📄 পোস্ট-মাস্টার, পিয়ন
দেশ-বিদেশ থেকে কত চিঠি-পত্র, টাকা-পয়সা ও মাল-সামান আসা-যাওয়া করে ডাকবিভাগের কর্মীদের মাধ্যমে। লোকেরা নিজেদের অর্থ ব্যয় করে তাদের ঘাড়ে নিজেদের আমানত রেখে থাকে। সেই আমানত পৌঁছে না দেওয়া পর্যন্ত তাদের মুক্তি ও পরিত্রাণ নেই। ইচ্ছাকৃত কোন জিনিস তাদের তত্ত্বাবধান থেকে নষ্ট হলে, তার দায়ী তারাই। আর মহান আল্লাহ বলেন, ((إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤدُّوا الأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا)) (৫৮) সূরা নিসা
অর্থাৎ, আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, আমানত তার মালিককে প্রত্যর্পণ করবে। (সূরা নিসা ৫৮ আয়াত)
📄 সাংবাদিক (পুরুষ ও নারী)
সাংবাদিকতার কাজ করে অর্থোপার্জন বৈধ। তবে তাতে শর্ত হল আমানতদারী রক্ষা করে কোন বিষয়ে লিখা ও মন্তব্য করা। ধারণা করে কোন কথা না লিখা বা বলা। কোন দেশ বা ব্যক্তির প্রতি অনুমান করে মিথ্যা অপবাদ আরোপ না করা। কারো অবৈধ জাসুসী, সমালোচনা ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ না করা। পরিকল্পিত মিথ্যা ও অনুমানভিত্তিক তথ্য-প্রবাহের ঝড় সৃষ্টি না করা। মহান আল্লাহ বলেন, ((يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيراً مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ))
অর্থাৎ, হে ঈমানদারগণ! তোমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনুমান হতে দূরে থাক। কারণ, কোন কোন ক্ষেত্রে অনুমান হল গোনাহর কাজ। আর তোমরা অপরের গোপনীয় বিষয় সন্ধান (গোয়েন্দাগিরি) করো না এবং একে অপরের পশ্চাতে নিন্দা (গীবত) করো না। তোমাদের মধ্যে কেউ কি তার মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করতে চাইবে? বস্তুতঃ তোমরা তো তা ঘৃণাই করবে। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আল্লাহ তওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু। (সূরা হুজুরাত ১২ আয়াত)
তিনি আরো বলেন, (وَالَّذِينَ يُؤْذُوْنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُّبِينًا)
অর্থাৎ, যারা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে কষ্ট দেয় তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে। (সূরা আহযাব ৫৮ আয়াত)
মহানবী বলেন, "সূদ (খাওয়ার পাপ হল) ৭২ প্রকার। যার মধ্যে সবচেয়ে ছোট পাপ হল মায়ের সাথে ব্যভিচার করার মত! আর সবচেয়ে বড় (পাপের) সুদ হল নিজ (মুসলিম) ভায়ের সম্ভ্রম নষ্ট করা।” (ত্বাবারানীর আউসাত্ব, সিলসিলাহ সহীহাহ ১৮৭১নং)
আল্লাহর রসূল বলেন, মি'রাজের রাত্রে যখন আমাকে আকাশ ভ্রমণে নিয়ে যাওয়া হল, তখন এমন একদল লোকের পাশ বেয়ে আমি অতিক্রম করলাম যাদের ছিল তামার নখ; যা দিয়ে তারা তাদের মুখমন্ডল ও বক্ষঃস্থল চিরে ফেলছিল। আমি বললাম, 'ওরা কারা হে জিব্রাইল?!' জিব্রাইল বললেন, 'ওরা হল সেই লোক; যারা লোকেদের মাংস খায় (গীবত করে) এবং তাদের ইজ্জত লুটে বেড়ায়।” (আহমাদ ৩/২২৪, সহীহ আবু দাউদ ৪০৮২ নং)
আল্লাহর রসূল বলেন, "তোমরা ধারণা করা থেকে দূরে থাক। কারণ, ধারণা সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা। তোমরা জাসুসী করো না, গুপ্ত খবর জানার চেষ্টা করো না, পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করো না, হিংসা করো না, বিদ্বেষ রেখো না, একে অন্যের পিছনে পড়ো না (পরস্পর শত্রুভাবাপন্ন হয়ো না), তোমরা আল্লাহর বান্দা ভাই-ভাই হয়ে যাও।---" (মালেক, আহমাদ, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, সহীহুল জামে' ২৬৭৯নং)
সাংবাদিক হবে ইসলামের পতাকাবাহী। কোন মুসলিম সাংবাদিক ইসলামের বিরুদ্ধে বলতে-লিখতে পারে না। প্রত্যেক জিনিসের নির্দিষ্ট সীমা আছে। বাক-স্বাধীনতারও নির্দিষ্ট সীমা আছে ইসলামে। সাংবাদিক বা কোন বক্তা-লেখকের জন্য সেই সীমা লংঘন করা বৈধ নয়। স্বাধীনতার নামে পাগলামি করা জ্ঞানীদের কাজ নয়।
ইসলামের বিরুদ্ধে দূর থেকে ছোবল হেনে ইসলাম সম্বন্ধে মূর্খতার পরিচয় জ্ঞানী সাংবাদিকগণ দেন না। ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ, হিংসা ও ঝাল রেখে নিজের স্বাধীনতা প্রকাশ করলে বিষ ছাড়া আর কি উদ্গারণ করতে পারেন তাঁরা।
বহু নাম-সর্বস্ব মুসলিমের আচরিত কুসংস্কার ও লোকাচারকে ইসলাম মনে করা এবং তা নিয়ে সমালোচনা করা মূর্খামি নয় কি?
