📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 হারাম চাষ

📄 হারাম চাষ


ইসলামে যে জিনিস ব্যবহার অবৈধ, তার ব্যবসাও অবৈধ; অবৈধ তার উৎপাদন এবং চাষও। ইসলামে গাঁজা, আফিম, বিড়ি, সিগারেট প্রভৃতি হারাম, হারাম তামাকের চাষও। বৈধ নয় আফিম গাছ ও বিড়ি পাতার চাষ করা।

যেমন যে হালাল জিনিস হারাম কাজে ব্যবহৃত হবে বলে সুনিশ্চিত, তার চাষ করে বিক্রয় বৈধ নয় মুসলিম চাষীর জন্য। যেমন ফুলচাষ করে কোন মাযারী বা পূজারীকে তা বিক্রয় করা বৈধ নয়, আঙ্গুর চাষ করে তা কোন শুঁড়ীকে বিক্রয় করা বৈধ নয়।

আর এ কথার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, ওশর না দিয়ে ফসল ভক্ষণ করে গেলে, সেই ফসলের অনেকটা হারাম খাওয়া হয়। যেহেতু ওশর আদায় হিসাব মত না করলে, শস্য অপবিত্র থেকে যায়। ('যাকাত ও খয়রাত' দ্রষ্টব্য)

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 সন্দেগ্ধ মাল

📄 সন্দেগ্ধ মাল


যা হারাম তা নিয়ত ভালো রেখে খেলেও হারাম। হারাম খাওয়ার জন্য হালাল অসীলা অথবা হালাল খাওয়ার জন্য হারাম অসীলা অবলম্বন করা হারাম। হারাম খাওয়ার জন্য কোন প্রকার ছল-বাহানা বা কূট-কৌশল অবলম্বন করাও হারাম। হারামের হালাল বা সুন্দর নাম দিলেও তা হারাম। কোন জিনিস হারাম বলে সন্দেহ হলে তা হারাম। সুতরাং তা বর্জন করাই জরুরী।

কোন এক জিনিসকে যদি এক শ্রেণীর উলামা বলেন 'হারাম' এবং অন্য এক শ্রেণীর উলামা বলেন 'হালাল', তাহলে দলীল ও যুক্তির ভিত্তিতে একটি সিদ্ধান্তকে মেনে নিন। কিন্তু দলীল বুঝার ক্ষমতা যদি না থাকে অথবা দলীল সহ দুটির মধ্যে কোন একটি মত আপনার কাছে প্রাধান্য না পায়, তাহলে সেটি আপনার নিকট সন্দিগ্ধ রয়ে যাবে। আর তখন তা বর্জন করাই হবে আপনার জন্য উত্তম। নচেৎ এ সম্ভাবনাই বেশী আছে যে, আপনি হারামে আপতিত হবেন।

মহানবী বলেন, "অবশ্যই হালাল বিবৃত ও স্পষ্ট এবং হারাম বিবৃত ও স্পষ্ট, আর উভয়ের মাঝে রয়েছে বহু সন্দিহান বস্তু; যা অনেক লোকেই জানে না। অতএব যে ব্যক্তি এই সন্দিহান বস্তুসমূহ হতে দূরে থাকবে, সে তার দ্বীন ও ইজ্জতকে বাঁচিয়ে নেবে এবং যে ব্যক্তি সন্দিহানে পতিত হবে (সন্দিগ্ধ বস্তু ভক্ষণ করবে), সে হারামে আপতিত হবে। যে ব্যক্তি নিষিদ্ধ চারণভূমির আশেপাশে পশু চরায়, তার পক্ষে নিষিদ্ধ এড়িয়ায় পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শোন! প্রত্যেক বাদশাহরই সংরক্ষিত চারণভূমি থাকে। আর শোন! আল্লাহর সংরক্ষিত চারণভূমি হল তাঁর হারামকৃত বস্তুসমূহ।” (বুখারী ও মুসলিম প্রমুখ)

তিনি আরো বলেন, “যে জিনিসে সন্দেহ কর তা বর্জন করে তুমি সেই জিনিস গ্রহণ কর যাতে সন্দেহ নেই।” (আহমদ, তিরমিযী, নাসাঈ প্রমুখ, সহীহুল জামে' ৩৩৭৭নং)

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 হারাম কোন্ সময় হালাল হয়?

