📘 হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহ > 📄 আল্লাহর জন্য পরস্পর সাক্ষাৎ করা

📄 আল্লাহর জন্য পরস্পর সাক্ষাৎ করা


ইদরিস আল-আবদি অথবা আল-খাওলানি রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আমি একটি মজলিসে বসলাম, যেখানে ২০ জন সাহাবি উপস্থিত ছিলেন। তাদের মাঝে একজন ছিলেন অল্পবয়সী সুদর্শন যুবক। তার চক্ষুদ্বয় ছিল কাজল-কালো আর দাঁত ছিল উজ্জ্বল সাদা। তাদের মাঝে কোনো এক বিষয়ে মতানৈক্য সৃষ্টি হলো। তখন তিনি (যুবক সাহাবি) এমন একটি কথা বললেন, যা সবাই মেনে নিলেন। ততক্ষণে জানতে পারলাম, তিনি হচ্ছেন মুআজ বিন জাবাল রা.। পরদিন আমি তাঁর কাছে গেলাম। তখন তিনি একটি খুঁটির পাশে নামাজ পড়ছিলেন। অতঃপর তিনি নামাজ শেষ করে কাপড় গুটিয়ে বসলেন এবং চুপ করে রইলেন। আমি বললাম, “আল্লাহর কসম, আমি আপনাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসি।” তিনি বললেন, “আল্লাহরই জন্য?” আমি বললাম, “জি, আল্লাহরই জন্য।”

আমার যতদূর প্রবলভাবে মনে আছে, আল্লাহর জন্য পরস্পরকে ভালোবাসাকারীদের ব্যাপারে তিনি বলেছেন, “তারা কিয়ামতের দিন আল্লাহর (আরশের) ছায়া পাবে, যেদিন সেই ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না।” এর পরের অংশের ব্যাপারে আমার কিছুটা সন্দেহ রয়েছে। তা হলো, "তাদের জন্য নুরের চেয়ার বসানো হবে। আল্লাহর সাথে তাদের মজলিস দেখে নবিগণ, সিদ্দিকগণ ও শহিদগণ পর্যন্ত ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়বেন।”
বর্ণনাকারী বলেন, 'উবাদা বিন সামিত রা.-কে এ ব্যাপারে বললে তিনি বললেন, “আমি তোমাকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুখ থেকে শোনা কথাই শোনাচ্ছি। তিনি বলেন, “আমার জন্য যারা পরস্পর ভালোবাসে, আমার জন্য যারা ব্যয় করে, বন্ধুত্ব স্থাপন করে, আমার জন্য যারা পরস্পরের সাথে আত্মীয়তা রক্ষা করে, (অথবা বললেন) আমার জন্য যারা একে অপরকে দেখতে যায়, তাদের জন্য আমার ভালোবাসা অপরিহার্য হয়ে পড়ে।”৭৯

টিকাঃ
৭৯. মুসনাদু আহমাদ: ২২০০২

📘 হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহ > 📄 সফরের সময় সফরের দুআর প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা

📄 সফরের সময় সফরের দুআর প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা


ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোনো সফরের উদ্দেশ্যে তাঁর উটের ওপর আরোহণ করতেন, তিনবার “আল্লাহু আকবার” বলতেন। অতঃপর বলতেন : سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا، وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ، وَإِنَّا إِلَى رَبَّنَا لَمُنْقَلِبُونَ، اللهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ فِي سَفَرِنَا هَذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى، وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى، اللهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هَذَا، وَاطْوِ عَنَّا بُعْدَهُ، اللهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ، وَالْخَلِيفَةُ فِي الْأَهْلِ، اللهُمَّ إِنِّي
أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ، وَكَابَةِ الْمَنْظَرِ، وَسُوءِ الْمُنْقَلَبِ فِي الْمَالِ وَالْأَهْلِ
“সেই মহান সত্তার পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি, যিনি এটাকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন; অথচ আমরা সমর্থ ছিলাম না এটাকে বশীভূত করতে। আর আমরা অবশ্যই আমাদের রবের নিকট প্রত্যাবর্তন করব। হে আল্লাহ, আমাদের এ সফরে আমরা আপনার নিকট কল্যাণ, তাকওয়া এবং আপনাকে সন্তুষ্টকারী কর্ম প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ, আমাদের এ সফরকে আমাদের জন্য সহজ করুন এবং এর দূরত্ব কমিয়ে দিন। হে আল্লাহ, আপনিই আমাদের সফরসঙ্গী এবং আমাদের পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক। হে আল্লাহ, আপনার কাছে সফরের কষ্ট, দুঃখজনক দৃশ্য এবং ফিরে এসে সম্পদ ও পরিবারের ক্ষতিকর পরিবর্তন থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”

