ালাদ ! হে বৎস > 📄 গ্রন্থসূত্র

📄 গ্রন্থসূত্র


ইমাম গায্যালী (রহ)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী রচনায় যেসব সূত্রের সাহায্য নেয়া হয়েছে:
১. তারিখুল ফালসাফাতিল আরাবিয়া, হানা আল ফাখুরী; খলীল আল জর, অনুবাদ: আবুল মুহাম্মদ আয়াতী, তেহরান ১৯৮৮।
২. আইয়ুহাল ওয়ালাদ, ইমাম মুহাম্মদ গায্যালী, অনুবাদ: বাকের গোবারী, তেহরান ১৯৮৫।
৩. বিজ্ঞান পত্রিকা দানেশমান্দ, ২৫তম বর্ষ, ২৮৯সংখ্যা; অক্টোবর-নভেম্বর ১৯৮৭ সংখ্যা, তেহরান, ইরান।
৪. মাদ্রাসা থেকে পলায়ন (ফেরার আয মাদরেসে) ডক্টর যাররীন কূব, তেহরান: আমীর কবির প্রকাশনী, ১৩৫৩ ফার্সী, ১৯৭৪ ইংরেজী।
৫. মুসলিম মনীষা, আব্দুল মওদুদ, ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, তৃতীয় মুদ্রণ ১৯৮০।
৬. তারীখে ফালসাফা দার ইসলাম, (ইসলামী দর্শনের ইতিহাস) এম.এম, শরীফ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা কেন্দ্র, ১৯৮৬, তেহরান, ইরান।
৭. গায্যালী বিশেষ সংখ্যা, মাআরেফ ম্যাগাজিন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা কেন্দ্রের পত্রিকা, তৃতীয় সংখ্যা, ইসফান্দ মাস ১৩৬৩ ফার্সী, ১৯৮৪ ইংরেজী, তেহরান, ইরান।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00