📄 আত্মপর্যালোচনা করা
উমর বিন খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'তোমাদের হিসাব গ্রহণ করার পূর্বেই নিজেদের হিসাব নিজেরা নিয়ে নাও এবং তোমাদের কর্মগুলো ওজন দেওয়ার আগেই নিজেরা তা ওজন দিয়ে নাও। কারণ, আগামীকাল তোমাদের থেকে গৃহীত হিসাবের তুলনায় আজ তোমাদের হিসাব নিজেরা করে নেওয়া অধিক সহজ। আর সবচেয়ে বড় উপস্থাপনের জন্য নিজেদের তৈরি করো—যেদিন তোমাদের উপস্থাপন করা হবে, তোমাদের কোনো গোপন বিষয় লুকায়িত থাকবে না।'১০০
মাইমুন বিন মিহরান রহ. বলেন, 'কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুত্তাকি হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার অংশীদারের থেকে হিসাব নেওয়ার মতো করে নিজের হিসাব গ্রহণ করে এবং যতক্ষণ না সে নিজের পোশাক- পরিচ্ছদ এবং খাদ্য-পানীয়ের উৎস সম্পর্কে অবগতি অর্জন করে নেয়।'১০১
টিকাঃ
১০০. ইবনু আবিদ দুনিয়া রহ. রচিত মুহাসাবাতুন নাফস, পৃষ্ঠা নং ২২
১০১. কিতাবুজ জুহদ (ওয়াকি রহ. রচিত): ২/৫০১
📄 ফরজ সালাতের পরে মাসনুন আজকার পাঠ করা
সাওবান রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাত শেষ করতেন, তখন তিনবার ইসতিগফার করতেন এবং বলতেন: اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ، تَبَارَكْتَ ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ “হে আল্লাহ, আপনি শান্তিময় এবং আপনার পক্ষ থেকেই শান্তি। আপনি বরকতময়, হে মহামান্বিত ও সম্মানিত!'
ওয়ালিদ রহ. বলেন, 'আমি আওজায়ি রহ.-কে বললাম, “(তিনি) ইসতিগফার করতেন কীভাবে?” তিনি বললেন, “তুমি বলবে, আসতাগফিরুল্লাহ, আসতাগফিরুল্লাহ।”'১০২
মুগিরা বিন শুবা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর এই দুআ পাঠ করতেন—
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرُ، اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلَا يَنْفَعُ ذَا الجَدِّ مِنْكَ الجَدُّ
“আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি এক; তাঁর কোনো শরিক নেই। সার্বভৌমত্ব তাঁর এবং সকল প্রশংসাও তাঁর। তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ, আপনি যা প্রদান করতে চান, তা রোধকারী কেউ নেই এবং যা রোধ করতে চান, তা প্রদানকারী কেউ নেই এবং আপনার কাছে কোনো সম্পদশালীর সম্পদ কাজে আসে না।””১০৩
আবু জুবাইর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'ইবনে জুবাইর প্রত্যেক সালাতের সালাম ফিরিয়ে বলতেন :
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَلَا نَعْبُدُ إِلَّا إِيَّاهُ، لَهُ النَّعْمَةُ وَلَهُ الْفَضْلُ، وَلَهُ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ
“আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি এক; তাঁর কোনো শরিক নেই। সার্বভৌমত্ব তাঁর এবং সকল প্রশংসাও তাঁর। তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কারও শক্তি-সামর্থ্য নেই। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমরা শুধু তাঁরই ইবাদত করি। সকল নিয়ামত, অনুগ্রহ এবং উত্তম প্রশংসা তাঁরই জন্য। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আনুগত্য একমাত্র তাঁরই উদ্দেশে। যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।”
তিনি বলতেন, “রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক সালাতের পর এগুলোর মাধ্যমে তাহলিল পাঠ করতেন।”১০৪
আবু হুরাইরা রা. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, 'যে ব্যক্তি প্রত্যেক সালাতের পর ৩৩ বার “সুবহানাল্লাহ”, ৩৩ বার “আল- হামদুলিল্লাহ” এবং ৩৩ বার “আল্লাহু আকবার”-এই মোট ৯৯ বার এবং ১০০ পূর্ণ করার জন্য একবার বলে—
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
“আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি এক; তাঁর কোনো শরিক নেই। সার্বভৌমত্ব তাঁর এবং সকল প্রশংসাও তাঁর। তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।”
তখন তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়; যদিও তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হয়।'১০৫
আবু উমামা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
مَنْ قَرَأَ آيَةَ الْكُرْسِيِّ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ لَمْ يَمْنَعْهُ مِنْ دُخُولِ الْجَنَّةِ إِلَّا أَنْ يَمُوتَ
'যে প্রত্যেক সালাতের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করে, মৃত্যুই শুধু তার জান্নাতে প্রবেশে বাধা।’১০৬
মুআজ বিন জাবাল রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাত ধরে বললেন, 'হে মুআজ, আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমি তোমাকে ভালোবাসি। আল্লাহর শপথ, আমি তোমাকে ভালোবাসি।' অতঃপর বললেন, 'হে মুআজ, আমি তোমাকে অসিয়ত করছি, প্রত্যেক সালাতের পর এই দুআ পাঠ করা ছাড়বে না :
اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
“হে আল্লাহ, আমাকে আপনার জিকির, শোকর এবং আপনার উত্তম ইবাদত করতে সাহায্য করুন।”১০৭
টিকাঃ
১০২. সহিহু মুসলিম: ৫৯১
১০৩. সহিহুল বুখারি: ৮৪৪, সহিহু মুসলিম : ৫৯৩
১০৪. সহিহ মুসলিম : ৫৯৪
১০৫. সহিহু মুসলিম : ৫৯৭
১০৬. আস-সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ি : ৯৮৪৮
১০৭. সুনানু আবি দাউদ: ১৫২২, সুনানুন নাসায়ি: ১৩০৩
📄 সূর্যোদয় পর্যন্ত সালাতের স্থানে বসে থাকা
জাবির বিন সামুরা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে স্থানে ফজরের সালাত আদায় করতেন, সূর্যোদয় পর্যন্ত সেখানেই বসে থাকতেন। সূর্য উদিত হলে তিনি উঠে দাঁড়াতেন। আর লোকেরা সেখানে কথাবার্তা বলতেন এবং জাহিলি যুগের ব্যাপারে আলোচনা করে হাসাহাসি করতেন। আর তা শুনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুচকি হাসতেন।'১০৮
টিকাঃ
১০৮. সহিহ মুসলিম: ৬৭০
📄 সকাল-সন্ধ্যার আজকারের প্রতি যত্নশীল হওয়া
শাদ্দাদ বিন আওস রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'সাইয়িদুল ইসতিগফার হলো :
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
“হে আল্লাহ, আপনিই আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার গোলাম। আমি যথাসাধ্য আপনার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর রয়েছি। আমি নিজের সকল কৃতকর্মের কুফল থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি এবং আমাকে দেওয়া আপনার নিয়ামতের কথা স্বীকার করছি। স্বীকার করছি আমার অপরাধ। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয় আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমাকারী কেউ নেই।”
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে দিনের বেলায় ইয়াকিনের সাথে এটা পাঠ করে এবং সেদিন সন্ধ্যার আগেই সে মারা যায়, তবে সে জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে রাতের বেলায় ইয়াকিনের সাথে এটা পাঠ করে এবং প্রভাতে উপনীত হওয়ার আগেই মারা যায়, সেও জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত হবে।””১০৯
• উসমান বিন আফফান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে বান্দা প্রত্যেক সকাল ও সন্ধ্যায় এই দুআ তিনবার পাঠ করবে, কোনো বস্তুই তার ক্ষতি সাধন করতে পারবে না : بِسْمِ اللهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ، وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
“আল্লাহর নাম নিচ্ছি, আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই যাঁর নামের বরকতে ক্ষতি সাধন করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা এবং সর্বজ্ঞ।””১১০
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
مَنْ قَالَ: حِينَ يُصْبِحُ وَحِينَ يُمْسِي: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحْمَدِهِ، مِائَةَ مَرَّةٍ، لَمْ يَأْتِ أَحَدٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، بِأَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِهِ، إِلَّا أَحَدٌ قَالَ مِثْلَ مَا قَالَ أَوْ زَادَ عَلَيْهِ
'যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় ১০০ বার “সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি” পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন তার মতো পাঠকারী বা তার চেয়ে কিছুটা বেশি পাঠকারী ব্যতীত তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ জিনিস নিয়ে কেউ উপস্থিত হতে পারবে না।'১১১
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সন্ধ্যায় উপনীত হতেন, তখন বলতেন :
أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرُ اللَّهُمَّ أَسْأَلُكَ خَيْرَ مَا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ ما في هَذِهِ اللَّيْلَةِ، وَشَرِّ مَا بَعْدَهَا رِب أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْكَسَلِ وَسُوءِ الْكِبَرِ، رب أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِي النَّارِ وَعَذَابٍ فِي الْقَبْرِ
“আমরা এবং পুরো জগৎ আল্লাহর জন্য সন্ধ্যায় উপনীত হলাম। সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। সার্বভৌমত্ব ও প্রশংসা শুধু তাঁর। তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এ রাতে থাকা কল্যাণ কামনা করছি এবং এ রাত ও তার পরের অকল্যাণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আমার রব, আপনার কাছে অলসতা এবং অহংকারের মন্দত্ব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এবং আশ্রয় প্রার্থনা করছি, কবর ও জাহান্নামের আজাব থেকে।”¹¹²
যখন প্রভাতে উপনীত হতেন, তখনও এই দুআ পাঠ করতেন এভাবে—
أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلَّهِ...
