📄 মোরগের আওয়াজ শুনে দুআ করা এবং গাধার ডাক শুনে আশ্রয় প্রার্থনা করা
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : إِذَا سَمِعْتُمْ صِيَاحَ الدِّيَكَةِ فَاسْأَلُوا اللَّهَ مِنْ فَضْلِهِ، فَإِنَّهَا رَأَتْ مَلَكًا، وَإِذَا سَمِعْتُمْ نَهِيقَ الحِمَارِ فَتَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ، فَإِنَّهُ رَأَى شَيْطَانًا 'তোমরা যখন মোরগের আওয়াজ শুনবে, তখন আল্লাহর অনুগ্রহ কামনা করবে। কারণ, সে ফেরেশতা দেখতে পেয়েছে (বলেই আওয়াজ করেছে)। আর যখন গাধার ডাক শুনবে, তখন আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় চাইবে। কারণ, সে শয়তানকে দেখতে পেয়েছে (বলেই আওয়াজ করেছে)।'৪৩
টিকাঃ
৪৩. সহিহুল বুখারি: ৩৩০৩, সহিহু মুসলিম : ২৭২৯
📄 সালাত আদায়ের সময় সামনে ‘সুতরা’ বা বেড়াদণ্ড রাখা
• ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্য বর্শা পুঁতে দেওয়া হতো। অতঃপর তিনি সেদিকে ফিরে সালাত আদায় করতেন।'৪৫
আবু হুজাইফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'একদা দুপুরবেলা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট আগমন করলেন। তাঁর জন্য অজুর পানি আনা হলো। তিনি অজু করলেন এবং আমাদের নিয়ে জোহর ও আসরের সালাত আদায় করলেন। সালাতের সময় তাঁর সামনে ছিল লৌহযুক্ত ছড়ি, যার অপর পাশ দিয়ে মহিলা ও গাধা চলাচল করছিল।'৪৬
আবু সালিহ সাম্মাক রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি আবু সাইদ খুদরি রা.-কে জুমআর দিন লোকদের জন্য সুতরা হিসেবে সামনে কোনো কিছু রেখে সালাত আদায় করতে দেখেছি। আবু মুআইত গোত্রের এক যুবক তাঁর সামনে দিয়ে যেতে চাইল। আবু সাইদ রা. তার বুকে ধাক্কা মারলেন। যুবকটি লক্ষ করে দেখল, তাঁর সামনে দিয়ে যাওয়া ছাড়া কোনো পথ নেই। তাই সে পুনরায় অতিক্রম করতে চাইল। কিন্তু আবু সাইদ রা. এবার আগের তুলনায় আরও জোরে ধাক্কা দিলেন। অতঃপর যুবকটি মারওয়ানের নিকট গিয়ে আবু সাইদ রা.-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করল। আবু সাইদ রা.-ও তার পিছু পিছু মারওয়ানের নিকট প্রবেশ করলেন। মারওয়ান বললেন, “হে আবু সাইদ, আপনার ও আপনার ভাতিজার ব্যাপার কী?” আবু সাইদ রা. বললেন, “আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি—
إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ إِلَى شَيْءٍ يَسْتُرُهُ مِنَ النَّاسِ فَأَرَادَ أَحَدٌ أَنْ يَجْتَازَ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَلْيَدْفَعْهُ فَإِنْ أَبَى فَلْيُقَاتِلْهُ فَإِنَّمَا هُوَ شَيْطَانٌ
“তোমাদের কেউ যদি তার সামনে সুতরা রেখে সালাত আদায় করে, আর অন্য কেউ তার সামনে দিয়ে (সুতরার ভেতর দিক দিয়ে) অতিক্রম করতে চায়, তাহলে যেন সে তাকে বাধা দেয়। যদি সে না মানে, তবে যেন তার সাথে লড়াই করে। কারণ, সে শয়তান।””৪৭
টিকাঃ
৪৪. সুতরা হলো, সালাত আদায়কারীর সামনে একহাত লম্বা সাইজের কোনো লাঠি বা অন্য কিছু দিয়ে রাখা, যাতে কেউ সামনে দিয়ে গেলে অসুবিধা না হয়।
