📄 পান করার সময় বসা
আনাস রা. নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি দাঁড়িয়ে পান করতে নিষেধ করেছেন। কাতাদা রা. বলেন, 'আমরা বললাম, “দাঁড়িয়ে আহার করা কেমন?” আনাস রা. বললেন, “তা আরও মন্দ ও নিকৃষ্ট।”'²⁰
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
لَا يَشْرَبَنَّ أَحَدٌ مِنْكُمْ قَائِمًا، فَمَنْ نَسِيَ فَلْيَسْتَقِى
“তোমাদের কেউ যেন দাঁড়িয়ে পান না করে। কেউ ভুলে পান করলে সে যেন তা বমি করে ফেলে।”'²¹
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা এক লোককে দাঁড়িয়ে পান করতে দেখে বললেন, “বমি করে ফেলো।” সে বলল, “কেন?” তিনি বললেন, “তুমি বিড়ালের সাথে পান করে আনন্দিত হবে কি?” সে বলল, “না।” তিনি বললেন, “কিন্তু (দাঁড়িয়ে পান করায়) তোমার সাথে শয়তান পান করেছে, যে কিনা বিড়ালের চেয়েও খারাপ।””²²
• আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে পান করাকে কঠোর ভাষায় নিষেধ করেছেন।'²³
অবশ্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে পান করাও বৈধ। তার প্রমাণ হচ্ছে :
• নাজ্জাল রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'কুফা মসজিদের ফটকে আলি রা.-এর নিকট পানি আনা হলে তিনি দাঁড়িয়ে পান করলেন। এরপর বললেন, “লোকজনের মধ্যে কেউ কেউ দাঁড়িয়ে পান করাকে মাকরুহ মনে করে; অথচ আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে এভাবে (দাঁড়িয়ে) পান করতে দেখেছি, যেভাবে তোমরা আমাকে দেখলে।””²⁴
* আমর বিন শুআইব রহ. তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন এবং তাঁর পিতা তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, 'আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দাঁড়িয়ে ও বসে—উভয় অবস্থায় পান করতে দেখেছি।'²⁵
* আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দাঁড়িয়ে পান করতে দেখেছি এবং বসেও পান করতে দেখেছি। খালি পায়ে সালাত আদায় করতে দেখেছি, জুতা পরিধান করেও আদায় করতে দেখেছি। সালাত আদায় শেষে ডান দিক থেকে ফিরে বসতে দেখেছি এবং বাঁ দিক থেকেও ফিরে বসতে দেখেছি।'²⁶
টিকাঃ
২০. সহিহু মুসলিম : ২০২৪
২১. সহিহু মুসলিম : ২০২৬
২২. মুসনাদু আহমাদ: ৮০০৩
২৩. সহিহু মুসলিম: ২০২৪
২৪. সহিহুল বুখারি: ৫৬১৫
২৫. সুনানুত তিরমিজি: ১৮৮৩
২৬. সুনানুন নাসায়ি: ১৩৬১
📄 পান করার সময় পাত্রের বাইরে নিশ্বাস ছাড়া এবং তিনবারে পান করা
• আব্দুল্লাহ বিন কাতাদা তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
إِذَا شَرِبَ أَحَدُكُمْ فَلَا يَتَنَفَّسُ فِي الإِنَاءِ، وَإِذَا أَتَى الخَلَاءَ فَلَا يَمَسَّ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ، وَلَا يَتَمَسَّحْ بِيَمِينِهِ
“তোমাদের কেউ যখন পান করে, তখন যেন পাত্রের ভেতর নিশ্বাস না ফেলে। আর যখন টয়লেটে যায়, তখন যেন ডান হাত দ্বারা নিজের লজ্জাস্থান স্পর্শ না করে এবং ডান হাত দ্বারা ইসতিনজা না করে।”²⁷
আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পান করার সময় তিনবার শ্বাস গ্রহণ করতেন এবং (এ সম্পর্কে) বলতেন, “এতে উত্তমরূপে তৃপ্তি লাভ হয়, পিপাসার ক্লেশ দ্রুত দূর হয় এবং অতি সহজে গলাধঃকরণ হয়।”'
আনাস রা. বলেন, 'পান করার সময় আমিও তিনবার শ্বাস গ্রহণ করে থাকি।'²⁸
টিকাঃ
২৭. সহিহুল বুখারি: ১৫৩
২৮. সহিহু মুসলিম: ২০২৮
📄 সফর থেকে ফিরে মসজিদে দুই রাকআত সালাত পড়া
কাব বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোনো সফর থেকে ফিরে আসতেন, তখন প্রথমে মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকআত সালাত আদায় করে নিতেন। অতঃপর লোকদের নিয়ে বসতেন...।'²⁹
টিকাঃ
