📄 বিচারক, উকিল
মহান আল্লাহ আমাদেরকে বলেছেন যে,
((فَلَا تَخْشَوُا النَّاسَ وَاخْشَوْنِ وَلَا تَشْتَرُواْ بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلاً وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ)) (٤٤) سورة المائدة
অর্থাৎ, সুতরাং মানুষকে ভয় করো না, আমাকেই ভয় কর এবং আমার আয়াত নগণ্য মূল্যে বিক্রয় করো না। এবং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না, তারাই অবিশ্বাসী। (সূরা মাইদাহ ৪৪ আয়াত)
((وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ)) (٤٥) سورة المائدة
অর্থাৎ, আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না তারাই যালেম (অত্যাচারী)। (সূরা মাইদাহ ৪৫ আয়াত)
((وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ)) (٤٧) سورة المائدة
অর্থাৎ, আর যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে বিধান দেয় না তারা ফাসেক (সত্যত্যাগী)। (সূরা মাইদাহ ৪৭ আয়াত)
সুতরাং কুরআন মাজীদের উক্ত বিধান অনুসারে কোন মুসলিমের জন্য মানব-রচিত আইন-কানুন দ্বারা বিচার-মীমাংসা করা বৈধ নয়। বৈধ নয় সে দেশ ও সে কোর্টের বিচারক ও উকিল হওয়া, যে দেশ ও যে কোর্টে আল্লাহর বিধান দ্বারা বিচার করা হয় না। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ২০/১৭৭)
জেনে রাখা ভালো যে, বিচারক বা উকিল ঐ পেশা বিভিন্ন উদ্দেশ্যে অবলম্বন করে থাকেন।
১। তিনি বিশ্বাস করেন যে, ইসলামী আইনের পরিবর্তে মানব-রচিত আইন উত্তম।
২। অথবা তিনি বিশ্বাস করেন যে, ইসলামী আইন অপেক্ষা মানব-রচিত আইন উত্তম নয়, তবে তার সমকক্ষ।
৩। অথবা তিনি বিশ্বাস করেন যে, ইসলামী আইন অপেক্ষা মানব-রচিত আইন উত্তম নয়, তবে বর্তমান যুগে তার প্রয়োগ যথার্থ নয়।
৪। অথবা তিনি বিশ্বাস করেন যে, ইসলামী আইন অপেক্ষা মানব-রচিত আইন উত্তম নয়, তবে মানব-রচিত আইন দিয়েও বিচার-মীমাংসা করা বৈধ।
উক্ত কোন এক প্রকার বিশ্বাস রাখাই একজন মুসলিমের কাফের হওয়ার জন্য যথেষ্ট। বলা বাহুল্য, সে লোকের উপার্জন যে হারাম তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
৫। অথবা তিনি বিশ্বাস করেন যে, ইসলামী আইন অপেক্ষা মানব-রচিত আইন উত্তম নয়, কিন্তু রুযী-রোযগারের জন্য উক্ত পেশা গ্রহণ করেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি গোনাহগার হবেন এবং তাঁর উপার্জনও হারাম হবে।
৬। অথবা তিনি বিশ্বাস করেন যে, ইসলামী আইন অপেক্ষা মানব-রচিত আইন কোনরূপেই উত্তম নয় এবং তার প্রয়োগ কোন কালে বৈধ নয়। কিন্তু তিনি মুসলিমদের প্রয়োজনে মুসলিমদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য হক জেনে বাতিলের বিরুদ্ধে লড়ায়ের উদ্দেশ্যে এ পেশা অবলম্বন করে উক্তভাবেই অর্থোপার্জন করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে সম্ভবতঃ তা হারাম হবে না ইনশাআল্লাহ।
কিন্তু মুসলিমদের প্রয়োজনে উকিল হলেও সে পেশায় শরীয়ত-বিরোধী কোন ফায়সালা দেওয়া বৈধ নয়। যেমন অন্যায়ের ঠিকেদারী করাও তাঁর জন্য অবৈধ। মুআক্কেল হকের উপর হলে তিনি তাকে সাহায্য করবেন। তা না হলে হক প্রকাশ করে তাকে হারাম হতে রক্ষা করে সাহায্য করবেন। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৭০৪)