এরপর সফর থেকে ফিরে এসেও এ দুআ পাঠ করতেন, তবে তার সাথে এতটুকু বাড়িয়ে বলতেন :
آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ
“আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তাওবাকারী এবং আমাদের প্রতিপালকের সপ্রশংস ইবাদতকারী।"৮০

টিকাঃ
৮০. সহিহু মুসলিম : ১৩৪২

📘 হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহ > 📄 নিয়মিত মিসওয়াক করা

📄 নিয়মিত মিসওয়াক করা


আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي أَوْ عَلَى النَّاسِ لَأَمَرْتُهُمْ بِالسَّوَاكِ مَعَ كُلِّ صَلَاةٍ
'যদি আমার উম্মত বা মানুষের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে প্রত্যেক নামাজের সময় মিসওয়াক করার আদেশ করতাম। '৮১

হুজাইফা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাহাজ্জুদের জন্য উঠতেন, তখন মিসওয়াক দিয়ে নিজের মুখ পরিষ্কার করতেন। '৮২

আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাঁর ঘরে প্রবেশ করতেন, তখন প্রথমে মিসওয়াক করতেন। '৮৩

আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
عَشْرُ مِنَ الْفِطْرَةِ: قَصُّ الشَّارِبِ، وَإِعْفَاءُ اللَّحْيَةِ، وَالسَّوَاكُ، وَاسْتِنْشَاقُ الْمَاءِ، وَقَصُّ الْأَطْفَارِ، وَغَسْلُ الْبَرَاجِمِ، وَنَتْفُ الْإِبِطِ، وَحَلْقُ الْعَانَةِ، وَانْتِقَاصُ الْمَاءِ
‘দশটি কাজ ফিতরাত (মানুষের প্রকৃতিগত স্বভাব)- এর অন্তর্ভুক্ত : গোঁফ খাটো করা, দাড়ি লম্বা করা, মিসওয়াক করা, নাকে পানি দেওয়া, নখ কাটা, আঙুলের গিরাসমূহ ধোয়া, বগলের পশম উপড়ে ফেলা, নাভির নিচের পশম কাটা এবং পানি দ্বারা ইসতিনজা করা।’

হাদিসের রাবি মুসআব বলেন, ‘আমি দশম কাজটি ভুলে গেছি, তবে সেটি “কুলি করা” হতে পারে।’৮৪

আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন :
السَّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ، مَرْضَاةُ لِلرَّبِّ
‘মিসওয়াক মুখের জন্য পরিচ্ছন্নতা এবং রবের সন্তুষ্টির মাধ্যম।’৮৫

টিকাঃ
৮১. সহিহুল বুখারি: ৮৮৭
৮২. সহিহুল বুখারি : ১১৩৬
৮৩. সহিহু মুসলিম : ২৫৩
৮৪. সহিহু মুসলিম: ২৬১
৮৫. মুসনাদু আহমাদ: ২৪২০৩

📘 হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহ > 📄 পানাহার এবং খরচের ব্যাপারে মিতব্যয়ী হওয়া

📄 পানাহার এবং খরচের ব্যাপারে মিতব্যয়ী হওয়া


মুআজ বিন জাবাল রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ইয়ামানে পাঠানোর সময় বললেন :
إِيَّاكَ وَالتَّنَعُّمَ فَإِنَّ عِبَادَ اللَّهِ لَيْسُوا بِالْمُتَنَعِّمِينَ
'বিলাসিতার ব্যাপারে সতর্ক থেকো। কারণ, আল্লাহর বান্দাগণ বিলাসী হন না।'৮৬

আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরিবার তাঁর মৃত্যু অবধি একাধারে তিন দিন আহার করে পরিতৃপ্ত হননি।'৮৭

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন যে, তিনি কোনো দিন রুটি ও জাইতুন দ্বারা একদিনে দুবার পরিতৃপ্ত হননি।'৮৮

জাবির বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছেন :
فِرَاشُ لِلرَّجُلِ، وَفِرَاشُ لِامْرَأَتِهِ، وَالثَّالِثُ لِلضَّيْفِ، وَالرَّابِعُ لِلشَّيْطَانِ
‘একটি বিছানা পুরুষের, একটি বিছানা তার স্ত্রীর, তৃতীয় বিছানা মেহমানের জন্য, আর (এগুলো ছাড়াও যদি অপ্রয়োজনীয় আরেকটি থাকে, তবে) চতুর্থটি শয়তানের জন্য।’৮৯

