📄 সুরমা ব্যবহার করা
ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
إِنَّ مِنْ خَيْرِ أَكْحَالِكُمُ الْإِثْمِدَ إِنَّهُ يَجْلُو الْبَصَرَ، وَيُنْبِتُ الشَّعَرَ
'তোমাদের জন্য উত্তম সুরমা হলো ইসমিদ। নিশ্চয় এতে চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং পলকের পশম উৎপন্ন হয়।'৭১
টিকাঃ
৭১. সুনানুন নাসায়ি : ৫১১৩
📄 প্রতিমাসে তিন দিন রোজা রাখা
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমার প্রিয় বন্ধু (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে তিনটি বিষয়ের অসিয়ত করেছেন; আমি মৃত্যু পর্যন্ত সেগুলো পরিত্যাগ করব না। (এক) প্রতিমাসে তিন দিন রোজা রাখা, (দুই) চাশতের সালাত আদায় করা এবং (তিন) বিতরের সালাত আদায় করে ঘুমানো।’⁷²
আব্দুল্লাহ বিন আমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আমার ব্যাপারে এ খবর পৌঁছল যে, আমি বলেছি, “ যতদিন আমি বেঁচে থাকব, প্রতিদিন রোজা রাখব এবং সারা রাত সালাত আদায় করব।” (আমাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে) আমি বললাম, “আপনার জন্য আমার পিতামাতা কুরবান হোক! আমি সত্যি এমনটিই বলেছি।” তিনি বললেন, “তা করা তোমার পক্ষে অসম্ভব। তুমি বরং মাঝেমধ্যে সাওম পালন করবে এবং মাঝেমধ্যে সাওম ছাড়া কাটাবে। রাতের কিছু অংশ জাগ্রত থাকবে (ইবাদত করবে) এবং কিছু অংশ ঘুমাবে। আর মাসে তিন দিন সাওম পালন করবে। কারণ, নেক কাজের ফল তার দশগুণ। ফলে এভাবে সারা বছরের সাওম পালন হয়ে যাবে।”
আমি বললাম, “আমি এর চেয়েও বেশি করার সামর্থ্য রাখি।” তিনি বললেন, “তাহলে একদিন সাওম পালন করবে এবং দুদিন ছেড়ে দেবে।” আমি বললাম, “আমি এর চেয়েও বেশি করার সামর্থ্য রাখি।” তিনি বললেন, “তাহলে একদিন সাওম পালন করবে এবং একদিন ছেড়ে দেবে। আর এটিই হলো দাউদ আ.-এর সাওম। এটিই সর্বোত্তম সাওম।” আমি বললাম, “আমি তো এর চেয়েও বেশি করতে সামর্থ্য রাখি।” নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এর চেয়ে উত্তম সাওম আর নেই।””⁷³
টিকাঃ
৭২. সহিহুল বুখারি : ১১৭৮
৭৩. সহিহুল বুখারি : ১৯৬৭
📄 কোনো বিষয়ে দোদুল্যমানতায় পড়ে গেলে ইস্তিখারা করা
জাবির বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সকল ক্ষেত্রেই ইসতিখারার শিক্ষা দিতেন, যেমনিভাবে কুরআনের বিভিন্ন সুরা আমাদের শিক্ষা দিতেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যখন তোমাদের কারও সামনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে, তখন সে যেন ফরজ সালাত ছাড়া অতিরিক্ত দুই রাকআত নফল সালাত আদায় করে, অতঃপর বলে :
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ العَظِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلَّامُ الغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي - أَوْ قَالَ عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ - فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لي، ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي - أَوْ قَالَ فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ - فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ، وَاقْدُرْ لِي الخَيْرَ حَيْثُ كَانَ، ثُمَّ أَرْضِنِي
“হে আল্লাহ, আমি আপনার অবগতির মাধ্যমে আপনার কাছে ইসতিখারা (কল্যাণ প্রত্যাশা) করছি এবং আপনার কুদরতের মাধ্যমে শক্তি কামনা করছি। আপনার মহান অনুগ্রহ কামনা করছি। কারণ, আপনিই ক্ষমতাবান, আমার কোনো ক্ষমতা নেই। আপনি সবকিছু সম্পর্কে অবগত আর আমি অজ্ঞ। আপনি অদৃশ্য সম্পর্কে জ্ঞাত। হে আল্লাহ, আমার এ কাজটি (এ সময় নির্দিষ্ট কাজের কথা বলবে) আপনার জ্ঞান অনুযায়ী যদি আমার দ্বীন, পার্থিব জীবন এবং আমার শেষ পরিণামে ভালো হয়, তবে আমাকে তা অর্জনের শক্তি দিন এবং আমার জন্য তা সহজ করে দিয়ে তাতে আমার জন্য বরকত দিন। আর এ কাজটি আপনার জ্ঞান অনুযায়ী যদি আমার দ্বীন, পার্থিব জীবন এবং শেষ পরিণামে আমার জন্য অকল্যাণকর হয়, তবে আমাকে তা থেকে দূরে থাকুন এবং সেটাও আমার কাছ থেকে দূরে রাখুন। আমার জন্য যা কল্যাণকর, তা-ই অর্জন করার শক্তি দিন। তা যেখানেই থাক না কেন। তারপর আপনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন।”’⁷⁴
