📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 ডাক্তার

📄 ডাক্তার


ডাক্তারি একটি উত্তম পেশা। অর্থের সাথে সাথে এর মাধ্যমে সৃষ্টির খিদমত করার মহান সুযোগ লাভ হয়। আর সেই সাথে দ্বীনের জ্ঞান থাকলে দাওয়াতের কাজ করারও সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন ডাক্তার। অবশ্য ডাক্তারের ঘাড়েও বড় আমানত আছে, তাতে খিয়ানত করা তাঁর জন্য বৈধ নয়। যেমনঃ-
বৈধ নয় পুরুষ ডাক্তারের জন্য অপ্রয়োজনে রোগিণীর কোন গোপন অঙ্গ দেখা।
বৈধ নয় অপ্রয়োজনে মহিলার দেহ স্পর্শ করে চেকিং করা।
বৈধ নয় নার্স বা রোগিণীর সাথে একাকিত্ব বা নির্জনতা অবলম্বন করা।
বৈধ নয় চিকিৎসায় রোগীর প্রতি কোন প্রকার অহিতাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করা।
বৈধ নয় দু' নম্বর ওষুধ দেওয়া।
বৈধ নয় ওষুধে কোন প্রকার ভেজাল দেওয়া।
বৈধ নয় বিনা মূল্যের সরকারী ওষুধ বিক্রয় করা।
বৈধ নয় সমাজে প্রচলিত এই ধারণাকে বাস্তব প্রমাণ করা : 'জল জোলাপ জুয়াচুরি, তিন নিয়ে ডাক্তারি।'
বৈধ নয় অনুমানে চিকিৎসা করা।
বৈধ নয় রোগীর কোন গুপ্তরোগের কথা অপরের কাছে প্রচার করা।
বৈধ নয় অল্প খরচের চিকিৎসা-পদ্ধতি থাকা সত্ত্বেও ব্যয়বহুল চিকিৎসা-পদ্ধতি প্রয়োগ করে রোগীর অর্থ অপচয় করা।
বৈধ নয় অনিবার্য কারণ ব্যতীত ভ্রূণ হত্যা করা।
বৈধ নয় জন্ম-নিরোধক ওষুধ দিয়ে প্রেমিক-প্রেমিকার ব্যভিচারে সহযোগিতা করা।
বৈধ নয় যথেষ্ট পয়সা না পেয়ে যথোচিত চিকিৎসা না করে রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া।
বৈধ নয় আন্দাজে ভুল ওষুধ বা ইঞ্জেকশন দিয়ে অথবা চিকিৎসায় অবহেলা প্রদর্শন করে কোন রোগীর অঙ্গহানি অথবা প্রাণহানি ঘটানো।

বলাই বাহুল্য যে, না জেনে ডাক্তারি করা ডাক্তারের জন্য বৈধ নয়। নচেৎ তাঁর কুচিকিৎসার ফলে রোগীর যে ক্ষতি হবে, তার জন্য দায়ী হবেন ঐ নাড়ীটেপা হাতুড়ে ডাক্তার।
মহানবী বলেন, “যে ব্যক্তি ডাক্তারি করে, অথচ ডাক্তারি করা তার কাজ নয়, সে ব্যক্তি (রোগীর জন্য) যামিন।” (আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, হাকেম, সহীহুল জামে' ৬১৫৩নং) কথায় বলে, 'নীম মুল্লা খাতরায়ে ঈমান, নীম হাকীম খাতরায়ে জান।' অতএব রোগ, ওষুধ ও রোগীর পরিস্থিতি বুঝেই ডাক্তারি করা কর্তব্য।

সৃষ্টিকর্তার হাতে মানুষের জান থাকে। কিন্তু তা নষ্ট করার কারণ মানুষ হলে সৃষ্টিকর্তা তাকে ছাড়বেন না। সুতরাং একজন ডাক্তারকে নিম্নের আয়াত ও হাদীস মনে রাখা দরকার।
মহানবী আরো বলেন, "নিশ্চয় মহান আল্লাহ পছন্দ করেন যে, বান্দা যখন যে কাজ করে, তখন তা যেন সে নৈপুণ্যের সাথে করে।” (শুআবুল ঈমান, বাইহাকী, সহীহুল জামে' ১৮৮০নং)

মহান আল্লাহ বলেন,
مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ كَتَبْنَا عَلَى بَنِي إِسْرَاءِيلَ أَنَّهُ مَن قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الْأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا وَمَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَا أَحْيَا النَّاسَ جَمِيعًا وَلَقَدْ جَاءَتْهُمْ رُسُلُنَا بِالْبَيِّنَاتِ ثُمَّ إِنَّ كَثِيرًا مِنْهُم بَعْدَ ذَلِكَ فِي الْأَرْضِ لَمُسْرِفُونَ ))
অর্থাৎ, এ কারণেই বানী ইসরাঈলকে এ বিধান দিয়েছিলাম যে, যে কেউ প্রাণের বদলে প্রাণ অথবা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কাজের বদলা নেওয়া ছাড়া কাউকে (অন্যায়ভাবে) হত্যা করে, সে যেন (পৃথিবীর) সকল মানুষকেই হত্যা করে এবং যে কারো প্রাণ রক্ষা করে সে যেন পৃথিবীর) সকল মানুষের প্রাণ রক্ষা করে। (সূরা মায়েদাহ ৩২ আয়াত)