আমর বিন শুআইব তার পিতা থেকে এবং তার পিতা তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
كُلُوا وَاشْرَبُوا وَالبَسُوا وَتَصَدَّقُوا فِي غَيْرِ إِسْرَافٍ وَلَا مَخِيلَةٍ
‘অপচয় ও অহংকার ব্যতীত খাও, পান করো, পরিধান করো এবং সদাকা করো।’৯০

মিকদাদ বিন মাদিকারুবা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি—
مَا مَلَأَ آدَمِيُّ وِعَاءً شَرًّا مِنْ بَطْنٍ حَسْبُ الْآدَمِيِّ لُقَيْمَاتُ يُقِمْنَ صُلْبَهُ فَإِنْ غَلَبَتْ الْآدَمِيَّ نَفْسُهُ فَثُلُثُ لِلطَّعَامِ وَثُلُثُ لِلشَّرَابِ وَثُلُثُ لِلنَّفَسِ
“পেটের চেয়ে মন্দ কোনো পাত্র মানুষ ভরাট করে না। মেরুদণ্ড সোজা রাখার জন্য কয়েক লোকমা খাবারই আদম-সন্তানের জন্য যথেষ্ট। যদি কারও জন্য আরও বেশি ছাড়া সম্ভব না হয়, তবে পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয় (তরল)-এর জন্য আর অবশিষ্ট এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখবে।”৯১

আমর বিন আওফ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু উবাইদা বিন জাররাহ রা.-কে বাহরাইনের জিজিয়া আদায় করতে পাঠালেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাহরাইনবাসীর সাথে চুক্তি করে সেখানে আলা বিন হাজরামিকে আমির নিযুক্ত করেছিলেন।
অতঃপর আবু উবাইদা রা. বাহরাইন থেকে মাল (জিজিয়া) নিয়ে আসলেন। আনসারি সাহাবিগণ আবু উবাইদা রা.-এর আগমনের খবর জানতে পারলেন। তাঁরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে মিলিত হয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। নামাজ শেষে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের প্রতি ফিরে বসলেন। অতঃপর তাঁদের দেখে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুচকি হেসে বললেন, “মনে হচ্ছে, তোমরা আবু উবাইদার আগমনের সংবাদ শুনতে পেয়েছ।”

তাঁরা বললেন, “জি হ্যাঁ, ইয়া রাসুলাল্লাহ!”

তখন তিনি বললেন : فَأَبْشِرُوا وَأَمِّلُوا مَا يَسُرُّكُمْ، فَوَاللهِ مَا الفَقْرَ أَخْشَى عَلَيْكُمْ، وَلَكِنِّي أَخْشَى أَنْ تُبْسَطَ عَلَيْكُمُ الدُّنْيَا كَمَا بُسِطَتْ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ، فَتَنَافَسُوهَا كَمَا تَنَافَسُوهَا، وَتُهْلِكَكُمْ كَمَا أَهْلَكَتْهُمْ
“তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো এবং আনন্দ দানকারী জিনিসের আশা রাখো। তবে আল্লাহর শপথ, আমি তোমাদের ব্যাপারে দারিদ্র্যের ভয় করছি না; বরং আমি আশঙ্কা করছি, পূর্ববর্তীদের মতো তোমাদের জন্যও দুনিয়াকে প্রশস্ত করে দেওয়া হবে এবং তাদের মতো তোমরা তাকে নিয়ে পরস্পর প্রতিযোগিতায় মেতে উঠবে, ফলে দুনিয়া তাদের যেভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে, তোমাদেরও সেভাবে ধ্বংস করে দেবে।”’৯২

টিকাঃ
৮৬. মুসনাদু আহমাদ : ২২১০৫
৮৭. সহিহুল বুখারি : ৫৩৭৪
৮৮. সহিহু মুসলিম : ২৯৭৪
৮৯. সহিহ মুসলিম : ২০৮৪
৯০. সহিহুল বুখারি, তালিক : ৭/১৪০
৯১. সুনানুত তিরমিজি, হাদিসটি এভাবে বর্ণিত হয়েছে (হাদিস : ২৩৮০) : مَا مَلَأَ آدَمِيٌّ وِعَاءً شَرًّا مِنْ بَطْنٍ بِحَسْبِ ابْنِ آدَمَ أُكُلَاتُ يُقِمْنَ صُلْبَهُ، فَإِنْ كَانَ لَا مَحَالَةَ فَثُلُثُ لِطَعَامِهِ وَثُلُثُ لِشَرَابِهِ وَثُلُثُ لِنَفْسِهِ
৯২. সহিহুল বুখারি: ৪০১৫, সহিহু মুসলিম: ২৯৬১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00