মহানবী বলেন, "তুমি তোমার অত্যাচারিত ও অত্যাচারী ভায়ের সাহায্য কর।” বলা হল, (হে আল্লাহর রসূল!) অত্যাচারীকে সাহায্য কিভাবে করব? তিনি বললেন, "তাকে অত্যাচার করা হতে বিরত রাখবে; তাহলেই তাকে সাহায্য করা হবে।” (আহমাদ, বুখারী, তিরমিযী, সহীহুল জামে' ১৫০২নং)
মুসলিম উকীলের জন্য বৈধ নয় কোন অপরাধ বা কুফরের পৃষ্ঠপোষকতা করা। মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে সম্বোধন করে বলেন,
((وَلَا تُجَادِلْ عَنِ الَّذِينَ يَخْتَانُونَ أَنفُسَهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَن كَانَ خَوَّانًا أَثِيمًا))
অর্থাৎ, আর তুমি তাদের পক্ষে কথা বল না যারা নিজেদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করে। নিশ্চয় আল্লাহ বিশ্বাসঘাতক পাপিষ্ঠকে ভালবাসেন না। (সূরা নিসা ১০৭ আয়াত)
((فَلَا تَكُونَنَّ ظَهِيرًا لِّلْكَافِرِينَ)) (٨٦) سورة القصص
অর্থাৎ, সুতরাং তুমি কখনও সত্যপ্রত্যাখ্যানকারীদের সহায় হয়ো না। (সূরা কাসাস ৮৬)
আল্লাহর নবী মূসা যা বলেছিলেন, তার উল্লেখ করে তিনি বলেন,
((قَالَ رَبِّ بِمَا أَنْعَمْتَ عَلَيَّ فَلَنْ أَكُونَ ظَهِيرًا لِّلْمُجْرِمِينَ)) (۱۷) سورة القصص
অর্থাৎ, সে বলল, হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছ, আমি এরপর আর কখনো অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষক হব না। (সূরা কাসাস ১৭ আয়াত)
আমাদের মহানবী বলেন, “যে ব্যক্তি নিজ বাতিলের মাধ্যমে হককে খন্ডন করে কোন যালেমকে সাহায্য করে, সে ব্যক্তির নিকট থেকে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের দায়িত্ব উঠে যায়।” (সহীহুল জামে' ৬০৪৮/১নং)
তিনি আরো বলেন, “যে ব্যক্তি বিবাদের সময় অন্যায় দ্বারা অথবা কোন অত্যাচারীকে সাহায্য করে, সে ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর রোষে অবস্থান করে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে তা থেকে বিরত না হয়।” (ইবনে মাজাহ ২৩২০, হাকেম, সহীহুল জামে' ৬০৪৯নং)
বলাই বাহুল্য যে, বিচারক বা উকিল যদি তাঁদের পেশায় শরীয়ত অনুসারে হককে হক ও বাতিলকে বাতিলরূপে প্রতিষ্ঠা করার এবং প্রকৃত হকদারকে তার হক ফিরিয়ে দেওয়ার ও মযলুমকে সাহায্য করার নিয়ত রাখেন, তাহলে তা বিধেয় কাজ। যেহেতু তা সৎ ও আল্লাহভীতির কাজে সহযোগিতার পর্যায়ভুক্ত। অন্যথা ঐ পেশা বৈধ নয়। যেহেতু তাতে পাপ ও অন্যায় কাজে সহযোগিতা হয়। আর ইসলামের একটি মৌলিক মহান নীতি হল মহান আল্লাহর এই বাণী,
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبَرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ العقاب (۲) سورة المائدة
অর্থাৎ, তোমরা সৎকার্য ও আল্লাহভীতির ব্যাপারে একে অপরকে সাহায্য কর এবং পাপ ও সীমালংঘনে একে অপরকে সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা। (সূরা মাইদাহ ২ আয়াত)
এ ছাড়া ইনসাফ ও ন্যায়সঙ্গত বিচার অবশ্যই করতে হবে উকিল ও বিচারককে। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেন,
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَابٍ ذِي الْقُرْبَى )
অর্থাৎ, আল্লাহ অবশ্যই ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয়-স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন। (সূরা নাহল ৯০ আয়াত)
يَتَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَانُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ )
অর্থাৎ, হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর জন্য ন্যায় সাক্ষ্যদানে অবিচল থাক। কোন সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে কখনও সুবিচার না করাতে প্ররোচিত না করে। সুবিচার কর, এটা তাকওয়ার নিকটতর এবং আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা যা কর, আল্লাহ তার খবর রাখেন। (সূরা মাইদাহ ৮ আয়াত)
وَإِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُوا وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَى )
অর্থাৎ, আর তোমরা যখন কথা বলবে, তখন তা আত্মীয়ের বিরুদ্ধে হলেও ন্যায্যভাবে বলবে। (সূরা আনআম ১৫২ আয়াত)
يَتَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَى أَنفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ إِن يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَاللَّهُ أَوْلَى بِهِمَا فَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوَى أَن تَعْدِلُوا وَإِن تَلْوُا أَوْ تُعْرِضُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا ))
অর্থাৎ, হে ঈমানদারগণ! তোমরা ন্যায় বিচারে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাক, আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাক্ষ্য দাও; যদিও তা তোমাদের নিজেদের অথবা পিতা-মাতা এবং আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে হয়; সে বিত্তবান হোক অথবা বিত্তহীনই হোক আল্লাহ উভয়েরই যোগ্যতম অভিভাবক। সুতরাং তোমরা ন্যায় বিচার করতে খেয়াল-খুশীর অনুগামী হয়ো না। যদি তোমরা প্যাঁচালো কথা বল অথবা পাশ কেটে চল, তবে (জেনে রাখ) যে, তোমরা যা কর আল্লাহ তার সম্যক খবর রাখেন। (সূরা নিসা ১৩৫ আয়াত)
فَإِن فَاءَتْ فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا بِالْعَدْلِ وَأَقْسِطُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ ))
অর্থাৎ, (বিবদমান দুই গোষ্ঠী) যদি আত্মসমর্পণ করে, তাহলে তাদের মধ্যে ন্যায়ের সঙ্গে মীমাংসা কর এবং সুবিচার কর। আল্লাহ ন্যায় বিচারকদেরকে ভালোবাসেন। (সূরা হুজুরাত ৯ আয়াত)
((إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤدُّواْ الأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُم بَيْنَ النَّاسِ أَن تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ إِنَّ اللَّهَ نِعِمَّا يَعِظُكُم بِهِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ سَمِيعًا بَصِيرًا)) (৫৮) سورة النساء
অর্থাৎ, আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, আমানত তার মালিককে প্রত্যর্পণ করবে। আর যখন তোমরা মানুষের মধ্যে বিচার-কার্য পরিচালনা করবে তখন ন্যায় পরায়ণতার সাথে বিচার করবে। আল্লাহ তোমাদেরকে যে উপদেশ দেন তা কত উৎকৃষ্ট! নিশ্চয়, আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। (সূরা নিসা ৫৮ আয়াত)
