📘 হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহ > 📄 সুন্নাতের পরিচয়

📄 সুন্নাতের পরিচয়


'সুন্নাত'-এর আভিধানিক অর্থ হলো 'পথ' ও 'আদর্শ'।

সামগ্রিক পরিভাষায় সুন্নাত: নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথা, কাজ ও মৌন সমর্থন।

মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় সুন্নাত : নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথা, কাজ, মৌন সমর্থন এবং তাঁর দৈহিক ও আদর্শিক গুণাবলি।

ফকিহদের পরিভাষায় সুন্নাত : সকল মুসতাহাব আমল— যার আদায়কারী প্রশংসিত কিন্তু পরিত্যাগকারী নিন্দিত নয়।

সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে ইমামদের গুরুত্বারোপ

জনৈক লোক ইমাম মালিক রহ.-এর নিকট এসে বললেন, 'আমরা কোথা হতে ইহরাম বাঁধব?'

মালিক রহ. বললেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের জন্য যে মিকাত (ইহরাম বাঁধার স্থান) নির্ধারণ করে দিয়েছেন সেখান থেকে।'

লোকটি বললেন, 'যদি আমি মিকাতে পৌঁছার আগেই ইহরাম বেঁধে নিই?'

তিনি বললেন, 'এ ব্যাপারে আমার কোনো অভিমত নেই।'
লোকটি বললেন, 'মিকাত অতিক্রম করে চলে গেলে, কী মনে করেন?'

তিনি বললেন, 'আমি তোমার ব্যাপারে ফিতনার আশঙ্কা করছি।'

লোকটি বললেন, 'ভালো কাজ বাড়িয়ে করায় ফিতনা কীসের?'

তিনি বললেন, 'আল্লাহ তাআলা বলেছেন : فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
“অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদের স্পর্শ করবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদের গ্রাস করবে।””¹⁰

ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ. বলেন, 'আমি এমন কোনো হাদিস লিপিবদ্ধ করিনি, যার ওপর নিজে আমল করিনি। এমনকি যখন আমার কাছে হাদিস পৌঁছল যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিঙা লাগিয়ে এর বিনিময়ে আবু তাইবাকে এক দিনার দিয়েছেন, তখন আমিও যখন শিঙা লাগাই, তখন চিকিৎসককে বিনিময়স্বরূপ এক দিনার দিলাম। '¹¹
আব্দুর রহমান বিন মাহদি রহ. বলেন, 'আমি সুফইয়ান রহ.- কে বলতে শুনেছি, “আমার কাছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যত হাদিস এসেছে, প্রত্যেক হাদিসের ওপর আমি অন্তত একবার হলেও আমল করেছি।””¹²

মুসলিম বিন ইয়াসার রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি জুতা পায়ে সালাত আদায় করি। যদিও জুতা খুলে ফেলা আমার জন্য অধিক আরামদায়ক, কিন্তু কেবল সুন্নাত পালনের উদ্দেশ্যেই আমি এমন করে থাকি।'¹³

ইবনে রজব রহ. বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পথে থেকে মধ্যমপন্থা অবলম্বনকারী অন্য পথে থেকে সর্বাত্মক চেষ্টাকারী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।'¹⁴

আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'সুন্নাত পালনে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা বিদআত পালনে অধিক মেহনত করা থেকে উত্তম।'¹⁵

ইবনুল কাইয়িম রহ. বলেন, 'যদি সমাজের রীতির বিপরীত হওয়ার অজুহাতে সুন্নাত ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে একসময় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর সকল সুন্নাত বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং শেষমেষ তার চিহ্নটুকুও মুছে যাবে।'

টিকাঃ
১০. সুরা আন-নুর: ৬৩
১১. মানাকিবুল ইমাম আহমাদ, পৃষ্ঠা নং ২৩২
১২. সিয়ারু আলামিন নুবালা: ৭/২৪২
১৩. কিতাবুজ জুহদ (ইমাম আহমাদ), পৃষ্ঠা নং ৩৫৫
১৪. লাতায়িফুল মাআরিফ, পৃষ্ঠা নং ২৭০
১৫. মুসতাদরাকুল হাকিম: ৩৫২

📘 হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহ > 📄 সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে ইমামদের গুরুত্বারোপ

📄 সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে ইমামদের গুরুত্বারোপ


জনৈক লোক ইমাম মালিক রহ.-এর নিকট এসে বললেন, 'আমরা কোথা হতে ইহরাম বাঁধব?'

মালিক রহ. বললেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের জন্য যে মিকাত (ইহরাম বাঁধার স্থান) নির্ধারণ করে দিয়েছেন সেখান থেকে।'

লোকটি বললেন, 'যদি আমি মিকাতে পৌঁছার আগেই ইহরাম বেঁধে নিই?'

তিনি বললেন, 'এ ব্যাপারে আমার কোনো অভিমত নেই।'
লোকটি বললেন, 'মিকাত অতিক্রম করে চলে গেলে, কী মনে করেন?'