📄 হারাম কোন্ সময় হালাল হয়?


যে সকল বস্তু ইসলামে হারাম, তা ব্যবহার করতে মুসলিম বাধ্য ও নিরুপায় হলে রহমতের ধর্মে হালাল হয়ে যায়। এ ব্যাপারে হালাল-হারামের বিধানদাতা মহান আল্লাহ বলেন,
((إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنْزِيرِ وَمَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ)) (البقرة : ۱۷۳)
অর্থাৎ, নিশ্চয় (আল্লাহ) তোমাদের জন্য শুধু মৃত জীব, রক্ত, শূকরের মাংস এবং যে সব জন্তুর উপরে (যবাই কালে) আল্লাহ ছাড়া অন্যের নাম উচ্চারণ করা হয়ে থাকে তা তোমাদের জন্য অবৈধ করেছেন। কিন্তু যে অনন্যোপায় অথচ অন্যায়কারী কিংবা সীমালংঘনকারী নয় তার কোন পাপ হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। (সূরা বাকারাহ ১৭৩ আয়াত)

((قُل لا أَجِدُ فِي مَا أُوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا عَلَى طَاعِم يَطْعَمُهُ إِلَّا أَن يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَّسْفُوحًا أَوْ لَحْمَ خِرِيرٍ فَإِنَّهُ رِجْسٌ أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغِ وَلَا عَادٍ فَإِنَّ رَبَّكَ غَفُورٌ رحيم)) (١٤٥) سورة الأنعام
অর্থাৎ, বল, আমার প্রতি যে প্রত্যাদেশ হয়েছে তাতে, আহারকারী যা আহার করে তার মধ্যে আমি কিছুই নিষিদ্ধ পাই না। তবে মৃতপ্রাণী, বহমান রক্ত ও শূকরের মাংস; কেননা তা অপবিত্র। অথবা (যবেহকালে) আল্লাহ ছাড়া অন্যের নাম নেওয়ার কারণে যা অবৈধ। তবে কেউ অবাধ্য না হয়ে এবং সীমালংঘন না করে তা গ্রহণে বাধ্য হলে তোমার প্রতিপালক অবশ্যই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আনআম ১৪৫ আয়াত)

((وَمَا لَكُمْ أَلَّا تَأْكُلُوا مِمَّا ذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَقَدْ فَصَّلَ لَكُم مَّا حَرَّمَ عَلَيْكُمْ إِلَّا مَا اضْطُرِرْتُمْ إِلَيْهِ وَإِنَّ كَثِيرًا لَّيُضِلُّونَ بِأَهْوَائِهِم بِغَيْرِ عِلْمٍ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِالْمُعْتَدِينَ)) (۱۱۹)
অর্থাৎ, আর তোমাদের কি হয়েছে যে যাতে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে তোমরা তা আহার করবে না? অথচ তোমরা নিরুপায় না হলে যা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ তা তিনি বিশদভাবেই তোমাদের নিকট বিবৃত করেছেন। অনেকে অজ্ঞানতাবশতঃ নিজেদের খেয়াল-খুশী দ্বারা অবশ্যই অন্যকে বিপথগামী করে; তোমার প্রতিপালক সীমা লংঘনকারী সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত। (সূরা আনআম ১১৯ আয়াত)

