📘 হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহ > 📄 সূর্যোদয় পর্যন্ত সালাতের স্থানে বসে থাকা

📄 সূর্যোদয় পর্যন্ত সালাতের স্থানে বসে থাকা


জাবির বিন সামুরা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে স্থানে ফজরের সালাত আদায় করতেন, সূর্যোদয় পর্যন্ত সেখানেই বসে থাকতেন। সূর্য উদিত হলে তিনি উঠে দাঁড়াতেন। আর লোকেরা সেখানে কথাবার্তা বলতেন এবং জাহিলি যুগের ব্যাপারে আলোচনা করে হাসাহাসি করতেন। আর তা শুনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুচকি হাসতেন।'১০৮

টিকাঃ
১০৮. সহিহ মুসলিম: ৬৭০

📘 হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহ > 📄 সকাল-সন্ধ্যার আজকারের প্রতি যত্নশীল হওয়া

📄 সকাল-সন্ধ্যার আজকারের প্রতি যত্নশীল হওয়া


শাদ্দাদ বিন আওস রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'সাইয়িদুল ইসতিগফার হলো :
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
“হে আল্লাহ, আপনিই আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার গোলাম। আমি যথাসাধ্য আপনার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর রয়েছি। আমি নিজের সকল কৃতকর্মের কুফল থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি এবং আমাকে দেওয়া আপনার নিয়ামতের কথা স্বীকার করছি। স্বীকার করছি আমার অপরাধ। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয় আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমাকারী কেউ নেই।”
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে দিনের বেলায় ইয়াকিনের সাথে এটা পাঠ করে এবং সেদিন সন্ধ্যার আগেই সে মারা যায়, তবে সে জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে রাতের বেলায় ইয়াকিনের সাথে এটা পাঠ করে এবং প্রভাতে উপনীত হওয়ার আগেই মারা যায়, সেও জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত হবে।””১০৯

• উসমান বিন আফফান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে বান্দা প্রত্যেক সকাল ও সন্ধ্যায় এই দুআ তিনবার পাঠ করবে, কোনো বস্তুই তার ক্ষতি সাধন করতে পারবে না : بِسْمِ اللهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ، وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
“আল্লাহর নাম নিচ্ছি, আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই যাঁর নামের বরকতে ক্ষতি সাধন করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা এবং সর্বজ্ঞ।””১১০
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
مَنْ قَالَ: حِينَ يُصْبِحُ وَحِينَ يُمْسِي: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحْمَدِهِ، مِائَةَ مَرَّةٍ، لَمْ يَأْتِ أَحَدٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، بِأَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِهِ، إِلَّا أَحَدٌ قَالَ مِثْلَ مَا قَالَ أَوْ زَادَ عَلَيْهِ
'যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় ১০০ বার “সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি” পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন তার মতো পাঠকারী বা তার চেয়ে কিছুটা বেশি পাঠকারী ব্যতীত তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ জিনিস নিয়ে কেউ উপস্থিত হতে পারবে না।'১১১

আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সন্ধ্যায় উপনীত হতেন, তখন বলতেন :
أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرُ اللَّهُمَّ أَسْأَلُكَ خَيْرَ مَا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ ما في هَذِهِ اللَّيْلَةِ، وَشَرِّ مَا بَعْدَهَا رِب أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْكَسَلِ وَسُوءِ الْكِبَرِ، رب أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِي النَّارِ وَعَذَابٍ فِي الْقَبْرِ
“আমরা এবং পুরো জগৎ আল্লাহর জন্য সন্ধ্যায় উপনীত হলাম। সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। সার্বভৌমত্ব ও প্রশংসা শুধু তাঁর। তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এ রাতে থাকা কল্যাণ কামনা করছি এবং এ রাত ও তার পরের অকল্যাণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আমার রব, আপনার কাছে অলসতা এবং অহংকারের মন্দত্ব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এবং আশ্রয় প্রার্থনা করছি, কবর ও জাহান্নামের আজাব থেকে।”¹¹²

