📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 চাষী

📄 চাষী


হালাল রুযীর জন্য চাষ একটি উত্তম পন্থা। চাকরি ও ব্যবসায় সন্দিগ্ধ মাল প্রবেশ করার যত বেশী ছিদ্রপথ আছে, নিজের জমির চাষে তত বা মোটেই তা নেই।

তবে চাষ ও সবুজ ফল-ফসল যেহেতু মানুষকে উদাসীন করে ফেলে এবং অনেক ফরয থেকে বিরত রাখে, সেহেতু কোন কোন অবস্থায় তাকে খারাপ বলা হয়েছে; যেমনঃ

আল্লাহর রসূল বলেন, "যখন তোমরা ‘ঈনাহ' ব্যবসা করবে এবং গরুর লেজ ধরে কেবল চাষ-বাস নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবে, আর জিহাদ ত্যাগ করে বসবে, তখন আল্লাহ তোমাদের উপর এমন হীনতা চাপিয়ে দেবেন; যা তোমাদের হৃদয় থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত দূর করবেন না; যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমরা তোমাদের দ্বীনের প্রতি প্রত্যাবর্তন করেছ।” (মুসনাদে আহমদ ২/২৮, ৪২, ৮৪, আবু দাউদ ৩৪৬২, বাইহাকী ৫/৩১৬)

তিনি বলেন, "----- এক জাতি হবে যারা গরুর লেজ ধরে চাষবাস করবে এবং জিহাদে বিমুখতা প্রকাশ করবে, তারা হবে ধ্বংস।” (আবু দাউদ ৪৩০৬, মিশকাত ৫৪৩২ নং)

একদা তিনি হাল-চাষের কিছু সাজ-সরঞ্জামের প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন, "যে জাতির ঘরে এই জিনিস প্রবেশ করবে, সেই জাতির ঘরে আল্লাহ লাঞ্ছনা প্রবিষ্ট করবেন।” (বুখারী, ত্বাবারানী, সিলসিলাহ সহীহাহ ১০ নং)

অবশ্য কেবল চাষই নয়, বরং যে কোন পেশা নিয়ে মানুষ আল্লাহর কাজ থেকে বিরত হলে তা তার জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হবে।

মহান আল্লাহ বলেন, "বল, তোমাদের নিকট তোমাদের পিতা-মাতা, তোমাদের সন্তান-সন্ততি, তোমাদের ভ্রাতা, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের আত্মীয়-স্বজন, তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য; যাতে তোমরা মন্দার আশঙ্কা কর এবং তোমাদের বাসস্থান; যা তোমরা ভালবাস - এ সব যদি আল্লাহ, তাঁর রসূল এবং আল্লাহর পথে সংগ্রাম করা অপেক্ষা অধিক প্রিয় হয়, তাহলে আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত তোমরা অপেক্ষা কর। আল্লাহ সত্যত্যাগী সম্প্রদায়কে সৎপথ প্রদর্শন করেন না।” (সূরা তাওবাহ ২৪ আয়াত)

কিন্তু পেট চালাবার জন্য নিজে অথবা লেবার দিয়ে চাষ করা ছাড়া যাদের উপায় নেই, তাদের অবশ্যই উচিত, আল্লাহর হক; ওশর ও অন্যান্য ফরয আদায়ে শৈথিল্য প্রকাশ না করা。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00