কিন্তু বাধ্য, নিরুপায় বা অনন্যোপায় হওয়ার অর্থ কি?
অত্যন্ত ক্ষুধা লাগলে, না খেয়ে মরণ উপস্থিত হবে বলে আশংকা হলে এবং জলে-স্থলে খোঁজা সত্ত্বেও হারাম ছাড়া অন্য কোন খাবার না পাওয়া গেলে তবেই উপায়হীন অবস্থা বুঝা যায়। আর সেই সময় বিষ ছাড়া যে কোন হারামকৃত খাদ্য কেবল জান বাঁচানোর মত খাওয়া বৈধ। মহান আল্লাহ বলেন,
(فَمَنِ اضْطُرَّ فِي مَحْمَصَةٍ غَيْرَ مُتَجَانِفِ لِإِثْمٍ فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ)) (المائدة : ٣ )
অর্থাৎ, ---তবে যদি কেউ ক্ষুধার তাড়নায় (নিষিদ্ধ জিনিষ খেতে) বাধ্য হয়; কিন্তু ইচ্ছা করে পাপের দিকে ঝোঁকে না, তাহলে (তার জন্য) আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা মাইদাহ ৩ আয়াত)

এ ক্ষেত্রে হারাম খাদ্যের মজা গ্রহণ করে পেট পুরে খাওয়া বৈধ নয়। বৈধ নয় সে খাদ্যের উপর ভরসা করে হালাল খাদ্য অনুসন্ধান করার চেষ্টা না করা।
যেমন মুসলিম বা অমুসলিম প্রতিবেশীর কাছে হালাল খাবার মজুদ থাকা সত্ত্বেও মৃত পশু বা শূকর-কুকুর খাওয়া কোন ব্যক্তির জন্য হালাল নয়। অর্থ থাকলে তা কিনে খেতে হবে। অর্থ না থাকলে তাদের নিকট থেকে তা চেয়ে খেতে হবে। চেয়ে তা না দিলে তাদের নিকট থেকে জোরপূর্বক আদায় করে নিজের জীবন রক্ষা করতে হবে।
মাঠে-বাগানে বা বনে-পানিতে যে সকল খাদ্য আছে, তা প্রয়োজন মত ব্যবহার করতে পারবে। এ সব কিছুর মাধ্যমেও খাদ্য সংগ্রহ না হলে, তখন সে কোন মৃত পশু বা হারাম জানোয়ার হত্যা করে খেতে বাধ্য হবে; তার আগে নয়। অনুরূপ চেষ্টা না থাকলে সে 'অন্যায়কারী কিংবা সীমালংঘনকারী' বলে পরিগণিত হবে এবং ইচ্ছা করে পাপের দিকে ঝুঁকে পড়বে।

কোন হারাম বস্তু খাওয়ার মাধ্যমে চিকিৎসা করানো হারাম। হারাম কোন এ্যালকুহল মিশ্রিত ওষুধ খেয়ে চিকিৎসা করানো। কিন্তু বিশ্বস্ত মুসলিম ডাক্তারের মতে যদি ঐ হারাম বস্তু ছাড়া আর কোন অন্য ওষুধ না থাকে এবং তা না খেলে জীবন চলে যাওয়ার আশঙ্কা হয়, তাহলে বাধ্য হয়ে তাই খেতে হবে।
যেহেতু মহান আল্লাহ মানুষের প্রতি বড় দয়াবান। তিনি ধর্মের বিধান দিয়ে মানুষকে জানে মারতে চান না। তিনি বলেন, (( يُرِيدُ اللهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ )) (١٨٥) سورة البقرة
অর্থাৎ, আল্লাহ তোমাদের (জন্য যা) সহজ (তা) করতে চান, তোমাদের কষ্ট চান না। (সূরা বাকারাহ ১৮৫ আয়াত)
(( وَلَا تَقْتُلُواْ أَنفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا)) (۲۹) سورة النساء
অর্থাৎ, আর তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো না; নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু। (সূরা নিসা ২৯ আয়াত)

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 উপার্জিত হারাম থেকে বাঁচার উপায়

