📄 কোনো বিষয়ে দোদুল্যমানতায় পড়ে গেলে ইস্তিখারা করা
জাবির বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সকল ক্ষেত্রেই ইসতিখারার শিক্ষা দিতেন, যেমনিভাবে কুরআনের বিভিন্ন সুরা আমাদের শিক্ষা দিতেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যখন তোমাদের কারও সামনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে, তখন সে যেন ফরজ সালাত ছাড়া অতিরিক্ত দুই রাকআত নফল সালাত আদায় করে, অতঃপর বলে :
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ العَظِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلَّامُ الغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي - أَوْ قَالَ عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ - فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لي، ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي - أَوْ قَالَ فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ - فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ، وَاقْدُرْ لِي الخَيْرَ حَيْثُ كَانَ، ثُمَّ أَرْضِنِي
“হে আল্লাহ, আমি আপনার অবগতির মাধ্যমে আপনার কাছে ইসতিখারা (কল্যাণ প্রত্যাশা) করছি এবং আপনার কুদরতের মাধ্যমে শক্তি কামনা করছি। আপনার মহান অনুগ্রহ কামনা করছি। কারণ, আপনিই ক্ষমতাবান, আমার কোনো ক্ষমতা নেই। আপনি সবকিছু সম্পর্কে অবগত আর আমি অজ্ঞ। আপনি অদৃশ্য সম্পর্কে জ্ঞাত। হে আল্লাহ, আমার এ কাজটি (এ সময় নির্দিষ্ট কাজের কথা বলবে) আপনার জ্ঞান অনুযায়ী যদি আমার দ্বীন, পার্থিব জীবন এবং আমার শেষ পরিণামে ভালো হয়, তবে আমাকে তা অর্জনের শক্তি দিন এবং আমার জন্য তা সহজ করে দিয়ে তাতে আমার জন্য বরকত দিন। আর এ কাজটি আপনার জ্ঞান অনুযায়ী যদি আমার দ্বীন, পার্থিব জীবন এবং শেষ পরিণামে আমার জন্য অকল্যাণকর হয়, তবে আমাকে তা থেকে দূরে থাকুন এবং সেটাও আমার কাছ থেকে দূরে রাখুন। আমার জন্য যা কল্যাণকর, তা-ই অর্জন করার শক্তি দিন। তা যেখানেই থাক না কেন। তারপর আপনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন।”’⁷⁴
টিকাঃ
৭৪. সহিহুল বুখারি : ২/৫৭
📄 মুয়াজ্জিনের সাথে আজানের উত্তর দেওয়া
আবু সাইদ খুদরি রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
إِذَا سَمِعْتُمْ النَّدَاءَ، فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ الْمُؤَذِّن
'যখন তোমরা আজান শুনবে, তখন মুয়াজ্জিন যা বলে তার মতো তোমরাও বলবে।'⁷⁵
আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি—
إِذَا سَمِعْتُمُ الْمُؤَذِّنَ، فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ ثُمَّ صَلُّوا عَلَيَّ، فَإِنَّهُ مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا، ثُمَّ سَلُوا اللهَ لِيَ الْوَسِيلَةَ، فَإِنَّهَا مَنْزِلَةٌ فِي الْجَنَّةِ، لَا تَنْبَغِي إِلَّا لِعَبْدٍ مِنْ عِبَادِ اللهِ، وَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَنَا هُوَ، فَمَنْ سَأَلَ لِي الْوَسِيلَةَ حَلَّتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ
“যখন তোমরা মুয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাবে, তখন তার মতো বলবে। এরপর আমার ওপর দরুদ পড়বে। কারণ, যে আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি দশটি রহমত বর্ষণ করবেন। তারপর আমার জন্য আল্লাহর কাছে অসিলার প্রার্থনা করবে। কারণ, এটি জান্নাতের একটি বিশেষ স্থান—যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কোনো এক বান্দাকে দেওয়া হবে। আর আমি আশা রাখি, আমিই হবো সেই জন। সুতরাং যে আমার জন্য অসিলার দুআ করবে, তার জন্য আমার সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে যাবে।””⁷⁶
উমর বিন খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
إِذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ : اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ، فَقَالَ أَحَدُكُمْ: اللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ، ثُمَّ قَالَ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، قَالَ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، ثُمَّ قَالَ: أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ قَالَ: أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، ثُمَّ قَالَ: حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ، قَالَ: لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، ثُمَّ قَالَ: حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ، قَالَ: لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ، ثُمَّ قَالَ: اللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ، قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ، ثُمَّ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مِنْ قَلْبِهِ دَخَلَ الْجَنَّةَ
