📄 শিক্ষক
দুনিয়াদার শিক্ষকের ক্ষেত্রে উক্ত শ্রেণীর নিয়তের প্রয়োজন নেই। যেহেতু তিনি যে বিষয় শিক্ষা দেবেন, তা হল পার্থিব বিষয়। অবশ্য কোন হারামকৃত বিষয় শিক্ষা দেওয়া হারাম। যেমন শিক্ষকতার সময় দ্বীনী দাওয়াত ও ইসলামী চরিত্রগঠনের নিয়ত রাখলে শিক্ষক সওয়াবপ্রাপ্ত হবেন।
মুদারিস ও শিক্ষকই সভ্য জাতি গঠন করার দায়িত্ব ও ভূমিকা পালন করে থাকেন। তাঁর ইখলাস ও মহান প্রচেষ্টায় চরিত্রবান জাতি সৃষ্টি হয়। তাঁর তরবিয়তের ফলে একজন মানুষ প্রকৃত মানুষ হয়ে গড়ে ওঠে। ছাত্ররা তাঁর অনুকরণ ও অনুসরণ করে। অতএব তিনি যদি আদর্শবান না হন, তাহলে তাঁর আমানতে খেয়ানত হবে না কি?
প্রকাশ থাকে যে, ইমামতি, মুআযযিনি, মুদারিসি ও শিক্ষকতার কাজও এক শ্রেণীর চাকরি। অতএব কর্তব্যে কোন প্রকার ফাঁকি দিলে সে অর্থও হারামে পরিণত হয়ে যাবে।
📄 ইঞ্জিনিয়ার
একজন ইঞ্জিনিয়ার; যন্ত্রশিল্পী, বাস্তুশিল্পী, প্রকৌশলী বা স্থপতির যে কাজ তাতেও আমানতদারির নীতি পালন করতে হয় একজন মুসলিমকে। আমানতে খেয়ানত হলে তাঁর রোযগার ও পারিশ্রমিক হারাম হয়ে যায়।
প্রকাশ থাকে যে, ইসলামী শরীয়তে যে জিনিস নির্মাণ ও প্রস্তুত নিষিদ্ধ, তার পরিকল্পনা বা তত্ত্বাবধান করাও নিষিদ্ধ।
📄 ঠিকাদার
ঠিকেদারির কাজেও আমানতদারি পালন করতে হয় মুসলিমকে। চুক্তিতে উল্লেখিত কোন বিষয়ে কোন প্রকার কমি করে অধিক অর্থ বাঁচিয়ে নেওয়া বৈধ নয়। বৈধ নয় কোন প্রকার ফাঁকি দিয়ে কম খরচ করে বেশি খরচ দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন করা। যেমন যে কাজ ইসলামে হারাম, সে কাজের ঠিকে নেওয়াও হারাম।
📄 স্বর্ণকার
স্বর্ণকারের কাজেও আমানতদারির পরীক্ষা আছে। পরের স্বর্ণে লোভ করে তার বিনিময়ে নিজের ঈমান বিক্রয় করা বৈধ নয় কোন মুসলিমের। বৈধ নয় স্বর্ণে ভেজাল দিয়ে ওজন বাড়িয়ে স্বর্ণের সমান দাম নেওয়া।
মহান আল্লাহ কাজের নৈপুণ্য পছন্দ করেন। অতএব মুসলিমেরও উচিত সে যেন তার কর্মে তা প্রকাশ করে।
প্রকাশ থাকে যে, নতুন সোনার পরিবর্তে পুরাতন সোনা বিনিময় করার সময় সমান সমান পরিমাণ হতে হবে। নচেৎ নতুন সোনার বদলে পুরনো সোনা বেশী নিলে অথবা সমান নিয়ে অতিরিক্ত দাম নিলে তা সুদ ও হারামে পরিণত হয়ে যাবে। ('দেনা-পাওনা' দ্রষ্টব্য)