📄 জিলহজের প্রথম দশ দিন বেশি বেশি নেক আমল করা
ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'এই দিনগুলোর (জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের) আমলের চেয়ে অন্য কোনো দিনের আমল উত্তম নয়।' তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘জিহাদও কি নয়?’ তিনি বললেন, ‘জিহাদও নয়। তবে সে ভিন্ন যে নিজের জানমালের ঝুঁকি নিয়ে বের হয়ে গেছে এবং কোনো কিছু না নিয়ে ফিরে এসেছে।’¹⁴⁶
টিকাঃ
১৪৬. সহিহুল বুখারি : ৯৬৯
📄 রমাজানে ইতিকাফে বসা, বিশেষ করে শেষ দশকে
আব্দুল্লাহ বিন উমর রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমাজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন।’¹⁴⁷
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রী আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত রমাজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পর তাঁর স্ত্রীগণও ইতিকাফ করতেন।’¹⁴⁸
টিকাঃ
১৪৭. সহিহুল বুখারি : ২০২৫
১৪৮. সহিহুল বুখারি : ২০২৬
📄 যেকোনো পবিত্র স্থান বা ভূখণ্ডে সালাত আদায় করা; জায়নামাজ বিছিয়ে পড়া শর্ত নয়
জাবির বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : أُعْطِيتُ خَمْسًا لَمْ يُعْطَهُنَّ أَحَدٌ قَبْلِي: نُصِرْتُ بِالرُّعْبِ مَسِيرَةَ شَهْرٍ، وَجُعِلَتْ لِي الْأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا، فَأَيُّمَا رَجُلٍ مِنْ أُمَّتِي أَدْرَكَتْهُ الصَّلَاةُ فَلْيُصَلِّ، وَأُحِلَّتْ لِي المَغَانِمُ وَلَمْ تَحِلَّ لِأَحَدٍ قَبْلِي، وَأُعْطِيتُ الشَّفَاعَةَ، وَكَانَ النَّبِيُّ يُبْعَثُ إِلَى قَوْمِهِ خَاصَّةً وَبُعِثْتُ إِلَى النَّاسِ عَامَّةً
'আমাকে এমন পাঁচটি জিনিস দান করা হয়েছে, যা আমার আগের কাউকে দান করা হয়নি। (১) আমাকে এমন প্রভাব দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে, যা একমাস দূরত্বে প্রতিফলিত হয়। (২) জমিনকে আমার জন্য মসজিদ এবং পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং আমার উম্মতের যে কারও সালাতের সময় হয়, সে যেন সালাত আদায় করে নেয়। (৩) আমার জন্য গনিমত হালাল করা হয়েছে; যা আমার আগের কারও জন্য হালাল ছিল না। (৪) আমাকে সুপারিশের অধিকার দান করা হয়েছে। (৫) নবিগণ প্রেরিত হতেন বিশেষ বিশেষ সম্প্রদায়ের কাছে, আর আমাকে ব্যাপকভাবে সকল মানুষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।'¹⁴⁹
টিকাঃ
১৪৯. সহিহুল বুখারি: ৩৩৫, সহিহু মুসলিম : ৫২১
📄 দুধ পান করার পর দুআ করা এবং কুলি করা
ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুধ পান করার পর কুলি করলেন এবং বললেন, 'নিশ্চয় দুধে রয়েছে তৈলাক্ত পদার্থ।'¹⁵⁰
ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'আল্লাহ তাআলা যাকে কোনো খাবার আহার করান, সে বলবে :
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهِ، وَارْزُقْنَا خَيْرًا مِنْهُ
“হে আল্লাহ, আমাদের জন্য এতে বরকত দিন এবং এর চেয়ে উত্তম রিজিক দান করুন।”
আর আল্লাহ তাআলা যাকে দুধ পান করার তাওফিক দেন, সে বলবে:
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهِ، وَزِدْنَا مِنْهُ
“হে আল্লাহ, এতে বরকত দিন এবং তা বাড়িয়ে দিন।” কারণ, দুধ ব্যতীত অন্য কোনো খাবার খাদ্য ও পানীয় উভয়ের জন্য যথেষ্ট হয় কি না আমার জানা নেই।'¹⁵¹
টিকাঃ
১৫০. সহিহুল বুখারি: ২৯৯৩, সহিহু মুসলিম: ৩৫৮
১৫১. সুনানু ইবনি মাজাহ : ৩৩২২, সুনানুত তিরমিজি: ৩৪৫৫