📄 নিয়মিত মিসওয়াক করা
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي أَوْ عَلَى النَّاسِ لَأَمَرْتُهُمْ بِالسَّوَاكِ مَعَ كُلِّ صَلَاةٍ
'যদি আমার উম্মত বা মানুষের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে প্রত্যেক নামাজের সময় মিসওয়াক করার আদেশ করতাম। '৮১
হুজাইফা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাহাজ্জুদের জন্য উঠতেন, তখন মিসওয়াক দিয়ে নিজের মুখ পরিষ্কার করতেন। '৮২
আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাঁর ঘরে প্রবেশ করতেন, তখন প্রথমে মিসওয়াক করতেন। '৮৩
আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
عَشْرُ مِنَ الْفِطْرَةِ: قَصُّ الشَّارِبِ، وَإِعْفَاءُ اللَّحْيَةِ، وَالسَّوَاكُ، وَاسْتِنْشَاقُ الْمَاءِ، وَقَصُّ الْأَطْفَارِ، وَغَسْلُ الْبَرَاجِمِ، وَنَتْفُ الْإِبِطِ، وَحَلْقُ الْعَانَةِ، وَانْتِقَاصُ الْمَاءِ
‘দশটি কাজ ফিতরাত (মানুষের প্রকৃতিগত স্বভাব)- এর অন্তর্ভুক্ত : গোঁফ খাটো করা, দাড়ি লম্বা করা, মিসওয়াক করা, নাকে পানি দেওয়া, নখ কাটা, আঙুলের গিরাসমূহ ধোয়া, বগলের পশম উপড়ে ফেলা, নাভির নিচের পশম কাটা এবং পানি দ্বারা ইসতিনজা করা।’
হাদিসের রাবি মুসআব বলেন, ‘আমি দশম কাজটি ভুলে গেছি, তবে সেটি “কুলি করা” হতে পারে।’৮৪
আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন :
السَّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ، مَرْضَاةُ لِلرَّبِّ
‘মিসওয়াক মুখের জন্য পরিচ্ছন্নতা এবং রবের সন্তুষ্টির মাধ্যম।’৮৫
টিকাঃ
৮১. সহিহুল বুখারি: ৮৮৭
৮২. সহিহুল বুখারি : ১১৩৬
৮৩. সহিহু মুসলিম : ২৫৩
৮৪. সহিহু মুসলিম: ২৬১
৮৫. মুসনাদু আহমাদ: ২৪২০৩
📄 পানাহার এবং খরচের ব্যাপারে মিতব্যয়ী হওয়া
মুআজ বিন জাবাল রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ইয়ামানে পাঠানোর সময় বললেন :
إِيَّاكَ وَالتَّنَعُّمَ فَإِنَّ عِبَادَ اللَّهِ لَيْسُوا بِالْمُتَنَعِّمِينَ
'বিলাসিতার ব্যাপারে সতর্ক থেকো। কারণ, আল্লাহর বান্দাগণ বিলাসী হন না।'৮৬
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরিবার তাঁর মৃত্যু অবধি একাধারে তিন দিন আহার করে পরিতৃপ্ত হননি।'৮৭
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন যে, তিনি কোনো দিন রুটি ও জাইতুন দ্বারা একদিনে দুবার পরিতৃপ্ত হননি।'৮৮
জাবির বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছেন :
فِرَاشُ لِلرَّجُلِ، وَفِرَاشُ لِامْرَأَتِهِ، وَالثَّالِثُ لِلضَّيْفِ، وَالرَّابِعُ لِلشَّيْطَانِ
‘একটি বিছানা পুরুষের, একটি বিছানা তার স্ত্রীর, তৃতীয় বিছানা মেহমানের জন্য, আর (এগুলো ছাড়াও যদি অপ্রয়োজনীয় আরেকটি থাকে, তবে) চতুর্থটি শয়তানের জন্য।’৮৯
আমর বিন শুআইব তার পিতা থেকে এবং তার পিতা তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
كُلُوا وَاشْرَبُوا وَالبَسُوا وَتَصَدَّقُوا فِي غَيْرِ إِسْرَافٍ وَلَا مَخِيلَةٍ