'যখন মুয়াজ্জিন “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার” বলে, আর তোমাদের কেউ হৃদয় থেকে বলে, “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার”; ইমাম যখন বলে “আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”, সেও বলে “আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”; অতঃপর ইমাম যখন বলে “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ”, সেও বলে “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ”; ইমাম যখন বলে, “হাইয়া আলাস সালাহ”, সে বলে “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ”, যখন বলে “হাইয়া আলাল ফালাহ”, সে বলে “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ”, এরপর যখন বলে “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার”, সেও বলে “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার”; এবং যখন বলে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”, সেও বলে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”—তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।'⁷⁷
টিকাঃ
৭৫. সহিহুল বুখারি : ৬১১
৭৬. সহিহু মুসলিম: ৩৮৪
৭৭. সহিহু মুসলিম: ৩৮৫
📄 যানবাহনে আরোহণের সময় দুআ পড়া
আলি বিন রবিআ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি আলি রা.-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। তখন আরোহণের জন্য তাঁর কাছে একটি বাহন আনা হলো। যখন তিনি বাহনের ওপর পা রাখলেন, তিনবার “বিসমিল্লাহ” পাঠ করলেন। তারপর যখন পিঠে সোজা হয়ে বসলেন, তখন “আলহামদুলিল্লাহ” বললেন। অতঃপর বললেন : سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا، وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ
“সেই মহান সত্তার পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি, যিনি এটাকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন; অথচ আমরা সমর্থ ছিলাম না এটাকে বশীভূত করতে। আর আমরা অবশ্যই আমাদের রবের নিকট প্রত্যাবর্তন করব।”
এরপর তিনি তিনবার “আলহামদুলিল্লাহ” পাঠ করলেন এবং তিনবার “আল্লাহু আকবার” পাঠ করলেন। তারপর বললেন : سُبْحَانَكَ إِنِّي قَدْ ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
“তোমারই পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি। নিশ্চয় আমি নিজের প্রতি অবিচার করেছি। তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয় আপনিই গুনাহসমূহ ক্ষমা করেন।”
এরপর তিনি হাসলেন। আমি বললাম, “হে আমিরুল মুমিনিন, আপনি কী কারণে হাসলেন?” তিনি বললেন, “আমি যেমনটি করলাম, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে তেমনই করতে দেখেছি এবং পরে হাসতে দেখেছি।” তখন আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, “হে আল্লাহর রাসুল, আপনি কী কারণে হাসলেন?” তিনি বললেন, “তোমার রব সে বান্দার প্রতি অত্যন্ত খুশি হন, যে বলে : رَبِّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ غَيْرُكَ
“হে আমার রব, আমার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয় আপনি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।”৭৮
টিকাঃ
৭৮. সুনানুত তিরমিজি: ৩৪৪৬
📄 আল্লাহর জন্য পরস্পর সাক্ষাৎ করা
ইদরিস আল-আবদি অথবা আল-খাওলানি রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আমি একটি মজলিসে বসলাম, যেখানে ২০ জন সাহাবি উপস্থিত ছিলেন। তাদের মাঝে একজন ছিলেন অল্পবয়সী সুদর্শন যুবক। তার চক্ষুদ্বয় ছিল কাজল-কালো আর দাঁত ছিল উজ্জ্বল সাদা। তাদের মাঝে কোনো এক বিষয়ে মতানৈক্য সৃষ্টি হলো। তখন তিনি (যুবক সাহাবি) এমন একটি কথা বললেন, যা সবাই মেনে নিলেন। ততক্ষণে জানতে পারলাম, তিনি হচ্ছেন মুআজ বিন জাবাল রা.। পরদিন আমি তাঁর কাছে গেলাম। তখন তিনি একটি খুঁটির পাশে নামাজ পড়ছিলেন। অতঃপর তিনি নামাজ শেষ করে কাপড় গুটিয়ে বসলেন এবং চুপ করে রইলেন। আমি বললাম, “আল্লাহর কসম, আমি আপনাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসি।” তিনি বললেন, “আল্লাহরই জন্য?” আমি বললাম, “জি, আল্লাহরই জন্য।”
আমার যতদূর প্রবলভাবে মনে আছে, আল্লাহর জন্য পরস্পরকে ভালোবাসাকারীদের ব্যাপারে তিনি বলেছেন, “তারা কিয়ামতের দিন আল্লাহর (আরশের) ছায়া পাবে, যেদিন সেই ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না।” এর পরের অংশের ব্যাপারে আমার কিছুটা সন্দেহ রয়েছে। তা হলো, "তাদের জন্য নুরের চেয়ার বসানো হবে। আল্লাহর সাথে তাদের মজলিস দেখে নবিগণ, সিদ্দিকগণ ও শহিদগণ পর্যন্ত ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়বেন।”
বর্ণনাকারী বলেন, 'উবাদা বিন সামিত রা.-কে এ ব্যাপারে বললে তিনি বললেন, “আমি তোমাকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুখ থেকে শোনা কথাই শোনাচ্ছি। তিনি বলেন, “আমার জন্য যারা পরস্পর ভালোবাসে, আমার জন্য যারা ব্যয় করে, বন্ধুত্ব স্থাপন করে, আমার জন্য যারা পরস্পরের সাথে আত্মীয়তা রক্ষা করে, (অথবা বললেন) আমার জন্য যারা একে অপরকে দেখতে যায়, তাদের জন্য আমার ভালোবাসা অপরিহার্য হয়ে পড়ে।”৭৯
টিকাঃ
৭৯. মুসনাদু আহমাদ: ২২০০২