📄 অবতরণিকা
আলহামদু লিল্লাহিিল্লাজী বা'আছা রাসূলাহু বিলহুদা ওয়া দীনিল হাক্কি লিইউজহিরাহু আলাদ্দীনি কুল্লিহি ওয়া লাও কারিহাল মুশরিকূন, ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলাল মাবউছি রাহমাতাল্লিল আলামীন, নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদু ওয়া আলা আলিহি ওয়া আসহাবিহি আজমাঈন।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁর রাসুলকে সত্য দ্বীন ও হিদায়াত দিয়ে প্রেরণ করেছেন, যেন অন্যান্য দ্বীনের ওপর এই দ্বীনকে বিজয়ী করে তোলেন; যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবি রাহমাতুল্লিল আলামিন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবির ওপর।
হামদ ও সালাতের পর, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহর অনুসরণ ছাড়া বান্দার ইহকালীন সফলতা ও পরকালীন মুক্তি-কোনোটিই সম্ভব নয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ * وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُّهِينٌ
'আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, তাকে তিনি প্রবেশ করাবেন এমন জান্নাতে, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত হয় ঝরনাসমূহ, সেখানে তারা থাকবে স্থায়ীভাবে। আর এটা হচ্ছে মহাসফলতা। আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্যতা করে এবং সীমালঙ্ঘন করে, তাকে তিনি প্রবেশ করাবেন আগুনে, সে সেখানে চিরকাল থাকবে, আর তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।'¹
সুতরাং আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আনুগত্যই হলো সফলতার আলোক-মিনার, যার চারপাশে আমরা প্রদক্ষিণ করছি। এবং এটাই মুক্তির আবাসস্থল—যার কোনো বিকল্প নেই।
আল্লাহ মানুষকে তাঁর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। যেমন তিনি ইরশাদ করেন :
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
'আর আমি জিন ও মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছি শুধু আমার ইবাদতের উদ্দেশ্যে।'²
আর আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আনুগত্যই হলো ইবাদত—যা পূর্ণতা পায় দ্বীনের আবশ্যকীয় ও পছন্দনীয় কর্মসমূহ সম্পাদন করার মাধ্যমে। এ ছাড়া যত ভিন্ন পথ ও মত রয়েছে, সবই গোমরাহি ও ভ্রষ্টতা। এ কারণেই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন :
مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدُّ
'যে আমাদের সুন্নাহ-বহির্ভূত কোনো কাজ করবে, তা পরিত্যাজ্য।'³
ইরবাজ বিন সারিয়া রা.-এর সূত্রে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشُ مِنْكُمْ بَعْدِي فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا، فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الْمَهْدِيِّينَ الرَّاشِدِينَ، تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِدِ، وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ، فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ، وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ
'আমার পরে তোমাদের মাঝে যারা জীবিত থাকবে, অচিরেই তারা বিভিন্ন মতানৈক্য দেখতে পাবে। তোমাদের জন্য তখন আমার আদর্শ ও হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের আদর্শকে আঁকড়ে ধরা আবশ্যক। তোমরা তা আঁকড়ে ধরবে এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরবে। আর (দ্বীনের ক্ষেত্রে) নব-আবিষ্কৃত বিষয়ের ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। কারণ, প্রত্যেক নব-আবিষ্কৃত বিষয়ই বিদআত। আর প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা। ৪
এ ছাড়াও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রায় সময় খুতবায় বলতেন :
فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللهِ، وَخَيْرُ الْهُدَى هُدَى مُحَمَّدٍ، وَشَرُّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا، وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ
'সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব (কুরআন) এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ হলো মুহাম্মাদের আদর্শ। সর্বনিকৃষ্ট বিষয় হলো (দ্বীনের ক্ষেত্রে) নব-আবিষ্কৃত বিষয় এবং প্রত্যেক বিদআতই (নব-আবিষ্কৃত বিষয়) ভ্রষ্টতা।’“
আল্লাহ তাআলা কুরআনের চল্লিশের বেশি স্থানে আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্যের কথা উল্লেখ করেছেন। ৬
আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَمَا أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلَّا لِيُطَاعَ بِإِذْنِ اللَّهِ
'বস্তুত আমি একমাত্র এই উদ্দেশ্যেই রাসুল প্রেরণ করেছি, যাতে আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী তাঁদের আদেশ- নিষেধ মান্য করা হয়। '৭
সুন্নাত বিলুপ্ত হওয়া, অবহেলিত হয়ে পড়া, তা থেকে মানুষ বিস্মৃত হয়ে পড়া এবং সমাজে তার বাস্তবায়ন না থাকা—এর সবই বিদআত প্রসারের লক্ষণ। যেমন ইবনে আব্বাস রা. বলেন :
مَا يَأْتِي عَلَى النَّاسِ مَنْ عَامٍ إِلَّا أَحْدَثُوا فِيهِ بِدْعَةً وَأَمَاتُوا فِيهِ سُنَّةً، حَتَّى تَحْيَا الْبِدَعُ وَتَمُوتَ السُّنَنُ
‘প্রতিটি নতুন বছরেই মানুষ একটি করে বিদআত আবিষ্কার করে এবং একটি করে সুন্নাত মিটিয়ে দেয়। এভাবে একসময় বিদআত প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং সুন্নাত বিলুপ্ত হয়ে যায়।’
বক্ষ্যমাণ পুস্তিকাটিতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এমন কিছু সুন্নাত সম্পর্কে আলোচনা করার প্রয়াস পেয়েছি, যেগুলো বর্তমান সময়ে চরম অবহেলার স্বীকার। তন্মধ্যে কিছু সুন্নাতের আমল কমে গেছে, আর কিছু সুন্নাত মানুষ একেবারে ছেড়েই বসেছে।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাতের প্রচার-প্রসার এবং তাঁর নিম্নোক্ত হাদিসের ওপর আমল করার উদ্দেশ্যেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন :
مَنْ سَنَّ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةً حَسَنَةً، فَلَهُ أَجْرُهَا، وَأَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا بَعْدَهُ
'যে ইসলামে উত্তম কোনো জিনিসের প্রবর্তন করে, সে তার প্রতিদান পাবে এবং তার পরে সেটার ওপর আমলকারীর প্রতিদানও পাবে।'৯
পরিশেষে আবারও বলছি, মানবজাতির সার্বিক কল্যাণ ও সফলতা নিহিত আছে একমাত্র রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাত ও আদর্শের মাঝে। আল্লাহ তাআলা আমাদের রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদর্শের ওপর চলা লোকদের অর্ন্তভুক্ত করুন এবং আমাদের ও আমাদের পিতামাতাদের ক্ষমা করুন। আমিন।
وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه
টিকাঃ
১. সুরা আন-নিসা: ১৩-১৪
২. সুরা আজ-জারিয়াত: ৫৬
৩. তালিকু সহিহিল বুখারি: ৩/৬৯, সহিহু মুসলিম : ১৭১৮
৪. সুনানু আবি দাউদ: ৪৬০৭
৫. সহিহু মুসলিম: ৮৬৭
৬. মাজমুউল ফাতাওয়া: ৪/২১
৭. সুরা আন-নিসা: ৬৪
৮. আল-বিদউ লি ইবনি ওয়াজাজাহ: ২/৮৩
৯. সহিহু মুসলিম : ১০১৭
📄 সুন্নাতের পরিচয়
'সুন্নাত'-এর আভিধানিক অর্থ হলো 'পথ' ও 'আদর্শ'।
সামগ্রিক পরিভাষায় সুন্নাত: নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথা, কাজ ও মৌন সমর্থন।
মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় সুন্নাত : নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথা, কাজ, মৌন সমর্থন এবং তাঁর দৈহিক ও আদর্শিক গুণাবলি।
ফকিহদের পরিভাষায় সুন্নাত : সকল মুসতাহাব আমল— যার আদায়কারী প্রশংসিত কিন্তু পরিত্যাগকারী নিন্দিত নয়।
সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে ইমামদের গুরুত্বারোপ
জনৈক লোক ইমাম মালিক রহ.-এর নিকট এসে বললেন, 'আমরা কোথা হতে ইহরাম বাঁধব?'
মালিক রহ. বললেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের জন্য যে মিকাত (ইহরাম বাঁধার স্থান) নির্ধারণ করে দিয়েছেন সেখান থেকে।'
লোকটি বললেন, 'যদি আমি মিকাতে পৌঁছার আগেই ইহরাম বেঁধে নিই?'
