📄 বিবাহ পড়ানো কাযী
কনের অলী বিবাহে রাযী না থাকলে অথবা অপহৃতা হলে, কনে বরের কোন মাহরাম হলে, কনে তার বর্তমান স্ত্রীর আপন বা সৎ বোন হলে, বুনঝি বা ভাইঝি অথবা খালা বা ফুফু হলে, কনে কোন স্বামীর বিবাহিতা স্ত্রী হলে, কনে গর্ভবতী হলে অথবা পূর্ব স্বামীর ইদ্দতে থাকলে এবং আরো যে সব ক্ষেত্রে বিবাহ বৈধ নয়, সে সব ক্ষেত্রে স্পর্শকাতর অবস্থায় লুকিয়ে-ছুপিয়ে দুটো পয়সার লোভে বিয়ে পড়িয়ে দেওয়া বৈধ কাজ নয়।
তদনুরূপ তালাকনামা লিখার সময়ও সুন্নী না বিদয়ী তালাক, ন্যায় না অন্যায় তালাক তা দেখা দরকার কাযীকে।
একজন মহিলার ইয্যতকে একজন পুরুষের জন্য হালাল বা হারাম করে দেওয়ার ব্যাপার নিশ্চয়ই সহজ নয়। সুতরাং এর মাধ্যমে যাঁরা রুযী অনুসন্ধান করেন, তাঁদেরকে ভেবে দেখা দরকার।
📄 ইমাম-মুআযযিন-দ্বীনী মুদারিস
ইমাম ও মুআযযিন ও দ্বীনী মুদারিসের কাজ হল দ্বীনী কাজ, এ কাজ একমাত্র আল্লাহর ওয়াস্তে হওয়া উচিত। যেহেতু কোনও দ্বীনী কাজের মাধ্যমে দুনিয়ার সম্পদ অনুসন্ধান করা বৈধ নয়। মহানবী বলেন, “যে ব্যক্তি আখেরাতের কর্ম দুনিয়া লাভের উদ্দেশ্যে করবে তার জন্য আখেরাতের কোন ভাগ থাকবে না।” (আহমাদ)
তিনি আরো বলেন, "যে ব্যক্তি কোন এমন ইল্ম অন্বেষণ করে যার দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশা করা হয়, যদি তা সে কেবলমাত্র পার্থিব সম্পদলাভের উদ্দেশ্যেই অন্বেষণ করে তবে সে কিয়ামতের দিন জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না।” (আবু দাউদ, আহমাদ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান)
মহানবী বলেন, “জামাআতের সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তির খেয়াল করে নামায পড়াও। আর এমন মুআযযিন রেখো না, যে আযানের জন্য পারিশ্রমিক চায়।” (ত্বাবারানী, সহীহুল জামে' ৩৭৭৩নং)
অবশ্য কেউ ইমাম বা মুআযযিন ও মুদারিসের পেশা অবলম্বন করলে তাঁর সংসার চালাবার মত ব্যবস্থা করে দেওয়া কর্তব্য হল ইসলামী সরকার অথবা মুসলিম জনগণের। আর সে ক্ষেত্রে তাঁর উচিত হবে নিয়ত পরিবর্তন করার। অর্থাৎ তিনি ঐ কাজের পশ্চাতে প্রধান নিয়ত রাখবেন আখেরাতের ফললাভ করা। অতঃপর যে রুযী পাওয়া যাবে, সেটি হবে তার নেক কাজের সহায়ক স্বরূপ। এইরূপ নিয়ত না রাখলে কোনও দ্বীনী কাজের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা কারো জন্য বৈধ হবে না।
প্রিয় নবী বলেন, "যাবতীয় আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। সুতরাং প্রত্যেক ব্যক্তির তা-ই প্রাপ্য হয়, যার সে নিয়ত করে থাকে। যে ব্যক্তির হিজরত পার্থিব কোন বিষয় লাভের উদ্দেশ্যে হয়, সে ব্যক্তির তা-ই প্রাপ্য হয়। যার হিজরত কোন মহিলাকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে হয়, তার প্রাপ্যও তাই। যে যে নিয়তে হিজরত করবে সে তাই পেয়ে থাকবে।” (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ১নং)
📄 শিক্ষক
দুনিয়াদার শিক্ষকের ক্ষেত্রে উক্ত শ্রেণীর নিয়তের প্রয়োজন নেই। যেহেতু তিনি যে বিষয় শিক্ষা দেবেন, তা হল পার্থিব বিষয়। অবশ্য কোন হারামকৃত বিষয় শিক্ষা দেওয়া হারাম। যেমন শিক্ষকতার সময় দ্বীনী দাওয়াত ও ইসলামী চরিত্রগঠনের নিয়ত রাখলে শিক্ষক সওয়াবপ্রাপ্ত হবেন।
মুদারিস ও শিক্ষকই সভ্য জাতি গঠন করার দায়িত্ব ও ভূমিকা পালন করে থাকেন। তাঁর ইখলাস ও মহান প্রচেষ্টায় চরিত্রবান জাতি সৃষ্টি হয়। তাঁর তরবিয়তের ফলে একজন মানুষ প্রকৃত মানুষ হয়ে গড়ে ওঠে। ছাত্ররা তাঁর অনুকরণ ও অনুসরণ করে। অতএব তিনি যদি আদর্শবান না হন, তাহলে তাঁর আমানতে খেয়ানত হবে না কি?
প্রকাশ থাকে যে, ইমামতি, মুআযযিনি, মুদারিসি ও শিক্ষকতার কাজও এক শ্রেণীর চাকরি। অতএব কর্তব্যে কোন প্রকার ফাঁকি দিলে সে অর্থও হারামে পরিণত হয়ে যাবে।
📄 ইঞ্জিনিয়ার
একজন ইঞ্জিনিয়ার; যন্ত্রশিল্পী, বাস্তুশিল্পী, প্রকৌশলী বা স্থপতির যে কাজ তাতেও আমানতদারির নীতি পালন করতে হয় একজন মুসলিমকে। আমানতে খেয়ানত হলে তাঁর রোযগার ও পারিশ্রমিক হারাম হয়ে যায়।
প্রকাশ থাকে যে, ইসলামী শরীয়তে যে জিনিস নির্মাণ ও প্রস্তুত নিষিদ্ধ, তার পরিকল্পনা বা তত্ত্বাবধান করাও নিষিদ্ধ।