বাক-স্বাধীনতার নামে 'ছাগলে কি না খায় এবং পাগলে কি না বলে'-এই প্রবাদের মূর্ত প্রতীকরা মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে, তাঁদের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে, সাম্প্রদায়িকতার আগুনে উস্কানি দেয় এবং ধর্মহীনতা ও অশ্লীলতার প্রতি মানুষকে আহবান করে। এদের কাছে শিক্ষিত মুসলিম সমাজ, তাঁদের আলেম-উলামা ও ধর্মভীরু ব্যক্তিবর্গরা উপহাসের পাত্র, ঠিক তদ্রূপই ওরাও তাঁদের কাছে অধিকতর উপহাস ও ঘৃণার পাত্র। তবে পার্থক্য হল ওদের হাতে মিডিয়া আছে, আর এঁদের হাতে ততটা নেই। ওরা ওদের ধর্মে পরিপূর্ণ বিশ্বাসী ও কর্মে সম্পূর্ণ বিশুদ্ধচিত্ত, আর এঁদের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য কপট, মুনাফিক ও বিশ্বাসঘাতক। ওদের মাঝে রয়েছে একতা, আর এঁদের মাঝে রয়েছে বিচ্ছিন্নতা ও ঐক্যহীনতা। সুতরাং আল্লাহই সাহায্যস্থল।
প্রকাশ থাকে যে, সাংবাদিক নারী হলে পর্দা তথা অন্যান্য ইসলামী আদব অবশ্যই পালন করতে হবে।
📄 রাখাল (পশুপালক)
অপরের পশু চড়িয়ে রুযী-সন্ধানের কাজ নিকৃষ্ট নয়। প্রত্যেক নবী তাঁর জীবনের কোন এক সময় পশু চড়ানোর কাজ করেছেন। আর তারই মাধ্যমে মানুষ চড়ানোর পদ্ধতি শিক্ষা করে রাজকার্যও চালিয়েছেন। নিঃসন্দেহে পশু চড়ানোর কাজও বড় আমানতদারির কাজ। যাতে কোন পশু হারিয়ে না যায় বা হিংস্র কোন প্রাণীর পেটে না যায় এবং অপরের ক্ষেত-ফসলের ক্ষতি না করে, তার খেয়াল রেখে আমানত পালন করতে হয় প্রত্যেক রাখালকে। বলাই বাহুল্য যে, আমানতে খেয়ানত হলে রুযী হালাল হতে পারে না।
📄 ভৃত্য, চাকর-চাকরানী
অপরের হাউস-ড্রাইভার বা দাস-দাসীরূপে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রত্যেক মুসলিম নরনারীকে জেনে রাখা দরকার যে, ইসলামে কোন বেগানা পুরুষ-মহিলা নির্জনতা অবলম্বন করতে পারে না, তাদের আপোসে পর্দা ওয়াজেব এবং একে অন্যের দেহ স্পর্শ বৈধ নয়। বৈধ নয় বাড়ির ভিতরের কোন সম্পদের খিয়ানত করা। বৈধ নয় কোন কিছু লুকিয়ে রেখে নেওয়া। বৈধ নয় পরিবারের কোন গোপন কথায় কান করা। বৈধ নয় পরিবারের কোন গোপন কথা বাইরে প্রচার করা। বৈধ নয় পরিবারের কারো কুটনামি ও চুগলামি করা। বৈধ নয় বাড়ির লোকের সাথে দাসীর বেপর্দা হওয়া। বৈধ নয় চাকরের বাড়ির মেয়েদের দিকে নজর তোলা। বৈধ নয় যথাকর্তব্যে ফাঁকি দেওয়া।
আল্লাহর রসূল বলেন, "তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব-বিষয়ে (কিয়ামতে) কৈফিয়ত করা হবে। ইমাম (রাষ্ট্রনায়ক তার রাষ্ট্রের) একজন দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্ব-সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। পুরুষ তার পরিবারে দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্ব-বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। মহিলা তার স্বামী-গৃহের দায়িত্বশীলা, সে তার দায়িত্ব-বিষয়ে জিজ্ঞাসিতা হবে। চাকর তার মুনিবের অর্থের দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্ব-বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। তোমাদের প্রত্যেকেই এক একজন দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব-বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।” (বুখারী ৮৯৩, ৫১৮৮ প্রভৃতি, মুসলিম ১৮২৯নং)
সাধ্য, সময়, কর্তব্য বা বেতনের বাইরে অতিরিক্ত কাজে যদি কেউ বিরক্ত হয় বা কষ্ট পায়, তাহলে তাতে ধৈর্য ধরে সওয়াবের আশা রাখা উচিত।