📄 উপার্জিত হারাম থেকে বাঁচার উপায়


যাঁরা হারাম উপার্জনের মাধ্যমে বহু কিছু করে ফেলেছেন; বাড়ি-গাড়ি, জমি-জায়গা ও ব্যাংক্ ব্যালেন্স করে ফেলেছেন এবং হারাম জ্ঞান হওয়ার পর বিবেকের কামড়ে সেই হারাম থেকে মুক্তি পাওয়ার আশা পোষণ করছেন, তাদের জন্য এই শিরোনামের অবতারণা।

এ দুনিয়াতে বহু মানুষই আছেন, যাঁরা ভুল করার পর ভুল স্বীকার করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না। বরং এ দুনিয়ার কষ্ট থেকে পরকালের আযাবকে অধিক কঠিন জ্ঞান করেই তাঁরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে সাথে সাথে তওবা করেন। আর এ তওবা সকলের জন্য ওয়াজেব। পবিত্র-পরিচ্ছন্ন হয়ে তাঁরা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে চান। ধন তো দূরের কথা, নিজের জীবন দ্বারাও ত্যাগ স্বীকার করে পবিত্র হয়ে ইহকাল ত্যাগ করেছেন। অতএব সুসংবাদ তাঁদের জন্যই। যেহেতু আল্লাহ তাঁদের গোনাহর পর্বতসমূহকে নেকীর পর্বতসমূহে পরিবর্তন করে দেবেন।
পক্ষান্তরে মহান আল্লাহ তাঁদের এই প্রত্যাবর্তনের ফলে খুশীও হবেন। (বিস্তারিত জানতে 'সুখের সন্ধান' দ্রষ্টব্য)

সাধারণভাবে এই তওবার রয়েছে কয়েকটি শর্ত; সে শর্ত পূরণ না হলে তওবা কবুল হয় নাঃ-
১। তওবা হবে আন্তরিকভাবে একমাত্র আল্লাহর জন্য বিশুদ্ধ। অর্থাৎ অন্য কাউকে খোশ করার জন্য অথবা কোন স্বার্থ উদ্ধারের জন্য তওবা হলে চলবে না।
২। সাথে সাথে পাপ (হারাম উপার্জন) বর্জন করতে হবে। পাপে লিপ্ত থাকা অবস্থায় তওবা গ্রাহ্য নয়।
৩। বিগত (পাপের) উপর লাঞ্ছনা ও অনুশোচনা প্রকাশ করতে হবে। লজ্জিত না হলে উন্নাসিকতার সাথে তওবা গ্রহণীয় নয়। হযরত আলী বলেন, 'পাপের কাজ করে লজ্জিত হলে পাপ কমে যায়। আর পুণ্য কাজ করে গর্ববোধ করলে পুণ্য বরবাদ হয়ে যায়।'
৪। পুনরায় মরণ পর্যন্ত তার প্রতি না ফেরার দৃঢ় সঙ্কল্প করতে হবে। তা না হলে তওবা বা প্রত্যাবর্তনের অর্থ কি?
৫। কোন মানুষের অধিকার হরণ করে পাপ করলে সে অধিকার আদায় করে তবে তওবা করতে হবে। তা না হলে কুঁয়োতে মরা বিড়াল ফেলে রেখে পানি তুলে পানি পাক করার ব্যবস্থা নিলে কি হবে?
৬। তওবা কবুল হওয়ার নির্ধারিত সময়ে (মরণ নিকটবর্তী হওয়ার আগে এবং পশ্চিমাকাশে সূর্য উদয় হওয়ার পূর্বে) তওবা করতে হবে।

যাঁরা হারাম মাল ও উপার্জন থেকে তওবা করতে চান, তাঁদের জন্য উক্ত শর্তাবলীর মধ্যে পঞ্চম শর্তটি অতি কঠিন। কিন্তু নাজাতকামীদের জন্য নিজের প্রাণদানও কঠিন নয়।
বলাই বাহুল্য যে, যদি আপনি আপনার হারাম উপায়ে কামানো টাকা ইসলাম আনার পূর্বে উপার্জন করেছেন, তাহলে ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার পর সে সমূহ মাল আপনার জন্য হালাল। কিন্তু যে মাল আপনি মুসলিম হয়ে হারাম উপায়ে উপার্জন করেছেন, তা থেকে অব্যাহতি পাওয়া কঠিন হলেও পেতে হবে।