তিনি বললেন, 'এ ব্যাপারে আমার কোনো অভিমত নেই।'
লোকটি বললেন, 'মিকাত অতিক্রম করে চলে গেলে, কী মনে করেন?'
তিনি বললেন, 'আমি তোমার ব্যাপারে ফিতনার আশঙ্কা করছি।'
লোকটি বললেন, 'ভালো কাজ বাড়িয়ে করায় ফিতনা কীসের?'
তিনি বললেন, 'আল্লাহ তাআলা বলেছেন : فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
“অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদের স্পর্শ করবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদের গ্রাস করবে।””¹⁰
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ. বলেন, 'আমি এমন কোনো হাদিস লিপিবদ্ধ করিনি, যার ওপর নিজে আমল করিনি। এমনকি যখন আমার কাছে হাদিস পৌঁছল যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিঙা লাগিয়ে এর বিনিময়ে আবু তাইবাকে এক দিনার দিয়েছেন, তখন আমিও যখন শিঙা লাগাই, তখন চিকিৎসককে বিনিময়স্বরূপ এক দিনার দিলাম। '¹¹
আব্দুর রহমান বিন মাহদি রহ. বলেন, 'আমি সুফইয়ান রহ.- কে বলতে শুনেছি, “আমার কাছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যত হাদিস এসেছে, প্রত্যেক হাদিসের ওপর আমি অন্তত একবার হলেও আমল করেছি।””¹²
মুসলিম বিন ইয়াসার রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি জুতা পায়ে সালাত আদায় করি। যদিও জুতা খুলে ফেলা আমার জন্য অধিক আরামদায়ক, কিন্তু কেবল সুন্নাত পালনের উদ্দেশ্যেই আমি এমন করে থাকি।'¹³
ইবনে রজব রহ. বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পথে থেকে মধ্যমপন্থা অবলম্বনকারী অন্য পথে থেকে সর্বাত্মক চেষ্টাকারী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।'¹⁴
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'সুন্নাত পালনে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা বিদআত পালনে অধিক মেহনত করা থেকে উত্তম।'¹⁵
ইবনুল কাইয়িম রহ. বলেন, 'যদি সমাজের রীতির বিপরীত হওয়ার অজুহাতে সুন্নাত ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে একসময় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর সকল সুন্নাত বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং শেষমেষ তার চিহ্নটুকুও মুছে যাবে।'
টিকাঃ
১০. সুরা আন-নুর: ৬৩
১১. মানাকিবুল ইমাম আহমাদ, পৃষ্ঠা নং ২৩২
১২. সিয়ারু আলামিন নুবালা: ৭/২৪২
১৩. কিতাবুজ জুহদ (ইমাম আহমাদ), পৃষ্ঠা নং ৩৫৫
১৪. লাতায়িফুল মাআরিফ, পৃষ্ঠা নং ২৭০
১৫. মুসতাদরাকুল হাকিম: ৩৫২
📄 সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে ইমামদের গুরুত্বারোপ
জনৈক লোক ইমাম মালিক রহ.-এর নিকট এসে বললেন, 'আমরা কোথা হতে ইহরাম বাঁধব?'
মালিক রহ. বললেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের জন্য যে মিকাত (ইহরাম বাঁধার স্থান) নির্ধারণ করে দিয়েছেন সেখান থেকে।'
লোকটি বললেন, 'যদি আমি মিকাতে পৌঁছার আগেই ইহরাম বেঁধে নিই?'
তিনি বললেন, 'এ ব্যাপারে আমার কোনো অভিমত নেই।'
লোকটি বললেন, 'মিকাত অতিক্রম করে চলে গেলে, কী মনে করেন?'
তিনি বললেন, 'আমি তোমার ব্যাপারে ফিতনার আশঙ্কা করছি।'
লোকটি বললেন, 'ভালো কাজ বাড়িয়ে করায় ফিতনা কীসের?'