৪৫. সহিহুল বুখারি: ৪৯৮
৪৬. সহিহুল বুখারি: ৪৯৯, সহিহু মুসলিম : ৫০৩
৪৭. সহিহুল বুখারি: ৫০৯, সহিহু মুসলিম : ৫০৫
📄 নফল সালাত বাড়িতে আদায় করা
ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
اجْعَلُوا فِي بُيُوتِكُمْ مِنْ صَلَاتِكُمْ وَلَا تَتَّخِذُوهَا قُبُورًا
'তোমরা তোমাদের ঘরেও কিছু সালাত আদায় কোরো। ঘরকে কবরে পরিণত কোরো না। '৪৮
জাইদ বিন সাবিত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমাজান মাসে একটি ছোট কামরা বানালেন। তিনি (হাদিসের মূল বর্ণনাকারী বিশর বিন সাইদ) বলেন, মনে হয় (জাইদ বিন সাবিত রা.) কামরাটি চাটাইয়ের তৈরি ছিল বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সেখানে কয়েক রাত সালাত আদায় করলেন। তখন সাহাবিদের কেউ কেউ তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করতে লাগলেন। এ ব্যাপারে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন জানতে পারলেন, তখন তিনি নামাজ পড়া থেকে বিরত হলেন এবং তাদের নিকট বের হয়ে বললেন :
قَدْ عَرَفْتُ الَّذِي رَأَيْتُ مِنْ صَنِيعِكُمْ، فَصَلُّوا أَيُّهَا النَّاسُ فِي بُيُوتِكُمْ، فَإِنَّ أَفْضَلَ الصَّلَاةِ صَلَاةُ المَرْءِ فِي بَيْتِهِ إِلَّا المَكْتُوبَةَ
“তোমাদের কার্যকলাপ দেখে আমি বুঝতে পেরেছি। হে লোকসকল, তোমরা তোমাদের ঘরে সালাত আদায় কোরো। কারণ, ফরজ সালাত ব্যতীত লোকদের ঘরে আদায় করা সালাতই সর্বোত্তম।”৪৯
টিকাঃ
৪৮. সহিহুল বুখারি: ৪৩২
৪৯. সহিহুল বুখারি: ৭৩১
📄 চাশতের সালাত আদায় করা
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমার প্রিয় বন্ধু (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে তিনটি বিষয়ের ওসিয়ত করেছেন; আমি মৃত্যু পর্যন্ত সেগুলো পরিত্যাগ করব না। (এক) প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা, (দুই) চাশতের সালাত আদায় করা এবং (তিন) বিতরের সালাত আদায় করে ঘুমানো।৫০
• আবু জার রা. থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
يُصْبِحُ عَلَى كُلِّ سُلَامَى مِنْ أَحَدِكُمْ صَدَقَةٌ، فَكُلُّ تَسْبِيحَةٍ صَدَقَةٌ، وَكُلُّ تَحْمِيدَةٍ صَدَقَةٌ، وَكُلُّ تَهْلِيلَةٍ صَدَقَةٌ، وَكُلُّ تَكْبِيرَةٍ صَدَقَةٌ، وَأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ صَدَقَةٌ، وَنَهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ صَدَقَةٌ، وَيُجْزِئُ مِنْ ذَلِكَ رَكْعَتَانِ يَرْكَعُهُمَا مِنَ الضُّحَى
'তোমাদের কেউ যখন ভোরবেলায় উপনীত হয়, তখন তার প্রতিটি জোড়ার ওপর একটি সদাকা ওয়াজিব হয়। তবে প্রত্যেক “সুবহানাল্লাহ” বলা সদাকা, প্রত্যেক “আলহামদুলিল্লাহ” বলা সদাকা, প্রত্যেক “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলা সদাকা, প্রত্যেক “আল্লাহু আকবার” বলা সদাকা, আমর বিল মারুফ (সৎ কাজের আদেশ) সদাকা এবং নাহি আনিল মুনকার (অসৎ কাজে বাধা দান) সদাকা। আর চাশতের সময় দুই রাকআত সালাত আদায় করা এ সবের পক্ষ থেকে যথেষ্ট। '৫১
টিকাঃ
৫০. সহিহুল বুখারি : ১১৭৮
৫১. সহিহু মুসলিম: ৭২০