যখন প্রভাতে উপনীত হতেন, তখনও এই দুআ পাঠ করতেন এভাবে—
أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلَّهِ...
পুরো দুআটি নিম্নরূপ :
أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرُ، اللَّهُمَّ أَسْأَلُكَ خَيْرَ ما في هَذا اليَوْمِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ ما في هَذا اليَوْمِ، وَشَرِّ مَا بَعْدَهُ رِب أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْكَسَلِ وَسُوءِ الْكِبَرِ، رب أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِي النَّارِ وَعَذَابٍ فِي الْقَبْرِ
“আমরা এবং পুরো জগৎ আল্লাহর জন্য সকালে উপনীত হলাম। সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। সার্বভৌমত্ব ও প্রশংসা শুধু তাঁর। তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এ দিনে থাকা কল্যাণ কামনা করছি এবং এ দিন ও তার পরের অকল্যাণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আমার রব, আপনার কাছে অলসতা এবং অহংকারের মন্দত্ব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এবং আশ্রয় প্রার্থনা করছি, কবর ও জাহান্নামের আজাব থেকে।'

আব্দুল্লাহ বিন খুবাইব রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আমরা একদা গভীর অন্ধকার ও প্রচুর বৃষ্টিবর্ষিত রাতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খোঁজে বের হলাম; যাতে তিনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। অতঃপর আমরা তাঁকে পেয়ে গেলাম। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “বলো।” কিন্তু আমি কিছু বললাম না। তিনি আবার বললেন, “বলো।” আমি কিছু বললাম না। তিনি পুনরায় বললেন, “বলো।” আমি বললাম, “আমি কী বলব?” তিনি বললেন, “তুমি “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” ও “মুআওয়াজাতাইন” (সুরা ফালাক ও নাস) সকালে তিনবার পাঠ করবে এবং সন্ধ্যায় তিনবার পাঠ করবে, সকল বিষয়ে এগুলো তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।””¹¹³
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবু বকর রা. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে এমন কিছুর আদেশ করুন, যা আমি সকাল ও সন্ধ্যায় পাঠ করব।” তিনি বললেন, “তুমি যখন সকাল-সন্ধ্যায় উপনীত হবে এবং যখন শয্যা গ্রহণ করবে, তখন বলবে :
اللَّهُمَّ عَالِمَ الغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ، رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ
“হে আল্লাহ, দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী, প্রতিটি জিনিসের প্রতিপালক এবং মালিক! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আর আমি নিজের নফসের অনিষ্টতা এবং শয়তানের অনিষ্টতা ও শিরক থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।””¹¹⁴

আবু সাল্লাম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি হিমসের মসজিদে ছিলেন। তখন তাঁর পাশ দিয়ে এক লোক হেঁটে গেলেন। লোকজন তার সম্পর্কে বলল, 'এই লোক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খিদমত করেছেন।' তখন তিনি তাঁর নিকট গিয়ে বললেন, 'আপনি আমাকে কোনো মধ্যস্থতা ব্যতীত সরাসরি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুখ থেকে শোনা একটি হাদিস বর্ণনা করুন।' তিনি বললেন, 'আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় এই দুআ পাঠ করবে—
رَضِينَا بِاللهِ رَبًّا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا
“আমরা আল্লাহকে রব হিসেবে পেয়ে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পেয়ে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে রাসুল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।” তখন আল্লাহ তাআলার হক হলো, তিনি তাকে সন্তুষ্ট করবেন।”¹¹⁵

ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকাল-সন্ধ্যায় উপনীত হলে এই দুআ পাঠ করা ছাড়তেন না :
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي وَمَالِي، اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي، وَآمِنْ رَوْعَاتِي، اللَّهُمَّ احْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ، وَمِنْ خَلْفِي، وَعَنْ يَمِينِي، وَعَنْ شِمَالِي، وَمِنْ فَوْقِي، وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي
“হে আল্লাহ, আপনার কাছে পার্থিব ও পরকালীন সুস্থতা কামনা করছি। হে আল্লাহ, আমার দ্বীন ও দুনিয়া, সম্পদ ও পরিবারের ক্ষমা ও সুস্থতা কামনা করছি। হে আল্লাহ, আমার গোপন বিষয়গুলো গোপন রাখুন এবং ভীতি-শঙ্কা থেকে হিফাজত রাখুন। হে আল্লাহ, আমাকে আমার অগ্র-পশ্চাৎ, ডান-বাম এবং ওপর থেকে হিফাজত করুন। আর আমি আপনার মহত্ত্বের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, নিচ থেকে আসা গোপন আক্রমণের শিকার হওয়া থেকে।””¹¹⁶

