📄 রাঁধুনী
পরের রাঁধা রেঁধে দেওয়ার কাজও মন্দ নয়। তবে নৈপুণ্য, হিতাকাঙ্ক্ষা ও আমানতদারির কথা তার মনে-মগজে থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে যে, সে না খেলেও কোন হারাম জিনিস অপরের জন্য পাকিয়ে দেওয়া বৈধ নয়। বৈধ নয় নিজের হাত ও পাত্রের উচিত পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার কথা খেয়াল না রাখা।
চায়ের দোকান, মিষ্টির দোকান, হোটেল, রুটির কারখানা বা অন্য কোন খাদ্যবস্তু প্রস্তুতকারী কারখানার কর্মচারীর জন্য ঐ আমানতদারী রক্ষা করে চলা ওয়াজেব। কারো জন্য বৈধ নয়, কোন প্রকারের অবহেলা বা অবজ্ঞা প্রদর্শন করা। বৈধ নয় বিড়ি-সিগারেট পান করা ও তা পান করতে করতে খাদ্য তৈরীর কাজ করা। বৈধ নয় গা-পা চুলকিয়ে অথবা নাক ঝেড়ে বা মুছে পুনরায় হাত না ধুয়ে খাদ্য বস্তুতে হাত দেওয়া।
যা নিজের জন্য পছন্দনীয় নয়, তা অপরের জন্যও পছন্দ করা বৈধ নয়। ঐ কর্মচারীর চোখের সামনে যদি কেউ গা চুলকিয়ে হাত না ধুয়ে খাবারে হাত দেয় এবং সেই খাবার তার জন্য পেশ করে, তাহলে তার কি তা রুচি হবে?
আমাদের মহানবী ﷺ বলেন, “তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত (পূর্ণ) মুমিন হতে পারে না; যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার (মুসলিম) ভায়ের জন্য সেই জিনিস পছন্দ করেছে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে থাকে।” (বুখারী ১৩, মুসলিম ৪৫, ইবনে হিব্বান ২৩৫নং)
তিনি আরো বলেন, “দ্বীন হল হিতাকাঙ্ক্ষার নাম।” আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, 'কার জন্য হে আল্লাহর রসূল!' তিনি বললেন, “আল্লাহ, তাঁর কিতাব, তাঁর রসূল, মুসলিমদের নেতৃবর্গ এবং তাদের জনসাধারণের জন্য।” (মুসলিম ৫৫নং)
📄 দারোগা-পুলিশ
পুলিশের চাকরিতেও সততা ও আমানতদারির কথা ভুলবার নয়। ঠিকমত ডিউটি পালন করা এবং কার্যক্ষেত্রে কোন প্রকার উপঢৌকন, ঘুস বা বখশিস গ্রহণ না, অপরাধী চিহ্নিত করা ও তাকে উচিত শাস্তি দেওয়ার ব্যাপারে গড়িমসি না করা এবং নিরপরাধ মানুষকে খামাখা হয়রান না করা আমানতদারির লক্ষণ।
প্রয়োজনে মহিলা পুলিশের ক্ষেত্রে পৃথক বাসস্থানে থেকে এবং পুরুষ থেকে পৃথক হয়ে কেবল মহিলা অপরাধিণী ধরার জন্য চাকরি নেওয়া বৈধ। তবে শরয়ী আদব উল্লংঘন করে সে চাকরি করা বৈধ নয়।
📄 সৈনিক
ইসলাম ও মুসলিম দেশ রক্ষার জন্য সৈনিকের কাজ একটি মহান কাজ। মহানবী বলেন, “যে ব্যক্তি প্রতিরক্ষা-বাহিনীর কার্যে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে সে ব্যক্তি কিয়ামত দিবসে পুনরুত্থিত হওয়া পর্যন্ত তার ঐ প্রতিরক্ষা-বাহিনীর কাজের সওয়াব জারী থাকে।” (ত্বাবারানীর কাবীর, সহীহ তারগীব ৬২নং)