وَمَن يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَلدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيمًا
অর্থাৎ, আর যে ব্যক্তি কোন মুমিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে তার শাস্তি হবে জাহান্নাম, সেখানেই সে চিরকাল থাকবে এবং আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হবেন, তাকে অভিসম্পাত করবেন এবং তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত করে রাখবেন। (সূরা নিসা ৯৩ আয়াত)

আল্লাহর রসূল বলেন, কিয়ামতের দিন মানুষের যে বিষয়ে সর্বপ্রথম বিচার- নিষ্পত্তি হবে তা হল খুন।” (বুখারী ৬৫৩৩নং, মুসলিম ১৬৭৮, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)

তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি মুশরিক হয়ে মারা যায় অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মুমিনকে হত্যা করে, সে ব্যক্তির পাপ ছাড়া অন্যান্য ব্যক্তির পাপকে আল্লাহ মাফ করে দিতে পারেন।” (আহমাদ, নাসাঈ, হাকেম ৪/৩৫১, আবু দাউদ, সহীহুল জামে' ৪৫২৪নং)

তিনি বলেন, “একজন মুসলিমকে খুন করার চাইতে জগৎ ধ্বংস হয়ে যাওয়া আল্লাহর নিকট অধিক সহজ।” (তিরমিযী ১৩৯৫, নাসাঈ ৩৯৮৭নং)

তিনি আরো বলেন, “যে ব্যক্তি কোন (মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী) যিম্মী (অথবা সন্ধিচুক্তির পর বিপক্ষের কাউকে) হত্যা করবে সে ব্যক্তি বেহেশ্বের সুবাসও পাবে না। অথচ তার সুবাস ৪০ বছরে অতিক্রম্য দূরবর্তী স্থান হতে পাওয়া যাবে।” (আহমাদ, বুখারী ৩১৬৬, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)

প্রকাশ থাকে যে, ডাক্তারের মতই দায়িত্ব রয়েছে কম্পাউন্ডার ও ফার্মেসিষ্টের।

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 নার্স (নারী ও পুরুষ)

📄 নার্স (নারী ও পুরুষ)


রোগীর খিতমতের জন্য পুরুষ এবং রোগিণীর খিদমতের জন্য মহিলা নার্স হওয়াই বাঞ্ছনীয়। যেহেতু ইসলামে কোন বেগানা পুরুষ-মহিলা নির্জনতা অবলম্বন করতে পারে না, তাদের আপোসে পর্দা ওয়াজেব এবং একে অন্যের দেহ স্পর্শ অবৈধ। শরীয়তের আদব মেনে চলতে পারলে তবেই এ পেশা বৈধ। আর প্রয়োজনয়ীতার কথা অবশ্যই ভিন্ন।

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 আমীন

📄 আমীন


মানুষের জমি-জায়গা জরিপ করা একটি বড় আমানতদারির কাজ। সুতরাং আমানত বজায় রেখে কাজ করলেই এ পেশায় হালাল রুযী লাভ করা সম্ভব। কারো পক্ষপাতিত্ব করে এক জনের (কিছু পরিমাণও) হক নিয়ে অপরকে দান করা আমানতের খেয়ানত। সুতরাং সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে আমীনকে।

📘 হারাম রুযী ও রোযগার > 📄 ব্যবসায়ী, হকার

📄 ব্যবসায়ী, হকার


ব্যবসা পেশা হিসাবে মন্দ নয়। মন্দ হল, অসৎ উপায়ে, মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে, ধোকা দিয়ে অথবা হারাম মালের ব্যবসা বৈধ নয়। হালাল নয় অসাধু ব্যবসায়ীদের উপার্জন। এখানে ব্যবসায়ীর উপকারের জন্য মহানবী -এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ উল্লেখ করা উচিত মনে করি। তিনি বলেন,

“যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, সে দোযখ থেকে মুক্তি পেয়ে বেহেশ্বে প্রবেশ করবে, তার উচিত হল এই যে, সে যেন আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রেখে মৃত্যুবরণ করে এবং মানুষের সাথে ঠিক সেই রকম ব্যবহার প্রদর্শন করে, যে রকম ব্যবহার সে তাদের নিকট থেকে পেতে পছন্দ করে।” (মুসলিম ১৮৪৪নং) "তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত (পূর্ণ) মুমিন হতে পারে না; যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার (মুসলিম) ভায়ের জন্য সেই জিনিস পছন্দ করেছে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।” (বুখারী ১৩, মুসলিম ৪৫, ইবনে হিব্বান ২৩৫নং)

“দ্বীন হল হিতাকাঙ্ক্ষার নাম।" আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, 'কার জন্য হে আল্লাহর রসূল!' তিনি বললেন, "আল্লাহ, তাঁর কিতাব, তাঁর রসূল, মুসলিমদের নেতৃবর্গ এবং তাদের জনসাধারণের জন্য।” (মুসলিম ৫৫নং)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00