টিকাঃ
১০৯. সহিহুল বুখারি: ৬৩০৬
১১০. সুনানুত তিরমিজি: ৩৩৮৮
১১১. সহিহু মুসলিম: ২৬৯২, সহিহুল বুখারি : ৬৪০৫
১১২. সহিহু মুসলিম : ২৭২৩
১১৩. সুনানুত তিরমিজি: ৩৫৭৫, সুনানুন নাসায়ি: ৫৪২৮
১১৪. সুনানুত তিরমিজি: ৩৩৯২
১১৫. সুনানু আবি দাউদ : ৫০৭২, সুনানু ইবনি মাজাহ : ৩৮৭০
১১৬. সুনানু আবি দাউদ: ৫০৭৪, মুসনাদু আহমাদ: ৪৭৮৫

📘 হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহ > 📄 নিদ্রাকালীন আজকার পাঠ করা

📄 নিদ্রাকালীন আজকার পাঠ করা


হুজাইফা বিন ইয়ামান রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন শয্যা গ্রহণ করতেন, তখন বলতেন : بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا “(হে আল্লাহ,) তোমার নামেই মৃত্যুবরণ করি এবং জীবিত হই।”

আর যখন জাগ্রত হতেন, তখন বলতেন : الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُور “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য, যিনি আমাদের মৃত্যুর পর জীবিত করলেন এবং তাঁর কাছেই পুনরুত্থান করতে হবে।””¹¹⁷

আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আমাকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমাজানে জাকাতের মাল পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব দিলেন। তখন জনৈক লোক এসে খাদ্যদ্রব্য উঠিয়ে নিতে উদ্যত হলো। আমি তাকে ধরে ফেললাম এবং বললাম, “আমি তোমাকে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে নিয়ে যাব।"...-এভাবে পুরো হাদিস বর্ণনা করলেন। তাতে রয়েছে—তখন লোকটি বলল, “যখন আপনি ঘুমাতে যাবেন, তখন আয়াতুল কুরসি পাঠ করবেন। এর ফলে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন পাহারাদার নিযুক্ত করা হবে এবং ভোর পর্যন্ত শয়তান আপনার কাছে আসতে পারবে না।” রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (এ ঘটনা শুনে) বললেন, “সে সত্য বলেছে; যদিও সে মিথ্যাবাদী। সে ছিল শয়তান ।””¹¹⁸

আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিরাতে যখন শয্যা গ্রহণ করতেন, তখন উভয় হাতের তালু একত্র করে তাতে ফুঁক দিয়ে “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ”, “কুল আউজু বিরব্বিল ফালাক” এবং “কুল আউজু বিরব্বিন নাস” পাঠ করতেন। অতঃপর হাতের তালু দিয়ে সারা শরীর যতটুকু সম্ভব মাসেহ করতেন। প্রথমে মাথা ও মুখ থেকে শুরু করে দেহের সম্মুখ ভাগের ওপর হাত বোলাতেন। এভাবে তিনবার করতেন। '¹¹⁹
আবু মাসউদ বদরি রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
مَنْ قَرَأَ بِالْآيَتَيْنِ مِنْ آخِرِ سُورَةِ البَقَرَةِ فِي لَيْلَةٍ كَفَتَاهُ
'যে ব্যক্তি রাতে সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে, সেগুলো তার (নিরাপত্তা ইত্যাদির) জন্য যথেষ্ট হবে।'¹²⁰

আলি রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'ফাতিমা রা. (হাতে) জাঁতা চালানোর দাগ পড়ে যাওয়ার অভিযোগ প্রকাশ করলেন। সে সময় নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট কিছুসংখ্যক যুদ্ধবন্দী আনা হলো। তখন ফাতিমা রা. নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট গেলেন। কিন্তু তাঁকে না পেয়ে আয়িশা রা.-এর নিকট নিজের কথা বলে আসলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ঘরে আসলেন, আয়িশা রা. তাঁকে ফাতিমা রা.-এর আগমনের সংবাদ দিলেন। তা শুনে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট আগমন করলেন। তখন আমরা মাত্র শয্যা গ্রহণ করেছিলাম। আমি উঠে বসতে চাইলে তিনি বললেন, “তোমরা নিজ অবস্থায় থাকো।” তিনি আমাদের মাঝে এমনভাবে বসে পড়লেন যে, আমি তাঁর দুই পায়ের শীতলতা আমার বক্ষে অনুভব করলাম। তিনি বললেন,
“তোমরা যা চেয়েছিলে আমি কি তোমাদের তার চেয়েও উত্তম জিনিস শিক্ষা দেবো না? তোমরা যখন শয্যা গ্রহণ করবে, তখন ৩৪ বার "আল্লাহু আকবার”, ৩৩ বার “সুবহানাল্লাহ” এবং ৩৩ বার “আল-হামদুলিল্লাহ” বলবে। তা খাদিম অপেক্ষা অনেক উত্তম।””¹²¹

