📄 নামাজে সালাম ফেরানোর আগে বেশি বেশি দুআ করা
• নবিজির স্ত্রী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতে এই দুআ পড়তেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ المَسِيحِ الدَّجَّالِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ المَحْيَا، وَفِتْنَةِ المَمَاتِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ المَأْثَمِ وَالمَغْرَمِ
“হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে কবরের আজাব থেকে আশ্রয় চাইছি, দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় কামনা করছি এবং জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে আশ্রয় কামনা করছি। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে গুনাহ ও ঋণ থেকে আশ্রয় চাইছি।””
এক লোক বলল, ‘আপনি কেন বেশি বেশি ঋণ থেকে আশ্রয় কামনা করেন?’ তিনি বললেন, ‘কারণ, যখন কেউ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে, তখন কথা বললে মিথ্যা বলে এবং প্রতিশ্রুতি দিলে ভঙ্গ করে।’³⁶
• আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমরা যখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করতাম, তখন বলতাম : السَّلَامُ عَلَى اللهِ مِنْ عِبَادِهِ السَّلَامُ عَلَى فُلَانٍ وَفُلَانٍ
"বান্দাদের পক্ষ থেকে আল্লাহ তাআলার ওপর সালাম বর্ষিত হোক এবং অমুক ও অমুকের ওপর সালাম বর্ষিত হোক।”
অতঃপর نবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা এ রকম বলো না যে, “আল্লাহর ওপর সালাম বর্ষিত হোক”। কেননা, আল্লাহ তো নিজেই সালাম; বরং তোমরা বলো : التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ
“যাবতীয় অভিবাদন, প্রশংসা ও পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবি, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত অবতীর্ণ হোক। আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।”
তোমরা এই দুআ করলে আল্লাহ তাআলার প্রত্যেক বান্দার কাছে তা পৌঁছে যায়; চাই সে আসমানে থাকুক, অথবা আসমান বা জমিনের মাঝে থাকুক। (অতঃপর বলবে :)
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
“আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসুল।”
এরপর সালাত আদায়কারী তার পছন্দনীয় যেকোনো দুআ করবে।””³⁷
• আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ তাশাহহুদ পাঠ করবে, তখন যেন চারটি বিষয় থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে সে বলে :
اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ
“হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে জাহান্নাম, কবরের আজাব, জীবন ও মরণের ফিতনা এবং মাসিহে দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।””³⁸
• ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নামাজে বৈঠক করতেন, তখন ডান হাত হাঁটুর ওপর রাখতেন এবং বৃদ্ধাঙ্গুলির পার্শ্ববর্তী (শাহাদাত) আঙুল উঠিয়ে ইশারা করতেন এবং বাঁ হাত বাঁ হাঁটুর ওপর ছড়িয়ে রাখতেন.'⁷⁹
• আলি বিন আবি তালিব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাশাহহুদ ও সালামের মাঝে শেষ যা বলতেন, তা হলো : اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ، وَمَا أَسْرَفْتُ، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ
“হে আল্লাহ ক্ষমা করে দিন আমার সকল গুনাহ— যা আগে করেছি, যা পরে করেছি, যা গোপন করেছি, যা প্রকাশ্যে করেছি, যা সীমালঙ্ঘন করে করেছি এবং যা সম্পর্কে আপনি আমার চেয়ে ভালো জানেন। আপনিই অগ্রগামী করেন এবং আপনিই পশ্চাদগামী করেন। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।”'⁸⁰
• আবু বকর সিদ্দিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বললেন, 'আমাকে এমন একটি দুআ শিখিয়ে দিন, যার মাধ্যমে সালাতে দুআ করতে পারি।' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'তুমি পড়বে :
اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا، وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ، وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الغَفُورُ الرَّحِيمُ
