📘 হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহ > 📄 ঘুমানোর আগে বিছানা ঝেড়ে নেওয়া

📄 ঘুমানোর আগে বিছানা ঝেড়ে নেওয়া


আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'যখন তোমাদের কেউ শয্যা গ্রহণ করতে যায়, সে যেন তার লুঙ্গির ভেতরের অংশ দিয়ে বিছানা ঝেড়ে নেয়। কারণ, তার অবর্তমানে তার অগোচরে বিছানায় কষ্টদায়ক কোনো কিছু থাকতে পারে। অতঃপর বলবে :
بِاسْمِكَ رَبِّ وَضَعْتُ جَنْبِي وَبِكَ أَرْفَعُهُ، إِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِي فَارْحَمْهَا، وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ
“হে আমার প্রতিপালক, আপনার নামেই আমার দেহ বিছানায় রাখলাম এবং আপনার নামেই আবার উঠব। যদি আপনি ইতিমধ্যে আমার জান কবজ করে নেন, তাহলে তার ওপর দয়া করুন। আর যদি আমাকে ফিরিয়ে দেন, তবে আপনার নেক বান্দাদের হিফাজত করার ন্যায় তার হিফাজত করুন।”৭০

টিকাঃ
৭০. সহিহুল বুখারি : ৬৩২০

📘 হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহ > 📄 সুরমা ব্যবহার করা

📄 সুরমা ব্যবহার করা


ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
إِنَّ مِنْ خَيْرِ أَكْحَالِكُمُ الْإِثْمِدَ إِنَّهُ يَجْلُو الْبَصَرَ، وَيُنْبِتُ الشَّعَرَ
'তোমাদের জন্য উত্তম সুরমা হলো ইসমিদ। নিশ্চয় এতে চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং পলকের পশম উৎপন্ন হয়।'৭১

টিকাঃ
৭১. সুনানুন নাসায়ি : ৫১১৩

📘 হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহ > 📄 প্রতিমাসে তিন দিন রোজা রাখা

📄 প্রতিমাসে তিন দিন রোজা রাখা


আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমার প্রিয় বন্ধু (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে তিনটি বিষয়ের অসিয়ত করেছেন; আমি মৃত্যু পর্যন্ত সেগুলো পরিত্যাগ করব না। (এক) প্রতিমাসে তিন দিন রোজা রাখা, (দুই) চাশতের সালাত আদায় করা এবং (তিন) বিতরের সালাত আদায় করে ঘুমানো।’⁷²
আব্দুল্লাহ বিন আমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আমার ব্যাপারে এ খবর পৌঁছল যে, আমি বলেছি, “ যতদিন আমি বেঁচে থাকব, প্রতিদিন রোজা রাখব এবং সারা রাত সালাত আদায় করব।” (আমাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে) আমি বললাম, “আপনার জন্য আমার পিতামাতা কুরবান হোক! আমি সত্যি এমনটিই বলেছি।” তিনি বললেন, “তা করা তোমার পক্ষে অসম্ভব। তুমি বরং মাঝেমধ্যে সাওম পালন করবে এবং মাঝেমধ্যে সাওম ছাড়া কাটাবে। রাতের কিছু অংশ জাগ্রত থাকবে (ইবাদত করবে) এবং কিছু অংশ ঘুমাবে। আর মাসে তিন দিন সাওম পালন করবে। কারণ, নেক কাজের ফল তার দশগুণ। ফলে এভাবে সারা বছরের সাওম পালন হয়ে যাবে।”
আমি বললাম, “আমি এর চেয়েও বেশি করার সামর্থ্য রাখি।” তিনি বললেন, “তাহলে একদিন সাওম পালন করবে এবং দুদিন ছেড়ে দেবে।” আমি বললাম, “আমি এর চেয়েও বেশি করার সামর্থ্য রাখি।” তিনি বললেন, “তাহলে একদিন সাওম পালন করবে এবং একদিন ছেড়ে দেবে। আর এটিই হলো দাউদ আ.-এর সাওম। এটিই সর্বোত্তম সাওম।” আমি বললাম, “আমি তো এর চেয়েও বেশি করতে সামর্থ্য রাখি।” নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এর চেয়ে উত্তম সাওম আর নেই।””⁷³

টিকাঃ
৭২. সহিহুল বুখারি : ১১৭৮
৭৩. সহিহুল বুখারি : ১৯৬৭

📘 হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহ > 📄 কোনো বিষয়ে দোদুল্যমানতায় পড়ে গেলে ইস্তিখারা করা

📄 কোনো বিষয়ে দোদুল্যমানতায় পড়ে গেলে ইস্তিখারা করা


জাবির বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সকল ক্ষেত্রেই ইসতিখারার শিক্ষা দিতেন, যেমনিভাবে কুরআনের বিভিন্ন সুরা আমাদের শিক্ষা দিতেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যখন তোমাদের কারও সামনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে, তখন সে যেন ফরজ সালাত ছাড়া অতিরিক্ত দুই রাকআত নফল সালাত আদায় করে, অতঃপর বলে :
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ العَظِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلَّامُ الغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي - أَوْ قَالَ عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ - فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لي، ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي - أَوْ قَالَ فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ - فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ، وَاقْدُرْ لِي الخَيْرَ حَيْثُ كَانَ، ثُمَّ أَرْضِنِي
“হে আল্লাহ, আমি আপনার অবগতির মাধ্যমে আপনার কাছে ইসতিখারা (কল্যাণ প্রত্যাশা) করছি এবং আপনার কুদরতের মাধ্যমে শক্তি কামনা করছি। আপনার মহান অনুগ্রহ কামনা করছি। কারণ, আপনিই ক্ষমতাবান, আমার কোনো ক্ষমতা নেই। আপনি সবকিছু সম্পর্কে অবগত আর আমি অজ্ঞ। আপনি অদৃশ্য সম্পর্কে জ্ঞাত। হে আল্লাহ, আমার এ কাজটি (এ সময় নির্দিষ্ট কাজের কথা বলবে) আপনার জ্ঞান অনুযায়ী যদি আমার দ্বীন, পার্থিব জীবন এবং আমার শেষ পরিণামে ভালো হয়, তবে আমাকে তা অর্জনের শক্তি দিন এবং আমার জন্য তা সহজ করে দিয়ে তাতে আমার জন্য বরকত দিন। আর এ কাজটি আপনার জ্ঞান অনুযায়ী যদি আমার দ্বীন, পার্থিব জীবন এবং শেষ পরিণামে আমার জন্য অকল্যাণকর হয়, তবে আমাকে তা থেকে দূরে থাকুন এবং সেটাও আমার কাছ থেকে দূরে রাখুন। আমার জন্য যা কল্যাণকর, তা-ই অর্জন করার শক্তি দিন। তা যেখানেই থাক না কেন। তারপর আপনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন।”’⁷⁴

টিকাঃ
৭৪. সহিহুল বুখারি : ২/৫৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00