📄 সৈনিক
ইসলাম ও মুসলিম দেশ রক্ষার জন্য সৈনিকের কাজ একটি মহান কাজ। মহানবী বলেন, “যে ব্যক্তি প্রতিরক্ষা-বাহিনীর কার্যে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে সে ব্যক্তি কিয়ামত দিবসে পুনরুত্থিত হওয়া পর্যন্ত তার ঐ প্রতিরক্ষা-বাহিনীর কাজের সওয়াব জারী থাকে।” (ত্বাবারানীর কাবীর, সহীহ তারগীব ৬২নং)
আল্লাহর রসূল বলেন, "নামাযের পর আর এক নামাযের জন্য অপেক্ষমাণ ব্যক্তি সেই অশ্বারোহীর সমতুল্য, যে তার অশ্বসহ আল্লাহর পথে শত্রুর বিরুদ্ধে বিক্রমের সাথে সদা প্রস্তুত; যে থাকে বৃহৎ প্রতিরক্ষার কাজে।” (আহমাদ, ত্বাবারানীর আওসাত্ব, সহীহ তারগীব ৪৪৭নং)
তিনি আরো বলেন, “এক দিবারাত্রির (শত্রুবাহিনীর অনুপ্রবেশকে প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে) প্রতিরক্ষা-কার্য এক মাসের রোযা ও নামাযের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। (ঐ প্রতিরক্ষা কাজে রত ব্যক্তি) যদি মারা যায়, তাহলে তার সেই আমল জারী থেকে যায়; যা সে জীবিতাবস্থায় করত, তার জন্য তার রুজী জারী করা হয়; আর (কবরের) যাবতীয় ফিতনা থেকে সে নিরাপত্তা লাভ করে।” (মুসলিম ১৯১৩ নং)
এ ছাড়া জিহাদ করা ও জিহাদে শহীদ হওয়ার বিশাল মাহাত্ম্য রয়েছে ইসলামে। ইসলামে কোন মহিলা সৈনিকের পেশা গ্রহণ করতে পারে না। যেহেতু সে কাজ নারীত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পরন্তু শত্রুর হাতে ধরা পড়লে তার অবস্থা কি হবে, তা বলাই বাহুল্য। (সিলসিলাহ সহীহাহ ৬/৫৪৯-৫৫০) মহিলার জন্য জিহাদও ফরয নয়। একদা মা আয়েশা (রাঃ) আল্লাহর রসূল-কে জিজ্ঞাসা করলেন, 'হে আল্লাহর রসূল! মহিলাদের জন্য কি জিহাদ আছে?' উত্তরে তিনি বললেন, “হ্যাঁ, সেই জিহাদ আছে, যাতে কোন খুনাখুনি নেই; হজ্জ ও উমরাহ।” (আহমদ, ইবনে মাজাহ ২৪০১নং)
এক মহিলা জিহাদে যাওয়ার অনুমতি চাইলে আল্লাহর রসূল তাকে অনুমতি না দিয়ে ঘরে থাকতে আদেশ করেছেন। (সিলসিলাহ সহীহাহ ২৭৪০নং)
অবশ্য যেখানে মহিলা জিহাদ করতে বাধ্য এবং যথেষ্ট পুরুষ না থাকার জন্য জিহাদের বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য, সেখানের কথা ভিন্ন। যেমন উহুদ যুদ্ধে বিভিন্ন মহিলা অংশগহণ করে মুজাহিদদের সহযোগিতা করেছিলেন।
পরিশেষে যে সকল নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি কোন নেতার হুকুম পালন করে চাকরি করেন, তাঁদেরকে মহানবী-এর এই বাণী স্মরণ করিয়ে দিই। তিনি বলেন, "স্রষ্টার আদেশ লংঘন করে কোন সৃষ্টির আদেশ পালন করা যাবে না।” (আহমাদ, হাকেম, সহীহুল জামে' ৭৫২০নং)
📄 প্রাইভেট সেক্রেটারী
পুরুষের জন্য আমানতদারি রক্ষা করে প্রাইভেট সেক্রেটারীর কাজ করা রুযী সন্ধানের একটি হালাল উপায়। কিন্তু মহিলার জন্য কোন মহিলার প্রাইভেট সেক্রেটারী হওয়া ছাড়া কোন পুরুষের প্রাইভেট সেক্রেটারী হওয়া বৈধ নয়। কেননা, মহিলা সে ক্ষেত্রে শরয়ী আদব পালন করতে পারবে না। সে তার ঐ অফিসারের সাথে নির্জনতা অবলম্বন করবে, সেখানে সে পর্দা বজায় রাখতে পারবে না এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সে নিজেকে ব্যভিচারের ছোবল থেকে রক্ষা করতে পারবে না।
📄 হিসাব-রক্ষক
হিসাব-রক্ষক বা একাউন্টারের পেশাও বৈধ পেশা; যদি তাতে আমানতদারি রক্ষা পায় তাহলে। আমানতের খেয়ানত হলেই খেয়ানত করা অর্থ এবং সে পেশায় কামানো মাল হারাম হয়ে যাবে।
📄 ড্রাইভার (নারী ও পুরুষ)
আমানতদারি ও বৈধতার সাথে গাড়ি চালিয়ে হালাল রুযী উপার্জন করা সম্ভব। তবে এ পেশাতে ইসলামিক ও ট্রাফিক আইন মেনে চলা জরুরী। যেমন অবৈধ লোক বা জিনিস বহন করার জন্য ভাড়া যাওয়া বৈধ নয়। গাড়ির মালিকের সাথে নির্দিষ্ট টাকার চুক্তি করে প্রত্যহ বা মাস ভিত্তিক নির্দিষ্ট টাকা দেওয়া বৈধ নয়। মালিককে ফাঁকি দিয়ে অল্প ভাড়ার কথা বলে নিজে পয়সা মারা বৈধ নয়। বৈধ নয় মালিকের চোখে ধুলো দিয়ে ট্রিপ চুরি করা। বৈধ নয়, অপরিচিত মুসাফিরকে অচেনা পথে নিয়ে গিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কাছের রাস্তাকে দূর দেখিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা। পথে-ঘাটে নানা বিপদের আশঙ্কা আছে বলেই ইসলাম কোন মহিলার জন্য ড্রাইভারীর পেশাকে বৈধ মনে করে না।