📄 মেঘ-বৃষ্টি ও ঝড়-তুফানের সময় ভীত হওয়া এবং দুআ করা
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে এমনভাবে কখনো হাসতে দেখিনি, যাতে তাঁর কণ্ঠনালীর আলজিভ দেখা যায়। তিনি মুচকি হাসতেন। আর যখন তিনি মেঘ বা ঝঞ্ঝা বায়ু দেখতেন, তাঁর চেহারায় ভীতির ছাপ ফুটে উঠত।' আয়িশা রা. বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, মানুষ মেঘ দেখলে বৃষ্টির আশায় আনন্দিত হয়ে ওঠে, কিন্তু আপনি যখন মেঘ দেখেন, আপনার চেহারায় ভীতির ছাপ দেখা যায়।' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন :
يَا عَائِشَةُ مَا يُؤْمِنِّي أَنْ يَكُونَ فِيهِ عَذَابٌ؟ عُذِّبَ قَوْمٌ بِالرِّيحِ، وَقَدْ رَأَى قَوْمُ العَذَابَ، فَقَالُوا: هَذَا عَارِضُ مُمْطِرُنَا
'হে আয়িশা, এতে যে আজাব নেই, এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। বাতাসের দ্বারাই তো এক সম্প্রদায়কে আজাব দেওয়া হয়েছিল, যারা মেঘ দেখে বলেছিল, “এ এক ঘন কালো মেঘ, যা আমাদের জন্য বৃষ্টি বর্ষণ করবে।” (সুরা আল-আহকাফ : ২৪)’¹³⁷
সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে, আয়িশا রা. বলেন, 'যখন ঝঞ্ঝা বায়ু দেখা যেত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا، وَخَيْرَ مَا فِيهَا، وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا، وَشَرِّ مَا فِيهَا، وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ
“হে আল্লাহ, আমি এর কল্যাণ, এর মাঝে নিহিত কল্যাণ এবং যার সাথে এটিকে পাঠিয়েছেন, তার কল্যাণ কামনা করছি। আর এর অকল্যাণ, এর মাঝে নিহিত অকল্যাণ এবং যার সাথে এটিকে প্রেরণ করেছেন, তার অকল্যাণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”
আয়িশা রা. বলেন, 'যখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যেত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে যেত। তিনি একবার ঘরে ঢুকতেন, আবার বের হতেন এবং সামনে বাড়তেন, আবার পেছনে সরতেন। কিন্তু যখন বৃষ্টি হতো, তাঁর এ অবস্থা কেটে যেত। আমি তাঁর চেহারা দেখে তা বুঝতে পারতাম।
আমি এ ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, “হে আয়িশা, হতে পারে এটি সেই মেঘের মতো, যার ব্যাপারে আদ জাতি বলেছিল :
فَلَمَّا رَأَوْهُ عَارِضًا مُسْتَقْبِلَ أَوْدِيَتِهِمْ قَالُوا هَذَا عَارِضُ مُمْطِرُنَا
“তারপর যখন তারা তা দেখতে পেল যে, এক ঘন মেঘ তাদের উপত্যকাগুলোর নিকটবর্তী হচ্ছে, তারা বলল, এ এক ঘন কালো মেঘ, যা আমাদের জন্য বৃষ্টি বর্ষণ করবে।” (সুরা আল-আহকাফ : ২৪)’¹³⁸
আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আকাশের প্রান্তে মেঘ উঠতে দেখলে যাবতীয় (নফল) ইবাদত ছেড়ে দিতেন, এমনকি সালাতে থাকলেও। তারপর তিনি বলতেন :
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا
“হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এর অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”
আর বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলে বলতেন :
اللَّهُمَّ صَيِّبًا هَنِيئًا
“হে আল্লাহ, বরকতপূর্ণ ও সুমিষ্ট পানিদান করুন।”’¹³⁹
টিকাঃ
১৩৭. সহিহুল বুখারি: ৪৮২৯
১৩৮. সহিহু মুসলিম : ৮৯৯
১৩৯. সুনানু আবি দাউদ: ৫০৯৯, সুনানু ইবনি মাজাহ : ৩৮৮৯
📄 ফজরের সুন্নাত আদায়ের পর ডান কাত হয়ে শোয়া
আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'যখন মুয়াজ্জিন ফজরের সালাতের প্রথম আজান দিয়ে চুপ করত, তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজর উদ্ভাসিত হওয়ার পর ফরজ সালাতের পূর্বে দাঁড়িয়ে দুই রাকআত সালাত আদায় করতেন। তারপর মুয়াজ্জিন ইকামত দিতে আসার আগ পর্যন্ত ডান কাত হয়ে শুয়ে থাকতেন।'¹⁴⁰
টিকাঃ
১৪০. সহিহুল বুখারি : ৬২৬, সহিহু মুসলিম : ৭২৪
📄 একই দিনে সাওম পালন করা, জানাজার অনুসরণ করা, অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া এবং দান করা
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'একদিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আজ তোমাদের মাঝে কে রোজা রেখেছে?” আবু বকর রা. বললেন, “আমি।” তিনি বললেন, “আজ তোমাদের মাঝে কে জানাজার অনুসরণ করেছে?” আবু বকর রা. বললেন, “আমি।” তিনি বললেন, “আজ তোমাদের মাঝে কে কোনো মিসকিনকে আহার করিয়েছে?” আবু বকর রা. বললেন, “আমি।” তিনি বললেন, “আজ তোমাদের মাঝে কে কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গিয়েছে?” আবু বকর রা. বললেন, “আমি।” তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যে ব্যক্তির মাঝে এ বিষয়গুলো একত্রিত হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”'¹⁴¹
টিকাঃ
১৪১. সহিহু মুসলিম : ১০২৮
📄 হাজিগণ ব্যতীত অন্যরা আরাফার দিনে রোজা রাখা
আবু কাতাদা আল-আনসারি রা. থেকে বর্ণিত, একদা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে তাঁর (বিশেষ) সাওমের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি রেগে গেলেন।
তখন উমর রা. বললেন, 'আমরা আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে নবি হিসেবে পেয়ে এবং তাঁর হাতে বাইআত হতে পেরে সন্তুষ্ট।' অতঃপর তাঁকে আজীবন সাওম পালন করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেন, 'সে রোজাও রাখেনি এবং রোজা ছাড়াও থাকেনি।' এরপর দুদিন সাওম পালন করা এবং একদিন ভঙ্গ করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, 'এভাবে সাওম পালনের সক্ষমতা কে রাখে?' তারপর একদিন রোজা রেখে দুদিন রোজা না রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, 'আল্লাহ যেন আমাদের এরূপ সাওম পালনের তাওফিক দান করেন।' অতঃপর একদিন সাওম পালন করে একদিন ভঙ্গ করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, 'এটি আমার ভাই দাউদ আ.-এর সাওম।'
তারপর সোমবারের সাওমের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, 'এদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এদিনই আমি নবুওয়াতপ্রাপ্ত হয়েছি বা (বললেন, এই দিনেই) আমার ওপর (কুরআন) নাজিল করা হয়েছে।' তিনি আরও বললেন, 'প্রতিমাসে তিন দিন সাওম পালন করা এবং রমাজান মাসের সাওম পালন করাই হলো, সারা বছর সাওম পালনের সমতুল্য।'
এরপর আরাফার দিনে সাওম পালন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, 'এর দ্বারা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যায়।' এরপর আশুরার সাওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, 'এর দ্বারা বিগত বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যায়।' ¹⁴²
টিকাঃ
১৪২. সহিহু মুসলিম: ১১৬২