📄 হাজিগণ ব্যতীত অন্যরা আরাফার দিনে রোজা রাখা
আবু কাতাদা আল-আনসারি রা. থেকে বর্ণিত, একদা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে তাঁর (বিশেষ) সাওমের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি রেগে গেলেন।
তখন উমর রা. বললেন, 'আমরা আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে নবি হিসেবে পেয়ে এবং তাঁর হাতে বাইআত হতে পেরে সন্তুষ্ট।' অতঃপর তাঁকে আজীবন সাওম পালন করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেন, 'সে রোজাও রাখেনি এবং রোজা ছাড়াও থাকেনি।' এরপর দুদিন সাওম পালন করা এবং একদিন ভঙ্গ করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, 'এভাবে সাওম পালনের সক্ষমতা কে রাখে?' তারপর একদিন রোজা রেখে দুদিন রোজা না রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, 'আল্লাহ যেন আমাদের এরূপ সাওম পালনের তাওফিক দান করেন।' অতঃপর একদিন সাওম পালন করে একদিন ভঙ্গ করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, 'এটি আমার ভাই দাউদ আ.-এর সাওম।'
তারপর সোমবারের সাওমের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, 'এদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এদিনই আমি নবুওয়াতপ্রাপ্ত হয়েছি বা (বললেন, এই দিনেই) আমার ওপর (কুরআন) নাজিল করা হয়েছে।' তিনি আরও বললেন, 'প্রতিমাসে তিন দিন সাওম পালন করা এবং রমাজান মাসের সাওম পালন করাই হলো, সারা বছর সাওম পালনের সমতুল্য।'
এরপর আরাফার দিনে সাওম পালন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, 'এর দ্বারা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যায়।' এরপর আশুরার সাওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, 'এর দ্বারা বিগত বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যায়।' ¹⁴²
টিকাঃ
১৪২. সহিহু মুসলিম: ১১৬২
📄 আশুরার দিন এবং তার আগের বা পরের দিন রোজা রাখা
ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদিনায় আগমন করলেন, তখন সেখানকার লোকদের (আশুরার দিন) রোজা রাখতে দেখলেন। এ ব্যাপারে তারা জানাল, “এটি একটি মহান দিন, যেদিন মুসা আ.-কে আল্লাহ তাআলা মুক্তি দিয়েছেন এবং ফিরআউনের সম্প্রদায়কে ডুবিয়ে মেরেছেন। তখন মুসা আ. আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায়ার্থে রোজা রেখেছিলেন।” তা শুনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমি তাদের তুলনায় মুসার বেশি আপন।” ফলে তিনি (আশুরার দিন) রোজা রাখলেন এবং অন্যদেরকেও সেদিন রোজা রাখতে আদেশ করলেন।' ¹⁴³
• আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
صِيَامُ يَوْمٍ عَاشُورَاءَ إِنِّي أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ
'আশুরার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি, এর বিনিময়ে তিনি আগের এক বছরের গুনাহ মিটিয়ে দেবেন।' ¹⁴⁴
• আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
لَئِنْ بَقِيتُ إِلَى قَابِلٍ لَأَصُومَنَّ التَّاسِعَ
'যদি আমি আগামী বছর জীবিত থাকি, তবে (আশুরার রোজার সাথে) নয় তারিখেও রোজা রাখব।' ¹⁴⁵
টিকাঃ
১৪৩. সহিহুল বুখারি: ৩৩৯৭
১৪৪. সুনানু ইবনি মাজাহ: ১৭৩৮, সুনানু আবি দাউদ: ২৪২৫, সুনানুত তিরমিজি: ৭৫২
১৪৫. সহিহু মুসলিম : ১১৩৪
📄 জিলহজের প্রথম দশ দিন বেশি বেশি নেক আমল করা
ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'এই দিনগুলোর (জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের) আমলের চেয়ে অন্য কোনো দিনের আমল উত্তম নয়।' তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘জিহাদও কি নয়?’ তিনি বললেন, ‘জিহাদও নয়। তবে সে ভিন্ন যে নিজের জানমালের ঝুঁকি নিয়ে বের হয়ে গেছে এবং কোনো কিছু না নিয়ে ফিরে এসেছে।’¹⁴⁶
টিকাঃ
১৪৬. সহিহুল বুখারি : ৯৬৯
📄 রমাজানে ইতিকাফে বসা, বিশেষ করে শেষ দশকে
আব্দুল্লাহ বিন উমর রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমাজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন।’¹⁴⁷
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রী আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত রমাজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পর তাঁর স্ত্রীগণও ইতিকাফ করতেন।’¹⁴⁸
টিকাঃ
১৪৭. সহিহুল বুখারি : ২০২৫
১৪৮. সহিহুল বুখারি : ২০২৬