📄 নবজাতক শিশুর কানে আজান দেওয়া
আবু রাফি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, 'ফাতিমা রা. যখন হাসান বিন আলি রা.-কে প্রসব করলেন, তখন আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে তার কানে সালাতের আজানের ন্যায় আজান দিতে দেখেছি।'¹⁶⁹
বি. দ্র. শিশুর কানে ইকামাত দেওয়ার কথা বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত নেই।
টিকাঃ
১৬৯. সুনানুত তিরমিজি: ১৫১৪, সুনানু আবি দাউদ : ১৫০৫
📄 শিশু জন্মের সপ্তম দিনে তার মাথার চুল কেটে চুলের ওজন পরিমাণ সোনা-রুপা দান করা
সামুরা বিন জুনদুব রা. থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : كُلُّ غُلَامٍ رَهِينُ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ سَابِعِهِ وَيُحْلَقُ رَأْسُهُ وَيُسَمَّى
'প্রত্যেক সন্তান নিজ আকিকার সাথে আবদ্ধ, যা তার পক্ষ থেকে জন্মের সপ্তম দিনে জবাই করা হবে এবং সেদিন তার মাথা মুণ্ডন করা হবে এবং নাম রাখা হবে। '¹⁷⁰
আবু রাফি রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘যখন ফাতিমা রা. হাসান রা.-কে প্রসব করলেন, তখন তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বললেন, “আমি কি আমার ছেলের পক্ষ থেকে কোনো প্রাণী আকিকা দেবো না?” তিনি বললেন, “না। তবে তার মাথা মুণ্ডিয়ে চুলের ওজন পরিমাণ রুপা মিসকিন ও আওফাজদের দান করে দাও।” “আওফাজ” ছিল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কিছু গরিব সাহাবি—যারা মসজিদে অথবা সুফফায় বসবাস করতেন।'
আবু নজর রহ.-এর বর্ণনায় এসেছে, 'আওফাজ তথা আহলে সুফফাহ অথবা মিসকিনদের মাঝে রুপা সদাকা করো। (ফাতিমা রা. বলেন, তখন আমি তা দান করলাম। অনুরূপভাবে যখন আমি হুসাইনের জন্ম দিই, তখনও অনুরূপ দান করলাম।'¹⁷¹
টিকাঃ
১৭০. সুনানুন নাসায়ি: ৪২২০
১৭১. মুসনাদু আহমদ : ২৭১৮৩, এই হাদিসে আকিকা করতে কেন নিষেধ করা হলো তা বোধগম্য নয়। তাই ফাতিমা রা.-কে নিষেধ করার কিছু কারণ আলিমগণ উল্লেখ করেছেন। ইমাম বাইহাকি রহ. সেখান থেকে একটি কারণ উল্লেখ করেছেন: তা হচ্ছে, তাদের দুজনের আকিকা করার দায়িত্ব রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের ওপর নিয়েছিলেন। তাই অন্যদের আকিকা না করে চুলের ওজন পরিমাণ রুপা সদাকা করতে আদেশ করেছেন।
📄 প্রথম দিন নাম না রাখলে সপ্তম দিনে নাম রাখা
আবু মুসা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আমার একটি ছেলে জন্মগ্রহণ করলে আমি তাকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট নিয়ে এলাম। তিনি ছেলেটির নাম রাখলেন ইবরাহিম। তারপর খেজুর দিয়ে তাহনিক করলেন এবং তার জন্য বরকতের দুআ করে আমার কাছে ফিরিয়ে দিলেন।' সে ছিল আবু মুসা রা.-এর সবচেয়ে বড় ছেলে। ¹⁷²
সামুরা বিন জুনদুব রা. থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
كُلُّ غُلَامٍ رَهِينُ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ سَابِعِهِ وَيُحْلَقُ رَأْسُهُ وَيُسَمَّى
'প্রত্যেক সন্তান নিজ আকিকার সাথে আবদ্ধ, যা তার পক্ষ থেকে জন্মের সপ্তম দিনে জবাই করা হবে এবং সেদিন তার মাথা মুণ্ডন করা হবে এবং নাম রাখা হবে।' ¹⁷³
টিকাঃ
১৭২. সহিহুল বুখারি : ৫৪৬৭
১৭৩. সুনানুন নাসায়ি : ৪২২০
📄 খতনা করা
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
الفِطْرَةُ خَمْسُ ، أَوْ خَمْسُ مِنَ الفِطْرَةِ الخِتَانُ، وَالاسْتِحْدَادُ، وَنَتْفُ الإِبْطِ، وَتَقْلِيمُ الأَظْفَارِ، وَقَصُّ الشَّارِبِ
‘ফিতরাত (মানুষের প্রকৃতিগত স্বভাব) পাঁচটি অথবা পাঁচটি বিষয় ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত : খতনা করা, (নাভির নিচে) ক্ষুর ব্যবহার করা, বগলের পশম উপড়ে ফেলা, নখ কাটা ও গোঁফ ছোট করা।¹⁷⁴
টিকাঃ
১৭৪. সহিহুল বুখারি: ৫৮৮৯, সহিহু মুসলিম: ২৫৭