📄 আশুরার দিন এবং তার আগের বা পরের দিন রোজা রাখা
ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদিনায় আগমন করলেন, তখন সেখানকার লোকদের (আশুরার দিন) রোজা রাখতে দেখলেন। এ ব্যাপারে তারা জানাল, “এটি একটি মহান দিন, যেদিন মুসা আ.-কে আল্লাহ তাআলা মুক্তি দিয়েছেন এবং ফিরআউনের সম্প্রদায়কে ডুবিয়ে মেরেছেন। তখন মুসা আ. আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায়ার্থে রোজা রেখেছিলেন।” তা শুনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমি তাদের তুলনায় মুসার বেশি আপন।” ফলে তিনি (আশুরার দিন) রোজা রাখলেন এবং অন্যদেরকেও সেদিন রোজা রাখতে আদেশ করলেন।' ¹⁴³
• আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
صِيَامُ يَوْمٍ عَاشُورَاءَ إِنِّي أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ
'আশুরার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি, এর বিনিময়ে তিনি আগের এক বছরের গুনাহ মিটিয়ে দেবেন।' ¹⁴⁴
• আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
لَئِنْ بَقِيتُ إِلَى قَابِلٍ لَأَصُومَنَّ التَّاسِعَ
'যদি আমি আগামী বছর জীবিত থাকি, তবে (আশুরার রোজার সাথে) নয় তারিখেও রোজা রাখব।' ¹⁴⁵
টিকাঃ
১৪৩. সহিহুল বুখারি: ৩৩৯৭
১৪৪. সুনানু ইবনি মাজাহ: ১৭৩৮, সুনানু আবি দাউদ: ২৪২৫, সুনানুত তিরমিজি: ৭৫২
১৪৫. সহিহু মুসলিম : ১১৩৪
📄 জিলহজের প্রথম দশ দিন বেশি বেশি নেক আমল করা
ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'এই দিনগুলোর (জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের) আমলের চেয়ে অন্য কোনো দিনের আমল উত্তম নয়।' তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘জিহাদও কি নয়?’ তিনি বললেন, ‘জিহাদও নয়। তবে সে ভিন্ন যে নিজের জানমালের ঝুঁকি নিয়ে বের হয়ে গেছে এবং কোনো কিছু না নিয়ে ফিরে এসেছে।’¹⁴⁶
টিকাঃ
১৪৬. সহিহুল বুখারি : ৯৬৯
📄 রমাজানে ইতিকাফে বসা, বিশেষ করে শেষ দশকে
আব্দুল্লাহ বিন উমর রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমাজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন।’¹⁴⁷
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রী আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত রমাজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পর তাঁর স্ত্রীগণও ইতিকাফ করতেন।’¹⁴⁸
টিকাঃ
১৪৭. সহিহুল বুখারি : ২০২৫
১৪৮. সহিহুল বুখারি : ২০২৬
📄 যেকোনো পবিত্র স্থান বা ভূখণ্ডে সালাত আদায় করা; জায়নামাজ বিছিয়ে পড়া শর্ত নয়
জাবির বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : أُعْطِيتُ خَمْسًا لَمْ يُعْطَهُنَّ أَحَدٌ قَبْلِي: نُصِرْتُ بِالرُّعْبِ مَسِيرَةَ شَهْرٍ، وَجُعِلَتْ لِي الْأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا، فَأَيُّمَا رَجُلٍ مِنْ أُمَّتِي أَدْرَكَتْهُ الصَّلَاةُ فَلْيُصَلِّ، وَأُحِلَّتْ لِي المَغَانِمُ وَلَمْ تَحِلَّ لِأَحَدٍ قَبْلِي، وَأُعْطِيتُ الشَّفَاعَةَ، وَكَانَ النَّبِيُّ يُبْعَثُ إِلَى قَوْمِهِ خَاصَّةً وَبُعِثْتُ إِلَى النَّاسِ عَامَّةً
'আমাকে এমন পাঁচটি জিনিস দান করা হয়েছে, যা আমার আগের কাউকে দান করা হয়নি। (১) আমাকে এমন প্রভাব দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে, যা একমাস দূরত্বে প্রতিফলিত হয়। (২) জমিনকে আমার জন্য মসজিদ এবং পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং আমার উম্মতের যে কারও সালাতের সময় হয়, সে যেন সালাত আদায় করে নেয়। (৩) আমার জন্য গনিমত হালাল করা হয়েছে; যা আমার আগের কারও জন্য হালাল ছিল না। (৪) আমাকে সুপারিশের অধিকার দান করা হয়েছে। (৫) নবিগণ প্রেরিত হতেন বিশেষ বিশেষ সম্প্রদায়ের কাছে, আর আমাকে ব্যাপকভাবে সকল মানুষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।'¹⁴⁹
টিকাঃ
১৪৯. সহিহুল বুখারি: ৩৩৫, সহিহু মুসলিম : ৫২১