‘অপচয় ও অহংকার ব্যতীত খাও, পান করো, পরিধান করো এবং সদাকা করো।’৯০
মিকদাদ বিন মাদিকারুবা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি—
مَا مَلَأَ آدَمِيُّ وِعَاءً شَرًّا مِنْ بَطْنٍ حَسْبُ الْآدَمِيِّ لُقَيْمَاتُ يُقِمْنَ صُلْبَهُ فَإِنْ غَلَبَتْ الْآدَمِيَّ نَفْسُهُ فَثُلُثُ لِلطَّعَامِ وَثُلُثُ لِلشَّرَابِ وَثُلُثُ لِلنَّفَسِ
“পেটের চেয়ে মন্দ কোনো পাত্র মানুষ ভরাট করে না। মেরুদণ্ড সোজা রাখার জন্য কয়েক লোকমা খাবারই আদম-সন্তানের জন্য যথেষ্ট। যদি কারও জন্য আরও বেশি ছাড়া সম্ভব না হয়, তবে পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয় (তরল)-এর জন্য আর অবশিষ্ট এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখবে।”৯১
আমর বিন আওফ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু উবাইদা বিন জাররাহ রা.-কে বাহরাইনের জিজিয়া আদায় করতে পাঠালেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাহরাইনবাসীর সাথে চুক্তি করে সেখানে আলা বিন হাজরামিকে আমির নিযুক্ত করেছিলেন।
অতঃপর আবু উবাইদা রা. বাহরাইন থেকে মাল (জিজিয়া) নিয়ে আসলেন। আনসারি সাহাবিগণ আবু উবাইদা রা.-এর আগমনের খবর জানতে পারলেন। তাঁরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে মিলিত হয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। নামাজ শেষে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের প্রতি ফিরে বসলেন। অতঃপর তাঁদের দেখে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুচকি হেসে বললেন, “মনে হচ্ছে, তোমরা আবু উবাইদার আগমনের সংবাদ শুনতে পেয়েছ।”
তাঁরা বললেন, “জি হ্যাঁ, ইয়া রাসুলাল্লাহ!”
তখন তিনি বললেন : فَأَبْشِرُوا وَأَمِّلُوا مَا يَسُرُّكُمْ، فَوَاللهِ مَا الفَقْرَ أَخْشَى عَلَيْكُمْ، وَلَكِنِّي أَخْشَى أَنْ تُبْسَطَ عَلَيْكُمُ الدُّنْيَا كَمَا بُسِطَتْ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ، فَتَنَافَسُوهَا كَمَا تَنَافَسُوهَا، وَتُهْلِكَكُمْ كَمَا أَهْلَكَتْهُمْ
“তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো এবং আনন্দ দানকারী জিনিসের আশা রাখো। তবে আল্লাহর শপথ, আমি তোমাদের ব্যাপারে দারিদ্র্যের ভয় করছি না; বরং আমি আশঙ্কা করছি, পূর্ববর্তীদের মতো তোমাদের জন্যও দুনিয়াকে প্রশস্ত করে দেওয়া হবে এবং তাদের মতো তোমরা তাকে নিয়ে পরস্পর প্রতিযোগিতায় মেতে উঠবে, ফলে দুনিয়া তাদের যেভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে, তোমাদেরও সেভাবে ধ্বংস করে দেবে।”’৯২
টিকাঃ
৮৬. মুসনাদু আহমাদ : ২২১০৫
৮৭. সহিহুল বুখারি : ৫৩৭৪
৮৮. সহিহু মুসলিম : ২৯৭৪
৮৯. সহিহ মুসলিম : ২০৮৪
৯০. সহিহুল বুখারি, তালিক : ৭/১৪০
৯১. সুনানুত তিরমিজি, হাদিসটি এভাবে বর্ণিত হয়েছে (হাদিস : ২৩৮০) : مَا مَلَأَ آدَمِيٌّ وِعَاءً شَرًّا مِنْ بَطْنٍ بِحَسْبِ ابْنِ آدَمَ أُكُلَاتُ يُقِمْنَ صُلْبَهُ، فَإِنْ كَانَ لَا مَحَالَةَ فَثُلُثُ لِطَعَامِهِ وَثُلُثُ لِشَرَابِهِ وَثُلُثُ لِنَفْسِهِ