পুরো দুআটি নিম্নরূপ :
أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرُ، اللَّهُمَّ أَسْأَلُكَ خَيْرَ ما في هَذا اليَوْمِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ ما في هَذا اليَوْمِ، وَشَرِّ مَا بَعْدَهُ رِب أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْكَسَلِ وَسُوءِ الْكِبَرِ، رب أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِي النَّارِ وَعَذَابٍ فِي الْقَبْرِ
“আমরা এবং পুরো জগৎ আল্লাহর জন্য সকালে উপনীত হলাম। সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। সার্বভৌমত্ব ও প্রশংসা শুধু তাঁর। তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এ দিনে থাকা কল্যাণ কামনা করছি এবং এ দিন ও তার পরের অকল্যাণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আমার রব, আপনার কাছে অলসতা এবং অহংকারের মন্দত্ব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এবং আশ্রয় প্রার্থনা করছি, কবর ও জাহান্নামের আজাব থেকে।'
আব্দুল্লাহ বিন খুবাইব রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আমরা একদা গভীর অন্ধকার ও প্রচুর বৃষ্টিবর্ষিত রাতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খোঁজে বের হলাম; যাতে তিনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। অতঃপর আমরা তাঁকে পেয়ে গেলাম। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “বলো।” কিন্তু আমি কিছু বললাম না। তিনি আবার বললেন, “বলো।” আমি কিছু বললাম না। তিনি পুনরায় বললেন, “বলো।” আমি বললাম, “আমি কী বলব?” তিনি বললেন, “তুমি “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” ও “মুআওয়াজাতাইন” (সুরা ফালাক ও নাস) সকালে তিনবার পাঠ করবে এবং সন্ধ্যায় তিনবার পাঠ করবে, সকল বিষয়ে এগুলো তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।””¹¹³
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবু বকর রা. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে এমন কিছুর আদেশ করুন, যা আমি সকাল ও সন্ধ্যায় পাঠ করব।” তিনি বললেন, “তুমি যখন সকাল-সন্ধ্যায় উপনীত হবে এবং যখন শয্যা গ্রহণ করবে, তখন বলবে :
اللَّهُمَّ عَالِمَ الغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ، رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ
“হে আল্লাহ, দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী, প্রতিটি জিনিসের প্রতিপালক এবং মালিক! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আর আমি নিজের নফসের অনিষ্টতা এবং শয়তানের অনিষ্টতা ও শিরক থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।””¹¹⁴
আবু সাল্লাম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি হিমসের মসজিদে ছিলেন। তখন তাঁর পাশ দিয়ে এক লোক হেঁটে গেলেন। লোকজন তার সম্পর্কে বলল, 'এই লোক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খিদমত করেছেন।' তখন তিনি তাঁর নিকট গিয়ে বললেন, 'আপনি আমাকে কোনো মধ্যস্থতা ব্যতীত সরাসরি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুখ থেকে শোনা একটি হাদিস বর্ণনা করুন।' তিনি বললেন, 'আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় এই দুআ পাঠ করবে—
رَضِينَا بِاللهِ رَبًّا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا
“আমরা আল্লাহকে রব হিসেবে পেয়ে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পেয়ে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে রাসুল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।” তখন আল্লাহ তাআলার হক হলো, তিনি তাকে সন্তুষ্ট করবেন।”¹¹⁵
ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকাল-সন্ধ্যায় উপনীত হলে এই দুআ পাঠ করা ছাড়তেন না :
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي وَمَالِي، اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي، وَآمِنْ رَوْعَاتِي، اللَّهُمَّ احْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ، وَمِنْ خَلْفِي، وَعَنْ يَمِينِي، وَعَنْ شِمَالِي، وَمِنْ فَوْقِي، وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي
“হে আল্লাহ, আপনার কাছে পার্থিব ও পরকালীন সুস্থতা কামনা করছি। হে আল্লাহ, আমার দ্বীন ও দুনিয়া, সম্পদ ও পরিবারের ক্ষমা ও সুস্থতা কামনা করছি। হে আল্লাহ, আমার গোপন বিষয়গুলো গোপন রাখুন এবং ভীতি-শঙ্কা থেকে হিফাজত রাখুন। হে আল্লাহ, আমাকে আমার অগ্র-পশ্চাৎ, ডান-বাম এবং ওপর থেকে হিফাজত করুন। আর আমি আপনার মহত্ত্বের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, নিচ থেকে আসা গোপন আক্রমণের শিকার হওয়া থেকে।””¹¹⁶
টিকাঃ
১০৯. সহিহুল বুখারি: ৬৩০৬
১১০. সুনানুত তিরমিজি: ৩৩৮৮
১১১. সহিহু মুসলিম: ২৬৯২, সহিহুল বুখারি : ৬৪০৫
১১২. সহিহু মুসলিম : ২৭২৩
১১৩. সুনানুত তিরমিজি: ৩৫৭৫, সুনানুন নাসায়ি: ৫৪২৮
১১৪. সুনানুত তিরমিজি: ৩৩৯২
১১৫. সুনানু আবি দাউদ : ৫০৭২, সুনানু ইবনি মাজাহ : ৩৮৭০
১১৬. সুনানু আবি দাউদ: ৫০৭৪, মুসনাদু আহমাদ: ৪৭৮৫