২৯. সহিহুল বুখারি: ৪৪১৮, সহিহু মুসলিম : ২৭৬৯
📄 কবর জিয়ারত করা
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মায়ের কবর জিয়ারত করতে গেলেন। সেখানে তিনি নিজেও কাঁদলেন এবং আশপাশের লোকদেরও কাঁদালেন। অতঃপর বললেন, “আমি আমার রবের কাছে তার ব্যাপারে ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি চাইলাম, কিন্তু আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। তারপর আমি তার কবর জিয়ারতের ব্যাপারে অনুমতি চাইলাম। তখন আমাকে অনুমতি দেওয়া হলো। সুতরাং তোমরা কবর জিয়ারত করো। কারণ, তা মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।””³⁰
বুরাইদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :
نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ فَزُورُوهَا، وَنَهَيْتُكُمْ عَنْ لُحُومِ الْأَضَاحِي فَوْقَ ثَلَاثٍ، فَأَمْسِكُوا مَا بَدَا لَكُمْ، وَنَهَيْتُكُمْ عَنِ النَّبِيذِ إِلَّا فِي سِقَاءِ، فَاشْرَبُوا فِي الْأَسْقِيَةِ كُلَّهَا، وَلَا تَشْرَبُوا مُسْكِرًا
"আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করা থেকে নিষেধ করতাম, এখন তোমরা জিয়ারত করো। আমি তোমাদের কুরবানির গোশত তিন দিনের অধিক সময় রাখতে নিষেধ করতাম, কিন্তু এখন যতদিন সম্ভব তোমরা সংরক্ষণ করতে পারো। তোমাদের নাবিজ (খেজুর ভেজানো পানি) মশক ব্যতীত অন্য পাত্র থেকে পান করা হতে নিষেধ করতাম, এখন তোমরা সব পাত্র থেকেই পান করতে পারো, কিন্তু নেশা চলে আসলে পান কোরো না।"³¹
অপর এক বর্ণনায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :
نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ، فَزُورُوهَا، فَإِنَّ فِي زِيَارَتِهَا تَذْكِرَةً
'আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে বারণ করেছিলাম, তবে এখন জিয়ারত করতে পারো। কারণ, কবর জিয়ারত মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।’³²
আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'যে রাতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কাছে থাকতেন, সে রাতের শেষভাগে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম “বাকি” কবরস্থানে চলে যেতেন। তারপর এই দুআ পড়তেন-
السَّلَامُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ، وَأَتَاكُمْ مَا تُوعَدُونَ غَدًا مُؤَجَّلُونَ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللهُ بِكُمْ لَاحِقُونَ، اللهُمَّ اغْفِرْ لِأَهْلِ بَقِيعِ الْغَرْقَدِ
“তোমাদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক, ওহে ইমানদার কবরবাসী! পরকালীন যেসব প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল, তা তোমাদের নিকট এসে গেছে। আর আল্লাহর ইচ্ছায় আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হব। হে আল্লাহ, বাকি গারকাদ কবরবাসীদের তুমি ক্ষমা করে দাও।”³³
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবর জিয়ারতের প্রতি উৎসাহ প্রদানের পাশাপাশি কবর জিয়ারত-সম্পর্কিত নিষিদ্ধ বিষয়াবলিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
* আবু মারসাদ গানাবি রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন :
لَا تَجْلِسُوا عَلَى الْقُبُورِ، وَلَا تُصَلُّوا إِلَيْهَا
'তোমরা কবরের ওপর বোসো না এবং সেদিকে ফিরে সালাত আদায় কোরো না।'³⁴
* আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবর জিয়ারতকারী মহিলাদের ওপর অভিসম্পাত করেছেন।'³⁵
টিকাঃ
৩০. সহিহু মুসলিম : ৯৭৬
৩১. সহিহু মুসলিম: ৯৭৭
৩২. সুনানু আবি দাউদ: ৩২৩৫
৩৩. সহিহু মুসলিম: ৯৭৪
৩৪. সহিহু মুসলিম : ৯৭২
৩৫. সুনানুত তিরমিজি: ১০৫৬