📄 সুন্নাতে মুয়াক্কাদাসমূহের প্রতি যত্নশীল হওয়া
ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে জোহরের পূর্বে দুই রাকআত এবং পরে দুই রাকআত, মাগরিবের পরে দুই রাকআত, ইশার পর দুই রাকআত এবং জুমআর পর দুই রাকআত সালাত আদায় করেছি। আর মাগরিব, ইশা ও জুমআর (দুই রাকআত) সালাত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে তাঁর ঘরেই আদায় করেছি। '৬৩
আব্দুল্লাহ বিন শাকিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি আয়িশা রা.-কে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নফল সালাতের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, “নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জোহরের আগে ঘরে চার রাকআত সালাত আদায় করতেন। অতঃপর (মসজিদে) বের হয়ে যেতেন এবং লোকদের সাথে সালাত আদায় করতেন। এরপর (ঘরে) প্রবেশ করে দুই রাকআত সালাত আদায় করতেন। তিনি লোকদের নিয়ে মাগরিবের সালাত আদায় করে (ঘরে) প্রবেশ করে দুই রাকআত সালাত আদায় করতেন। ইশার সময় লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে আমার ঘরে প্রবেশ করতেন এবং দুই রাকআত সালাত আদায় করতেন। তিনি রাতের বেলায় নয় রাকআত সালাত আদায় করতেন—যার মাঝে বিতরও ছিল। দীর্ঘ রাত পর্যন্ত দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতেন এবং দীর্ঘ রাত বসে আদায় করতেন। তিনি যখন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কিরাত পড়তেন, তখন দাঁড়ানো অবস্থাতেই রুকু ও সিজদা করতেন। আর যখন বসে বসে কিরাত পাঠ করতেন, তখন বসে বসেই রুকু ও সিজদা করতেন। তারপর সুবহে সাদিক উদিত হলে দুই রাকআত সালাত আদায় করতেন।””৬৪
উম্মে হাবিবা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি-
مَنْ صَلَّى اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً فِي يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ، بُنِيَ لَهُ بِهِنَّ بَيْتُ فِي الْجَنَّةِ
“যে ব্যক্তি প্রতি দিনে ও রাতে ১২ রাকআত সালাত (সুন্নাতে মুআক্কাদা) আদায় করবে, বিনিময়ে তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে।”’৬৫
আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'দুই রাকআত সালাত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে কোনো অবস্থাতেই পরিত্যাগ করতেন না। তা হলো, ফজরের আগের দুই রাকআত এবং আসরের পরের দুই রাকআত। '৬৬
আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের দুই রাকআত নফল সালাতের প্রতি অন্যান্য নফল সালাতের তুলনায় অধিক যত্নশীল ছিলেন। '৬৭
আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জোহরের পূর্বে চার রাকআত এবং ফজরের পূর্বের দুই রাকআত সালাত কখনো ছাড়তেন না।'৬৮
আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
رَكْعَتَا الْفَجْرِ خَيْرٌ مِنْ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا
‘ফজরের (আগের) দুই রাকআত সালাত দুনিয়া এবং দুনিয়ার মাঝে যা কিছু আছে, তার চেয়ে উত্তম।’৬৯
টিকাঃ
৬৩. সহিহু মুসলিম: ৭২৯
৬৪. সহিহু মুসলিম : ৭৩০
৬৫. সহিহু মুসলিম: ৭২৮
৬৬. সহিহুল বুখারি: ৫৯২
৬৭. সহিহুল বুখারি : ১১৬৩
৬৮. সহিহুল বুখারি : ১১৮২
৬৯. সহিহ মুসলিম : ৭২৫
📄 ঘুমানোর আগে বিছানা ঝেড়ে নেওয়া
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'যখন তোমাদের কেউ শয্যা গ্রহণ করতে যায়, সে যেন তার লুঙ্গির ভেতরের অংশ দিয়ে বিছানা ঝেড়ে নেয়। কারণ, তার অবর্তমানে তার অগোচরে বিছানায় কষ্টদায়ক কোনো কিছু থাকতে পারে। অতঃপর বলবে :
بِاسْمِكَ رَبِّ وَضَعْتُ جَنْبِي وَبِكَ أَرْفَعُهُ، إِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِي فَارْحَمْهَا، وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ
“হে আমার প্রতিপালক, আপনার নামেই আমার দেহ বিছানায় রাখলাম এবং আপনার নামেই আবার উঠব। যদি আপনি ইতিমধ্যে আমার জান কবজ করে নেন, তাহলে তার ওপর দয়া করুন। আর যদি আমাকে ফিরিয়ে দেন, তবে আপনার নেক বান্দাদের হিফাজত করার ন্যায় তার হিফাজত করুন।”৭০
টিকাঃ
৭০. সহিহুল বুখারি : ৬৩২০
📄 সুরমা ব্যবহার করা
ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
إِنَّ مِنْ خَيْرِ أَكْحَالِكُمُ الْإِثْمِدَ إِنَّهُ يَجْلُو الْبَصَرَ، وَيُنْبِتُ الشَّعَرَ
'তোমাদের জন্য উত্তম সুরমা হলো ইসমিদ। নিশ্চয় এতে চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং পলকের পশম উৎপন্ন হয়।'৭১
টিকাঃ
৭১. সুনানুন নাসায়ি : ৫১১৩
📄 প্রতিমাসে তিন দিন রোজা রাখা
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমার প্রিয় বন্ধু (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে তিনটি বিষয়ের অসিয়ত করেছেন; আমি মৃত্যু পর্যন্ত সেগুলো পরিত্যাগ করব না। (এক) প্রতিমাসে তিন দিন রোজা রাখা, (দুই) চাশতের সালাত আদায় করা এবং (তিন) বিতরের সালাত আদায় করে ঘুমানো।’⁷²
আব্দুল্লাহ বিন আমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আমার ব্যাপারে এ খবর পৌঁছল যে, আমি বলেছি, “ যতদিন আমি বেঁচে থাকব, প্রতিদিন রোজা রাখব এবং সারা রাত সালাত আদায় করব।” (আমাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে) আমি বললাম, “আপনার জন্য আমার পিতামাতা কুরবান হোক! আমি সত্যি এমনটিই বলেছি।” তিনি বললেন, “তা করা তোমার পক্ষে অসম্ভব। তুমি বরং মাঝেমধ্যে সাওম পালন করবে এবং মাঝেমধ্যে সাওম ছাড়া কাটাবে। রাতের কিছু অংশ জাগ্রত থাকবে (ইবাদত করবে) এবং কিছু অংশ ঘুমাবে। আর মাসে তিন দিন সাওম পালন করবে। কারণ, নেক কাজের ফল তার দশগুণ। ফলে এভাবে সারা বছরের সাওম পালন হয়ে যাবে।”
আমি বললাম, “আমি এর চেয়েও বেশি করার সামর্থ্য রাখি।” তিনি বললেন, “তাহলে একদিন সাওম পালন করবে এবং দুদিন ছেড়ে দেবে।” আমি বললাম, “আমি এর চেয়েও বেশি করার সামর্থ্য রাখি।” তিনি বললেন, “তাহলে একদিন সাওম পালন করবে এবং একদিন ছেড়ে দেবে। আর এটিই হলো দাউদ আ.-এর সাওম। এটিই সর্বোত্তম সাওম।” আমি বললাম, “আমি তো এর চেয়েও বেশি করতে সামর্থ্য রাখি।” নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এর চেয়ে উত্তম সাওম আর নেই।””⁷³
টিকাঃ
৭২. সহিহুল বুখারি : ১১৭৮
৭৩. সহিহুল বুখারি : ১৯৬৭