টিকাঃ
৭৪. সহিহুল বুখারি : ২/৫৭
📄 মুয়াজ্জিনের সাথে আজানের উত্তর দেওয়া
আবু সাইদ খুদরি রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
إِذَا سَمِعْتُمْ النَّدَاءَ، فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ الْمُؤَذِّن
'যখন তোমরা আজান শুনবে, তখন মুয়াজ্জিন যা বলে তার মতো তোমরাও বলবে।'⁷⁵
আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি—
إِذَا سَمِعْتُمُ الْمُؤَذِّنَ، فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ ثُمَّ صَلُّوا عَلَيَّ، فَإِنَّهُ مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا، ثُمَّ سَلُوا اللهَ لِيَ الْوَسِيلَةَ، فَإِنَّهَا مَنْزِلَةٌ فِي الْجَنَّةِ، لَا تَنْبَغِي إِلَّا لِعَبْدٍ مِنْ عِبَادِ اللهِ، وَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَنَا هُوَ، فَمَنْ سَأَلَ لِي الْوَسِيلَةَ حَلَّتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ
“যখন তোমরা মুয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাবে, তখন তার মতো বলবে। এরপর আমার ওপর দরুদ পড়বে। কারণ, যে আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি দশটি রহমত বর্ষণ করবেন। তারপর আমার জন্য আল্লাহর কাছে অসিলার প্রার্থনা করবে। কারণ, এটি জান্নাতের একটি বিশেষ স্থান—যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কোনো এক বান্দাকে দেওয়া হবে। আর আমি আশা রাখি, আমিই হবো সেই জন। সুতরাং যে আমার জন্য অসিলার দুআ করবে, তার জন্য আমার সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে যাবে।””⁷⁶
উমর বিন খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
إِذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ : اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ، فَقَالَ أَحَدُكُمْ: اللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ، ثُمَّ قَالَ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، قَالَ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، ثُمَّ قَالَ: أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ قَالَ: أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، ثُمَّ قَالَ: حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ، قَالَ: لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، ثُمَّ قَالَ: حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ، قَالَ: لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ، ثُمَّ قَالَ: اللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ، قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ، ثُمَّ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مِنْ قَلْبِهِ دَخَلَ الْجَنَّةَ
'যখন মুয়াজ্জিন “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার” বলে, আর তোমাদের কেউ হৃদয় থেকে বলে, “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার”; ইমাম যখন বলে “আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”, সেও বলে “আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”; অতঃপর ইমাম যখন বলে “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ”, সেও বলে “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ”; ইমাম যখন বলে, “হাইয়া আলাস সালাহ”, সে বলে “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ”, যখন বলে “হাইয়া আলাল ফালাহ”, সে বলে “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ”, এরপর যখন বলে “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার”, সেও বলে “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার”; এবং যখন বলে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”, সেও বলে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”—তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।'⁷⁷
টিকাঃ
৭৫. সহিহুল বুখারি : ৬১১
৭৬. সহিহু মুসলিম: ৩৮৪
৭৭. সহিহু মুসলিম: ৩৮৫