৯২. সহিহুল বুখারি: ৪০১৫, সহিহু মুসলিম: ২৯৬১
📄 সারাক্ষণ আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকা
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللهُ فِي ظِلَّهِ، يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ الإِمَامُ العَادِلُ، وَشَابُّ نَشَأَ فِي عِبَادَةِ رَبِّهِ، وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقُ فِي المَسَاجِدِ، وَرَجُلَانِ تَحَابًا فِي اللَّهِ اجْتَمَعَا عَلَيْهِ وَتَفَرَّقَا عَلَيْهِ، وَرَجُلٌ طَلَبَتْهُ امْرَأَةً ذَاتُ مَنْصِبٍ وَجَمَالٍ، فَقَالَ: إِنِّي أَخَافُ اللهَ، وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ، أَخْفَى حَتَّى لَا تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ، وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللَّهَ خَالِيًا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ
'সাত শ্রেণির ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা তাঁর (আরশের) ছায়া দান করবেন, যেদিন তাঁর (আরশের) ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না। (১) ন্যায়পরায়ণ বাদশা। (২) এমন যুবক, যে তার প্রতিপালকের ইবাদতের মাঝে বেড়ে উঠেছে। (৩) এমন ব্যক্তি, যার হৃদয় মসজিদের সাথে লেগে থাকে। (৪) এমন দুই ব্যক্তি, যারা পরস্পরকে আল্লাহর জন্য মহব্বত করে; এ মহব্বতের ভিত্তিতেই তারা একত্রিত হয় এবং পৃথক হয়। (৫) এমন ব্যক্তি, যাকে কোনো বংশমর্যাদাসম্পন্ন রূপসী নারী মন্দ কাজের প্রতি আহ্বান করল—কিন্তু সে বলল, “আমি আল্লাহকে ভয় করি।” (৬) এমন ব্যক্তি, যে গোপনে দান করেছে—এমনকি তার বাম হাতও জানে না, তার ডান হাত কী দান করেছে। (৭) এমন ব্যক্তি, যে নির্জনে আল্লাহর জিকির করল, ফলে তার চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত হলো। '৯৩
আবু মুসা রা. থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
مَثَلُ الَّذِي يَذْكُرُ رَبَّهُ وَالَّذِي لَا يَذْكُرُ رَبَّهُ، مَثَلُ الحَيِّ وَالمَيِّتِ
‘যে তার রবের জিকির করে এবং যে করে না, তারা জীবিত ও মৃতের ন্যায় ।’৯৪
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন :
'আল্লাহ তাআলার একদল ফেরেশতা আছেন, যারা আল্লাহ তাআলার জিকিররত লোকদের খোঁজে পথে পথে ঘোরাফেরা করেন। তাঁরা যখন আল্লাহ তাআলার জিকিররত কোনো সম্প্রদায়কে দেখতে পান, তখন একজন অন্যজনকে ডাকাডাকি করে বলেন, “তোমরা নিজ নিজ কর্তব্য পালনে এদিকে চলে এসো।” ফলে তাঁরা সবাই এসে নিজেদের ডানা দিয়ে সেই লোকদেরকে নিকটস্থ আসমান পর্যন্ত ঢেকে ফেলেন। তখন তাঁদের রব তাঁদের জিজ্ঞেস করেন—অথচ এ সম্পর্কে ফেরেশতাদের চেয়ে তিনিই বেশি অবগত—“আমার বান্দারা কী বলছে?” তাঁরা জবাব দেন, “তারা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছে, আপনার শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করছে এবং আপনার গুণকীর্তন ও মাহাত্ম্য বর্ণনা করছে।” তিনি জিজ্ঞেস করেন, “তারা কি আমাকে দেখেছে?” ফেরেশতারা বলবেন, “হে আমাদের রব, আপনার শপথ, তারা আপনাকে দেখেনি।” তিনি বলেন, “আচ্ছা, তবে যদি তারা আমাকে দেখত?” তাঁরা বলেন, “তারা যদি আপনাকে দেখত, তবে আরও বেশি আপনার ইবাদত করত এবং আপনার মাহাত্ম্য ও পবিত্রতা বর্ণনা করত।”
