📄 রান্নাবান্নাসহ ঘরের অন্যান্য কাজে পরিবার ও স্ত্রীকে সহযোগিতা করা
আসওয়াদ রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আমি আয়িশা রা.-কে জিজ্ঞেস করলাম, “রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ঘরে কী কাজ করতেন?” তিনি বললেন, “রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরিবারের খিদমত করতেন। তারপর যখন সালাতের সময় হতো, তখন বের হয়ে যেতেন।””¹³⁴
টিকাঃ
১৩৪. সহিহুল বুখারি : ৬৭৬
📄 কখনো কখনো খালি পায়ে হাঁটা
আব্দুল্লাহ বিন বুরাইদা রা. থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর একজন সাহাবি মিসরে অবস্থানরত ফাদালাহ বিন উবাইদ রা.-এর নিকট গেলেন। অতঃপর বললেন, 'আমি কেবল আপনার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসিনি; বরং আমি ও আপনি যে হাদিসটি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট থেকে শুনেছিলাম, আমি মনে করি, সেটির ব্যাপারে আপনি আমার চেয়ে বেশি জানেন।' তিনি (ফাদালাহ রা.) বললেন, 'সেটি কোন হাদিস?' তিনি বললেন, 'এরূপ এরূপ হাদিসটি।' আগন্তুক সাহাবি ফাদালাহ বিন উবাইদ রা.-কে বললেন, 'আপনি একটি ভূখণ্ডের আমির, অথচ আপনার মাথার চুল উসকোখুসকো দেখছি কেন?' তিনি বললেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সীমাতিরিক্ত জাঁকজমক দেখাতে নিষেধ করেছেন।' তিনি (আগন্তুক সাহাবি) বললেন, 'আমার কী হলো যে, আমি আপনার পায়ে জুতা দেখছি না?' তিনি বললেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কখনো কখনো খালি পায়ে চলার আদেশ করতেন।'¹³⁵
টিকাঃ
১৩৫. সুনানু আবি দাউদ: ৪১৬০
📄 গোরস্থানে চলার সময় জুতা খুলে ফেলা
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আজাদকৃত গোলাম বাশির রা. থেকে বর্ণিত। জাহিলি যুগে তার নাম ছিল জাহম বিন মাবাদ। তিনি হিজরত করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট চলে আসলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমার নাম কী?' তিনি বললেন, 'জাহম।' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'না, বরং তোমার নাম বাশির।'
তিনি বলেন, 'একদা আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে হাঁটছিলাম। তিনি মুশরিকদের কতিপয় কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে তিনবার এ কথা বললেন, “এরা বিরাট কল্যাণ অর্জনের পূর্বেই অতিবাহিত হয়ে গেছে।” তারপর তিনি মুসলিমদের কতিপয় কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে বললেন, “এরা প্রচুর কল্যাণ লাভ করেছে।” এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে জুতা পরিহিত অবস্থায় কবরস্থানের ওপর দিয়ে চলতে দেখে বললেন, “আফসোস, হে জুতা পরিহিত ব্যক্তি, জুতা খুলে ফেলো।” লোকটি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দিকে তাকিয়ে তাঁকে চিনতে পারল। আর তৎক্ষণাৎ জুতা খুলে দূরে নিক্ষেপ করল।'¹³⁶
টিকাঃ
১৩৬. সুনানু আবি দাউদ : ৩২৩০, সুনানুন নাসায়ি: ২০৪৮, সুনানু ইবনি মাজাহ: ১৫৬৬
📄 মেঘ-বৃষ্টি ও ঝড়-তুফানের সময় ভীত হওয়া এবং দুআ করা
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে এমনভাবে কখনো হাসতে দেখিনি, যাতে তাঁর কণ্ঠনালীর আলজিভ দেখা যায়। তিনি মুচকি হাসতেন। আর যখন তিনি মেঘ বা ঝঞ্ঝা বায়ু দেখতেন, তাঁর চেহারায় ভীতির ছাপ ফুটে উঠত।' আয়িশা রা. বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, মানুষ মেঘ দেখলে বৃষ্টির আশায় আনন্দিত হয়ে ওঠে, কিন্তু আপনি যখন মেঘ দেখেন, আপনার চেহারায় ভীতির ছাপ দেখা যায়।' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন :
يَا عَائِشَةُ مَا يُؤْمِنِّي أَنْ يَكُونَ فِيهِ عَذَابٌ؟ عُذِّبَ قَوْمٌ بِالرِّيحِ، وَقَدْ رَأَى قَوْمُ العَذَابَ، فَقَالُوا: هَذَا عَارِضُ مُمْطِرُنَا
'হে আয়িশা, এতে যে আজাব নেই, এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। বাতাসের দ্বারাই তো এক সম্প্রদায়কে আজাব দেওয়া হয়েছিল, যারা মেঘ দেখে বলেছিল, “এ এক ঘন কালো মেঘ, যা আমাদের জন্য বৃষ্টি বর্ষণ করবে।” (সুরা আল-আহকাফ : ২৪)’¹³⁷
সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে, আয়িশا রা. বলেন, 'যখন ঝঞ্ঝা বায়ু দেখা যেত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا، وَخَيْرَ مَا فِيهَا، وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا، وَشَرِّ مَا فِيهَا، وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ
“হে আল্লাহ, আমি এর কল্যাণ, এর মাঝে নিহিত কল্যাণ এবং যার সাথে এটিকে পাঠিয়েছেন, তার কল্যাণ কামনা করছি। আর এর অকল্যাণ, এর মাঝে নিহিত অকল্যাণ এবং যার সাথে এটিকে প্রেরণ করেছেন, তার অকল্যাণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”
আয়িশা রা. বলেন, 'যখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যেত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে যেত। তিনি একবার ঘরে ঢুকতেন, আবার বের হতেন এবং সামনে বাড়তেন, আবার পেছনে সরতেন। কিন্তু যখন বৃষ্টি হতো, তাঁর এ অবস্থা কেটে যেত। আমি তাঁর চেহারা দেখে তা বুঝতে পারতাম।
আমি এ ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, “হে আয়িশা, হতে পারে এটি সেই মেঘের মতো, যার ব্যাপারে আদ জাতি বলেছিল :
فَلَمَّا رَأَوْهُ عَارِضًا مُسْتَقْبِلَ أَوْدِيَتِهِمْ قَالُوا هَذَا عَارِضُ مُمْطِرُنَا
“তারপর যখন তারা তা দেখতে পেল যে, এক ঘন মেঘ তাদের উপত্যকাগুলোর নিকটবর্তী হচ্ছে, তারা বলল, এ এক ঘন কালো মেঘ, যা আমাদের জন্য বৃষ্টি বর্ষণ করবে।” (সুরা আল-আহকাফ : ২৪)’¹³⁸
আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আকাশের প্রান্তে মেঘ উঠতে দেখলে যাবতীয় (নফল) ইবাদত ছেড়ে দিতেন, এমনকি সালাতে থাকলেও। তারপর তিনি বলতেন :
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا
“হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এর অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”
আর বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলে বলতেন :
اللَّهُمَّ صَيِّبًا هَنِيئًا
“হে আল্লাহ, বরকতপূর্ণ ও সুমিষ্ট পানিদান করুন।”’¹³⁹
টিকাঃ
১৩৭. সহিহুল বুখারি: ৪৮২৯
১৩৮. সহিহু মুসলিম : ৮৯৯
১৩৯. সুনানু আবি দাউদ: ৫০৯৯, সুনানু ইবনি মাজাহ : ৩৮৮৯