হাফসা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন, তখন ডান হাত গালের নিচে রাখতেন, অতঃপর তিনবার বলতেন :
اللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ
'হে আল্লাহ, যেদিন আপনার বান্দাদের পুনরুত্থান করবেন, সেদিন আপনার আজাব থেকে আমাকে রক্ষা করুন। '¹²²

আনাস রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন শয্যা গ্রহণ করতেন, তখন বলতেন :
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا، وَكَفَانَا وَآوَانَا، فَكَمْ مِمَّنْ لَا كَافِيَ لهُ وَلَا مُؤْوِيَ
'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য, যিনি আমাদের খাওয়ালেন এবং পান করালেন। আমাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন এবং আশ্রয় দিয়েছেন। না হলে তো এমন অনেক লোক আছে, যাদের কোনো পৃষ্ঠপোষক ও আশ্রয়দাতা নেই।'¹²³

আব্দুল্লাহ বিন উমর রা. থেকে বর্ণিত, এক লোক শয্যা গ্রহণ করতে গেলে তিনি তাকে এই বলতে আদেশ করলেন :
اللَّهُمَّ خَلَقْتَ نَفْسِي وَأَنْتَ تَوَفَّاهَا، لكَ مَمَاتُهَا وَمَحْيَاهَا، إِنْ أَحْيَيْتَهَا فَاحْفَظْهَا، وَإِنْ أَمَتَهَا فَاغْفِرْ لَهَا، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ
'হে আল্লাহ, আপনিই আমার সত্তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনিই তার মৃত্যু দেবেন। আপনার জন্যই জীবন ও মরণ। যদি আপনি তা জীবিত রাখেন, তবে হিফাজত করুন; আর যদি মৃত্যু দেন, তবে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে সুস্থতা কামনা করছি।'
লোকটি বলল, 'আপনি কি এটা উমর থেকে শুনেছেন?' তিনি বললেন, 'উমর থেকেও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি।'¹²⁴
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের শয্যা গ্রহণ করার সময় এই দুআ পাঠ করতে আদেশ করতেন—
اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ وَرَبَّ الْأَرْضِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ، فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى، وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْفُرْقَانِ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْءٍ أَنْتَ آخِذُ بِنَاصِيَتِهِ، اللهُمَّ أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ، اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ، وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ
“হে আল্লাহ, হে আসমান ও জমিনের প্রতিপালক, মহান আরশের অধিপতি, আমাদের ও প্রত্যেক জিনিসের প্রতিপালক, বীজ ও উদ্ভিদের সৃষ্টিকারী, হে তাওরাত, ইনজিল ও কুরআন অবতীর্ণকারী, আমি এমন প্রত্যেক জিনিসের অনিষ্টতা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যার অগ্রভাগ আপনি ধরে রেখেছেন (নিয়ন্ত্রণ করছেন)। হে আল্লাহ, আপনিই আদি, আপনার আগে কোনো কিছুই ছিল না। আপনিই অন্ত, আপনার পরে কোনো জিনিস থাকবে না। আপনিই সবকিছুর ওপরে, আপনার ওপরে কিছু নেই। আপনিই সর্বনিকটে, আপনার চেয়ে নিকটবর্তী কিছু নেই। আপনি আমাদের ঋণ আদায়ের তাওফিক দিন এবং দারিদ্র্য থেকে আমাদের মুক্তি দান করুন।”¹²⁵

বারা বিন আজিব রা. থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'যখন তুমি শয্যা গ্রহণ করতে যাবে, তখন সালাতের অজুর ন্যায় অজু করবে। অতঃপর ডান পার্শ্বে শুয়ে বলবে :
اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لَا مَلْجَأَ وَلَا مَنْجَا مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ، اللَّهُمَّ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ
“হে আল্লাহ, আমি আমার চেহারা (জীবন)-কে আপনার কাছে সমর্পণ করলাম। আমার সকল বিষয় আপনার কাছে সোপর্দ করলাম এবং আমার পৃষ্ঠদেশকে আপনার দিকেই ন্যস্ত করলাম, আপনার প্রতি ভয় ও প্রত্যাশা নিয়ে। আপনি ছাড়া কোনো আশ্রয়স্থল বা মুক্তির উপায় নেই। হে আল্লাহ, আমি ইমান আনলাম আপনার নাজিলকৃত কিতাবের ওপর এবং আপনার প্রেরিত নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর।"
যদি তুমি সেই রাতে মৃত্যুবরণ করো, তবে তুমি ফিতরাতের ওপর মৃত্যুবরণ করবে। তাই এই দুআকে তোমার বলা শেষ কথা বানাও। '¹²⁶