বর্ণনাকারী বলেন, 'আল্লাহ বলেন, “তারা আমার কাছে কী চায়?” ফেরেশতারা বলেন, “তারা আপনার কাছে জান্নাত চায়।” তিনি জিজ্ঞেস করেন, “তারা কি জান্নাত দেখেছে?” ফেরেশতারা বলেন, “না। আপনার সত্তার শপথ, হে রব, তারা তা দেখেনি।” তিনি জিজ্ঞেস করেন, “যদি তারা তা দেখত, তবে কী করত?” তাঁরা বলেন, “যদি তারা তা দেখত, তবে জান্নাতের আরও বেশি লোভ করত এবং এর প্রতি আরও প্রত্যাশী ও উৎসাহী হয়ে উঠত।” আল্লাহ তাআলা জিজ্ঞেস করেন, “তারা আল্লাহর কাছে কোন জিনিস থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে?” ফেরেশতারা বলেন, “জাহান্নাম থেকে।” তিনি জিজ্ঞেস করেন, “তারা কি জাহান্নাম দেখেছে?” তাঁরা বলেন, “আল্লাহর কসম, হে রব, তারা জাহান্নাম দেখেনি।” তিনি জিজ্ঞেস করেন, “যদি তারা তা দেখত, তখন তাদের কী হতো?” তাঁরা বলেন, “যদি তারা তা দেখত, তবে তারা এ থেকে দ্রুত পালিয়ে যেত এবং একে ভীষণ ভয় করত।” তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, “আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি, আমি তাদের মাফ করে দিলাম।” তখন ফেরেশতাদের একজন বলেন, “তাদের মধ্যে অমুক ব্যক্তি রয়েছে, যে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং সে অন্য কোনো প্রয়োজনে এসেছে।" আল্লাহ তাআলা বলেন, "তারা এমন উপবিষ্টকারী যাদের বৈঠকে অংশগ্রহণকারী ব্যর্থ হয় না।”৯৫ • আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
يَقُولُ اللهُ تَعَالَى: أَنَا عِنْدَ ظَنَّ عَبْدِي بِي، وَأَنَا مَعَهُ إِذَا ذَكَرَنِي، فَإِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي، وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلَإٍ ذَكَرْتُهُ فِي مَلَإٍ خَيْرٍ مِنْهُمْ، وَإِنْ تَقَرَّبَ إِلَيَّ بِشِبْرٍ تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ ذِرَاعًا، وَإِنْ تَقَرَّبَ إِلَيَّ ذِرَاعًا تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ بَاعًا، وَإِنْ أَتَانِي يَمْشِي أَتَيْتُهُ هَرْوَلَةً
'আল্লাহ তাআলা বলেন, “আমি আমার বান্দার কাছে তার ধারণা অনুযায়ী থাকি। যখন সে আমার জিকির করে, তখন আমি তার সঙ্গে থাকি। বান্দা যদি আমাকে মনে মনে স্মরণ করে, আমিও তাকে নিজে স্মরণ করি। আর যদি সে কোনো মজলিসে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমি তাদের চেয়ে উত্তম মজলিসে তাকে স্মরণ করি। যদি সে আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে, তবে আমি তার দিকে এক হাত নিকটবর্তী হই। যদি সে আমার দিকে এক হাত এগিয়ে আসে, তবে আমি তার দিকে দুহাত নিকটবর্তী হই। যদি সে আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে এগিয়ে যাই।"৯৬
