📄 পান করার সময় পাত্রের বাইরে নিশ্বাস ছাড়া এবং তিনবারে পান করা
• আব্দুল্লাহ বিন কাতাদা তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
إِذَا شَرِبَ أَحَدُكُمْ فَلَا يَتَنَفَّسُ فِي الإِنَاءِ، وَإِذَا أَتَى الخَلَاءَ فَلَا يَمَسَّ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ، وَلَا يَتَمَسَّحْ بِيَمِينِهِ
“তোমাদের কেউ যখন পান করে, তখন যেন পাত্রের ভেতর নিশ্বাস না ফেলে। আর যখন টয়লেটে যায়, তখন যেন ডান হাত দ্বারা নিজের লজ্জাস্থান স্পর্শ না করে এবং ডান হাত দ্বারা ইসতিনজা না করে।”²⁷
আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পান করার সময় তিনবার শ্বাস গ্রহণ করতেন এবং (এ সম্পর্কে) বলতেন, “এতে উত্তমরূপে তৃপ্তি লাভ হয়, পিপাসার ক্লেশ দ্রুত দূর হয় এবং অতি সহজে গলাধঃকরণ হয়।”'
আনাস রা. বলেন, 'পান করার সময় আমিও তিনবার শ্বাস গ্রহণ করে থাকি।'²⁸
টিকাঃ
২৭. সহিহুল বুখারি: ১৫৩
২৮. সহিহু মুসলিম: ২০২৮
📄 সফর থেকে ফিরে মসজিদে দুই রাকআত সালাত পড়া
কাব বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোনো সফর থেকে ফিরে আসতেন, তখন প্রথমে মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকআত সালাত আদায় করে নিতেন। অতঃপর লোকদের নিয়ে বসতেন...।'²⁹
টিকাঃ
২৯. সহিহুল বুখারি: ৪৪১৮, সহিহু মুসলিম : ২৭৬৯
📄 কবর জিয়ারত করা
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মায়ের কবর জিয়ারত করতে গেলেন। সেখানে তিনি নিজেও কাঁদলেন এবং আশপাশের লোকদেরও কাঁদালেন। অতঃপর বললেন, “আমি আমার রবের কাছে তার ব্যাপারে ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি চাইলাম, কিন্তু আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। তারপর আমি তার কবর জিয়ারতের ব্যাপারে অনুমতি চাইলাম। তখন আমাকে অনুমতি দেওয়া হলো। সুতরাং তোমরা কবর জিয়ারত করো। কারণ, তা মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।””³⁰
বুরাইদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :
نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ فَزُورُوهَا، وَنَهَيْتُكُمْ عَنْ لُحُومِ الْأَضَاحِي فَوْقَ ثَلَاثٍ، فَأَمْسِكُوا مَا بَدَا لَكُمْ، وَنَهَيْتُكُمْ عَنِ النَّبِيذِ إِلَّا فِي سِقَاءِ، فَاشْرَبُوا فِي الْأَسْقِيَةِ كُلَّهَا، وَلَا تَشْرَبُوا مُسْكِرًا
"আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করা থেকে নিষেধ করতাম, এখন তোমরা জিয়ারত করো। আমি তোমাদের কুরবানির গোশত তিন দিনের অধিক সময় রাখতে নিষেধ করতাম, কিন্তু এখন যতদিন সম্ভব তোমরা সংরক্ষণ করতে পারো। তোমাদের নাবিজ (খেজুর ভেজানো পানি) মশক ব্যতীত অন্য পাত্র থেকে পান করা হতে নিষেধ করতাম, এখন তোমরা সব পাত্র থেকেই পান করতে পারো, কিন্তু নেশা চলে আসলে পান কোরো না।"³¹
অপর এক বর্ণনায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :
نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ، فَزُورُوهَا، فَإِنَّ فِي زِيَارَتِهَا تَذْكِرَةً
'আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে বারণ করেছিলাম, তবে এখন জিয়ারত করতে পারো। কারণ, কবর জিয়ারত মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।’³²
আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'যে রাতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কাছে থাকতেন, সে রাতের শেষভাগে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম “বাকি” কবরস্থানে চলে যেতেন। তারপর এই দুআ পড়তেন-
السَّلَامُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ، وَأَتَاكُمْ مَا تُوعَدُونَ غَدًا مُؤَجَّلُونَ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللهُ بِكُمْ لَاحِقُونَ، اللهُمَّ اغْفِرْ لِأَهْلِ بَقِيعِ الْغَرْقَدِ
“তোমাদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক, ওহে ইমানদার কবরবাসী! পরকালীন যেসব প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল, তা তোমাদের নিকট এসে গেছে। আর আল্লাহর ইচ্ছায় আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হব। হে আল্লাহ, বাকি গারকাদ কবরবাসীদের তুমি ক্ষমা করে দাও।”³³
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবর জিয়ারতের প্রতি উৎসাহ প্রদানের পাশাপাশি কবর জিয়ারত-সম্পর্কিত নিষিদ্ধ বিষয়াবলিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
* আবু মারসাদ গানাবি রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন :
لَا تَجْلِسُوا عَلَى الْقُبُورِ، وَلَا تُصَلُّوا إِلَيْهَا
'তোমরা কবরের ওপর বোসো না এবং সেদিকে ফিরে সালাত আদায় কোরো না।'³⁴
* আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবর জিয়ারতকারী মহিলাদের ওপর অভিসম্পাত করেছেন।'³⁵
টিকাঃ
