📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 জেলে

📄 জেলে


মাছ ধরে বিক্রয় করার পেশা অবলম্বন করেও মুসলিম হালাল রুযী পেতে পারে। তবে সে কাজে ও ব্যবসায় তার আমানতদারি থাকতে হবে। অপরের পুকুরে মাছ ধরলে নিজের চুক্তি ও ভাগের বেশী একটিও বেশী মাছ মালিকের বিনা অনুমতিতে লুকিয়ে নিতে পারবে না।

প্রকাশ থাকে যে, বর্ষার সময় যে মাছ পুকুর ছেড়ে বের হয়ে যায়, সে মাছ পুকুর সীমানার ভিতর থেকে ধরে খাওয়া মালিক ছাড়া অন্যের জন্য বৈধ নয়। বৈধ নয় আংশিক মালিকের তা ধরে সম্পূর্ণ ভোগ করা। অবশ্য পুকুরের বাইরে সাধারণ নালা বা খালে চলে এলে এবং তা পানির স্রোতে নদী বা সমুদ্রে গিয়ে মিলিত হবার কথা নিশ্চিত হলে তা যে কেউ ধরে খেতে পারে।

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 কসাই

📄 কসাই


হালাল পশু যবেহ করে তার গোশ্ত বিক্রয় করার পেশা মন্দ ও নিকৃষ্ট নয়। মন্দ হল তাতে আমানতদারি না থাকার কথা। মন্দ হল শরয়ী ছাড়া অন্য পদ্ধতিমতে যবেহ করা, যবেহর পর রক্ত ধরে রেখে গোশ্ত লাল দেখিয়ে খদ্দেরকে ধোকা দেওয়া, গরুর মাথা লটকে রেখে মহিষের গোশ্ত বিক্রয় করা অথবা খাসির মাথা সামনে রেখে পাঁঠীর গোশ্ত বিক্রয় করা, ওজনে কম দেওয়া ইত্যাদি।

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 রাঁধুনী

📄 রাঁধুনী


পরের রাঁধা রেঁধে দেওয়ার কাজও মন্দ নয়। তবে নৈপুণ্য, হিতাকাঙ্ক্ষা ও আমানতদারির কথা তার মনে-মগজে থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে যে, সে না খেলেও কোন হারাম জিনিস অপরের জন্য পাকিয়ে দেওয়া বৈধ নয়। বৈধ নয় নিজের হাত ও পাত্রের উচিত পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার কথা খেয়াল না রাখা।

চায়ের দোকান, মিষ্টির দোকান, হোটেল, রুটির কারখানা বা অন্য কোন খাদ্যবস্তু প্রস্তুতকারী কারখানার কর্মচারীর জন্য ঐ আমানতদারী রক্ষা করে চলা ওয়াজেব। কারো জন্য বৈধ নয়, কোন প্রকারের অবহেলা বা অবজ্ঞা প্রদর্শন করা। বৈধ নয় বিড়ি-সিগারেট পান করা ও তা পান করতে করতে খাদ্য তৈরীর কাজ করা। বৈধ নয় গা-পা চুলকিয়ে অথবা নাক ঝেড়ে বা মুছে পুনরায় হাত না ধুয়ে খাদ্য বস্তুতে হাত দেওয়া।

যা নিজের জন্য পছন্দনীয় নয়, তা অপরের জন্যও পছন্দ করা বৈধ নয়। ঐ কর্মচারীর চোখের সামনে যদি কেউ গা চুলকিয়ে হাত না ধুয়ে খাবারে হাত দেয় এবং সেই খাবার তার জন্য পেশ করে, তাহলে তার কি তা রুচি হবে?

আমাদের মহানবী ﷺ বলেন, “তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত (পূর্ণ) মুমিন হতে পারে না; যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার (মুসলিম) ভায়ের জন্য সেই জিনিস পছন্দ করেছে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে থাকে।” (বুখারী ১৩, মুসলিম ৪৫, ইবনে হিব্বান ২৩৫নং)

তিনি আরো বলেন, “দ্বীন হল হিতাকাঙ্ক্ষার নাম।” আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, 'কার জন্য হে আল্লাহর রসূল!' তিনি বললেন, “আল্লাহ, তাঁর কিতাব, তাঁর রসূল, মুসলিমদের নেতৃবর্গ এবং তাদের জনসাধারণের জন্য।” (মুসলিম ৫৫নং)

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 দারোগা-পুলিশ

📄 দারোগা-পুলিশ


পুলিশের চাকরিতেও সততা ও আমানতদারির কথা ভুলবার নয়। ঠিকমত ডিউটি পালন করা এবং কার্যক্ষেত্রে কোন প্রকার উপঢৌকন, ঘুস বা বখশিস গ্রহণ না, অপরাধী চিহ্নিত করা ও তাকে উচিত শাস্তি দেওয়ার ব্যাপারে গড়িমসি না করা এবং নিরপরাধ মানুষকে খামাখা হয়রান না করা আমানতদারির লক্ষণ।

প্রয়োজনে মহিলা পুলিশের ক্ষেত্রে পৃথক বাসস্থানে থেকে এবং পুরুষ থেকে পৃথক হয়ে কেবল মহিলা অপরাধিণী ধরার জন্য চাকরি নেওয়া বৈধ। তবে শরয়ী আদব উল্লংঘন করে সে চাকরি করা বৈধ নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00