তিনি বললেন, 'আল্লাহ তাআলা বলেছেন : فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
“অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদের স্পর্শ করবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদের গ্রাস করবে।””¹⁰
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ. বলেন, 'আমি এমন কোনো হাদিস লিপিবদ্ধ করিনি, যার ওপর নিজে আমল করিনি। এমনকি যখন আমার কাছে হাদিস পৌঁছল যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিঙা লাগিয়ে এর বিনিময়ে আবু তাইবাকে এক দিনার দিয়েছেন, তখন আমিও যখন শিঙা লাগাই, তখন চিকিৎসককে বিনিময়স্বরূপ এক দিনার দিলাম। '¹¹
আব্দুর রহমান বিন মাহদি রহ. বলেন, 'আমি সুফইয়ান রহ.- কে বলতে শুনেছি, “আমার কাছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যত হাদিস এসেছে, প্রত্যেক হাদিসের ওপর আমি অন্তত একবার হলেও আমল করেছি।””¹²
মুসলিম বিন ইয়াসার রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি জুতা পায়ে সালাত আদায় করি। যদিও জুতা খুলে ফেলা আমার জন্য অধিক আরামদায়ক, কিন্তু কেবল সুন্নাত পালনের উদ্দেশ্যেই আমি এমন করে থাকি।'¹³
ইবনে রজব রহ. বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পথে থেকে মধ্যমপন্থা অবলম্বনকারী অন্য পথে থেকে সর্বাত্মক চেষ্টাকারী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।'¹⁴
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'সুন্নাত পালনে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা বিদআত পালনে অধিক মেহনত করা থেকে উত্তম।'¹⁵
ইবনুল কাইয়িম রহ. বলেন, 'যদি সমাজের রীতির বিপরীত হওয়ার অজুহাতে সুন্নাত ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে একসময় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর সকল সুন্নাত বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং শেষমেষ তার চিহ্নটুকুও মুছে যাবে।'
টিকাঃ
১০. সুরা আন-নুর: ৬৩
১১. মানাকিবুল ইমাম আহমাদ, পৃষ্ঠা নং ২৩২
১২. সিয়ারু আলামিন নুবালা: ৭/২৪২
১৩. কিতাবুজ জুহদ (ইমাম আহমাদ), পৃষ্ঠা নং ৩৫৫
১৪. লাতায়িফুল মাআরিফ, পৃষ্ঠা নং ২৭০
১৫. মুসতাদরাকুল হাকিম: ৩৫২
📄 ফিতরি সুন্নাতসমূহ
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
الفِطْرَةُ خَمْسُ ، أَوْ خَمْسٌ مِنَ الفِطْرَةِ الخِتَانُ، وَالاسْتِحْدَادُ، وَنَتْفُ الإِبْطِ، وَتَقْلِيمُ الأَظْفَارِ، وَقَصُّ الشَّارِبِ
‘ফিতরাত (মানুষের প্রকৃতিগত স্বভাব) পাঁচটি অথবা পাঁচটি বিষয় ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত : খতনা করা, (নাভির নিচে) ক্ষুর ব্যবহার করা, বগলের পশম উপড়ে ফেলা, নখ কাটা ও গোঁফ ছোট করা।'¹⁸⁰
আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
عَشْرُ مِنَ الْفِطْرَةِ: قَصُّ الشَّارِبِ، وَإِعْفَاءُ اللَّحْيَةِ، وَالسَّوَاكُ، وَاسْتِنْشَاقُ الْمَاءِ، وَقَصُّ الْأَطْفَارِ، وَغَسْلُ الْبَرَاجِمِ، وَنَتْفُ الْإِبِطِ، وَحَلْقُ الْعَانَةِ، وَانْتِقَاصُ الْمَاءِ
'দশটি কাজ ফিতরাত (মানুষের প্রকৃতিগত স্বভাব)- এর অন্তর্ভুক্ত : গোঁফ খাটো করা, দাড়ি লম্বা করা, মিসওয়াক করা, নাকে পানি দেওয়া, নখ কাটা, আঙুলের গিরাসমূহ ধোয়া, বগলের পশম উপড়ে ফেলা, নাভির নিচের পশম কাটা এবং পানি দ্বারা ইসতিনজা করা।'
হাদিসের রাবি মুসআব বলেন, 'আমি দশম কাজটি ভুলে গেছি, তবে সেটি “কুলি করা” হতে পারে।'
কুতাইবা রহ. আরও কিছু বৃদ্ধি করে বলেন, 'ওয়াকি রহ. বলেন, “পানি ঢালা, অর্থাৎ ইসতিনজা করা (এটাও মানুষের প্রকৃতিগত স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত)।”’¹⁸¹
টিকাঃ
১৮০. সহিহুল বুখারি: ৫৮৮৯
১৮১. সহিহু মুসলিম: ২৬১