মহানবী বলেন, “কাযী (বিচারক) তিন প্রকার। এদের মধ্যে একজন জান্নাতী এবং অপর দু'জন জাহান্নামী। জান্নাতী হল সেই বিচারক যে 'হক' (সত্য) জানল এবং সেই অনুযায়ী বিচার করল। আর যে বিচারক 'হক' জানা সত্ত্বেও অবিচার করল সে জাহান্নামী এবং যে বিচারক না জেনে (বিনা ইলমে) লোকেদের বিচার করল সেও জাহান্নামী।” (আবু দাউদ ৩৫৭৩, তিরমিযী ১৩২২, ইবনে মাজাহ ২৩১৫, সহীহুল জামে' ৪৪৪৬নং)
প্রকাশ থাকে যে, অন্যায়ের সাহায্য অন্যায় দিয়ে, মিথ্যা মামলা সাজিয়ে, মিথ্যা সার্টিফিকেট বা দলীল বানিয়ে, মিথ্যা সাক্ষী ও জাল স্বাক্ষর উপস্থিত করে একজন অপরাধীর সহযোগিতা কোন মুসলিম করতে পারে না।
📄 ডাক্তার
ডাক্তারি একটি উত্তম পেশা। অর্থের সাথে সাথে এর মাধ্যমে সৃষ্টির খিদমত করার মহান সুযোগ লাভ হয়। আর সেই সাথে দ্বীনের জ্ঞান থাকলে দাওয়াতের কাজ করারও সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন ডাক্তার। অবশ্য ডাক্তারের ঘাড়েও বড় আমানত আছে, তাতে খিয়ানত করা তাঁর জন্য বৈধ নয়। যেমনঃ-
বৈধ নয় পুরুষ ডাক্তারের জন্য অপ্রয়োজনে রোগিণীর কোন গোপন অঙ্গ দেখা।
বৈধ নয় অপ্রয়োজনে মহিলার দেহ স্পর্শ করে চেকিং করা।
বৈধ নয় নার্স বা রোগিণীর সাথে একাকিত্ব বা নির্জনতা অবলম্বন করা।
বৈধ নয় চিকিৎসায় রোগীর প্রতি কোন প্রকার অহিতাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করা।
বৈধ নয় দু' নম্বর ওষুধ দেওয়া।
বৈধ নয় ওষুধে কোন প্রকার ভেজাল দেওয়া।
বৈধ নয় বিনা মূল্যের সরকারী ওষুধ বিক্রয় করা।
বৈধ নয় সমাজে প্রচলিত এই ধারণাকে বাস্তব প্রমাণ করা : 'জল জোলাপ জুয়াচুরি, তিন নিয়ে ডাক্তারি।'
বৈধ নয় অনুমানে চিকিৎসা করা।
বৈধ নয় রোগীর কোন গুপ্তরোগের কথা অপরের কাছে প্রচার করা।
বৈধ নয় অল্প খরচের চিকিৎসা-পদ্ধতি থাকা সত্ত্বেও ব্যয়বহুল চিকিৎসা-পদ্ধতি প্রয়োগ করে রোগীর অর্থ অপচয় করা।
বৈধ নয় অনিবার্য কারণ ব্যতীত ভ্রূণ হত্যা করা।
বৈধ নয় জন্ম-নিরোধক ওষুধ দিয়ে প্রেমিক-প্রেমিকার ব্যভিচারে সহযোগিতা করা।
বৈধ নয় যথেষ্ট পয়সা না পেয়ে যথোচিত চিকিৎসা না করে রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া।
বৈধ নয় আন্দাজে ভুল ওষুধ বা ইঞ্জেকশন দিয়ে অথবা চিকিৎসায় অবহেলা প্রদর্শন করে কোন রোগীর অঙ্গহানি অথবা প্রাণহানি ঘটানো।
বলাই বাহুল্য যে, না জেনে ডাক্তারি করা ডাক্তারের জন্য বৈধ নয়। নচেৎ তাঁর কুচিকিৎসার ফলে রোগীর যে ক্ষতি হবে, তার জন্য দায়ী হবেন ঐ নাড়ীটেপা হাতুড়ে ডাক্তার।
মহানবী বলেন, “যে ব্যক্তি ডাক্তারি করে, অথচ ডাক্তারি করা তার কাজ নয়, সে ব্যক্তি (রোগীর জন্য) যামিন।” (আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, হাকেম, সহীহুল জামে' ৬১৫৩নং) কথায় বলে, 'নীম মুল্লা খাতরায়ে ঈমান, নীম হাকীম খাতরায়ে জান।' অতএব রোগ, ওষুধ ও রোগীর পরিস্থিতি বুঝেই ডাক্তারি করা কর্তব্য।
সৃষ্টিকর্তার হাতে মানুষের জান থাকে। কিন্তু তা নষ্ট করার কারণ মানুষ হলে সৃষ্টিকর্তা তাকে ছাড়বেন না। সুতরাং একজন ডাক্তারকে নিম্নের আয়াত ও হাদীস মনে রাখা দরকার।
মহানবী আরো বলেন, "নিশ্চয় মহান আল্লাহ পছন্দ করেন যে, বান্দা যখন যে কাজ করে, তখন তা যেন সে নৈপুণ্যের সাথে করে।” (শুআবুল ঈমান, বাইহাকী, সহীহুল জামে' ১৮৮০নং)
মহান আল্লাহ বলেন,
مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ كَتَبْنَا عَلَى بَنِي إِسْرَاءِيلَ أَنَّهُ مَن قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الْأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا وَمَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَا أَحْيَا النَّاسَ جَمِيعًا وَلَقَدْ جَاءَتْهُمْ رُسُلُنَا بِالْبَيِّنَاتِ ثُمَّ إِنَّ كَثِيرًا مِنْهُم بَعْدَ ذَلِكَ فِي الْأَرْضِ لَمُسْرِفُونَ ))
অর্থাৎ, এ কারণেই বানী ইসরাঈলকে এ বিধান দিয়েছিলাম যে, যে কেউ প্রাণের বদলে প্রাণ অথবা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কাজের বদলা নেওয়া ছাড়া কাউকে (অন্যায়ভাবে) হত্যা করে, সে যেন (পৃথিবীর) সকল মানুষকেই হত্যা করে এবং যে কারো প্রাণ রক্ষা করে সে যেন পৃথিবীর) সকল মানুষের প্রাণ রক্ষা করে। (সূরা মায়েদাহ ৩২ আয়াত)
وَمَن يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَلدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيمًا
অর্থাৎ, আর যে ব্যক্তি কোন মুমিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে তার শাস্তি হবে জাহান্নাম, সেখানেই সে চিরকাল থাকবে এবং আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হবেন, তাকে অভিসম্পাত করবেন এবং তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত করে রাখবেন। (সূরা নিসা ৯৩ আয়াত)
আল্লাহর রসূল বলেন, কিয়ামতের দিন মানুষের যে বিষয়ে সর্বপ্রথম বিচার- নিষ্পত্তি হবে তা হল খুন।” (বুখারী ৬৫৩৩নং, মুসলিম ১৬৭৮, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি মুশরিক হয়ে মারা যায় অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মুমিনকে হত্যা করে, সে ব্যক্তির পাপ ছাড়া অন্যান্য ব্যক্তির পাপকে আল্লাহ মাফ করে দিতে পারেন।” (আহমাদ, নাসাঈ, হাকেম ৪/৩৫১, আবু দাউদ, সহীহুল জামে' ৪৫২৪নং)
তিনি বলেন, “একজন মুসলিমকে খুন করার চাইতে জগৎ ধ্বংস হয়ে যাওয়া আল্লাহর নিকট অধিক সহজ।” (তিরমিযী ১৩৯৫, নাসাঈ ৩৯৮৭নং)
তিনি আরো বলেন, “যে ব্যক্তি কোন (মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী) যিম্মী (অথবা সন্ধিচুক্তির পর বিপক্ষের কাউকে) হত্যা করবে সে ব্যক্তি বেহেশ্বের সুবাসও পাবে না। অথচ তার সুবাস ৪০ বছরে অতিক্রম্য দূরবর্তী স্থান হতে পাওয়া যাবে।” (আহমাদ, বুখারী ৩১৬৬, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
প্রকাশ থাকে যে, ডাক্তারের মতই দায়িত্ব রয়েছে কম্পাউন্ডার ও ফার্মেসিষ্টের।
📄 নার্স (নারী ও পুরুষ)
রোগীর খিতমতের জন্য পুরুষ এবং রোগিণীর খিদমতের জন্য মহিলা নার্স হওয়াই বাঞ্ছনীয়। যেহেতু ইসলামে কোন বেগানা পুরুষ-মহিলা নির্জনতা অবলম্বন করতে পারে না, তাদের আপোসে পর্দা ওয়াজেব এবং একে অন্যের দেহ স্পর্শ অবৈধ। শরীয়তের আদব মেনে চলতে পারলে তবেই এ পেশা বৈধ। আর প্রয়োজনয়ীতার কথা অবশ্যই ভিন্ন।
📄 আমীন
মানুষের জমি-জায়গা জরিপ করা একটি বড় আমানতদারির কাজ। সুতরাং আমানত বজায় রেখে কাজ করলেই এ পেশায় হালাল রুযী লাভ করা সম্ভব। কারো পক্ষপাতিত্ব করে এক জনের (কিছু পরিমাণও) হক নিয়ে অপরকে দান করা আমানতের খেয়ানত। সুতরাং সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে আমীনকে।