“হে আল্লাহ, আমি আমার সত্তার ওপর সীমাহীন অন্যায় করেছি। আপনি ছাড়া পাপমোচনকারী কেউ নেই। তাই আপনি নিজ পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা করে দিন এবং আমার প্রতি দয়া করুন। নিশ্চয় আপনিই ক্ষমাশীল ও দয়াকারী।””⁴¹
টিকাঃ
৩৬. সহিহুল বুখারি : ৮৩২, সহিহু মুসলিম: ৫৮৯
৩৭. সহিহুল বুখারি : ৮৩৫
৩৮. সহিহু মুসলিম: ৫৮৮
৭৯. সুনানুত তিরমিজি : ২৯৪
৮০. সহিহু মুসলিম : ৭৭২, সুনানুত তিরমিজি : ৩৪২১
৪১. সহিহুল বুখারি: ৮৩৪
📄 পরিচিত ও অপরিচিত সবাইকে সালাম দেওয়া
আব্দুল্লাহ বিন আমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘এক লোক নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে জানতে চাইল, “ইসলামের কোন কাজ সবচাইতে উত্তম?” রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন :
تُطْعِمُ الطَّعَامَ، وَتَقْرَأُ السَّلَامَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفْ
“তুমি (লোকদের) আহার করাবে এবং পরিচিত- অপরিচিত সবাইকে সালাম দেবে।””⁴²
টিকাঃ
৪২. সহিহুল বুখারি : ১২, সহিহু মুসলিম: ৩৯
📄 মোরগের আওয়াজ শুনে দুআ করা এবং গাধার ডাক শুনে আশ্রয় প্রার্থনা করা
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : إِذَا سَمِعْتُمْ صِيَاحَ الدِّيَكَةِ فَاسْأَلُوا اللَّهَ مِنْ فَضْلِهِ، فَإِنَّهَا رَأَتْ مَلَكًا، وَإِذَا سَمِعْتُمْ نَهِيقَ الحِمَارِ فَتَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ، فَإِنَّهُ رَأَى شَيْطَانًا 'তোমরা যখন মোরগের আওয়াজ শুনবে, তখন আল্লাহর অনুগ্রহ কামনা করবে। কারণ, সে ফেরেশতা দেখতে পেয়েছে (বলেই আওয়াজ করেছে)। আর যখন গাধার ডাক শুনবে, তখন আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় চাইবে। কারণ, সে শয়তানকে দেখতে পেয়েছে (বলেই আওয়াজ করেছে)।'৪৩
টিকাঃ
৪৩. সহিহুল বুখারি: ৩৩০৩, সহিহু মুসলিম : ২৭২৯
📄 সালাত আদায়ের সময় সামনে ‘সুতরা’ বা বেড়াদণ্ড রাখা
• ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্য বর্শা পুঁতে দেওয়া হতো। অতঃপর তিনি সেদিকে ফিরে সালাত আদায় করতেন।'৪৫
আবু হুজাইফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'একদা দুপুরবেলা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট আগমন করলেন। তাঁর জন্য অজুর পানি আনা হলো। তিনি অজু করলেন এবং আমাদের নিয়ে জোহর ও আসরের সালাত আদায় করলেন। সালাতের সময় তাঁর সামনে ছিল লৌহযুক্ত ছড়ি, যার অপর পাশ দিয়ে মহিলা ও গাধা চলাচল করছিল।'৪৬
আবু সালিহ সাম্মাক রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি আবু সাইদ খুদরি রা.-কে জুমআর দিন লোকদের জন্য সুতরা হিসেবে সামনে কোনো কিছু রেখে সালাত আদায় করতে দেখেছি। আবু মুআইত গোত্রের এক যুবক তাঁর সামনে দিয়ে যেতে চাইল। আবু সাইদ রা. তার বুকে ধাক্কা মারলেন। যুবকটি লক্ষ করে দেখল, তাঁর সামনে দিয়ে যাওয়া ছাড়া কোনো পথ নেই। তাই সে পুনরায় অতিক্রম করতে চাইল। কিন্তু আবু সাইদ রা. এবার আগের তুলনায় আরও জোরে ধাক্কা দিলেন। অতঃপর যুবকটি মারওয়ানের নিকট গিয়ে আবু সাইদ রা.-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করল। আবু সাইদ রা.-ও তার পিছু পিছু মারওয়ানের নিকট প্রবেশ করলেন। মারওয়ান বললেন, “হে আবু সাইদ, আপনার ও আপনার ভাতিজার ব্যাপার কী?” আবু সাইদ রা. বললেন, “আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি—
إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ إِلَى شَيْءٍ يَسْتُرُهُ مِنَ النَّاسِ فَأَرَادَ أَحَدٌ أَنْ يَجْتَازَ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَلْيَدْفَعْهُ فَإِنْ أَبَى فَلْيُقَاتِلْهُ فَإِنَّمَا هُوَ شَيْطَانٌ
“তোমাদের কেউ যদি তার সামনে সুতরা রেখে সালাত আদায় করে, আর অন্য কেউ তার সামনে দিয়ে (সুতরার ভেতর দিক দিয়ে) অতিক্রম করতে চায়, তাহলে যেন সে তাকে বাধা দেয়। যদি সে না মানে, তবে যেন তার সাথে লড়াই করে। কারণ, সে শয়তান।””৪৭
টিকাঃ
৪৪. সুতরা হলো, সালাত আদায়কারীর সামনে একহাত লম্বা সাইজের কোনো লাঠি বা অন্য কিছু দিয়ে রাখা, যাতে কেউ সামনে দিয়ে গেলে অসুবিধা না হয়।
৪৫. সহিহুল বুখারি: ৪৯৮
৪৬. সহিহুল বুখারি: ৪৯৯, সহিহু মুসলিম : ৫০৩
৪৭. সহিহুল বুখারি: ৫০৯, সহিহু মুসলিম : ৫০৫