আল্লাহর রসূল বলেন, "নামাযের পর আর এক নামাযের জন্য অপেক্ষমাণ ব্যক্তি সেই অশ্বারোহীর সমতুল্য, যে তার অশ্বসহ আল্লাহর পথে শত্রুর বিরুদ্ধে বিক্রমের সাথে সদা প্রস্তুত; যে থাকে বৃহৎ প্রতিরক্ষার কাজে।” (আহমাদ, ত্বাবারানীর আওসাত্ব, সহীহ তারগীব ৪৪৭নং)
তিনি আরো বলেন, “এক দিবারাত্রির (শত্রুবাহিনীর অনুপ্রবেশকে প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে) প্রতিরক্ষা-কার্য এক মাসের রোযা ও নামাযের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। (ঐ প্রতিরক্ষা কাজে রত ব্যক্তি) যদি মারা যায়, তাহলে তার সেই আমল জারী থেকে যায়; যা সে জীবিতাবস্থায় করত, তার জন্য তার রুজী জারী করা হয়; আর (কবরের) যাবতীয় ফিতনা থেকে সে নিরাপত্তা লাভ করে।” (মুসলিম ১৯১৩ নং)
এ ছাড়া জিহাদ করা ও জিহাদে শহীদ হওয়ার বিশাল মাহাত্ম্য রয়েছে ইসলামে। ইসলামে কোন মহিলা সৈনিকের পেশা গ্রহণ করতে পারে না। যেহেতু সে কাজ নারীত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পরন্তু শত্রুর হাতে ধরা পড়লে তার অবস্থা কি হবে, তা বলাই বাহুল্য। (সিলসিলাহ সহীহাহ ৬/৫৪৯-৫৫০) মহিলার জন্য জিহাদও ফরয নয়। একদা মা আয়েশা (রাঃ) আল্লাহর রসূল-কে জিজ্ঞাসা করলেন, 'হে আল্লাহর রসূল! মহিলাদের জন্য কি জিহাদ আছে?' উত্তরে তিনি বললেন, “হ্যাঁ, সেই জিহাদ আছে, যাতে কোন খুনাখুনি নেই; হজ্জ ও উমরাহ।” (আহমদ, ইবনে মাজাহ ২৪০১নং)
এক মহিলা জিহাদে যাওয়ার অনুমতি চাইলে আল্লাহর রসূল তাকে অনুমতি না দিয়ে ঘরে থাকতে আদেশ করেছেন। (সিলসিলাহ সহীহাহ ২৭৪০নং)
অবশ্য যেখানে মহিলা জিহাদ করতে বাধ্য এবং যথেষ্ট পুরুষ না থাকার জন্য জিহাদের বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য, সেখানের কথা ভিন্ন। যেমন উহুদ যুদ্ধে বিভিন্ন মহিলা অংশগহণ করে মুজাহিদদের সহযোগিতা করেছিলেন।
পরিশেষে যে সকল নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি কোন নেতার হুকুম পালন করে চাকরি করেন, তাঁদেরকে মহানবী-এর এই বাণী স্মরণ করিয়ে দিই। তিনি বলেন, "স্রষ্টার আদেশ লংঘন করে কোন সৃষ্টির আদেশ পালন করা যাবে না।” (আহমাদ, হাকেম, সহীহুল জামে' ৭৫২০নং)
📄 প্রাইভেট সেক্রেটারী
পুরুষের জন্য আমানতদারি রক্ষা করে প্রাইভেট সেক্রেটারীর কাজ করা রুযী সন্ধানের একটি হালাল উপায়। কিন্তু মহিলার জন্য কোন মহিলার প্রাইভেট সেক্রেটারী হওয়া ছাড়া কোন পুরুষের প্রাইভেট সেক্রেটারী হওয়া বৈধ নয়। কেননা, মহিলা সে ক্ষেত্রে শরয়ী আদব পালন করতে পারবে না। সে তার ঐ অফিসারের সাথে নির্জনতা অবলম্বন করবে, সেখানে সে পর্দা বজায় রাখতে পারবে না এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সে নিজেকে ব্যভিচারের ছোবল থেকে রক্ষা করতে পারবে না।