টিকাঃ
১১৭. সহিহুল বুখারি: ৬৩১৪
১১৮. সহিহুল বুখারি: ৩২৭৫
১১৯. সহিহুল বুखারি: ৫০১৮, সহিহু মুসলিম: ২১১৯
১২০. সহিহুল বুখারি: ৫০০৯
১২১. সহিহুল বুখারি : ৭৩০৫, সহিহু মুসলিম : ২৭২৭
১২২. সুনানু আবি দাউদ: ৫০৪৫
১২৩. সহিহু মুসলিম: ২৭১৫
১২৪. সহিহু মুসলিম : ২৭১২
১২৫. সহিহু মুসলিম: ২৭১৩
১২৬. সহিহুল বুখারি : ২৪৭, সহিহু মুসলিম: ২৭১০

📘 হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহ > 📄 সুগন্ধি ব্যবহার করা

📄 সুগন্ধি ব্যবহার করা


আমর বিন সুলাইম আল-আনসারি রা. থেকে বর্ণিত, আবু সাইদ খুদরি রা. বলেন, 'আমি এ মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
الْغُسْلُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَاجِبُ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ، وَأَنْ يَسْتَنَّ، وَأَنْ يَمَسَّ طِيبًا إِنْ وَجَدَ
“জুমআর দিন প্রত্যেক বালিগের জন্য গোসল করা আবশ্যক। আর মিসওয়াক করবে এবং সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করবে।””

আমর (বিন সুলাইম) বলেন, 'গোসলের ব্যাপারে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তা ওয়াজিব বা আবশ্যক। কিন্তু মিসওয়াক করা ও সুগন্ধি লাগানো ওয়াজিব কি না, তা আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। তবে হাদিসে এরূপই আছে।'¹²⁷

আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর (দৈহিক গঠনের) বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাঝারি গঠনের ছিলেন; বেমানান লম্বাও ছিলেন না এবং বেঁটেও ছিলেন না। (তাঁর) শরীরের রং ছিল গোলাপি বর্ণের; ধবধবে সাদা কিংবা তামাটে বর্ণের নয়। মাথার চুল কুঁকড়ানোও ছিল না, আবার সম্পূর্ণ সোজাও ছিল না। চল্লিশ বছর বয়সে তাঁর ওপর ওহি অবতীর্ণ হওয়া শুরু হয়। প্রথম দশ বছর মক্কায় অবস্থানকালে যথারীতি ওহি অবতীর্ণ হতে থাকে। এরপর মদিনায় অতিবাহিত করেন দশ বছর। অতঃপর তাঁর অফাত হয়; অথচ তাঁর মাথা ও দাড়িতে বিশটি সাদা চুলও ছিল না।'

রবিআ বলেন, 'আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর একটি চুল দেখলাম, যা ছিল লাল বর্ণের। আমি এর কারণ জিজ্ঞেস করলে বলা হলো, “সুগন্ধি লাগানোর ফলে তা লাল হয়ে গেছে।””¹²⁸

আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'সর্বোত্তম সুগন্ধি যা আমি পেতাম, তা আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর গায়ে লাগাতাম। ফলে তাঁর দাড়ি ও চুলে সুগন্ধির চমক দেখতে পেতাম।’¹²⁹

আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
حُبِّبَ إِلَيَّ مِنْ الدُّنْيَا النِّسَاءُ وَالطَّيبُ، وَجُعِلَ قُرَّةُ عَيْنِي في الصَّلَاةِ
'দুনিয়ার বস্তুসমূহের মধ্যে নারী ও সুগন্ধি আমার কাছে প্রিয় করে দেওয়া হয়েছে। আর সালাতে রাখা হয়েছে আমার চোখের শীতলতা।'¹³⁰

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর গায়ে ইহরাম বাঁধার পূর্বে সুগন্ধি লাগিয়ে দিতাম এবং বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করার পূর্বে হালাল হওয়ার জন্য সুগন্ধি লাগাতাম।’¹³¹

টিকাঃ
১২৭. সহিহুল বুখারি : ৮৮০
১২৮. সহিহুল বুখারি: ৩৫৪৭
১২৯. সহিহুল বুখারি: ৫৯২৩
১৩০. সুনানুন নাসায়ি : ৩৯৩৯
১৩১. সহিহুল বুখারি : ১৫৩৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00