সূদী ব্যাংক অথবা বিমা কোম্পানী থেকে সূদে যে অর্থ আসে আপনার হিসাবের খাতায় এসে গেছে কিংবা ফিক্সড ডিপোজিটের মাধ্যমে যে টাকা আপনি সঞ্চয় করেছেন, তা থেকে আপনি পবিত্র হন। অবশ্য নাপাক বলে না নিয়ে ব্যাংকওয়ালাদের কাছেই ফেলে আসা ঠিক নয়। কারণ ছেড়ে আসা টাকা উক্ত সূদী কারবারে অতিরিক্ত সহায়তা ছাড়া আরো বহু অজানা অঘটন ও পাপের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। (আর আল্লাহ বলেন, "পাপ ও অন্যায় কাজে তোমরা কেউ কারো সহায়তা করো না।” (সূরা মায়েদাহ ২ আয়াত) সুতরাং এর জন্য সঠিক পথ এই যে, তা ব্যাংক থেকে তুলে এনে সেই নিঃস্ব অভাবী, অসহায় প্রভৃতি গরীব মানুষদের মাঝে বিতরণ করে দিন যাদের অবস্থা সেই নিরুপায় লোকদের মত যারা হারাম খেতে পারে। অথবা এমন জনকল্যাণমূলক কাজের খাতে ব্যয় করে দিন, যাতে যাকাত ব্যয় করা চলে। খেয়াল রাখবেন যে, তাতে কোন সওয়াবের নিয়ত রাখলে চলবে না।

বেশ্যাবৃত্তি, গান-বাজনা প্রভৃতির মাধ্যমে কামানো টাকাও অনুরূপ খাতে দান করে দিতে হবে এবং তাতেও কোন সওয়াবের নিয়ত রাখলে চলবে না।
হারাম মাল কামিয়ে যদি হালালের সাথে মিশ্রিত হয়ে থাকে, তাহলে হারাম মালের পরিমাণ অনুমান করে অনুরূপ খাতে ব্যয় করে দিতে হবে এবং তাতেও কোন সওয়াবের নিয়ত রাখলে চলবে না। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৬/২৩৬, ২৫৬)

চুরি, ডাকাতি, ছিন্তাই, সূদ, ঘুস, ঋণ প্রভৃতির মাধ্যমে হরফ করা মাল হলে, তা যে কোন প্রকারে তার আসল মালিক অথবা তার ওয়ারেসকে ফেরৎ দিতে হবে। লজ্জা লাগলে অথবা ধরা পড়ার ভয় থাকলে গোপনভাবে তার ব্যাংক একাউন্টে জমা দিয়ে অথবা থলেয় পুরে তার বাড়ি অথবা ঘেরা-বেড়া বাগানের ভিতর ফেলে এসে অব্যাহতি লাভ করতে হবে। পক্ষান্তরে একান্তই যদি মালের মালিক চেনা না যায় অথবা সে মারা যায় এবং তার ওয়ারেস কেউ না থাকে, তাহলে সে ক্ষেত্রে ঐ মাল মালিকের তরফ থেকে উক্তভাবে দান করে দিতে হবে।
অনুরূপ দান করে দিতে হবে অসৎ উপায়ে ব্যবসা করার টাকা।

কারো জমি জবরদখল বা বর্গাদারি করে থাকলে অথবা কৌশল করে নিজের নামে লিখিয়ে নিয়ে থাকলে তাও তার আসল মালিককে ফেরৎ দিতে হবে।
বাঁচার উপায় কঠিন মনে হলেও, তাই অবলম্বন করে বাঁচতে হবে। আর যদি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করতে গরম লাগে, তাহলে জেনে রাখুন যে, জাহান্নামের আগুন তার চাইতে অনেক গুণ বেশী গরম।

هذا ، وصلى الله على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
সমাপ্তি

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00