📄 সালাতে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচতে বাম দিকে থুথু ফেলা
উসমান বিন আবুল আস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, শয়তান আমার এবং আমার সালাত ও কিরাতের মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে আমার জন্য তা এলোমেলো করে দেয়।' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'এটা “খানজাব” নামক শয়তানের কাণ্ড। তুমি যখন তার উপস্থিতি অনুভব করবে, তখন (আউজুবিল্লাহ পড়ে) তার কবল থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবে এবং তিনবার তোমার বাম দিকে থুথু নিক্ষেপ করবে।'
তিনি বলেন, 'পরে আমি তা করলে আল্লাহ তাআলা আমার থেকে শয়তানকে দূর করে দেন।'¹⁶⁰
টিকাঃ
১৬০. সহিহু মুসলিম : ১৫৭৩
📄 পায়ে হেঁটে ইদগাহে যাওয়া এবং ভিন্ন পথে ইদগাহ থেকে ফিরে আসা
জাবির বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদের দিন পথ পরিবর্তন করতেন (অর্থাৎ এক রাস্তা দিয়ে ঈদগাহে গিয়ে অপর রাস্তা দিয়ে ফিরে আসতেন)।’¹⁶¹
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদের দিন এক রাস্তা দিয়ে বের হতেন এবং অপর রাস্তা দিয়ে প্রত্যাবর্তন করতেন।'
ইমাম তিরমিজি রহ. বলেন, 'কোনো কোনো আলিম এ হাদিসের ওপর আমল করত ইমামের জন্য এক রাস্তা দিয়ে বের হয়ে অপর রাস্তা দিয়ে প্রত্যাবর্তন করা মুসতাহাব বলেছেন।' এটি ইমাম শাফিয়ি রহ.-এরও অভিমত। ¹⁶²
টিকাঃ
১৬১. সহিহুল বুখারি: ৯৮৬
১৬২. সুনানুত তিরমিজি: ৫৪১
📄 ঈদের সালাতের আগেই সদকাতুল ফিতর উপযুক্ত ব্যক্তিকে দিয়ে দেওয়া
ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'মুসলিমদের প্রত্যেক আজাদ ও গোলাম, পুরুষ ও নারী এবং ছোট-বড় সকলের পক্ষ হতে সদাকাতুল ফিতর হিসেবে খেজুর অথবা যবের এক সা' পরিমাণ আদায় করা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফরজ করেছেন এবং মানুষ নামাজে বের হওয়ার আগেই তা আদায় করে দেওয়ার আদেশ করেছেন। ¹⁶³
টিকাঃ
১৬৩. সহিহুল বুখারি : ১৫০৩
📄 নবজাতক শিশুর তাহনিক করা (কিছু চিবিয়ে তার মুখে দেওয়া)
আবু মুসা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আমার একটি ছেলে জন্মগ্রহণ করলে আমি তাকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট নিয়ে এলাম। তিনি ছেলেটির নাম রাখলেন ইবরাহিম। তারপর খেজুর দিয়ে তাহনিক করলেন এবং তার জন্য বরকতের দুআ করে আমার কাছে ফিরিয়ে দিলেন।' সে ছিল আবু মুসা রা.-এর সবচেয়ে বড় ছেলে। ¹⁶⁴
আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আবু তালহার এক ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ল। আবু তালহা রা. বাইরে বের হলে ছেলেটি মারা গেল। আবু তালহা রা. ফিরে এসে জিজ্ঞেস করলেন, “ছেলেটির কী হয়েছে?” উম্মে সুলাইম বললেন, “সে আগের তুলনায় অনেক শান্ত।” তারপর তাঁকে রাতের খাবার দিলেন। তিনি আহার করলেন। তারপর উম্মে সুলাইমের সাথে সহবাস করলেন। সহবাস শেষে উম্মে সুলাইম বললেন, “ছেলেটিকে দাফন করে এসো।” সকাল হলে আবু তালহা রা. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর কাছে এসে ঘটনার বিবরণ দিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “গত রাতে কি তুমি স্ত্রীর সঙ্গে ছিলে (তার সাথে সহবাস করেছ)?” তিনি বললেন, “জি।” তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হে আল্লাহ, এদের দুজনকে বরকত দান করুন।”
কিছু দিন পর উম্মে সুলাইম রা. একটি সন্তান প্রসব করলেন। আবু তালহা রা. আমাকে বললেন, “তুমি তাকে উঠিয়ে নিয়ে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর নিকট নিয়ে যাও।” তিনি তাকে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট নিয়ে গেলেন এবং সাথে কিছু খেজুরও পাঠালেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে কোলে তুলে নিয়ে বললেন, “তার সাথে কিছু আছে কি?” উপস্থিত সাহাবিগণ বললেন, “জি, কিছু খেজুর আছে।” রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেগুলো নিয়ে ভালোভাবে চিবিয়ে নিলেন এবং মুখ থেকে বের করে শিশুটির মুখে পুরে দিলেন। এভাবে তিনি বাচ্চাটির তাহনিক করালেন এবং তার নাম রাখলেন আব্দুল্লাহ।'¹⁶⁵
টিকাঃ
১৬৪. সহিহুল বুখারি : ৫৪৬৭
১৬৫. সহিহুল বুখারি: ৫৭৭০