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'একদা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কার রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন। তিনি "জুমদান” নামক একটি পাহাড়ের ওপর দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন “তোমরা এই জুমদান পর্বতে পরিভ্রমণ করো, যা মুফাররিদরা অতিক্রম করে গেছেন।” উপস্থিত সাহাবিগণ বললেন, “মুফাররিদগণ বলতে কাদের বুঝিয়েছেন, হে আল্লাহর রাসুল?” তিনি বললেন, “অধিক পরিমাণে আল্লাহকে স্মরণকারী পুরুষ ও নারী।””৯৭
আব্দুল্লাহ বিন বুসর রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'জনৈক লোক বলল, “হে আল্লাহর রাসুল, ইসলামের বিধানগুলো আমার কাছে অধিক মনে হয়। আপনি আমাকে এমন একটি বিষয় জানিয়ে দিন, যা আমি মজবুতভাবে ধরে রাখব।” তিনি বললেন, “তুমি সর্বদা জিকিরের মাধ্যমে তোমার জিহ্বাকে তরুতাজা রাখো।”৯৮
আবু দারদা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'আমি কি তোমাদের সর্বোত্তম আমল সম্পর্কে অবহিত করব না, যা তোমাদের মালিকের নিকট সবচেয়ে পরিশুদ্ধ, তোমাদের মর্যাদা সমুন্নতকারী, সোনা-রুপা দান করার চেয়েও তোমাদের জন্য বেশি কল্যাণকর এবং এর চেয়েও বেশি কল্যাণকর যে, তোমরা শত্রুর সম্মুখীন হয়ে তাদের ঘাড়ে আঘাত হানবে এবং তারাও তোমাদের ঘাড়ে আঘাত হানবে?' সাহাবিগণ বললেন, 'অবশ্যই বলুন।' তিনি বললেন, 'তা হলো আল্লাহর জিকির।'৯৯
টিকাঃ
৯۳. সহিহুল বুখারি : ৬৬০, সহিহু মুসলিম: ১০৩১
৯৪. সহিহুল বুখারি : ৬৪০৭
৯৫. সহিহুল বুখারি: ৪৬০৮, সহিহু মুসলিম : ২৬৮৯
৯৬. সহিহুল বুখারি : ৭৪০৫, সহিহু মুসলিম: ২৬৭৫
৯৭. সহিহু মুসলিম: ২৬৭৬
৯৮. সুনানুত তিরমিজি: ৩৩৭৫, সুনানু ইবনি মাজাহ : ৩৭৯৩
৯৯. সুনানুত তিরমিজি: ৩৩৭৭, মুসনাদু আহমাদ: ২৭৫২৫
📄 আত্মপর্যালোচনা করা
উমর বিন খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'তোমাদের হিসাব গ্রহণ করার পূর্বেই নিজেদের হিসাব নিজেরা নিয়ে নাও এবং তোমাদের কর্মগুলো ওজন দেওয়ার আগেই নিজেরা তা ওজন দিয়ে নাও। কারণ, আগামীকাল তোমাদের থেকে গৃহীত হিসাবের তুলনায় আজ তোমাদের হিসাব নিজেরা করে নেওয়া অধিক সহজ। আর সবচেয়ে বড় উপস্থাপনের জন্য নিজেদের তৈরি করো—যেদিন তোমাদের উপস্থাপন করা হবে, তোমাদের কোনো গোপন বিষয় লুকায়িত থাকবে না।'১০০
মাইমুন বিন মিহরান রহ. বলেন, 'কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুত্তাকি হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার অংশীদারের থেকে হিসাব নেওয়ার মতো করে নিজের হিসাব গ্রহণ করে এবং যতক্ষণ না সে নিজের পোশাক- পরিচ্ছদ এবং খাদ্য-পানীয়ের উৎস সম্পর্কে অবগতি অর্জন করে নেয়।'১০১
টিকাঃ
১০০. ইবনু আবিদ দুনিয়া রহ. রচিত মুহাসাবাতুন নাফস, পৃষ্ঠা নং ২২
১০১. কিতাবুজ জুহদ (ওয়াকি রহ. রচিত): ২/৫০১