📄 ব্যবসায়ী, হকার
ব্যবসা পেশা হিসাবে মন্দ নয়। মন্দ হল, অসৎ উপায়ে, মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে, ধোকা দিয়ে অথবা হারাম মালের ব্যবসা বৈধ নয়। হালাল নয় অসাধু ব্যবসায়ীদের উপার্জন। এখানে ব্যবসায়ীর উপকারের জন্য মহানবী -এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ উল্লেখ করা উচিত মনে করি। তিনি বলেন,
“যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, সে দোযখ থেকে মুক্তি পেয়ে বেহেশ্বে প্রবেশ করবে, তার উচিত হল এই যে, সে যেন আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রেখে মৃত্যুবরণ করে এবং মানুষের সাথে ঠিক সেই রকম ব্যবহার প্রদর্শন করে, যে রকম ব্যবহার সে তাদের নিকট থেকে পেতে পছন্দ করে।” (মুসলিম ১৮৪৪নং) "তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত (পূর্ণ) মুমিন হতে পারে না; যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার (মুসলিম) ভায়ের জন্য সেই জিনিস পছন্দ করেছে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।” (বুখারী ১৩, মুসলিম ৪৫, ইবনে হিব্বান ২৩৫নং)
“দ্বীন হল হিতাকাঙ্ক্ষার নাম।" আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, 'কার জন্য হে আল্লাহর রসূল!' তিনি বললেন, "আল্লাহ, তাঁর কিতাব, তাঁর রসূল, মুসলিমদের নেতৃবর্গ এবং তাদের জনসাধারণের জন্য।” (মুসলিম ৫৫নং)
📄 ফেরি-ওয়ালা
যারা গ্রামে-গঞ্জে পাড়ায়-পাড়ায় ঘুরে-ফিরে ব্যবসা করে, তাদের জন্য অতিরিক্ত উপদেশ এই যে, তারা যেন লোকের মা-বোনদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করে। 'হাগনদারী'র লাজ না থাকলেও 'দেখনদারী'র লাজ যেন থাকে। মহানবী বলেন, "যে মহিলা (স্পর্শ করা) হালাল নয় তাকে স্পর্শ করার চেয়ে তোমাদের কারো মাথায় লোহার ছুঁচ গেঁথে যাওয়া অনেক ভালো।” (ত্বাবারানী, সহীহুল জামে' ৫০৪৫নং)
📄 পশু-পাইকের
পশুব্যবসায়ীরা বিশেষভাবে উল্লেখ্য এই জন্য যে, এদের মধ্যে দালালি, মিথ্যা কসম, গায়রুল্লাহর নামে কসম, কৃত্রিম তেজ দেখিয়ে অথবা দুধ না দুইয়ে জমা রেখে বেশী দেখিয়ে পশু বিক্রয় ইত্যাদি অধিক হয়ে থাকে। সুতরাং হালাল রুযী-সন্ধানী পাইকেরের জন্য এটি হল একটি সতর্কপত্র।
📄 চাকুরীজীবী
হালাল কাজে হালাল জায়গায় চাকুরি করা মুসলিমের জন্য হালাল। কেবল কলম টেনে অফিস চালিয়ে চুক্তি অনুযায়ী মোটা টাকা বেতন নেওয়া হারাম নয়। অবশ্য চাকরির ডিউটি বা কর্তব্য সঠিকমতে পালন করা ওয়াজেব। ওয়াজেব যথাসময়ে উপস্থিত হওয়া ও থাকা। যেমন চাকরিস্থলের কোন প্রকার আমানতের খিয়ানত করা তার জন্য বৈধ নয়। যার চাকুরি করা হয়, তার প্রতি যেন হিতাকাঙ্ক্ষা থাকে। নচেৎ চাকুরির বেতন হারাম বলে গণ্য হবে।
পক্ষান্তরে চাকরি মাত্রই হালাল নয়। যে চাকরির কাজে মুসলিমদের জান, ঈমান, মান, জ্ঞান বা ধনের কোন প্রকার ক্ষতি সাধন হয় সে চাকরি করা বৈধ নয়।
যে চাকরিতে নিজের জান, ঈমান, মান, জ্ঞান বা ধনের কোন প্রকার ক্ষতি হয়, সে চাকরি করা বৈধ নয়।
যে চাকরিতে হারাম কাজ বা অন্যায়ের সহযোগিতা হয়, সে চাকরি বৈধ নয়।
যে চাকরিতে মানুষের চরিত্রগত ক্ষতি হয়, সে চাকরি করা বৈধ নয়।
বহু খোঁজাখুঁজির পর হালাল চাকরি না পেয়ে অসুবিধায় পড়েও হারাম চাকরি গ্রহণ করা বৈধ নয়। যেহেতু সে চাকরী নেওয়া থেকে তার অন্য কাজ; যেমন দিন-মজুরী ইত্যাদি কাজের পথ খোলা আছে।
কল-কারখানায় বা অফিসে-আদালতে নারী-পুরুষ একত্রে কাজ করা এবং আপোষে অবাধ মিলামিশা করা শরীয়তে বৈধ নয়। এমনই কোন অফিস বা কারখানায় কাজ করতে বাধ্য হলে মুমিনের ঈমানের দাবী হল চক্ষু ও ইয্যতের হিফাযত করা।
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, চাকুরিজীবীর অসুখের ছুটি নেওয়ার পর ছুটি শেষ হওয়ার আগেই যদি অসুখ ভালো হয়ে যায়, তাহলে সুস্থ অবস্থায় অবশিষ্ট দিন ছুটিরূপে কাটানো বৈধ নয়। বরং অসুখ ভালো হওয়া মাত্র কর্মে যোগদান করা কর্তব্য। অবশ্য কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিলে সে কথা ভিন্ন। (ফাতাওয়া উলামাইল বালাদিল হারাম ৫৬০পৃঃ)