৩০. সহিহু মুসলিম : ৯৭৬
৩১. সহিহু মুসলিম: ৯৭৭
৩২. সুনানু আবি দাউদ: ৩২৩৫
৩৩. সহিহু মুসলিম: ৯৭৪
৩৪. সহিহু মুসলিম : ৯৭২
৩৫. সুনানুত তিরমিজি: ১০৫৬
📄 নামাজে সালাম ফেরানোর আগে বেশি বেশি দুআ করা
• নবিজির স্ত্রী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতে এই দুআ পড়তেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ المَسِيحِ الدَّجَّالِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ المَحْيَا، وَفِتْنَةِ المَمَاتِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ المَأْثَمِ وَالمَغْرَمِ
“হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে কবরের আজাব থেকে আশ্রয় চাইছি, দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় কামনা করছি এবং জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে আশ্রয় কামনা করছি। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে গুনাহ ও ঋণ থেকে আশ্রয় চাইছি।””
এক লোক বলল, ‘আপনি কেন বেশি বেশি ঋণ থেকে আশ্রয় কামনা করেন?’ তিনি বললেন, ‘কারণ, যখন কেউ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে, তখন কথা বললে মিথ্যা বলে এবং প্রতিশ্রুতি দিলে ভঙ্গ করে।’³⁶
• আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমরা যখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করতাম, তখন বলতাম : السَّلَامُ عَلَى اللهِ مِنْ عِبَادِهِ السَّلَامُ عَلَى فُلَانٍ وَفُلَانٍ
"বান্দাদের পক্ষ থেকে আল্লাহ তাআলার ওপর সালাম বর্ষিত হোক এবং অমুক ও অমুকের ওপর সালাম বর্ষিত হোক।”
অতঃপর نবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা এ রকম বলো না যে, “আল্লাহর ওপর সালাম বর্ষিত হোক”। কেননা, আল্লাহ তো নিজেই সালাম; বরং তোমরা বলো : التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ
“যাবতীয় অভিবাদন, প্রশংসা ও পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবি, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত অবতীর্ণ হোক। আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।”
তোমরা এই দুআ করলে আল্লাহ তাআলার প্রত্যেক বান্দার কাছে তা পৌঁছে যায়; চাই সে আসমানে থাকুক, অথবা আসমান বা জমিনের মাঝে থাকুক। (অতঃপর বলবে :)
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
“আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসুল।”
এরপর সালাত আদায়কারী তার পছন্দনীয় যেকোনো দুআ করবে।””³⁷
• আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ তাশাহহুদ পাঠ করবে, তখন যেন চারটি বিষয় থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে সে বলে :
اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ
“হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে জাহান্নাম, কবরের আজাব, জীবন ও মরণের ফিতনা এবং মাসিহে দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।””³⁸
• ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নামাজে বৈঠক করতেন, তখন ডান হাত হাঁটুর ওপর রাখতেন এবং বৃদ্ধাঙ্গুলির পার্শ্ববর্তী (শাহাদাত) আঙুল উঠিয়ে ইশারা করতেন এবং বাঁ হাত বাঁ হাঁটুর ওপর ছড়িয়ে রাখতেন.'⁷⁹
• আলি বিন আবি তালিব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাশাহহুদ ও সালামের মাঝে শেষ যা বলতেন, তা হলো : اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ، وَمَا أَسْرَفْتُ، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ
“হে আল্লাহ ক্ষমা করে দিন আমার সকল গুনাহ— যা আগে করেছি, যা পরে করেছি, যা গোপন করেছি, যা প্রকাশ্যে করেছি, যা সীমালঙ্ঘন করে করেছি এবং যা সম্পর্কে আপনি আমার চেয়ে ভালো জানেন। আপনিই অগ্রগামী করেন এবং আপনিই পশ্চাদগামী করেন। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।”'⁸⁰
• আবু বকর সিদ্দিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বললেন, 'আমাকে এমন একটি দুআ শিখিয়ে দিন, যার মাধ্যমে সালাতে দুআ করতে পারি।' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'তুমি পড়বে :
اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا، وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ، وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الغَفُورُ الرَّحِيمُ
“হে আল্লাহ, আমি আমার সত্তার ওপর সীমাহীন অন্যায় করেছি। আপনি ছাড়া পাপমোচনকারী কেউ নেই। তাই আপনি নিজ পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা করে দিন এবং আমার প্রতি দয়া করুন। নিশ্চয় আপনিই ক্ষমাশীল ও দয়াকারী।””⁴¹
টিকাঃ
৩৬. সহিহুল বুখারি : ৮৩২, সহিহু মুসলিম: ৫৮৯
৩৭. সহিহুল বুখারি : ৮৩৫
৩৮. সহিহু মুসলিম: ৫৮৮
৭৯. সুনানুত তিরমিজি : ২৯৪
৮০. সহিহু মুসলিম : ৭৭২, সুনানুত তিরমিজি : ৩৪২১
৪১. সহিহুল বুখারি: ৮৩৪