📄 সফরকালীন উঁচু ভূমিতে উঠতে ‘আল্লাহু আকবার’ বলা এবং নিম্নভূমিতে অবতরণের সময় ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা
জাবির বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন ওপরে উঠতাম, তখন বলতাম, “আল্লাহু আকবার” এবং যখন নিচে নামতাম, তখন বলতাম, “সুবহানাল্লাহ”’। ১৫২
ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোনো সফরের উদ্দেশ্যে তাঁর উটের ওপর আরোহণ করতেন, তিনবার “আল্লাহু আকবার” বলতেন। অতঃপর বলতেন :
سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا، وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ، وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ، اللهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ فِي سَفَرِنَا هَذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى، وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى، اللهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هَذَا، وَاطْوِ عَنَّا بُعْدَهُ، اللهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ، وَالْخَلِيفَةُ فِي الْأَهْلِ، اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ، وَكَابَةِ الْمَنْظَرِ، وَسُوءِ الْمُنْقَلَبِ فِي الْمَالِ وَالْأَهْلِ
“সেই মহান সত্তার পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি, যিনি এটাকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন; অথচ আমরা সমর্থ ছিলাম না এটাকে বশীভূত করতে। আর আমরা অবশ্যই আমাদের রবের নিকট প্রত্যাবর্তন করব। হে আল্লাহ, আমাদের এ সফরে আমরা আপনার নিকট কল্যাণ, তাকওয়া এবং আপনাকে সন্তুষ্টকারী কর্ম প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ, আমাদের এ সফরকে আমাদের জন্য সহজ করুন এবং এর দূরত্ব কমিয়ে দিন। হে আল্লাহ, আপনিই আমাদের সফরসঙ্গী এবং আমাদের পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক। হে আল্লাহ, আপনার কাছে সফরের কষ্ট, দুঃখজনক দৃশ্য এবং ফিরে এসে সম্পদ ও পরিবারের ক্ষতিকর পরিবর্তন থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”¹⁵³
এরপর সফর থেকে ফিরে এসেও এ দুআ পাঠ করতেন, তবে তার সাথে এতটুকু বাড়িয়ে বলতেন :
آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ
“আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তাওবাকারী এবং আমাদের প্রতিপালকের সপ্রশংস ইবাদতকারী।”
আর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সেনাবাহিনী যখন ওপরে উঠতেন, তখন “আল্লাহু আকবার” বলতেন এবং যখন নিচে নামতেন, তখন “সুবহানাল্লাহ” বলতেন। অতঃপর নামাজে এভাবেই নির্ধারণ করা হয়। '¹⁵⁴
টিকাঃ
১৫২. সহিহুল বুখারি: ২৯৯৩
১৫৩. সহিহ মুসলিম : ১৩৪২
১৫৪. সুনানু আবি দাউদ: ২৫৯৯
📄 ঈদুল ফিতরের রাত থেকে ইমাম আসার আগ পর্যন্ত তাকবির বলতে থাকা
আল্লাহ তাআলা বলেন: وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
'আর তোমরা যেন এই সংখ্যা সম্পূর্ণ করো এবং যাতে আল্লাহর মহিমা-কীর্তন করো, তোমাদের যে পথনির্দেশ দিয়েছেন সে মতে। এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো।'¹⁵⁵
এ ব্যাপারে সাহাবা, তাবিয়িন ও অন্যদের থেকে অনেক বর্ণনা রয়েছে, তাঁরা ইদের দিন ইদগাহে যাওয়ার সময় তাকবির বলতে থাকতেন, যতক্ষণ না ইমাম বের হয়ে আসতেন। ¹⁵⁶
টিকাঃ
১৫৫. সুরা আল-বাকারা : ১৮৫
১৫৬. দেখুন, ফারইয়াৰি রহ. রচিত আহকামুল ইদাইন
📄 ঈদুল আজহার রাত ও দিনে এবং আইয়ামে তাশরিকে তাকবির বলা
পূর্বসূত্র তথা ইমাম ফারইয়াৰি রহ. রচিত 'আহকামুল ইদাইনে' এ সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ এসেছে।
📄 উমরার ইহরামের নিয়ত করা থেকে হারামে প্রবেশের আগ পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করা
• ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আমি দেখেছি, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুলহুলাইফাতে তাঁর বাহনে আরোহণ করলেন, অতঃপর তালবিয়া পাঠ করতে শুরু করলেন, যতক্ষণ না তাঁর বাহন (হারামে প্রবেশ করে) সোজা হয়ে দাঁড়াল।' ¹⁵⁷
• নাফি রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'ইবনে উমর রা. যখন হারামের নিকটবর্তী হতেন, তখন তালবিয়া পাঠ বন্ধ করে দিতেন। এরপর জি-তুয়া নামক স্থানে রাত যাপন করতেন। তিনি সেখানে ফজরের সালাত আদায় করতেন এবং গোসল করতেন। এ ব্যাপারে তিনি বর্ণনা করেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরূপ করতেন।' ¹⁵⁸
টিকাঃ
১৫৭. সহিহুল বুখারি : ১৫১৪
১৫৮. সহিহুল বুখারি : ১৫৭৩