তিনি বললেন, 'আমি তোমার ব্যাপারে ফিতনার আশঙ্কা করছি।'

লোকটি বললেন, 'ভালো কাজ বাড়িয়ে করায় ফিতনা কীসের?'

তিনি বললেন, 'আল্লাহ তাআলা বলেছেন : فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
“অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদের স্পর্শ করবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদের গ্রাস করবে।””¹⁰

ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ. বলেন, 'আমি এমন কোনো হাদিস লিপিবদ্ধ করিনি, যার ওপর নিজে আমল করিনি। এমনকি যখন আমার কাছে হাদিস পৌঁছল যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিঙা লাগিয়ে এর বিনিময়ে আবু তাইবাকে এক দিনার দিয়েছেন, তখন আমিও যখন শিঙা লাগাই, তখন চিকিৎসককে বিনিময়স্বরূপ এক দিনার দিলাম। '¹¹
আব্দুর রহমান বিন মাহদি রহ. বলেন, 'আমি সুফইয়ান রহ.- কে বলতে শুনেছি, “আমার কাছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যত হাদিস এসেছে, প্রত্যেক হাদিসের ওপর আমি অন্তত একবার হলেও আমল করেছি।””¹²

মুসলিম বিন ইয়াসার রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি জুতা পায়ে সালাত আদায় করি। যদিও জুতা খুলে ফেলা আমার জন্য অধিক আরামদায়ক, কিন্তু কেবল সুন্নাত পালনের উদ্দেশ্যেই আমি এমন করে থাকি।'¹³

ইবনে রজব রহ. বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পথে থেকে মধ্যমপন্থা অবলম্বনকারী অন্য পথে থেকে সর্বাত্মক চেষ্টাকারী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।'¹⁴

আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'সুন্নাত পালনে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা বিদআত পালনে অধিক মেহনত করা থেকে উত্তম।'¹⁵

ইবনুল কাইয়িম রহ. বলেন, 'যদি সমাজের রীতির বিপরীত হওয়ার অজুহাতে সুন্নাত ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে একসময় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর সকল সুন্নাত বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং শেষমেষ তার চিহ্নটুকুও মুছে যাবে।'

টিকাঃ
১০. সুরা আন-নুর: ৬৩
১১. মানাকিবুল ইমাম আহমাদ, পৃষ্ঠা নং ২৩২
১২. সিয়ারু আলামিন নুবালা: ৭/২৪২
১৩. কিতাবুজ জুহদ (ইমাম আহমাদ), পৃষ্ঠা নং ৩৫৫
১৪. লাতায়িফুল মাআরিফ, পৃষ্ঠা নং ২৭০
১৫. মুসতাদরাকুল হাকিম: ৩৫২

📘 হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহ > 📄 ফিতরি সুন্নাতসমূহ

📄 ফিতরি সুন্নাতসমূহ


আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
الفِطْرَةُ خَمْسُ ، أَوْ خَمْسٌ مِنَ الفِطْرَةِ الخِتَانُ، وَالاسْتِحْدَادُ، وَنَتْفُ الإِبْطِ، وَتَقْلِيمُ الأَظْفَارِ، وَقَصُّ الشَّارِبِ
‘ফিতরাত (মানুষের প্রকৃতিগত স্বভাব) পাঁচটি অথবা পাঁচটি বিষয় ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত : খতনা করা, (নাভির নিচে) ক্ষুর ব্যবহার করা, বগলের পশম উপড়ে ফেলা, নখ কাটা ও গোঁফ ছোট করা।'¹⁸⁰

আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
عَشْرُ مِنَ الْفِطْرَةِ: قَصُّ الشَّارِبِ، وَإِعْفَاءُ اللَّحْيَةِ، وَالسَّوَاكُ، وَاسْتِنْشَاقُ الْمَاءِ، وَقَصُّ الْأَطْفَارِ، وَغَسْلُ الْبَرَاجِمِ، وَنَتْفُ الْإِبِطِ، وَحَلْقُ الْعَانَةِ، وَانْتِقَاصُ الْمَاءِ
'দশটি কাজ ফিতরাত (মানুষের প্রকৃতিগত স্বভাব)- এর অন্তর্ভুক্ত : গোঁফ খাটো করা, দাড়ি লম্বা করা, মিসওয়াক করা, নাকে পানি দেওয়া, নখ কাটা, আঙুলের গিরাসমূহ ধোয়া, বগলের পশম উপড়ে ফেলা, নাভির নিচের পশম কাটা এবং পানি দ্বারা ইসতিনজা করা।'
হাদিসের রাবি মুসআব বলেন, 'আমি দশম কাজটি ভুলে গেছি, তবে সেটি “কুলি করা” হতে পারে।'
কুতাইবা রহ. আরও কিছু বৃদ্ধি করে বলেন, 'ওয়াকি রহ. বলেন, “পানি ঢালা, অর্থাৎ ইসতিনজা করা (এটাও মানুষের প্রকৃতিগত স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত)।”’¹⁸¹

টিকাঃ
১৮০. সহিহুল বুখারি: ৫৮৮৯
১৮১. সহিহু মুসলিম: ২৬১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00